বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প
লেখা : MD Asadur Rahman - Shipon

নীলা : এতো রাতে ছাদে কি করো?
রাফি : তুমি? তুমি আবার?
নীলা : হ্যা আমি। আমি ছাড়া কে আসবে আর বলো?
 রাফি : হুম সেটাই।
নীলা : আচ্ছা তুমি সিগারেট খাও কেনো? জানো সিগারেট কতটা ক্ষতি করে?
রাফি : নিকোটিন আমাকে সুখ দেয়। আমাকে ভাবতে শিখায়। সবচেয়ে বড় কথা নিকোটিন তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো ভুলে থাকতে সাহায্য করে আমাকে।
 নীলা : আমাকে অনেক ভালোবাসো তুমি তাই না?
রাফি : ভালোবাসা কি জানিনা। তবে.......
নীলা : থামলে কেনো?
রাফি : আমাকে নিচে ডাকছে। আমি আসি।
নীলা : আমি তোমার কাছে আসলে, তোমার পাসে বসলেই তোমার যত সব কাজ পরে। যাও তুমি।
 রাফি চলে আসে। নীলা ছাদের কোনে চুপ করে বসে থাকে।
(পরেরদিন সকাল)
 ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই দরজায় নাড়া পরে। রাফি ব্রাস হাতে নিয়ে দরজা খুলে দেয়। বাড়িওয়ালা এসেছেন। বয়স্ক লোক, মুখভর্তি দাড়ি। দেখতে খুব শান্তশিষ্ট মনে হলেও লোকটা এক নাম্বারে বদের হাড্ডি। বাসার ভাড়া ৫ তারিখ এর জায়গায় ৬ তারিখ হলেই চেঁচামেচি শুরু করে। আর মাঝে মাঝে বাসায় ঢুকে এটা সেটা নিয়ে অভিযোগ তো থাকবেই। যাস্ট ছাদটা আছে বলে আর নীলার জন্য এই বুইড়া খাটাস এর বাড়িতে আছে সে।
রাফি : কাকা কেমন আছেন?
বাড়িওয়ালা ঃ ভালো ।
রাফিঃ আজ তো ৩ তারিখ। আমি ৫ তারিখের মধ্যেই আপনার বাসার ভাড়াটা দিয়ে দিবো।
বাড়িওয়ালা : ভিতরে আসতে পারি স্যার ?
রাফি : আপনার বাড়ি, আপনি আসবেন না। আসেন।
বাড়িওয়ালা ভিতরে ঢুকে এক এক করে সব রুম, টয়লেট খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে।
বাড়িওয়ালা : আমার এতো সুন্দর বাসাটাকে একদম শেষ করে দিছে। এর জন্যই ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া ঠিক না।
 রাফি : কাকা আপনার বাসাতো ঠিকই আছে। আমি তো কোন কিছুই করিনি। এমনকি দেয়ালে একটা পেরেকও মারিনি।
বাড়িওয়ালা : আবার মুখে মুখে তর্ক, তর্ক করো আমার সাথে?  খুব হেটম হয়ে গেছে? যাও.........
রাফি : কোথায় যাবো?
বাড়িওয়ালা : এই বাড়িতে তোমার আর থাকতে হইবো না। আমি আর আমার বাসায় ব্যাচেলর রাখুম না। আমি ৫০০০ টাকা বেশি ভাড়ায় এই বাসা এক ফ্যামিলিকে ভাড়া দিছি। তারা ৫ তারিখ সকালে এই বাসায় উঠবে। তার আগেই তুমি বাসা খালি করবা।
 রাফি : (রাগান্বিত কন্ঠে) মগের মল্লুক নাকি? আজ ৩ তারিখ আর আপনি এসে বলবেন ৫ তারিখ বাসা খালি করে দিতে হবে আর আমি খালি করে দিবো। এডভ্যান্স দেওয়া আছে আমার। বাসা খালি করার একমাস আগে নোটিস দিতে হবে। এটাই আইন।
বাড়িওয়ালা : আমাকে আইন শিখাও? জজ্ঞি কইয়া পুলিশে ধরাই দিমুনে তখন বুঝবা। রাফি : যান এখান থেকে, আমি বাসা ছাড়বো না। কি করবেন করেন।
বাড়িওয়ালা : দাড়াও দেখতাছি।
বাড়িওয়ালা চলে যায়। রাফি হাত মুখ ধুয়ে ছাদে এসে কিছুখন বসে তারপর অফিসের দিকে রওনা দেয়।
রাফি ছোট একটা ফার্মে চাকরি করে, বেতনও অল্প । জনাব খান হেলাল রাফির বস। রাফি প্রায় প্রতিদিনই অফিসে লেট করে আসে। এটা একরকম ওর অভ্যাস হয়ে গেছে।
রিওন ঃ রাফি তুই আজও দুই ঘন্টা লেট করে আসলি। এভাবে করতে থাকলে তো একদিন ভাইয়া খেপে গিয়ে তোকে অফিস থেকে বের করে দিবে।
রাফি ঃ আর বলিস না ভাই, বাড়িওয়ালা আজ হটাত করে বলে এই ৫ তারিখে বাসা ছারতে হবে। উনার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে দেরি হয়ে গেলো।
রিওন ঃ আচ্ছা এখন কাজ কর কথা কম বল , কান হেলাল ভিতর থেকে সব দেখতেছে।
রাফি কোন রকম অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে এসে ছাদে উঠে। প্রতিদিনের মত ছাদের কোনায় গিয়ে বসে। একটু পরেই নীলা আসবে, নীলার সাথে কিছুখন সময় দিয়ে আজ ঘুমিয়ে পরবে।
পিছন থেকে নীলা রাফির কাধে হাত রাখে
রাফি ঃ আবার তুমি ?
নীলা ঃ এমন ভাব করো যে আমি সারাদিন তোমার পিছনে লেগে থাকি , সারাদিনে এইটুকুই সময়ই তো কথা বলি।
রাফি ঃ কেমন আছো ?
নীলা ঃ ভালো না। গতকাল রাতে তোমাকে নিয়ে একটা দূঃস্বপ্ন দেখেছি । একটু সাবধানে থেকো ।
রাফি ঃ হাহাহাহাহাহা। তুমি আমাকে নিয়ে টেনশনও করো ?
নীলা ঃ হ্যা আমি তোমাকে ভালোবাসি আর তোমাকে নিয়ে টেনশন করবো না ?
রাফি ঃ ভালোবাসলে চলে গিয়েছিলে কেনো ? কেনো আমাকে এই ছাদে কেদে জ্ঞ্যান হারাতে হয়েছিলো ?
নীলা উঠে চলে যায়। রাফি পকেট থেকে সিগারেটের বের করে ধরায় । কিছুখন পর নিচে শব্দ পেয়ে নিচে গিয়ে দেখে দুইজন পুলিশ তার রুমের সামনে।
রাফি ঃ কোন সমস্যা ?
পুলিশ ঃ আপনি কে ?
রাফি ঃ আমি রেদওয়ান রাফি ।
পুলিশ ঃ ওহ তুই তাইলে সেই জজ্ঞি । চল থানায় চল।
পুলিশ রাফিকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে রাফি পুলিশ স্টেশনের নাম্বার থেকে তার বসকে ফোন দিয়ে আসতে বলে । খান হেলাল সাহেব এসে রাফিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এই শর্তে যে রাফি ঐ বুড়োর বাসা ছেরে দিবে।
খান হেলাল ঃ এখন কোথায় উঠবি রাফি ?
রাফি ঃ জানিনা।
খান হেলাল ঃ আজকের মত কোন বন্ধুর বাসায় গিয়ে থাক ।
রাফি ঃ হুম।
রাফি সালাউদ্দিনকে ফোন দেয়। সালাউদ্দিন জানায় তারা ৫ তারিখ নতুন বাসায় উঠবে সেখানে একটা সিট খালি আছে চাইলে শেয়ার করে থাকতে পারে।
৫ তারিখ সকালে নতুন বাসায় সালাউদ্দিনের সাথে উঠে রাফি। রাফির রুমের রাফির সাথে আরেকজন থাকবে । সালাউদ্দিনের এক বোনের ছেলে আসিফ। আসিফ একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছে ।
নতুন বাসার ছাদের উঠার পারমিশন নেই। তাই আর ছাদে যাওয়া হয় না রাফির। রুমের সাথে বড় বারান্দাটাই এখন রাফির অবসর সময়ের সঙ্গী। এখন আর নীলার সাথে দেখা হয় না। রাফি মাঝে মাঝে আগের বাসার সামনে গিয়ে হাটাহাটি করে কিন্তু নীলার দেখা পায় না । পাবে কি করে ? রাফি ধানমন্ডি আর নীলা উত্তরা।
এতোদিনে আসিফ আর রাফির খুব ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে ......
রাত ২টা বাজে
আসিফ আর রাফি সুয়ে সুয়ে কথা বলছে এমন সময় একটা বাচ্চার চিৎকার শুনতে পায়।
আসিফ ঃ মামা কিছু শুনেছেন ?
রাফি ঃ হ্যা।
আসিফ ঃ মামা আমি কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতেই এক বাচ্চার চিৎকার, কান্নার শব্দ শুনতে পাই।
রাফিঃ হুম। আমিও, মনে হয় পাশের বাসার ফ্ল্যাটে কোন বাচ্চা আছে ।
আসিফঃ হ্যা সেটাই হবে। কিন্তু এই রকম ভয়ানক চিৎকার করে কেন? ভয় পেয়ে যাই । হাহাহাহাহাহাহা(হেসে উঠে দুজনে)
পরেরদিনও সন্ধ্যায় রুমে ফিরে আসে রাফি। এসে বারান্দায় বসে সিগারেট ধরায়। সিগারেট তানছে এমন সময় সে খেয়াল করে পাসের ফ্ল্যাটে টয়লেট থেকে মৃদ কুকিয়ে কুকিয়ে কান্নার শব্দ আসছে। ঠিক সেই সময় সালাউদ্দিন বারান্দায় আসছে।
সালাউদ্দিন ঃ কিরে পাগলা কি করিস ?
রাফি ঃ এইতো নিকোটিন এর সাথে প্রেম করছি।
সালাউদ্দিনঃ কেন তোর নীলা তোর কাছে আসে না ?
রাফিঃ হাহাহাহাহা। আচ্ছা দোস্ত পাসের বাসা থেকে মনে হয় কান্নার শব্দ আসছে শুনতে পাচ্ছিস ?
সালাউদ্দিনঃ কই ? আমি তো কিছু শুনতে পাচ্ছি না।
রাফিঃ আচ্ছা বাদ দে ।
সালাউদ্দিনঃ তুই কি আবার ভুত নিয়ে গবেষনা শুরু করলি নাকি ?
রাফি ঃ আরে না, গল্পটল্প লেখা বাদ।
সালাউদ্দিনঃ লিখ না দোস্ত আবার ভুতের গল্প। খুব মিস করি।
রাফিঃ দিন গুলো হারিয়ে গিয়েছে বন্ধু।
এর মধ্যে আসিফ চলে আসে। তিনজন মিলে গল্প করে তারপর রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে শুয়ে ঘুমিয়ে পরে।
হতাত মাঝ রাতে আসিফ রাফিকে ডেকে তুলে।
আসিফ ঃ মামা, মামা উঠেন।
রাফি ঃ কি হইছে মামা ?
আসিফ ঃ ঐ বাচ্চাটা দেখেন কিভাবে চিৎকার করছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আসেন ঐ ফ্ল্যাটে গিয়ে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করি।
রাফি ঃ নাহ এতো রাতে যাওয়াটা ঠিক হবে না।
আসিফ ঃ বারান্দায় গিয়ে দেখি আসেন।
রাফি আর আসিফ বারান্দায় যায়। কিছুক্ষন পর কান্না থেমে যায়।
আসিফ ঃ দেখছেন মামা আমাদের মনে হয় দেখেছে। তাই মাইর থামিয়ে দিয়েছে।
রাফি ঃ কিন্তু ঐবাসায় কোন আলো নেই কেনো? দরজা জানালা সব সময় বন্ধ কেনো?
আসিফ ঃ মামা জানেন ঐ পিচ্চি মাঝে মাঝে গোং্যায় । ঐ শব্দ গুলো খুব কানে লাগে, অসহ্য একটা ব্যাথা অনুভব করি।
রাফি ঃ এগুলা নিয়ে দিনে আলোচনা করা যাবে, এখন চলো ঘুমাই। সকালে অফিস আছে ।
রাফি আর আসিফ এসে ঘুমিয়ে পরে।
সকাল ৭টায় আসিফ ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে চলে যায়। আর রাফি ঘুমিয়ে থাকে।
আজ রাফির প্রচন্ড ঘুম। কাথামুরি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম জেনো তাকে আজ শক্ত করে জরিয়ে ধরেছে, কোনভাবেই বিছানা থেকে উঠতে দিচ্ছে না। এদিকে এক এক করে ফ্ল্যাটের সবাই যার যার কাজে বেরিয়ে গেছে।
দুপুর ১২টাঃ
কে জেনো রাফির পায়ের কাছে কাথা ধরে টানছে। রাফি ধিরে ধিরে চোখ খুলে দেখে একটা ৮/৯ বছরের বাচ্চা মেয়ে তার কাথা ধরে টানছে ।
রাফি ঃ কে তুমি ? ডিস্টার্ব করছো কেনো ?
মেয়েটি ঃ ভাইয়া চা খাবেন ?
রাফি ঃ কে তুমি ?
মেয়েটিঃ আমার নাম মিম, আমি কাজের মেয়ে।
রাফি ঃ এইটুকু পিচ্ছি কাজের মেয়ে ? খালার মেয়ে তুমি ? তার সাথে আসছো ?
মিমঃ চা খাবেন না? আমার চা খাইলে মজা পাইবেন।
রাফি ঃ আচ্ছা যাও চা বানাইয়া নিয়ে আসো, আমি আরেকটু ঘুমাই।
মিম মিনিট ১০ পরে এক মগ চা বানিয়ে নিয়ে এসে রাফিকে ডেকে উঠায়।
রাফি ঃ বাহ! আজ অনেকদিন পর বেডটি পেলাম । আগে বাড়ি গেলে আম্মু বেডটি করে দিতো ।
মিমঃ আপনার আম্মায় আপনারে অনেক আদর করে তাই না?
রাফিঃ হুম। কেন তোমার মা তোমাকে আদর করে না?
মিমঃ আমি তো কাজের মেয়ে, মায়ের সাথে থাকি না। বাড়িওয়ালা আর ম্যাডাম এর সাথে থাকি।
রাফিঃ উনারা আদর করে না ?
রাফি কথাটি বলে মিমের দিকে তাকায়। মিমের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। রাফি খেয়াল করে দেখলো মেয়েটির চেহারায় একটা আলাদা মায়া আছে। ওর হাতে ছ্যাকার দাগ।
রাফিঃ তোর মালিক কি তোরে মারে ?
মিম ঃ ভাইয়া আপনি তো গল্প লেখেন তাই না ?
রাফিঃ কে বলছে তোমাকে ?
মিমঃ ভাইয়া ঐযে তনু, মিতু, খাদিজা, ঐ আপাদের নিয়ে তো অনেকেই অনেক গল্প লিখছে তাই না?
রাফিঃ তোমার কি ফেসবুক একাউন্ট আছে ? এতোকিছু কি করে জানো?
মিমঃ আমার ম্যাডামের আছিলো।
রাফিঃ মিম তুমি কিন্তু চা টা অসাধারন বানিয়েছো।
মিমঃ ধন্যবাদ ভাইয়া। (একটু থেমে) ভাইয়া আপনি তো ভূতের গল্প লিখেন তাই না?
রাফি ঃ হুম । তুমি ভূত ভয় পাও না?
মিমঃ ভাইয়া আমি একটা গল্প জানি, শুনবেন?
রাফিঃ মিম আমি তোমাকে প্রশ্ন করলে এরিয়ে যাও কেনো?
মিমঃ ভাইয়া আরেক মগ চা করে নিয়ে আসি, চা খান আর গল্প শুনেন।
মিম কথাটি বলেই রাফির হাত থেকে মগ নিয়ে দৌড় দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। এইফাকে রাফি আবার কাথামুরি দিয়ে সুয়ে পরলো এবং যথারিতি ঘুমিয়ে পরলো । একটা মানুষ যে কিভাবে এতো ঘুমাতে পার সেটা আমার বুঝে আসেনা। সোয়ার সাথে সাথেই ঘুম।
কিছুক্ষন পর মিম আবার এসে ডেকে তুলে চা দেয়।
রাফি ঃ বলো তোমার গল্প।
মিমঃ আচ্ছা শুনেন।
রাফিঃ (চায়ের কাপে মুখ দিয়ে) বলো।
মিমঃ আমার গল্পের মাঝে কিছু বলবেন না, সুধু শুনবেন।
রাফিঃ তুই তুমিতো খুব সুন্দর করে কথা বলো, কাজের মেয়েরা কি এতো সুন্দর করে কথা বলে। আচ্ছা তোমার গল্প বলো, আমি কথা বলবো না। এই চুপ।
মিমঃ
    গ্রামের নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আনিকা। কোন এক কারনে হাটাত আনিকার বাবা আর্থিকভাবে খুব সমস্যায় পরে। এতোটাই খারাপ অবস্থা যে আনিকার স্কুলের খরচ পর্যন্ত জোগার করতে পারছিলো না। কিন্তু আনিকার বাবার খুব স্বপ্ন আনিকা অনেক পড়ালেখা করবে, ডাক্তার হবে। কিন্তু তার আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় আনিকার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এমন সময় আনিকার বাবা তার পাশের গ্রুপের একবন্ধুর সাথে কথা বলে। বন্ধুর ছেলে সাইদ সাহেব। সে ঢাকায় একটা ব্যাংকে চাকরি করে। কিছুদিন আগে এক বাচ্চা হয়েছে তার।
সাইদ সাহেব এর বাবা আনিকার বাবাকে প্রস্তাব করে যে সে তার ছেলের বাসায় রেখে আনিকাকে পরাবে। আনিকা ঢাকাতে পরবে । আনিকার সব খরচ আনিকার বাবার বন্ধুর ছেলে সাইদ দিবে। আর আনিকা থাকলে সাইদ সাহেবের বাচ্চার মাঝে মাঝে দেখাশুনা করবে।
আনিকার বাবা তার বন্ধুর প্রস্তাবে খুব খুশি হন। বাসায় এসে আনিকার মা এর সাথে পরামর্শ করলে সে প্রথমে নারাজ হলেও আনিকার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়।
আনিকা ঢাকায় আসে। ঢাকা তার ভালো লাগে না। চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে হয় সারাদিন তাকে। সে আশায় থাকে সাইদ সাহেব ছুটি পেলে তাকে নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবে। কিন্তু না, স্কুলে যাওয়া হয় না আনিকার। প্রথম প্রথম সাইদ সাহেবের বাচ্চার দুধ গরম করে দেওয়া আর সাইদ সাহেবের স্ত্রী গোসলে গেলে বাচ্চার পাশে বসে থাকতে হতো, আর এখন আনিকাকে বাসার সব কাজ করতে হয়। একজন কাজের মেয়ে যা যা করে সব কাজ করে আনিকা।
ধিরে ধিরে আনিকা অতিষ্ট হয়ে উঠে। কাজে তার মন বসে না, বাবা মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু জানেন ভাইয়া ওরা আনিকাকে তার বাবা মায়ের কাছে যাওয়া তো দুরের কথা তাদের সাথে ফোনে কথা বলতে দিতো না।
রাফিঃ আনিকা কি তোমার পরিচিত?
মিমঃ ভাইয়া আমি আগেই বলেছি আপনি কোন কথা বলবেন না গল্পের মাঝখানে।
রাফিঃ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। তবে তুমি কাদছো, তোমার চোখ দিয়ে পানি পরছে । তুমি কান্না থামিয়ে গল্প বলো।
মিমঃ
আনিকার মন আর কাজে নেই তাই কাজে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভুলের জন্য তার উপর শারিরিক অত্যাচার শুরু হয়। একদিন কি হয় জানেন ভাইয়া, আনিকা ভাতের পাতিল থেকে ভাত বেড়ে দিচ্ছে সাইদ সাহেবের প্লেটে। একটু ভাত চামচ থেকে পরে গিয়ে সাইদ সাহবের হাতে পর। সাইদ সাহেব উহ! করে চিৎকার দিয়ে আনিকার হাতটা টেনে নিয়ে গরম ভাতের পাতিলে ঢুকিয়ে রাখে। আনিকা চিৎকার করে কাদতে থাকে। কিন্তু কেউ আনিকার কান্নার শব্দ পায় না।( মিমের চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝড়ছে)
সুধু সাইদ সাহেবই নয় ছোট ছোট ভুলের জন্যও সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকাকে মারধোর করত। সাইদ সাহেবের স্ত্রীর ব্লাউজ স্ত্রি করতে গিয়ে সামান্য পুরিয়ে ফেলার অপরাধে তিনি আনিকার পিঠে গরম স্ত্রির ছ্যাকা দিয়েছিলো।
রাফিঃ এতো ছোট মেয়েটি কিভাবে এই গল্প বলছে আমার মাথায় ধরছে না। আচ্ছা বলো।
মিমঃ একদিন সাইদ সাহেবের স্ত্রি তার একবোনের বাসায় যায়, এবং রাতে আসতে পারবে না বলে জানায়। আনিকা রান্নাঘরে থাকতো। গভির রাতে সাইদ সাহেব এসে আনিকা তার বেড রুমে নিয়ে যায়। বিছানায় নিয়ে আনিকার সারা শরীরে হাত বুলায়। আনিকা ভয়ে ভয়ে বলে কি করছেন ভাইয়া, আমার ভালো লাগছে না, আমাকে ছেরে দেন, আমি ঘুমাবো। কিন্তু সাইদ সাহেব আনিকার কথায় পাত্তা দেয় না। আনিকার শরীরের জামাকাপর সব খুলে ফেলে। সারা শরীর কাপরে, আচরে ক্ষত বিক্ষত করে, আনিকার সাথে তারপর( মিমের হাত পা কাপছে, চোখ দিয়ে পানি, মুখে ভয়ের একটা ছাপ) বুঝতেই পারছেন কি করেছে। আনিকার অনেক রক্তক্ষরন হয়। সকালে সাইদ সাহবের স্ত্রী চলে আসে। স্ত্রী আনিকার আচরন দেখে সন্দেহ করে। বুঝছেনই তো ভাইয়া এতোটুকু একটা বাচ্চার সাথে এই পৌশাচিক আচরনের পরের সকালে তার আচরন কেমন হতে পারে। সাইদ সাহবের স্ত্রি আনিকা অনেক মারধর করে জিজ্ঞেস করে যে কি হয়েছিলো। গতকাল রাতের অত্যাচার আর সকাল দুপুরের মারধর আর সহ্য না করতে পেরে আনিকা সব বলে দেয়। এরপর রাতে সাইদ সাহেব আসলে তার স্ত্রি তাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয় । একসময় আনিকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে সব কথা। আনিকা বলে, আনিকার কথা শুনে সাইদ সাহেব আনিকাকে শরীরের সব শক্তি দিয়ে থাপ্পর মারে। আনিকা মাটিতে পরে যায়। সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকার পেটে লাথি দিয়ে বলে এই মাগির মেয়ে উঠ, বল সব সত্য কথা। কিন্তু আনিকার উঠার শক্তি আর নেই। আনিকা না উঠায় তারা রেগে আরো মারতে থাকে। একসময় আনিকার দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। কিছুখন পর সাইদ সাহেবের সন্দেহ হয়। সে আনিকার হার্টবিট চেক করে দেখে আনিকা আর বেচে নেই।
রাফিঃ হোয়াট?
(মিম অঝরে কেদে চলছে, তার হাত পা কাপছে, কথা বলতে মুখ আটকে যাচ্ছে)
মিমঃ সাইদ সাহেব আর তার স্ত্রি ভয় পেয়ে যায়। কি করবে ভেবে পায় না। অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর তারা সিধ্যান্ত নেয় তাদের বাসার সামনের ছোট বাগানের মাঝে মাটিতে একটা পানির হাউস আছে সেখানে লাশ ফেলে রাখবে। সেই মত লাশ ফেলে দেয়। এবং তারা আনিকার বাড়িতে জানিয়ে দেয় যে আনিকা নাকি এক ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। সাইদ সাহেব এবং তার স্ত্রি তার কিছুদিন পরেই বিদেশে চলে যায়।
হটার রাফির ফ্ল্যাটের কলিং বেল বেজে উঠে।
রাফিঃ আনিকা তুমি বসো। ওহ সরি, মিম তুমি বসো কে জেনো এসেছে আমি দরজা খুলে দিয়ে আসি।
মিমঃ (মুচকি হেসে) আচ্ছা ভাইয়া।
রাফি দরজা খুলে দেয়। খালা এসেছে।
রাফিঃ খালা আপনি বাইরে গেলেন কখন?
খালা ঃ কি কন মামা, আমি আসলামই তো মাত্র।
রাফিঃ আপনি মাত্র আসলেন মানে? আপনার মেয়ে মিম তো সেই কখন এসেছে, এর মধ্যে আমাকে দুইবার চা বানিয়ে চা ও খায়িয়েছে।
খালাঃ কি যে বলেন না মামা। আমার মেয়ে আসবো কোথায় থেকে, আমার ত এক ছেলে।
খালার কথা শুনে রাফির মাথায় জেনো আকাস ভেংগে পরে। সে দ্রুত তার রুমে এসে দেখে সেখানেও কেউ নেই। তাহলে এতোখন তার সাথে কে কথা বললো? কে তাকে চা করে খাওয়ালো? চায়ের কাপ তো ঠিকই আছে। হাত পা কাপছে রাফির। কোনমতে গিয়ে টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে গিয়ে বসে সে। চেয়ারে বসে টেবিলে হাত রাখতেও হাতে পরে ছোট এক টুকরো কাগজ যেখানে লিখা “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আসিফ রুমে আসে।
আসিফঃ মামা মন খারাপ নাকি? চুপ হয়ে আছেন যে?
রাফিঃ নাহ (নিচু কন্ঠে)
আসিফঃ মামা আজ কিন্তু পাশের বাড়ি যাওয়ার কথা। ঐ ফ্ল্যাটের লোকদের বলতে হবে ঐ বাচ্চাকে না মারার ব্যাপারে। আর মারলে পুলিশে খবর দিবো সেই হুমকিও দিতে হবে।
রাফি আসিফের মুকের দিকে তাকিয়ে বলে এখনি যাবো।
রাফি আর আসিফ ঐবাড়ি যায়। দুইতলার এই ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে মনে হয় না তেমন কেউ থাকে। অনেকবার বেল চাপার পর বাড়ির কেয়ার টেকার দরজা খুলে দেয়।
কেয়ারটেকার ঃ কি চাই?
আসিফঃ আমরা পাশের বাড়ীর দোতালায় থাকি।
কেয়ারটেকারঃ তো ।
আসিফ ঃ এই বাড়ির দোতালার বাসিন্দাদের সাথে আমরা একটু কথা বলবো।
কেয়ারটেকারঃ হাহাহাহাহা, এই বাড়িতে কেউ থাকে না আমি ছাড়া। আমি নিচের এই গ্যারেজে থাকি।
রাফি; মানে ? কেউ থাকে না আর?
কেয়ারটেকারঃ নাহ। মালিকরা ২২দিন হয় বিদেশ চলে গেছে।
রাফিঃ মালিকের নাম কি ?
কেয়ারটেকারঃ মিঃ সাইদ।
রাফি আসিফের কাধে হাত দিয়ে প্রায় পরে যেতে থাকে। আসিফ কোনমতে ধরে ফেলে।
রাফিঃ বাড়ির কাজের মেয়ের নাম কি আনিকা ছিলো?
কেয়ারটেকারঃ হ্যা। ফাজিল মাইয়া। এইটুকু বয়সে এক পোলার লগে ভাইগা গেছে।
আসিফ আর রাফি চলে আসে। রাফির নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কোন কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। বারবার তার চোখে আনিকার মুখ ভেষে উঠছে, আনিকার কান্না, থরথর করে কাপা আনিকার দেহ, আনিকার লেখা চিঠি “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আনিকা কেনো রাফির কাছো আসলো।
আসিফ ঃ মামা আমি ঘটনা কিছু বুঝলাম না। ঐবাসায় কেউ থাকে না, কিন্তু প্রতি রাতেই আমরা কান্নার শব্দ, চিৎকার শুনতে পাই। ঐবাড়িতে কি তাহলে ভুত আছে?
রাফিঃ ঐবাড়িতে আনিকা আছে, আনিকার আত্তা আছে।(কাপা কাপা কন্ঠে)
আসিফঃ মানে? কি বলছেন কিছুই বুঝছি না। আর হলোটা কি আপনার?
রাফি আসিফকে সব বলে। সব শুনে আসিফও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ওরা কি করবে বুঝতে পারছে না।
দারোয়ানকে অনেক বলে কয়ে বাসার ছাদের চাবি নিয়ে ছাদে যায় রাফি। রাফির যখন মন খুব বেশি খারাপ থাকে সে তখন ছাদে যায়। ছাদে গিয়ে খোলা আকাস দেখলে তার মনটা একটু ভালো হয়।
ছাদের এককোনায় গিয়ে বসে রাফি। সিগারেট ধরায় আর আনিকার কথা ভাবছে। হটাত তার পিছন থেকে কাধে কোমল একটা হাত স্পর্শ করে, হকচকিয়ে পিছনে ফিরে তাকায় রাফি। পিছনে ফিরে দেখে নীলা এসেছে নীল শাড়ী, কালো টিপ, খোলা চুল আর হাতে একগুচ্ছ নীল চুরি। যদিও পিছনে ফিরে সে আনিকাকে দেখতে চেয়েছিলো।
রাফিঃ এতদিন পর এলে যে ?
নীলাঃ তুমি তো ছাদে আসো না, ভুলে গেছো আমায়।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি আমার কাছে আসো কেনো? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
নীলাঃ ভালোবাসি বলেই তো আসি।
রাফিঃ তাহলে বাস্তবে আসো না কেনো?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আমি মধ্যবিত্ত বলে? তুমি উচ্চশিক্ষিত বলে?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি ভালোবাসো বলে আমার কাছে এসেছো। কিন্তু আনিকা আমার কাছে কেনো আসল? তাও এই রকম একটা পরিস্থিতি নিয়ে।
নীলাঃ আনিকারা ভালোমানুষের কাছে আসে। বিশ্বাসীদের কাছে আসে। আনিকারা মুক্তি পেতে আসে।
রাফিঃ হ্যা মুক্তি। আনিকা একটা চিরকুঠ লিখে গিয়েছিলো সেখানে লিখা ছিলো “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়””” ।
নীলাঃ আনিকার লাশ ঐ পানির হাউস থেকে উদ্ধার কর। ওর জানাজার ব্যাবস্থা করো ।
রাফিঃ কিভাবে? কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না। আনিকাকে কেউ বিশ্বাস করবে না, যেমন কেউ তোমার অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না।
নীলাঃ আনিকার গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করো। সব ঘটনা তার মাকে বলো, সে বিশ্বাস করবে তোমার কথা।
রাফিঃ আর নীলা তুমি?
নীলা কোন উত্তর দেয় না। ধীর পায়ে হেটে চলে যায়। রাফি পিছন থেকে চেয়ে দেখে।
রাফি নিজের ঠিকান গপন রেখে সব ঘটনা আনিকার বাবার কাছে চিঠি লিখে পাঠায়। কিছুদিনপর আনিকার বাবা পুলিশ নিয়ে এসে বাগানের ভিতর তল্লাশি চালায় এবং পানির টাংকি থেকে আনিকার পরনের জামা সহ কংকাল উদ্ধার করে।
( পুরো গল্পটিই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই)
আমার লেখা আরো গল্প পরতে লাইক দিন আমার পেজে ঃ https://www.facebook.com/arshipon15/



বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭

সেই আমি
তোমায় নিয়ে আরেকটিবার কবিতা লিখবো,
তোমায় নিয়ে লেখা অকবিতাগুচ্ছের কবি হবো!
সেখানে হয়তো তোমায় পাবার আকাংখা থাকবে না,
কিন্তু তোমার প্রতি জমে থাকা ভালোবাসার ছাপ থাকবে!

জানো, তোমায় নিয়ে আমি আবারো কবিতা লিখবো?
থাকবে না সেই কবিতার অন্ত্যমিল,
থাকবে না কোন ছন্দমিল!
শুধু থাকবে তোমার আমার অমিল!

সেই আমি আবারও তোমায় নিয়ে লিখবো কবিতা!
আবারও ভুল করেই হয়তো ভালোবাসবো!
একটুখানি ভুল করে না হয়কষ্টই পাবো!

আবারও তোমায় নিয়ে কবিতা লিখবো!
আবারও আমি তোমার জন্য কবি হবো।

শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭

অপ্সরী কন্যা


অপ্সরী কন্যা
লেখা : MD Asadur Rahman (Sh Ip On)
(সম্পুর্ন গল্প)
খুব নি:সংজ্ঞ দিন কাটছে আমার। তাই একটা সিধ্যান্ত নিয়েছি। আর সেটি হলো বিয়ে করবো। কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে আমার বাবা মা কিছুতেই এই মূহুতে রাজি হচ্ছে না বিয়ে দিতে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি পালিয়ে বিয়ে করবো। আর এখানেও একটা সমস্যা আছে। আমার কোন প্রেমিকা নেই। পালিয়ে যেতে হলে তো একটি প্রেমিকা দরকার তাই না? তাই ফেসবুকে পালিয়ে বিয়ে করার মত মেয়ে চেয়ে আমার এই বিজ্ঞাপন।


আমি মিটুল রহমান, পরি ঢাকা কলেজে অনার্স ৪র্থ বর্ষে। টুকটাক টিউশনি আর মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করে নিজের খরচ নিজে চালাই।
যেই রকম পাত্রী চাই :
১ মেতে অবশ্যই সুন্দরী হতে হবে।
২ মেয়েকে আমার থেকে কম হলেও ১/২ ইঞ্চি লাম্বা হতে হবে।
৩ মেয়ের বাবা অনেক সম্পত্তি থাকতে হবে। (কথায় আছে না যে তোমার বাবা যদি সম্পদশালী না হয় তবে এটা তোমার কোন দোষ না, কিন্তু শশুর যদি সম্পদশালী না হয় তাহলে সেটা তোমার জন্য ধংশের বার্তা)
৪ মেয়ের রবিন্দ্রসংগীত গাওয়া জানতে হবে।
আপাতত এইটুকুই। আগ্রহী ললনারা ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।

ঠিক এভাবেই মিটুল তার ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করেছিলো। কিন্তু তেমন কোম রেসপন্স সে পায়নি। তবে অনেক কমেন্টস পরেছে তার পোষ্টে। সবাই বিষয়টি নিয়ে মজা করেছে। ফানি ভেবেছে। অথচ মিটুল কিন্তু সিরিয়াসলি পোষ্টটি করেছিলো।
এর বেশকিছুদিন পরের কথা। মিটুল রাত ৯ টার দিকে ধানমন্ডি লেকের এক কোনায় বসে আছে, আর কল্পনা করছ। সে বেশকিছুদিন যাবত কোন কিছু লিখতে পারছে না। প্রতিটি লেখকই একট সময় এই সমস্যায় পরে, শত চেষ্টা করেও লেখা বের করতে পারে না। আর তখন তারা বিভিন্ন উপায়ে লেখা বের করার চেষ্টা করে। মিটুলের ও একটা ওয়ে হচ্ছে সে নিরিবিলি বসে হাতে সিগারেট নিয়ে কল্পনা করে। তখন মাঝে মাঝে আবার সেই বন্ধ কল্পনার জগতের সদর দরজাটা খুলে যায় আবার।
মিটুল চুপ করে বসে চোখ বন্ধ করে সিগারেট টানছে। হটাত তার পাশে পানিতে ঝাপ দেওয়ার একটা শব্দ পায়। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে একটি মেয়ে পানিতে ঝাপ দিয়েছে। হাত পা ঝেরে বাচার চেষ্টা করছে, তবে মনে হয় মেয়েটি সাতার জানে না। মিটুল চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখছে, মিটুল এর আগে কখনো নিজ চোখে কারো মৃত্য দেখিনি এইবারই একটা চান্স সামনাসামনি কারো মৃত্য দেখার।
♦ এই মিয়া দেখতেছেন একটা মেয়ে ডুবে মারা যাচ্ছে আর আপনি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন?(পাসে এসে এক মহিলা তাকে বললো)
মিটুল : আমি তো তাকে মরতে বলিনি। সে সেচ্ছায় পানিতে ঝাপ দিয়েছে।
♦ আজিব মানুশ। নামুন নামুন, মেয়েটিকে বাচান।
মিটুল পানিতে লাফ দেয়। অল্প পানি সেখানে।
মেয়েটিকে মিটুল উপরে উঠায়। ততক্ষনে আসেপাশের সব মানুষ সেইখানে ভির করে ফেলেছে। পাশেও ঐ মেয়েটি এসে ঝাপিয়ে পরা মেয়েটির বুকে চাপ দিয়ে পানি বের করে জ্ঞ্যান ফিরিয়ে আনে অন্যান্য মুভির মত।
মেয়েটি জ্ঞ্যান ফেরার পর মিটুল সেখান থেকে চলে আসে। হেটে সামনের দিকে এগুচ্ছে। লেক পেরিয়ে ৩২ এর এক চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা আর একটা সিগারেট নেয়। তার সারাশরীর ভেজা।
চা আর সিগারেট টানছে মিটুল। হটাত পেছন থেকে কে জেনো মিটুলের কাধে হাত রাখে। পিছনে তাকিয়ে দেখে সেই মেয়েটি যে একটু আগে মরার জন্য পানিতে ঝাপ দিয়েছিলো এবং মিটুল তাকে বাচিয়ে আনলো।
♥ ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে বাচানোর জন্য।
মিটুল : ধন্যবাদ কেনো? আপনার তো উচিত আমাকে গালি দেওয়া।
♥ ছি গালি দিবো কেনো?
মিটুল : আপনি মরতে গিয়েছিলেন, আর আমি আপনাকে মরতে দেইনি। মানে আপনি যেটা করতে চেয়েছিলেন সেই কাজে আমি বাধা দিলাম তাই আপনার উচিত আমাকে ইচ্ছে মত গালি দেওয়া, চাইলে মারতেও পারেন।
♥ হাহাহাহহাহাহাহাহা।
মিটুল : এইভাবে হাসবেন না। বুকের বা পাশে এমন হাসি দেখলে ক্যামন যেনো একটু ব্যাথা ব্যাথা লাগে।
♥ আমি ভিজে গেছি, বাসায় যেতে হবে। কিন্তু আমার কাছে কোনটাকা পয়সা নেই। আপনি কি আমাকে একটু বাসায় যেতে সাহায্য করবেন?
মিটুল : আমিও তো ভিজে গিয়েছি। আমাকেও বাসায় যেতে হবে। এককাজ করেন, আমি আপনাকে টাকা দিচ্ছি আপনি একটা সিএনজি নিয়ে চলে যান।
♥ ধন্যবাদ। আর হ্যা আপনার নাম্বারটি দিন। আমি পরে টাকা পাঠিয়ে দিব।
মিটুল : সরি আমি আমার নাম্বার দিতে পারবো না। আর আমাকে টাকাও ফেরত দিতে হবে না।
মিটুল মেয়েটির হাতে একটি ভেজা ৫০০ টাকার নোট দিয়ে চলে আসে সেখান থেকে।
বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে, ড্রেস চেঞ্জ করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুম দেয় মিটুল। পরেরদিন সকালে ক্লাস আছে।
দুদিন পর। মগবাজার রেলক্রসিং এর এক কোনায় বসে সিগারেট টানছে মিটুল।
পাসে হটাত একটি মেয়ে এসে বসে।
♥ কেমন আছেন আপনি?
মিটুল : ভালো। আপনি কে?
♥ ভুলে গেলেন আমাকে? ঐযে সেদিন ধানমন্ডি লেক থেকে আমাকে বাচালেন। ভুলে গেছেন?
মিটুল : ওহ, হ্যা। মনে পরেছে। তো আপনি এই রাতে এখানে কেনো? ভূতটুত নাকি আপনি? হটাত এসে হাজির হন।
♥ আমি অনু। আর ঐ সামনের ঐ ছয়তালা বাড়িটা আমাদের। একা একা লাগছিলো তাই ছাদে যাই। তারপর হটাত একটা আলো এইখানে পরে আর তারপর মনে হলো এটা আপনি। কনফিউশনে ছিলাম। কাছে এসে দেখলাম না ঠিকই আছে।
মিটুল : ওহ। ভালো। তো সেদিন মরতে গিয়েছিলেন কেনো?
অনু : বলতে চাচ্ছি না।
মিটুল : প্রেম ঘটিত? আচ্ছা বলতে যেহেতু চাচ্ছেন না তাহলে এখান থেকে চলে যান।
অনু : চলে যাবো কেনো? আমি বলবো না কারন এটা আমার পারসোনাল মেটার।
মিটুল : আমিও আপনার পাশে বসবো না। এটাও আমার পারসোনাল প্রবলেম। আল্লাহ হাফেজ।
মিটুল সেখান থেকে উঠে চলে যায়।
রবিন্দ্র সরবরে প্রায়ই ছোটখাটো কনসার্টের মত আয়োজন করে। আজই সেই রকম একটি আয়োজন। তবে ফোক গানের। লাইভ ফোক গান শুনতে খারাপ লাগে না। মিটুলের খুব খুব ভালো লাগে। এককোনে বসে পরলো সে। কিছুখন পর তার পাসে এসে বসলো অনু। অনু, ঐযে সেই মেয়েটি।
মিটুল : আপনি আবার এখানে?
অনু : আমার কি এখানে আশা নিষেধ নাকি?
মিটুল : আমি আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক না।
(মিটুল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আর তখন অনু মিটুলের হাত চেপে ধরে)
অনু : প্লিজ উঠবেন না। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
(মিটুল বসে পরে)
মিটুল : আমি আমার গতকালকের প্রশ্নের উত্তর না পেলে কোন কথা শুনবো না।
অনু : আমি বলবো আপনাকে সব কথা।
মিটুল : তাহলে বলেন, এতো প্যাচাচ্ছেন কেনো?
অনু : আচ্ছা সাহিত্যিক মানুষরা কি এতো ঝগড়াটে হয় নাকি। আমি তো জানতাম তারা খুব নরম মনের মানুষ হয়।
মিটুল : আমি সাহিত্যিক আপনাকে কে বললো?
অনু : আমি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড। আর আমি সাতারও আপনার চেয়ে অনেক ভালো জানি।
মিটুল : মানে?
অনু : কিশের মানে?
মিটুল : ঐযে আপনি পানিতে সুইসাইড করার জন্য ঝাপ দিলেন। আবার পিছন থেকে একজন এসে বললো আপনাকে বাচাতে।
অনু : হাহাহহাহাহাহা।( হাসতে থাকে আর মিটুল চুপ করে তার হাসি দেখতে থাকে)
মিটুল : হাসবেন না, হাসলে আপনাকে দেখতে মোটেই ভালো লাগে না।
অনু : মিথ্যে কথা বলবেন না। আমার হাসি খুব সুন্দর, যে কোন ছেলেকে পাগল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
মিটুল : লেকে ঝাপ দেওয়ার রহস্য উন্মোচন করুন। তানাহলে চলে যাবো আমি।
অনু : আমি ইচ্ছে করে ঝাপ দিয়েছি, আর যে আপনাকে বলেছে আমাকে বাচাতে সে আমার বান্ধবী। কিন্তু আপনি প্রথমে আমাকে না বাচাতে এগিয়ে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেনো?
মিটুল : আমি কখনো সামনাসামনি কাউকে মরতে দেখিনি। তাই দাঁড়িয়ে সামনাসামনি কারো মৃত্য দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ঐ বদ মহিলা সব ভন্ডুল করে দিলো।
অনু : ( মাথার চুলে টান দিয়ে) ঈস আল্লাহ আমি যে কিভাবে এই রকম একটা পাষন্ড মানুষের প্রেমে পরলাম। এখন আল্লাহ তুমিই আমাকে রক্ষা করো।
মিটুল : কিহ? প্রেম! তাও আবার,,,,,
অনু: কেন আপনিই তো বলেছেন যে আপনি বিয়ে করবেন, মেয়ে খুজছেন। আর কেন আমি কি সুন্দরী না? যথেষ্ট সুন্দরী আমি। আর আপনার চেয়ে একটু হলেও আমি লাম্বা হবো আর আমার বাবার অনেক টাকা, ঢাকায় দুইটি বাড়ি আছে।
মিটুল : রবিন্দ্র সংগিত।
অনু : আমি গান গাইতে জানিনা। ( জানিনা বলে কেদে দেয় মেয়েটি)
মিটুল : আরে কাদছেন কেনো আপনি? কান্নার কি হলো এখানে।
অনু: (কাদতে কাদতে) আপনার মন মতো তো হতে পারলাম না। আমি গান জানিনা। কিন্তু আপনাকে অনেক ভালোবাসি, আপনার লেখাও অনেক ভালোবাসি।
মিটুল : বুঝলাম। কিন্তু ঐ পোষ্টটা যাস্ট একটা ফানি পোষ্ট। সিরিয়াসলি নেওয়ার মত কিছু নেই।
অনু : আমি কিচ্ছু জানিনা। আমি সুধু জানি আমি আপনার হতে চাই।
মিটুল : অনেক রাত হয়েছে। বাড়ি ফিরে চলুন।
অনু : প্লিজ আমাকে একটু দিয়ে আসবেন। অনেক রাত হয়ে গেছে। ভয় লাগছে।
মিটুল : চলুন।
মিটুল অনুকে মগবাজারের বাড়িতে দিয়ে আসে। তারপর সে তার নিজের বাসায় ফিরে। বাসায় ফিরে ঐ পোষ্টটি ডিলিট করে। আর মেয়েটিকে নিয়ে ভাবে। আসলে মেয়েটি কি চায়? মেয়েটিকি সত্যিই তাকে চায়, না চাইলে এইভাবে পানিতে ঝাপ দিবে কেনো? নাকি আবার আমার লেখা কোন গল্পের মত কোন ভৌতিক কিছু হতে চলছে। ধুর শালা কিচ্ছু ভালো লাগে না। মনে মনে বলছিলো মিটুল।
মিটুল ফোন হাতে নিয়ে বিছানায় সুয়ে ফেসবুকে ঢুকে। অপসরি কন্যা নামে একটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট আসে। দেখে সে ইগনোর করে। তারপর ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দেখে সেখানেও চ্যাট রিকোয়েস্ট সেই অপসরি কন্যা আইডি থেকে। কিছুখন পর।
অপসরি কন্যা : hi
মিটুল সিন করে কিন্তু কোন রিপ্লে দেয় না।
অপসরি কন্যা একটি পিক পাঠায়। খোল চুল সামনের দিকে দিয়ে কাজল কালো বড় বড় চোখের লুক দিয়ে কালো শাড়ি পরে একটি মেয়ে।
আরে মেয়েটিতো সেই মেয়ে। কি জেনো নাম, অনামিকা না অনু তনু। ওহ হ্যা অনু।
অপসরি কন্যা : kotha boloben na?
মিটুল খান : কি বলবো?
অপসরি কন্যা : কিছু একটা।
মিটুল খান : আমার আইডির লিংক পেলেন কোথায়?
আপসরি কন্যা : আমি আপনার অনেক আগের একজন ভক্ত। আপনার পেজের নিয়মিত পাঠক। সেখান থেকে খুজে খুজে....
মিটুল খান : ওহ ভালো।
অপসরি কন্যা : আপনি কি খুজে পেয়েছেন?
মিটুল খান : কি?
অপসরি কন্যা : মেয়ে।
মিটুল খান : কোন মেয়ে? কিশের মেয়ে?
অপসরি কন্যা : আরে ঐ যে আপনি না বিয়ে করবেন সেই মেয়ে। পালিয়ে যাবেন।
মিটুল খান : নাহ পাই নি।
অপসরি কন্যা : আলহামদুলিল্লাহ।
মিটুল খান : আলহামদুলিল্লাহ কেনো?
অপসরি কন্যা : কারনটা আপনি ভালো করেই জানেন। এর আগে বলেছিলাম। আমি তো সুধু রবিন্দ্র সংগীত জানিনা, বাকি সবই তো ঠিক ছিলো তাই না।
মিটুল খান : জানিনা।
অপসরি কন্যা : আচ্ছা আপনি এতো জানিনা জানিনা করেন কেনো? আচ্ছা আচ্ছা শুনেন আগামীকাল ধানমন্ডি লেকে পিঠার মেলা। আপনি কি বিকেলে ফ্রি আছেন? আসতে পারবেন কি?
মিটুল খান : চেষ্টা করবো।
আপসরি কন্যা : আমি নীল শাড়ি পরে আসবো, চোখে কাজল দিবো, হাতে একমুঠো চুড়ি পরবো আর কপালে ছোট করে একটা টিপ। আর ঠিক বিকেল ৫ টায় আমি বটতলায় অপেক্ষা করবো আপনার জন্য।
মিটুল খান : আচ্ছা আমার বাড়িতে ফোন দেওয়ার সময় হয়েছে। এখন যেতে হবে। বাই।
ফোন হাত থেকে রেখে চিন্তায় মগ্ন মিটুল। আচ্ছা মেয়েটা শাড়ি, চুড়ি, টিপ, চোখা কাজল দিলে কেমন লাগবে দেখতে তো এমনিতেই অসম্ভব সুন্দরী। খুব লোভ লাগছে তাকে দেখার কিন্তু এভাবে যাওয়াটাও ঠিক হবে না।
ফোন বেজে উঠে মিটুলের, বাড়ি থেকে মা ফোন দিয়েছে।
হ্যালো আম্মু,
> ক্যামন আছো আব্বু?
আম্মু আমি ভালো আছি। তুমি ক্যামন আছো? বাসার সবাই ক্যামন আছে?
> আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমরা সবাই ভালো আছি। আব্বু শুনো তোমাকে একটা কথা বলবো।
হ্যা আম্মু বলো।
> আব্বু তোমার জন্য একটা মেয়ে দেখেছি। সামনের মাসে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে চাচ্ছি, দেখলো তোমার পছন্দ হবে।
কিন্তু কেনো আম্মু? এখন বিয়ে?
> তুমি তোমার যুথি আপুকে বলছো সে আমাদের বলেছে। আর তোমার আব্বু তোমার ফেসবুকের স্টাটাসও দেখেছে।
কিন্তু আম্মু
> কোন কিন্তু না আব্বু। তুমি ফেসবুক থেকে আবার অন্যকারো সাথে পালিয়ে বিয়েটিয়ে করো না। আমরা দুই একদিনের ভিতর তোমার বিয়ের ডেট ফাইনাল করছি।
আম্মু।
> আব্বু আমি এখন রাখি, চুলায় খাবার পুরছে। আল্লাহ হাফেজ।
আল্লাহ হাফেজ।
মায়ের কথাগুলো শোনার পর মিটুল বুকের ভিতর কিছুটা হাহাকার অনুভব করে। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। দুদিন আগেই তো সে নিজেই বিয়ের জন্য পাগল হয়েছিলো। তাহলে আজ কি হলো তার। সে কে অপসরি কন্যার মায়ায় পরলো। অপসরি কন্যা মানে অনু। অনুকে নিয়ে মিটুলের কনফিউশন এখনো কাটেনি। মেয়েটি কি মানুষ নাকি কল্পনা? ভুত পেত্নী আর কাল্পনিক গল্প লিখতে লিখতে এখন সব কিছুতেই কল্পনার একটা ছায়া খোজে মিটুল।
পরের দিন। সারাদিন দোটানায় থেকে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয় যাবে অনুর সাথে দেখা করতে।
মিটুল ঠিক ৫:৩০ মিনিটে রবিন্দ্র সরবরের পাশে বটতলায় গিয়ে পৌছায়। অনু আগেই এসে হাজির। মিটুলকে দেখে কাছে এগিয়ে আসে অনু
অনু : তুমি জানো আমি কতক্ষন ধরে এখানে ওয়েট করছি? সব ছেলে গুলো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে দেখছিলো। অসহ্য লাগছিলো, আসলে আমিতো একটু বেশিই সুন্দর তাই এমন।
মিটুল ও এখন অনুর দিকে তাকিয়ে আছে। গতকাল যখন মেয়েটি বলেছিলো সে শাড়ি, চুড়ি, কাজল পরবে তারপর থেকেই মিটুল তার মনে মনে মেয়েটিকে মনের জানালায় সাজিয়েছিলো। সাহিত্যিকেরা তাই করে। কিন্তু কল্পনার সেই অনুকে যতটা সুন্দরী লাগছিলো তার থেকেও এখন অনেক বেশি সুন্দরী লাগছে। এককথায় সত্যিই তাকে অপসরী লাগছে। ওহ অপসরী মানে হচ্ছে অপূর্ব সুন্দরী। খোলা চুলে..........
অনু : কি হলো আপনার? এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? (লজ্জা পেয়ে মৃদ কন্ঠে)
মিটুল : নাহ, কিছু না। চলুন মেলায় যাই। পিঠা খাই।
অনু : চলুন।
দুজনের মেলায় ঘুরে ফিরে, অনেক অনেক পিঠা খায়, মিটুল প্রত্যেকটা বিল দিতে চাইলেও অনু পাগলীর পাগলামীর জন্য সে একটি টাকাও খরচ করতে পারে না। হ্যা খরচ করেছে, সিগারেটের টাকাটা মিটুল দিয়েছে, অনু সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না তাই সে খুব রাগ করেছিলো। কিছুখন কথা বলে নি সে মিটুলের সাথে।
রাত ৯ টা প্রযন্ত একসাথে কাটিয়ে এরপর মিটুল অনুকে তার বাসায় এগিয়ে দিয়ে আসে। সেখান থেকে বাসার কাছে এসে মিটুল দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে ধরিয়ে ২/৩ টা টান দিয়ে ফেলে দেয়। আর নিচু কন্ঠে বলে অনু সিগারেট পছন্দ করে না।
মিটুলের মধ্যে কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে, কিছুটা না অনেকটা। বাসায় এসেই সে অপেক্ষায় ছিলো অনু তাকে নক করবে, করেছেও। সারারাত দুজনে ফোনে কথা বলে, একদম ভোর প্রযন্ত।
এভাবেই প্রায় প্রতিদিন চলতে থাকে, মাঝে মাঝে দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া। বুঝতেই পারছেন বিষয়টি, তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং মিটুল তার পরিবার থেকে ঠিক করা বিয়েও ভেংগে দেয়। সে এখন অপসরী কন্যা অনুর প্রেমে পুরোদমে মগ্ন, অনু ছাড়া সে এখন কিছুই বুঝে না।
ভালোই চলছিলো তাদের প্রেম, দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া আর মাঝে মাঝে পার্কের কোনায় বা কোন নামি দামি রেস্টুরেন্টের এক ঘেরাও করা পর্দার ভিতর দুটি দেহে এক হয়ে যেত। দুজোড়া ঠোট একে অপরের মধ্যে কিছু একটা খুজে পেত। সবই ভালোই চলছিলো।
বন্ধু জামান সব কিছুই জানতো। মেয়েটি অনেক ধনী পরিবারের মেয়ে, আর মিটুল গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। জামান বার বার মিটুলকে বলে মেয়েটির প্রতি বেশি দূর্বল না হতে। কারন সুন্দরী ধনীর দুলালীদের উপর নাকি বিশ্বাস করতে নেই বলে জামানের ধারনা। তাহলে উপায়?
জামান : মিটুল দোস্ত তুই বিয়ে কর।
মিটুল : ওকে এখন বিয়ে করতে রাজি হবে?
জামান : এখন যদি বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে দেখিস ঐ মেয়ে তোকে জীবনেও বিয়ে করবে না। আসলে মেয়েটি তোকে নিয়ে গেম খেলছে।
মিটুল : জামান তুই আসলে বেশি কথা বলিস। আচ্ছা আমি ওর সাথে কথা বলে দেখি।
মিটুল অনুর সাথে কথা।
মিটুল : অনু তোমাকে একটা সিরিয়াসলি কথা বলতে চাই
অনু : হাহহাহা, তুমি কি আমার কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছো? তুমি কি পাগল? যা বলার বলে ফেলো বাবু।
মিটুল : আমি চাচ্ছি আমরা বিয়ে করবো।
অনু : ভালো কথা। চলো কালই করি?
মিটুল : আমি ফান করছি না।
অনু : আমি সিরিয়াসলি বলছি। আমরা তিন দিন বন্ধ আছে। আমি বাবাকে কে বলি যে আমি আমার বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাচ্ছি। তারপর বিয়ে করে আমরা কোথাও ঘুরে আসি।
মিটুল : আচ্ছা তাহলে কালই বিয়ে হবে।
মিটুল জামানকে সব বলে। জামান সব বন্ধুদের সাথে কথা বলে বিয়ের ব্যাবস্থা করে এবং বিয়ে করে ওদের দুজনকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয়। কক্সবাজারে তারা ৩ দিন ছিলো। কক্সবাজার থেকে ফিরে এসেই অনু একটা সুসংবাদ পায় আর সেটু হলো অস্ট্রেলিয়াতে তার স্কলারশিপ হয়ে গেছে। খুব শিঘ্রই তাকে চলে যেতে হবে অস্ট্রেলিয়া। অনু সাথে সাথেই মিটুলকে জানায়। মিটুল ফোনে খুব খুশি হয়েছে ভাব নিলেও সে আসলে খুব কষ্ট পায়। তার প্রিয়তমা তাকে ছেরে চলে যাবে। এটা মোটেই সুখকর কোন সংবাদ নয়।
ইদানিং অনু আর আগের মত মিটুলকে বেশি সময় দেয় না। এর মধ্যে দুই একবার কিছু সময় হোটেলে কাটিয়েছে। কিন্তু তখনও কেমন যেনো অগোছালো আর অন্যমনস্ক মনে হচ্ছিলো অনুকে। অনু কিছুটা চেঞ্জ হয়ে গেছে।
অনু মিটুলকে এখন আর আগে ফোন দেয় না। মিটুল ফোন দিলেও অল্প স্বল্প কথা বলে ফোন কেটে দেয়।
মিটুল আবার চেঞ্জ, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। রাতে ঠিক মত ঘুমও হয় না। গত দুইদিন অনুর সাথে কোন যোগাযোগ হয় না। ফেসবুক আইডি টাও অনু ডিএকটিভ করে রেখেছে।
এসব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পরে মিটুল।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং (জামানের ফোন)
মিটুল : হ্যালো
জামান : ফেসবুকে ঢুকিস না নাকি?
মিটুল : ফেসবুকে ঢুক আর অনুর আইডি টা দেখ।
(জামান ফোন কেটে দেয়)
মিটুল ফেসবুকে ঢুকে, কিন্তু অনু এখনো তার আইডি একটিভ করেনি।
মিটুল জামানকে ফোন দেয়।
মিটুল : অনুর আইডি তো ডিএকটিভ করা। কেনো কি হইছে বলতো।
জামান : অনুর আইডি ডিএকটিভ করা না, অনু তোকে ব্লকড করেছে ফেসবুকে।
মিটুল: ও আমাকে ফেসবুকে ব্লকড করবে কেনো? কি যে বলিস না তুই।
জামান : অনু এক মন্ত্রীর ছেলেকে বিয়ে করেছে, এবং সেই ছেলের সাথে আজ রাতে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে।
মিটুল : কি সব আলতু ফালতু কথা বলছিস এই সব অনু জিবনেও আমার সাথে এমন করতে পারে না।
জামান : তোর ম্যাসেঞ্জারে আমি ওর আর ওর জামাই এর পিক দিয়েছে আর ওর কিছু পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়েছি। দেখ।
মিটুল ম্যাসেঞ্জারে ঢুকে জামানের দেওয়া সব পিক দেখে। তারপর অন্য একটি আইডি দিয়ে অপসরী কন্যা অনুর আইডি তে ঢুকে দেখে জামান ঠিক বলেছে। তারপর মিটুল অনুর ফোনেও ট্রায় করে।
সব কিছু মিটুলের কাছে এক দু:স্বপ্নের মত লাগছিলো। হটাত মাথা ঘুরিয়ে পরে যায়। সকালে নিজেকে বিছানার এককোনে আবিস্কার করে মিটুল। নতুন একটা আইডি খুলে অনুকে ফেসবুকে নক করে। কিন্তু সিন প্রযন্ত করে না সে।
মিটুল আবার চেঞ্জ হয়ে যায়। ছেড়ে দেওয়া সিগারেটটা কে আবার কাছে টেনে নেয়। নতুন সম্পর্ক হয় ইরাম আর স্যালের সাথে। এই সম্পর্ক ভিন্ন এক সম্পর্ক।
বেশিকিছুদিন পির অনুর আইডি থেকে মিটুলের ম্যাসেজের রিপ্লে আসে
অপসরী কন্যা : আমাকে ক্ষমা করে দিও মিটুল। আমি যা করেছি আমাদের ভালোর জন্যই করেছি। প্লিজ তুমি আমাকে আর নক করো না প্লিজ। আমার হ্যাজব্যান্ড জানলে সমস্যা হবে আমার। আমার সবকিছুই তো তুমি পেয়েছো। আর তোমার যদি কোন টাকা পয়সা লাগে আমাকে বলো, একটা একাউন্ট নাম্বার দাও আমি টাকা পাঠিয়ে দিব।
মিটুল অনুর এসএমএস পরে কিছুক্ষন হাসে, তারপর অনুকে ফেসবুকে ব্লকড করে। তারপর রুম থেকে বের হয়ে রওনা দেয় শ্যালের উদ্দ্যেশ্যে।
মিটুল সত্যিই চেঞ্জ হয়ে গেছে। অপসরী কন্যারা এমনি, প্রয়োজনে নিজেরাও চেঞ্জ হয় অন্যকেউ চেঞ্জ করে। নিজে চেঞ্জ হয় সুখের খোজে আর মিটুলদের মত ছেলেদের চেঞ্জ করে বানায় লেখক।
মিটুলরা আর বদলায় না, বদলাতেও চায় না।
সমাপ্ত
( পুরো গল্পটাই আমার কল্পনা । এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই )
আমার লেখা আরো গল্প পরতে চাইলে আমার পেইজ টি লাইক দিতে পারেন ।
https://www.facebook.com/arshipon15/