বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন অথবা গল্প


স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন অথবা গল্প
লেখাঃ MD Asadur Rahman – Shipon


নিজেকে খুব একা একা লাগছে আসিফের। ভালোবাসার মানুষকে হারানোর অনুভুতি কখন মুখের দুই চার বাজ্যে প্রকাশ করা সম্ভন না। আসিফও পারেনি। আচ্ছা এটা কি ভালোবাসা? এটা তো সুধু একতরফা ভালোবাসা। প্রায় ১০ বছর হয় আসিফ একাই আসিফাকে ভালোবেসে গেছে।
হাসছেন তাই না? আসিফ আসিফা। আমিও হেসেছিলাম

আরিফঃ আরে ব্যাটা এক ছ্যাকা খেয়ে দেবদাস হয়ে গেলি নাকি?
রুদ্রঃ শোন মামা একটা গেছে তো কি হইছে, আরেকটা আসবে।
আসিফঃ আমি ওকে কখনই ভুলতে পারবো না।
আরিফঃ তাহলে ওকে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসি।
আসিফঃ মজা নিস না। খুব কষ্ট হচ্ছে। একটা বিড়ি দে।
ইমরুলঃ এভাবে কাদছিস কেন?
আসিফঃ বুঝবিনা।
রুদ্রঃ বিয়ে হইলো কবে?
আসিফঃ আমার সাথে কথা শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেই।
ইমরুলঃ শ্বশুরবাড়ি কোথায়? ও কি শ্বশুরবাড়ী থাকে?
আসিফঃ কাবিন হয়েছে। এখনো শ্বশুরবাড়ি যায় নাই।
আরিফঃ এখনো সময় আছে, ওকে বল চলে আসতে।
আসিফঃ ও কেন আসবে? আমি ওকে ভালোবাসি, ও তো আমাকে ভালোবাসে না। ও ওর স্বামীকেই ভালোবাসে।
আরিফঃ স্বাভাবিক।
রুদ্রঃ কিশের স্বাভাবিক। তুই না বলছিলি যে ও তোকে ভালোবাসতো।
আসিফঃ ভালোবাসতো বলি নাই, বলছি ছোট সময়ে ও আমাকে পছন্দ করতো।
রুদ্রঃ এখন করে না?
আসিফঃ জানিনা।
ইমরুলঃ মামা আমি বলি তুই ওকে বল তোর কাছে চলে আসতে। যেহেতু ছোট সময়ে তোকে পছন্দ করতো তারমানে তুই ওর ফার্স্ট লাভ। তুই ওকে ফিরে পেতে চা। ওর কাছে নিজের ভালোবাসা দাবি কর। দেখবি চলে আসবে।
আসিফঃ মামার বাড়ির মোয়া তো যে চলে আসবে। আমি যাই।
আরিফঃ হুম, বাসায় গিয়েই তো ঘুমের ঔষধ খেয়ে সব ভুলে যাবার চেষ্টা করবি। তুই কি জানিস ধিরে ধিরে তুই মৃত্যুকে টেনে আনছিস?
আসিফঃ ঐটাই তো চাই আমি। গেলাম।
বাসায় গিয়ে ঘুমের ঔষধ ৬টা গিলে ঘুমিয়ে পরে আসিফ। গভীর ঘুম। এতো ঘুম যে পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশির মৃত্যতে তার স্বজনদের কান্নাও আসিফের ঘুম ভাঙাতে পারলো না।

ইমরুলের ফোনঃ
ইমরুলঃ মামা কোথায় তুই?
আসিফঃ এইতো বাসায়। কেন?
ইমরুলঃ এই মুহুর্তে তুই কোথায়? মানে চেয়ারে বসা নাকি বিছানায় সোয়া নাকি ছাদের রেলিং এর পাশে দাঁড়ানো?
আসিফঃ পিসির সামনে বসে আছি।
ইমরুল ঃ আচ্ছা মামা শোন।
আসিফঃ ভনিতা না করে কি বলবি বল?
ইমরুলঃ আসিফা তো চলে আসছে।
আসিফঃ মানে? কি বলছিস তুই?
ইমরুলঃ হ্যা ঠিকই বলছি। আমরা ওকে বুঝিয়েছি যে তুই ওকে কতটা ভালোবাসিস। তারপর ও তোর কাছে চলে এসেছে।
আসিফঃ কোথায় এখন?
ইমরুলঃ ধানমন্ডি ৩২ এ আছি আমরা সবাই। তুই মেস থেকে মামাদের নিয়ে আয়, উনাদের সাহায্য লাগবে।
আসিফঃ আচ্ছা আমি সবাইকে নিয়ে আসছি।
আসিফ তার ফ্ল্যাট থেকে সালাউদ্দিন, ইকবাল, বিশিষ্ট এডোভোকেট আবু সাইদ, শিপন আর হাবিবকে নিয়ে যায়।
আসিফ আসিফাকে দেখে কেদে দেয় বোকার মত। আর আসিফের কান্না দেখে বাকিরা সবাই হেসে দেয়।
শিপনঃ এই বোকা ছেলে কাদে কেন? দেখো মামা তোমার আসিফা তোমার কাছে চলে এসেছে। ইশ এইভাবে যদি আমার রোদেলা আমার কাছে চলে আসতো।
আবু সাইদঃ ধুর শিপন ভাই, সব সময় আপনার ছ্যাকা খাওয়া কাহিনি শুনতে ভালো লাগে না। এখন আনন্দের সময়। চলেন আগে ওদের বিয়ের ব্যাবস্থা করি।
শিপনঃ হুম। এডভোকেট আবু সাইদ থাকতে বিয়ে পরানো নিয়ে টেনশন কিশের?
সাইদ ঃ সুধু বিয়ে পরালেই হবেনা, আগে যেহেতু কাবিন হয়েছিলো আরেকজনের সাথে তাকে আগে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে হবে তারপর বিয়ে। আচ্ছা চলেন আগে কোর্টে যাই তারপর দেখা যাবে।
সবাই মিলে কোর্টি গিয়ে রাতে আসিফের বিয়ের কাজ শেষ করে বাসায় নিয়ে আসে। আপাতত তাদের ফ্ল্যাটেই উঠায়। শিপন আর ইকবাল এ কয়দিন পাশের রুমে থেকে আসিফের থাকার ব্যবস্থা করে।
বাসর ঘর সাজায় হাবীব আগেই চলে এসেবাসর ঘরে আসিফা। যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হতো ওদের তাহলে হয়তো বাসর ঘরটা অনেক অনেক ফুল দিয়ে সাজানো থাকতো, দামী একটা খাট থাকতো। কিন্তু ভালোবাসার পাওয়ার জন্যে দুজনেই এই পাওয়াটুকু সেক্রিফাইজ করেছে, তবে হাবীব কিন্তু বাসর ঘর খারাপ সাজায়নি। কয়েকটা ফুল দিয়ে আর বিছানাটা পরিস্কার করে আগেই রেখে দিয়েছে। বাসার ঘরে দুজনে একসাথেই প্রবেশ করে তাই সিনেমা বা অন্যান্য গল্পের মত বধু আগেই সেজে গুজে বসে ছিলো অতঃপর স্বামীর প্রবেশ করার পর স্ত্রী কাছে এসে পায়ে ধরে সালাম করে এই রিতিটুকু এখানে হলো না। দুজন দুজনকে জরিয়ে ধরলোআসিফা কাদছে হাওমাও করে আর আসিফের চোখ দিয়ে পানি পরছে কিন্তু শব্দ হচ্ছে না। আসিফ আসিফাকে কান্না থামাতে বলে, কিন্তু আসিফ যতবারই আসিফাকে থামতে বলে আসিফার কান্নার বেগ ততই বারতে থাকে। আসিফ হটাত করে আসিফার ঠোটে চুমু দিয়ে দেয়। এর পর আবার দুজনের ঠোট এক হয়ে যায়। দুজন দুজনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে। এখন মনের প্রেমের সাথে শরীরের প্রেম চলছে তাই এখান থেকে এখন আমরা বিদায় নেই।
৬দিন পর আসিফ আসিফাকে নিয়ে তার এক বোন আর দুলাভাই এর সাথে সাবলেটে মিরপুর উঠে। ভালোই চলছে দুজনের। আসিফ একটা প্রাইভেট ফার্মে  চাকরি করছে, মাসে ১৯০০০ টাকা স্যালারী পায় আর রোদেলা একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে ১০/১২০০০ এর মত পায়। এই দিয়ে দুজন আর গ্রামে বাবা-মা, ভাই-বোনের সংসার ভালোই চলছে। প্রতি শুক্রবার বিকলে দুজনে সারাদিন বাইরে থাকে। সকালে বের হয়ে ধানমন্ডি স্টার কাবাবে খাসীর পায়া দিয়ে নাস্তা, তারপর রবিন্দ্র সরবরে এসে দুধ চা, হাটাহাটি, দুপুর হলেই বসুন্ধরা এসে লাঞ্চ করে সিনেপ্লেক্সে টিকিট কেটে মুভি দেখা। মুভি দেখা শেষে টুকটাক শপিং বের হয়ে আবার রবিন্দ সরবরে গিয়ে গরুর চাপ দিয়ে লুচি, আবার চা। অতঃপর বাসায় ফেরা।
এইভাবে বছর খানেক পার হয়। আসিফা প্রেগনেন্ট হয়, কিছুদিন পরই বাচ্চা হবে তাই আসিফের ও এখন অনেক দায়িত্ব। আসিফার দেখাশোনা করা, নতুন অতিথির জন্য টাকা পয়সা জমানো, আগে আগে বাসায় ফেরা, আসিফাকে ডাক্তার দেখানো সব কিছু একজন আদর্ষ স্বামীর মত পালন করে আসিফ।
আসিফ এবং আসিফার কোল জুরে মহান আল্লাহ ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান দেয়। আসিফের মা নাম রাখে আশফিয়া। বাবা মার পরম মমতায় আশফিয়া বড় হতে থাকে। খুব সুখেই কাটছে তাদের সংসার।
একদিন ওরা তিনজনে শপিং এ যায়। শিপনের হাতে শপিং এর ব্যাগ, রোদেলার কোলে আশফিয়ারাস্তা পার হচ্ছে। আসিফের পিছনেই ছিলো আসিফা আর আশফিয়া। রাস্তা পার হচ্ছে আর এমন সময় হটাত একতা বাইক এসে আসিফার উপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়। আশফিয়া ছিটকে পরে যায়। আসিফার মাথায় আঘাত পেয়েছে, মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। আসিফ স্তব্ধ, চীৎকার করে সাহায্য চাইবে কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না তার। আসিফার কাছে গিয়ে বসে আসিফাকে ধরে, পিছনে আশফিয়া কান্না করছে। আসিফ এখন কি করবে কিছু বুঝছে না। কেউ এগিয়েও আসছে না। আসিফার শরীর ধিরে ধিরে শীতল হয়ে যায়। আসিফ খুব জোরে চিৎকার করে............
ঘুম ভেঙ্গে যায় আসিফের। আসিফ স্বপ্ন দেখছিলো। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে। তার বুকটা ধরফর করছে। কি ভয়ানকই না ছিলো স্বপ্নের শেষ দৃশ্যটা। আসিফ আবার শুয়ে পরে।এপাশ থেকে ওপাশ হয়। একপাশ থেকে আরেকপাশে হাত রাখারপরই নরম তুলতুলে কিছু স্পর্শ পায়। চমকে উঠেমাথা থেকে কাথা শরীরে পাশে চেয়ে দেখা মাত্রই চিৎকার দিয়ে উঠে।
কে কে কে,
বাবা-
বাবা মানে, এই পিচ্চি তুমি কে?
আসিফ অনেক ভয় পাচ্ছে, সারা শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। সে ভূতুরে একটা ভয় পাচ্ছে। কয়েকবার চিৎকার করার পরও তাকে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসিনি। আসিফ একটু সাহস সঞ্চার করে বাচ্চাটার সামনে যায়। বাচ্চাটির সামনে গিয়ে তো আসিফ আরো অবাক হয়ে যায়, কারন এই বাচ্চাটি হলো সেই বাচ্চা যাকে আসিফ স্বপ্নে দেখেছে। মানে স্বপ্নের আসিফ আর আসিফার কন্য আশফিয়া।
বাচ্চাটি হটাত কান্না শুরু করে, ধিরে ধিরে বাচ্চার কান্না বাড়তে থাকে আর কান্নার সাথে সাথে বাবা বাবা বলছে।
আসিফ কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না, কাছে গিয়ে মেয়েটিকে কোলে নেয়। কোলে নেওয়ার পর অন্যরকম একটা ভালোলাগা আর ভালোবাসা অনুভব করে। মেয়েটির সম্ভবত খুদা লেগেছে, কিন্তু সে এই পিচ্চির খাবার এখন কোথায় পাবে?
আসিফ চকলেট বিস্কিট চিপস খেতে পছন্দ করে। ব্যাগ থেকে চকলেট আর বিস্কিট বের করে দেয় মেয়েকে। কিছুটা শান্ত হয়।
আসিফ চিন্তায় পরে গেছে এখন কি করবে সে
_- কি করবো এখন আমি? বাইরে একে নিয়ে গেলে সবাই জিজ্ঞেস করবে এই বাচ্চা কার? কবে বিয়ে করছো? বউ কোথায় তোমার? মা ছাড়া মেয়েকে কিভাবে মানুষ করবে? আর কতকি প্রশ্ন যে আসবে ঠিক নাই। আবার আমি তো বাচ্চা পালতেও পারবো না, তবে ওর মুখের বাবা ডাকটি বারবার শুনতে ইচ্ছে করছে। কোলে নিয়ে বুকে জরিয়ে ধরে আদর করতে ইচ্ছে করছে।
আসিফ মেয়েটি কাছে যায়। দুই হাত দিয়ে মেয়েটি দুইগাল টেনে দিয়ে বলে
_- বাবুটা আমার। বাবা বলো, বাবা বলো বাবুটা। চকলেট এনে দিবো আরো।
আশফিয়া বাবা বলে খিক খিক করে হেসে দেয়। আর আসিফ সেই হাসির মায়ায় পরে যায়। কিন্তু কি করবে আসিফ বুঝে উঠতে পারছে না। আসিফ স্বর্নাকে ফোন দেয়। সে আসিফের খুব কাছের বন্ধু।
স্বর্না ঃ কিরে আছিইপ্পা?
আসিফঃ কেমন আছিস?
স্বর্নাঃ ভালো। তো হটাত করে ফোন দিলি যে?
আসিফঃ একটা ইনফরমেশন জানার ছিলো।
স্বর্নাঃ বল কি জানতে চাস?
আসিফঃ তোর বাচ্চার বয়স দুই বছর না?
স্বর্নাঃ হ্যা। কেনো?
আসিফঃ আচ্ছা তোর বাচ্চাকে তুই কিভাবে মানুষ করছিস? কি খাওয়াচ্ছিস? কান্নাকাটি করলে কিভাবে শান্ত করছিস?
স্বর্নাঃ কেন রে? বাচ্চা দত্তক নিবি নাকি? তাইলে আমারটাকে নিয়ে যা। আমি আর পারছি না।
আসিফ আর স্বর্না কথা বলে, বাচ্চা মানুষকরার ১০১ টা কলা স্বর্না আসিফকে বুঝিয়ে দেয়।
আশফিয়া চকলেট আর বিস্কিট খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। আর আসিফ এই সুজোগে বাইরে গিয়ে সেখান থেকে আশফিয়ার জন্য দুধ, সেরেলাক, চকলেট আর জুস নিয়ে আসে।
আসিফ, হাবিব আর ইমরুল একসাথে একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে। তিন রুমে তিনজন।
ঘুম ভেংগে যায় আশফিয়ার, ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই চিৎকার করে কান্না শুরু করে আশফিয়া। আসিফ কোলে নিয়ে হাটাহাটি করে কান্না থামাতে চায়। কিন্তু পারে না, আসফিয়া আরো জোরে চিৎকার করে উঠেআসিফ আশফিয়াকে একটা জুস দেয়। পাইপটা মুখে ঢুকিয়ে দেয়। কান্না থামিয়ে এবার আশফিয়া জুস খাওয়া শুরু করে।
আসিফের রুমের দরজায় টোকা দেয় কেউ একজন,
আসিফঃ কে ?
হাবিবঃ আরে বেটা কে মানে? দরজা খুল।
আসিফঃ ঘুমাচ্ছি, পরে আসিস।
হাবিবঃ তোর রুমে বাচ্চা কান্নার শব্দ পেলাম মনে হয়। দরজা খুল।
আসিফঃ আরে মোবাইলের রিংটোনের শব্দ।
হাবিবঃ দরজা খুলতে বলছি খোল।
আসিফ দরজা খুলে দেয়, কিন্তু হাবিবকে ভিতরে ঢুকতে দিতে চায় না। হাবিব জোর করে ঢুকে যায়। ঢুকেই দেখে বিছানার উপর একটা বাচ্চা।
হাবিবঃ মামা এইটা কে?
আসিফঃ কেউ না। তুই যা তোর রুমে।
হাবিবঃ আরে অনেক কিউট তো। আবার তোর মত দেখতেও দেখি।
আসিফঃ ঘটনা হচ্ছে।
হাবিবঃ বল
আসিফঃ স্বপ্নে দেখলাম আমার আর আসিফার বিয়ে হয়েছে। তারপর আমাদের বাচ্চা হয়েছে। সংসার ভালোই চলছিলো। তারপর শপিং করে রাস্তা পার হবার পর আসিফা এক্সিডেন্ট করে। এক্সিডেন্টে ও মারা যায়। বাচ্চা টা থেকে যায় আর কান্না করতে থাকে। এরপর ঘুম ভেংগে যায়। এরপর থেকেই সেই স্বপ্নের আশফিকা মানে এই মেয়েটি আমার পাশে।
হাবিবঃ তুই বাসায় আসার আগে কোন বার থেকে এসেছিস?
আসিফঃ নাহ। তবে ঘুমের আগে ঘুমের ঔষধ খেয়েছিলা ৬/৭ টা।
হাবিবঃ নাহ তুই মদ খেয়ে বা বাইরে ডেটওভার গাজা খেয়েছিলি তারপর রাস্তা দিয়ে হেটে আসার সময় এই বাচ্চাটিকে নিয়ে এসেছিস।
আসিফঃ আরে নাহ। আমি কসম করে বলছি।
হাবিবঃ চল বাচ্চাটাকে রাস্তায় রেখে আসি, যেখান থেকে এনেছিস সেখানে।
আসিফঃ তোর কি মাথা খারাপ যে তুই আমার মেয়েকে রাস্তায় ফেলে আসতে চাচ্ছিস?
হাবিবঃ পাগল হয়ে গেছে নাকিস তুই? কি বলবি এই মেয়েকে নিয়ে তুই সবার কাছে? যে এই মেয়ে তোর, মেয়েকে স্বপ্নে পেয়েছি, এটা আমার আর আসিফার মেয়ে। পাগলাগারদে যাওয়ার সখ হয়েছে।
আসিফঃ হাবিব আমি কি করবো বুঝতেছি না।
হাবিবঃ হয় রাস্তায় ফেলে রেখে আয় বা কোন এতিমখানায় দিয়ে আয়।
আসিফঃ আমি পারবো না।
হাবিবঃ আচ্ছা আমিই রেখে আসছি।
হাবিব কথাটি বলে আশফিয়াকে নিয়ে বের হয়ে যায়, আর আশফিয়া চিৎকার করে কাদতে থাকে। কান্নার শব্দ গুলো বিষের মত লাগছিলো আসিফের
আসিফের খুব কষ্ট হচ্ছে। ইচ্ছে করছে বুকের বা পাশটা কেটে ছিড়ে ব্যাথা কমাই।
হাবীব বাড়ি ফিরছে না। ফোনও বন্ধ দেখাচ্ছে। এদিকে আসিফও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে যে যাই বলুক না কেন আশফিয়াকে সে তার কাছেই রাখবে, হ্যা তার মেয়ে তার কাছেই থাকবে, তাকেই বাবা বলে ডাকবে। তাতে যে যাই বলুক আর যে যাই প্রশ্ন তুলুক তাতে।
হাবীবের জন্য বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা আর থাকতে না পেরে নিজেই বের হয় হাবীবকে খোজার জন্য। সরি হাবীব না, আশফিয়ার জন্য।
রাত ৩টা পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আশফিয়াকে আর হাবীবকে খুজে কোথাও পায় না আসিফ। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরে দেখে হাবীব বাসায় চলে এসেছে।
আসিফঃ হাবীব আমার মেয়ে কোথায়?
হাবীবঃ আসিফ তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? রাস্তা থেকে একটা পিচ্চি মেয়েকে তুলে নিয়ে এসে নিজের মেয়ে বলছিস।
আসিফঃ সাবধানে কথা বল। ও আমার মেয়ে। আমার মেয়ে কোথায়?
হাবীবঃ বেশি বেরে গেছিস তুই। যাহ বসুন্ধরার সামনে রেখে আসছি। নিয়ে আয় তোর মেয়েকে।
আসিফ কথাটা শোনার সাথে সাথেই বের হয় যায়। রাস্তায় গাড়ি না পেয়ে দৌড়ে দৌড়ে বসুন্ধরার সামনে যায়। কিন্তু কোথাও খুজে পায় না আশফিয়াকে। এদিকে হাবীব ও চলে আসে, তারও এখন মায়া লাগছে পিচ্চি মেয়েটির জন্য।
আসিফঃ হাবীব আমার মেয়েকে কোথায় রেখেছিস?
হাবীবঃ এখানেই তো রেখে গিয়েছিলাম। অনেক চকলেট আর চিপস দিয়ে গিয়েছিলা।
আসিফ ঃ নেই তো এখানে
হাবীবঃ চাল সামনে গিয়ে খুজি।
আসিফঃ চল।
দুজনে সামনে যায়। আশেপাশে কেন জানি আজ কোন লোকজন নেই। বসুন্ধার পাশের গলি থেকে দুইটা লোক বেরিয়ে আসে। হাতে রক্ত মাখা। দেখেই বুকটা কেপে উঠে আসিফের। আসিফ দৌড় দিয়ে গলির ভিতরে যায়। একটা চায়ের টং দোকানের পিছন থেকে মৃদ কাকুতির শব্দ আসছে। আসিফ টং এর পিছনের দিকে গিয়ে দেখে একটা আশফিয়ার দেহ কাপছে। শরীরে কোন জামা কাপর নেই। মুখ আর যৌনাজ্ঞ দিয়ে অঝড়ে রক্ত ঝরছে। মাত্র ২ বছরের বাচ্চাটি। পশুগুলো একা পেয়ে ...............
আসিফ চিৎকার করে কেদে দেয়। হাবীব দৌড়ে কাছে চলে আসে। হাবীব ও চিৎকার শুরু করে।
আসিফের চিৎকারে যেনো আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে।

আসিফ, এই আসিফ কি হইছে তোমার।
আসিফঃ আআআআআআআআ(চিৎকার) আমার আশফিয়া, আমার কলিজার টুকরা।
শিপনঃ আসিফ তুমি স্বপ্ন দেখছিলে মামা। প্লিজ থামো।
আসিফঃ ওরা আমার মেয়ে, আমার আশফিয়াকে খুন করে ফেলেছে।
শিপনঃ মামা তুমি স্বপ্ন দেখছিলে। এগুলা স্বপ্ন। পানি খাও তুমি।
আসিফঃ মামা আমার আশফিয়া।
শিপন আসিফকে জরিয়ে ধরে। একটু সান্ত করে পানি খায়িয়ে বারান্দা থেকে হাটিয়ে নিয়ে আসে।
মাঝে মাঝে সারাদিনের চিন্তাভাবনা গুলোই আমাদের স্বপ্নে ফিরে আসে। অবাস্তব হয়ে, ভালোলাগা নিয়ে আবার কখনো গভীর যন্ত্রনা নিয়ে।
আসিফ ছোট থেকেই আসিফাকে ভালোবাসে, ছোট থেকে এই পর্যন্ত তাকেই চেয়ে এসেছে আর নিজের করে ভেবে নিয়েছে কল্পনা। আসিফ, আসিফা আর কল্পনার মিশ্রনে আশফিয়ার জন্ম। আশফিয়ার জন্ম গভীর ভালোবাসা থেকে। আর সেই ভালোবাসা আর ভালোবাসার কষ্টগুলো ঘুমের ঔষধে মুছে দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টার ফলাফল এই স্বপ্নে, দুঃস্বপ্নে বা গল্পেও বলতে পারেন। আচ্ছা আপনিই বলুন এটা কি? স্বপ্নে, দুঃস্বপ্ন নাকি গল্প?
(পুরো গল্পটাই আমার কল্পনা, বাস্তবতার সাথে এর বিন্দু পরিমান মিল নেই। লেখায় ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হলো। আমার লেখা আরো গল্প পরতে চাইলে আমার পেজ থেকে পরতে পারেনঃ https://www.facebook.com/arshipon15/ )
সমাপ্ত।

বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

রোদেলা কাব্য


#রোদেলা_কাব্য

লেখা : MD Asadur Rahman – Shipon

#প্রেতাত্তার_লেখা_গল্প







পৃথিবীতে অনেক অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে, যেখানে গেলে অতি বেদনাসিক্ত মনটাও শান্ত হয়ে যায়। আমিও দেশের ভিতর এমন অনেক জায়গায় গিয়েছি, ভালোও লেগেছে খুব। কিন্তু...............

কিন্তু ধানমন্ডি লেকের পাশে জাহাজ বাড়ির পাশ দিয়ে সন্ধ্যার পর নির্জন রাস্তায় হাটার চাইতে বেশি ভালো লাগা আর কোথাও পাইনি...............

হাতে সিগারেট, কানে হেডফোন। একটু নির্জন জায়গায় বসে তোমাকে ভাবা। মনে হয় তুমি জীবন্ত। মানে আমার পাশেই বসে আছো। তোমার সাথে কথা বলি। তোমার হাত ছুয়ে দেই, তোমার চোখে চোখ রেখে হারিয়ে যাই আমি। সত্যি অসাধারন মূহুর্ত কাটে সেখানে। যদিও তুমি কল্পনায় আসো। তারপরেও ভালো।

প্রিয় চাকরীটা হটাত করে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। নতুন চাকরি খুজছি। রোজার মাস সামনে, তারপরেই ঈদ। আর রোজা, ঈদ মানে মধ্যবিত্ত পরিবারের বড়ছেলের জন্য একরকম অভিশাপ।কথাটা শুনে হয়তো অনেকেই ক্ষেপে যাবেন, কিন্তু যারা আমার মত পরিস্থিতিতে আছে তারা বুঝতে পারবেন। যাক এই কথায় আর না আসি।

রোজার আগে একবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। আচ্ছা আগে বলি আমি কে। আমি দুপুর, থাকি বসবাসের প্রায় অযোগ্য কিন্তু আমার প্রিয় শহর ঢাকায়। আমার গ্রামের বাড়ীও ঢাকা, তবে শহর থেকে একটু দূরে। মাসে দুই তিনবার বাড়ি আসা হয়। রোজার আগে এবার আসলাম, রোজার মধ্যে বা ঈদের আগে আর আসবো না। খরচ কমাতে হবে, সামনে ঈদ।

বাড়িতে নরমালি দিনে ঘুমাই আর বিকেল বা সন্ধ্যায় বের হই। আর এর মধ্যে দুই একবার নিকোটিনের সাথে ডেট দেওয়ার জন্য বাইরে বের হওয়া, এছাড়া বাসায়।

বাসা থেকে বের হয়ে বাজারের দিকে যাচ্চি নিকোটিন এর সাথে প্রেম করতে। হটাত পেছন থেকেঃ

সাইদঃ কাকা , কাকা দাড়াও।

আমিঃ কিরে কি হয়েছে?

সাইদঃ তোমার জন্য একটা গিফট আছে।

আমিঃ গিফট? আচ্ছা দে।

সাইদঃ আগে কিছু খাওয়াও।

আমিঃ আজব ব্যাপার তো, গিফট নিতে হইলে আবার কিছু খাওয়াইতে হয় নাকি?

সাইদঃ শুনো, তোমার রোদেলার তো মনে হয় বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। জন্ম নিবন্ধন করতে আসছিলো। তখন ছবি নিয়ে আসছিলো। এখন ৫০০ টাকা দাও আর ছবি নাও।

প্রায় ৯ বছর হয় মেয়েটিকে দেখি না। অথচ প্রতিটা মুহুর্ত, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন-রাত সে আমার কল্পনায় আছে।

আমিঃ আমার কাছে এখন ৫০০ নাই

সাইদঃ আচ্ছা কাকা যা আছে দাও

পকেটে ৩০০টাকা ছিলো সেটি দিয়ে তার পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি নিয়ে নিলাম। তারপর নিকোটিন এর সাথে সঙ্গম শেষ করে বাসায় ফিরে সোজা ছাদের চলে গেলাম। ট্রাউজারের পকেট থেকে ছবিটি বের করে অপলক দৃষ্টিতে রোদেলাকে দেখলাম। কি মায়া রোদেলার চোখে। 

আমি তাকিয়ে আছি, হটাত কাদতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন রোদেলার কথা ভেবে কাদা হয় না। কিন্তু কান্নাও আসছে না। মনে পরে গেলো ছোটবেলার কথা।

আমি আর রোদেলা প্রাইমেরি স্কুলটা একই স্কুলে পরেছি। আমি যখন ক্লাস ফাইভে সে তখন ক্লাস থ্রি। অসম্ভব

কিউট একটা মেয়ে। আমরা বলি না কিউটের ডিব্বা, ওর ক্ষেত্রে কথাটি মনে হয় সত্যি। ও আসলেই একটা কিউটের ডিব্বা।

ছোট থেকেই আমার ওকে ভালো লাগতো। ওকে দেখতে ভালো লাগতো। একদিন স্কুলে যাচ্ছি, বাসা থেকে রাস্তায় উঠার পর খেয়াল করলাম আমার একটু সামনেই রোদেলা।ওর পিছু পিছু যাচ্ছি। সামনে একটা লোক এসে রোদেলার গাল টিপে ধরলো। কালো করে, মুটু, গন্ডার। রোদেলা ঝাড়া দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো। আমার মেজাজটা গেলো খারাপ হয়ে, আমার গ্রামের মেয়ে, আবার আমার আত্তীয়ও বটে তার সাথে এই গন্ডার লোকটা এমন করলো।(তখনো ভালোবাসাটা কি সেটা বুঝি না)

হয়তো দুই একদিন পরে কোন এক বিকেলে আমি আর কুয়াশা ব্রীজ দিয়ে হেটে যাচ্ছি, নিচে দেখি ঐ গন্ডারটা। ব্রীজ থেকে নেমে এসে একটা ইট নিয়ে এসে ব্রীজের উপর থেকে ইট ছুড়ে মেরে গন্ডারটার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমি আর কুয়াশা ছাড়া আজই প্রথম আপনারা জানলেন।

ঘটনাটি মনে করে হাসতে লাগলাম। পাগলের মত একা একা হাসছি। ক্ষনিকেই আবার আমার হাসীটা বিলিন হয়ে গেলো। সাইদ বললো রোদেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমি রোদেলাকে ছাড়া বাচবো কি করে? অন্য কারো বউ হয়ে সে চলে যাবে? বুকের বা পাশে খুব কষ্ট হতে শুরু করলো। জানেন আমি এখনো রোদেলাকে নিজে প্রপোজ করতে পারিনি। অথচ ভালোবাসি প্রায় ৯ বছর। নিজে প্রপোজ করতে না পারলেও বন্ধুদের দিয়ে করিয়েছিলাম। নেগেটিভ রিপ্লে আসায় আর সামনে যাওয়া হয়নি। আর ওর আসে পাশে গেলেই আমার হাত-পা কাপাকাপি শুরু করে দেয়। বুক ধরফর ধরফর করে।

কিন্তু এবার তো সাহশ করে বলতেই হবে। কোণ এক কারনে রোদেলা আমাকে ঘৃনা করে। তার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ আমি। এর আগে এফবিতে কয়েকবার নক করেছিলাম। রিপ্লে তে এসেছিলো হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ।





আবার পিছু লাগা শুরু করলাম। নতুন একাউন্ট খুলে আবার রিকোয়েষ্ট পাঠানো শুরু করলাম, তার বান্ধবীদের দিয়ে অনুরোধ, অনুনয় বিনয় করে ফ্রেন্ড লিষ্টে জায়গা পেলাম। ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ দিয়ে চ্যাটও শুরু করলাম। অনেকভাবে চেষ্টা করে অবশেষে বুঝাতে সক্ষম হলাম যে সে যে কারনে আমাকে ঘৃনা করে সেটা সম্পুর্ন ভূল।

রোদেলাঃ তাহলে আমি তোমাকে এতোদিন ভূল বুঝেছি?

দুপুরঃ হ্যা।

রোদেলাঃ এতোদিন তুমি কেনো বলোনি?

দুপুরঃ অনেকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু তুমি সুজোগ দাওনি।

রোদেলাঃ যাই হোক এতোদিন পর তাহলে তোমার সাথে কথা হলো। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে যে আমি তোমার সাথে কথা বলছি।

দুপুরঃ আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। একটু চিমটি কেটে দিবা?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহাহহা

দুপুরঃ তুমি খুব সুন্দর করে হাসো। আচ্ছা তুমি হাসলে কেমন লাগে?

(রোদেলা তার হাসীমাখা অসাধারন একটা ছবি দেয়)

রোদেলাঃ দেখো কেমন লাগে।

দুপুরঃ মাথা ঘুরাচ্ছে।

রোদেলাঃ কেনো?

দুপুরঃ এতো সুন্দর মুখ, এই রকম মন ভোলানো হাসি দেখলে তো মাথা ঘুরাবেই তাই না?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহা । আচ্ছা তোমার গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে?

দুপুরঃ আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। তোমার?

রোদেলাঃ আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। তবে বয়ফ্রেন্ড আছে এবং সে খুব ভালো আছে।

দুপুরঃ মাশাল্লাহ।

রোদেলাঃ তোমার গার্লফ্রেন্ড নেই কেনো?

দুপুরঃ আমার গার্লফ্রেন্ড হবে কে? গার্লফ্রেন্ড পেতে হলে সুন্দর, স্মার্ট হতে হয়।

রোদেলাঃ তুমি কম কিশে? তুমি তো অনেক কিউট।

দুপুরঃ হাহাহাহাহহাহা

রোদেলাঃ হাসো কেনো?

দুপুরঃ আচ্ছা তাহলে তুমি আমাকে এক্সেপ্ট করলে না কেনো?

রোদেলাঃ সত্যি কথা বলতে আমিও তোমাকে পছন্দ করতাম। কিন্তু সে সময়টা আমাদের পক্ষে ছিলো না।

দুপুরঃ হুম, আমার পোড়া কপাল।

রোদেলাঃ এইভাবে বলো কেনো। দেইখো তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে পাবা।

দুপুরঃ আমি তোমাকে কখনো সরাসরি প্রপোজ করিনি। আজ করি?

রোদেলাঃ দুপুর আমি এঙ্গেইজড।

দুপুরঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক অনেক ভালোবাসি। সেই ছোট থেকেই।

রোদেলাঃ তুমি পাগল হয়ে গেছো।

দুপুরঃ অনেক আগে থেকে।

রোদেলাঃ আচ্ছা অনেক রাত হয়েছে, আমি ঘুমাবো।

দুপুরঃ আমাদের কি আবার কথা হবে?

রোদেলাঃ জানিনা। তবে হতেও পারে।

দুপুরঃ আচ্ছা তুমি ঘুমাও। শুভ রাত্রী।

রোদেলাঃ শুভ রাত্রী।

সেদিন আর সারারাত আমার ঘুম হয়নি। স্বর্গীয় একটা সুখ অনুভব করছিলাম।

পরের দিন ভোরে উঠেই শুভ সকাল লিখে এসএমএস করি। তারপর রিপ্লে পাবার অপেক্ষা। সকাল গড়িয়ে দুপুর কিন্তু কোন রিপ্লে নেই। রাতে ঘুমানোর আগে আবার শুভ রাত্রী, এবার ও রিপ্লে নেই।

দুইদিন পর দুপুরের দিকে শুভ সকাল লিখে এস এম এস আসলো।

আমিঃ এখন শুভ সকাল?

রোদেলাঃ মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।

আমিঃ এতো দেরি করে যে?

রোদেলাঃ চাকরীটা ছেরে দিয়েছি। তাই এখন ফ্রি, দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে সমস্যা নাই।

আমিঃ নাস্তা করছো?

রোদেলাঃ এখনো সুয়ে আছি। উঠে ফ্রেস হয়ে রান্না করবো।

আমিঃ তাহলে তারাতারি উঠে রান্না করে খাও। অসুস্থ হয়ে পরবে।

রোদেলাঃ তুমি নাস্তা করছো?

আমিঃ আমি সকালে নাস্তা করি না। একেবারে লাঞ্চ করবো।

রোদেলাঃ নিজে নাস্তা করে না আবার আমাকে জ্ঞ্যান দিতে আসছে। যাও কিছু খেয়ে নাও। আর আমি ফ্রেশ হয়ে রান্না করি।

রোদেলা অফ লাইনে চলে যায়। আর আমি ভাবতে থাকি, আমি রোদেলার সাথে কথা বলছি। সেই রোদেলা যার জন্য আমি প্রায় ৯ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। যদিও সে এখন অন্য কারো। তবুও ভালোবাসার মানুষের সাথে কথা বলার যে অমৃত সুখ সেটা হয়তো আমি এখন আপনাদের বুঝাতে পারবো না।

আমি ফেসবুক ওপেন করে বসে আছি, রোদেলা অনলাইনে আসলেই নক করবো কথা বলবো। কিন্তু তার আসার খবর নেই। রাত ১টার দিকে সেই নক দেয়। মন খারাপ তার। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তার মন ভালো করার। কিন্তু এই বিষয়টাতে আসলে আমি অনভিজ্ঞ।

আমিঃ আচ্ছা তোমার ছোট সময়ের কথা মনে আছে?

রোদেলাঃ সব মনে নেই। কিছু কিছু মনে আছে।

আমিঃ সকালে একসাথে পরতে যেতাম।জানো আমার সকালে উঠতে খুব কষ্ট হতো, কিন্তু তারপরেও তোমাকে দেখার জন্যই শুধু সকালে উঠে পরতে যেতাম।

রোদেলাঃ মনে আছে। তুমি দরজা দিয়ে ঢোকার সময় অনেক কিউট একটা হাসি দিতে। আমি প্রতিদিন তোমার হাসি দেখতাম।

আমিঃ কিহ! তুমি আমার হাসি দেখতে? আর আমি তখন হাসতে জানতাম নাকি?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহা। হাসতে জানতে না মানে? সত্যিই তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর, অনেক কিউট।

আমিঃ চাপা মাইরো না। জীবনে তো একবারও আমার দিকে ফিরেও তাকাও নাই।

রোদেলাঃ অনেক বার তাকিয়েছি। লুকিয়ে লুকিয়ে।

আমিঃ লুকিয়ে লুকিয়ে কেনো?

রোদেলাঃ সবাই ভাবতো তুমি আমি প্রেম করি, সেই ভয়ে। আর লজ্জাও লাগতো, কিন্তু বার বার দেখতে ইচ্ছে করতো।

আমিঃ আমাকে তোমার দেখতে ইচ্ছে করতো? ধন্য আমি।

রোদেলাঃ একটা কথা বলি?

আমিঃ অবশ্যই রুপকন্যা।

রোদেলাঃ নাহ থাক।

আমিঃ কেনো থাকবে?

রোদেলাঃ দুপুর আমি এঙ্গেইজড।

আমিঃ তো?

রোদেলাঃ ঘুম পাচ্ছে আমার। ঘুমাবো।

আমিঃ মন ভালো হয়েছে?

রোদেলাঃ অনেক অনেক। কিছুখনের জন্য সেই পিচ্চিকালে হারিয়ে গিয়েছিলাম।

আমিঃ ভালো লাগলো শুনে। যাও এখন ঘুমাও।

সেদিনের মত সে ঘুমিয়ে পরে। আমি কিছুখন বারান্দায় নিকোটিন সুখ নিয়ে বিছানার সাথে আলিঙ্গন করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পরি। তাকে স্বপ্ন দেখি। দেখি যে রোদেলা আর আমি রাস্তা দিয়ে হাটছি। রাস্তা পার হবার সময় ও আমার হাত ধরে, শক্ত করে ধরে। আমি অকৃত্রিম একটা সুখ, গভীর একটা ভালোবাসা অনুভব করি। হাহাহাহা, অল্প কিছুক্ষন পরেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় একটা ফোনে। ইউসুফ ফোন দিয়েছে।

আমিঃ হ্যালো দোস্ত, এতো সকালে যে?

ইউসুফঃ আরে পাঠা, এখন সকাল না। এখন সকাল ১১টা বাজে।

আমিঃ ওহ। অনেক রাতে ঘুমাইছি তো তাই।

ইউসুফঃ শোন, আগামী পরশু আমাদের অফিসে তুই একটা ইন্টারভিউ দিবি। ফরমাল ড্রেসে আসবি। আর সব ডকমেন্টের ফটোকপি নিয়ে আসবি।

আমিঃ কয়টায়?

ইউসুফঃ ঠিক ১১টায়। আমি তোকে অফিসের এড্রেস টেক্সট করে দিচ্ছি।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

ইউসুফের সাথে কথা শেষ করে ম্যাসেঞ্জারে ঢুকি। রোদেলা শুভ সকাল লিখে টেক্সট করেছে। আমিও শুভ সকাল লিখে টেক্সট করি। কিন্তু সে এখন অনলাইনে নেই। এরপর বেশ কিছুখন অপেক্ষা করি। রিপ্লে না পেয়ে ঘুমিয়ে পরি। ঘুম ভাঙ্গে প্রায় ৩টায়। ঘুম ভাঙ্গার পরপরই ম্যাসেঞ্জারে ঢুকি। রোদেলার ম্যাসেজ।

কেমন আছো?

কোথায় তুমি?

নাস্তা করছো?

লাঞ্চ করছো?

কোথায় তুমি?

ধুর ভাললাগেনা।

ম্যাসেজ দেখে একটু মুচকি হাসি। তারপর রিপ্লে দেই যে ঘুমিয়ে ছিলাম, সরি। কিছিক্ষন অপেক্ষা তারপর তার খোজ খবর না পেয়ে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করি। এসে দেখি এখনো রিপ্লে নাই। ম্যাসেজ দেই ঃ ০১৯৫৬৩৭৩২৭৩ এটা আমার নাম্বার, অনলাইনে আসলে ফোন দিও।

ম্যাসেজ দিয়ে ঘুমিয়ে পরি আমি। ঘুম ভাঙ্গে আবার সন্ধ্যায়। বাইরে বের হই, ৩২ এ গিয়ে চা খাই, ফ্রেন্ডেসদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরি। বাসায় ফিরে পিসিতে বসি, টুকটাক মডেলিং প্র্যাকটিস আর গান শোনায়ু ব্যাস্ত। হটাত একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে। বুঝতে পারি যে রোদেলার কল, কল কেটে দিয়ে ম্যাসেঞ্জারে আসি। এর পর শুরু হয় কথা। ম্যাসেজিং চলতে থাকে, তারপর অনেক রিকোয়েস্ট এর পর এক মিনিট ফোন কলে কথা বলার সুজোগ পাই। ওই পারের মিষ্টি হ্যালো কথাটি আমাকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। কিছুখন পর কেমন আছো, কি করছো এই সব বলে আমি নিজেই ফোন কেটে দেই। তারপর আবার ম্যাসেজিং। সারা রাত জেগে ম্যাসেজিং। এরপর দুই দিন এভাবে ম্যাসেজিং চলে, তারপর শুরু হয় ফোনে কথা বলা, রাত জেগে কথা বলা, একসাথে বেশ কিছুদিন ভোর হওয়ার সৌন্দর্য দেখেছি। একটা সময় সে স্বিকার করে সেও আমাকে পছন্দ করতো, ভালোবাসতো। ছোট বেলার সেই চিঠিটি সে আমার জন্যই লিখেছিলো।

আমি চাদকে ভালোবাসি, চাঁদ আমায় ভালোবাসে বলে। আমি সূর্যকে ভালোবাসি, সূর্য আমাকে ভালোবাসে বলে। আমি তোমায় ভালোবাসি তুমি আমায় ভালোবাসো বলে। চাঁদ যেমন সূর্যের আলোয় নিয়ে বেচে থাকে, তেমনি আমি তোমার ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকবো।

I Love You

(S+R)

চিঠিটি আমার হাতে পরেনি। ভূল ক্রমে সেটি তার মায়ের কাছ পর্যন্ত গিয়েছিলো। হয়তো সেই চিঠিটি তখন আমার হাতে আসলে গনেষ আজ অন্য কথা বলতো।

যাক সেই পুরোনো কথা। আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে চলে। আমাদের সম্পর্ক? কিশের সম্পর্ক আমাদের? আমি তাকে ভালোবাসি, সে এখন ভালোবাসে অন্যকাউকে, খুব শিঘ্রই তারা এক হবে। তাহলে আমাদের সম্পর্কটা কি? বন্ধুত্ব? আমি বন্ধুত্ব মানতে নারাজ, কারন যাকে ভালোবাসি তাকে বন্ধু মেনে নিতে পারছি না।

প্রথম দেখা। তার সাথে কথা ছিলো প্রথম স্যালারী পাওয়ার পর তাকে ফুসকা খাওয়াবো, রবিন্দ্র সরবরের চা আর গরুর চাপের সাথে লুচি খাওয়াবো।

আমি সরবরের পাশে লেকের ধারে বটতলায় বসে আছি। আমার হাতে একটা ব্যাগ। ব্যাগটা পাশে রেখে বসে আছি। কিছুক্ষন পরপর ব্যাগটা নাড়াচারা করছে। ব্যাগে কি আছে সেটা বলবো না, রোদেলার জন্য সারপ্রাইজ।ওকে বলবো বাসায় গিয়ে খুলতে। আমি ড্যাম শিউর ও খুব খুশি হবে।

বসে আছি, অপেক্ষায় আছি। অন্য সময় অপেক্ষা খুবই কষ্টদায়ক হলেও আজ তেমন কষ্ট লাগছে না। তবে কিছুটা ভয় ভয় লাগছে, ঘামছিও বটে। আচ্ছা এমন তো হয়নি যে রোদেলা এসেছিলো, আমাকে দূর থেকে দেখে ভয় পেয়ে চলে গেছে। হয়তো ভেবেছে তার মত এইরকম আহামরি একজন সুন্দরী কিভাবে এই রকম পিচ্চি একটা ক্ষ্যাত ছেলের পাশে বসবে, ভেবে হয়তো চলে গেছে।

কেমন আছো?

আমি দাঁড়িয়ে যাই, হাত পা মৃদ কাপছে, আর ঘামছিও মনে হয়। তার কথার উত্তর মুখ দিয়ে বের হচ্ছে হছে করে হচ্ছে না।

রোদেলাঃ কি হলো তোমার?

আমিঃ(আস্তে করে) ভালো আছো?

রোদেলাঃ (হালকা হেসে)তুমি আগে শক্ত হও। কাপছো তুমি।

আমি গিফটের প্যাকেটটা ওর কাছে এগিয়ে দেই। ও হাতে নিয়ে খুলতে যাবে আর তখনি

আমিঃ এই না, এখন খুলবে না। বাসায় গিয়ে খুলবে।

রোদেলাঃ কেনো?

আমিঃ এমনি।

এরপর ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হই। অনেক অনেক কথা বলি। মুখে নেকাব ছিলো, খুব দেখতেও ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু সাহস করে বলতে পারছিলাম না। ঠিক তখন এক ফুসকাওয়ালা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। আমি ডাক দিয়ে ফুসকা অর্ডার করি। আর ফুসকা খাওয়ার জন্য রোদেলা তার মুখ থেকে নেকাব খুলে আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে থাকি। পাক্কা ৯ বছরের বেশি পরে তাকে দেখলাম। ও মুখে নেকাব দিয়ে দেয়

রোদেলা ঃ এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমার লজ্জা লাগে।

আমিঃ ওহ সরি, আচ্ছা আর তাকাবো না। তুমি খুলে খাও।

নেকাব খুলে নেয়, আমি নিচ দিকে তাকিয়ে ফুসকা খাচ্ছি।

রোদেলাঃ আমি তাকাতে না করিনি, দেখতেও না করিনি। কিন্তু ঐভাবে তাকালে লজ্জা লাগে।

আমি মুচকি হেসে ওর দিকে তাকাই। রোদেলাও হাসে। ফুসকা খাওয়া শেষে গরুর চাপ খাই। মাঝে মাঝে অনেক কথা হয়। ছোট বেলার কথা, তার আর আমার কথা।

আমিঃ আচ্ছা রোদেলা তোমার মনে পরে?

রোদেলাঃ কি মনে পরবে?

আমিঃ স্কুল শেষে আমি তোমার পেছন পেছন আসতাম।

রোদেলাঃ হুম প্রায় মনে পরে। আমার ডাইরিতেও তোমার এই কথাগুলো লেখা আছে। আমি চাইতাম তুমি এসে আমার সাথে কথা বলো। কিন্তু বলতে না। তবে এটাও জানতাম তুমি আমার জন্যই আসতেছো।

আমিঃ হাহাহাহা। তুমিও তো পারতে আমার সাথে কথা বলতে। বলোনি।

রোদেলাঃ মেয়েরা চাইলেও অনেক কিছু পারে না।

আমিঃ আচ্ছা শুনো যেটা বলছিলাম। স্কুল শেষে তোমার পিছু পিছু আসছিলাম। তুমি আর তোমার বান্ধবী ছিলে। আমি পিছনে একা। হটাত বৃষ্টি। তোমাদের দুজনের হাতেই ছাতা ছিলো।আর আমি খালি হাতে ভিজে যাচ্ছিলাম। তুমি তোমার ছাতাটি তোমার বান্ধবীকে দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছিলে। মনে আছে?

রোদেলাঃ নাহ মনে নেই।

আমিঃ আচ্ছা তোমার স্কুল লাইফের ঐ কালো রঙের ছাতাটি কি এখনো আছে?

রোদেলাঃ নাহ।

আমিঃ তোমার সবুজ বোরখাটা?

রোদেলাঃ নাহ নেই। কিন্তু কেনো?

আমি ঃ নিয়ে নিতাম তোমার কাছ থেকে। তারপর রেখে দিতাম।

রোদেলা ঃ আচ্ছা আমার যে ছোটবেলার কিছু জিনিষ তোমার কাছে রেখে দিয়েছো সেগুলা কি করবে?

আমিঃ তোমার গায়ে হলুদের দিন সব পুরিয়ে দিবো।

রোদেলাঃ কেনো? ওহ এর পর বুঝি আমাকে আর ভালোবাসবে না? তাহলে গায়ে হলুদের দিন কেনো, বিয়ের দিন পুরিয়ে। একটা দিন আমাকে বেশি ভালোবেসো।

আমিঃ বিয়ের দিন আমি থাকবো না।

রোদেলাঃ কোথায় যাবে তুমি?

আমিঃ জানিনা।

রোদেলাঃ তুমি আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবে। আর ঐ যে একবার বলেছিলে যে আমাকে তুমি নীল শাড়ীতে স্বপ্নে দেখেছিলে, সেই রকম একটা নীল শাড়ী, নীল চুরী, নীল টিপ, আমাকে গিফট করবে বিয়েতে। আমি সেইগুলো পরে আবার তোমার বিয়েতে আসবো।

আমিঃ আহাহাহাহা । আমিতো বিয়েই করবো না। আর তোমার বিয়েতেও যাবো না। তবে এগুলা গিফট করবো।

রোদেলা ঃ বিয়ে করবে না কেনো? আমি তোমার জন্য মেয়ে পছন্দ করে দিবো। আমার পছন্দ করা মেয়েকেই তুমি বিয়ে করবে।

আমিঃ ততদিন হয়তো আমি বাচবো না।

রোদেলাঃ চুপ করো। (আমার শোনা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর বাক্য)

আমি চুপ করি, রোদেলাও চুপ। ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ওর চোখের পানি দেখে। ইচ্ছে করছে চিৎকার দিয়ে সরি বলি। কিন্তু

আমিঃ সারি রোদেলা।

রোদেলা। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি উঠি।

আমিঃ আচ্ছা আমি তোমাকে দিয়ে আসি।

রোদেলাঃ নাহ, আমি একাই যেতে পারবো।

আমিঃ এখান থেকে উত্তরা অনেক দূর, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি আসি তোমার সাথে।

রোদেলা না বলে হাটা ধরে। একবার পিছন ফিরে বলেঃ “প্লিজ দয়া করে ঐধরনের কথা আমার সামনে আর কখনো বলবে না। আমার খুব কষ্ট হয়। কেন কষ্ট হয় সেটা তুমি বুঝবেনা।“ আবার হাটা ধরে। আমি কিছুক্ষন একা বসে থেকে তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বাসার পথে হাটা দেই। আমি বুঝি, আমি বুঝি সে আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু এখন আর আমাদের সেই সুজোগ নেই। কিছু করার ও নেই।

বাসায় ফিরে আসি। সেদিন রাতে আর রোদেলার সাথে কথা হয়নি। সকালে ম্যাসেজে আমার দেওয়া গেফটের সাথে তার একটি কিউট মার্কা সেলফি পাঠিয়েছে, আর এত্তোগুলা থ্যাংকস। হাহাহাহহাহাহাহা

আবার কথা শুরু হয়। আমরা আরো কয়েকবার দেখা করি। ও আমাকে একটা একুরিয়াম গিফট করে, একটা ঘড়িও। আমাদের প্ল্যান করা হয় আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে বিয়ে দিয়ে আমরা বিয়াই বিয়াইন হবো, আর বৃদ্ধবয়েসে প্রেম করবো। রোদেলার একটা কথা আমার বেচে থাকার সম্বল জোগায়। কথা না, এটা ওয়াদা। ও আমার কাছে ওয়াদা করে মৃত্যুর পরের জীবনে ও আমার সঙ্গী হবে, এ জীবনেতো আর সম্ভব নয় কারন সে অলরেডী একজনের কাছে কমিটেড। এই ভরসা নিয়েই আমার জব চলতে থাকে, কথা চলতে থাকে লিখাও এখন টুকটাক। আর ঐদিকে রোদলার ও এমবিবিএস শেষ। ইন্টার্ন করছে। শেষ হলেই বিয়ে।

আমি খুব গভিরে চলে যাই। রোদেলার প্রতি দারুনভাবে উইক হয়ে পরি। আর যেহেতু তার বিয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই সে তার হবু হাজব্যান্ডকে এখন আগের চেয়ে সময় দেওয়া বেশি শুরু করে। যেটা সহ্য করতে আমার পক্ষে খুব বেশি কষ্ট হচ্ছিলো। আমি ধিরে ধিরে মাদকাশক্ত হয়ে পরি। এর মাঝে যে এতো সুখ সেটা আগে জানা ছিলো না।

একদিন রোদেলা আমায় জানায় সামনের মাসের শুরুতে তার বিয়ে। তাই সে এখন থেকে কথা বলা বাদ দিতে চায়। আমিও তাতে সম্মতি জানাই। এর দুটো কারন, ১ঃ তার সাথে কথা বলার বা ফিরিয়ে আনার বা জোর করার কোন অধিকার আমার নেই। ২ঃ আমি চাই না তার কোন ক্ষতি হোক বা সুখের সময় পিছুটান থাকুক।

আমি রোদেলার জন্য গিফট কিনি। নীল শাড়ী, একগুচ্ছো নীল চুড়ি, নীল টিপ, একটা ডাইরি, এক বক্স কালার পেন্সিল, ইররেজার। এই সব কিছু নীল একটা মোড়কে মুড়িয়ে রোদেলার এক বান্ধবীর কাছে জমা দেই। সে বিয়ের দিন পৌছে দিবে। আর আমি তার সমস্ত স্মৃতি পুরিয়ে দিয়ে কিছুটা প্রশান্তির জন্য কক্সবাজার যাবো। সাথে আছে বন্ধুরা।

আগামীকাল বিয়ে আর আজ গায়ে হলুদ। আমি এখন আমার বাসার ছাদে। সামনে রোদেলার সকল স্মৃতি। কিছুক্ষন পরেই পুড়িয়ে ফেলবো সব। ওর ব্যাবহৃত টিস্যু, আমার উদ্যেশে লেখা ওর প্রেমপত্র, পত্রিকায় দেওয়ার জন্য ওর লেখা কবিতা, ওর একটা ওড়না, চকলেটের খালি প্যাকেট, আর আমি ওকে গিফট করার জন্য কিছু চকলেট, কলম, কিনেছিলাম সেগুলো।

কেরোসিন তেলে ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেই। আমার সামনে পুরে যাচ্ছে সব, আর আমার বুকের ভিতরটাও পুরে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে, চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে। কাদছি আমি কিন্তু চিৎকার করতে পারছি না।

হটাত খেয়াল করি নিচে কিছু একটা হয়েছে, কেউ চিৎকার করছে। ইচ্ছে না থাকা সত্বেও নিচে নামতে হলো।

শিড়ি বেয়ে নিচে নেমে দেখি রোদেলা হলুদ শাড়ী পরে।

হ্যা, ও চলে এসেছে, আমাকে ভালোবেসে সব ভয় উপেক্ষা করে সে চলে এসেছে। সুধুই আমার হয়ে চলে এসেছে। এক দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে। আমি এবার আর থামতে পারলাম না, চিৎকার করে কাদতে কাদতে বলতে থাকলাম ভালোবাসি ভালোবাসি সুধুই তোকে ভালোবাসি।



ইউসুফঃ কিরে মামা কি হয়েছে? কাদছিস কেনো? রোদেলাকে স্বপ্নে দেখছিলি নাকি?

ইউসুফের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আর ভেঙ্গে যায় এতো মধুর একটা স্বপ্ন। রোদেলার সাথে দেখা, কথা বলা, একসাথে খাওয়া, আবার নাকি সে তার বিয়ে রেখে আমার কাছে চলে আসা। এগুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ৮ ঘন্টার জার্নির ঘুমের স্বপ্নেই সম্ভব, আমার মত পোড়া কপালে রোদেলা নেই। স্বপ্নটা অনেকটা সিনেমার মতো হয়ে গেলো।

আজ সত্যিই রোদেলার বিয়ে আর সেই জন্যেই বন্ধুদের সাথে আমি কক্সবাজার। ওর জন্য আরেকজনের নামে গিফট পাঠিয়ে দিয়ে এসেছি, কিন্তু রোদেলা জানবে না। রোদেলার হয়তো আমার কথা মনেই নেই। এখনো হয়তো আমাকে ঠিক আগেই মতই ঘৃনা করে। হয়তো তার কাছে এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষটি আমি। এইভাবে কারো কাছে খারাপ মানুষ হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই হয়তো ভালো। মৃত মানুষকে হয়তো রোদেলা আর ঘৃনা করবে না।

ইউসুফঃ দোস্ত চল চলে এসেছি।

আমিঃ হ্যা, চল নামি।

নীরবঃ আগে রুম বুক করে আসি।

মাহাদীঃ হুম ঘুম পাচ্ছে আমার।

আমিঃ তোরা রুমে গিয়ে ঘুমা। আমি বিচে যাবো।

আরিফঃ এখন রাত ৩টা বাজে। এই রাতে বিচে গিয়ে কি করবি তুই?

আমিঃ সাগরের ঢেউ এর শব্দ শুনবো।

নীরবঃ আচ্ছা ও যাক, ওর মন খারাপ। সাগরের কাছাকাছি গেলে হয়তো ভালো লাগবে।

মাহাদীঃ আচ্ছা তোর ব্যাগ দে। আমি নিয়ে যাই। তুই একটু পর আসিস।

আমিঃ নাহ। ব্যাগে একটা অক্টোবর এল আছে, এটা লাগবে।

আরিফঃ এলকহোল নিবি নে। কিন্তু সাগরে নামবি না ভূলেও।

আমিঃ আচ্ছা।

ওরা হোটেলের জন্য চলে যায়। আমি বিচে যাই। বালির উপর বসি। কিছুখন সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকি। রোদেলার কথা মনে পরে। ছোট ওর সেই পাগল করা হাসীর কথা মনে পরে। স্কুল শেষে ওর পিছু পিছু আসার দৃশ্য আমার সামনে ভেষে আসে। আমি ব্যাগ থেকে বোতল টা বের করে গিলতে থাকি। কিছুখন পর ইচ্ছে করে পা টা একটু পানিতে ভিজিয়ে আনি। সামনে এগিয়ে যাই, খালি পায়ে পানিতে হাটি। আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। খেয়াল করি মাথাটা ঘুরছে, হাতপা অবশ হয়ে আসছে। পিছনে ফিরে যাবার আর কোন শক্তি নেই আমার। খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি পরশুদিন সকালে দেশের প্রায় অনেকগুলো পত্রিকায় ছাপা হবে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যুবকের পানিতে ডুবে মৃত্যু .......................................



( পুরো গল্পটিই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই)

আমার লেখা আরো গল্প পরতে লাইক দিন আমার পেজে ঃ https://www.facebook.com/arshipon15/ ।

এছাড়া আমার সাইটেও পাবেন ঃ http://arshipon.blogspot.com/

শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

স্পর্শ ( ফালতু রোমান্টিক গল্প )





স্পর্শ
ফালতু রোমান্টিক গল্প।
(পড়ে সবাই সময় নষ্ট করবেন না প্লিজ)
লেখা : Md Asadur Rahman - Shipon

রোদের সাথে লুকোচুরি। পগলা ঘুরি, হাওয়ায় উরি। এমনি নাকি হয় শুনেছি। ভালোবাসলে পরে।
মিরাজ : কিরে মামা, প্রেমে পরলি নাকি?
দুপুর : আমি নারে মামা। সে।
মিরাজ : সে টা কে আবার?
দুপুর : প্যাক প্যাক।
মিরাজ : প্যাক প্যাক? এই ধরনের মানুশের সাথে জগতে একমাত্র তোরই পরিচয় ঘটে।
দুপুর : মেয়েটির নাম রোদেলা। আমি অবশ্য ১টা নাম দিয়েছি তার। হাসের বাচ্চা।
মিরাজ: তো তুই কি এখন এই হাসের বাচ্চা প্যাক প্যাক এর প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : নাহ। আমি না। তার ভাষ্যমতে সে আমার প্রেমে পরেছে। নাহ আমার না, আমার লেখা কবিতার।
মিরাজ : যাক। অবশেষে তাহলে তুই ১টা গার্লফ্রেন্ড পেলি।
দুপুর : আরে না। আমি এই প্রেম টেমের মধ্যে নেই। আর আগামী শুক্রবার মেয়েটির বিয়ে।
হটাত পাশে ঘুমিয়ে থাকা ইউসুফ লাফ দিয়ে উঠে
ইউসুফ : মামা কি বলিস তুই? তুই এখনো ওই মেয়েকে উঠিয়ে আনতে যাস নাই?
মিরাজ: তুই না ঘুমিয়ে ছিলি? প্রতিদিন রান্না করার সময় তুই ঘুমের ভান ধরে থাকিস।
ইউসুফ : মামা থাম না। এখন দুপুরের প্রেম অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতেছি। প্যাচাইস না।
দুপুর : আমি প্রেম ট্রেমের মধ্যে নাই ভাই। মেয়ে মানুশ আর নাগিনী সাপ সমান কথা।
ইউসুফ : মেয়েটা দেখতে কেমন? থাকে কোথায়?
দুপুর : দেখতে খারাপ না। থাকে চিটাগাং।
মিরাজ : বিয়ে কবে?
দুপুর : এইতো শুক্রবার। মানে পরশু।
ইউসুফ : মেয়েটা কি বলে আর তুই কি বলছিস।
দুপুর : এই তো প্রপোস করলো সেদিন। যদিও অনেক আগে থেকে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট আর মাঝে মাঝে লাভ রিয়াকশন দিত। আমি না করে দিছি। এখব সে যাস্ট একবারের জন্য আমাকে সামনে থেকে দেখতে চায়। আগামিকাল নাকি সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।
ইউসুফ : চল মামা উঠ। এখন ৭ টা বাজে। রেডি হয়ে রওনা দেই।
মিরাজ : তাহলে রান্না বন্ধ করে দেই।
দুপুর : মানে কি? কোথায় যাবি তোরা?
মিরাজ : মেয়েটার সাথে দেখা করতে। সে তোকে ভালোবেশে একবারের জন্য দেখা করতে চেয়েছে আএ তুই তার সেই কথাটা রাখবি না?
দুপুর : আমি তো তাকে ভালোবাশি না।
ইউসুফ : তোর ভালোবাসার খ্যাতা পুরি। যাইতে চাইছি যামু।
দুপুর : আমার কাছে কোন টাকা নাই।
মিরাজ : তুই বিয়া করতে যাইতেছিস না যে তোর টাকা লাগিবে, মেয়েটার শেষ ইচ্ছে পুরন করতে যাচ্ছি।
ইউসুফ : মিরপুর থেকে আরিফ আর নজরুল কে নিয়ে জুয়েল এর বাসায় যাবো। জুয়েলের মত বিসনেস ম্যাডনেট থাকতে কেন যে তোরা এতো টাকা পয়সা নিয়ে টেনশন করস বুঝি না আমি।
দুপুর : ওকে। চল তাহলে।
কিছুখনের মধ্যেই মিরপুর সারে ১১ এর বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর ২ থেকে আরিফ আর নজরুল কে উপস্থিত হয় জুয়েল এর বাসায়। দুপুররা জুয়েলের বাসার গেটে এসে দেখে ঝিলু ভাই বাসা থেকে বের হচ্ছে। ওহ ঝিলু ভাই হলো জুয়েলের বড় ভাই।
ঝিলু ভাই চলে গেলেন গ্রামে
তারমানে জুয়েল এখন ঝামেলামুক্ত।
জুয়েল : কিরে তোরা সবাই একসাথে এই রাত ৯ টার দিকে। কোন মতলব আছে নাকি?
আরিফ : দোস্ত দুপুর ওর জিএফ এর সাথে দেখা করতে যাবে।
জুয়েল : ভালো কথা। যাক। আমার এখানে কি?
মিরাজ : ওর জিএফের বিয়ে শুক্রবার। শেষবারের মত দেখা করতে যাচ্ছে। চিটাগাং।
দুপুর : ধুর বাল। সেই সকাল থেকে আমার জিএফ জিএফ মারাইতেছে। আমার কোন জিএফ নাই। তোরা বার বার বলতেছিস। তাই যাচ্ছি।
জুয়েল : দেখতে কেমনরে মামা?
নজরুল : তোর জাইনা লাভ কি চুদনা? যা রেডি হ।
জুয়েল রেডি হয়। জুয়েল এর বাসায় রাতে খেয়ে বের হতে হতে ১১ টা বেজে যায়। সেখান থেকে কমলাপুর আসে। এসে দেখে ট্রেনের টিকিট নাই। মন খারাপ করে বাস ধরার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। ট্রেনে চরার মজাই আলাদা। দুর্ভাগ্য ট্রেনের টিকিট পেলো না।
হটাত করে পিছন থেকে এসে একজন ডাক দেয়। তার কাছে নাকি টিকিট আছে। তবে ন্যায্য মুল্যের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি দিতে হবে। ১০০ টাকা বেশি দিয়েই নিয়ে নিলো টিকিট। আনন্দ - ফুর্তি করতে করতে ট্রেনে উঠে পরলো ওরা। সারা রাত জেগে কাটাবে। রাত জাগার ব্যাবস্থাও আছে। এই তাস আছে, সিগারেট আছে, আরিফ গিটার নিয়ে এসেছে। এগুলা করেই সারারাত কাটিয়ে দিবে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু রাত ২টার পর পরই ঘুমিয়ে পরে সব গুলো। জেগে থাকে দুপুর আর নজরুল।
দুজন দুজনের সাথে নিজেদের মনের দু:ক্ষের কথা শেয়ার করছে। এই পেত্নী টেত্নীর কথা আরকি। ভোরের দিকে এই দুজন ও ঘুমিয়ে পরে। সকাল ৯ টার দিকে ঘুম ভাংগে ওদের। ঘুম থেকে উঠে দেখে ইউসুফ আর জুয়েলের ব্যাগ, আরিফের গিটার আর মিরাজের জুতা নাই। ট্রেন স্টেশনে এসে হাজির। ওরা গভীর ঘুমে ব্যাস্ত ছিল আর তখন কোন ভদ্রলোক সুজোগ বুঝে তার কার্য সম্পাদন করেছে। যাক মোবাইল ব্যাংকিং আর ব্যাংক গুলোর এটিএম সুবিধার কারনে এখন আর কেউ মানিব্যাগে অতিরিক্ত টাকা রাখে না। তাই টাকা পয়সার তেমন ক্ষতি হয়নি।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে মিরাজের জুতা কিনে ১টা হোটেলে বসে নাস্তা করে।
আরিফ : (দুপুরকে উদ্দেশ্য করে) শালা তোর জন্য আমার গার্লফ্রেণ্ডের দেওয়া গীটার টা হারাইলো।
দুপুর : আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে।
মিরাজ : ৩৯৯ টাকা দিয়ে এপেক্স থেকে ৭০% ডিসকাউন্টে জুতাটা কিনছিলাম। গেলো সেই জুতাটা।
জুয়েল : আমার ব্যাগে তেমন কিছু ছিল না। যাস্ট কয়েকটস RC ছিলো আর কি।
নজরুল : শালা সব জায়গায় ধান্দা খুজে।
ইউসুফ : আমারটার কথা আর নাইবা বললাম। কিন্তু আমরা যার সাথে দেখা করতে আসছি তার সাথে কখন দেখা করবো?
দুপুর : আমরা না, শুধু আমি দেখা করবো।
মিরাজ : তাহলে আমরা আসছি কেন?
দুপুর : পতেঙ্গা সি বিচে ঘুরতে।
আরিফ : আচ্ছা কখন দেখা করবি? সময় নিছিস?
দুপুর : নাহ। এখনো জানানো হয়নি যে আমি ওর সাথে দেখা করতে এসেছি। দারা ফোন দেই ওকে।
দুপুর ফোন দেয় ওকে। রোদেলা শুনে খুব খুশি হয়। সে জানায় দুপুর ১২ টার দিকে সে আসবে দেখা করতে দুপুরের সাথে। স্থান হলো সি বিচ।
সময় এখনো অনেক হাতে আছে। তাই সবাই মিলে চিটাগাং শহরে ঘুরছে।
দুপুর ১২ টার আগে চলে আসে সি বিচে। ১২ টার কিছু পর রোদেলা ফোন দেয় যে সে এসেছে।
কালো ১টা জামা পরে এসেছে, হাতে চুরি আছে। চুল গুলো খোলা। চোখে কাজল পরেছে। গায়ের রঙ দুধে আলতা। তাই আর নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে কতটা সুন্দর লাগছে রোদেলাকে।
রোদেলা : কেমন আছেন আপনি?
দুপুর : ভালো। তুমি?
রোদেলা : ভালোবাসার মানুষকে ছেরে যে মেয়ের অন্য ১টি ছেলের সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে সে কতটা ভালো থাকতে পারে?
দুপুর : কেনো তুমি আমাকে ভালোবাসো? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না।
রোদেলা : কেউ কাউকে কেনো ভালোবাসে সেই উত্তর আজো কেউ দিতে পারেনি। আমিও আজ পারলাম না। আর আপনি ভালবাসেন না বলেই তো আমাকে আজ এত কষ্ট পেতে হচ্ছে। যদি ভালবাসতেন তাহলে হয়তো আমরা দুজনেই অনেক সুখি হতাম। ( রোদেলা কেদে দেয়)
দুপুর : প্লিজ কাদবে না। কাল তোমার বিয়ে। সো আমাকে ভুলে যাওয়ায় কি ভালো না?
রোদেলা : হয়তোবা। আপনি আমার অনুরোধে ঢাকা থেকে দেখা করতে চলে এসেছেন। অসংখ ধন্যবাদ আপনাকে। আমাত আরেকটা কথা রাখবেন?
দুপুর : রাখার মত হলে অবশ্যই রাখবো।
রোদেলা : আমি আপনার হাত ধরে বিচের পাশ দিয়ে একটি খালি পায় হাটতে চাই।
দুপুর : নাহ। আমি এই অনুরোধটা রাখতে পারবো না।
রোদেলা : প্লিজ।
দুপুর : সরি।
রোদেলা : ওকে। তাহলে আমি কি আপনার হাতটা একটু ধরতে পারি? যাস্ট একটু স্পর্স চাই আপনার। সারাজীবন বেচে থাকার জন্য এই সম্বলটুকু প্লিজ আমাকে দিন।
দুপুর : ঠিক আছে।
রোদেলা তার নরম শীতল হাত দিয়ে দুপুরের হাত ধরে, দুপুরের চোখের দিকে তাকায়, পানি ঝরে পরে মেয়েটির দুচোখ দিয়ে। মাথাটা নিচু করে দুপুরের হাতে ১টা চুমু খেয়ে পিছনে দোরে চলে যায় রোদেলা। দুপুর তাকিয়ে থাকে।
বিকেলে আরিফ, নজরুল, মিরাজ,জুয়েল,ইউসুফ আর দুপুর মিলে চিটাগাং ঘুরে বেরায় ফয়েজ লেকে। সেখান থেজে সন্ধ্যার আগে আবার বিচে আসে।
জুয়েল : ওই দুপুর একা একা হাটছে কেন? কথাও কম বলছে।
আরিফ : মনে হয় প্রেমে পরছে মেয়েটার।
ইউসুফ : চল দেখি কি হইছে।
দুপুরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ওরা।
মিরাজ : ওই কি হইছে তোর?
ইউসুফ : তুই নাকি মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিস?
আরিফ : আবার নাকি প্ল্যান করছিস মেয়েটা কে নিয়ে পালাবি?
দুপুর : ধুর কি যে বলিস না। ওই সব কিছু না।
নজরুল : তাহলে মন মরা হয়ে আছিস কেনো?
দুপুর : কোথায়? আমি তো সব সময়ই এমন।
মিরাজ : দেখ মামা। বুঝে শুনে কথা বল। আজ গায়ে হলুদ, কাল বিয়ে। যদি ভালোবেশে থাকিস তাহলে যা করার এখনি করতে হবে।
ইউসুফ : তোর চোখ বলছে তুই মেয়েটার প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : আজাইরা কথা বলিস না তো। ওই বিয়ে করলে বউ নিয়া রাখবো কই? খাওয়াবো কি? আর একবার ও এই কথা বলবি না।
দুপুরের ফোনে কল আসে। রোদেলা ফোন দিয়েছে। দুপুর ফোন ধরে।
দুপুর : হ্যালো
রোদেলা : আপনারা।ক চলে গেছেন?
দুপুর : নাহ। আজ রাতে এখান থেকে সেন্টমার্টিন যাবো।
রোদেলা : ( কাদো কন্ঠে) আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আপনি কি আমাদের বাড়ীর সামনে একটু আসতে পারবেন?
দুপুর : আমি তো চিনি না তোমাদের বাড়ী।
রোদেলা : আমি টেক্সট করে দিচ্ছি।
দুপুর ওদের জানায় যে রোদেলা ফোন দিয়েছিল। সে রোদেলার সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ির সামনে যাবে।
ওরা সবাই রোদেলার বাড়ির সামনে যায়। ফোন দেয় রোদেলাকে। রোদেলা জানায় বাড়ির পিছন দিকে ১টা বাগানের মত আছে, সেখানে অপেক্ষা করতে। দুপুররা সেখানে প্রায় আধ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর রোদেলা আসে।
নীল শাড়ী, কালো টিপ, লাল আর নীল চুরি, কাজল চোখ আর খোপায় ফুল। দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গ থেকে সয়ং নীলপড়ি নেমে এসেছে। দুপুর চোখ সরাতে পারছিল না। হা করে তাকিয়েছিল রোদেলার দিকে।
রোদেলা : আপনারা কখন যাবেন?
দুপুর : রাত ১০ টার দিকে।
রোদেলা : নীল শাড়িতে আমাকে কেমন লাগছে?
দুপুর : রপকথার গল্পের পড়ির মত।
রোদেলা : নীল শাড়ি পরা আপনার পছন্দ। আমার কালো শাড়ি ভালো লাগতো। কিন্তু এখন নীল শাড়ী।
দুপুর : কেনো?
রোদেলা : কারন, আমি আপনাকে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। ( জরিয়ে ধিরে দুপুরকে রোদেলা)
দুপুর : ভালোবাসা কষ্ট দেয়। আর সবাই ভালোবাসা পাবার যোগ্য না, যেমন আমি। ( দুপুর তার দুই হাত দিয়ে শক্ত করে আর জরিয়ে ধিরে রোদেলাকে। দুপুরের চোখ বেয়ে পানি পরে। তবে তার কান্না সে আর বিধাতা ছাড়া কেউ দেখিতে পায় না)
দুপুর : আমাকে মাফ করে দিও প্লিজ। আমি তোমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না।
এই বলে রোদেলার কপালে চুমু খায়।
দুপুর : তোমার এই স্পর্শ আমার সারা জিবনের সম্বল। কখনোই ভুলবো না।
রোদেলা : আর এই স্পর্শই হয়তো আমাকে সারাজীবন কাদাবে। খুব ভালোবাসি যে তোমায়।
দূর থেকে সব দেখছিল দুপুরের বন্ধুরা।
আরিফ : শালা কি করলি তুই এইটা?
দুপুর : কি করলাম আমি?
মিরাজ : মেয়েটা তোকে কত ভালবাসে আর তুই মেয়েটা কে ছেরেদিলি?
দুপুর : এখান থেকে চল।
সেখান থেকে চলে আসে সবাই। দুপুরের মন আগের থেকেও আরো খারাপ হয়ে যায়। ১টার পর ১টা সিগারেট খেতে থাকে। ১টা হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বাসে উঠে। বাস কিছু দূর যাওয়ার পর দুপুর লাফিয়ে উঠে।
দুপুর : এই বাস থামান ড্রাইভার। আমি নামবো।
ড্রাইভার বাস থামায়। নামতে থাকে দুপুর। তখন পিছন থেকে মিরাজ ওরা ডাক দেয়।
মিরাজ : এই কি হইছে তোর? নামবি কেনো?
দুপুর : রোদেলার কাছে যাবো। ওর স্পর্শ আমায় ডাকছে।
জুয়েল : গাধাটা মানুশ হচ্ছে। চল সবাই নামি।
দুপুর : তোরা নামবি কেনো?
আরিফ : তুমি যখন তোমার বউকে আনতে যাবে তখন যে তোমার সালারা আটকে রাখবে তখন ছাড়াবে কে?
বাস থেকে নেমে যায় ওরা সবাই। চলে আসে রোদেলার বাড়ির সামন। দোতালা বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে রোদেলা কে ফোন দেয় দুপুর। ফোন ধরে রোদেলা।
রোদেলা : হ্যালো
দুপুর : একটা বারান্দায় আসবে?
রোদেলা ফোন কেটে দিয়ে বারান্দায় আসে। দুপুর নিচে দারিয়ে আছে। দুপুর দুপা গেরে বসে পরে। আর চিৎকার করে বলে।
প্রীয়তমা। ভালোবাসার কোমল স্পর্শের কাছে আমি হার মেনে গেছি। এই মন সারাজীবন স্পর্শ পেতে চায় তার ভালোবাসার মানুশের। আমি কি পাবো আমার ভালোবাসার মানুশের স্পর্শ?
রোদেলার চোখ বেয়ে পানি ঝরে পরে। শিরি বিয়ে নিচে নেমে আসে জরিয়ে ধরে দুপুরকে।
রোদেলা : আই লাভ ইউ।
দুপুর : লাভ ইউ এ লট।
দূর থেকে নজরুল আর ইউসুফ দোরে আসে।
নজরুল : অনেক প্রেম হইছে এখন ভাগ। বাড়ির লোক জেগে গেছে। ওই দেখ আসতেছে।
ইউসুফ : মামু মামীকে নিয়ে এখন পালাও তা না হলে মামীকেও হারাবা, মাইরের মাইরও খাবা, জেল খাটবে ফাও।
সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওরা রোদেলাকে নিয়ে। পিছনে পিছনে অনেক দূর প্রযন্ত ওদের তারিয়ে বেরায় রোদেলার পরিবারের লোকেরা। যদিও ধরতে পারে না।
ঢাকা এসে বিয়ে হয় শিপনের আর রোদেলার। এর কিছুদিন পর পারিবারিক ভাবে যোগাযোগ করে আবার অনুষ্টান করে দুই পরিবারের নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
আমার লেখা আরো গল্প পুরতে চাইলে লাইক দিন আমার পেজে আর গল্ল নিয়ে আপনার মতামত দিন।
পেজের লিংক : www.facebook.com/arshipon15/