রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রাজকুমারী লাইলা (১ম পর্ব)



#রাজকুমারী_লাইলা
(ভৌতিক কল্পকাহিনী)
পর্বঃ ১ম
লেখা ঃ MD Asadur Rahman - Shipon



গত কয়েকদিন ধরেই খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ওয়ালি আর শিপনকে। দুজনেরই ফেসবুক টাইমলাইনে শেষ পোষ্টটি ছিলো এমন ঃ
ভালোবাসার সন্ধ্যানে হাড়িয়ে গেলাম।
#মোমিনা, #এডভ্যাঞ্চার, #গ্র্যান্ড_ট্রাঙ্ক, #কলংকপূর, #শিপন #অবশেষে, #রাজকুমারী_লাইলা।
শিপনের খোজ খবর না পেয়ে জরুরী মিটিং ডাকে ভূত গোয়েন্দার সদস্যরা। আচ্ছা #ভূত_গোয়েন্দা এর সাথে তো পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা ভূত প্রেত প্রেমিদের একসাথে করে ভূত নিয়ে গবেষনা এবং ভৌতিক রহস্য উন্মোচন সহ বিভিন্ন ভৌতিক ব্যাপার স্যাপারের সমাধানের উদ্যেশ্যে জনাব শিপন সাহেব একটি ভৌতিক ডিটেকটিভ ফার্ম তৈরি করে। আর নাম দেয় ভূত গোয়েন্দা। ভূত গোয়েন্দায় বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছে, ধিরে ধিরে সকলের সাথেই আপনারা পরিচিত হয়ে উঠবেন।
বিকেল সাড়ে ৫টায় মিটিং। ভূত গোয়েন্দার একটা ছোটখাটো অফিস রয়েছে। ধানমন্ডি কলাবাগানের ১৪৭/৪ বিল্ডিং এর চিলোকোঠার বিশাল রুমটাই তাদের অফিস।
নরমালি ডিটেকটিভ ফার্মের অফিস গুলোর মত এই অফিস টা নয়, কিছুটা বর্ননা দেই।
দরজা দিয়ে ঢোকার সাথে সাথেই প্রথমেই একটি কংকাল পরবে। মানুষের কংকাল, প্লাস্টিক ফ্লাস্টিকের নয়। শিফা জোগার করেছে, শিফা মেডিকেলে পরে। সেও ভূত গোয়েন্দা গ্রুপের একজন সদস্য।
ঢুকলেন ভিতরে, ভিতরে গিয়ে কোন চেয়ার টেবিল নেই তাই আপনাকে নিচেই বসতে হবে। আর রুমের মাঝখানে একটা ত্রান্তিকদের মত ত্রন্ত সাধনার আসন। যদিও এটি কোন কাজে লাগে না। এছাড়া দেওয়াল জুরে বিভিন্ন হরর মুভির পোষ্টার আটানো। একটা পানির ফিল্টার আর চা বানানোর কিছু জিনিষপত্র। তবে বাইরের চিত্র কিন্তু সম্পুর্ন আলাদা। ছাদে ছোট খাটো একটা বাগান করেছে শিপন, কবুতর ও পালে। এককোন ছোট একটা জায়গা আছে, সেখানে শিপন আলাদা করে টাইলস লাগিয়ে নিয়েছে। প্রায় রাতেই সে এখানে বসে থাকে। গল্প লিখে।
৫ঃ২৫ বাজে।
এজাজ আর হৃদয় চলে এসেছে। এজাজ পকেট থেকে চাবি বের করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে ফ্লোরে সুয়ে পরে। আর হৃদয় বরাবরের মত আলগা গোয়েন্দাগিরি শুরু করে। সে রুমের ভিতর খোজাখুজি শুরু করেছে যে তার মামা কি অফিসে কোন ক্লু রেখে গেছে কিনা যে কোথায় গিয়েছে।
পিছন থেকে কে জেনো হৃদয়ের মাথায় টোকা দেয়। পিছ ফিরে
হৃদয়ঃ কিরে অর্নব কখন এলি?
অর্নবঃ অনেক আগেই। নিচে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম।
হৃদয়ঃ ঝুম আর অধরা আছে। ছাদের সেলফি তুলছে।
ছাদের কবতরের সাথে সেলফি তুলছিলো ওরা। সেখানে চলে আসে রনি। রনিকে দেখে ঝুম আর অধরা বায়না ধরে ওদের ছবি তুলে দিতে। রনি একের পর এক ছবি তুলেই যাচ্ছে। ঝুম আর অধরা একটা কবুতর হাতে নিয়ে ছবি তুলছে আর তখন ছাদে পা রাখে যারা।
যারাঃ এই দ্বারা আমার ছবি তুলবি না?
অধরাঃ আয়।
ছবি টবি তোলা শেষ করে ভিতরে যায়। কিছুখন পর আসে আদ্রীতা আর শ্রেয়াস। দুজনে এক অফিসে চাকরী করে। তাই একসাথেই এসেছে। হাতে করে কিছু বিস্কিট নিয়ে এসেছে।
শিফা এসে দেখে সবাই বসে গল্প করছে। দরজা দিয়ে ঢোকার সময় এজাজ শিফাকে জিজ্ঞেস করে কেমন আছো শিফা? শিফা এর কোন উত্তর দেয়না। দুজনের মধ্যে কিঞ্চিত মনমালিন্য চলছে।
গল্প করছে এমন সময় হটাত অধরা চিৎকার দিয়ে উঠে। ভূত ভূত ভূত। দরজায় দু হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন। মাথায় ভুতের মুখোশ আর পরনে কালো জুব্বা ধরনের আর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। পেছন থেকে হিয়া এসে ধাক্কা দেয়। লোকটি পিছন ফিরে হিয়ার দিকে ফিরে তাকানোর সাথে সাথে হিয়া জ্ঞ্যান হারিয়ে পরে যেতে থাকে আর তখন লোকটু ধরে ফেলে।
অর্নবঃ কে তুমি?
মুখোশ খুলে,
আরে আমি। দুপুর।
হৃদয়ঃ আরে দিলা তো মেয়েটার ১২টা বাজিয়ে।
দুপুরঃ আরে আমি কি জানি নাকি ভূত গোয়েন্দার সদস্যরা এতো ভিতু। সামান্য মুখোশ দেখেই ভরকে যায়। আর ভূত ধরতে গেলে এদের অবস্থা কি হবে?
দুপুর হিয়াকে কোলে করে নিয়ে রুমের ভিতরে যায়। মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞ্যান ফিরিয়ে আনে।
দুপুরঃ ভিতু কোথাকার।
হিয়াঃ এই তুমি। তুমি আমাকে ভয় দেখায়িছো। দাঁড়াও তোমার আজ খবর আছে।
দুপুরঃ আমি ভয় দেখাইনি। তুমি নিজেই ভয় পাইছো, আমার দোষ দাও কেন?
মামুন চলে আসে এর মধ্যে।
মামুনঃ কেমন আছো সবাই?
অর্নবঃ এইতো আমাদের মাঝে চলে এসেছেন বিশ্ব ছ্যাকা খাওয়া কবি মামুইন্ন্যা।
ঝুম অর্নবকে একটা চিমটি কাটে।
যথারিতি সবাই গোল করে বসে। মিটিং শুরু হয়।
রনিঃ শিপন ভাইকে কিভাবে খোজা যায়? কোন ক্লু কি আছে?
অর্নবঃ হৃদয় তুই কি ভাই এর বাসায় খোজ নিয়েছিলি?
হৃদয়ঃ হুম। মামা সপ্তাহ খানেক উধাও। কোন খোজ খবর নাই। সব গুলা থানা আর জেল খানায় খোজ নেওয়া হয়েছে। কোথাও নেই।
যারাঃ শিপন ভাইকি সন্ত্রাসী নাকি যে তাকে থানা আর জেল খানায় খুজে না পেয়েই বলে দিলা যে কোথাও নেই।
এজাজঃ সন্ত্রাসী না তবে পলিটিক্স করে।
অধরাঃ আই হেট পলিটিক্স।
এজাজঃ সব মাইয়ারাই।
শ্রেয়াসঃ উনার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করেছিস?
এজাজঃ হ্যা। তারাও কিছু জানেনা।
আদ্রিতা ঃ তাহলে কোথায় গেলো? কোন ক্লুই কি নেই?
দুপুরঃ ক্লু আছে?
যারাঃ কি?
দুপুরঃ শিপন এর ফেসবুক এর লাস্ট পোষ্ট।
ঝুমঃ পোষ্ট টা কি ছিলো?
রনিঃ ভালোবাসার সন্ধ্যানে হাড়িয়ে গেলাম।
#মোমিনা, #এডভ্যাঞ্চার, #গ্র্যান্ড_ট্রাঙ্ক, #কলংকপূর, #শিপন #অবশেষে, #রাজকুমারী_লাইলা।
ঝুম ঃ এর মানে কি? ক্লু কোথায়?
আদ্রিতাঃ ভাইয়া কি রোদেলা আপুকে নিয়ে পালিয়ে গেলো?
হৃদয়ঃ আরে না। রোদেলা আপু তার শ্বশুরবাড়ী। খোজ নিয়েছিলাম । সেও কিছু জানেনা।
অধরাঃ আচ্ছা শিপন ভাই মরে টরে যাইয় নাই তো?
হিয়াঃ মরে গেলেই ভালো। বহুত জ্বালাইছে আমাকে।
দুপুরঃ ধুর ফাজিল মাইয়া।
ঝুমঃ এই থামো তোমরা। দুপুর ভাইয়া কি বলতে চাইছিলা সেটা বলো।
দুপুরঃ #মোমিনা, #এডভ্যাঞ্চার, #গ্র্যান্ড_ট্রাঙ্ক, #কলংকপূর, #শিপন #অবশেষে, #রাজকুমারী_লাইলা।
   মোমিনা দিয়ে হয়তো মোমিনা মুস্তেহাসিন বুঝাইছে, এডভ্যাঞ্চার দিয়ে হয়তো সে মোমিনাকে জয় করা বুঝিয়েছে। আমার মনে হয় ও মোমিনাকে খুজতে গেছে।
আদ্রিতাঃ ধুর, এই মোমিনা মোমিনা হইলো যাস্ট ফান। এছাড়াও গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক, কলংকপুর, রাজকুমারী ঐগুলাও তো বুঝাইছে, সেটার কি বলবা?
যারাঃ আমি একটা কথা বলি?
হিয়াঃ ভনিতা না করে বলে ফেলো।
যারাঃ শিপন ভাইয়া মারা গেছে কিনা সেটা কিন্তু আমরা পরিক্ষা করেই জানতে পারি।
রনিঃ কিভাবে?
যারাঃ প্ল্যান চ্যাট করে।
এজাজঃ ধুর! এগুলা কি কিছু আছে নাকি। ফালতু।
আদ্রিতাঃ আমার মনে হয় করা যায়। ট্রাই করে দেখলে দোষের কি?
শিফাঃ আমার ভয় লাগে।
হিয়াঃ আমি এগুলার মধ্যে নাই।
দুপুরঃ নাই মানে? তুমি সবার মাঝখানে থাকবা। আত্তা যদি কোন কারনে রেগে যায় তাহলে বলবো তোমাকে নিয়ে যেতে, তুমি সুন্দরী আছো।
হিয়াঃ ক্যান আমার উপর এতো ক্ষোভ কেন তোমার? আমি কি তোমাকে চিমটি কাটছি?
রনিঃ এই থামো তোমরা। আমার মনে হয় প্ল্যান চ্যাটের সিদ্ধান্তটাই ভালো। শিপন ভাই আর ওয়ালি দুজনকেই ডাকি।
ঝুমঃ তোরা কি আমার দাদাকে মেরে ফেলতেছিস নাকি?(ন্যাকা ক্যান্নার রিএক্ট হবে)
দুপুরঃ ধুর পাগলী, আমরা তো যাস্ট শিউর হবো যে মরে নাই শিপরাটা।
শিফাঃ আমি চা করে আনি সবার জন্য।
এজাজঃ আমি কিন্তু চিনি বেশি খাই।
শিফাঃ আমার কাছে সবাই সমান, চিনিও সবাইকে সমান দিবো।
এজাজঃ যাহ বাব্বা, এখানেও কিপটামি।
ঝুমঃ মামুন ভাইয়া চুপ কেনো? কিছু বলো
অর্নবঃ ঝুম! মামুন ভাইয়া। হাহাহাহাহাহা।
আদ্রিতাঃ আচ্ছা তোমরা কেউ প্ল্যান চ্যাটের নিয়ম জানো? বা কিভাবে করে ?
দুপুরঃ আমি কিছুটা জানি।
মামুনঃ আমিও কিছুটা জানি। আহামরি কিছু না।
রনিঃ আমি একটা মন্ত্র শিখেছিলাম, প্ল্যান চ্যাটে কাজে লাগে।
দুপুরঃ কবে করবে ? আজই করি?
মামুনঃ নাহ। কিছু জিনিশ পত্র কিনতে হবে। কাল রাতে সবাই এখানে আসি। মধ্য রাতে করি। আর সবাই কালো ড্রেস।
ঝুমঃ আমার কালো ড্রেস নাই।
দুপুরঃ কাল সকালে কিনি নিবি।
হিয়াঃ আর কাল রাতের ডিনার দুপুর করাবে।
অধরাঃ কেন কেন?
হিয়াঃ ওর প্রমোশন হইছে।
দুপুরঃ আচ্ছা আমি কাল পুরান ঢাকা থেকে সবার জন্য কাচ্ছি নিয়ে আসবো। আর অর্নব, হৃদয়, রনি এই টাকা গুলো রাখ প্ল্যানচ্যাটের জন্য যা যা লাগে কিনে নিয়ে আসিস।
হৃদয়ঃ আমার কাছে টাকা আছে।
দুপুরঃ এগুলা অফিসেরই টাকা । নে।
শিফা চা করে আনে। সবাই চা খেতে খেতে গল্প করতে করে আড্ডা শেষ করে সেইদিনের মত। ভূত গোয়েন্দার একজনই সদস্য নয়। আরো আছে, যারা হয়তো অন্য সময়গুলোতে সামনে আসবে।
সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘোরি করে প্ল্যানচ্যাটের জন্য প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র কেনাকাটা এবং জোগার করে সন্ধ্যার কিছু পরে রনি, অর্নব, হৃদয় চলে আসে ভূত গোয়েন্দার অফিসে। তারপর ঘুমিয়ে পরে।
রাত ৯টার পর এক এক করে সকলেই আসতে থাকে ঝুম, আদৃতা, মামুন, শ্রেয়াস, যারা, তাহমিদ( তাহমিদ প্রথমদিন উপস্থিথ না থাকতে পারলেও সবার মুখে প্ল্যানচ্যাটের কথা শুনে দৌড়ে চলে আসে) হিয়া, অধরা, শিফা, অনুপ(পিচ্চি অনুপ প্রথমদিন উপস্থিথ না থাকতে পারলেও সবার মুখে প্ল্যানচ্যাটের কথা শুনে দৌড়ে চলে আসে) এবং সবার শেষে এজাজ আর দুপুর আসে সাথে নিয়ে সবার জন্য পুরান ঢাকার কাচ্চি আর বোরহানী নিয়ে।
তারপর সবাই মিলে হৈহুল্লোর আর আড্ডাখানা পিনা করতে করতে রাত ২টা বেজে যায়। মনে পরে প্ল্যানচ্যাটের কথা।
হৃদয়ঃ আচ্ছা রাত তো অনেক হলো এখন শুরু করা যাক।
যারাঃ হুম। কিভাবে কি করতে হবে?
দুপুরঃ রনি কি কি এনেছো?
রনিঃ লাল কাপর, চকমাটি, শিদুর, নদীর ধারের চারা, ম্যাচ, মোমবাতি, আর ইলিশ মাছ।
হিয়াঃ ইলিশ মাছ দিয়ে কি হবে?
দুপুরঃ আত্তাকে ইলিশ ভাজা খায়িয়ে শান্ত করা হবে।
হিয়াঃ ওহ হ্যা, ভূতেরা তো আবার মাছ ভাজা পছন করে।
হৃদয়ঃ রুমের ভিতর করবে নাকি বাইরে?
দুপুরঃ রুমের ভিতরেই করবো। আর সবাই কিন্তু মোবাইল ফোন সহ সকল ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দূরে রাখবে।
মামুনঃ সবাই তো প্ল্যান চ্যাটে বসবে না। ৪ জন বা ৬ জন বসবে। বাকিরা কি করবে?
এজাজঃ আমি বসবো।
দুপুরঃ আমি, এজাজ, হৃদয়, রনি, শ্রেয়াস, মামুন প্ল্যানচ্যাটে বসি। বাকিরা সবাই আমাদের সার্কেল করে বসুক। তবে একটু দূরে।
কথা অনুযায়ী সবাই প্ল্যানচ্যাটের আসন বিছিয়ে বসে। সকলেই কালোকাপর পরা। সম্পুর্ন ঘরে মোট ১৯টি মোটা মোমবাতি জ্বালানো হয়। রনি প্ল্যানচ্যাটের মন্ত্র জানে। রনি মন্ত্র পরা শুরু করে।
গুন ওং ছা, আবা কিল ফানা তু, অম সাবা কিবা, আলা তুলা লি অমা ওম, স্বশরীরী, অশ্মরীরই আগমনিওই ওম কালান ও আগমানিই।
আমার আশে পাশে হে শুভ আত্তারা তোমরা বিরাজমান, তোমরা অতৃপ্ত, আমি তোমাদের অস্বিত্বের স্বাদ, অস্বিত্বের অনুভুতি নিতে চাই।
দুপুরঃ শুভ অশুভ আত্তাগন দেখা দিন, স্পর্শ দিন, অনুভুতি দিন। হে শিপনের অতৃপ্ত আত্তা সারা দাও। তোমার অপেক্ষায় আমরা।
এভাবে ৬জনই অনেক সময় ধরে ডাকতে থাকে কিন্তু কারো কোন সারা শব্দ নেই।
একসময় বিরক্ত হয়ে হিয়া বলে উঠে
হিয়াঃ ধুর আমি আগেই জানতাম এগুলা ভুয়া। আত্তা ফাত্তা কেউ আসে না। শুধু সুধু ঈলিশ মাছ ভাজা গুলা ঝুলায় রাখছে।
শিফাঃ হুম ঠিক বলছিস।
যারা ঃ দারা আমি নিয়ে আসি।
যারা উঠে দারায়। এতোখন যারা, শিফা, তাহমিদ, অনুপ সব ৬জন ছাড়া বাকিরা একটা সার্কেল করে ঘিরে রেখেছিলো। যারা সেই সার্কেল থেকে উঠে গিয়ে হেটে এক গ্লাস পানি খেয়ে মাত্র ইলিশ মাছে হাত দেয় আর ঠিক সেই সময় ঝড়ো বাতাস শুরু হয় রুমের ভিতরে, উপরে রাখা জিনিশ গুলো পরে যেতে থাকে, ভুমিকম্পের মত করে সব কিছু কাপতে থাকে। সব মোম নিভে যায়। কিন্তু দুপুর, রনি, মামুন, এজাজ, শ্রেয়াস ঠিক জায়গা মত বসে থাকে। বাকি সবাই এসে যে যাকে পারে জরিয়ে ধরে।
কিন্তু হৃদয় । ওদের মাঝ খানে হটা অন্ধকারে সুধু দুটো চোখ দেখা যায়। সেই চোখের আলো লাল, রাগাত্বক আলো, দেখে যে কেউ ভয় পাবে। ভয়ে পেয়ে মেয়ে গুলো অলরেডি চিৎকার শুরু করে দিয়েছে। এতো ভয়ংকর পরিস্থিতিতে এর আগে ওরা কেউ পরেনি। এই চোখ দুটো চেনা চেন লাগছে, চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে, মুখ দিয়েও রক্ত, মুখটা ধিরে ধিরে স্পস্ট হচ্ছে। হ্যা এতো হৃদয়ের মুখ। আমাদের হৃদয়। কিন্তু হৃদয় এতো ভয়ংকর রুপে আমাদের সামনে কেনো? এই ভয়ংকর আর বীভৎস দৃশ্য দেখে অলরেডি হিয়া আর যারা জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলেছে। দুপুর সহ বাকিরাও কাপছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।

চলবে .......................................
আগামীকাল অথবা পরশু রাতে দ্বিতীয় পর্ব পোষ্ট করা হবে। ইনস্ট্যান্ট লিখা হচ্ছে তাই পরবর্তি পর্ব পেতে ধৈর্য ধরতে হবে। আর গল্পের ভূল ত্রুটি, ভালো লাগা খারাপ লাগা অবশ্যই কমেন্টস করে জানাবেন যদি পরবর্তি পেতে চান।

ভালোবাসা

ভালোবাসা 
লেখা ঃ 

MD Asadur Rahman - Shipon
আজ এক অন্যরকম মাহাদির কথা বলব । সে আমাদের মাহাদি যার অভাবটাই এরকম। একা একা থাকা। বর্তমানে এটা আরও বেড়েছে। মাহাদির সারা দিন কাটে ছাদে বসে আকাশ দেখে দেখে। সবাই তাই ভাবে। আসলে তা না। মাহাদির দিন কাটে একজন মহান লেখকের সাথে কথা বলে। মহান সেই লেখকের নাম হুমায়ন আহমেদ! তার সাথে প্রথম দেখা হয় যেদিন মায়াবতির সাথে বিচ্ছেদ ঘটে। সেদিন মর্মাহত মাহাদি ছাদে বসে কাঁদছিল। হটাত লেখক এসে হাজির!

-এই ছেলে, কাঁদছ

কেন? মাথা তুলে তাকিয়ে মাহাদি তো অবাক!

হুমাওন আহমেদ দাঁড়িয়ে আছেন! কি আজব! মাহাদি জানে ইনি কে, তাও জিজ্ঞেস করলো,

-আপনি কে?

-আমি হিমু!

দুঃখের মাঝেও মাহাদি হা হা করে হেসে উঠল। হুমায়ন স্যার বললেন,

-তোমার চোখে পানি আর তুমি জোরে জোরে হাসছ!

-কি অদ্ভুত! মাহাদি হাসতে হাসতে বলল।

-হু। অদ্ভুতই। তুমি কি জান মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে একসাথে হাসতে পারে, কাঁদতেও পারে!

-জানতাম না।

-না জানাই ভাল। যারা কম জানে তাদের জীবনেই ঝামেলা কম। আফসোস বয়সকালে বুঝলাম না।

-হা হা হা হা! মাহাদি আবার হেসে উঠল।

-হাসছ কেন ছেলে?

-আপনি এমন ভাবে কথা বলছেন যেন আপনি আসল হিমু । হুমায়ন আহমেদের হিমু ।

-আমি তো আসলেই হুমায়ন আহমেদের হিমু ।

-না। আপনি আমার অবচেতন মনের কল্পনা। আজ আমি বড় ধরনের কষ্ট পেয়েছি তাই আমার মস্তিক আপনাকে তৈরি করে আমার সামনে এনে দাড় করিয়েছে। সব আমার হেলুসিনেশন।

-ও!

-ও বলছেন কেন! আপনার কি ধারনা আপনি আসল হুমায়ন স্যার ?

-আমার কোন ধারনা নেই।

-ধারনা না থাকাই ভাল। আমি এখনই আপনাকে দূর করছি।

-কিভাবে ? হুমায়ন স্যার এর প্রশ্ন ! চোখে বিস্ময় !

মাহাদি বলল আমি চোখ বন্ধ করে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনব, তারপর চোখ খুলে দেখব আপনি নেই।

-সত্যি এতে কাজ হবে? হুমায়ন স্যার প্রশ্ন।

-একশ এক বার কাজ হবে ! কাজ না হলে আপনাকে থাপড়ায়ে বিদায় করব।

-তুমি এভাবে কথা বলছ কেন! তুমি জান না আমি কে ? সম্মান দিয়ে কথা বল !

-আপনি হুমায়ন স্যার কি না সেটা না , বিষয় হল আপনি আমার কল্পনা। আর হুমায়ন স্যারের হিমু হলেও আমার কিছু করার নেই, আপনাকে নিয়ে অনেক সংগঠন, ক্লাব আছে, ওদের কাছে জান। আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে।

-নাচানাচি বিষয়টা মন্দ না। কিন্তু মাথায় না তুললে হয় না ? আমার ওজন একটু বেশি।

-আপনি রসিকতা করছেন !

-রসিকতা করি নি তো ! ভোগলামি করেছি!

-ভোগলামি ?!

-ভোগলামি হল ফাজলামির বড়ভাই, আপন না, দূরসম্পর্কের বড় ভাই, হা হা হা হা !!

-আপনি আমার উদ্ভট কল্পনা।

-আমি হুমায়ন আহমেদ।

মাহাদির মেজাজ চরমে উঠল। সে চিৎকার করে উঠল ‘আল্লাহ্র দোহাই, আপনি যান’। মাহাদি আর কিছু বলল না। বলতে পারল না । কিছু বলার মত অবস্থা তার ছিল না । হাঁটুতে মাথা রেখে কাঁদতে লাগলো ।

সেদিন সকালটা ছিল মাহাদির জন্য অশুভ । শুধু অশুভ না, মহা অশুভ। সকালে উঠেই পায়ে হোঁচট খেলো, নখও ভাঙল। কিন্তু সকালের চকচকে আকাশ দেখে মনটাই ভালো হয়ে গিয়েছিল । তাড়াহুড়ো করে পার্কে ছুটে গেল মায়াবতির সাথে দেখা করতে। মায়াবতি মাহাদির প্রেমিকা। এত তাড়াহুড়োর পরও সময় মতো যেতে পারল না। গিয়ে দেখল পার্কের বেঞ্চে মাহাবতি বসে আছে। মাহাদি পাশে গিয়ে বসে বলল,

-সরি দেরি হয়ে গেল।

-ইটস ওকে! দূরে সরে বস, এত কাছে আসছ কেন! বিরক্ত স্বরে মাহাবতি বলল।

মাহাদি অবাক হল না। মায়াবতি এমনই। জেদি আর রহস্যময়। কখন কি করে আর কি বলে ঠিক নাই। নিচ্ছুপ তাকিয়ে রইল।

-এমন করে তাকিয়ে আছ কেন? জীবনে আমাকে দেখো নাই ? মন দিয়ে শোন, আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না। মা তোমার সাথে আমার বিয়ে দিবে না।

-ও আচ্ছা।

-আমার বিয়ে ঠিক হচ্ছে। ছেলে আমেরিকা থাকে। বিইয়ে করে বিদেশে নিয়ে যাবে।

-ভালো তো।

-অবশ্যই ভালো। ওকে না বিয়ে করে তোমাকে করব নাকি! বিয়ে করে তোমার টিনের বাড়িতে গিয়ে উঠবো?

মাহাদি জবাব দিল না। মায়াবতি হাসতে হাসতে বলল,

-ছেলের নাম ও সুন্দর। তোমার মতো উদ্ভট টাইপের নাম না।

-ও

-দুঃখ পেয়েছ ? কান্না করতে চাইলে কান্না করতে পার। চোখে তো পানি এসে গেসে মনে হচ্ছে।

- না আসে নাই।

মায়াবতির দিকে তাকাল মাহাদি। মায়াবতি কালো শাড়ি পরে এসেছে, কি যে সুন্দর লাগছে !

-মায়াবতি তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। পরির মতো।

-আর তোমাকে লাগছে চোরের মতো। এভাবে চুল না আঁচড়ে থাকবে না।

-আচ্ছা।

-আমার উপর রাগ করেছ ?

-না।

-আমার দিকে তাকাও তো মাহাদি। মাহাদি তাকাল।

-রাগ করেছ ? মাহাদি মাথা নাড়ল। মায়াবতি হাসল। কোনও এক অদ্ভুত কারনে বোকা এই ছেলেটা মায়াবতিকে অন্ধভাবে ভালবাসে। মাহাদির চোখের দিকে তাকিয়ে মায়াবতির কান্না চলে আসছিল। কিন্তু তাকে আজ কাদলে চলবে না। কোনোভাবেই না। মেয়েদের কান্নার মূল্য নেই। তাদের জন্ম হাসবার জন্য। যখন ভালবাসার মানুষকে ছেড়ে অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে হয়, তখনও তাদের হাসতে হয়। খুব কম মেয়েরই প্রকৃত ভালবাসার মানুষ থাকে, যাদের সাথে রাগ করে কান্না করা যায়।মায়াবতি নিজেকে তাদেরই একজন ভাবত। কিন্তু মায়ের কথা অমান্য করার মেয়ে সে না। আমেরিকা ফেরত সুপুত্র নিয়ে মা হাজির। এই বিয়ে ঠেকাবে, সাধ্য কার!

-সারা জীবন তো ভয় করে এসেছ আমাকে পাবে না। এখন তো তাই ঘটছে! ভালো লাগসে?

মাহাদি ছুপ করে রইল।

-শোন মাহাদি, এটাই জীবন। ভালবাসা বলে কিছু নাই। সব ঢং। তুমিও দুই দিন পর এক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করবা। তার হাত ধরে পিকু পিকু কথা বলবা। দুনিয়াটাই এমন। বল ঠিক বলেসি না ?€

মাহাদি চুপ করেই রইল।

-আমাকে উঠতে হবে মাহাদি, খুব সম্ভবত এটাই আমাদের শেষ দেখা। ইচ্ছা থাকলেও আর দেখা হবে না।

-মায়াবতি?

-বল?

-তুমি আমাকে ভালোবাসো না ?

মায়াবতি এর উত্তর দিল না। এই প্রশ্নের উত্তর কি দেয়া সম্ভব! সম্ভব না।

মাহাদির মনে হল সে মরে গেছে। বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত কষ্ট। এ কষ্টের বর্ণনা নেই। মায়াবতি হেটে হেটে চলে যেতে লাগলো।মাহাদি মাটির দিকে তাকিয়ে রইল। আকাশে তাকালে দেখতে পেত আকাশ মেঘে ঢাকা। সকালের চকচকে আকাশ এখন মেঘে ঢাকা পড়েছে। বৃষ্টি নামবে, মাহাদির প্রিয় পরিবেশ। এমনই এক দিনে মায়াবতির সাথে তার প্রেম হয়েছিল।

আবার এমন এক দিনেই সব শেষ হয়ে গেল।

প্রকৃতি সব মনে রাখে।

মানুষ ভুল করে, প্রকৃতি ভুল করে না।

মানুষ ভুলে যায়, প্রকৃতি ভুলে যায় না।

মাহাদির দিন এখন কাটে ছাদে বসে। চিন্তা ভাবনা করে। চিন্তার বিষয় একজন, মায়াবতি। মায়াবতিচেহারা ধিরে ধিরে অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাহাদির কাছে, মাহাদি আর আগের মতো কল্পনা করতে পারেনা। সব কিছুই কেমন ঝাপসা, ঘোলাটে। অদ্ভুত এক পৃথিবীতে আটকে আছে মাহাদি। যে পৃথিবীতে মায়াবতি ছাড়া আর কার অস্তিত্ব নেই। অনেক চেষ্টা করল মাহাদি, মাইয়াবতির চেহারাটা কল্পনাতে দেখতে। কিছুতেই পারল না। এমন হয়, খুব প্রিও মানুষের চেহারাই সবার আগে মানুষ ভুলে যায়। আবার অনেক অপ্রিয় মানুষের চেহারা স্পষ্ট মনে থাকে।

ইদানিং হুমায়ন স্যার সাহেব আর জ্বালাতন করেন না। হটাত কি মনে করে তিনি উদয় হলেন।

-আপনি আবার এসেছেন ?

-না এসে উপায় কি, কাল দুবাই চলে যাবো। শেষ দেখা করতে আসলাম।

-দুবাই যাবেন কেন!

-সেখানে যাবার শখ আমার দীর্ঘদিনের। খেজুর খাব।

-খেজুর খেতে দুবাই যেতে হবে কেন ?

-ইচ্ছা হয়েছে খেজুর গাছে বসে পাগড়ি মাথায় খেজুর খাব। ভালো ইচ্ছা না ভাইজান ?

মাহাদি কোনও কথা বলল না। নিজের কল্পনার সাথে উদ্ভট আলোচনার মানে হয়না। সে নিজেই বুঝতে পারল পাগলামি বাড়ছে।

-যাবার আগে কয়েকটা কথা বলে যাই, মন দিয়ে শোন।

-বলেন।

-আজ তুমি গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু করতে যাচ্ছ, ঠিক?

-আপনি এটা জানেন কারন আপনি আমার কল্পনা। আসলে আপনি হচ্ছেন আমি আর আমি হলাম আপনি।

-সে যাই হোক। তুমি যেটা করতে যাচ্ছ সেটা কি ঠিক হবে?

-হাঁ, ঠিক হবে।

-আমার তা মনে হয়না।

-আপনার কি মনে হয় তা দিয়ে আমার কিছু আসে যায় না।

-আসে যায়, কারন আমি হলাম তুমি আর তুমি হলে আমি ! হাহাহাহাহা!

মাহাদি কোনও উত্তর দিল না।

-শোন মাহাদি, মায়াবতি ধনীর মেয়ে। তুমি কি মনে কর তোমার এই চিলেকোঠার ঘরে ও থাকতে পারত?

-না।

-আমেরিকা তে সে কি ভালো থাকবে না ?

-থাকবে।

-সে কি তোমাকে ভালবাসে না ?

-অবশ্যই বাসে!

-ও তো মরে যায়নি, তুমি কেন মরে যাবে মাহাদি? মৃত্যুর মাঝে সার্থকতা নেই, সার্থকতা বেঁচে থাকার মাঝে। যতদিন বেঁচে আছ মায়াবতিকে ভালবেসে যাও।

সার্থকতার এই অদ্ভুত ব্যাখ্যা শুনে আপন মনে হাসল মাহাদি। এ ব্যাখ্যা তার নিজের। তার অবচেতন মন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ চেষ্টা করেছে। হিমু হয়ে দেখা দিয়েছে। হয়তবা সফল ও হয়েছে।

কি জানি কেন, মাহাদির মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।

সামান্য বিদ্রুপ আর অসামান্য কষ্টের হাসি। এ বিদ্রুপ নিজের জন্য। শুধুই নিজের জন্য।

আষাঢ় মাস। আকাশ কাল মেঘে ঢেকে গেছে। বৃষ্টি নামবে। মাহাদি তবুও জোরে হাঁটছে না। নামুক বৃষ্টি, ভিজতে সমস্যা কি।

এখন মাহাদি গ্রামের এক স্কুলে মাস্টারি করে। জীবন কার জন্য থেমে থাকে না। চলতে থাকে। মাহাদিরও থেমে থাকে নাই। বিয়ে করেছে গ্রামের খুব সাধারন এক মেয়েকে।

রেনু আজও বুঝতে পারেনাই, শহরের এই লোকটা কেন তার মতো এক গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করল। সে দেখতে আহামরি কিছুনা। আর দশটা সাধারন মেয়ের মতো। নিজেকে খুব সুখি মনে হয় রেনুর। আধাপাগল লোকটাকে খুব ভালবাসে, কিন্তু কোনোদিন কিছু বলতে পারেনা। লোকটার অদ্ভুত কিছু স্বভাব আছে। রেনু যখন ঘুমিয়ে পড়ে, মাহাদি তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। রেনু ঘুমিয়ে পরার ভান করে, জেগে থাকলে কখনই এই লোকটা মমতার পরশ দিবেনা। তার মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে মানুষটার হাতটা ধরতে। কখনই ধরা হয়না। মানুষটা কি কি সব অদ্ভুত কথা বলে, তার সব রেনু বুঝে না। তবু শুনতে অনেক ভালো লাগে। বৃষ্টি হলেই মানুষটা উঠানে বসে থাকে, মাঝে মাঝে গান ও গায়। গানের গলা মোটেও ভালো না। কিন্তু সেটাও রেনুর খুব ভালো লাগে। যখন ঝুম বৃষ্টি পড়ে, মানুষটা তখন নিঃশব্দে কাঁদে। রেনুর তখন খুব কষ্ট হয়। মানুষটার মনে কি এত দুঃখ! ইচ্ছা করে চোখের পানি মুছে দিতে, কিন্তু রেনু তা কখনই পারেনা।

ঝরঝর করে বৃষ্টি পড়ছে। ঘন ঘন বাজ পড়ছে।মাহাদি উঠোনে বসে আছে নির্বিকার। বৃষ্টির ঝাপটা তার গায়ে লাগছে। রাতের অন্ধকার যেন বেরেই চলছে । রেনুর খুব ভয় করছিল, সে মাহাদির পাসে এসে বসলো। ‘ভয় লাগছে রেনু? কাছে এসে বস’ মাহাদি বলল। রেনু আর কাছে গিয়ে বসলো। ‘হাত টা ধর তো শক্ত করে’। রেনুর কাছে সপ্নের মতো লাগছিল। আজ সে হাত ধরবেই। কাঁপাকাঁপা হাতে মাহাদির হাত ধরল রেনু। এ ভালোবাসার স্পর্শ, যার জন্য মানুষ আকুলভাবে আসায় থাকে।

রেনুর হাত শক্ত করে ধরে রাখল মাহাদি। অবিরাম বৃষ্টি। মাহাদির দৃষ্টি আকাসে, বিজলি চমকাল। রেনুও আকাসে তাকিয়ে ছিল। মাহাদির দিকে তাকালে দেখতে পেত তার চোখে পানি।

এ কান্না নিয়তির জন্য।

আর তার ভালোবাসার মায়াবতির জন্য।

মাহাদি জানে না ঠিক এই মুহূর্তে এ গ্রাম থেকে সহস্র সহস্র মাইল দুরের এক অতি উন্নত দেশেও অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে। সুখের সেই দেশের ছোট্ট এক এপার্টমেন্টের ছোট্ট এক জানালায় অসুখী এক মেয়ে মাহাদির জন্য কাঁদছে।

মাহাদির চোখের পানি মুছে দেবার জন্য কেউ আছে।

সেই মেয়েটির নেই।



আমার আরো গল্প পরতে চাইলে লাইক দিতে পারেন আমার পেজটি ঃhttps://www.facebook.com/arshipon15/