রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

রুপন্তীর নীল পদ্ম (রুপকথার গল্প)

#রুপন্তীর_নীল_পদ্ম (রুপকথার গল্প) । 
প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written By A R Shipon

কান্নার শব্দ ভেঁসে আসছে । রুপন্তীর উপর শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছে রুপন্তির সৎ মা । প্রতিদিনই এভাবেই কোন না কোন কারনে শারিরীক মানুষিক অত্যাচারের স্বিকার হতে হয় তাকে । তারপর ছুটে যায় বাড়ীর পাশের পড়ীর দিঘিতে  পড়ীর দিঘি তার সবচেয়ে পছন্দের স্থান। কোন কারনে মন ভালো বা খারাপ হলেই সে এখানে আসে । গত চার বছর আগে তার মা তাকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে । অনেক বেশি ভালবাসতো রুপন্তীকে রুপন্তীর মা। ঠিক এই জায়গায় বসে গল্প শুনাতো , গান শুনাতো , আঁদর করতো রুপন্তীর মা রুপন্তীকে। মা মারা যাওয়ার ৬ মাস যেতে না যেতেইবাবা বিয়ে করে। তার কিছুদিন পর থেকেই রুপন্তীর সৎ মা রুপন্তীর উপর শারীরিক ও মানুষিক অত্যাচার শুরু করে। এর কারন হলো ১৬ বছরের রুপন্তী ছিলো অনেক বেশি সুন্দরী , আগুনের মত সুন্দর মেয়েটা, দুধে আলতা গায়ের রং, হরিনী চোঁখ, আর সে কি মায়া চোখ দুটোতে, টগবগে যৌবনের কিশোরি রুপন্তী। গ্রামের অনেকে বলে পড়ীর দিঘিতে আগে পড়ীরা আসতো, সেই পড়ীরা রেখে যায় তাদের শিশু বাচ্চা। আর  সেই পড়ীর শিশু বাচ্চাই আমাদের রুপন্তী। পরীরা রুপন্তির মাকে ভালবেসে খুশি হয়ে হয়তো রুপন্তিকে উপহার দিয়ে গেছে। 
সৎ মায়ের অত্যাচার শেষ হলে রুপন্তী দৌড়ে পরীর দিঘির পারে বটগাছের নিচে এসে বসে। 
খুব কান্না করছে মেয়েটা আজ 
। এর অবশ্যই একটা কারন আছে, আজ রুপন্তির জন্মদিন। ৪ বছর আগেও এই দিনটি ছিল তার কাছে অনেক বেশি আনন্দের । তার মা তার জন্য অনেক মজার মজার খাবার রান্না করত, নতুন জামা উপহার দিত , বেলুন দিয়ে ঘর সাঁজাতো , কেক কাটতো। আর আজ তাকে সৎ মায়ের হাতে মার খেতে হচ্ছে । এই ভেবে সে মাথা নিচু করে কেঁদেই যাচ্ছে । 
হটাৎ কে যেন পিছন থেকে রুপন্তির মাথায় হাত বুলায় , পেছন ফিরে দেখে কেউ নেই। তারপর তার চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে, নিচে লটিয়ে পরে। 
জ্ঞান ফিরলে রুপন্তি দেখে তার চারপাশে অনেক রঙের আলোর বাতি জ্বলছে, বেলুন , রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সাজানো । আসে পাসে বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি আর পাখি উড়ছে । সাথে সাথেই অনেক গুলো মেয়ে বলে উঠে “”” শুভ জন্মদিন, শুভ জন্মদিন রুপন্তী“”””” রুপকথার দেশে দেশে তোমাকে স্বাগতম । লাল নীল পরীরা রুপন্তিকে নিয়ে অনেক আনন্দ করে, গান গায়, নাঁচে । পুরো রুপকথার দেশ ওকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় । এখন কেক কাটার পালা । কেক কাটা হবে রুপকথার রাজ্যের রাজার দরবারে । রাজ্যের প্রায় সবাই একত্রিত হয়েছে এই দূঃখি মেয়েটার মুখে খিছু সময়ের জন্য হাসি ফুটাতে। রাজা রানি আর রাজপুত্রও এসেছে। কেক কাটা শেষে রাজার পক্ষ থেকে রাজপুত্র রুপন্তিকে ১টা নীল জামা উপহার দেয় । উপহার পেয়ে রুপন্তি খুব খুশি হয়ে, প্রান খুলে সে হাসে। আর সেই হাসিতে মুগ্ধ হয়ে রুপন্তির রুপের মায়ায় পরে যায় রাজপুত্র । 
অনুষ্ঠান শেষ করে পড়ীরা রুপন্তিকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে যায় । সন্ধ্যা হয়ে গেছে, রুপন্তির সৎ তাকে মারা জন্য লাঠি নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ঘরে ঢোকার পরপরই শুরু করে অত্যাচার । কিন্তু আজ রুপন্তী কাঁদছে না। সে এখনও রুপকথার দেশের ঘোরে আছে । সৎ মা তার উপহার নীল জামাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় ।
পরের দিন..... 
কাজ শেষ করে রুপন্তি বিকেলে আবার পরীর দিঘিতে যায় । সে তার ওই নীল জামাটা চুরি করে নিয়ে গায়ে পরে এসেছে। তাকে ভয়ংকর সুন্দরী লাগছে । পরীদের চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছে। সন্ধার আগ পর্যন্ত রুপন্তী দিঘিতে ঘোরাঘোরি করে, গান গায়, দিঘি থেকে নীল পদ্ম তুলে সেগুলা নিয়ে খেলা করে । 
রুপন্তির রুপের মায়া রুপকথার রাজ্যের রাজপুত্র এলভিন কে টেনে নিয়ে এসেছে আজ পপৃথিবীতে  , সে দূর থেকে রুপন্তির গান শুনে , নাচ দেখে , দিঘি থেকে রুপন্তির নীল পদ্ম নিয়ে খেলা দেখে সে। তারপর পিছু পিছু রুপন্তির বাসা পপর্যন্ত যায় । এলভিন দেখে রুপন্তীর উপর তার সৎ মায়ের অত্যাচার। রুপন্তির মা রুপন্তির জামা টা ছিরে ফেলে। এসব দেখে রাজপুত্র এলভিনের খুব খারাপ লাগে, আর রুপন্তীর প্রতি তার প্রেম টা বেড়ে যায় ।
ভোরে রুপন্তী কলসী নিয়ে দিঁঘিতে পানি নিতে আসে। পেছনে ফিরে দেখে রাজপুত্র এলভিন। রূপন্তী সুন্দর করে ছোট ১টা হাঁসি দিয়ে এলভিন কে স্বাগতম জানায় । এলভিন তাকে নতুন ১টা জামা উপহার দেয় । রুপন্তী উপহার পেয়ে অনেক খুশি হয়। সে পানিতে নেমে ১টা নীল পদ্ম তুলে এনে রাজপুত্র এলভিন কে দেয়। এলভিন ও রুপন্তির কাছ থেকে উপহার পেয়ে খুব খুশি হয়। তারপর রুপন্তী বলে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি আসি। রাজপুত্র বলে, আমি বিকেলে আবার আসবো তুমি কিন্তু এই জামাটা পরে আসবে। তারপর তারা ২জনই চলে যায় ।
দুপর শেষে বিকেল গড়ালে রুপন্তী আসে দিঘির পারে। মেয়েটা আজ খুব করে সেঁজেছে, চোখে কাঁজল দিয়েছে । কিছুক্ষন পর এলভিন তার উড়ন্ত সাদা ঘোড়া নিয়ে আসে। রুপন্তির রুপ দেখে সে কিছুক্ষন থ হয়ে দাড়িয়ে থাকে । রুপন্তি কথা বলে তার ঘোর ভাঙায় । অনেক কথা বলে তারা। কথা বলতে বলতে জেনো মাঝে মাঝে হাসিতে লুটিয়ে পরে মাটিতে । 
এভাবে বেশ কিছুদিন চলে। রাজপুত্র রুপন্তীকে তার উড়ন্ত ঘোড়ায় করে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গাতে নিয়ে ঘোরায়। 
রুপন্তির দূঃক্ষ কষ্ট আগের চাইতে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে রাজপুত্র এলভিন। রাজপুত্র অনেক বার চেষ্টা করে তার মনের কথা রুপন্তিকে বলতে, কিন্তু সাহস করে উঠতে পারে না। আজ এলভিন রুপন্তীকে তার মনের কথা বলবে এই পন করে রাজ্য থেকে এসেছে। সকাল থেকে বসে আছে সে, কিন্তু রুপন্তীর কোন খোজখবর নেই। সন্ধ্যা হয়ে গেছে । এলভিন ২ বার রুপন্তির বাসার সামনে গিয়ে ঘুরে এসেছে কিন্তু রুপন্তিকে খুজে পায়নি ।
এভাবে টানা তিনদিন কেটে যায় । কষ্টগুলো সহ্য না করতে পেরে এলভিন তার মা রুপকথার রাজ্যের রানীর কাছে গিয়ে বলে যে সে এলভিন কে বিয়ে করতে চায়। একথা শোনার পর রানী রেগে যায়। এলভিন কে অনেক বোঝবার চেষ্টা করেও না পেরে ওকে বের করে দেয় রুপকথার রাজ্য থেকে ।
এ দিকে রুপন্তি গত ৩দিন হাসপাতালে ছিল, তার খুব জ্বর ছিলো। সুস্থ হয়ে সে দিঁঘির পারে যায় । অনেক খন পর এলভিন আসে। তার মন খারাপ । দু জনের দু জনের সাথে সব ঘটনা শেয়ার করে ।
এলভিন এর এখন জায়গা হয়েছে এই দিঘির মাঝখানে ফোটা বড় নীল পদ্মটিতে । 
এভাবে বেশ কিছু দিন চলে তাদের দিন কাল । তারা প্ল্যান করে যে তারা দুজনে চলে যাবে রুপকথার ভালোবাসার রাজ্যে, সেখানে সবার ঠাই হয় । সেখান কার রানী অনেক ভালো মনের পড়ী । 
পরেরদিন ভোরে দীঘিতে পানি নিতে এসে দেখে সেই নীল পদ্মটি নেই । কে যেন তুলে নিয়ে গেছে। 
তাহলে আমার এলভিন এর কি হবে, এলভিন কেমন আছে? এই ভেবে কেঁদে, না খেয়ে সন্ধ্যা করে দেয় রুপন্তী।
সন্ধার পর কেউ একজন পেছন থেকে ডাক দেয়, রুপন্তি এই রুপন্তি। পেছনে ফিরে দেখে রুপন্তির মা ডাকছে রুপন্তিকে। কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কাঁদে রুপন্তি ।
 তার মা বলে... 
মা ঃ রুপন্তী তোমার হাতে বেশি সময় নেই। ওই নীল পদ্মটা বাজারে সবজির দোকান গুলোর মাঝখানে আছে। তুমি ঐটা নিয়ে নিয়ে আসো।  তারপর ঐটা নিয়ে রাজপুত্রের ঘোড়ায় চড়ে চাঁদের দেশে চাঁদের বুড়ির কাছে যেতে হবে । একমাত্র সেই জেনে কিভাবে রাজপুত্রকে ফিরিয়ে আনা যাবে। 
কথা শেষ করার পরপরই রুপন্তী এলভিনের উড়ন্ত ঘোড়ায় উড়ে গিয়ে নীল পদ্মটা খুঁজে ঐটা নিয়ে চাঁদের বুড়ীর কাছে যায় । অনেক অনুরোধের পর চাঁদের বুড়ি বলে... 
বুড়ি ঃ আগামি সাত পূর্নিমাতে দিঘিতে সাতটা নীল পদ্ম ফুটবে, এই পদ্ম গুলো রুপন্তীকে তুলে তার হেফাজতে রাখতে হবে। তারপরের আমাবস্যা রাতে রুপকথার ভালোবাসার রাজ্য থেকে রাজ্যের রানি গোসল করতে আসবে । রূপন্তীকে যে কোন উপায়ে রানীর মন গলিয়ে রাজি করাতে পারলে সে ওই সাতটি ফুল তার মাথায় মুকুট বানিয়ে পরলে রাজপুত্র জীবন ফিরে পাবে। 
কথা শেষ হলে রুপন্তি ফিরে আসে। এরপর থেকে রুপন্তী দিঘির পারেই থেকে যায় এবং পরপর সাত পূর্নিমার রাত জেগে সাতটা নীল পদ্ম তুলে নেয়। তারপর আমাবস্যার গভীর রাতে পরীরা গোসল করতে আসে। কিন্তু  রূপন্তী রানীকে দেখতে পায় না। অনেক খোজার পর দেখে আকাস থেকে একটা ঘোড়ার গাড়ী আসছে, সেই গাড়ীতে রানী আসছে নিশ্চয়ই । রানী নামার পর পুরো জায়গাটা আলোকিত হয়ে যায় ।
রানী তার মুকুট খুলে পানিতে নামলে রুপন্তি তার মুকুট চুরি করে মুকুটের মধ্যে সাতটি পদ্ম দিয়ে সাজিয়ে দেয় । তারপর সে তার মধুর কন্ঠে গান ধরেঃঃ
 আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরি ,সাথী মোদের ফুলপরী ……।।.।।........।.।….।।.।..।।.।।..।..।।.।।…।।…।।…।।…।।
তার গান পরীর রানীকে মুগ্ধ করে। রানী তার কাছে এসে বলে নাম কি তোমার? আর কি চাও তুমি ?
রুপন্তি সব খুলে বলে। আর অনুরোধ করে নীল পদ্ম দিয়ে সাজানো মুকুটটা পরার জন্য । 
রানী তার কথায় রাজী হয় । মুকুট পরার কিছুক্ষন পরে রাজপুত্র এলভিন পদ্মের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে । রানী তাদের ভালোবাসা দেখে খুশি হয় । সে এতো টাই খুসি হয় যে রানী নিজে তাদের রুপকথার ভালোবাসার রাজ্যে থাকার আমন্ত্রণ জানায়।
এই প্রস্তাব পেয়ে এলভিন আর রুপন্তি মহাখুশিতে রানীকে জরিয়ে ধরে। তারপর রানী তাদের নিয়ে যায় রুপকথার ভালোবাসার রাজ্যে।
সেখানেই তারপর সুখে শান্তিতে বসবাস করে তারা ।

( পুরো গল্পটাই আমার কল্পনা। এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। গল্পটি আজ থেকে ঠিক ৬ বছর আগের লেখা )
সমাপ্ত।

মুরং ভিলেজের গুপ্ত গুহা

মুরং ভিলেজের গুপ্ত গুহা ।
লেখা ঃ প্রে তা ত্তা

কিরে কোথায় তুই ? আর কতখন তোর জন্ন্য অপেক্ষা করবো আমরা ? সবাই চলে আসছে …।। তারাতারি আয় , তা না হলে তোকে রেখে চলে যাবো ।

হিমেল ঃ সবাই চলে আসছে ?

দুপুর ঃ হ্যা তুই ছারা সবাই আসছে ।

(দুপুর হিমেল কে ফোনে কথা গুলো বলছিল । হিমেল সব সময় লেট করে । আজ শাওন ও লেট করছে  । শাওন লেট মানে সজল ও লেট । জুনায়েদ , দুপুর , সবুজ , রাজিব , জামান , বসে আছে পালামগঞ্জ ব্রিজে ।বিকেল ৪টা বাজে , ৪টার সময় ওদের রওনা দেওয়ার কথা ছিল । কিন্তু এখনো হিমেল ,শাওন আর সজল আসে না । শাওন এই গ্রুপটার লিডার বলা চলে । সে ওদের অন্ন্য সবার চেয়ে বড়)

ও বলাই তো হলো না যে ওরা কোথায় যাচ্ছে । ওরা যাচ্ছে বান্দরবন । প্রতিবছরই ওরা এই রকম ভ্রমনের আয়োজন করে ।

৪ঃ ৩৪ মিনিটে শাওন , সজল আর হিমেল আসলো ।

দুপুর ঃ ভাই তুমি ???? তুমি লেট করলা ?

শাওন ঃ আরে বলিস না ভাই , সজল আর হিমেলের মেকয়াপ করতে লেট হইলো তাই আমারো লেট হইলো । ওগো বাপ মা তো আবার আমার হাতে না দিয়ে ওদের ছারবে না ।

দুপুর ঃ হ্যা দেখতেছি তো , আটা ময়দা মেখে মেয়ে সেজে বসে আছে । চলো এখন বাসে উঠি ।

( কথা শেষ করে বাসে উঠে ঢাকা আসল । ঢাকা থেকে আবার বান্দরবন )

ভোরে চলে এলো ওরা । ১টা ছোট রিসোরটে উঠলো । রেস্ট নিয়ে বের হবে । জামান খুব ক্লান্ত হয়ে গেছে । বাসে বেশ বমি করেছে ছেলেটা । জুনায়েদও করছে বাট ও ঠিক আছে ।

দুপুরে ফ্রেস হয়ে ওরা বের হলো । প্রথমে যাবে ওরা স্ব্রন মন্দির । ১টা রেস্টুরেন্ট থেকে ভুরিভোজ দিয়ে ওরা রওনা দিলো স্ব্রন মন্দির । সেখানে গিয়ে সেলফি আর হৈ হুল্লোরে মেতে উঠলো । সেখান থেকে শৈ্ল প্রপাত এ । শৈ্ল প্রপাতের সৌন্দয দেখে ওর মুগ্ধ । দুপুর তো যেন হতভম্ব হয়ে কথা বলতে পারছে না । সবাই যেখানে সেলফি তোলা নিয়ে ব্যাস্ত সেখানে দুপুর অপলক দৃষ্টিতে প্রকৃ্তি দেখছে ।

শৈ্ল প্রপাত দেখা শেষ । এখন ওরা যাবে মুরং ভিলেজ । এখানেই যাওয়ার জন্ন্য এসেছে । ১তা গোপন তথ্য মুরং ভিলেজে ১টা গুপ্ত গুহা আছে । যে গুহাতে এই প্রযন্ত যারা ভিতরে গেছে তাদের কেউ আর ফিরে আসে নাই । আজ ওড়া ওই গুহাতেই ঢুকবে । আর গুহার গোপন রহস্য খুজে আনবে । কি নাকি এক রাক্ষস ওই গুহায় থকে সে কিনা ওই গুহার কাছে গেলে খেয়ে ফেলে । তাই ওইখানে মানুষ জনের আনাগোনা খুব কম ।দিনে বেলায় ওই গুহার কাছে যেতে দেই না আসে পাসের মানুষ জন । তাই দুপুররা রাতে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ওদের গ্রুপ লিডার শাওন হলেও আজকের অপারেশনের লিডার দুপুর । কারন দুপুরের এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে । সে ভুত পেত নিয়ে গবেষনা আর টুকটাক লেখালেখি করে ।





রাত ৮টা বেজে গেছে । ওরা ভেতরে ঢোকার জন্ন্য প্রুস্তুতি নিচ্ছে ।

সবুজ ঃ দুপুর তুই এতো বিশাল ব্যাগ নিয়ে এসেছিস এখন এটা নিয়ে কি ভিতরে ঢুকবি নাকি ?

দুপুর ঃ হ্যা । আমি এই ব্যাগে কিছু জিনিস পত্র এনেছি

সবুজ ঃ কি এনেছিস ?

দুপুর ঃ এটা এডভ্যঞ্চার ব্যাগপ্যাড । এখানে ৪টা ছুরী , ২টা গান , ৪টা লাইট , ম্যাচ , কিছু বিস্কিট ,ফাস্ট এইড বক্স আছে । শুনেছি এখানে যারা ঢুকে তারা নাকি কেঊ ফিরে আসতে পারে না । যদি সত্যি ওই রকম কিছু হয় তাহলে এগুলো কাজে লাগতে পারে ।

হিমেল ঃ মানে ? এইসব কি সত্যি নাকি ?

দুপুর ঃ যতদুর শুনলাম এই প্রজন্ত ৪জন এর ভিতরে ঢুকেছে । তারা কেউ এখন প্রজন্ত ফিরে আসে নি ।

হিমেল ঃ তার মানে কি আমরা মরতে যাচ্ছি ? আমি যাবো না ভাই (কাদো কন্ঠে)

রাজিব ঃ সালা তুই যাবি না তোর ঘারে যাবে ।

শাওন ঃ দুপুর তুই ওদের ভয় দেখায়তেছিস কেন গাধা ?

দুপুর ঃ নানা মানে , বলে রাখছি আরকি । যদি এমন কিছু হয় ।

জামান ঃ ওই তুই থামবি ? নাকি তোর মুখ সেলাই করে দিব ?

দুপুর ঃ ঠিক আছে । আমাদের কাছে ৪টা লাইট আছে । হিমেল , সজল , জুনায়েদ আর রাজিবের কাছে লাইট গুলো থাক । সাওন ভাই আর আমার কাছে গান , জামান আর সবুজ এ বড় ছুড়ি ।আমি সামনে থাকবো । আর সবাই ১টা করে লাইটার রাখো ।

শাওন ঃ চল এখন ভিতরে যাই ।

সজল ঃ হ্যা । চলো ।

এরপর ওরা একজন একজন করে ভিতরে ঢুকে ।বাইরে এতখন জোসনার আলো ছিল , কিন্তু এখন ভিতরে কোন আলো নেই । হিমেল প্রথম লাইট জালায় । তারপর সবাই । আকাবাকা পথ , অনেক রকম পাথর ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে । হটাৎ দুপুর ওদের থামতে বলে । সে ব্যাগ থেকে লাল রঙের ১টা চক পেন্সিল বের করে দেয়ালে দাগ কেটে দেই যাতে বেরুবার সময় তেমন কোন প্রোবলেম এ না পরতে হয় । এইভাবে প্রায় ২ ঘন্টা কেটে যায় হাটতে হাটতে ।পথ যেন শেষ হচ্ছে না । সবাই খুব বিরক্ত হয়ে যায় ।

সবুজ ঃ শাওন ভাই এই পথ শেষ হবে না । চলেন ফেরত যাই ।

হিমেল ঃ হ্যা হ্যা চলো সবাই ।

রাজিব ঃ তোরা কি পাগল হয়ে গেছিস ?

সজল ঃ হ্যা পাগল হয়ে গেছি । কাল রাতে আমার ঘুম হয় নাই । রাত ১০টার বেশি বেজে গেছে । আমি হোটেলে গিয়ে ঘুমাবো ।

শাওন ঃ ঘুমের বাহানা দিস কেন ? বল তোর ভয় লাগছে ।

দুপুর ঃ শাওন ভাই এইদিকে আসো তো । (দুপুর এতোখন গুহার ১টা দেয়ালের পাথর খুটে খুটে দেখছিল)

শাওন ঃ কি হয়েছে ?

দুপুর ঃ আমরা দেয়ালের পাথরটা সরাতে পারলেই গুহার বাইরে যেতে পারবো ।

জামান ঃ (চিৎকার করে)শাওন ভাই , দুপুর , সজল এই দিকে আয় তোরা । তারাতারি আয় ।

দুপুর ঃ এই কি হয়ছে ? চিল্লায়তেছিস কেন ?

জামান ঃ এই দেখ ?

(নিচে ৩টা মানুষের কঙ্কাল পরে আছে )

শাওন ঃ ওহ আল্লাহ ।

জুনায়েদ ঃ আমার মনে হয় আমাদের চলে যাওয়া উচিৎ ।

দুপুর ঃ এই হিমেল কোথায় ?

(ঠিক সেই সময় হিমেলের চিৎকার । সবাই দৌড় দিয়ে ছুটে গিয়ে দেখে হিমেল ১টা বিড়ালের সাথে যুদ্ধ করছে । দুপুর তার ব্যাগ থেকে ১টা লাইট বের করে বিরালের সামনের দিকে গিয়ে জালিয়ে দেই । লাইট থেকে আলো না বের হয়ে আগুন বের হয় । আর আগুন দেখে বিরাল পালিয়ে যায় ।দুপুর গত বছর কক্সবাজারে এক কানাডিয়ান ভুত বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করেছিল । সে এটা দুপুর কে গিফট করেছে )

দুপুর ঃ তুই এখানে একা আসছিস কেন গাধা ?

হিমেল ঃ আমি কংকাল দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলাম । কিন্তু এখানে এসে দেখি সব রাস্তা বন্ধ । তারপর ১টা বড় ছায়া আমার সামনে এসে কি সব ভাষায় বলতেছিল । আমি পিছন দিকে ঘুরে দৌড় দিতেই ছায়া টা বিরালে রুপ নিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে পরে ।

শাওন ঃ দুপুর এখন ওই পাথর সরিয়ে আমাদের এই গুহা থেকে বের হতে হবে । আর কোন রাস্তা এখন খোলা নেই । তোর ব্যাগে কি কি আছে ?

দুপুরঃ আমার ব্যাগে ১টা তাবু , কিছু খাবার , ফাস্ট এইড বক্স আর কিছু টুকটাক টুলস আছে ।

রাজিব ঃ চলো ভাই আগে আমরা দেয়ালের পাথর সরিয়ে বাইরে যাই আগে ।

দুপুর ঃ হ্যা আসো সবাই সেই চেষ্টা করি ।

( অনেক খন চেষ্টা করার পর তারা পাথর সরিয়ে বাইরে আসে । সবাই খুব ক্লান্ত বাইরে এসে হাফ ছারছে । তখন দুপুর একটু এগিয়ে গিয়ে উৎফুল্ল হয়ে বলে

দুপুর ঃ এই তোরা দেখে যা , না দেখলে মিস করবি । তারাতারি আয় সবাই ।

সবাই কাছে গিয়ে হতবাগ । তারা ১টা উচু যায়গায় আছে আর নিচে যেন ১টা শহর । এক অপুরুপ শহর । এখানে যেন নীল রঙের রোদ খেলা করছে । ছোট ছোট নদ । আহ কি এক প্রকৃতি । এখানে যেন মরেও শান্তি ।

শাওন ঃ তোরা কি কি দেখতেছিস রে ?

জামান ঃ আমি আমার দেখা এই প্রযন্ত যত জায়গা দেখিছি তার ভিতর এটা শ্রেষ্ঠ । এর তুলনা হয় না

শাওন ঃ আর কিছু ?

দুপুর ঃ আমি জানি তুমি আর কি জানতে চাচ্ছো । ওই প্রানি গুলো তো ? যেগুলো নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে ?

শাওন ঃ হ্যা। আচ্ছা এখন আমরা কি  করবো ?

দুপুর ঃ আমার কাছে তাবু আছে । ১টা জায়গা খুজে বের কর আর কিছু শুকনো কাঠ । তারপর ওইখানে তাবু গেরে আগুন জালিয়ে রাত পার করে দেই । সকালে এখান থেকে ফিরে যাওয়ার পথ খোজা যাবে ।

সবুজ ঃ তবে সবাই ঘুমালে হবে না । ৪জন ঘুমাবে আর ৪জন পাহারা দিবে ।

শাওন ঃ দারুন বুদ্ধি ।

এরপর ১টা জায়গা খুজে তাবু গেরে আগুন ধরিয়ে রেস্ট নেয় । আজ রাতে দুপুর , সবুজ , জুনায়েদ আর জামান পাহারা দিবে । কিছুখন পর বাকিরা ঘুমিয়ে পরে ।

সকালে রাজিবের ঘুম ভাংগে পাখির ডাকে ।বাইরে এসে দেখে যে সবাই যে যার মতো ছুটোছুটি করে খেলছে । এত সুন্দর সকাল এর আগে ওরা কেউ দেখে নাই ।

হিমেল এসে দুপুরের কাছে বলে দোস্ত খিদা লাগছে । তোর কাছে না বিস্কিট আছে ?  আমাকে দে ।

শাওন ঃ এই সকাল দেখার পর ও তোর খুদা লাগে ? আমার তো এই প্রকৃতি দেখে পেট ভরে গেছে । দুপুর বলে আসো আমরা সবাই মিলে কিছু খেয়ে নেই । রাতে কারো কিছু খাওয়া হয় নাই ।

খাওয়া শেষে

দুপুর ঃ শাওন ভাই আমাদের খাবার খুব সিমিত । আমাদের খাবারে খোজ করতে হবে ।

সজল ঃ কেন ? তোর কি এখানে আরো থাকার ইচ্ছে নাকি ? আমরা আর একটু পরই যাবো ।

দুপুর ঃ আমি ওই উচু গাছের উপরে ঊঠেছিলাম সকালে । যতদুর দেখলাম , এটা ১টা বৃত্তের মত । আমার মনে হয় কোন সুরঙ্গ পথ ছারা আমাদের বের হওয়া মুশকিল । আর পথ খুজে বের করতে কতদিন সময় লাগে কে জানে ।

সবুজ ঃ দুপুর ঠিক বলেছে শাওন ভাই ।

শাওন ঃ আমরা এখন পথ আর খাবার খুজবো । ২টা টীম হয়ে ।

দুপুর ঃ ভাইয়া আমার মনে হয় আমরা একসাথেই থাকি । তাহলে মনোবল কমবে না ।ভয় ও লাগবে না

এরপর তারা খুজতে বের হয় । তাবু আগের জায়গায় ই থাকে । সারাদিন খুজেও ওরা কিছু পায় না । তবে খুব আনন্দ করে ওরা । নিল পানির ঝরনায় ওরা গোসল করে । গাছ থেকে পেরে কলা খায় । আরো বিভিন্ন রকমের ফলমুলের অভাব নাই । হরেক রকমের পাখি । ওরা সব চেয়ে বেশি অবাক হল যে তারা ডায়নাসোর দেখেছে । ওরা প্রথমে বিস্সাশ করতে পারছিল না যে এটা ডায়নাসোর । একজন আরেকজন কে চিমটি কেটে সিঊর হয়েছে যে তার সত্যি দেখছে ।তার মানে ওরা এখন এমন ১টা জায়গায় আছে যেখানে এর আগে কোন মানুষ আসে নাই । আচ্ছা ওরা বের হয়ে যখন সবাই কে এই জায়গার কথা বলবে , সবাই আসবে । তখন ওরা বিশ্বে ফেমাস হয়ে যাবে । কিন্তু ওড়া কি পারবে বাইরে যেতে ?

হাটতে হাটতে তাবুর কাছে এসে গেছে । একি অবাস্থা ? তাবু টা ভেংগে চুরমার । মাটিতে পায়ের চিন্হ দেখে বোঝা গেল কোন বড় ধরনের প্রানি এখানে আক্রমন করেছে । এমন সময় হটাত পিছন থেকে গোঙ্গানির শব্দ । পিছনে ফিরতেই ওদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ২টা বিশালাকার বিড়াল । জুনায়েদ আর শাওনের ঊপর পরে ওদের আচরাতে থাকে । জামান আর রাজিব তাদের পিঠের পিছন থেকে গান বের করে ২টা কে গুলি মারতেই লূটিয়ে পরে মাটিতে । দুপুর ব্যাগ থেকে এইড বক্স বের করে সবাই কে ওয়াস করে দেই । তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেই এখান থেকে সরে সেফ কোন জায়গায় গিয়ে তাবু গারবে আবার । তাবু কে যদিও মেরামতের বেপার আছে । সন্ধার আগে ছোট ১টা পাহারে তাবু গারে ওরা । তারপর নিজেদের ভিতর গল্প সুরু করে । অনেক খন পার হয়ে যায় । খুব বিপদের ভিতর আছে জেনেও কেনো জানি আলাদা ১টা আনন্দও কাজ কপছে ভিতরে । গান নাচ সবই করছে ওরা । হটাৎ হিমেল বলল দেখ ওইখানে কি জেন হচ্ছে । অনেক মানুষের মত দেখা যাচ্ছে । সবাই এগিয়ে এসে দেখলো । আরে এখানে তো মনে হচ্ছে কোন অনুষ্টান হচ্ছে । চল কাছে গিয়ে দেখি , বলল হিমেল ।

দুপুর ঃ হিমেল তুই বলছিস কাছে গিয়ে দেখতে ? তোর এত সাহশ আছে ?

হিমেল ঃ থাকবে না কেন ? না থাকলে কি আর এখানে এসেছি ?

শাওন ঃ চল একদম কাছে গিয়ে দেখব ।

এরপর ওরা ণীল নদির পানির ধার দিয়ে হেটে এগিয়ে গেল । কি আজিব মনে হচ্ছে যেন পানির ভিতর থেকে নীল আলো বের হচ্ছে । চারিদিক টা নীল ণীল । দুপুর খুব খুশি , কারন ওর নীল খুব পছন্দের । ওরা একদম কাছে চলে এলো । এই মানুষ গুলো খুব ছোট । শুধু ১টা নেংটি পরে আছে । শরিরে আর কিছুই নাই । তাদের আজ কোণ অনুষ্ঠান চলছে । নাচ আর গান বাজনা চলছে । বোঝা যাচ্ছে তারা এখনো আদিম জুগে বাস করছে । দুপুররা খুব মোনযোগ দিয়ে দেখছিল । হটাৎ পেছন থেকে ১৫/২০ জন বেটে মাণুষ ওদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ।দুপুরড়া ধরা না দিয়ে ওদের সাথে মারামারি তে লেগে পরে কারন ওদের অস্ত্র গুলো খুব নিন্ম মানের মনে হয়েছিল । কিন্তু ভুল । অস্ত্র যেমনি হোক ওরা খুব বুদ্ধিমান আর শক্তিশালি । খুব সহজেই দুপুরদের বেধে ফেলে । বাশে ঝুলিয়ে নিয়ে যায় ওদের গোত্রে । দুপুররা বেটেদের কথা বুঝতে পারে না । কিন্তু এইটুকু বুঝতে পারে যে ওরা দুপুরদের মেরে ফেলতে চাইছে ।

দুপুর ঃ শাওন ভাই কে জেনো আসছে । ঢোল বাজিয়ে । মনে হয় ওদের রাজা আসতেছে ।

শাওন ঃ তুই কথা কম বল । একটু পরে আমরা মারা যাবো সেই চিন্তা কর । আল্লাহের কাছে মাফ চা ।

রাজিব ঃ ঐ দেখো রাজা আসছে । রাজা তো আমাদের মত মানুষ । সে কি কথা বলতে পারে ?

দুপুর ঃ এই এই লোকটা কে আমার চেনা চেনা লাগছে ।

সজল ঃ তোর তো সবই চেনা চেনা লাগে ।

রাজা কাছে এসে একবার ওদের দেখলো । তারপর ওদের কাছে গিয়ে কি সব ভাষায় বলল সেটা ওরা কেউ বুজলো না ।কথা শেষ করে রাজা ওদের কাছে আসে ।

সজল ঃ আপনি কি কোন কথা বলতে পারেন ?

(রাজা কোন উত্তর দেই না , ওদের সবার দিকে তাকিয়ে দুপুরের কাছে এগিয়ে যায় )

দুপুর ঃ আপনাকে আমার চেনা চেনা লাগছে ?

রাজা ঃ আমি এলচিন ক্লাফ । তোমার সাথে আমার কক্সবাজার দেখা হয়েছিল দুপুর ।

দুপুর ঃ হ্যা হ্যা মনে পরেছে । তাহলে প্লিজ দিন না আমার বাধন খুলে । আমার খুব চুলকাচ্ছে ।

( রাজা বেটেদের কাছে গিয়ে কি জেন বলল , তারপর বেটেরা এসে ওদের বাধন খুলে দিল )

দুপুর ঃ আপনি এখানে কিভাবে ?

রাজা ঃ আমরা ৪জন এখানে আসার জন্ন্য গুহায় ঢুকেছিলাম , কিন্তু এই বেটেদের প্রেত পাহারাদার আমার আর ৩ বন্ধু কে মেরে ফেলে । আমি প্রেত সাধনা দিয়ে কোন রকম বেচে আসি ।

শাওন ঃ তার মানে গুহায় যে ৩টা কঙ্কাল দেখলাম ওইগুলা আপনার বন্ধুদের ।

রাজা ঃ হ্যা ।

দুপুর ঃ তারপর আপনি ওদের রাজা হলেন কিভাবে ?

রাজা ঃ এখানে ঢোকার পর ওদের রানি কে ডায়নাসোরের হাত থেকে আমি বাচিইয়ে দেই তারপর সে আমাকে বিয়ে করে । আর তারপর আমি এখানকার রাজা ।

জুনায়েদ ঃ স্যার আমরা এখান থেকে চলে যেতে চাই ।

রাজা ঃ তোমরা যদি চলে যেতে চাও তাহলে আমি সে ব্যাবস্থা করে দিব । তবে আজ রাতে না । এখন এখানে অনুষ্ঠান চলছে । আজ তোমরা অনুষ্ঠান দেখো । রাত থাকো । সকালে যাওয়ার ব্যাবস্থা হবে ।

তারপর সারারাত ওরা নানা ধরনের আনন্দে মেতে থাকে ।মেয়েগুলোর সাথে নাচে । নানা ধরনের পানিয় খায় । দুপুর খেয়াল করে দেখল রাজা কেন যেনো চিন্তিত । সে রাজা কে জিজ্ঞাস করলে রাজা কথা পালটে ফেলে । সকালে ঘুম থেকে ঊঠে দেখে তাদের জন্ন্য ১টা প্যারাশুট রেডি করা । রাজা ওদের নাস্তা করিয়ে প্যারাশুটে ঊঠিয়ে বিদায় দেয় । এই প্যারাসুট তাদের এই বৃত্তের বাইরে ,মানে সভ্য দুনিয়ায় নিইয়ে যাবে । প্যারাসুট এখন অনেক উওরে ঊঠে চলছে । নিচে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে । চারপাশ টা খুব সুন্দর লাগছে । ওরা সবাই এই ২টা দিন খুব মিস করছে । তখন জামান বলে উঠলো এই প্যারাশুটের পাওয়ার কমে  যাচ্ছে , এটা তো সমুদ্রের দিকে নেমে যাচ্ছে । হিমেল বলল দুপুর

হিমেল ঃ দুপুর রাজা তোকে এই চিঠিটা দিয়েছে , দেখতো এখানে কিছু আছে নাকি বাচার উপায় ।

দুপুর ঃ চিঠি ?? দে তো দেখি

     প্রিয় দুপুর , আমার বন্ধুদের কে ও আমিই মেরে ওইখানে প্রেত পাহারা রাখছি । তুমি সেই পাহারা ভেঙ্গে এখানে এসোছো । আমি জানি তোমরা খুব ভালো ছেলে । তবুও তোমাদের কে আমার মেরে ফেলতে হলো । কারন তোমরা যদি এখানে থাকতে তাহলে এখানে আমার অধিপত্ত কমে যেতো আর তোমাদের সভ্য সমাজে ছেরে দিলে সব ফাস করে দিতে । আর আমার এই সাম্রাজ্য ধংস হয়ে যেত । তোমাদের আমি সমুদ্রের মাঝে ফেলে দিলাম ।দোয়া করি তোমাদের মৃত্যটা যেন খুব কষ্টদায়ক না হয় ,

এর পর প্যারাশুট পরে যায় সমুদ্রে । ডুবতে থাকি আমরা । আর কিছু খন পরই হয়তো আমি থাকবো ………

এই দুপুর , এই দুপুর ঘুম থেকে উঠ । কে সপ্নে দেখে চিল্লাইতেছিস । উঠ শাওন আর জামান আসছে ।

দুপুর ঃ মা আমি কি এতোখন ঘুমে ছিলাম ?

মা ঃ হ্যা ।

দুপুর ঃ তার মানে আমি মরে যাই নি ? সব সপ্ন ছিল ?

মা ঃ কি সব আবল তাবল  বকতেছিস ? যা ওরা বসে আছে ।

ড্রয়িং রুমে শাওন আর জামান এসেছে ।তারপর দুপুর মুখধুয়ে ওদের কাছে আসে । শাওন আর জামান দুপুর কে বলতে আসে যে তারা সবাই কাল বান্দরবন যাবে দুপুর জেনো রেডি থাকে ।

দুপুর ওদের কথা গুলো শুনে মুচকি হাসে তবে ভিতরে কিন্তু ভয় টা ঠিকই থেকে যায় । তবুও ১টা এডভ্যাঞ্চারের লোভে যেতে রাজী হয় । যদি সত্যি মুরং ভিলেজে এমন কিছু থাকে তাহলে মিস করা যাবে না কিন্তু ।

হোমাংকিউলি রহস্য



হোমাংকিউলি রহস্য
লেখা ঃ প্রেতাত্তা ।



সকাল সকাল মাহাদির ফোনে ঘুম ভেঙ্গে গেলো দুপুরের ।

মাহাদি ঃ মামা কই তুই ?

দুপুর ঃ ঘাস কাটছি কক্সবাজার বিচে ।

মাহাদি ঃ মজা করিস ? কক্সবাজার বিচে কি ঘাস আছে বলদ । আচ্ছা বাদ দে । খবর দেখছিস , বরিশালে ৬ টা লাশ পাওয়া গেছে সাথে আজব টাইপের ১টা প্রানি ও মৃত পাওয়া গেছে ।

দুপুর ঃ তাহলে তো হয়েই গেছে । লাশ আর খুনি এক সাথেই পাওয়া গেছে । ভেজাল শেষ ।

মাহাদি ঃ তুই অফিসে আস । এখানে কথা হবে । বাই

কথা শেষ করে দুপুর আবার ঘুম দেয় । ৯টার দিকে রোদেলা বেডটি নিয়ে দুপুরের ঘুম ভাঙ্গায় । কিছুদিন আগেই দুপুর আর রোদেলা পালিয়ে বিয়ে করে । ১ মাসও হয় নাই ।

রোদেলা ঃ বাবু , এই সোনা বাবু উঠ । উঠ প্লিজ । ( কথা বলে দুপুরের মাথায় চুল নারিয়ে দিবে )

দুপুর ঃ ১টা কিসি দাও তাহলে উঠবো । দাও ।

রোদেলা ঃ চুপ । উঠো , আর হ্যা টিভিতে কি দেখাচ্ছে দেখো । ৬টা লাশ সাথে ১টা  অদ্ভত প্রানি ।

দুপুর ঃ মাহাদি ফোন দিয়ে বলল এই কথা  । আচ্ছা দেখছি ।

এর পর ও কিছুদিন কেটে যায় । একদিন সকালে চা খেতে খেতে টিভি দেখছিল দুপুর । হটৎ ব্রেকিং নিউজ ঃ বরিশালের সরুপকাঠিতে আরো ২ লাশ । এই নিয়ে লাশের সংখা ১৩ । দুপুর হতভম্ভ হয়ে গেল , এতোগু্লো লাশ আর সে এই ব্যাপারে কিছু জানে না । উঠে গিয়ে নজরুল , সাকিল , ইউসুফ , জুয়েল, মাহাদি , আলামিন , আরিফ কে অফিসে আসতে বলে । মাস ৬ হয় ওরা ১টা বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা খুলেছে । সেখানেই সবাইকে দুপুর ডেকেছে ।

অফিসে গিয়ে সবাই আলোচনা করে জানতে পারে যে ৬ ,১ , ৪ , ২ এই ভাবে ১৩ টা রক্তহিন মৃতদেহ পাওয়া গেছে । দুপুর সিদ্ধান্ত নেয় আগামিকাল তারা সরুপকাঠি যাবে । মনে মনে ভাবে দুপুর গত বার সরুপকাঠিতে ১টা অপারেশনে গিয়েছিল । সাদিয়া তাকে ফোন দিয়ে নিয়েছিল । সেখান থেকে তার সাথে সাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয় । তারপর আবার ব্রেকাপ ও হয় । দুপুরের মুচকি হেসে বলে

দুপুর ঃ আমরা বরিশাল জালিসের বাসায় উঠব । রানাকে ফোন দিয়ে বলে দে লঞ্চের টিকিট কিনে রাখতে ।

পরের দিন রাতে লঞ্চে উঠে ভোরে লঞ্চ থেকে নেমে জালিসের বাসায় গিয়ে উঠে । সেখানে বিস্রাম নিয়ে থানায় যায় দুপুর , রানা আর নজরুল ।

থানায় গিয়ে ওসি কে দেখে হতবাক হয়ে যায়

দুপুর ঃ রফিক ভাই আপনি ?

ওসি ঃ আরে দুপুর । তুমি এখানে ?

দুপুর ঃ আপনি তো সেই চাকরি পেয়ে চলে গেলেন মেস ছেরে , আর কোন খোজ খবর নিলেন না ?

ওসি ঃ আর বইলো না । অনেক ব্যাস্ত । আচ্ছা তুমি এখানে কেন ?

দুপুর ঃ এই তো ১টা বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা চালাই আমরা । ১৩ মার্ডারের ব্যাপারে আসছি ।

ওসি ঃ তার মানে তুমি সেই গোয়েন্দাগীরিই শুরু করছো । আচ্ছা সবই তো শুনছো । আমরা কিছুই বুঝতেছি না । প্রথমে ৬টা , তারপর পর্যায়ক্রমে ১ , ৪ , ২ টা । আর ওইখানে কিছু  অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে ।

নজরুল ঃ অস্বাভাবিক ঘটনা মানে ?

ওসি ঃ মানে ওইখানে মাঝে মাঝে এমন একজন ব্যাক্তি কে দেখা যায় যে কিনা মাঝে মঝে অদৃষ্য হয়ে যায় ।

রানা ঃ একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ ।

ওসি ঃ লাশ গুলো ১টা জঙ্গলের আসে পাশে পাওয়া গেছে । আমরা ২দিন আগে ওইখানে গিয়েছিলাম ইনভেষ্টিকেশনের জন্ন্য । জঙ্গলের ভিতর ১টা পুরাতন জমিদার বাড়ী আছে । সেখানে নাকি ভুত পেত থাকে । ঐ বাড়ি তে যাওয়ার সময় আমাদের সামনে কয়েকবার ওই লোকটা সামনে আসে , আবার উধাও হয়ে যায় , এমন করে অনেকগুলা জংলি কুকুর , বিড়াল এমনকি সাপ ও আছে ।

 দুপুর ঃ লোকটা দেখতে কেমন ?

ওসি ঃ দেখতে মানুশের চেয়ে একটু বড় মনে হয় । আসলে মুভির প্রেতাত্তা রা যেমন দেখতে হয় ।

দুপুর ঃ আচ্ছা শুনলাম মর্গে নাকি ১টা লাশ আছে , দেখা যাবে ?

ওসি ঃ চলো দেখি আসি ।

এরপর ওরা মর্গে গিয়ে লাশ দেখে । লাশ গুলোর শরিরে একফোটা রক্তনেই সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে । কেউ রক্ত চুষে নিয়েছে মনে হয় । এরপর ওরা চলে যায় ।

বিকেলে ওরা জালিসদের বাসায় সবাই মিলে বসে গল্প করছে । তখন ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলছে । আসালে কথা বলতে বলতেই রহস্যের জট খুলবে ।

সাকিল ঃ আচ্ছা দুপুর কি মনে হচ্ছে তোর ?

দুপুর ঃ বুঝে উঠতে পারছি না । ১৩টা লাশ দিয়ে প্রেতাত্তা কি করবে ? কোন রাক্ষস আসছে নাকি ?

ইউসুফ ঃ আজাইরা পেচাল পারবি না ? রাক্ষস ঠাক্কস বলতে কিছু নাই ।

আরিফ ঃ কালো জাদু তো আছে । সেটা তো বিশ্বাস করিস ।

দুপুর ঃ লাশগুলোতে রক্ত নেই , অদৃশ্য মানব সেখানে আছে , আর লাশের সাথে ১টা আজিব প্রানির লাষ পাওয়া গেছে । সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপাটা ঘোলাটে । আচ্ছা আমরা তো অই প্রানীটা দেখলাম না ?

রানা ঃ আমি খাতায় নোট করে রাখছি । সকালে আমরা ঐটা আর জঙ্গলটা দেখতে যাব ।

দুপুর ঃ হ্যা । আর এখন আমরা সাদিয়া দের বাসায় যাবো । মনে আছে সাদিয়ার কথা , আমাদের আগের অপারেশনে কিন্তু ও আমাকে ডেকে আনছিল । কিন্তু এবার খোজ খবর ও দিলো না ।

মাহাদি ঃ ওহ তোর এক্সজিফ সাদিয়া তো । চল ।

বিকেলের নাস্তা করে ওরা বের হলো সাদিয়ার বাসার উদ্দেশ্যে । সন্ধার পর পর সাদিয়ার বাসার গেটে নক করলো দুপুর । দরজা খুলে দিল একজন পুরুষ ।

দুপুরঃ তুই এখানে ?

রাব্বি ঃ তুই এখানে কিভাবে ?

দুপুর ঃ আমি ১টা কাজে এসেছি বরিশালে । তাই ভাবলাম সাদিয়ার সাথে দেখা করে যাই । কিন্তু তুই ?

ওপাশ থেকে সাদিয়া কে এসেছে গো বলে কাছে চলে আসে ।

সাদিয়া ঃ দুপুর তুমি ? এরা কারা ?

রাব্বি ঃ সাদিয়া আর আমি মাস ৬ হয় বিয়ে করেছি , এখানেই আছি এর পর থেকে ।

দুপুর ঃ শালা অবশেষে ঘর জামাই হলি । আর হ্যা এরা আমার বন্ধু সাদিয়া ।

রাব্বি ঃ হ্যা , আমি প্রায় অনেকেই চিনি ।

সাদিয়া ঃ ভিতরে আসো ।

ওরা ভিতরে যায় । কেন জানি রাব্বি দুপুর কে দেখার পর থেকে মুখ টা কালো করে রেখেছে । হয়তো সাদিয়ার এক্সবিএফ দুপুর কে তার সহ্য হচ্ছে না । এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক । কিন্তু অন্যকিছু না তো আবার । রাব্বির সাথে লাষ্ট কথা হয়েছিল দুপুরের বছর কিছু আগে । রাব্বি ইন্ডিয়া গিয়েছিল কালোজাদু বিদ্দ্যা শিখতে । দুপুরের খুব জানতে ইচ্ছে করছে যে কি কি শিখেছে রাব্বি । কিন্তু মুখ যেভাবে কালো করে রেখেছে তাতে আর তার সাথে আজ বেশি কথা বলা যাবে বলে মনে হয় না । সাদিয়ার বাসায় বর্ষা নামে ১টা মেয়ে কে দেখলো । মেয়েটা কে দুপুরের খুব ভালো লেগেছে । তবে অন্ন্য কিছু ভাববেন না । সাকিল বিয়ে করবে , তাই ওর জন্ন্য মেয়ে দেখতেছে ওরা সবাই । মেয়েটা খুব সুন্দর । ২০/২১ বছর হবে আর কি ।

সাদিয়ার বাসা থেকে বের হয়ে বরিশাল শহর টা একটু ঘুরে রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে । আলাদা ১টা ৩ রুমের ঘর দেওয়া হয় ওদের থাকার জন্ন্য । খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পরে । সকাল ৭টার দিকে রফিক ভাইয়ের (ওসি) ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গে দুপুরের । আজ ও ১টা লাশ পরে আছে জঙ্গলের পাশের পুকুরে । রফিক ভাই (ওসি) ওদের যেতে বলেছে স্পটে । সাথে সাথেই রেডি হয়ে ওরা রওনা দেয় । পোছতে পোছতে ৮ঃ২০ মিনিঃ বেজে গেছে ।

লাশ টা আগের মত সেম অবস্থা । কোন রক্ত নেই , আবার শরিরে কোন ক্ষতও নেই । সাদা হয়ে আছে বডিটা । লাশটা উঠানো হলো । লাশের পকেটে ১টা চিঠি পাওয়া গেল । সেখানে লেখা

আমি মহাপৃথিবীর কলংকিনি

আমি হবো এই জগতের মহা ক্ষমতার অধিকারি , আমার পিছে লাগলে তোদের ভালো হবে না । আমি কলংকজগতের জাগতিক ক্ষমতার অধিকারি । আমার এখন এই বিশ্বের ক্ষমতা চাই । আমার ক্ষমতার কিছু উধাহরন দেখ । ( পড়াটা শেষ করতে না করতেই চারিদিক কালো হয়ে যায় । শুরু হয় প্রচন্ড রকমের বাতাস । সবাই গড়াগরি খেতে থাকে । চারপাশ থেকে ভয়ংকর হাশির শব্দ ভেষে আসে । একটু পর থেমে যায় । তারপর আবার চিঠির বাকি অংশ ।)

দেখলি তো আমি কি পারি । আমি আরো কিছু লাশ চাই । কিছু যুবতি নারীর লাশ চাই । আমারটা আমি যোগার করে নিব । এই নিয়ে কেউ কোন মাথা ঘামালে তার খবর আছে । বংশ শেষ করে দিব । সাবধান !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

লাশ নিয়ে সবাই চলে যায় । যেটা ঘটলো সেটা দেখে দুপুর সহ বাকিরা যেন টাস্কি খেয়ে গেছে । সত্ত্যিই কি কেউ এই আলোই ভরা জগৎটাকে অন্ধকার জগতে পরিনত করতে চাচ্ছে ? এই পৃথিবী কি তাহলে প্রেত্তারা রাজত্ত্য করবে আর আমরা তাদের দাশ হয়ে বেচে থাকবো ? আমাদের বাচ্চাদের কলিজা দিয়ে ওরা সকালের নাস্তা করবে ? এটা কিভাবে সম্ভভ ? যা দেখলাম তা যদি সত্ত্যি হয় তাহলে তাই তো হবে ।

কিছু ১টা করতে হবে । দুপুর দুপুরের খাবার খেয়ে সবাইকে নিয়ে গেল অদ্ভদ প্রানী টা দেখতে । হাসপাতালের হিমঘরে গিয়ে দেখলো । প্রানীটা মানুশের মত । চোখ ১টা আর শরিরের চামরা টা নেই । তাছারা সব ঠিক ।

দুপুর কিছু ছবি তুলতে চাইলে হটাৎ হাসপাতালের এক উর্ধতন নার্স এসে বাধা দেয় । কিন্তু ততোখনে ছবি ১টা তোলা হয়ে গেছে । দুপুররা বের হয় আর ছবিটা ঢাকা তার একবন্ধু কে সেন্ড করে ।

জুয়েল ঃ কি মনে হচ্ছে দোস্ত ?

নজরুল ঃ এটা কি বুঝতে পারছি না । মানুষ আবার মানুষ না । আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।

রানা ঃ এটা কি দুপুর ?

দুপুর ঃ এটা ১টা হোমাংকিউলি ।

সাকিল ঃ এটা আবার কি ?

দুপুর ঃ পরে বলব । এখন চল আগে জঙ্গলের ভিতর সে ভুতের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি ।

নজরুল ঃ চল ।

এর পর সবাই জঙ্গলের ভিতর যায় । প্রথমে প্রায় সব ঠিকই ছিল  কিছুদুর এগুনোর পর সব যেনো চারপাশে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে , আর বাতাস । এমনিতেই এখানে দিনের বেলা হলেও অন্ধকার । কিছুখন পর কারা যেন দৌড়ে ওদের সামনে এলো । সুধু চোখ গুলো দেখা যাচ্ছে , আর কিছু না । এখন আবার যেন মেঘো ডাকছে । বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । হ্যা বিদ্যুৎএর আলোতে দেখা গেলো তাদের মুখ । পিচাশ পিচাশ করে চিৎকার করে উঠলো আলামিন । পরক্ষনেই আলামিন অজ্ঞ্যান । পিচাশগুলো দেখতে সত্ত্যি এতো বিশ্রি যে দুপুরও বমি করে দিলো । তারপর সে তার পকেট থেকে ১টা ছোট হাড্ডি বের করলো । আর সাথে সাথে সব বন্ধ হয়ে গেল । দুপুর দৌড় দিয়ে আলামিনের কাছে গেল । কোন রকমে আলামিনের জ্ঞ্যান ফিরিয়ে আনা হলো ।

দুপুর ঃ তোরা কি আমার সাথে এই বাড়ির ভিতরে যাবি ? আমার মনে হয় এখানে গেলে অনেকটা রহস্য উদঘাটন হয়ে যাবে ।

জুয়েল ঃ আমি যাব ।

রানা ঃ আমিও যাবো ।

দুপুর ঃ ভিতরে আরো ভয়ানক কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে । ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নে ।

মাহাদি ঃ আমরা সবাই যাব ।

সাকিল ঃ আলামিন তুই কি যাবি ভিতরে ?

আলামিন ঃ কেনো যাবো না ? এইরকম কিছু আগে কখনো দেখি নাই তাই এমনটা হয়েছে ।

নজরুল ঃ এমন আরো অনেক কিছু ভিতরে থাকতে পারে । তোর না যাওয়াই ভালো।

আলামিন ঃ আমি যাবোই ।

এরপর তারা বাড়ীর ভিতরে ঢুকে । ভিতরে তেমন কিছুই দেখতে পায় না । কিছু না পেয়ে ফিরে আসছে এমন সময় জুয়েল বলে এই দেখ পিপড়া গুলো কোথায় যাচ্ছে । দুপুর এগিয়ে গিয়ে দেখে পিপরা গুলো মাটির নিচে যাচ্ছে । মাটিগুলো সরাতেই দেখাযায় ১টা জায়গা ফাকা হয়ে গেছে । দুপুর প্রথমে ধিরে ধিরে ভিতরে ঢুকে , তারপর অন্ন্যরা । সবাই অবাহ এই পরিবেশ দেখে । এই গ্রাম টা অনেকটা আধুনিকতা থেকে পিছিয়ে আর এই বাড়ীটা তো ১০০ বছরের ভিতর কোন কাজ করা হয় নাই মনে হয় । কিন্তু ভিতরের এই পরিবেশটা দেখে মনে হচ্ছে যেন খুব আধুনিক ১টা ল্যাব্রেটরি এটা । এক এক করে সব দেখছে ওরা । একটা রুম থেকে রানা ডাক দেই । সেখানে গিয়ে দেখে অনেক গুলো অদ্ভত প্রানী আর প্রতিটিই জিবন্ত । প্রানী গুলো ওদের দেখে হাওমাও করে উঠে । পাসের ১টা রুমে গিয়ে দেখে এখানে ১টা মুর্তি । এখানেই পূজা করে । এই অদ্ভত প্রানী গুলো হলো হোমিংকিউলি । মানে হচ্ছে , মানুষের শরিরের জীন থকে এগুলো বানানো হয় । আর প্রান কোণ এক অপদেবতা দান করে । তবে সর্ত হলো কুমাড়ির রক্ত লাগবে । আর এরা প্রান পেলে অনেক ক্ষমতার অধিকারি হবে । ধংস করে দিবে এই দুনিয়া । মুর্তির উপরে ১টা চামড়ায় রক্তে লেখা মহাউপাসনা ০৭/১১/২০২১ । তারমানে কালকেই সেই কালো অধ্যায় শুরু করতে চায় ওরা ।

এর পর ওরা ওইখান থেকে বের হয়ে যায় । বের হওয়ার সময় আবার সেই বাতাস শুরু হয় । এইবার দুপুর আগেই তার পকেট থেকে হাড্ডী টা বের করে । তাই তেমন কিছু আর হয় না । আচ্ছা বলেন তো দুপুর আর তার বন্ধুরা কি পারবে এই ধরনীকে অপশক্তির গভীর ষড়যন্ত থেকে রক্ষা করতে ??????

পরের দিন সকালে সাদিয়া ফোন দিয়ে দুপুরকে বলে যে তার বোন বর্ষা কে খুজে পাচ্ছে না । দুপুর ফোনটা নিয়ে ফেসবুকে বর্ষার ফেসবুক আইডি তে ঢূকে দেখে যে আজ বর্ষার জন্মদিন । তারমানে বর্ষাই বলির পাঠা হতে চলছে । কিন্তু কে সেই প্রেতসাধক ? খুব দেখতে ইচ্ছে করছে দুপুরের ।

দুপুর সবাইকে ডেকে নিয়ে আসে ।

দুপুর ঃ সাদিয়ার বোন বর্ষাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ।

সাকিল ঃ বলো কি ? কোথায় যেতে পারে ও ?

দুপুর ঃ আজ ওর ২১তম জন্মদিন । আমি শিউর ওকে ওই প্রেতসাধক রা নিয়ে গেছে । রানা তুই আলামিন আর ইউসুফ কে নিয়ে সাদিয়াদের বাসায় যা । ওদের ফলো কর । মাহাদি আর আরিফ তোরা খোজ লাগা বরিশালে কোথা চা বাগান বা এই ধরনের কোন জায়গা আছে কিনা । শাকিল তুই থানার আসে পাসে থাকবি । ফোন দিলে পুলিশ নিয়ে চলে আসবি ।

নজরুল ঃ আমি আর তুই কি করবো ?

দুপুর ঃ তুই আর আমি এখন ভুতের বাড়ী যাবো । আমরাও তো কিছু জানি প্রেতসাধনা ।

তারপর যে যার মত বেড়িয়ে যায় । দুপুর কালোজাদু জানে বরিশালে এমন লোক খুজছে । কিন্তু তেমন কোন তথ্য পেল না । বিকেলে ভুতের বাড়ী যায় ।

দুপুর আর নজরুল হোয়াইট ম্যাজিকের সাহাজ্যে অদৃশ্য হয়ে ভুতের বাড়ীর ভিতরে ঢুকে । ঢূকে দেখে কিছুই নেই । সব সরিয়ে ফেলেছে বদমাইশ গুলো । হতাশা নিয়ে ফিরে আসে ।

বাইরে এসে রানা কে ফোন দিলে রানা বলে যে সাদিয়ার বাসায় তালা ।

দুপুর ঃ যেটা ভাবছি সেটাই । সাদিয়া আর রাব্বি পালিয়েছে ।

নজরুল ঃ মানে কি ?

দুপুর ঃ মানে হলো এই প্রেতসাধকের সাথে রাব্বি জরিত । কারন রাব্বিই এই অত্র এলাকায় এক মাত্র কালো জাদু জানে । আর বেশ কিছুদিন আগে ও আমাকে হোমংকিলির বেপারে জিজ্ঞাস করছিলো ।

নজরুল ঃ তো এখন ?

দুপুর ঃ মাহাদী কে ফোন দে । সন্ধ্যা হয়ে গেল প্রায় ।

নজরুল মাহাদির সাথে কথা বলে , মাহাদিও তেমন কোন আশার আলো দেখাতে পারলো না ।

হটাত ইউসুফ ফোন দিয়ে জানায় যে সাদিয়ার বাসায় ১টা লড়ি এসেছে । দুপুর ইউসুফ কে বলে ঐ লড়ি কে ফলো করতে ।

দুপুর আর নজরুল ইউসুফের ইনফো মতো একজাগায় সবাই এক হয়ে লড়ির পিছনে ফলো করে সুধু সাকিল ছারা । রাত প্রায় ১০টা বেজে গেছে ।

লড়িটা বরিশালের একপ্রান্তে বিশাল এক চকের(ক্ষেত) মাঝখানে আসে । মাঝখানে এক আনারষের খেতে ব্ল্যাক ম্যজিক সার্কেল একে বসে আছে সাদিয়া । তারমানে সাদিয়া আসল প্রেতসাধক আর রাব্বি ওর সহযোগি । এছারাও আর ৯জন আছে ওদের সাথে ।

দুপুর তার বন্ধুদের সবাইকে হোয়াইট ম্যাজিকের মাধ্যমে অদৃশ্য করে দেয় । আর পকেট থেকে ১টা কাগজ বের করে বলে

দুপুর ঃ এটা হলো হোয়াইট সার্কেল । এটা যদি আমরা ১১ঃ৫৯ মিনিটের আগে তৈ্রি করতে পারি তাহলে এই ধরনি অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে । সুতরাং তারাতারি করতে হবে । কথা শেষ করে দুপুর সাকিল কে ফোন দিয়ে বিস্তারিত বলে বলে পুলিশ নিয়ে আসতে হবে ।

সাদিয়া আর রাব্বি মন্ত্র পরছে চিৎকার করে আর আর বাকি গুলা মাথা দুলিয়ে মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠছে । দুপুর রাও জানপ্রান দিয়ে ব্ল্যাক সার্কেলের পাশ দিয়ে হোয়াইট সার্কেল আকছে । রাত ১১ঃ৪০ বেজে গেছে । ২জন লোক তখন বর্ষা কে নিয়ে এসে মুর্তির পায়ের কাছে রাখে সেখানে ১টা কাঠের উপর শুয়িয়ে রাখা হয় , আর রাব্বি বড় ১টা ছূড়ী নিয়ে বর্ষার গলার একটু উপরে ছুরি ধরে মন্ত্র পরতে থাকে ।। এখানে বলি দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছে । এখন সাদিয়ার মন্ত্র পরার স্পিড যেন প্রায় দিগুন বেরে গেছে । ১১ঃ৫৫ বেজে গেছে । হোয়াইট সার্কেল ও শেষের দিকে । কিন্তু সঠিক সময়ে কি পারবে শেষ করতে । ১১ঃ৫৮ বাজে । বুঝতে পারছে না দুপুর শেষ হবে কি না । সে দৌড় দিয়ে ব্ল্যাক সার্কেলের ভিতর থেকে খুব দ্রুত বর্ষা ধাক্কা দিয়ে কাঠ থেকে ফেলে ব্ল্যাক সার্কেলের বাইরে নিয়ে আসে আর তখনই হোয়াইট সার্কেল হয়ে আগুন জেলে উঠে প্রেতসাধক দের আটকিয়ে ফেলে । কিছুখন পর সাকিল পুলিস নিয়ে আসে । ধরা পরে অন্ধকারজগতের প্রতিনিধিরা আর এই ধরনী রক্ষা পায় অপশক্তির করাল গ্রাস থেকে ।

#অভিশপ্ত_গ্রাম । পার্ট – ১

#অভিশপ্ত_গ্রাম । পার্ট – ১
লেখা ঃ প্রে তা ত্তা


গ্রামটির নাম পালামগঞ্জ । গ্রামটি ঢাকা জেলার দোহার থানার রাইপারা ইউনিয়ন এ অবস্থিত । বহু প্রাচীনকাল থেকে এ এই গ্রাম নিয়ে অনেক ভুতুড়ে গল্প আছে বলে শোনা যায় । যেমন ফাহাদদের বাড়ির সামনের খেজুর গাছ আর মসজিদ এর পিছনের তাল গাছ এ ২ পা দিয়ে দারিয়ে আছে বিশাল আকারএর এক দ্বৈত । যাকে কিনা প্রাই দেখতে পান গ্রাম এর লোকেরা । একদিন শিপন , বিভোর আর লিমন রাতে লিমন দের বাসায় থাকবে বলে ঠিক করে । লিমন দের বাসা ফাহাদ দের বাসার পাসেই । যেই কথা সাই কাজ , সাথে জুটল সুরুজ । ৪জন মিলে তাস খেলছে আর সিগারেট এর টান দিচ্ছে । ভালই চলছিল ওদের খেলা , হটাত বিভোর সবাইকে থামতে বলে । বিভোর শিপন ্কে বলল কাকা তোমরা কি কিছু শুনতে পাচ্ছ । সুরুজ বলে উঠল হা মনে হয় ছাদ এ কোন বাচ্চা কান্নাকাটি করছে । বিভোর বলল চল গিয়ে দেখে আসি । এর মাঝে শিপন বলে উঠল না , এত রাতে কোন কিছু না বুঝে যাওয়া ঠিক হবে না । লিমন শিপন এর কথায় সাই দিল । কিন্তু সুরুজ আর বিভোর এর জোরাজুরি তে তারা আখন যাওয়ার জন্য এগুচ্ছে । শিপন সিগারেট এর পাকেট আর ফাইরবক্স টা নিয়ে নিল । শিরি দিয়ে উঠছে ওরা , বিভোর আর শিপন সবার আগে । ছাদ এ উঠল ওরা কিন্তু কিছু নেই । কান্নার শব্দ টা সড়ে গিয়ে এখন আর একটু সামনে । লিমন সামনের দিক এগুতে যাবে আর আই সময় শিপন লিমন এর হাত টান দিয়ে ধরে, লিমন পিছে তাকালে শিপন অর হাতে ১টা সিগারেট দাই । অর ৩জন সিগারেট টানছে সুধু সুরুজ ছারা ।সুরুজ সিগারেট হাত এ নিয়ে দারিয়ে আছে সে ধুম্পান করে না । ওরা একটু এগিয়ে গেল এখন শব্দ টা পুরো শপ্সট পুকুর এর কাছ থেকে আসছে , ওরা ছাদ এর পাশে এসে পুকুর দিকে তাকিয়ে ওদের চোখ ছানাবড়া । পুকুর এ ৪০ থেকে ৫০ টা উলঙ্গ শিশু খেলা করছে আর তাদের সবার চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে । লিমন আর সুরুজ খুব ভয় পেয়ে গেল ওরা রুম এ ফিরে জেতে চাইল । শিপন আর বিভোর ওদের জোর করে বলে যে না । ওরা কি করে আজ দেখব । বিভোর বলে কাকা আস আমরা নিচে জাই , শিপন না করে বর, ক্ষতি হতে পারে ।হটাত ওদের সিগারেট গুল নিভে যায় । এবার শিপন ভয় পেয়ে যায় । লিমন শিপনকে বলে , মামা একটু উপরে তাকা । ওরা সবাই উপরে তাকায় , উপরের জিনিস দেখার জন্য ওরা প্রস্তুত ছিল না । ওরা দেখল সেই দ্বৈতটা , জার কথা ওরা সারাজিবন বড়দর কাছে শুনেছে । দ্বৈতটা ফাহাদ্দের খেজুর গাছের মাথায় আর মসজিদ এর পিছনে তাল গাছের মাথায় পা দিয়ে দারিয়ে আছে , আর তার বিশাল হাত দিয়ে ১টা ১টা করে বাচ্চা পুকুর থেকে উঠিয়ে তার মুখে ভরচে , বাচ্চা গুলো কান্না করছে । বাচ্চা গুলোর কান্না জানো আকাশ বাতাস কাপিয়ে তুলছে । এইসব দেখে ওদের অবস্থা খারাপ । সুরুজ অজ্ঞান হয়ে গেছে ।বাকি ৩জন এর অবস্থা ও খারাপ ।ওরা সুরুজকে ধরে নিয়ে রুম এ আসে , একটু পর এ ফজর এর আজান দায় । সুরুজ এর জ্ঞান ফিরলেও গায়ে অনেক জর । শিপন , লিমন আর বিভোর এর অ খুব জর আসে । প্রায় ৬দিন পর ওদের জর কমে ।

আমার পড়ী নীল তরন্নিতা

আমার পড়ী নীল তরন্নিতা
লেখা : প্রে তা ত্তা


এখন প্রায় রাত ২টা বাজে । শিপন , নাঈম, আর রহিত রবিন্দ্র সরবরে বসে আছে । কি মনে প্রশ্ন জাগছে না যে এত রাতে ওরা এইখানে কেন ? ????
আজ ওদের আর এক বেষ্টফ্রেন্ড সেনোরিটা সুইসাইড করেছে । গত পরশুদিন সেনোরিটার বয়ফ্রেন্ড সুমন রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে । খুব ভালোবাসতো মেয়েটা ছেলেটাকে , তাই তো আমাদের কাদিয়ে চলে গেল ভালোবাসার মানুষটার কাছে ।
রহিত , শিপন আর নাঈম যে যার মত তাকিয়ে আছে , কারো মুখে কোন কথা নাই । এত রাতে সরবরে ওরা ৩জন ছারা আর কেউ নেই সরবরে । এভাবে প্রায় ৩টা বেযে গেল ।
হটাত লেক থেকে শব্দ আসে , এমন শব্দ যে মনে হয় অনেক গুলো মানুষ গোসল করছে লেকে । রহিত শিপন কে বলে আয় গিয়ে দেখে আসি । শিপন যেতে না চায়লে নাঈম আর রহিত লেকের কাছে যায় । গিয়ে যা দেখলো সেটা দেখে তো ওদের চোখ কপালে ঊঠলো । শিপনকে ঈশারায় ডেকে কাছে আনল । শিপনের ও একই অবস্থা ।
শুন্য থেকে অনেক গুলো মেয়ে লেকে নেমে গোসল করছে । মেয়ে গুলো দেখতে অসম্ভব সুন্দর । সাধারন মানুষের চেয়ে ওরা আরেকটু লাম্বা ।এরাই পরি বললো নাঈম । অদের সবার শরির থেকে এক নীল আলোক রশ্নি বের হচ্ছিল । চারিদিক টা এক অপুরব আলোয় আলোকিত । এত সুন্দর একটা পরিবেশ যে ওরা চোখ ফেরাতে পারছিল না । ওরা ভুলেই গিয়েছিল যে ওদের বন্ধু মারা গেছে । এভাবে প্রায় ৪ঃ৩০ বেজে গেল । এক সময় একে একে পরি গুলো সব চলে গেল ।
শিপনরা চলে আসতে ছিল তখন ওরা পানি তে ছটফট করার শব্দ পায় । কাছে গিয়ে দেখে না কিছু নেই তো । তাই চলে আসার জন্ন্য পা বারায় তখন আবার সে শব্দ । এবার শিপন পানিতে নামলো । নেমে দেখে একটা নীল পড়ি লেকের জালে আটকা পরেছে । পড়িটা ওদের দেখে খুব ভয় পায় । সে আরো জোরে তার পাখা ঝাপটিয়ে ঊরার চেষ্টা করে , কিন্তু জালে এটকে থাকার কারনে বের হতে পারে না । শিপন কাছে গিয়ে বলে
শিপন ঃ ভয় নাই , আমরা তোমার ক্ষতি করবো না । (ওরা ভাবে মনে হয় পরিটা অদের ভাষা বুঝতে পারে না , কিন্তু তারপরএই ওদের ধারনা পালটে যায় )
পড়ি ঃ আমি আমার রাজ্যে ফিরে যেতে চাই ।
তারপর ওরা ৩ জন মিলে পরিটাকে উদ্ধার করে উপরে নিয়ে আসে । পড়িটা চলে যায় ।
পরেদিন রাত ১২টা বাজে । তখন শিপনের মনে পরলো পরিটার কথা । কিছুখন ভেবে শিপন একাই গেল সরবরের লেকে । প্রায় ৩ঘন্টা পর পরি গুলো আসা শুরু করল । অনেক পরি আসেছে কিন্তু তার ওই নীল পরিটা আসে নাই । অনেক্খন পর তার চোখ পরলো লেকের ওই পারে । হা ওইতো নিল পরিটা , পরিটা যেন গোসল করছে না , পানির সাথে খেলা করছে । শিপন অপলক দ্রিষ্টিতে তা দেখছিল ।
এভাবে প্রায় ৮ দিন শিপন লুকিয়ে লুকিয়ে পড়িটাকে দেখলো । এর মদ্ধে পড়িটার ১টা নাম ও দিয়ে দিল । নীল তরন্নিতা । নীল পড়ীটার নাম নীল তরন্নিতা , ভালোই মিলেছে । এমন সময় ১টা কুকুর পেছন থেকে ঘেউ ঘেউ করে শিপনের কাছে আসতে থাকে , এই দখে শিপন পানিতে লাফ দেই । ছোট বেলায় একবার শিপন কে কুকুর কামর দিয়েছিল । তখন থেকে কুকুর ভীতি । যাই হোক পানিতে পরে যাওয়ার পর পড়ীটা শিপন কে দেখে ফেলে । কাছে এসে পড়িটা বলে
পড়ী ঃ তুমি এখান কিভাবে ?
শিপন ঃ কুকুর দেখে ভয় পেয়ে লাফ দিয়েছি । আমি কুকুরকে খুব ভয় পাই ।
পড়ি ঃ তুমি প্রতিদিন এখানে আস কেন ?
শিপন ঃ আমাকে কি তুমি আগে থেকে দেখেছ ?
পড়ী ঃ হা । তোমার নাম কি ?
এভাবেই প্রতিদিন রাতে শিপন পরিটার সাথে এসে গল্প করে , খেলে , নাচে , গান গায় , কবিতা সোনায় । শিপন এখন পরীটাকে নীল তরন্নিতা বলে ডাকে । খুব ভালো সম্প্রক হয়ে গেছে ।
একদিন হটাত করে পরিটা শিপন কে তার মনের লুকায়িত ভালোবাসার কথা বলে । শিপন শুনে উতফুল্ল হয়ে চিতকার করে পরিটাকে জরিয়ে ধরে । ধিরে ধিরে এগুতে থাকে তাদের ভালোবাসা । একদিন এক পরি ওদের দুজনকে দেখে ফেলে এবং পরিদের রাজার কাছে বিচার দেই । রাজা নীল তরন্নিতা কে অনেক বকা ঝকা করে । কিন্তু বকা খেয়ে তার ভালোবাসা কমে যায় না বরং আরো অনেকগুন বেড়ে যায় ।
পরের দিন লেকে এসে নীল তরন্নিতা শিপনকে সব বলে । তারা দুজন মিলে উপায় খুজেতে থাকে কিভাবে তারা এক হতে পারে । কিন্তু পায় না কোন পথ ।
তারপরের দিন পড়ীটা আসে , তার মন টা আজ ভীষন খারাপ মনে হচ্ছে । কাছে এসেই শিপনকে জরিয়ে ধরে । কেদে কেদে বলে
নীল তরন্নিতা ঃ আজই হয়তো আমাদের শেষ দেখা , কাল থেকে আমাদের আর দেখা হবে না চলে । মানুষের কাছে আসার অপরাধে আমাকে রাজ্জ্য থেকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে । আজ শেষ প্রহর থেকে আমি ১টা নিল পাথর হয়ে থাকবো সারা জীবন । আর হা আমি আমার দাদিমা বলেছে আমাকে চট্রগ্রামের ফয়েজলেকের পাতালপুর রাখা হবে ।
শিপন ঃ তাহলে তোমার মুক্তির উপায় কি ? আমি কিভাবে তোমাকে পাব ?
নীল তরন্নিতা ঃ হ্যা মুক্তির উপায় আছে । সিলেট শাহজালাল মাজারে ১টা নীল রঙের কবুতর আছে যেটা প্রতি সাপ্তাহে একবার দেখা দেয় । সেই কবুতরের রক্ত দিয়ে ওই পাথরটাকে গোসল করাতে পারলে আমি মানুষরুপে মুক্তি পাব । আর আমাকে পাহারা দিবে ২টা গোখরা সাপ । ওই সাপ অনেক বিসাক্ত । সাপ মারতে হলে বেলাডোনা নামের বিষাক্ত ফুলের রস লাগবে । ওই ফুল ওদের গায়ের উপর ছুরে মারলে ওরা ন্সতেজ হয়ে পরবে । তারপর মাঝখানে যেই শাপলা ফুল থাকবে ঠিক সেই খানে ১ ডুবে দিয়ে আমার পাথরটা খুজে পাবে ।
এই হয় শিপন আর নীল তরন্নিতা পড়ীর শেষ কথা । তারপর পর থেকে শিপন খুজে ফিরে কোথায় যাবে , কিভাবে সে তার নীল তরন্নিতাকে মুক্ত করবে । অনলাইন থেকে খুজে পায় বেলাডোনা ফুলের ঠিকানা । সিলেটে গেলে শিপন ফুল আর কবুতর ২টায় পাবে । তাই সিলেটে সে তার সাগর ভাইকে ফোন দিয়ে চলে যায় । ফুলটা এক চাবাগান এর এক মন্দির আছে সেখানে আছে । ফুলটা আনতে গেলে অই মন্দিরের পুরোহিত বাধা দেই , শিপন তাকে সব খুলে বলে তারপর ও দেই না সে । কিছুখন শিপন আর পুরোহিত একা কথা বলে । চলে আসে এইখান থেকে ।
পরপর ৬ দিন সারা দিনরাত বসে থেকে ওই নীল কবুতর খুজে পায় এবং অনেক কষ্ট করে ধরে ।
ওইদিন ই রাতে মন্দির থেকে ফুলটা চুরি করে চট্রগ্রাম রওনা দেই । ফোনে আগেই শাহরিয়ার কে শিপন বলে যে সে আসতছে । পরের দিন বেকেল শিপন চট্রগ্রাম আসে । শাহরিয়ার দের বাসায় খেয়ে দেয়ে ওকে সব খুলে বলে । সন্ধার পর তারা বের হয় ফয়েজলেকের উদ্দেশ্যে । রাত ৮টার পর গারড কে ৫০০ টাকা দিয়ে ঢুকে । শাহরিয়ার শিপন কে জায়গা টা চিনিয়ে দিয়ে চলে যায় । শিপন একটু এগুনোর পর ই সেই সাপ ২টা তাকে আক্রমন করে । শিপন পিছনে ফিরে ব্যগ থেকে ফুল বের করে ছুরে মারে ,তারপর সাপগুলো নিস্তেজ হয়ে পরে । ব্যগ টা লেকের পাসে রেখে শাপলা ফুলের কাছে সাতরিয়ে যায় । ডুব দেই কিন্তু পায় না সেই নীল পাথর টা , পরের বার ডুব দিয়ে পাথর টা খুজে পায় এবং উপরে এসে ব্যাগ থেকে কবুতরের রক্ত রাখা বোতলটা বের করে পাথর টাকে গোসল করে … তারপর পাথর থেকে নিলাভ আলো বের হতে থাকে । কিছুখন পর পাথরটা নীল তরন্নিতা সেই পড়ীর রুপে পরিনত হয় , নীল তরন্নিতা শিপনকে জরিয়ে ধরে । শিপন কোন কথা বলে না , ধিরে ধিরে শিপন মাটিতে লুটিয়ে পরে । আর কথা বলে না সে । ২ ডুবে পাথর ঊঠানোর কারোনে সে মানূষ না হয়ে পড়িই রয়ে যায় । আর শিপনের সাথে সেই পুরোহিত এই কথা বলেছিল যে এই বেলাডোলা ফুল যে ধরবে সে ৪০ ঘ্নটার পর যে কোন সময় মারা যাবে । তাই শিপন ইচ্ছে করে ২ বার ডুব দিয়ে পাথরটা ঊঠিয়ে নীল তরন্নিতা কে তার আগের জীবন ফিরিয়ে দেই ।
নীল তরন্নিতা কাদতে কাদতে গরিয়ে পরে । পরেরদিন শাহরিয়ার এসে শিপনের লাশ উদ্ধার করে । আর নীল তরন্নিতা থেকে যায় সেই ফয়েজ লেকে । মাঝে মাঝে লোকেরা রাতে এখনো নীল তরন্নিতা পড়ীকে দেখতে পায় এবং তার কান্নার শব্দ ও পাওয়া যায় …।

কলংকপুর

কলংকপুর
লেখা ঃ প্রে তা ত্তা

রাত ১টার কিছু বেশি বাজে । এই সময় হিমেলের ফোন বেজে উঠে ।

হিমেল ঃ কিরে লুসার ? কি হইলো এতো রাতে ?

দুপুর ঃ দোস্ত কি করিসরে ?

হিমেল ঃ চ্যাটিং করি । ঘুম আসছে না ।

দুপুর ঃ ১টা কাজ কর , পান্থপথ আয় । পুরান ঢাকার বিরিয়ানি খেয়ে আসি ।

হিমেল ঃ তুই ৫মিনিট ওয়েট কর আমি ১০ মিনিটের ভিতর বাইকটা টান দিয়ে আসতেছি ।

এরপর হিমেল দুপুরের কথা মত  বাইক নিয়ে চলে আসে কাজিপারা থেকে পান্থপথ । তারপর ২জন বের হয় পুরান ঢাকার উদ্দেশ্যে । কিন্তু শাহবাগ  বারডেম হাসপাতালের সামনে আসার পরই দুপুর গাড়ী থামিয়ে বলে চল ভিতরে । হাসপাতালের কান্টিনে যায় । সেখানে দুপুর আইসক্রিম খুজে , কিন্তু আজ সেখানে আইসক্রিম নাই । শেষ হয়ে গেছে । হিমেল দুপুর কে বলে

হিমেল ঃ সালা তুই আমাকে এতো রাতে মিথ্যে বলে আইসক্রিম খেতে এসেছিস ?

দুপুর ঃ দূরে গিয়ে মর তুই । তুই ১টা কুফা । তোর জন্ন্য নাই । আর আমি না , পেত্নী(রোদেলা) খেতে চাইছে । তাই এতো রাতে আসছি ।

হিমেল ঃ ছাগল ১টা । চল আমার সাথে ।

দুপুর ঃ কোথায় ?

হিমেল ঃ তোমার শশুরবাড়ী , আইসক্রিম আনতে ।

এরপর দুপুর হেসে হিমেলের পিছে চরে ওরা মিরপুর যায় । সেখানে হিমেলের এক পরিচিত দোকানদারের ঘুম ভাঙ্গিয়ে আইসক্রিম নিয়ে উত্তরা রওনা দেয় । রোদেলা উত্তরা থাকে । দোতালা বাসার সামনে গিয়ে দুপুর রোদেলা কে ফোন দেয় । রোদেলা নিচে এসে আইসক্রিম নিয়ে যায় আর সান্তনা পুরস্কার হিসেবে দুপুর রোদেলার মিষ্টি ঠোটের ছোয়া পায় । আদান-প্রদান পর্ব শেষ করে বাইকে উঠে। বাইক চলছে ।  হিমেল দুপুর কে

হিমেল ঃ মামা । এয়ারপোর্টের রাস্তাটা না ভালো না ।

দুপুর ঃ রাস্তা ভালো না মানে ? একদম ক্লিয়ার রাস্তা , কোথাও ভাঙ্গাচুরা নাই ।

হিমেল ঃ না মামা । আমি বলতে চাচ্ছি রাস্তাটা ভয়ানক । মাঝে মাঝে ভুতেড়া আক্রমন করে ।

দুপুর ঃ ভিতুর ডীম কোথাকার । আর আমি আছি তো । আমার মত ১টা ভুত বিষেশজ্ঞ থাওতে এতো কিসের টেনশন ?

এর পর গাড়ী চলতে থাকে । এয়ারপোর্ট পার হয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে এসেছে । তখন হিমেল বলে

হিমেল ঃ মামা সামনে দেখ ১টা বিড়াল । কি করবো ?

দুপুর ঃ বিড়াল তো রাস্তায় থাকতেই পারে । পাস কেটে যা ।

হিমেল বিড়ালটাকে পাস কেটে যেতে চায় কিন্তু পারে না বিড়াল টা সামনে এসে যেন বাইকের সামনে এসেই পরে । থেতলে যায় বিড়াল । ভয় পেয়ে যায় দুপুর আর হিমেল । কিছুখন ঐখানে থেমে সিগারেট খেয়ে আবার রওনা হয় । বনানীর কাছাকাছি চলে এসেছে  তখন দুপুরের ফোনে রাব্বির ফোন , ফোন করে সে বলল যে তার গ্রামে ১টা ভুতুরে সমস্য হচ্ছে । ছোটখাট কিছু না , বড় আর  ভয়ানক ব্যাপার । কয়েকজন উধাও আর সাথে কিছু লাশ । দুপুর রাব্বী কে বলে যে তারা তার গ্রাম কলংপুরে যাবে । রাব্বী বলে তাহলে আজই ভোড় ৬টায় যেতে হবে । সে রবিন , আসিফ আর তাহমিনাকে আসতে বলে দিচ্ছে । দুপুর হিমেলকে কথা টা বললে হিমেল ও যেতে রাজি হয় । তার কিছুখন পরই মাহাখালী ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর আবার সামনে সেই বিড়াল । এবার তার শরীর বেয় রক্ত ঝরছে , চাদের আলোয় সেটা স্পষ্ট দেখা যাছে । তার চোখ দুটো হিংস্রশিকারির মত দুপুরদের দিকে তাকিয়ে আছে ।

দুপুর ঃ মামা । তুই এই বিড়ালটাকে আবার পিষিয়ে দে । আর গাড়ী থামাবি না ।

হিমেল ঃ ঠীক আছে বন্ধু ।

এবার বিড়ালটা কিন্তু সরে যায় । তারপর হিমেল আর দুপুর হিমেলের বাসায় গিয়ে একটু রেষ্ট নিয়ে বাইক রেখে ৫.৩০ এর দিকে কল্যানপুর বাস স্ট্যান্ডে আসে । সেখানে আগেই চলে এসেছে রবিন, আসিফ , আর রানা । রানা সব শুনে যেতে চেয়েছে । কিছুখন পর রাব্বি সাথী কে নিয়ে আসে । সাথীর বাড়ীও কলংকপুর । সাথী রাব্বীর প্রেমিকা ।

৬টায় বাস ছারে । রাস্তায় কিছু প্রবলেম হয় তাই পৌছাতে একটু সময় লাগে । বিকেল ৪টার দিক পৌছে । বাস থেকে নেমে ওরা সবাই অবাক হয় । কারন কেমন জানি খুব নীরব নীরব লাগছে । মনে হচ্ছে এটা পৃথিবীর বাইরে কোথাও । এমন কি রাব্বী আর সাথীও যেন চিন্তে পারছে না । ওরা গ্রামের ভিতর ঢুকে । ঢোকা মাত্রই ১টা বিড়াল এসে সামনে পরে চিৎকার করতে থাকে , তারপর আবার উঠে চলে যায় ।

হিমেল ঃ দুপুর , রাতে আমরা এই বিড়ালটাকে দেখলাম না ?

আসিফ ঃ মানে ?

দুপুর ঃ আরে কিছু না । চল সামনে চল ।

এরপর ওরা রাব্বির বাসায় যায় । ছেলে এসেছে দেখে মায়ের খুশি হয়ার কথা , কিন্তু ঘটনা ঘটলো উলটো । রাব্বির মা রাব্বিকে দেখে রেগে গেলেন । বললেন ঢাকা ফিরে যেতে । কারন টা একটু পরেই পরিস্কার হলো ।

এইগ্রামটা বদ প্রেতাত্তারা দখল করেছে । আর তারা গ্রামের যুবক ছেলেদের নিয়ে মেরে ফেলছে মাথা কেটে নিয়ে পূজো দিচ্ছে প্রেতাত্তাদের দেবতার কাছে । এখনও পুরো গ্রাম দখল করতে পারে নি । আরো লাশ চায় তারা । তারপর হয়তো তারা এই গ্রাম দখল করে ফেলবে । তারপর আবার পরের গ্রাম ধরবে । একসময় হয়তো পুরো বিশ্ব দখল করতে চাইবে । বেপার গুলো গ্রামের প্রতিটা মানুষকে দুর্বল করে ফেলেছে । তাই রাব্বীর মা চায় রাব্বী ফিরে যাক । অনেক কষ্টে তাকে আগামিকাল প্রজন্ত রাজি করানো হয় । সন্ধ্যা হওয়ার পর সবাই যার যার ঘরে ঢূকে পরে । দুপুর কোন রকমে রানা আর হিমেল কে নিয়ে বের হয় । প্রথমে তারা মসজিদে গিয়ে নামাজ পরে ।  নামাজে যাওয়ার আগে কারা যেন ওদের পিছু নিচ্ছিলো , কিন্তু মসজিদে ঢোকার পর থেকে তাদের আর কোন সারা শব্দ নেই । তারমানে মসজিদ সেফজোন । আর হবেই না , এটাতো মহান আল্লাহর ঘর ।

নামাজের পর বাজারে যায় । কিন্তু বাজারের প্রায় সব দোকান বন্ধ । কিছুখন হেটে ফিরে আসার সময় দেখে যে ১টা দোকান খোলা , তবে এখনই বন্ধ করছে । কাছে গিয়ে ওরা তার কাছে সিগারেট চায় । দোকানদার বলে

দোকানদার ঃ আপনারা কি এই গ্রামে নতুন আসছেন ?শুনেন নাই কিছু ?

আসিফ ঃ জি মামা , আমরা নতুন ।

দুপুর ঃ না , আমরা তো কিছু শুনি নাই । বলেন তো ।

দোকানদার ঃ এই গ্রাম দখল করছে প্রেতাত্তারা । এখনই বাসায় জান তা নইলে রক্ষে নাই ।

বলেই দোকানদার জোরে হেটে হেটে চলে যাচ্ছে । আর এমন সময় কোথায় থেকে যেন ১টা বড় ছায়া এসে তার উপর পড়লো আর সে মাটিতে লটিয়ে পরে ।

দুপুর ঃ তারাতারি সিগারেট ধরা , তানাহলে বেচে ফিরতে পারবো না ।

হিমেল সাথে সাথে সিগারেট ধরায় । তার কিছুখন পরই চারপাস থেকে ভয়ংকর চিৎকার আর হাসির শব্দ ভেসে আসে , এই শব্দ শুনেই মানুষ মারা যাবে এমন অবস্থা । দুপুর আসিফ আর হিমেলের হাত ধরে দৌরে পালায় , আর পিছে অদৃশ্য কারা যেনো দৌরাছে । হটাৎ কিছু ১টার সাথে হোচট খায় দুপুর পরে যায় ৩জন , সিগারেটের আগুন নিভে যায় । চেয়ে দেখে সেই কালো বিড়াল । পরক্ষনেই দুপুর দেখে কারা যেন আসিফকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে । কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না দুপুর । মাথা খুলে যায় , জোরে জোরে কালেমা পরা শুরু করে । আর প্রেতাত্তা রা আসিফ কে ছেরে দেয় । তারপর হিমেল , আসিফ আর দুপুর ৩জন হাত ধরে কালেমা পরতে পরতে বাসায় ফিরে আসে রাব্বিদের । রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুপুর হোয়াইট সার্কেল একে বসে । সে এখন তার প্রেতাত্তাকে ডাকবে ।

সার্কেলের ভিতর ওরা বসেছে । কিছুখন পর হাজির দুপুরের প্রেতাত্তা । দুপুর ছারা কেউ তাদের দেখতে পায় না , তবে তার কথা শুনতে পায় , তাকে প্রশ্ন করতে পারে ।

প্রেতাতা ঃ কেমন আছো দুপুর ? অনেক দিন পর তোমার ডাক পেলাম ।

দুপুর ঃ কেনো ডেকেছি সেটা নিশ্চয় তুমি জানো । এখন বলো কিভাবে মুক্তি পাবে কলংকপুর ?

প্রেতাত্তা ঃ বিষয়টা খুবই জটিল । অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে তোমাকে আর তোমাদের বন্ধুদের ।

দুপুর ঃ প্রেতাত্তা তুমি কিন্তু জানো যে ঝামেলা আমার ছোটবেলার বন্ধু । এইতো কিছুদিন আগে জেলখেটে এলাম , এটা কি কম ঝামেলার ?

প্রেতাত্তা ঃ শোন । সয়ং অন্ধকার জগতের অপদেবতা এইগ্রাম কে তাদের দখলে নেওয়ার জন্ন্য উঠে পরে লেগেছে ।

রানা ঃ সত্ত্যিই কি তাহলে এইগ্রাম অন্ধকার জগতের হয়ে যাবে ? এখানে বাস করবে খারাপ প্রেতাত্তারা ?

প্রেতাত্তা ঃ আগামীপরশুদিন পুর্নিমারাত । ঐদিন কোন এক কুমারীনারী বলী দিয়ে অতৃপ্ত আত্তাদের সাহায্য চেয়ে এই গ্রামকে নিজেদের করে নিবে ।

রাব্বী ঃ তাহলে উপায় ?

দুপুর ঃ এখন আমরা কি করতে পারি ? উপায় টা বলো

প্রেতাত্তা ঃ তোমাদের ঐ মেয়েটাকে বাচিয়ে ওই পূজো বন্ধ করতে হবে ।

আসিফ ঃ মেয়েটা কে ?

প্রেতাত্তা ঃ সেটা যে কোম কুমারী নারী হতে পারে ।

দুপুর ঃ পুজো বন্ধ করবো কিভাবে ?

প্রেতাত্তা ঃ আমি তোমাকে ১টা নক্শা দিব , সেটা থেকে গ্রামে প্রবিত্র যায়গা গুলো বের করে হোয়াইট ম্যাজিকের ভাষায় পার্থনা লিখে রেখে আসতে হবে । আর ১টা জায়গায় আর ১টা কুমারী নারী দিয়ে হোয়াইট সার্কেল একে ধংষ থেকে মুক্তির পার্থনার ব্যাবস্থা করতে হবে । আর এগুলা করার সময় অনেক ঝামেলাই পরতে হবে তোমাদের ।

দুপুর ঃ হুম । আচ্ছা নকশা টা দাও ।

প্রেতাত্তা ঃ এই নাও । আর বাকীটুকূ তোমার মাথা খাটিয়ে কর । শুভ কামনা তোমার জন্ন্য । বিদায় ।

এরপর প্রেতাত্তা চলে যায় । ওরা সবাই মিলে নকশার দিকে তাকিয়ে থাকে । দুপুর ঠীক করে যে ফাহিম কে ফোন দিয়ে আসতে বলবে ।কারন ফাহিম অসম্ভব ভালো আকাআকি করে , সাথে তাহমিনাকে । তাহমিনা আগেই ওদের সাথে আসার কথা থাকলেও আসতে পারে নাই ।

রাতে ওরা সবাই একসাথে ঘুমায় । মাঝরতে একবার খুব ঝড়ো বাতাস শুরু হয় , সাথে মনে হয় কেউ যেন ওদের বাসার চালে ইট-পাটকেলের বৃষ্টি ঝড়াচ্ছে । সবাই খুব ভয় পেয়ে যায় । ওদের চোখের সামনে ভেষে আসে অনেক প্রেতাত্তা যাদের শরির দিয়ে রক্ত ঝরছে , কারো হাত নেই , কারো মাথা নেই , কারো তো আবার আর্ধেক শরিরই নেই । রাব্বিকে টানা হেচরা করতে থাকে নিয়ে যাওয়ার জন্ন্য কিন্তু পারে না । দুপুর তার ব্যাগ থেকে ১টা হাড় বের করে সামনে ধরলে ওরা পালিয়ে যায় । তারপর ঘুমিয়ে পরে আবার ।

সকালে ঘুম থেকে উঠেছে সবাই । ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করার সময় ওদের চোখে পরলো যে সাথী মিসিং । সবাই মিলে কোথাও খুজে পেলো না সাথীকে । দুপুরের হটাৎ মনে পরলো তার প্রেতাত্তার কথা , সে বলেছিল যে একজন কুমারী বলি দিয়ে অপদেবতা এই কলংকপুরকে কলংকিত করবে । বিকেলেও কোথায় খুজে পেলো না । সন্ধ্যার একটু আগে ফাহিম আর তাহমিনা চলে আসে । দুপুর ফাহিম আর তাহমিনাকে সব বুঝিয়ে বলে । দুপুর আগে থেকেই জাফরানের কালী নিয়ে এসেছে । ঐটা দিয়ে নকশা গুলো একে ফেলে খুব সুন্দর করে । তারপর গ্রামের সব গুরুত্বপূর্ন স্থানে গেরে রেখে আসে । এই স্থানের আসে পাসে প্রেত্তাত্তা রা কিছু করতে পারবে না ততখন যতক্ষন না তারা গ্রাম টা কে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় বলী দিয়ে । ঐদিন রাতের মত আজ ও খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাতে যাবে । তার আগে দুপুর ১টা হোয়াইট সার্কেল একে সেখানে তাহমিনাকে থাকতে দিল ।

রানা আর দুপুর ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে গেলো । বসে গল্প করছে , রানা বললো চল দোস্ত ১টা বিড়ী খেয়ে আসি । দুপুর ও রাজী হয়ে গেল । বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আবার ঘরে ঢূকবে , এমন সময় ২টা পেত্নী আসে । মুখে বিশাল ২টা দাত , চুল গুলো নোংড়া , দুপুরকে আঘাত করে রানা কে নিয়ে যায় । এর পর দুপুর ঘরে এসে দেখে বাকি সবাই ঠীক আছে ।

ভোর হয় । দুপুর , হিমেল আর ফাহিম আলোচনা করে যে আসলে কোথায় অপপ্রেতাত্তারা বলীর পুজা দিতে পারে । কিন্তু কোন কুল কিনারা করতে পারলো না । সারাদিন খুজলো রানাকে , কোথাও পেলো না । সন্ধার পরেই বিষেশ হোয়াইট সার্কেল একে তাহমিনাকে বসিয়ে দিল পার্থনাতে । আর ঐখানে রবিন আর আসিফকে রেখে দুপুর বললো

দুপুর ঃ চল আমরা ওদের পুজো দেখে আসি ।

হিমেল ঃ মানে ? তুই কি জানিস যে কোথায় পূজো হবে ?

দুপুর ঃ ফাহিম তুই কোথায় কোথায় নকশা গুলো পুতে রেখেছিস ?

ফাহিম ঃ প্রায় সব জায়গাটাই কাভার করেছি তুই মূল নকশার  যেখানে যেখানে বলেছিস । কেনো  জিজ্ঞাস করছিস বলতো ?

দুপুর ঃ একটা জায়গা কিন্তু আমরা নকশা দেই নাই । বলতো কোথায় ?

হিমেল ঃ হ্যা । শশানে আমরা কিছু দেই নাই । আর অতৃপ্ত আত্তারা শশানেই থাকে । চল আমরা এখনি যাই ।

দুপুর ঃ হ্যা চল ।

দুপুররা ওইখানে চলে যায় । কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছে না । তবে তারা শিউর যে এখানেই হবে । কারন শশানের চারপাশে ৪টা মানুষের কাটা মাথা রাখা আছে আর কিছু পাঠার মাথা । মাথা গুলো থেকে যেন এখনো রক্ত ঝরছে । রাত প্রায় ১১টার পর অপপ্রেতাত্তা আর অপদেবতা এসে হাজির হয় । রানা আর সাথীকে ও নিয়ে এসেছে । অপদেবতা তার মন্ত্র পাঠ সুরু করে । ১২টার দিক বিশাল এক ছুড়ী দিয়ে সাথীর উপর রাখে , কিছুখন পর ঐটা নিয়ে সাথির গলাবরাবর রেখে চালাতে যাবে আর এই সময় দুপুর সচ্ছ জাদুর মন্ত্র পরে ঝাপিয়ে পরে অপদেবতার উপর আর ফাহিম জাফরানের কালী ছিটিয়ে ধংস করে দেয় অপদেবতার সব পরিকল্পনা । এ যাত্রায় সাথী বেচে গেলেও দুপুর আটকে যায় অপপ্রেতাত্তার হাতে , রানাকে ধাক্কাদিয়ে ফেলে দেই , ও গিয়ে পরে ছূরিটার উপর । পায়ে কিছুটা কেটে যায় । আর দুপুরের গলা চেপে ধরে অপদেবতা । ধিরে ধিরে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে থাকে । দূর থেকে মনে হয় তাহমিনার পার্থনার শব্দ ভেসে আসে । অপদেবতা দুর্বল হয়ে পরে । কিন্তু দুপুরের গলা ছারে না । দুপুরের চার পাশ অন্ধকার হয়ে যায় , নিস্তেজ হয়ে পরে যায় দুপুর ।











দুপুরের জ্ঞ্যান ফিরে হাসপাতালে , পাসে তাকিয়ে দেখে যে পাসের বেডে হিমেল । তারমানে সে বেচে আছে , সে কলংকপুর কে রক্ষা করতে পেরেছে । সেই সময় রাব্বী আসে

রাব্বী ঃ দোস্ত কেমন লাগছে এখন ?

দুপুর ঃ হ্যা , ভালো । কিন্তু আমাকে ঢাকা আনলি কখন ?

রাব্বী ঃ কাল রাতে তুই আর হিমেল বনানী ব্রিজে বাইক এক্সিডেন্ট করে পরেছিলি । একজন নিয়ে এসে তোদের হাসপাতলে ভর্তি করে আর তোর ফোনে লাষ্ট আমার  কল ছিল । ঐটা দেখে উনি আমাকে ফোন করে ।

হিমেল ঃ কিন্তু , কিভাবে ? আমরা তো । ( দুপুর ঈশারাতে হিমেল কে থামতে বলে )

রাব্বী ঃ তোরা সম্ভবত ১টা কালো বিড়ালের উপর দিয়ে বাইক উঠাইদিছিলি । ওইখানে ১টা মৃত বিড়াল পরেছিল ।

দুপুর ঃ রাব্বী তুই কাল রাতে ফোন দিয়ে বলছিলি যে তোর গ্রামে ভয়ানক কি ?

রাব্বি ঃ ওহ , হ্যা । কিছুদিন ধরে গ্রামে ভুত-পেতের উৎপাত বেরে গেছিলো । গ্রামটা সারাখন নীরব আর মেঘাচ্ছন্য হয়ে থাকতো । আর ৬/৭ জনের মত যুবককে মেরে ফেলছে । তবে আজ সকাল থেকে নাকি সব আবার আগের মত ঠিক হয়ে গেছে । আচ্ছা এখন এই কথা বাদ দে তো ।

দুপুর আর হিমেল ২জন ২জনের দিকে তাকিয়ে মুচিকি হাসে । কিছুখন পর ফাহিম দুপুর কে বলে দোস্ত তোর জন্ন্য ১টা খারাপ খবর আছে । এই নে তোর ফোন । এস এম এস গুলো চেক কর ।

দুপুর ফোন নিয়ে এস এম এস এ যায় । এস এন এস টা দেখে চোখ দিয়ে পানি পরে , খুব কষ্ট ও পায় তবে কোন পাগলামী করে না । এস এম এস টা রোদেলা দিয়েছে , এস এম এস টা এমন

“”””” dupur tumi amake ar kokhono fon diba na . kal rat e ammu dekhe felche . tara tmk like kore na . tumi jel khatcho . plz tumi amk ar disturb koiro na . ar fon diye amar kono khoti koiro na . parle smking ta chere dio . valo thaiko . bye “”””””””””””””””””””””””””””””

সমাপ্ত

প্রেতাত্মার লেখা গল্প

প্রেতাত্মার লেখা গল্প

A R Shipon  

তুই আমার রুম থেকে বের হ বিভোড়, তা না হলে তোর খবর আছে। যত্তসব আবুল তাবুল প্যাচাল  নিয়ে তোর আমার কাছেই আসতে হয় ছাগল । যা ভাগ।

বিভোর মাঝে মাঝেই এইভাবে রাইসা কে ডিস্টার্ব করে, রাইসা এইধরনের মজা একদমই পছন্দ করে না। কোথা থেকে হটাৎ এসে ভয় দেখানো। আচ্ছা এটা কি ঠিক? তাই তো এইভাবে বকাবকি করে রাইসা বিভোরকে।

বিভোর মুচকি হাসে, আর কিছু বলে না। সে চুপ করে লাইট বন্ধ করে দিয়ে বারান্দায় চলে যায়। বারান্দার দেয়াল ঘেসে বসে থাকে সে। বাইরে আকাশে চাঁদ নেই, ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু রাস্তায় হলুদ বাতি জ্বলছে। এখন আর নিয়ন বাতি নেই। এখন ঢাকার রাস্তাগুলো আরও আলোকিত দেখায় কিন্তু বিভোরের মনে হয় এই ফ্লুরোসেন্টের বাতির আলোয় কি যেন নেই। নিয়নের মাঝে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য ছিল যা ফ্লুরোসেন্টে পাওয়া যায় না। “আচ্ছা রাইসা কি ফ্লুরোসেন্ট হয়ে গেছে আর আমি নিয়ন হয়েই পরে আছি, সেই পুরাতন?” নাহ এখন এসব ভাবার সময় নেই। বিভোর দেয়ালে পিঠ রেখে বসে থাকে। একটা দুইটা রিক্সা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে পাহারাদারের বাশীর শব্দ বেজে উঠে, দূরে কোথাও দুই একটা কুকুর জোরে ডেকে উঠছে। হয়তো কোন এক অনাকাঙ্ক্ষিত আগন্তুককে দেখে চিৎকার করছে কুকুরগুলো।

লিমন প্রায় দিনের মত  আজ আবারও বাইরে বের হয়েছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার বাইরে। এই অন্ধকার রাত তার খুব পছন্দ। সবাই যখন ঘুমিয়ে পরে সে তখন সিগারেটের প্যাকেট আর ক্যামেরাটা  নিয়ে বের হয়। লিমন নিজের কোন ফটোশটের জন্য নয়,  হয়তো কোন নিঃস্ব বৃদ্ধের পাশে অথবা অসহায় এক ছোট্ট শিশুর পাশে গিয়ে ছবি তুলে আর আসার সময় হাতে কিছু টাকা  দিয়ে চলে আসে। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে সে শুধুমাত্র রাতেরাধারে ঘোরাঘুরি করে আর কোন এক বিশেষ একজনকে খুজে ফিরে, যার সে ছবি তুলবে। অচেনা অজানা কাউকে। যাকে না পেয়ে আজও এই অন্ধকার রাস্তায় একা একা হেঁটে বেড়ায়।

দিনগুলো পালটে গেছে মানুশ আর আগের মত নেই, সবাই কেমন যেন হিংস্র হয়ে গেছে। যে যাকে পারছে তেমন করে মারছে। সরকারি দল নির্বিচারে বিরোধিমত মারছে। কি হবে দেশটার?  নিজের সাথে নিজেই কথা বলতে থাকে লিমন। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা রাস্তা পার হয়ে সরু একটা গলি দিয়ে বের হতেই একটা বড় রাস্তায় এসে পরল লিমন।

“দুই পয়সা আয় করনের মুরদ নাই, ঘরে বইসা খালি বাপ-মায়ের মাথা গিলস। কুত্তার বাচ্চারে কইলাম একটা গ্যারেজে যা, কাম কর। না, নবাবের ব্যাটা হইছে। ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুইল্যা খাইব। তোর বাপের নবাবী পাইছস। বাপ- দাদায় তো খানদানি সম্পত্তি রাইখ্যা গেছে। সবাই মরে আমি মরি না ক্যা। এই আজাতরে কোন পাপে যে জন্ম দিছিলাম কে জানে? তোর বাপের মত লম্পটই তো হবি আর কি হবি। বান্দী পাইছিল আমারে। বিয়া কইরা রাইখ্যা পালায় গেছে গা, আর রাইখ্যা গেছে তোর মত কুলাঙ্গাররে। এত কষ্ট কইরা ভাবলাম তোরে কিছু কাম শিখামু, টাকাও জমাইলাম কিন্তু তুই সব টাকা দিয়া জুয়া খেললি, মদ খাইলি। আরেহ কুত্তার বাচ্চা টাকা দেখছস জীবনে। এক টাকা কামাই করার মুরোদ আছে!…..

“ ঐ কত ট্যাকা লাগবো তোর?”, কামরুল ঠান্ডা মাথায় কথা বলে।
“এ্যাহ নবাবে ব্যাটার ঢং দেখো ……”
“আমি জিগাইছি, কত লাগবো তোর?”
“তুই ট্যাকা কই থেইক্কা পাবি?”
“তোর হেডি দিয়া কি কাম? কত লাগব?”
“৫০০ ট্যাকা আইনা দে। বাসায় বাজার নাই।”
“আইচ্ছা চুপ কইরা বইয়া থাক। নড়বি না। আর মুখ দিয়া একডা কথা বাইর যাতে না হয়।”

কামরুলের মা চুপ করে বসে থাকে। চোখ দিয়ে পানি পরতেছে তার। ছেলেটা তার খারাপ না। মদ জুয়া সে ছুঁয়েও দেখে না। কিন্তু ছেলেটা বেকার। অনেক চেষ্টা করেও কাজ খুঁজে পায় নি। ছোট বেলা থেকে মানুষের সাথে মিশতে পারে না। “মনু হারামি”র ছেলে শোনার ভয়ে বাইরে বের হত না। হালিমা মানুষের গালি, মাইর খেয়ে যা আয় করার করে টুকটাক নিয়ে আসত। কিন্তু কামরুল খুপরি থেকে বের হত না। কখনও ভুল করে বেড়িয়ে পরলে লিটন, ওপুরা তাকে ক্ষেপাত, আর সে প্রতিবাদ করলে সবাই মিলে তাকে পেটাত। কামরুল তাই আর কোনদিন দিনের বেলা খুপরির বাইরে বের হয় নি। আর তাই চাকরি কিংবা কাজ করার যোগ্যতাও তার হয় নি। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কামরুল কিভাবে যেন সকালে দেখতে পায় না ভালো করে, ঝাপসা দেখে কিন্তু রাতে ঠিকই সব কিছু তার কাছে পরিষ্কার। যত বেশি অন্ধকার তত তীক্ষ্ণ তার দৃষ্টি। আর তাই এখন যা করার সে রাতের বেলাই করে….

লিমন রাস্তা ধরে হাটছে । একা একা , রাস্তাটা একটু ফাকাই বটে । কিছুদুর হাটার পর হটাৎ মনে হলো কে জেনো তার পিছু পিছু হাটছে । পিছে ফিরে দেখে কেউ নেই, তবে কেউ আছে সেটা লিমন অনুভব করতে পারছে। আবার হাটা দেয়। কাঁধে হাত রাখে আগত্বক, লিমন পিছু না ফিরে সে তার নিজের হাত দিয়ে কাঁধে রাখা হাতটা স্পর্স করে। হাত টা খুব শিতল, লোম গুলো খুব বড় বড়। এবার সে পিছে তাকায়, এবারো কিছু দেখা গেলো না । একটু ভয়ই পেয়ে গেলো বোধহয় ছেলেটা । আবার এগুলো, পকেট থেকে ১টা সিগারেট বের করে ধরালো। এবার সেই আগের অনুভব টা নাই, পিছনে আর কেউ নেই।

বিভোর বসে আছে বারান্দায়। আর ভাবছে, রাইসা কি কখনো আমাকে বুঝবে না? কখনই কি আমাকে ভালোবাসবে না?

রাইসা বিভোরের ফ্রেন্ড । ফেসবুক থেকে পরিচয় । রাইসা বিভোরের চেয়ে কিছুদিনের বড় । ৮মাস হয় ও ওর বয়ফ্রেন্ড কে খুজে পাচ্ছে না। বিভোর জানে না কি হয়েছিল, রাইসা এই ব্যাপারে ওকে আর কিছুই বলে নাই। আর একটা বিষয় জানে, সেটা হলো রাইসার সাথে প্যারানরমাল কিছু ১টা হয়েছিল। তারপর থেকে রাইসা বিভোরদের বাসায় থাকে মাঝে মাঝে।

লিমনের হাতের সিগারেট শেষ। তার কিছুখন পর আবার মনে হলো পিছু কেউ হাটছে। এবার সুধু হাটাই না। পিছন থেকে ঢিল ছুরছে। এমা লাং দিয়ে ফেলে দিলো, পরে গেলো লিমন । মনে হচ্ছে কয়েকজন ওরা। লিমন কে এলোপাথারি মারছে কিন্তু সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। মার খেয়ে অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা প্রায়, এমন সময় দূর থেকে ১টা সাদা থ্রিপিস পরা ১টা মেয়ে ছুটে আসে লিমনের দিকে, এসে জরিয়ে ধরে লিমনকে। লিমন অবাক হয়ে যায় , এখন আর সে আঘাত পাচ্ছে না। মেয়ে টা লিমন কে ছেড়ে দেয়। তারপর সামনের দিকে হেটে যেতে থাকে।

লিমন কিছুখন চুপ করে দাড়িয়ে থেকে মেয়েটার দিকে দৌড় দেয়

লিমন ঃ শুনুন আপনি ।

আগুত্তক মেয়ে ঃ জি ।

লিমন ঃ আপনি কে ?

আগুত্তক মেয়ে ঃ আপনি এতো রাতে বাইরে কি করেন? এতো রাতে বাইরে থাকা ভালো না।

লিমন ঃ আমি প্রায় রাতেই বের হই। এখান দিয়ে প্রায় হাটাহাটি করি।

আগুত্তক মেয়ে ঃ হ্যা আমি আপনাকে আগেও দেখিছি। তবে আজ রাত টা ভালো না।

লিমন ঃ আজ রাতে কি ? আর আপনি কে ?

আগুত্তক মেয়ে ঃ আজ পূর্ন পূর্নিমার রাত। এই রাতে ভূত প্রেতের উৎপাত বেশি থাকে।

লিমন ঃ ধুর কি যে বলেন । ভুত প্রেত বলতে কিছু আছে নাকি?

আগুত্তক মেয়ে ঃ তাহলে যারা আপনাকে মারছিলো তারা কারা? আর আমিই বা কে?

লিমন ঃ হ্যা তাই তো, ওরা কারা ছিলো আর কেনোই বা আমাকে মারছিলো?

আগুত্তক মেয়ে ঃ ওদের পাস দিয়ে হাটার সময় ধাক্কা দিয়েছিলা । তাই খেপে গিয়েছিল।

লিমন ঃ তুমি কে?

আগুত্তক মেয়ে ঃ আমি মুমু। আমিও ভুত, মানে আত্তা, অতৃপ্ত আত্তা। কিছুদিন আগে আমাকে মেরে ফেলেছে।

লিমন ঃ কি? কেন তোমাকে মেরেছে? কে মেরেছে?

আগুত্তক মেয়ে ঃ ফ্রেন্ড এর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে রাতে বাসায় ফিরছিলাম। হটাৎ কোথা থেকে এক ছেলে এসে আমার গলায় গয়নায় হাত দিয়ে টান দেয়। আমি বাধা দিলে আমার গলায় ছুরি দিয়ে রগ কেটে ফেলে। আর আমি মারা যাই। তারপর থেকে আমি এখানে …………

লিমন ঃ ছিনতাই কারি ছিল মনে হয়। আচ্ছা মরলে কি সব মানুশ ভুত হয়?

আগুত্তক মেয়ে ঃ আরে না। যাদের ধর্মীয়ভাবে শেষকৃত্য হয় না, অপমৃত্য এই সব আত্তাই ভুত হয়।

লিমন ঃ আচ্ছা তুমি খুব সুন্দরী ছিলে তাই না?

আগুত্তক মেয়ে ঃ কেন, এখন কি আমি সুন্দরী নেই?

লিমন ঃ এখন ও সুন্দরী। তবে জামা কাপর গুলো নোংরা। একটু পরিস্কার জামার আর চুল গুলো বাধলেই তোমাকে পরীর মত লাগবে।

আগুত্তক মেয়ে ঃ সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় থাকি, সুতরাং জামাকাপর ময়লা হবেই। আর হা আমি দেখতে পরীর মত, রাজপুত্রের মত ১টা ছেলে ভুত পেলেই পরীর দেশে গিয়ে হাজির হবো।

লিমন ঃ হা হা হা। মজা করো?

আগুত্তক মেয়ে ঃ মোটেও না। আমি সত্যি বলছি। সারাজিবন কি আর সবাই ভুত থাকে। যারা ভালো ভুত তারা জ্বীন-পরীদের দেশ কলংকপুরে যেতে পারে।

কথা বলার এই পর্যায়ে মসজিদ থেকে আজান ভেষে আসে, আর উধাও হয়ে যায় মুমু । লিমন কিছুখন খোজাখুজির পর বাসায় ফিরে আসে । ফ্রেস হয়ে ঘুম দেয় ।

বিভোর নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পরে বারান্দায়। রাইসা বারান্দায় এসে দেখে বিভোর ঘুমে। রাইসা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে, কেন এই ছেলেটা আমাকে এত ভালোবাসে? কেন আমাকে সব সময় হাসিখুশি রাখতে চায়? ও তো জানে ওভিকে আমি ভালোবাসি, তারপরোও কেনো? রাইসা বিভোরে কপালে আলতো করে ১টা চুপু দেয়। তারপর ওকে জাগিয়ে তুলে ওর রুমে পাঠিয়ে দেয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভোরদের বাসা থেকে বের হয়ে যায় রাইসা কাউকে কিছু না বলে। রাইসা আগেও এমন করেছে কয়েকবার। তাই বিভোর আর তেমন কিছু না ভেবে নাস্তা সেরে কলেজে চলে যায়।

ঘুম থেকে উঠে লিমনের কেমন জেনো লাগছে। মুমু মেয়েটার কথা মনে পরছে , তার জন্য খারাপ ও লাগছে। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে এতো সুন্দর ১টা মেয়ে ভুত জয়ে গেল। যদি সে বেচে থাকতো তাহলে হয়তো খুব সুন্দর ১টা সংসার থাকতো তার। কোন অভাগা যে এই সুন্দর মেয়েটা কে মেরেছে সে আল্লাহই ভালো জানে।

নাস্তা করে বেরিয়ে পরে লিমন, সারাটা দিন খুবই বাজে কেটেছে লিমনের। সুধু মুমুর কথা মনে পরছে। কেন জানি তার মনে হচ্ছে মুমুর সাথে কথা বলতে পারলে ভালো লাগতো তার।

আজ রাতেও লিমন বের হলো, সাথে ক্যামেরা নিয়ে। আচ্ছা মুমু কি আমাকে ছবি তুলতে দিবে? তার সাথে বসে কি আজও মুমু কিছুক্ষন গল্প করবে ?

রাস্তা দিয়ে হাটছে লিমন। তবে আজ আর কারো ছবি তুলছে না। তার ২চোখ আজও কাকে জেঁনো খুজছে, তবে আগের খোজা টা ছিল অন্য রকম আর আজকের খোজা টা কোন একজন নিদ্রিষ্ট ব্যক্তি কে সেটা বুঝা যাচ্ছে।

বিভোর রাইসার বাসায় গিয়ে দেখে রাইসা বাসায় ফেরেনি । রাইসার ২/৩টা ফ্রেণ্ডের বাসায় গিয়েও রাইসা কে পাওয়া গেলো না। কোথাও না পেয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে এলো বিভোর। বাসাইয় ঢুকে দেখে রাইসা চলে এসেছে। বিভোর রাইসার কাছে গিয়ে জোরে থাপ্পর দিয়ে কিছুক্ষন পর বারান্দায় চলে যায়। রাইসা কাঁদছে, বিভরের চোখেও পানি।

লিমন সারা রাত খোজাখুজি করেও মুমুর দেখা না পেয়ে ফিরে যায় বাসায় । মন টা খুব খারাপ হয়ে আছে। খুব করে কাদতে ইচ্ছে করছে তার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভোর রাইসার ঘুম ভাঙ্গাতে গিয়ে দেখে সম্পুর্ণ বিছানা রক্তে ভেজা। রাইসা হাত কেঁটেছে আর সেই রক্ত। বিভোর চিৎকার করে, বাসার সবাই এসে রাইসা কি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে রাইসা তার আগেই সকলের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে।

বিভোর ব্যাপাটা মেনে নিতে পারে না। ও যদি থাপ্পরটা না দিত তাহলে হয়তো রাইসা আজ বেঁচে থাকত। বিভোর এরপর নিজেকে শেষ করার প্রায় সব অপচেষ্টা করে। সে এখন একজন এডিকটেড।

কামরুল সারাদিন বাসায় থাকে আর রাতে বের হয়। সে রাতে কাজ করে, ভালো টাকাই ইনকাম করে। কি করে সেটা কেউ জানে না। শান্তশিষ্ট ছেলেটার পিছে দিনের বেলায় সবাই লেগে থাকে।

বিভোরের সাথে লিমনের কথা হয় । ও বলা হয় নাই । লিমন আর বিভোর জানের জিগার দোস্ত । রাইসা মারা যাবার পর লিমন বিভোরের কাছে আসে তার সঙ্গ দেওয়ার জন্য। লিমন বিভোরকে মুমুর কথা বলে। বলে মুমুর পরীর দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা । লিমন বিভোরের সাথে কথা বলে চলে আসে। বাসায় ফেরার একটু পরেই শুনে বিভোর সুইসাইড করছে। ঠিক যেভাবে রাইসা নিজেকে শেষ করেছিল বিভোরও সেই একইভাবে নিজেকে শেষ করে চলে গেলো রাইসার কাছে ।

বিভোরের মৃত্যর কথা শুনে লিমন খুব ভেঙ্গে পরেছে। দাফন কাফন শেষ করে লিমন বাসায় না গিয়ে মুমুকে দেখার উদ্দেশ্যে রাস্তায় হাটতে থাকে । একসময় মুমু পিছন থেকে এসে লিমন কে ডাক দেই।

মুমু ঃ তোমার মন খুব খারাপ তাই না?

লিমন ঃ হ্যা। আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ টি আজ চলে গেলো আমাকে ছেড়ে।

মুমু ঃ বিভোর ভালো আছে। ও এখন ওর রাইসার কাছে আছে। ওড়া পরীর দেশ কলংকপুর চলে যাবে। আর দেখো,আমার পোড়া কপাল!

লিমন ঃ সত্যি বলছো তুমি?

কথা বলার একপর্যায় পিছন থেকে ১টা ছেলে লিমনের গলায় ছুড়ি ধরে বলে

ছিনতাইকারি ঃ যা আছে দিয়ে দেন। নাইলে মাইরালাম।

লিমন ঃ অই কে তুমি? ছারো আমাকে, কেটে যাবে গলা, ছারো।

ছিনতাইকারি ঃ যা আছে দিয়া দে, ছাইরা দিমু।

মুমু ঃ (মুমু কে ছিনতাইকারি দেখতে পাচ্ছে না) লিমন ওকে ছেরো না, ও আমাকে মেরে ফেলছে। ওর জন্য আমি আজ এইখানে, ওকে ছাইরো না।

লিমন ঃ কি বলছো তুমি এইসব ?ও তোমাকে....

ছিনতাইকারি ঃ ঐ বেটা তুই কার সাথে কথা কস? মজা লস আমার সাথে?

এরপর লিমন কৌশলে ছিনতাইকারি কে নিজের কবলে নিয়ে এসে কাবু করে ফেলে

লিমন ঃ তোর নাম কি? কেন তুই রাইসা কে মারছিস?

ছিনতাইকারি ঃ ভাই ছাইরা দেন আমারে, আমি গরিব মানুষ । আমি কামরুল, বস্তিতে থাকি। ছাইরা দেন ভাই
মুমু ঃ লিমন তুমি ওকে ছাইরো না প্লিজ, ওকে মারো।

লিমন ঃ কামরুল তোকে আমি ১টা শর্তে ছারতে পারি । যদি তুই আমার কথা শুনিস।

ছিনতাইকারি ঃ আমি সব শুনুম ভাই । কন আমারে।

লিমন ঃ ১টা মেয়ের গলার চেন নেওয়ার সময় ঐ মেয়েটাকে যেভাবে মারছিলি আমাকেও সেভাবে মার। আর আমার কাছে দামি মোবাইল, টাকা আছে এগুলো সব তোর।

মুমু ঃ এই কি বলছো তুমি ? পাগল হয়ে গেছো নাকি? পাগলামি করে না প্লিজ ? (কেদে কেদে বলে মুমু)

লিমন ঃ আমি তোমার পাগল হয়ে গেছি, আমি তোমার কাছে আসতেছি । তোমাকে নিয়ে যাবো তোমার পড়ির দেশ কলংকপুর ।

কামরুল লিমনকে মেরে সব নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুখন পর লিমনের আত্তা তার লাশ থেকে বের হয়। রাইসা এসে জরিয়ে ধরে কেঁদে দেয়। চলে যায় ওরা কলংকপুরে । সেখানে গিয়ে দেখা হয় বিভোর আর রাইসার সাথে । আরো বেশি অবাক হয় একজন কে দেখে কে সে জানেন কলুংকপুরের রাজা আর রানি কে দেখে । রাজা কে সবাই প্রেতাত্তা আর রানি কে পেত্নি বলে ডাকে । আরা এই ২জন লিমন আর বিভোরের অনেক কাছের মানুশ । পেত্নী হলো রোদেলা , আর প্রেতাত্তা কে সেটা আপনারা সবাই জানেন।  আমিই রাজা এতখন আপনারা আমার সাথেই ছিলেন, আমিই সেই  দুপুর। আপনাদের সবাই কে আমন্ত্রন আমার কলঙ্কপুরে। ভালো থাকবেন।

(গল্পটি পুরোটাই আমার কল্পনা, বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই।)