শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

স্পর্শ ( ফালতু রোমান্টিক গল্প )





স্পর্শ
ফালতু রোমান্টিক গল্প।
(পড়ে সবাই সময় নষ্ট করবেন না প্লিজ)
লেখা : Md Asadur Rahman - Shipon

রোদের সাথে লুকোচুরি। পগলা ঘুরি, হাওয়ায় উরি। এমনি নাকি হয় শুনেছি। ভালোবাসলে পরে।
মিরাজ : কিরে মামা, প্রেমে পরলি নাকি?
দুপুর : আমি নারে মামা। সে।
মিরাজ : সে টা কে আবার?
দুপুর : প্যাক প্যাক।
মিরাজ : প্যাক প্যাক? এই ধরনের মানুশের সাথে জগতে একমাত্র তোরই পরিচয় ঘটে।
দুপুর : মেয়েটির নাম রোদেলা। আমি অবশ্য ১টা নাম দিয়েছি তার। হাসের বাচ্চা।
মিরাজ: তো তুই কি এখন এই হাসের বাচ্চা প্যাক প্যাক এর প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : নাহ। আমি না। তার ভাষ্যমতে সে আমার প্রেমে পরেছে। নাহ আমার না, আমার লেখা কবিতার।
মিরাজ : যাক। অবশেষে তাহলে তুই ১টা গার্লফ্রেন্ড পেলি।
দুপুর : আরে না। আমি এই প্রেম টেমের মধ্যে নেই। আর আগামী শুক্রবার মেয়েটির বিয়ে।
হটাত পাশে ঘুমিয়ে থাকা ইউসুফ লাফ দিয়ে উঠে
ইউসুফ : মামা কি বলিস তুই? তুই এখনো ওই মেয়েকে উঠিয়ে আনতে যাস নাই?
মিরাজ: তুই না ঘুমিয়ে ছিলি? প্রতিদিন রান্না করার সময় তুই ঘুমের ভান ধরে থাকিস।
ইউসুফ : মামা থাম না। এখন দুপুরের প্রেম অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতেছি। প্যাচাইস না।
দুপুর : আমি প্রেম ট্রেমের মধ্যে নাই ভাই। মেয়ে মানুশ আর নাগিনী সাপ সমান কথা।
ইউসুফ : মেয়েটা দেখতে কেমন? থাকে কোথায়?
দুপুর : দেখতে খারাপ না। থাকে চিটাগাং।
মিরাজ : বিয়ে কবে?
দুপুর : এইতো শুক্রবার। মানে পরশু।
ইউসুফ : মেয়েটা কি বলে আর তুই কি বলছিস।
দুপুর : এই তো প্রপোস করলো সেদিন। যদিও অনেক আগে থেকে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট আর মাঝে মাঝে লাভ রিয়াকশন দিত। আমি না করে দিছি। এখব সে যাস্ট একবারের জন্য আমাকে সামনে থেকে দেখতে চায়। আগামিকাল নাকি সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।
ইউসুফ : চল মামা উঠ। এখন ৭ টা বাজে। রেডি হয়ে রওনা দেই।
মিরাজ : তাহলে রান্না বন্ধ করে দেই।
দুপুর : মানে কি? কোথায় যাবি তোরা?
মিরাজ : মেয়েটার সাথে দেখা করতে। সে তোকে ভালোবেশে একবারের জন্য দেখা করতে চেয়েছে আএ তুই তার সেই কথাটা রাখবি না?
দুপুর : আমি তো তাকে ভালোবাশি না।
ইউসুফ : তোর ভালোবাসার খ্যাতা পুরি। যাইতে চাইছি যামু।
দুপুর : আমার কাছে কোন টাকা নাই।
মিরাজ : তুই বিয়া করতে যাইতেছিস না যে তোর টাকা লাগিবে, মেয়েটার শেষ ইচ্ছে পুরন করতে যাচ্ছি।
ইউসুফ : মিরপুর থেকে আরিফ আর নজরুল কে নিয়ে জুয়েল এর বাসায় যাবো। জুয়েলের মত বিসনেস ম্যাডনেট থাকতে কেন যে তোরা এতো টাকা পয়সা নিয়ে টেনশন করস বুঝি না আমি।
দুপুর : ওকে। চল তাহলে।
কিছুখনের মধ্যেই মিরপুর সারে ১১ এর বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর ২ থেকে আরিফ আর নজরুল কে উপস্থিত হয় জুয়েল এর বাসায়। দুপুররা জুয়েলের বাসার গেটে এসে দেখে ঝিলু ভাই বাসা থেকে বের হচ্ছে। ওহ ঝিলু ভাই হলো জুয়েলের বড় ভাই।
ঝিলু ভাই চলে গেলেন গ্রামে
তারমানে জুয়েল এখন ঝামেলামুক্ত।
জুয়েল : কিরে তোরা সবাই একসাথে এই রাত ৯ টার দিকে। কোন মতলব আছে নাকি?
আরিফ : দোস্ত দুপুর ওর জিএফ এর সাথে দেখা করতে যাবে।
জুয়েল : ভালো কথা। যাক। আমার এখানে কি?
মিরাজ : ওর জিএফের বিয়ে শুক্রবার। শেষবারের মত দেখা করতে যাচ্ছে। চিটাগাং।
দুপুর : ধুর বাল। সেই সকাল থেকে আমার জিএফ জিএফ মারাইতেছে। আমার কোন জিএফ নাই। তোরা বার বার বলতেছিস। তাই যাচ্ছি।
জুয়েল : দেখতে কেমনরে মামা?
নজরুল : তোর জাইনা লাভ কি চুদনা? যা রেডি হ।
জুয়েল রেডি হয়। জুয়েল এর বাসায় রাতে খেয়ে বের হতে হতে ১১ টা বেজে যায়। সেখান থেকে কমলাপুর আসে। এসে দেখে ট্রেনের টিকিট নাই। মন খারাপ করে বাস ধরার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। ট্রেনে চরার মজাই আলাদা। দুর্ভাগ্য ট্রেনের টিকিট পেলো না।
হটাত করে পিছন থেকে এসে একজন ডাক দেয়। তার কাছে নাকি টিকিট আছে। তবে ন্যায্য মুল্যের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি দিতে হবে। ১০০ টাকা বেশি দিয়েই নিয়ে নিলো টিকিট। আনন্দ - ফুর্তি করতে করতে ট্রেনে উঠে পরলো ওরা। সারা রাত জেগে কাটাবে। রাত জাগার ব্যাবস্থাও আছে। এই তাস আছে, সিগারেট আছে, আরিফ গিটার নিয়ে এসেছে। এগুলা করেই সারারাত কাটিয়ে দিবে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু রাত ২টার পর পরই ঘুমিয়ে পরে সব গুলো। জেগে থাকে দুপুর আর নজরুল।
দুজন দুজনের সাথে নিজেদের মনের দু:ক্ষের কথা শেয়ার করছে। এই পেত্নী টেত্নীর কথা আরকি। ভোরের দিকে এই দুজন ও ঘুমিয়ে পরে। সকাল ৯ টার দিকে ঘুম ভাংগে ওদের। ঘুম থেকে উঠে দেখে ইউসুফ আর জুয়েলের ব্যাগ, আরিফের গিটার আর মিরাজের জুতা নাই। ট্রেন স্টেশনে এসে হাজির। ওরা গভীর ঘুমে ব্যাস্ত ছিল আর তখন কোন ভদ্রলোক সুজোগ বুঝে তার কার্য সম্পাদন করেছে। যাক মোবাইল ব্যাংকিং আর ব্যাংক গুলোর এটিএম সুবিধার কারনে এখন আর কেউ মানিব্যাগে অতিরিক্ত টাকা রাখে না। তাই টাকা পয়সার তেমন ক্ষতি হয়নি।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে মিরাজের জুতা কিনে ১টা হোটেলে বসে নাস্তা করে।
আরিফ : (দুপুরকে উদ্দেশ্য করে) শালা তোর জন্য আমার গার্লফ্রেণ্ডের দেওয়া গীটার টা হারাইলো।
দুপুর : আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে।
মিরাজ : ৩৯৯ টাকা দিয়ে এপেক্স থেকে ৭০% ডিসকাউন্টে জুতাটা কিনছিলাম। গেলো সেই জুতাটা।
জুয়েল : আমার ব্যাগে তেমন কিছু ছিল না। যাস্ট কয়েকটস RC ছিলো আর কি।
নজরুল : শালা সব জায়গায় ধান্দা খুজে।
ইউসুফ : আমারটার কথা আর নাইবা বললাম। কিন্তু আমরা যার সাথে দেখা করতে আসছি তার সাথে কখন দেখা করবো?
দুপুর : আমরা না, শুধু আমি দেখা করবো।
মিরাজ : তাহলে আমরা আসছি কেন?
দুপুর : পতেঙ্গা সি বিচে ঘুরতে।
আরিফ : আচ্ছা কখন দেখা করবি? সময় নিছিস?
দুপুর : নাহ। এখনো জানানো হয়নি যে আমি ওর সাথে দেখা করতে এসেছি। দারা ফোন দেই ওকে।
দুপুর ফোন দেয় ওকে। রোদেলা শুনে খুব খুশি হয়। সে জানায় দুপুর ১২ টার দিকে সে আসবে দেখা করতে দুপুরের সাথে। স্থান হলো সি বিচ।
সময় এখনো অনেক হাতে আছে। তাই সবাই মিলে চিটাগাং শহরে ঘুরছে।
দুপুর ১২ টার আগে চলে আসে সি বিচে। ১২ টার কিছু পর রোদেলা ফোন দেয় যে সে এসেছে।
কালো ১টা জামা পরে এসেছে, হাতে চুরি আছে। চুল গুলো খোলা। চোখে কাজল পরেছে। গায়ের রঙ দুধে আলতা। তাই আর নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে কতটা সুন্দর লাগছে রোদেলাকে।
রোদেলা : কেমন আছেন আপনি?
দুপুর : ভালো। তুমি?
রোদেলা : ভালোবাসার মানুষকে ছেরে যে মেয়ের অন্য ১টি ছেলের সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে সে কতটা ভালো থাকতে পারে?
দুপুর : কেনো তুমি আমাকে ভালোবাসো? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না।
রোদেলা : কেউ কাউকে কেনো ভালোবাসে সেই উত্তর আজো কেউ দিতে পারেনি। আমিও আজ পারলাম না। আর আপনি ভালবাসেন না বলেই তো আমাকে আজ এত কষ্ট পেতে হচ্ছে। যদি ভালবাসতেন তাহলে হয়তো আমরা দুজনেই অনেক সুখি হতাম। ( রোদেলা কেদে দেয়)
দুপুর : প্লিজ কাদবে না। কাল তোমার বিয়ে। সো আমাকে ভুলে যাওয়ায় কি ভালো না?
রোদেলা : হয়তোবা। আপনি আমার অনুরোধে ঢাকা থেকে দেখা করতে চলে এসেছেন। অসংখ ধন্যবাদ আপনাকে। আমাত আরেকটা কথা রাখবেন?
দুপুর : রাখার মত হলে অবশ্যই রাখবো।
রোদেলা : আমি আপনার হাত ধরে বিচের পাশ দিয়ে একটি খালি পায় হাটতে চাই।
দুপুর : নাহ। আমি এই অনুরোধটা রাখতে পারবো না।
রোদেলা : প্লিজ।
দুপুর : সরি।
রোদেলা : ওকে। তাহলে আমি কি আপনার হাতটা একটু ধরতে পারি? যাস্ট একটু স্পর্স চাই আপনার। সারাজীবন বেচে থাকার জন্য এই সম্বলটুকু প্লিজ আমাকে দিন।
দুপুর : ঠিক আছে।
রোদেলা তার নরম শীতল হাত দিয়ে দুপুরের হাত ধরে, দুপুরের চোখের দিকে তাকায়, পানি ঝরে পরে মেয়েটির দুচোখ দিয়ে। মাথাটা নিচু করে দুপুরের হাতে ১টা চুমু খেয়ে পিছনে দোরে চলে যায় রোদেলা। দুপুর তাকিয়ে থাকে।
বিকেলে আরিফ, নজরুল, মিরাজ,জুয়েল,ইউসুফ আর দুপুর মিলে চিটাগাং ঘুরে বেরায় ফয়েজ লেকে। সেখান থেজে সন্ধ্যার আগে আবার বিচে আসে।
জুয়েল : ওই দুপুর একা একা হাটছে কেন? কথাও কম বলছে।
আরিফ : মনে হয় প্রেমে পরছে মেয়েটার।
ইউসুফ : চল দেখি কি হইছে।
দুপুরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ওরা।
মিরাজ : ওই কি হইছে তোর?
ইউসুফ : তুই নাকি মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিস?
আরিফ : আবার নাকি প্ল্যান করছিস মেয়েটা কে নিয়ে পালাবি?
দুপুর : ধুর কি যে বলিস না। ওই সব কিছু না।
নজরুল : তাহলে মন মরা হয়ে আছিস কেনো?
দুপুর : কোথায়? আমি তো সব সময়ই এমন।
মিরাজ : দেখ মামা। বুঝে শুনে কথা বল। আজ গায়ে হলুদ, কাল বিয়ে। যদি ভালোবেশে থাকিস তাহলে যা করার এখনি করতে হবে।
ইউসুফ : তোর চোখ বলছে তুই মেয়েটার প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : আজাইরা কথা বলিস না তো। ওই বিয়ে করলে বউ নিয়া রাখবো কই? খাওয়াবো কি? আর একবার ও এই কথা বলবি না।
দুপুরের ফোনে কল আসে। রোদেলা ফোন দিয়েছে। দুপুর ফোন ধরে।
দুপুর : হ্যালো
রোদেলা : আপনারা।ক চলে গেছেন?
দুপুর : নাহ। আজ রাতে এখান থেকে সেন্টমার্টিন যাবো।
রোদেলা : ( কাদো কন্ঠে) আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আপনি কি আমাদের বাড়ীর সামনে একটু আসতে পারবেন?
দুপুর : আমি তো চিনি না তোমাদের বাড়ী।
রোদেলা : আমি টেক্সট করে দিচ্ছি।
দুপুর ওদের জানায় যে রোদেলা ফোন দিয়েছিল। সে রোদেলার সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ির সামনে যাবে।
ওরা সবাই রোদেলার বাড়ির সামনে যায়। ফোন দেয় রোদেলাকে। রোদেলা জানায় বাড়ির পিছন দিকে ১টা বাগানের মত আছে, সেখানে অপেক্ষা করতে। দুপুররা সেখানে প্রায় আধ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর রোদেলা আসে।
নীল শাড়ী, কালো টিপ, লাল আর নীল চুরি, কাজল চোখ আর খোপায় ফুল। দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গ থেকে সয়ং নীলপড়ি নেমে এসেছে। দুপুর চোখ সরাতে পারছিল না। হা করে তাকিয়েছিল রোদেলার দিকে।
রোদেলা : আপনারা কখন যাবেন?
দুপুর : রাত ১০ টার দিকে।
রোদেলা : নীল শাড়িতে আমাকে কেমন লাগছে?
দুপুর : রপকথার গল্পের পড়ির মত।
রোদেলা : নীল শাড়ি পরা আপনার পছন্দ। আমার কালো শাড়ি ভালো লাগতো। কিন্তু এখন নীল শাড়ী।
দুপুর : কেনো?
রোদেলা : কারন, আমি আপনাকে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। ( জরিয়ে ধিরে দুপুরকে রোদেলা)
দুপুর : ভালোবাসা কষ্ট দেয়। আর সবাই ভালোবাসা পাবার যোগ্য না, যেমন আমি। ( দুপুর তার দুই হাত দিয়ে শক্ত করে আর জরিয়ে ধিরে রোদেলাকে। দুপুরের চোখ বেয়ে পানি পরে। তবে তার কান্না সে আর বিধাতা ছাড়া কেউ দেখিতে পায় না)
দুপুর : আমাকে মাফ করে দিও প্লিজ। আমি তোমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না।
এই বলে রোদেলার কপালে চুমু খায়।
দুপুর : তোমার এই স্পর্শ আমার সারা জিবনের সম্বল। কখনোই ভুলবো না।
রোদেলা : আর এই স্পর্শই হয়তো আমাকে সারাজীবন কাদাবে। খুব ভালোবাসি যে তোমায়।
দূর থেকে সব দেখছিল দুপুরের বন্ধুরা।
আরিফ : শালা কি করলি তুই এইটা?
দুপুর : কি করলাম আমি?
মিরাজ : মেয়েটা তোকে কত ভালবাসে আর তুই মেয়েটা কে ছেরেদিলি?
দুপুর : এখান থেকে চল।
সেখান থেকে চলে আসে সবাই। দুপুরের মন আগের থেকেও আরো খারাপ হয়ে যায়। ১টার পর ১টা সিগারেট খেতে থাকে। ১টা হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বাসে উঠে। বাস কিছু দূর যাওয়ার পর দুপুর লাফিয়ে উঠে।
দুপুর : এই বাস থামান ড্রাইভার। আমি নামবো।
ড্রাইভার বাস থামায়। নামতে থাকে দুপুর। তখন পিছন থেকে মিরাজ ওরা ডাক দেয়।
মিরাজ : এই কি হইছে তোর? নামবি কেনো?
দুপুর : রোদেলার কাছে যাবো। ওর স্পর্শ আমায় ডাকছে।
জুয়েল : গাধাটা মানুশ হচ্ছে। চল সবাই নামি।
দুপুর : তোরা নামবি কেনো?
আরিফ : তুমি যখন তোমার বউকে আনতে যাবে তখন যে তোমার সালারা আটকে রাখবে তখন ছাড়াবে কে?
বাস থেকে নেমে যায় ওরা সবাই। চলে আসে রোদেলার বাড়ির সামন। দোতালা বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে রোদেলা কে ফোন দেয় দুপুর। ফোন ধরে রোদেলা।
রোদেলা : হ্যালো
দুপুর : একটা বারান্দায় আসবে?
রোদেলা ফোন কেটে দিয়ে বারান্দায় আসে। দুপুর নিচে দারিয়ে আছে। দুপুর দুপা গেরে বসে পরে। আর চিৎকার করে বলে।
প্রীয়তমা। ভালোবাসার কোমল স্পর্শের কাছে আমি হার মেনে গেছি। এই মন সারাজীবন স্পর্শ পেতে চায় তার ভালোবাসার মানুশের। আমি কি পাবো আমার ভালোবাসার মানুশের স্পর্শ?
রোদেলার চোখ বেয়ে পানি ঝরে পরে। শিরি বিয়ে নিচে নেমে আসে জরিয়ে ধরে দুপুরকে।
রোদেলা : আই লাভ ইউ।
দুপুর : লাভ ইউ এ লট।
দূর থেকে নজরুল আর ইউসুফ দোরে আসে।
নজরুল : অনেক প্রেম হইছে এখন ভাগ। বাড়ির লোক জেগে গেছে। ওই দেখ আসতেছে।
ইউসুফ : মামু মামীকে নিয়ে এখন পালাও তা না হলে মামীকেও হারাবা, মাইরের মাইরও খাবা, জেল খাটবে ফাও।
সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওরা রোদেলাকে নিয়ে। পিছনে পিছনে অনেক দূর প্রযন্ত ওদের তারিয়ে বেরায় রোদেলার পরিবারের লোকেরা। যদিও ধরতে পারে না।
ঢাকা এসে বিয়ে হয় শিপনের আর রোদেলার। এর কিছুদিন পর পারিবারিক ভাবে যোগাযোগ করে আবার অনুষ্টান করে দুই পরিবারের নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
আমার লেখা আরো গল্প পুরতে চাইলে লাইক দিন আমার পেজে আর গল্ল নিয়ে আপনার মতামত দিন।
পেজের লিংক : www.facebook.com/arshipon15/

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প
লেখা : MD Asadur Rahman - Shipon

নীলা : এতো রাতে ছাদে কি করো?
রাফি : তুমি? তুমি আবার?
নীলা : হ্যা আমি। আমি ছাড়া কে আসবে আর বলো?
 রাফি : হুম সেটাই।
নীলা : আচ্ছা তুমি সিগারেট খাও কেনো? জানো সিগারেট কতটা ক্ষতি করে?
রাফি : নিকোটিন আমাকে সুখ দেয়। আমাকে ভাবতে শিখায়। সবচেয়ে বড় কথা নিকোটিন তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো ভুলে থাকতে সাহায্য করে আমাকে।
 নীলা : আমাকে অনেক ভালোবাসো তুমি তাই না?
রাফি : ভালোবাসা কি জানিনা। তবে.......
নীলা : থামলে কেনো?
রাফি : আমাকে নিচে ডাকছে। আমি আসি।
নীলা : আমি তোমার কাছে আসলে, তোমার পাসে বসলেই তোমার যত সব কাজ পরে। যাও তুমি।
 রাফি চলে আসে। নীলা ছাদের কোনে চুপ করে বসে থাকে।
(পরেরদিন সকাল)
 ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই দরজায় নাড়া পরে। রাফি ব্রাস হাতে নিয়ে দরজা খুলে দেয়। বাড়িওয়ালা এসেছেন। বয়স্ক লোক, মুখভর্তি দাড়ি। দেখতে খুব শান্তশিষ্ট মনে হলেও লোকটা এক নাম্বারে বদের হাড্ডি। বাসার ভাড়া ৫ তারিখ এর জায়গায় ৬ তারিখ হলেই চেঁচামেচি শুরু করে। আর মাঝে মাঝে বাসায় ঢুকে এটা সেটা নিয়ে অভিযোগ তো থাকবেই। যাস্ট ছাদটা আছে বলে আর নীলার জন্য এই বুইড়া খাটাস এর বাড়িতে আছে সে।
রাফি : কাকা কেমন আছেন?
বাড়িওয়ালা ঃ ভালো ।
রাফিঃ আজ তো ৩ তারিখ। আমি ৫ তারিখের মধ্যেই আপনার বাসার ভাড়াটা দিয়ে দিবো।
বাড়িওয়ালা : ভিতরে আসতে পারি স্যার ?
রাফি : আপনার বাড়ি, আপনি আসবেন না। আসেন।
বাড়িওয়ালা ভিতরে ঢুকে এক এক করে সব রুম, টয়লেট খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে।
বাড়িওয়ালা : আমার এতো সুন্দর বাসাটাকে একদম শেষ করে দিছে। এর জন্যই ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া ঠিক না।
 রাফি : কাকা আপনার বাসাতো ঠিকই আছে। আমি তো কোন কিছুই করিনি। এমনকি দেয়ালে একটা পেরেকও মারিনি।
বাড়িওয়ালা : আবার মুখে মুখে তর্ক, তর্ক করো আমার সাথে?  খুব হেটম হয়ে গেছে? যাও.........
রাফি : কোথায় যাবো?
বাড়িওয়ালা : এই বাড়িতে তোমার আর থাকতে হইবো না। আমি আর আমার বাসায় ব্যাচেলর রাখুম না। আমি ৫০০০ টাকা বেশি ভাড়ায় এই বাসা এক ফ্যামিলিকে ভাড়া দিছি। তারা ৫ তারিখ সকালে এই বাসায় উঠবে। তার আগেই তুমি বাসা খালি করবা।
 রাফি : (রাগান্বিত কন্ঠে) মগের মল্লুক নাকি? আজ ৩ তারিখ আর আপনি এসে বলবেন ৫ তারিখ বাসা খালি করে দিতে হবে আর আমি খালি করে দিবো। এডভ্যান্স দেওয়া আছে আমার। বাসা খালি করার একমাস আগে নোটিস দিতে হবে। এটাই আইন।
বাড়িওয়ালা : আমাকে আইন শিখাও? জজ্ঞি কইয়া পুলিশে ধরাই দিমুনে তখন বুঝবা। রাফি : যান এখান থেকে, আমি বাসা ছাড়বো না। কি করবেন করেন।
বাড়িওয়ালা : দাড়াও দেখতাছি।
বাড়িওয়ালা চলে যায়। রাফি হাত মুখ ধুয়ে ছাদে এসে কিছুখন বসে তারপর অফিসের দিকে রওনা দেয়।
রাফি ছোট একটা ফার্মে চাকরি করে, বেতনও অল্প । জনাব খান হেলাল রাফির বস। রাফি প্রায় প্রতিদিনই অফিসে লেট করে আসে। এটা একরকম ওর অভ্যাস হয়ে গেছে।
রিওন ঃ রাফি তুই আজও দুই ঘন্টা লেট করে আসলি। এভাবে করতে থাকলে তো একদিন ভাইয়া খেপে গিয়ে তোকে অফিস থেকে বের করে দিবে।
রাফি ঃ আর বলিস না ভাই, বাড়িওয়ালা আজ হটাত করে বলে এই ৫ তারিখে বাসা ছারতে হবে। উনার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে দেরি হয়ে গেলো।
রিওন ঃ আচ্ছা এখন কাজ কর কথা কম বল , কান হেলাল ভিতর থেকে সব দেখতেছে।
রাফি কোন রকম অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে এসে ছাদে উঠে। প্রতিদিনের মত ছাদের কোনায় গিয়ে বসে। একটু পরেই নীলা আসবে, নীলার সাথে কিছুখন সময় দিয়ে আজ ঘুমিয়ে পরবে।
পিছন থেকে নীলা রাফির কাধে হাত রাখে
রাফি ঃ আবার তুমি ?
নীলা ঃ এমন ভাব করো যে আমি সারাদিন তোমার পিছনে লেগে থাকি , সারাদিনে এইটুকুই সময়ই তো কথা বলি।
রাফি ঃ কেমন আছো ?
নীলা ঃ ভালো না। গতকাল রাতে তোমাকে নিয়ে একটা দূঃস্বপ্ন দেখেছি । একটু সাবধানে থেকো ।
রাফি ঃ হাহাহাহাহাহা। তুমি আমাকে নিয়ে টেনশনও করো ?
নীলা ঃ হ্যা আমি তোমাকে ভালোবাসি আর তোমাকে নিয়ে টেনশন করবো না ?
রাফি ঃ ভালোবাসলে চলে গিয়েছিলে কেনো ? কেনো আমাকে এই ছাদে কেদে জ্ঞ্যান হারাতে হয়েছিলো ?
নীলা উঠে চলে যায়। রাফি পকেট থেকে সিগারেটের বের করে ধরায় । কিছুখন পর নিচে শব্দ পেয়ে নিচে গিয়ে দেখে দুইজন পুলিশ তার রুমের সামনে।
রাফি ঃ কোন সমস্যা ?
পুলিশ ঃ আপনি কে ?
রাফি ঃ আমি রেদওয়ান রাফি ।
পুলিশ ঃ ওহ তুই তাইলে সেই জজ্ঞি । চল থানায় চল।
পুলিশ রাফিকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে রাফি পুলিশ স্টেশনের নাম্বার থেকে তার বসকে ফোন দিয়ে আসতে বলে । খান হেলাল সাহেব এসে রাফিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এই শর্তে যে রাফি ঐ বুড়োর বাসা ছেরে দিবে।
খান হেলাল ঃ এখন কোথায় উঠবি রাফি ?
রাফি ঃ জানিনা।
খান হেলাল ঃ আজকের মত কোন বন্ধুর বাসায় গিয়ে থাক ।
রাফি ঃ হুম।
রাফি সালাউদ্দিনকে ফোন দেয়। সালাউদ্দিন জানায় তারা ৫ তারিখ নতুন বাসায় উঠবে সেখানে একটা সিট খালি আছে চাইলে শেয়ার করে থাকতে পারে।
৫ তারিখ সকালে নতুন বাসায় সালাউদ্দিনের সাথে উঠে রাফি। রাফির রুমের রাফির সাথে আরেকজন থাকবে । সালাউদ্দিনের এক বোনের ছেলে আসিফ। আসিফ একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছে ।
নতুন বাসার ছাদের উঠার পারমিশন নেই। তাই আর ছাদে যাওয়া হয় না রাফির। রুমের সাথে বড় বারান্দাটাই এখন রাফির অবসর সময়ের সঙ্গী। এখন আর নীলার সাথে দেখা হয় না। রাফি মাঝে মাঝে আগের বাসার সামনে গিয়ে হাটাহাটি করে কিন্তু নীলার দেখা পায় না । পাবে কি করে ? রাফি ধানমন্ডি আর নীলা উত্তরা।
এতোদিনে আসিফ আর রাফির খুব ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে ......
রাত ২টা বাজে
আসিফ আর রাফি সুয়ে সুয়ে কথা বলছে এমন সময় একটা বাচ্চার চিৎকার শুনতে পায়।
আসিফ ঃ মামা কিছু শুনেছেন ?
রাফি ঃ হ্যা।
আসিফ ঃ মামা আমি কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতেই এক বাচ্চার চিৎকার, কান্নার শব্দ শুনতে পাই।
রাফিঃ হুম। আমিও, মনে হয় পাশের বাসার ফ্ল্যাটে কোন বাচ্চা আছে ।
আসিফঃ হ্যা সেটাই হবে। কিন্তু এই রকম ভয়ানক চিৎকার করে কেন? ভয় পেয়ে যাই । হাহাহাহাহাহাহা(হেসে উঠে দুজনে)
পরেরদিনও সন্ধ্যায় রুমে ফিরে আসে রাফি। এসে বারান্দায় বসে সিগারেট ধরায়। সিগারেট তানছে এমন সময় সে খেয়াল করে পাসের ফ্ল্যাটে টয়লেট থেকে মৃদ কুকিয়ে কুকিয়ে কান্নার শব্দ আসছে। ঠিক সেই সময় সালাউদ্দিন বারান্দায় আসছে।
সালাউদ্দিন ঃ কিরে পাগলা কি করিস ?
রাফি ঃ এইতো নিকোটিন এর সাথে প্রেম করছি।
সালাউদ্দিনঃ কেন তোর নীলা তোর কাছে আসে না ?
রাফিঃ হাহাহাহাহা। আচ্ছা দোস্ত পাসের বাসা থেকে মনে হয় কান্নার শব্দ আসছে শুনতে পাচ্ছিস ?
সালাউদ্দিনঃ কই ? আমি তো কিছু শুনতে পাচ্ছি না।
রাফিঃ আচ্ছা বাদ দে ।
সালাউদ্দিনঃ তুই কি আবার ভুত নিয়ে গবেষনা শুরু করলি নাকি ?
রাফি ঃ আরে না, গল্পটল্প লেখা বাদ।
সালাউদ্দিনঃ লিখ না দোস্ত আবার ভুতের গল্প। খুব মিস করি।
রাফিঃ দিন গুলো হারিয়ে গিয়েছে বন্ধু।
এর মধ্যে আসিফ চলে আসে। তিনজন মিলে গল্প করে তারপর রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে শুয়ে ঘুমিয়ে পরে।
হতাত মাঝ রাতে আসিফ রাফিকে ডেকে তুলে।
আসিফ ঃ মামা, মামা উঠেন।
রাফি ঃ কি হইছে মামা ?
আসিফ ঃ ঐ বাচ্চাটা দেখেন কিভাবে চিৎকার করছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আসেন ঐ ফ্ল্যাটে গিয়ে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করি।
রাফি ঃ নাহ এতো রাতে যাওয়াটা ঠিক হবে না।
আসিফ ঃ বারান্দায় গিয়ে দেখি আসেন।
রাফি আর আসিফ বারান্দায় যায়। কিছুক্ষন পর কান্না থেমে যায়।
আসিফ ঃ দেখছেন মামা আমাদের মনে হয় দেখেছে। তাই মাইর থামিয়ে দিয়েছে।
রাফি ঃ কিন্তু ঐবাসায় কোন আলো নেই কেনো? দরজা জানালা সব সময় বন্ধ কেনো?
আসিফ ঃ মামা জানেন ঐ পিচ্চি মাঝে মাঝে গোং্যায় । ঐ শব্দ গুলো খুব কানে লাগে, অসহ্য একটা ব্যাথা অনুভব করি।
রাফি ঃ এগুলা নিয়ে দিনে আলোচনা করা যাবে, এখন চলো ঘুমাই। সকালে অফিস আছে ।
রাফি আর আসিফ এসে ঘুমিয়ে পরে।
সকাল ৭টায় আসিফ ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে চলে যায়। আর রাফি ঘুমিয়ে থাকে।
আজ রাফির প্রচন্ড ঘুম। কাথামুরি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম জেনো তাকে আজ শক্ত করে জরিয়ে ধরেছে, কোনভাবেই বিছানা থেকে উঠতে দিচ্ছে না। এদিকে এক এক করে ফ্ল্যাটের সবাই যার যার কাজে বেরিয়ে গেছে।
দুপুর ১২টাঃ
কে জেনো রাফির পায়ের কাছে কাথা ধরে টানছে। রাফি ধিরে ধিরে চোখ খুলে দেখে একটা ৮/৯ বছরের বাচ্চা মেয়ে তার কাথা ধরে টানছে ।
রাফি ঃ কে তুমি ? ডিস্টার্ব করছো কেনো ?
মেয়েটি ঃ ভাইয়া চা খাবেন ?
রাফি ঃ কে তুমি ?
মেয়েটিঃ আমার নাম মিম, আমি কাজের মেয়ে।
রাফি ঃ এইটুকু পিচ্ছি কাজের মেয়ে ? খালার মেয়ে তুমি ? তার সাথে আসছো ?
মিমঃ চা খাবেন না? আমার চা খাইলে মজা পাইবেন।
রাফি ঃ আচ্ছা যাও চা বানাইয়া নিয়ে আসো, আমি আরেকটু ঘুমাই।
মিম মিনিট ১০ পরে এক মগ চা বানিয়ে নিয়ে এসে রাফিকে ডেকে উঠায়।
রাফি ঃ বাহ! আজ অনেকদিন পর বেডটি পেলাম । আগে বাড়ি গেলে আম্মু বেডটি করে দিতো ।
মিমঃ আপনার আম্মায় আপনারে অনেক আদর করে তাই না?
রাফিঃ হুম। কেন তোমার মা তোমাকে আদর করে না?
মিমঃ আমি তো কাজের মেয়ে, মায়ের সাথে থাকি না। বাড়িওয়ালা আর ম্যাডাম এর সাথে থাকি।
রাফিঃ উনারা আদর করে না ?
রাফি কথাটি বলে মিমের দিকে তাকায়। মিমের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। রাফি খেয়াল করে দেখলো মেয়েটির চেহারায় একটা আলাদা মায়া আছে। ওর হাতে ছ্যাকার দাগ।
রাফিঃ তোর মালিক কি তোরে মারে ?
মিম ঃ ভাইয়া আপনি তো গল্প লেখেন তাই না ?
রাফিঃ কে বলছে তোমাকে ?
মিমঃ ভাইয়া ঐযে তনু, মিতু, খাদিজা, ঐ আপাদের নিয়ে তো অনেকেই অনেক গল্প লিখছে তাই না?
রাফিঃ তোমার কি ফেসবুক একাউন্ট আছে ? এতোকিছু কি করে জানো?
মিমঃ আমার ম্যাডামের আছিলো।
রাফিঃ মিম তুমি কিন্তু চা টা অসাধারন বানিয়েছো।
মিমঃ ধন্যবাদ ভাইয়া। (একটু থেমে) ভাইয়া আপনি তো ভূতের গল্প লিখেন তাই না?
রাফি ঃ হুম । তুমি ভূত ভয় পাও না?
মিমঃ ভাইয়া আমি একটা গল্প জানি, শুনবেন?
রাফিঃ মিম আমি তোমাকে প্রশ্ন করলে এরিয়ে যাও কেনো?
মিমঃ ভাইয়া আরেক মগ চা করে নিয়ে আসি, চা খান আর গল্প শুনেন।
মিম কথাটি বলেই রাফির হাত থেকে মগ নিয়ে দৌড় দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। এইফাকে রাফি আবার কাথামুরি দিয়ে সুয়ে পরলো এবং যথারিতি ঘুমিয়ে পরলো । একটা মানুষ যে কিভাবে এতো ঘুমাতে পার সেটা আমার বুঝে আসেনা। সোয়ার সাথে সাথেই ঘুম।
কিছুক্ষন পর মিম আবার এসে ডেকে তুলে চা দেয়।
রাফি ঃ বলো তোমার গল্প।
মিমঃ আচ্ছা শুনেন।
রাফিঃ (চায়ের কাপে মুখ দিয়ে) বলো।
মিমঃ আমার গল্পের মাঝে কিছু বলবেন না, সুধু শুনবেন।
রাফিঃ তুই তুমিতো খুব সুন্দর করে কথা বলো, কাজের মেয়েরা কি এতো সুন্দর করে কথা বলে। আচ্ছা তোমার গল্প বলো, আমি কথা বলবো না। এই চুপ।
মিমঃ
    গ্রামের নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আনিকা। কোন এক কারনে হাটাত আনিকার বাবা আর্থিকভাবে খুব সমস্যায় পরে। এতোটাই খারাপ অবস্থা যে আনিকার স্কুলের খরচ পর্যন্ত জোগার করতে পারছিলো না। কিন্তু আনিকার বাবার খুব স্বপ্ন আনিকা অনেক পড়ালেখা করবে, ডাক্তার হবে। কিন্তু তার আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় আনিকার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এমন সময় আনিকার বাবা তার পাশের গ্রুপের একবন্ধুর সাথে কথা বলে। বন্ধুর ছেলে সাইদ সাহেব। সে ঢাকায় একটা ব্যাংকে চাকরি করে। কিছুদিন আগে এক বাচ্চা হয়েছে তার।
সাইদ সাহেব এর বাবা আনিকার বাবাকে প্রস্তাব করে যে সে তার ছেলের বাসায় রেখে আনিকাকে পরাবে। আনিকা ঢাকাতে পরবে । আনিকার সব খরচ আনিকার বাবার বন্ধুর ছেলে সাইদ দিবে। আর আনিকা থাকলে সাইদ সাহেবের বাচ্চার মাঝে মাঝে দেখাশুনা করবে।
আনিকার বাবা তার বন্ধুর প্রস্তাবে খুব খুশি হন। বাসায় এসে আনিকার মা এর সাথে পরামর্শ করলে সে প্রথমে নারাজ হলেও আনিকার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়।
আনিকা ঢাকায় আসে। ঢাকা তার ভালো লাগে না। চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে হয় সারাদিন তাকে। সে আশায় থাকে সাইদ সাহেব ছুটি পেলে তাকে নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবে। কিন্তু না, স্কুলে যাওয়া হয় না আনিকার। প্রথম প্রথম সাইদ সাহেবের বাচ্চার দুধ গরম করে দেওয়া আর সাইদ সাহেবের স্ত্রী গোসলে গেলে বাচ্চার পাশে বসে থাকতে হতো, আর এখন আনিকাকে বাসার সব কাজ করতে হয়। একজন কাজের মেয়ে যা যা করে সব কাজ করে আনিকা।
ধিরে ধিরে আনিকা অতিষ্ট হয়ে উঠে। কাজে তার মন বসে না, বাবা মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু জানেন ভাইয়া ওরা আনিকাকে তার বাবা মায়ের কাছে যাওয়া তো দুরের কথা তাদের সাথে ফোনে কথা বলতে দিতো না।
রাফিঃ আনিকা কি তোমার পরিচিত?
মিমঃ ভাইয়া আমি আগেই বলেছি আপনি কোন কথা বলবেন না গল্পের মাঝখানে।
রাফিঃ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। তবে তুমি কাদছো, তোমার চোখ দিয়ে পানি পরছে । তুমি কান্না থামিয়ে গল্প বলো।
মিমঃ
আনিকার মন আর কাজে নেই তাই কাজে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভুলের জন্য তার উপর শারিরিক অত্যাচার শুরু হয়। একদিন কি হয় জানেন ভাইয়া, আনিকা ভাতের পাতিল থেকে ভাত বেড়ে দিচ্ছে সাইদ সাহেবের প্লেটে। একটু ভাত চামচ থেকে পরে গিয়ে সাইদ সাহবের হাতে পর। সাইদ সাহেব উহ! করে চিৎকার দিয়ে আনিকার হাতটা টেনে নিয়ে গরম ভাতের পাতিলে ঢুকিয়ে রাখে। আনিকা চিৎকার করে কাদতে থাকে। কিন্তু কেউ আনিকার কান্নার শব্দ পায় না।( মিমের চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝড়ছে)
সুধু সাইদ সাহেবই নয় ছোট ছোট ভুলের জন্যও সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকাকে মারধোর করত। সাইদ সাহেবের স্ত্রীর ব্লাউজ স্ত্রি করতে গিয়ে সামান্য পুরিয়ে ফেলার অপরাধে তিনি আনিকার পিঠে গরম স্ত্রির ছ্যাকা দিয়েছিলো।
রাফিঃ এতো ছোট মেয়েটি কিভাবে এই গল্প বলছে আমার মাথায় ধরছে না। আচ্ছা বলো।
মিমঃ একদিন সাইদ সাহেবের স্ত্রি তার একবোনের বাসায় যায়, এবং রাতে আসতে পারবে না বলে জানায়। আনিকা রান্নাঘরে থাকতো। গভির রাতে সাইদ সাহেব এসে আনিকা তার বেড রুমে নিয়ে যায়। বিছানায় নিয়ে আনিকার সারা শরীরে হাত বুলায়। আনিকা ভয়ে ভয়ে বলে কি করছেন ভাইয়া, আমার ভালো লাগছে না, আমাকে ছেরে দেন, আমি ঘুমাবো। কিন্তু সাইদ সাহেব আনিকার কথায় পাত্তা দেয় না। আনিকার শরীরের জামাকাপর সব খুলে ফেলে। সারা শরীর কাপরে, আচরে ক্ষত বিক্ষত করে, আনিকার সাথে তারপর( মিমের হাত পা কাপছে, চোখ দিয়ে পানি, মুখে ভয়ের একটা ছাপ) বুঝতেই পারছেন কি করেছে। আনিকার অনেক রক্তক্ষরন হয়। সকালে সাইদ সাহবের স্ত্রী চলে আসে। স্ত্রী আনিকার আচরন দেখে সন্দেহ করে। বুঝছেনই তো ভাইয়া এতোটুকু একটা বাচ্চার সাথে এই পৌশাচিক আচরনের পরের সকালে তার আচরন কেমন হতে পারে। সাইদ সাহবের স্ত্রি আনিকা অনেক মারধর করে জিজ্ঞেস করে যে কি হয়েছিলো। গতকাল রাতের অত্যাচার আর সকাল দুপুরের মারধর আর সহ্য না করতে পেরে আনিকা সব বলে দেয়। এরপর রাতে সাইদ সাহেব আসলে তার স্ত্রি তাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয় । একসময় আনিকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে সব কথা। আনিকা বলে, আনিকার কথা শুনে সাইদ সাহেব আনিকাকে শরীরের সব শক্তি দিয়ে থাপ্পর মারে। আনিকা মাটিতে পরে যায়। সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকার পেটে লাথি দিয়ে বলে এই মাগির মেয়ে উঠ, বল সব সত্য কথা। কিন্তু আনিকার উঠার শক্তি আর নেই। আনিকা না উঠায় তারা রেগে আরো মারতে থাকে। একসময় আনিকার দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। কিছুখন পর সাইদ সাহেবের সন্দেহ হয়। সে আনিকার হার্টবিট চেক করে দেখে আনিকা আর বেচে নেই।
রাফিঃ হোয়াট?
(মিম অঝরে কেদে চলছে, তার হাত পা কাপছে, কথা বলতে মুখ আটকে যাচ্ছে)
মিমঃ সাইদ সাহেব আর তার স্ত্রি ভয় পেয়ে যায়। কি করবে ভেবে পায় না। অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর তারা সিধ্যান্ত নেয় তাদের বাসার সামনের ছোট বাগানের মাঝে মাটিতে একটা পানির হাউস আছে সেখানে লাশ ফেলে রাখবে। সেই মত লাশ ফেলে দেয়। এবং তারা আনিকার বাড়িতে জানিয়ে দেয় যে আনিকা নাকি এক ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। সাইদ সাহেব এবং তার স্ত্রি তার কিছুদিন পরেই বিদেশে চলে যায়।
হটার রাফির ফ্ল্যাটের কলিং বেল বেজে উঠে।
রাফিঃ আনিকা তুমি বসো। ওহ সরি, মিম তুমি বসো কে জেনো এসেছে আমি দরজা খুলে দিয়ে আসি।
মিমঃ (মুচকি হেসে) আচ্ছা ভাইয়া।
রাফি দরজা খুলে দেয়। খালা এসেছে।
রাফিঃ খালা আপনি বাইরে গেলেন কখন?
খালা ঃ কি কন মামা, আমি আসলামই তো মাত্র।
রাফিঃ আপনি মাত্র আসলেন মানে? আপনার মেয়ে মিম তো সেই কখন এসেছে, এর মধ্যে আমাকে দুইবার চা বানিয়ে চা ও খায়িয়েছে।
খালাঃ কি যে বলেন না মামা। আমার মেয়ে আসবো কোথায় থেকে, আমার ত এক ছেলে।
খালার কথা শুনে রাফির মাথায় জেনো আকাস ভেংগে পরে। সে দ্রুত তার রুমে এসে দেখে সেখানেও কেউ নেই। তাহলে এতোখন তার সাথে কে কথা বললো? কে তাকে চা করে খাওয়ালো? চায়ের কাপ তো ঠিকই আছে। হাত পা কাপছে রাফির। কোনমতে গিয়ে টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে গিয়ে বসে সে। চেয়ারে বসে টেবিলে হাত রাখতেও হাতে পরে ছোট এক টুকরো কাগজ যেখানে লিখা “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আসিফ রুমে আসে।
আসিফঃ মামা মন খারাপ নাকি? চুপ হয়ে আছেন যে?
রাফিঃ নাহ (নিচু কন্ঠে)
আসিফঃ মামা আজ কিন্তু পাশের বাড়ি যাওয়ার কথা। ঐ ফ্ল্যাটের লোকদের বলতে হবে ঐ বাচ্চাকে না মারার ব্যাপারে। আর মারলে পুলিশে খবর দিবো সেই হুমকিও দিতে হবে।
রাফি আসিফের মুকের দিকে তাকিয়ে বলে এখনি যাবো।
রাফি আর আসিফ ঐবাড়ি যায়। দুইতলার এই ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে মনে হয় না তেমন কেউ থাকে। অনেকবার বেল চাপার পর বাড়ির কেয়ার টেকার দরজা খুলে দেয়।
কেয়ারটেকার ঃ কি চাই?
আসিফঃ আমরা পাশের বাড়ীর দোতালায় থাকি।
কেয়ারটেকারঃ তো ।
আসিফ ঃ এই বাড়ির দোতালার বাসিন্দাদের সাথে আমরা একটু কথা বলবো।
কেয়ারটেকারঃ হাহাহাহাহা, এই বাড়িতে কেউ থাকে না আমি ছাড়া। আমি নিচের এই গ্যারেজে থাকি।
রাফি; মানে ? কেউ থাকে না আর?
কেয়ারটেকারঃ নাহ। মালিকরা ২২দিন হয় বিদেশ চলে গেছে।
রাফিঃ মালিকের নাম কি ?
কেয়ারটেকারঃ মিঃ সাইদ।
রাফি আসিফের কাধে হাত দিয়ে প্রায় পরে যেতে থাকে। আসিফ কোনমতে ধরে ফেলে।
রাফিঃ বাড়ির কাজের মেয়ের নাম কি আনিকা ছিলো?
কেয়ারটেকারঃ হ্যা। ফাজিল মাইয়া। এইটুকু বয়সে এক পোলার লগে ভাইগা গেছে।
আসিফ আর রাফি চলে আসে। রাফির নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কোন কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। বারবার তার চোখে আনিকার মুখ ভেষে উঠছে, আনিকার কান্না, থরথর করে কাপা আনিকার দেহ, আনিকার লেখা চিঠি “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আনিকা কেনো রাফির কাছো আসলো।
আসিফ ঃ মামা আমি ঘটনা কিছু বুঝলাম না। ঐবাসায় কেউ থাকে না, কিন্তু প্রতি রাতেই আমরা কান্নার শব্দ, চিৎকার শুনতে পাই। ঐবাড়িতে কি তাহলে ভুত আছে?
রাফিঃ ঐবাড়িতে আনিকা আছে, আনিকার আত্তা আছে।(কাপা কাপা কন্ঠে)
আসিফঃ মানে? কি বলছেন কিছুই বুঝছি না। আর হলোটা কি আপনার?
রাফি আসিফকে সব বলে। সব শুনে আসিফও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ওরা কি করবে বুঝতে পারছে না।
দারোয়ানকে অনেক বলে কয়ে বাসার ছাদের চাবি নিয়ে ছাদে যায় রাফি। রাফির যখন মন খুব বেশি খারাপ থাকে সে তখন ছাদে যায়। ছাদে গিয়ে খোলা আকাস দেখলে তার মনটা একটু ভালো হয়।
ছাদের এককোনায় গিয়ে বসে রাফি। সিগারেট ধরায় আর আনিকার কথা ভাবছে। হটাত তার পিছন থেকে কাধে কোমল একটা হাত স্পর্শ করে, হকচকিয়ে পিছনে ফিরে তাকায় রাফি। পিছনে ফিরে দেখে নীলা এসেছে নীল শাড়ী, কালো টিপ, খোলা চুল আর হাতে একগুচ্ছ নীল চুরি। যদিও পিছনে ফিরে সে আনিকাকে দেখতে চেয়েছিলো।
রাফিঃ এতদিন পর এলে যে ?
নীলাঃ তুমি তো ছাদে আসো না, ভুলে গেছো আমায়।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি আমার কাছে আসো কেনো? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
নীলাঃ ভালোবাসি বলেই তো আসি।
রাফিঃ তাহলে বাস্তবে আসো না কেনো?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আমি মধ্যবিত্ত বলে? তুমি উচ্চশিক্ষিত বলে?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি ভালোবাসো বলে আমার কাছে এসেছো। কিন্তু আনিকা আমার কাছে কেনো আসল? তাও এই রকম একটা পরিস্থিতি নিয়ে।
নীলাঃ আনিকারা ভালোমানুষের কাছে আসে। বিশ্বাসীদের কাছে আসে। আনিকারা মুক্তি পেতে আসে।
রাফিঃ হ্যা মুক্তি। আনিকা একটা চিরকুঠ লিখে গিয়েছিলো সেখানে লিখা ছিলো “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়””” ।
নীলাঃ আনিকার লাশ ঐ পানির হাউস থেকে উদ্ধার কর। ওর জানাজার ব্যাবস্থা করো ।
রাফিঃ কিভাবে? কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না। আনিকাকে কেউ বিশ্বাস করবে না, যেমন কেউ তোমার অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না।
নীলাঃ আনিকার গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করো। সব ঘটনা তার মাকে বলো, সে বিশ্বাস করবে তোমার কথা।
রাফিঃ আর নীলা তুমি?
নীলা কোন উত্তর দেয় না। ধীর পায়ে হেটে চলে যায়। রাফি পিছন থেকে চেয়ে দেখে।
রাফি নিজের ঠিকান গপন রেখে সব ঘটনা আনিকার বাবার কাছে চিঠি লিখে পাঠায়। কিছুদিনপর আনিকার বাবা পুলিশ নিয়ে এসে বাগানের ভিতর তল্লাশি চালায় এবং পানির টাংকি থেকে আনিকার পরনের জামা সহ কংকাল উদ্ধার করে।
( পুরো গল্পটিই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই)
আমার লেখা আরো গল্প পরতে লাইক দিন আমার পেজে ঃ https://www.facebook.com/arshipon15/