বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

রোদেলা কাব্য


#রোদেলা_কাব্য

লেখা : MD Asadur Rahman – Shipon

#প্রেতাত্তার_লেখা_গল্প







পৃথিবীতে অনেক অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে, যেখানে গেলে অতি বেদনাসিক্ত মনটাও শান্ত হয়ে যায়। আমিও দেশের ভিতর এমন অনেক জায়গায় গিয়েছি, ভালোও লেগেছে খুব। কিন্তু...............

কিন্তু ধানমন্ডি লেকের পাশে জাহাজ বাড়ির পাশ দিয়ে সন্ধ্যার পর নির্জন রাস্তায় হাটার চাইতে বেশি ভালো লাগা আর কোথাও পাইনি...............

হাতে সিগারেট, কানে হেডফোন। একটু নির্জন জায়গায় বসে তোমাকে ভাবা। মনে হয় তুমি জীবন্ত। মানে আমার পাশেই বসে আছো। তোমার সাথে কথা বলি। তোমার হাত ছুয়ে দেই, তোমার চোখে চোখ রেখে হারিয়ে যাই আমি। সত্যি অসাধারন মূহুর্ত কাটে সেখানে। যদিও তুমি কল্পনায় আসো। তারপরেও ভালো।

প্রিয় চাকরীটা হটাত করে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। নতুন চাকরি খুজছি। রোজার মাস সামনে, তারপরেই ঈদ। আর রোজা, ঈদ মানে মধ্যবিত্ত পরিবারের বড়ছেলের জন্য একরকম অভিশাপ।কথাটা শুনে হয়তো অনেকেই ক্ষেপে যাবেন, কিন্তু যারা আমার মত পরিস্থিতিতে আছে তারা বুঝতে পারবেন। যাক এই কথায় আর না আসি।

রোজার আগে একবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। আচ্ছা আগে বলি আমি কে। আমি দুপুর, থাকি বসবাসের প্রায় অযোগ্য কিন্তু আমার প্রিয় শহর ঢাকায়। আমার গ্রামের বাড়ীও ঢাকা, তবে শহর থেকে একটু দূরে। মাসে দুই তিনবার বাড়ি আসা হয়। রোজার আগে এবার আসলাম, রোজার মধ্যে বা ঈদের আগে আর আসবো না। খরচ কমাতে হবে, সামনে ঈদ।

বাড়িতে নরমালি দিনে ঘুমাই আর বিকেল বা সন্ধ্যায় বের হই। আর এর মধ্যে দুই একবার নিকোটিনের সাথে ডেট দেওয়ার জন্য বাইরে বের হওয়া, এছাড়া বাসায়।

বাসা থেকে বের হয়ে বাজারের দিকে যাচ্চি নিকোটিন এর সাথে প্রেম করতে। হটাত পেছন থেকেঃ

সাইদঃ কাকা , কাকা দাড়াও।

আমিঃ কিরে কি হয়েছে?

সাইদঃ তোমার জন্য একটা গিফট আছে।

আমিঃ গিফট? আচ্ছা দে।

সাইদঃ আগে কিছু খাওয়াও।

আমিঃ আজব ব্যাপার তো, গিফট নিতে হইলে আবার কিছু খাওয়াইতে হয় নাকি?

সাইদঃ শুনো, তোমার রোদেলার তো মনে হয় বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। জন্ম নিবন্ধন করতে আসছিলো। তখন ছবি নিয়ে আসছিলো। এখন ৫০০ টাকা দাও আর ছবি নাও।

প্রায় ৯ বছর হয় মেয়েটিকে দেখি না। অথচ প্রতিটা মুহুর্ত, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন-রাত সে আমার কল্পনায় আছে।

আমিঃ আমার কাছে এখন ৫০০ নাই

সাইদঃ আচ্ছা কাকা যা আছে দাও

পকেটে ৩০০টাকা ছিলো সেটি দিয়ে তার পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি নিয়ে নিলাম। তারপর নিকোটিন এর সাথে সঙ্গম শেষ করে বাসায় ফিরে সোজা ছাদের চলে গেলাম। ট্রাউজারের পকেট থেকে ছবিটি বের করে অপলক দৃষ্টিতে রোদেলাকে দেখলাম। কি মায়া রোদেলার চোখে। 

আমি তাকিয়ে আছি, হটাত কাদতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন রোদেলার কথা ভেবে কাদা হয় না। কিন্তু কান্নাও আসছে না। মনে পরে গেলো ছোটবেলার কথা।

আমি আর রোদেলা প্রাইমেরি স্কুলটা একই স্কুলে পরেছি। আমি যখন ক্লাস ফাইভে সে তখন ক্লাস থ্রি। অসম্ভব

কিউট একটা মেয়ে। আমরা বলি না কিউটের ডিব্বা, ওর ক্ষেত্রে কথাটি মনে হয় সত্যি। ও আসলেই একটা কিউটের ডিব্বা।

ছোট থেকেই আমার ওকে ভালো লাগতো। ওকে দেখতে ভালো লাগতো। একদিন স্কুলে যাচ্ছি, বাসা থেকে রাস্তায় উঠার পর খেয়াল করলাম আমার একটু সামনেই রোদেলা।ওর পিছু পিছু যাচ্ছি। সামনে একটা লোক এসে রোদেলার গাল টিপে ধরলো। কালো করে, মুটু, গন্ডার। রোদেলা ঝাড়া দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো। আমার মেজাজটা গেলো খারাপ হয়ে, আমার গ্রামের মেয়ে, আবার আমার আত্তীয়ও বটে তার সাথে এই গন্ডার লোকটা এমন করলো।(তখনো ভালোবাসাটা কি সেটা বুঝি না)

হয়তো দুই একদিন পরে কোন এক বিকেলে আমি আর কুয়াশা ব্রীজ দিয়ে হেটে যাচ্ছি, নিচে দেখি ঐ গন্ডারটা। ব্রীজ থেকে নেমে এসে একটা ইট নিয়ে এসে ব্রীজের উপর থেকে ইট ছুড়ে মেরে গন্ডারটার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমি আর কুয়াশা ছাড়া আজই প্রথম আপনারা জানলেন।

ঘটনাটি মনে করে হাসতে লাগলাম। পাগলের মত একা একা হাসছি। ক্ষনিকেই আবার আমার হাসীটা বিলিন হয়ে গেলো। সাইদ বললো রোদেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমি রোদেলাকে ছাড়া বাচবো কি করে? অন্য কারো বউ হয়ে সে চলে যাবে? বুকের বা পাশে খুব কষ্ট হতে শুরু করলো। জানেন আমি এখনো রোদেলাকে নিজে প্রপোজ করতে পারিনি। অথচ ভালোবাসি প্রায় ৯ বছর। নিজে প্রপোজ করতে না পারলেও বন্ধুদের দিয়ে করিয়েছিলাম। নেগেটিভ রিপ্লে আসায় আর সামনে যাওয়া হয়নি। আর ওর আসে পাশে গেলেই আমার হাত-পা কাপাকাপি শুরু করে দেয়। বুক ধরফর ধরফর করে।

কিন্তু এবার তো সাহশ করে বলতেই হবে। কোণ এক কারনে রোদেলা আমাকে ঘৃনা করে। তার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ আমি। এর আগে এফবিতে কয়েকবার নক করেছিলাম। রিপ্লে তে এসেছিলো হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ হেট ইউ।





আবার পিছু লাগা শুরু করলাম। নতুন একাউন্ট খুলে আবার রিকোয়েষ্ট পাঠানো শুরু করলাম, তার বান্ধবীদের দিয়ে অনুরোধ, অনুনয় বিনয় করে ফ্রেন্ড লিষ্টে জায়গা পেলাম। ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ দিয়ে চ্যাটও শুরু করলাম। অনেকভাবে চেষ্টা করে অবশেষে বুঝাতে সক্ষম হলাম যে সে যে কারনে আমাকে ঘৃনা করে সেটা সম্পুর্ন ভূল।

রোদেলাঃ তাহলে আমি তোমাকে এতোদিন ভূল বুঝেছি?

দুপুরঃ হ্যা।

রোদেলাঃ এতোদিন তুমি কেনো বলোনি?

দুপুরঃ অনেকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু তুমি সুজোগ দাওনি।

রোদেলাঃ যাই হোক এতোদিন পর তাহলে তোমার সাথে কথা হলো। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে যে আমি তোমার সাথে কথা বলছি।

দুপুরঃ আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। একটু চিমটি কেটে দিবা?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহাহহা

দুপুরঃ তুমি খুব সুন্দর করে হাসো। আচ্ছা তুমি হাসলে কেমন লাগে?

(রোদেলা তার হাসীমাখা অসাধারন একটা ছবি দেয়)

রোদেলাঃ দেখো কেমন লাগে।

দুপুরঃ মাথা ঘুরাচ্ছে।

রোদেলাঃ কেনো?

দুপুরঃ এতো সুন্দর মুখ, এই রকম মন ভোলানো হাসি দেখলে তো মাথা ঘুরাবেই তাই না?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহা । আচ্ছা তোমার গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে?

দুপুরঃ আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। তোমার?

রোদেলাঃ আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। তবে বয়ফ্রেন্ড আছে এবং সে খুব ভালো আছে।

দুপুরঃ মাশাল্লাহ।

রোদেলাঃ তোমার গার্লফ্রেন্ড নেই কেনো?

দুপুরঃ আমার গার্লফ্রেন্ড হবে কে? গার্লফ্রেন্ড পেতে হলে সুন্দর, স্মার্ট হতে হয়।

রোদেলাঃ তুমি কম কিশে? তুমি তো অনেক কিউট।

দুপুরঃ হাহাহাহাহহাহা

রোদেলাঃ হাসো কেনো?

দুপুরঃ আচ্ছা তাহলে তুমি আমাকে এক্সেপ্ট করলে না কেনো?

রোদেলাঃ সত্যি কথা বলতে আমিও তোমাকে পছন্দ করতাম। কিন্তু সে সময়টা আমাদের পক্ষে ছিলো না।

দুপুরঃ হুম, আমার পোড়া কপাল।

রোদেলাঃ এইভাবে বলো কেনো। দেইখো তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে পাবা।

দুপুরঃ আমি তোমাকে কখনো সরাসরি প্রপোজ করিনি। আজ করি?

রোদেলাঃ দুপুর আমি এঙ্গেইজড।

দুপুরঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক অনেক ভালোবাসি। সেই ছোট থেকেই।

রোদেলাঃ তুমি পাগল হয়ে গেছো।

দুপুরঃ অনেক আগে থেকে।

রোদেলাঃ আচ্ছা অনেক রাত হয়েছে, আমি ঘুমাবো।

দুপুরঃ আমাদের কি আবার কথা হবে?

রোদেলাঃ জানিনা। তবে হতেও পারে।

দুপুরঃ আচ্ছা তুমি ঘুমাও। শুভ রাত্রী।

রোদেলাঃ শুভ রাত্রী।

সেদিন আর সারারাত আমার ঘুম হয়নি। স্বর্গীয় একটা সুখ অনুভব করছিলাম।

পরের দিন ভোরে উঠেই শুভ সকাল লিখে এসএমএস করি। তারপর রিপ্লে পাবার অপেক্ষা। সকাল গড়িয়ে দুপুর কিন্তু কোন রিপ্লে নেই। রাতে ঘুমানোর আগে আবার শুভ রাত্রী, এবার ও রিপ্লে নেই।

দুইদিন পর দুপুরের দিকে শুভ সকাল লিখে এস এম এস আসলো।

আমিঃ এখন শুভ সকাল?

রোদেলাঃ মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।

আমিঃ এতো দেরি করে যে?

রোদেলাঃ চাকরীটা ছেরে দিয়েছি। তাই এখন ফ্রি, দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে সমস্যা নাই।

আমিঃ নাস্তা করছো?

রোদেলাঃ এখনো সুয়ে আছি। উঠে ফ্রেস হয়ে রান্না করবো।

আমিঃ তাহলে তারাতারি উঠে রান্না করে খাও। অসুস্থ হয়ে পরবে।

রোদেলাঃ তুমি নাস্তা করছো?

আমিঃ আমি সকালে নাস্তা করি না। একেবারে লাঞ্চ করবো।

রোদেলাঃ নিজে নাস্তা করে না আবার আমাকে জ্ঞ্যান দিতে আসছে। যাও কিছু খেয়ে নাও। আর আমি ফ্রেশ হয়ে রান্না করি।

রোদেলা অফ লাইনে চলে যায়। আর আমি ভাবতে থাকি, আমি রোদেলার সাথে কথা বলছি। সেই রোদেলা যার জন্য আমি প্রায় ৯ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। যদিও সে এখন অন্য কারো। তবুও ভালোবাসার মানুষের সাথে কথা বলার যে অমৃত সুখ সেটা হয়তো আমি এখন আপনাদের বুঝাতে পারবো না।

আমি ফেসবুক ওপেন করে বসে আছি, রোদেলা অনলাইনে আসলেই নক করবো কথা বলবো। কিন্তু তার আসার খবর নেই। রাত ১টার দিকে সেই নক দেয়। মন খারাপ তার। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তার মন ভালো করার। কিন্তু এই বিষয়টাতে আসলে আমি অনভিজ্ঞ।

আমিঃ আচ্ছা তোমার ছোট সময়ের কথা মনে আছে?

রোদেলাঃ সব মনে নেই। কিছু কিছু মনে আছে।

আমিঃ সকালে একসাথে পরতে যেতাম।জানো আমার সকালে উঠতে খুব কষ্ট হতো, কিন্তু তারপরেও তোমাকে দেখার জন্যই শুধু সকালে উঠে পরতে যেতাম।

রোদেলাঃ মনে আছে। তুমি দরজা দিয়ে ঢোকার সময় অনেক কিউট একটা হাসি দিতে। আমি প্রতিদিন তোমার হাসি দেখতাম।

আমিঃ কিহ! তুমি আমার হাসি দেখতে? আর আমি তখন হাসতে জানতাম নাকি?

রোদেলাঃ হাহাহাহাহা। হাসতে জানতে না মানে? সত্যিই তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর, অনেক কিউট।

আমিঃ চাপা মাইরো না। জীবনে তো একবারও আমার দিকে ফিরেও তাকাও নাই।

রোদেলাঃ অনেক বার তাকিয়েছি। লুকিয়ে লুকিয়ে।

আমিঃ লুকিয়ে লুকিয়ে কেনো?

রোদেলাঃ সবাই ভাবতো তুমি আমি প্রেম করি, সেই ভয়ে। আর লজ্জাও লাগতো, কিন্তু বার বার দেখতে ইচ্ছে করতো।

আমিঃ আমাকে তোমার দেখতে ইচ্ছে করতো? ধন্য আমি।

রোদেলাঃ একটা কথা বলি?

আমিঃ অবশ্যই রুপকন্যা।

রোদেলাঃ নাহ থাক।

আমিঃ কেনো থাকবে?

রোদেলাঃ দুপুর আমি এঙ্গেইজড।

আমিঃ তো?

রোদেলাঃ ঘুম পাচ্ছে আমার। ঘুমাবো।

আমিঃ মন ভালো হয়েছে?

রোদেলাঃ অনেক অনেক। কিছুখনের জন্য সেই পিচ্চিকালে হারিয়ে গিয়েছিলাম।

আমিঃ ভালো লাগলো শুনে। যাও এখন ঘুমাও।

সেদিনের মত সে ঘুমিয়ে পরে। আমি কিছুখন বারান্দায় নিকোটিন সুখ নিয়ে বিছানার সাথে আলিঙ্গন করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পরি। তাকে স্বপ্ন দেখি। দেখি যে রোদেলা আর আমি রাস্তা দিয়ে হাটছি। রাস্তা পার হবার সময় ও আমার হাত ধরে, শক্ত করে ধরে। আমি অকৃত্রিম একটা সুখ, গভীর একটা ভালোবাসা অনুভব করি। হাহাহাহা, অল্প কিছুক্ষন পরেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় একটা ফোনে। ইউসুফ ফোন দিয়েছে।

আমিঃ হ্যালো দোস্ত, এতো সকালে যে?

ইউসুফঃ আরে পাঠা, এখন সকাল না। এখন সকাল ১১টা বাজে।

আমিঃ ওহ। অনেক রাতে ঘুমাইছি তো তাই।

ইউসুফঃ শোন, আগামী পরশু আমাদের অফিসে তুই একটা ইন্টারভিউ দিবি। ফরমাল ড্রেসে আসবি। আর সব ডকমেন্টের ফটোকপি নিয়ে আসবি।

আমিঃ কয়টায়?

ইউসুফঃ ঠিক ১১টায়। আমি তোকে অফিসের এড্রেস টেক্সট করে দিচ্ছি।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

ইউসুফের সাথে কথা শেষ করে ম্যাসেঞ্জারে ঢুকি। রোদেলা শুভ সকাল লিখে টেক্সট করেছে। আমিও শুভ সকাল লিখে টেক্সট করি। কিন্তু সে এখন অনলাইনে নেই। এরপর বেশ কিছুখন অপেক্ষা করি। রিপ্লে না পেয়ে ঘুমিয়ে পরি। ঘুম ভাঙ্গে প্রায় ৩টায়। ঘুম ভাঙ্গার পরপরই ম্যাসেঞ্জারে ঢুকি। রোদেলার ম্যাসেজ।

কেমন আছো?

কোথায় তুমি?

নাস্তা করছো?

লাঞ্চ করছো?

কোথায় তুমি?

ধুর ভাললাগেনা।

ম্যাসেজ দেখে একটু মুচকি হাসি। তারপর রিপ্লে দেই যে ঘুমিয়ে ছিলাম, সরি। কিছিক্ষন অপেক্ষা তারপর তার খোজ খবর না পেয়ে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করি। এসে দেখি এখনো রিপ্লে নাই। ম্যাসেজ দেই ঃ ০১৯৫৬৩৭৩২৭৩ এটা আমার নাম্বার, অনলাইনে আসলে ফোন দিও।

ম্যাসেজ দিয়ে ঘুমিয়ে পরি আমি। ঘুম ভাঙ্গে আবার সন্ধ্যায়। বাইরে বের হই, ৩২ এ গিয়ে চা খাই, ফ্রেন্ডেসদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরি। বাসায় ফিরে পিসিতে বসি, টুকটাক মডেলিং প্র্যাকটিস আর গান শোনায়ু ব্যাস্ত। হটাত একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে। বুঝতে পারি যে রোদেলার কল, কল কেটে দিয়ে ম্যাসেঞ্জারে আসি। এর পর শুরু হয় কথা। ম্যাসেজিং চলতে থাকে, তারপর অনেক রিকোয়েস্ট এর পর এক মিনিট ফোন কলে কথা বলার সুজোগ পাই। ওই পারের মিষ্টি হ্যালো কথাটি আমাকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। কিছুখন পর কেমন আছো, কি করছো এই সব বলে আমি নিজেই ফোন কেটে দেই। তারপর আবার ম্যাসেজিং। সারা রাত জেগে ম্যাসেজিং। এরপর দুই দিন এভাবে ম্যাসেজিং চলে, তারপর শুরু হয় ফোনে কথা বলা, রাত জেগে কথা বলা, একসাথে বেশ কিছুদিন ভোর হওয়ার সৌন্দর্য দেখেছি। একটা সময় সে স্বিকার করে সেও আমাকে পছন্দ করতো, ভালোবাসতো। ছোট বেলার সেই চিঠিটি সে আমার জন্যই লিখেছিলো।

আমি চাদকে ভালোবাসি, চাঁদ আমায় ভালোবাসে বলে। আমি সূর্যকে ভালোবাসি, সূর্য আমাকে ভালোবাসে বলে। আমি তোমায় ভালোবাসি তুমি আমায় ভালোবাসো বলে। চাঁদ যেমন সূর্যের আলোয় নিয়ে বেচে থাকে, তেমনি আমি তোমার ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকবো।

I Love You

(S+R)

চিঠিটি আমার হাতে পরেনি। ভূল ক্রমে সেটি তার মায়ের কাছ পর্যন্ত গিয়েছিলো। হয়তো সেই চিঠিটি তখন আমার হাতে আসলে গনেষ আজ অন্য কথা বলতো।

যাক সেই পুরোনো কথা। আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে চলে। আমাদের সম্পর্ক? কিশের সম্পর্ক আমাদের? আমি তাকে ভালোবাসি, সে এখন ভালোবাসে অন্যকাউকে, খুব শিঘ্রই তারা এক হবে। তাহলে আমাদের সম্পর্কটা কি? বন্ধুত্ব? আমি বন্ধুত্ব মানতে নারাজ, কারন যাকে ভালোবাসি তাকে বন্ধু মেনে নিতে পারছি না।

প্রথম দেখা। তার সাথে কথা ছিলো প্রথম স্যালারী পাওয়ার পর তাকে ফুসকা খাওয়াবো, রবিন্দ্র সরবরের চা আর গরুর চাপের সাথে লুচি খাওয়াবো।

আমি সরবরের পাশে লেকের ধারে বটতলায় বসে আছি। আমার হাতে একটা ব্যাগ। ব্যাগটা পাশে রেখে বসে আছি। কিছুক্ষন পরপর ব্যাগটা নাড়াচারা করছে। ব্যাগে কি আছে সেটা বলবো না, রোদেলার জন্য সারপ্রাইজ।ওকে বলবো বাসায় গিয়ে খুলতে। আমি ড্যাম শিউর ও খুব খুশি হবে।

বসে আছি, অপেক্ষায় আছি। অন্য সময় অপেক্ষা খুবই কষ্টদায়ক হলেও আজ তেমন কষ্ট লাগছে না। তবে কিছুটা ভয় ভয় লাগছে, ঘামছিও বটে। আচ্ছা এমন তো হয়নি যে রোদেলা এসেছিলো, আমাকে দূর থেকে দেখে ভয় পেয়ে চলে গেছে। হয়তো ভেবেছে তার মত এইরকম আহামরি একজন সুন্দরী কিভাবে এই রকম পিচ্চি একটা ক্ষ্যাত ছেলের পাশে বসবে, ভেবে হয়তো চলে গেছে।

কেমন আছো?

আমি দাঁড়িয়ে যাই, হাত পা মৃদ কাপছে, আর ঘামছিও মনে হয়। তার কথার উত্তর মুখ দিয়ে বের হচ্ছে হছে করে হচ্ছে না।

রোদেলাঃ কি হলো তোমার?

আমিঃ(আস্তে করে) ভালো আছো?

রোদেলাঃ (হালকা হেসে)তুমি আগে শক্ত হও। কাপছো তুমি।

আমি গিফটের প্যাকেটটা ওর কাছে এগিয়ে দেই। ও হাতে নিয়ে খুলতে যাবে আর তখনি

আমিঃ এই না, এখন খুলবে না। বাসায় গিয়ে খুলবে।

রোদেলাঃ কেনো?

আমিঃ এমনি।

এরপর ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হই। অনেক অনেক কথা বলি। মুখে নেকাব ছিলো, খুব দেখতেও ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু সাহস করে বলতে পারছিলাম না। ঠিক তখন এক ফুসকাওয়ালা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। আমি ডাক দিয়ে ফুসকা অর্ডার করি। আর ফুসকা খাওয়ার জন্য রোদেলা তার মুখ থেকে নেকাব খুলে আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে থাকি। পাক্কা ৯ বছরের বেশি পরে তাকে দেখলাম। ও মুখে নেকাব দিয়ে দেয়

রোদেলা ঃ এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমার লজ্জা লাগে।

আমিঃ ওহ সরি, আচ্ছা আর তাকাবো না। তুমি খুলে খাও।

নেকাব খুলে নেয়, আমি নিচ দিকে তাকিয়ে ফুসকা খাচ্ছি।

রোদেলাঃ আমি তাকাতে না করিনি, দেখতেও না করিনি। কিন্তু ঐভাবে তাকালে লজ্জা লাগে।

আমি মুচকি হেসে ওর দিকে তাকাই। রোদেলাও হাসে। ফুসকা খাওয়া শেষে গরুর চাপ খাই। মাঝে মাঝে অনেক কথা হয়। ছোট বেলার কথা, তার আর আমার কথা।

আমিঃ আচ্ছা রোদেলা তোমার মনে পরে?

রোদেলাঃ কি মনে পরবে?

আমিঃ স্কুল শেষে আমি তোমার পেছন পেছন আসতাম।

রোদেলাঃ হুম প্রায় মনে পরে। আমার ডাইরিতেও তোমার এই কথাগুলো লেখা আছে। আমি চাইতাম তুমি এসে আমার সাথে কথা বলো। কিন্তু বলতে না। তবে এটাও জানতাম তুমি আমার জন্যই আসতেছো।

আমিঃ হাহাহাহা। তুমিও তো পারতে আমার সাথে কথা বলতে। বলোনি।

রোদেলাঃ মেয়েরা চাইলেও অনেক কিছু পারে না।

আমিঃ আচ্ছা শুনো যেটা বলছিলাম। স্কুল শেষে তোমার পিছু পিছু আসছিলাম। তুমি আর তোমার বান্ধবী ছিলে। আমি পিছনে একা। হটাত বৃষ্টি। তোমাদের দুজনের হাতেই ছাতা ছিলো।আর আমি খালি হাতে ভিজে যাচ্ছিলাম। তুমি তোমার ছাতাটি তোমার বান্ধবীকে দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছিলে। মনে আছে?

রোদেলাঃ নাহ মনে নেই।

আমিঃ আচ্ছা তোমার স্কুল লাইফের ঐ কালো রঙের ছাতাটি কি এখনো আছে?

রোদেলাঃ নাহ।

আমিঃ তোমার সবুজ বোরখাটা?

রোদেলাঃ নাহ নেই। কিন্তু কেনো?

আমি ঃ নিয়ে নিতাম তোমার কাছ থেকে। তারপর রেখে দিতাম।

রোদেলা ঃ আচ্ছা আমার যে ছোটবেলার কিছু জিনিষ তোমার কাছে রেখে দিয়েছো সেগুলা কি করবে?

আমিঃ তোমার গায়ে হলুদের দিন সব পুরিয়ে দিবো।

রোদেলাঃ কেনো? ওহ এর পর বুঝি আমাকে আর ভালোবাসবে না? তাহলে গায়ে হলুদের দিন কেনো, বিয়ের দিন পুরিয়ে। একটা দিন আমাকে বেশি ভালোবেসো।

আমিঃ বিয়ের দিন আমি থাকবো না।

রোদেলাঃ কোথায় যাবে তুমি?

আমিঃ জানিনা।

রোদেলাঃ তুমি আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবে। আর ঐ যে একবার বলেছিলে যে আমাকে তুমি নীল শাড়ীতে স্বপ্নে দেখেছিলে, সেই রকম একটা নীল শাড়ী, নীল চুরী, নীল টিপ, আমাকে গিফট করবে বিয়েতে। আমি সেইগুলো পরে আবার তোমার বিয়েতে আসবো।

আমিঃ আহাহাহাহা । আমিতো বিয়েই করবো না। আর তোমার বিয়েতেও যাবো না। তবে এগুলা গিফট করবো।

রোদেলা ঃ বিয়ে করবে না কেনো? আমি তোমার জন্য মেয়ে পছন্দ করে দিবো। আমার পছন্দ করা মেয়েকেই তুমি বিয়ে করবে।

আমিঃ ততদিন হয়তো আমি বাচবো না।

রোদেলাঃ চুপ করো। (আমার শোনা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর বাক্য)

আমি চুপ করি, রোদেলাও চুপ। ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ওর চোখের পানি দেখে। ইচ্ছে করছে চিৎকার দিয়ে সরি বলি। কিন্তু

আমিঃ সারি রোদেলা।

রোদেলা। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি উঠি।

আমিঃ আচ্ছা আমি তোমাকে দিয়ে আসি।

রোদেলাঃ নাহ, আমি একাই যেতে পারবো।

আমিঃ এখান থেকে উত্তরা অনেক দূর, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি আসি তোমার সাথে।

রোদেলা না বলে হাটা ধরে। একবার পিছন ফিরে বলেঃ “প্লিজ দয়া করে ঐধরনের কথা আমার সামনে আর কখনো বলবে না। আমার খুব কষ্ট হয়। কেন কষ্ট হয় সেটা তুমি বুঝবেনা।“ আবার হাটা ধরে। আমি কিছুক্ষন একা বসে থেকে তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বাসার পথে হাটা দেই। আমি বুঝি, আমি বুঝি সে আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু এখন আর আমাদের সেই সুজোগ নেই। কিছু করার ও নেই।

বাসায় ফিরে আসি। সেদিন রাতে আর রোদেলার সাথে কথা হয়নি। সকালে ম্যাসেজে আমার দেওয়া গেফটের সাথে তার একটি কিউট মার্কা সেলফি পাঠিয়েছে, আর এত্তোগুলা থ্যাংকস। হাহাহাহহাহাহাহা

আবার কথা শুরু হয়। আমরা আরো কয়েকবার দেখা করি। ও আমাকে একটা একুরিয়াম গিফট করে, একটা ঘড়িও। আমাদের প্ল্যান করা হয় আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে বিয়ে দিয়ে আমরা বিয়াই বিয়াইন হবো, আর বৃদ্ধবয়েসে প্রেম করবো। রোদেলার একটা কথা আমার বেচে থাকার সম্বল জোগায়। কথা না, এটা ওয়াদা। ও আমার কাছে ওয়াদা করে মৃত্যুর পরের জীবনে ও আমার সঙ্গী হবে, এ জীবনেতো আর সম্ভব নয় কারন সে অলরেডী একজনের কাছে কমিটেড। এই ভরসা নিয়েই আমার জব চলতে থাকে, কথা চলতে থাকে লিখাও এখন টুকটাক। আর ঐদিকে রোদলার ও এমবিবিএস শেষ। ইন্টার্ন করছে। শেষ হলেই বিয়ে।

আমি খুব গভিরে চলে যাই। রোদেলার প্রতি দারুনভাবে উইক হয়ে পরি। আর যেহেতু তার বিয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই সে তার হবু হাজব্যান্ডকে এখন আগের চেয়ে সময় দেওয়া বেশি শুরু করে। যেটা সহ্য করতে আমার পক্ষে খুব বেশি কষ্ট হচ্ছিলো। আমি ধিরে ধিরে মাদকাশক্ত হয়ে পরি। এর মাঝে যে এতো সুখ সেটা আগে জানা ছিলো না।

একদিন রোদেলা আমায় জানায় সামনের মাসের শুরুতে তার বিয়ে। তাই সে এখন থেকে কথা বলা বাদ দিতে চায়। আমিও তাতে সম্মতি জানাই। এর দুটো কারন, ১ঃ তার সাথে কথা বলার বা ফিরিয়ে আনার বা জোর করার কোন অধিকার আমার নেই। ২ঃ আমি চাই না তার কোন ক্ষতি হোক বা সুখের সময় পিছুটান থাকুক।

আমি রোদেলার জন্য গিফট কিনি। নীল শাড়ী, একগুচ্ছো নীল চুড়ি, নীল টিপ, একটা ডাইরি, এক বক্স কালার পেন্সিল, ইররেজার। এই সব কিছু নীল একটা মোড়কে মুড়িয়ে রোদেলার এক বান্ধবীর কাছে জমা দেই। সে বিয়ের দিন পৌছে দিবে। আর আমি তার সমস্ত স্মৃতি পুরিয়ে দিয়ে কিছুটা প্রশান্তির জন্য কক্সবাজার যাবো। সাথে আছে বন্ধুরা।

আগামীকাল বিয়ে আর আজ গায়ে হলুদ। আমি এখন আমার বাসার ছাদে। সামনে রোদেলার সকল স্মৃতি। কিছুক্ষন পরেই পুড়িয়ে ফেলবো সব। ওর ব্যাবহৃত টিস্যু, আমার উদ্যেশে লেখা ওর প্রেমপত্র, পত্রিকায় দেওয়ার জন্য ওর লেখা কবিতা, ওর একটা ওড়না, চকলেটের খালি প্যাকেট, আর আমি ওকে গিফট করার জন্য কিছু চকলেট, কলম, কিনেছিলাম সেগুলো।

কেরোসিন তেলে ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেই। আমার সামনে পুরে যাচ্ছে সব, আর আমার বুকের ভিতরটাও পুরে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে, চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে। কাদছি আমি কিন্তু চিৎকার করতে পারছি না।

হটাত খেয়াল করি নিচে কিছু একটা হয়েছে, কেউ চিৎকার করছে। ইচ্ছে না থাকা সত্বেও নিচে নামতে হলো।

শিড়ি বেয়ে নিচে নেমে দেখি রোদেলা হলুদ শাড়ী পরে।

হ্যা, ও চলে এসেছে, আমাকে ভালোবেসে সব ভয় উপেক্ষা করে সে চলে এসেছে। সুধুই আমার হয়ে চলে এসেছে। এক দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে। আমি এবার আর থামতে পারলাম না, চিৎকার করে কাদতে কাদতে বলতে থাকলাম ভালোবাসি ভালোবাসি সুধুই তোকে ভালোবাসি।



ইউসুফঃ কিরে মামা কি হয়েছে? কাদছিস কেনো? রোদেলাকে স্বপ্নে দেখছিলি নাকি?

ইউসুফের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আর ভেঙ্গে যায় এতো মধুর একটা স্বপ্ন। রোদেলার সাথে দেখা, কথা বলা, একসাথে খাওয়া, আবার নাকি সে তার বিয়ে রেখে আমার কাছে চলে আসা। এগুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ৮ ঘন্টার জার্নির ঘুমের স্বপ্নেই সম্ভব, আমার মত পোড়া কপালে রোদেলা নেই। স্বপ্নটা অনেকটা সিনেমার মতো হয়ে গেলো।

আজ সত্যিই রোদেলার বিয়ে আর সেই জন্যেই বন্ধুদের সাথে আমি কক্সবাজার। ওর জন্য আরেকজনের নামে গিফট পাঠিয়ে দিয়ে এসেছি, কিন্তু রোদেলা জানবে না। রোদেলার হয়তো আমার কথা মনেই নেই। এখনো হয়তো আমাকে ঠিক আগেই মতই ঘৃনা করে। হয়তো তার কাছে এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষটি আমি। এইভাবে কারো কাছে খারাপ মানুষ হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই হয়তো ভালো। মৃত মানুষকে হয়তো রোদেলা আর ঘৃনা করবে না।

ইউসুফঃ দোস্ত চল চলে এসেছি।

আমিঃ হ্যা, চল নামি।

নীরবঃ আগে রুম বুক করে আসি।

মাহাদীঃ হুম ঘুম পাচ্ছে আমার।

আমিঃ তোরা রুমে গিয়ে ঘুমা। আমি বিচে যাবো।

আরিফঃ এখন রাত ৩টা বাজে। এই রাতে বিচে গিয়ে কি করবি তুই?

আমিঃ সাগরের ঢেউ এর শব্দ শুনবো।

নীরবঃ আচ্ছা ও যাক, ওর মন খারাপ। সাগরের কাছাকাছি গেলে হয়তো ভালো লাগবে।

মাহাদীঃ আচ্ছা তোর ব্যাগ দে। আমি নিয়ে যাই। তুই একটু পর আসিস।

আমিঃ নাহ। ব্যাগে একটা অক্টোবর এল আছে, এটা লাগবে।

আরিফঃ এলকহোল নিবি নে। কিন্তু সাগরে নামবি না ভূলেও।

আমিঃ আচ্ছা।

ওরা হোটেলের জন্য চলে যায়। আমি বিচে যাই। বালির উপর বসি। কিছুখন সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকি। রোদেলার কথা মনে পরে। ছোট ওর সেই পাগল করা হাসীর কথা মনে পরে। স্কুল শেষে ওর পিছু পিছু আসার দৃশ্য আমার সামনে ভেষে আসে। আমি ব্যাগ থেকে বোতল টা বের করে গিলতে থাকি। কিছুখন পর ইচ্ছে করে পা টা একটু পানিতে ভিজিয়ে আনি। সামনে এগিয়ে যাই, খালি পায়ে পানিতে হাটি। আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। খেয়াল করি মাথাটা ঘুরছে, হাতপা অবশ হয়ে আসছে। পিছনে ফিরে যাবার আর কোন শক্তি নেই আমার। খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি পরশুদিন সকালে দেশের প্রায় অনেকগুলো পত্রিকায় ছাপা হবে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যুবকের পানিতে ডুবে মৃত্যু .......................................



( পুরো গল্পটিই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই)

আমার লেখা আরো গল্প পরতে লাইক দিন আমার পেজে ঃ https://www.facebook.com/arshipon15/ ।

এছাড়া আমার সাইটেও পাবেন ঃ http://arshipon.blogspot.com/

শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

স্পর্শ ( ফালতু রোমান্টিক গল্প )





স্পর্শ
ফালতু রোমান্টিক গল্প।
(পড়ে সবাই সময় নষ্ট করবেন না প্লিজ)
লেখা : Md Asadur Rahman - Shipon

রোদের সাথে লুকোচুরি। পগলা ঘুরি, হাওয়ায় উরি। এমনি নাকি হয় শুনেছি। ভালোবাসলে পরে।
মিরাজ : কিরে মামা, প্রেমে পরলি নাকি?
দুপুর : আমি নারে মামা। সে।
মিরাজ : সে টা কে আবার?
দুপুর : প্যাক প্যাক।
মিরাজ : প্যাক প্যাক? এই ধরনের মানুশের সাথে জগতে একমাত্র তোরই পরিচয় ঘটে।
দুপুর : মেয়েটির নাম রোদেলা। আমি অবশ্য ১টা নাম দিয়েছি তার। হাসের বাচ্চা।
মিরাজ: তো তুই কি এখন এই হাসের বাচ্চা প্যাক প্যাক এর প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : নাহ। আমি না। তার ভাষ্যমতে সে আমার প্রেমে পরেছে। নাহ আমার না, আমার লেখা কবিতার।
মিরাজ : যাক। অবশেষে তাহলে তুই ১টা গার্লফ্রেন্ড পেলি।
দুপুর : আরে না। আমি এই প্রেম টেমের মধ্যে নেই। আর আগামী শুক্রবার মেয়েটির বিয়ে।
হটাত পাশে ঘুমিয়ে থাকা ইউসুফ লাফ দিয়ে উঠে
ইউসুফ : মামা কি বলিস তুই? তুই এখনো ওই মেয়েকে উঠিয়ে আনতে যাস নাই?
মিরাজ: তুই না ঘুমিয়ে ছিলি? প্রতিদিন রান্না করার সময় তুই ঘুমের ভান ধরে থাকিস।
ইউসুফ : মামা থাম না। এখন দুপুরের প্রেম অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতেছি। প্যাচাইস না।
দুপুর : আমি প্রেম ট্রেমের মধ্যে নাই ভাই। মেয়ে মানুশ আর নাগিনী সাপ সমান কথা।
ইউসুফ : মেয়েটা দেখতে কেমন? থাকে কোথায়?
দুপুর : দেখতে খারাপ না। থাকে চিটাগাং।
মিরাজ : বিয়ে কবে?
দুপুর : এইতো শুক্রবার। মানে পরশু।
ইউসুফ : মেয়েটা কি বলে আর তুই কি বলছিস।
দুপুর : এই তো প্রপোস করলো সেদিন। যদিও অনেক আগে থেকে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট আর মাঝে মাঝে লাভ রিয়াকশন দিত। আমি না করে দিছি। এখব সে যাস্ট একবারের জন্য আমাকে সামনে থেকে দেখতে চায়। আগামিকাল নাকি সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।
ইউসুফ : চল মামা উঠ। এখন ৭ টা বাজে। রেডি হয়ে রওনা দেই।
মিরাজ : তাহলে রান্না বন্ধ করে দেই।
দুপুর : মানে কি? কোথায় যাবি তোরা?
মিরাজ : মেয়েটার সাথে দেখা করতে। সে তোকে ভালোবেশে একবারের জন্য দেখা করতে চেয়েছে আএ তুই তার সেই কথাটা রাখবি না?
দুপুর : আমি তো তাকে ভালোবাশি না।
ইউসুফ : তোর ভালোবাসার খ্যাতা পুরি। যাইতে চাইছি যামু।
দুপুর : আমার কাছে কোন টাকা নাই।
মিরাজ : তুই বিয়া করতে যাইতেছিস না যে তোর টাকা লাগিবে, মেয়েটার শেষ ইচ্ছে পুরন করতে যাচ্ছি।
ইউসুফ : মিরপুর থেকে আরিফ আর নজরুল কে নিয়ে জুয়েল এর বাসায় যাবো। জুয়েলের মত বিসনেস ম্যাডনেট থাকতে কেন যে তোরা এতো টাকা পয়সা নিয়ে টেনশন করস বুঝি না আমি।
দুপুর : ওকে। চল তাহলে।
কিছুখনের মধ্যেই মিরপুর সারে ১১ এর বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর ২ থেকে আরিফ আর নজরুল কে উপস্থিত হয় জুয়েল এর বাসায়। দুপুররা জুয়েলের বাসার গেটে এসে দেখে ঝিলু ভাই বাসা থেকে বের হচ্ছে। ওহ ঝিলু ভাই হলো জুয়েলের বড় ভাই।
ঝিলু ভাই চলে গেলেন গ্রামে
তারমানে জুয়েল এখন ঝামেলামুক্ত।
জুয়েল : কিরে তোরা সবাই একসাথে এই রাত ৯ টার দিকে। কোন মতলব আছে নাকি?
আরিফ : দোস্ত দুপুর ওর জিএফ এর সাথে দেখা করতে যাবে।
জুয়েল : ভালো কথা। যাক। আমার এখানে কি?
মিরাজ : ওর জিএফের বিয়ে শুক্রবার। শেষবারের মত দেখা করতে যাচ্ছে। চিটাগাং।
দুপুর : ধুর বাল। সেই সকাল থেকে আমার জিএফ জিএফ মারাইতেছে। আমার কোন জিএফ নাই। তোরা বার বার বলতেছিস। তাই যাচ্ছি।
জুয়েল : দেখতে কেমনরে মামা?
নজরুল : তোর জাইনা লাভ কি চুদনা? যা রেডি হ।
জুয়েল রেডি হয়। জুয়েল এর বাসায় রাতে খেয়ে বের হতে হতে ১১ টা বেজে যায়। সেখান থেকে কমলাপুর আসে। এসে দেখে ট্রেনের টিকিট নাই। মন খারাপ করে বাস ধরার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। ট্রেনে চরার মজাই আলাদা। দুর্ভাগ্য ট্রেনের টিকিট পেলো না।
হটাত করে পিছন থেকে এসে একজন ডাক দেয়। তার কাছে নাকি টিকিট আছে। তবে ন্যায্য মুল্যের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি দিতে হবে। ১০০ টাকা বেশি দিয়েই নিয়ে নিলো টিকিট। আনন্দ - ফুর্তি করতে করতে ট্রেনে উঠে পরলো ওরা। সারা রাত জেগে কাটাবে। রাত জাগার ব্যাবস্থাও আছে। এই তাস আছে, সিগারেট আছে, আরিফ গিটার নিয়ে এসেছে। এগুলা করেই সারারাত কাটিয়ে দিবে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু রাত ২টার পর পরই ঘুমিয়ে পরে সব গুলো। জেগে থাকে দুপুর আর নজরুল।
দুজন দুজনের সাথে নিজেদের মনের দু:ক্ষের কথা শেয়ার করছে। এই পেত্নী টেত্নীর কথা আরকি। ভোরের দিকে এই দুজন ও ঘুমিয়ে পরে। সকাল ৯ টার দিকে ঘুম ভাংগে ওদের। ঘুম থেকে উঠে দেখে ইউসুফ আর জুয়েলের ব্যাগ, আরিফের গিটার আর মিরাজের জুতা নাই। ট্রেন স্টেশনে এসে হাজির। ওরা গভীর ঘুমে ব্যাস্ত ছিল আর তখন কোন ভদ্রলোক সুজোগ বুঝে তার কার্য সম্পাদন করেছে। যাক মোবাইল ব্যাংকিং আর ব্যাংক গুলোর এটিএম সুবিধার কারনে এখন আর কেউ মানিব্যাগে অতিরিক্ত টাকা রাখে না। তাই টাকা পয়সার তেমন ক্ষতি হয়নি।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে মিরাজের জুতা কিনে ১টা হোটেলে বসে নাস্তা করে।
আরিফ : (দুপুরকে উদ্দেশ্য করে) শালা তোর জন্য আমার গার্লফ্রেণ্ডের দেওয়া গীটার টা হারাইলো।
দুপুর : আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে।
মিরাজ : ৩৯৯ টাকা দিয়ে এপেক্স থেকে ৭০% ডিসকাউন্টে জুতাটা কিনছিলাম। গেলো সেই জুতাটা।
জুয়েল : আমার ব্যাগে তেমন কিছু ছিল না। যাস্ট কয়েকটস RC ছিলো আর কি।
নজরুল : শালা সব জায়গায় ধান্দা খুজে।
ইউসুফ : আমারটার কথা আর নাইবা বললাম। কিন্তু আমরা যার সাথে দেখা করতে আসছি তার সাথে কখন দেখা করবো?
দুপুর : আমরা না, শুধু আমি দেখা করবো।
মিরাজ : তাহলে আমরা আসছি কেন?
দুপুর : পতেঙ্গা সি বিচে ঘুরতে।
আরিফ : আচ্ছা কখন দেখা করবি? সময় নিছিস?
দুপুর : নাহ। এখনো জানানো হয়নি যে আমি ওর সাথে দেখা করতে এসেছি। দারা ফোন দেই ওকে।
দুপুর ফোন দেয় ওকে। রোদেলা শুনে খুব খুশি হয়। সে জানায় দুপুর ১২ টার দিকে সে আসবে দেখা করতে দুপুরের সাথে। স্থান হলো সি বিচ।
সময় এখনো অনেক হাতে আছে। তাই সবাই মিলে চিটাগাং শহরে ঘুরছে।
দুপুর ১২ টার আগে চলে আসে সি বিচে। ১২ টার কিছু পর রোদেলা ফোন দেয় যে সে এসেছে।
কালো ১টা জামা পরে এসেছে, হাতে চুরি আছে। চুল গুলো খোলা। চোখে কাজল পরেছে। গায়ের রঙ দুধে আলতা। তাই আর নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে কতটা সুন্দর লাগছে রোদেলাকে।
রোদেলা : কেমন আছেন আপনি?
দুপুর : ভালো। তুমি?
রোদেলা : ভালোবাসার মানুষকে ছেরে যে মেয়ের অন্য ১টি ছেলের সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে সে কতটা ভালো থাকতে পারে?
দুপুর : কেনো তুমি আমাকে ভালোবাসো? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না।
রোদেলা : কেউ কাউকে কেনো ভালোবাসে সেই উত্তর আজো কেউ দিতে পারেনি। আমিও আজ পারলাম না। আর আপনি ভালবাসেন না বলেই তো আমাকে আজ এত কষ্ট পেতে হচ্ছে। যদি ভালবাসতেন তাহলে হয়তো আমরা দুজনেই অনেক সুখি হতাম। ( রোদেলা কেদে দেয়)
দুপুর : প্লিজ কাদবে না। কাল তোমার বিয়ে। সো আমাকে ভুলে যাওয়ায় কি ভালো না?
রোদেলা : হয়তোবা। আপনি আমার অনুরোধে ঢাকা থেকে দেখা করতে চলে এসেছেন। অসংখ ধন্যবাদ আপনাকে। আমাত আরেকটা কথা রাখবেন?
দুপুর : রাখার মত হলে অবশ্যই রাখবো।
রোদেলা : আমি আপনার হাত ধরে বিচের পাশ দিয়ে একটি খালি পায় হাটতে চাই।
দুপুর : নাহ। আমি এই অনুরোধটা রাখতে পারবো না।
রোদেলা : প্লিজ।
দুপুর : সরি।
রোদেলা : ওকে। তাহলে আমি কি আপনার হাতটা একটু ধরতে পারি? যাস্ট একটু স্পর্স চাই আপনার। সারাজীবন বেচে থাকার জন্য এই সম্বলটুকু প্লিজ আমাকে দিন।
দুপুর : ঠিক আছে।
রোদেলা তার নরম শীতল হাত দিয়ে দুপুরের হাত ধরে, দুপুরের চোখের দিকে তাকায়, পানি ঝরে পরে মেয়েটির দুচোখ দিয়ে। মাথাটা নিচু করে দুপুরের হাতে ১টা চুমু খেয়ে পিছনে দোরে চলে যায় রোদেলা। দুপুর তাকিয়ে থাকে।
বিকেলে আরিফ, নজরুল, মিরাজ,জুয়েল,ইউসুফ আর দুপুর মিলে চিটাগাং ঘুরে বেরায় ফয়েজ লেকে। সেখান থেজে সন্ধ্যার আগে আবার বিচে আসে।
জুয়েল : ওই দুপুর একা একা হাটছে কেন? কথাও কম বলছে।
আরিফ : মনে হয় প্রেমে পরছে মেয়েটার।
ইউসুফ : চল দেখি কি হইছে।
দুপুরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ওরা।
মিরাজ : ওই কি হইছে তোর?
ইউসুফ : তুই নাকি মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিস?
আরিফ : আবার নাকি প্ল্যান করছিস মেয়েটা কে নিয়ে পালাবি?
দুপুর : ধুর কি যে বলিস না। ওই সব কিছু না।
নজরুল : তাহলে মন মরা হয়ে আছিস কেনো?
দুপুর : কোথায়? আমি তো সব সময়ই এমন।
মিরাজ : দেখ মামা। বুঝে শুনে কথা বল। আজ গায়ে হলুদ, কাল বিয়ে। যদি ভালোবেশে থাকিস তাহলে যা করার এখনি করতে হবে।
ইউসুফ : তোর চোখ বলছে তুই মেয়েটার প্রেমে পরেছিস।
দুপুর : আজাইরা কথা বলিস না তো। ওই বিয়ে করলে বউ নিয়া রাখবো কই? খাওয়াবো কি? আর একবার ও এই কথা বলবি না।
দুপুরের ফোনে কল আসে। রোদেলা ফোন দিয়েছে। দুপুর ফোন ধরে।
দুপুর : হ্যালো
রোদেলা : আপনারা।ক চলে গেছেন?
দুপুর : নাহ। আজ রাতে এখান থেকে সেন্টমার্টিন যাবো।
রোদেলা : ( কাদো কন্ঠে) আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আপনি কি আমাদের বাড়ীর সামনে একটু আসতে পারবেন?
দুপুর : আমি তো চিনি না তোমাদের বাড়ী।
রোদেলা : আমি টেক্সট করে দিচ্ছি।
দুপুর ওদের জানায় যে রোদেলা ফোন দিয়েছিল। সে রোদেলার সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ির সামনে যাবে।
ওরা সবাই রোদেলার বাড়ির সামনে যায়। ফোন দেয় রোদেলাকে। রোদেলা জানায় বাড়ির পিছন দিকে ১টা বাগানের মত আছে, সেখানে অপেক্ষা করতে। দুপুররা সেখানে প্রায় আধ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর রোদেলা আসে।
নীল শাড়ী, কালো টিপ, লাল আর নীল চুরি, কাজল চোখ আর খোপায় ফুল। দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গ থেকে সয়ং নীলপড়ি নেমে এসেছে। দুপুর চোখ সরাতে পারছিল না। হা করে তাকিয়েছিল রোদেলার দিকে।
রোদেলা : আপনারা কখন যাবেন?
দুপুর : রাত ১০ টার দিকে।
রোদেলা : নীল শাড়িতে আমাকে কেমন লাগছে?
দুপুর : রপকথার গল্পের পড়ির মত।
রোদেলা : নীল শাড়ি পরা আপনার পছন্দ। আমার কালো শাড়ি ভালো লাগতো। কিন্তু এখন নীল শাড়ী।
দুপুর : কেনো?
রোদেলা : কারন, আমি আপনাকে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। ( জরিয়ে ধিরে দুপুরকে রোদেলা)
দুপুর : ভালোবাসা কষ্ট দেয়। আর সবাই ভালোবাসা পাবার যোগ্য না, যেমন আমি। ( দুপুর তার দুই হাত দিয়ে শক্ত করে আর জরিয়ে ধিরে রোদেলাকে। দুপুরের চোখ বেয়ে পানি পরে। তবে তার কান্না সে আর বিধাতা ছাড়া কেউ দেখিতে পায় না)
দুপুর : আমাকে মাফ করে দিও প্লিজ। আমি তোমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না।
এই বলে রোদেলার কপালে চুমু খায়।
দুপুর : তোমার এই স্পর্শ আমার সারা জিবনের সম্বল। কখনোই ভুলবো না।
রোদেলা : আর এই স্পর্শই হয়তো আমাকে সারাজীবন কাদাবে। খুব ভালোবাসি যে তোমায়।
দূর থেকে সব দেখছিল দুপুরের বন্ধুরা।
আরিফ : শালা কি করলি তুই এইটা?
দুপুর : কি করলাম আমি?
মিরাজ : মেয়েটা তোকে কত ভালবাসে আর তুই মেয়েটা কে ছেরেদিলি?
দুপুর : এখান থেকে চল।
সেখান থেকে চলে আসে সবাই। দুপুরের মন আগের থেকেও আরো খারাপ হয়ে যায়। ১টার পর ১টা সিগারেট খেতে থাকে। ১টা হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বাসে উঠে। বাস কিছু দূর যাওয়ার পর দুপুর লাফিয়ে উঠে।
দুপুর : এই বাস থামান ড্রাইভার। আমি নামবো।
ড্রাইভার বাস থামায়। নামতে থাকে দুপুর। তখন পিছন থেকে মিরাজ ওরা ডাক দেয়।
মিরাজ : এই কি হইছে তোর? নামবি কেনো?
দুপুর : রোদেলার কাছে যাবো। ওর স্পর্শ আমায় ডাকছে।
জুয়েল : গাধাটা মানুশ হচ্ছে। চল সবাই নামি।
দুপুর : তোরা নামবি কেনো?
আরিফ : তুমি যখন তোমার বউকে আনতে যাবে তখন যে তোমার সালারা আটকে রাখবে তখন ছাড়াবে কে?
বাস থেকে নেমে যায় ওরা সবাই। চলে আসে রোদেলার বাড়ির সামন। দোতালা বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে রোদেলা কে ফোন দেয় দুপুর। ফোন ধরে রোদেলা।
রোদেলা : হ্যালো
দুপুর : একটা বারান্দায় আসবে?
রোদেলা ফোন কেটে দিয়ে বারান্দায় আসে। দুপুর নিচে দারিয়ে আছে। দুপুর দুপা গেরে বসে পরে। আর চিৎকার করে বলে।
প্রীয়তমা। ভালোবাসার কোমল স্পর্শের কাছে আমি হার মেনে গেছি। এই মন সারাজীবন স্পর্শ পেতে চায় তার ভালোবাসার মানুশের। আমি কি পাবো আমার ভালোবাসার মানুশের স্পর্শ?
রোদেলার চোখ বেয়ে পানি ঝরে পরে। শিরি বিয়ে নিচে নেমে আসে জরিয়ে ধরে দুপুরকে।
রোদেলা : আই লাভ ইউ।
দুপুর : লাভ ইউ এ লট।
দূর থেকে নজরুল আর ইউসুফ দোরে আসে।
নজরুল : অনেক প্রেম হইছে এখন ভাগ। বাড়ির লোক জেগে গেছে। ওই দেখ আসতেছে।
ইউসুফ : মামু মামীকে নিয়ে এখন পালাও তা না হলে মামীকেও হারাবা, মাইরের মাইরও খাবা, জেল খাটবে ফাও।
সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওরা রোদেলাকে নিয়ে। পিছনে পিছনে অনেক দূর প্রযন্ত ওদের তারিয়ে বেরায় রোদেলার পরিবারের লোকেরা। যদিও ধরতে পারে না।
ঢাকা এসে বিয়ে হয় শিপনের আর রোদেলার। এর কিছুদিন পর পারিবারিক ভাবে যোগাযোগ করে আবার অনুষ্টান করে দুই পরিবারের নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
আমার লেখা আরো গল্প পুরতে চাইলে লাইক দিন আমার পেজে আর গল্ল নিয়ে আপনার মতামত দিন।
পেজের লিংক : www.facebook.com/arshipon15/

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প

একটি মধ্যবিত্ত ভৌতিক গল্প
লেখা : MD Asadur Rahman - Shipon

নীলা : এতো রাতে ছাদে কি করো?
রাফি : তুমি? তুমি আবার?
নীলা : হ্যা আমি। আমি ছাড়া কে আসবে আর বলো?
 রাফি : হুম সেটাই।
নীলা : আচ্ছা তুমি সিগারেট খাও কেনো? জানো সিগারেট কতটা ক্ষতি করে?
রাফি : নিকোটিন আমাকে সুখ দেয়। আমাকে ভাবতে শিখায়। সবচেয়ে বড় কথা নিকোটিন তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো ভুলে থাকতে সাহায্য করে আমাকে।
 নীলা : আমাকে অনেক ভালোবাসো তুমি তাই না?
রাফি : ভালোবাসা কি জানিনা। তবে.......
নীলা : থামলে কেনো?
রাফি : আমাকে নিচে ডাকছে। আমি আসি।
নীলা : আমি তোমার কাছে আসলে, তোমার পাসে বসলেই তোমার যত সব কাজ পরে। যাও তুমি।
 রাফি চলে আসে। নীলা ছাদের কোনে চুপ করে বসে থাকে।
(পরেরদিন সকাল)
 ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই দরজায় নাড়া পরে। রাফি ব্রাস হাতে নিয়ে দরজা খুলে দেয়। বাড়িওয়ালা এসেছেন। বয়স্ক লোক, মুখভর্তি দাড়ি। দেখতে খুব শান্তশিষ্ট মনে হলেও লোকটা এক নাম্বারে বদের হাড্ডি। বাসার ভাড়া ৫ তারিখ এর জায়গায় ৬ তারিখ হলেই চেঁচামেচি শুরু করে। আর মাঝে মাঝে বাসায় ঢুকে এটা সেটা নিয়ে অভিযোগ তো থাকবেই। যাস্ট ছাদটা আছে বলে আর নীলার জন্য এই বুইড়া খাটাস এর বাড়িতে আছে সে।
রাফি : কাকা কেমন আছেন?
বাড়িওয়ালা ঃ ভালো ।
রাফিঃ আজ তো ৩ তারিখ। আমি ৫ তারিখের মধ্যেই আপনার বাসার ভাড়াটা দিয়ে দিবো।
বাড়িওয়ালা : ভিতরে আসতে পারি স্যার ?
রাফি : আপনার বাড়ি, আপনি আসবেন না। আসেন।
বাড়িওয়ালা ভিতরে ঢুকে এক এক করে সব রুম, টয়লেট খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে।
বাড়িওয়ালা : আমার এতো সুন্দর বাসাটাকে একদম শেষ করে দিছে। এর জন্যই ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া ঠিক না।
 রাফি : কাকা আপনার বাসাতো ঠিকই আছে। আমি তো কোন কিছুই করিনি। এমনকি দেয়ালে একটা পেরেকও মারিনি।
বাড়িওয়ালা : আবার মুখে মুখে তর্ক, তর্ক করো আমার সাথে?  খুব হেটম হয়ে গেছে? যাও.........
রাফি : কোথায় যাবো?
বাড়িওয়ালা : এই বাড়িতে তোমার আর থাকতে হইবো না। আমি আর আমার বাসায় ব্যাচেলর রাখুম না। আমি ৫০০০ টাকা বেশি ভাড়ায় এই বাসা এক ফ্যামিলিকে ভাড়া দিছি। তারা ৫ তারিখ সকালে এই বাসায় উঠবে। তার আগেই তুমি বাসা খালি করবা।
 রাফি : (রাগান্বিত কন্ঠে) মগের মল্লুক নাকি? আজ ৩ তারিখ আর আপনি এসে বলবেন ৫ তারিখ বাসা খালি করে দিতে হবে আর আমি খালি করে দিবো। এডভ্যান্স দেওয়া আছে আমার। বাসা খালি করার একমাস আগে নোটিস দিতে হবে। এটাই আইন।
বাড়িওয়ালা : আমাকে আইন শিখাও? জজ্ঞি কইয়া পুলিশে ধরাই দিমুনে তখন বুঝবা। রাফি : যান এখান থেকে, আমি বাসা ছাড়বো না। কি করবেন করেন।
বাড়িওয়ালা : দাড়াও দেখতাছি।
বাড়িওয়ালা চলে যায়। রাফি হাত মুখ ধুয়ে ছাদে এসে কিছুখন বসে তারপর অফিসের দিকে রওনা দেয়।
রাফি ছোট একটা ফার্মে চাকরি করে, বেতনও অল্প । জনাব খান হেলাল রাফির বস। রাফি প্রায় প্রতিদিনই অফিসে লেট করে আসে। এটা একরকম ওর অভ্যাস হয়ে গেছে।
রিওন ঃ রাফি তুই আজও দুই ঘন্টা লেট করে আসলি। এভাবে করতে থাকলে তো একদিন ভাইয়া খেপে গিয়ে তোকে অফিস থেকে বের করে দিবে।
রাফি ঃ আর বলিস না ভাই, বাড়িওয়ালা আজ হটাত করে বলে এই ৫ তারিখে বাসা ছারতে হবে। উনার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে দেরি হয়ে গেলো।
রিওন ঃ আচ্ছা এখন কাজ কর কথা কম বল , কান হেলাল ভিতর থেকে সব দেখতেছে।
রাফি কোন রকম অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে এসে ছাদে উঠে। প্রতিদিনের মত ছাদের কোনায় গিয়ে বসে। একটু পরেই নীলা আসবে, নীলার সাথে কিছুখন সময় দিয়ে আজ ঘুমিয়ে পরবে।
পিছন থেকে নীলা রাফির কাধে হাত রাখে
রাফি ঃ আবার তুমি ?
নীলা ঃ এমন ভাব করো যে আমি সারাদিন তোমার পিছনে লেগে থাকি , সারাদিনে এইটুকুই সময়ই তো কথা বলি।
রাফি ঃ কেমন আছো ?
নীলা ঃ ভালো না। গতকাল রাতে তোমাকে নিয়ে একটা দূঃস্বপ্ন দেখেছি । একটু সাবধানে থেকো ।
রাফি ঃ হাহাহাহাহাহা। তুমি আমাকে নিয়ে টেনশনও করো ?
নীলা ঃ হ্যা আমি তোমাকে ভালোবাসি আর তোমাকে নিয়ে টেনশন করবো না ?
রাফি ঃ ভালোবাসলে চলে গিয়েছিলে কেনো ? কেনো আমাকে এই ছাদে কেদে জ্ঞ্যান হারাতে হয়েছিলো ?
নীলা উঠে চলে যায়। রাফি পকেট থেকে সিগারেটের বের করে ধরায় । কিছুখন পর নিচে শব্দ পেয়ে নিচে গিয়ে দেখে দুইজন পুলিশ তার রুমের সামনে।
রাফি ঃ কোন সমস্যা ?
পুলিশ ঃ আপনি কে ?
রাফি ঃ আমি রেদওয়ান রাফি ।
পুলিশ ঃ ওহ তুই তাইলে সেই জজ্ঞি । চল থানায় চল।
পুলিশ রাফিকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে রাফি পুলিশ স্টেশনের নাম্বার থেকে তার বসকে ফোন দিয়ে আসতে বলে । খান হেলাল সাহেব এসে রাফিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এই শর্তে যে রাফি ঐ বুড়োর বাসা ছেরে দিবে।
খান হেলাল ঃ এখন কোথায় উঠবি রাফি ?
রাফি ঃ জানিনা।
খান হেলাল ঃ আজকের মত কোন বন্ধুর বাসায় গিয়ে থাক ।
রাফি ঃ হুম।
রাফি সালাউদ্দিনকে ফোন দেয়। সালাউদ্দিন জানায় তারা ৫ তারিখ নতুন বাসায় উঠবে সেখানে একটা সিট খালি আছে চাইলে শেয়ার করে থাকতে পারে।
৫ তারিখ সকালে নতুন বাসায় সালাউদ্দিনের সাথে উঠে রাফি। রাফির রুমের রাফির সাথে আরেকজন থাকবে । সালাউদ্দিনের এক বোনের ছেলে আসিফ। আসিফ একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছে ।
নতুন বাসার ছাদের উঠার পারমিশন নেই। তাই আর ছাদে যাওয়া হয় না রাফির। রুমের সাথে বড় বারান্দাটাই এখন রাফির অবসর সময়ের সঙ্গী। এখন আর নীলার সাথে দেখা হয় না। রাফি মাঝে মাঝে আগের বাসার সামনে গিয়ে হাটাহাটি করে কিন্তু নীলার দেখা পায় না । পাবে কি করে ? রাফি ধানমন্ডি আর নীলা উত্তরা।
এতোদিনে আসিফ আর রাফির খুব ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে ......
রাত ২টা বাজে
আসিফ আর রাফি সুয়ে সুয়ে কথা বলছে এমন সময় একটা বাচ্চার চিৎকার শুনতে পায়।
আসিফ ঃ মামা কিছু শুনেছেন ?
রাফি ঃ হ্যা।
আসিফ ঃ মামা আমি কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতেই এক বাচ্চার চিৎকার, কান্নার শব্দ শুনতে পাই।
রাফিঃ হুম। আমিও, মনে হয় পাশের বাসার ফ্ল্যাটে কোন বাচ্চা আছে ।
আসিফঃ হ্যা সেটাই হবে। কিন্তু এই রকম ভয়ানক চিৎকার করে কেন? ভয় পেয়ে যাই । হাহাহাহাহাহাহা(হেসে উঠে দুজনে)
পরেরদিনও সন্ধ্যায় রুমে ফিরে আসে রাফি। এসে বারান্দায় বসে সিগারেট ধরায়। সিগারেট তানছে এমন সময় সে খেয়াল করে পাসের ফ্ল্যাটে টয়লেট থেকে মৃদ কুকিয়ে কুকিয়ে কান্নার শব্দ আসছে। ঠিক সেই সময় সালাউদ্দিন বারান্দায় আসছে।
সালাউদ্দিন ঃ কিরে পাগলা কি করিস ?
রাফি ঃ এইতো নিকোটিন এর সাথে প্রেম করছি।
সালাউদ্দিনঃ কেন তোর নীলা তোর কাছে আসে না ?
রাফিঃ হাহাহাহাহা। আচ্ছা দোস্ত পাসের বাসা থেকে মনে হয় কান্নার শব্দ আসছে শুনতে পাচ্ছিস ?
সালাউদ্দিনঃ কই ? আমি তো কিছু শুনতে পাচ্ছি না।
রাফিঃ আচ্ছা বাদ দে ।
সালাউদ্দিনঃ তুই কি আবার ভুত নিয়ে গবেষনা শুরু করলি নাকি ?
রাফি ঃ আরে না, গল্পটল্প লেখা বাদ।
সালাউদ্দিনঃ লিখ না দোস্ত আবার ভুতের গল্প। খুব মিস করি।
রাফিঃ দিন গুলো হারিয়ে গিয়েছে বন্ধু।
এর মধ্যে আসিফ চলে আসে। তিনজন মিলে গল্প করে তারপর রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে শুয়ে ঘুমিয়ে পরে।
হতাত মাঝ রাতে আসিফ রাফিকে ডেকে তুলে।
আসিফ ঃ মামা, মামা উঠেন।
রাফি ঃ কি হইছে মামা ?
আসিফ ঃ ঐ বাচ্চাটা দেখেন কিভাবে চিৎকার করছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আসেন ঐ ফ্ল্যাটে গিয়ে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করি।
রাফি ঃ নাহ এতো রাতে যাওয়াটা ঠিক হবে না।
আসিফ ঃ বারান্দায় গিয়ে দেখি আসেন।
রাফি আর আসিফ বারান্দায় যায়। কিছুক্ষন পর কান্না থেমে যায়।
আসিফ ঃ দেখছেন মামা আমাদের মনে হয় দেখেছে। তাই মাইর থামিয়ে দিয়েছে।
রাফি ঃ কিন্তু ঐবাসায় কোন আলো নেই কেনো? দরজা জানালা সব সময় বন্ধ কেনো?
আসিফ ঃ মামা জানেন ঐ পিচ্চি মাঝে মাঝে গোং্যায় । ঐ শব্দ গুলো খুব কানে লাগে, অসহ্য একটা ব্যাথা অনুভব করি।
রাফি ঃ এগুলা নিয়ে দিনে আলোচনা করা যাবে, এখন চলো ঘুমাই। সকালে অফিস আছে ।
রাফি আর আসিফ এসে ঘুমিয়ে পরে।
সকাল ৭টায় আসিফ ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে চলে যায়। আর রাফি ঘুমিয়ে থাকে।
আজ রাফির প্রচন্ড ঘুম। কাথামুরি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম জেনো তাকে আজ শক্ত করে জরিয়ে ধরেছে, কোনভাবেই বিছানা থেকে উঠতে দিচ্ছে না। এদিকে এক এক করে ফ্ল্যাটের সবাই যার যার কাজে বেরিয়ে গেছে।
দুপুর ১২টাঃ
কে জেনো রাফির পায়ের কাছে কাথা ধরে টানছে। রাফি ধিরে ধিরে চোখ খুলে দেখে একটা ৮/৯ বছরের বাচ্চা মেয়ে তার কাথা ধরে টানছে ।
রাফি ঃ কে তুমি ? ডিস্টার্ব করছো কেনো ?
মেয়েটি ঃ ভাইয়া চা খাবেন ?
রাফি ঃ কে তুমি ?
মেয়েটিঃ আমার নাম মিম, আমি কাজের মেয়ে।
রাফি ঃ এইটুকু পিচ্ছি কাজের মেয়ে ? খালার মেয়ে তুমি ? তার সাথে আসছো ?
মিমঃ চা খাবেন না? আমার চা খাইলে মজা পাইবেন।
রাফি ঃ আচ্ছা যাও চা বানাইয়া নিয়ে আসো, আমি আরেকটু ঘুমাই।
মিম মিনিট ১০ পরে এক মগ চা বানিয়ে নিয়ে এসে রাফিকে ডেকে উঠায়।
রাফি ঃ বাহ! আজ অনেকদিন পর বেডটি পেলাম । আগে বাড়ি গেলে আম্মু বেডটি করে দিতো ।
মিমঃ আপনার আম্মায় আপনারে অনেক আদর করে তাই না?
রাফিঃ হুম। কেন তোমার মা তোমাকে আদর করে না?
মিমঃ আমি তো কাজের মেয়ে, মায়ের সাথে থাকি না। বাড়িওয়ালা আর ম্যাডাম এর সাথে থাকি।
রাফিঃ উনারা আদর করে না ?
রাফি কথাটি বলে মিমের দিকে তাকায়। মিমের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। রাফি খেয়াল করে দেখলো মেয়েটির চেহারায় একটা আলাদা মায়া আছে। ওর হাতে ছ্যাকার দাগ।
রাফিঃ তোর মালিক কি তোরে মারে ?
মিম ঃ ভাইয়া আপনি তো গল্প লেখেন তাই না ?
রাফিঃ কে বলছে তোমাকে ?
মিমঃ ভাইয়া ঐযে তনু, মিতু, খাদিজা, ঐ আপাদের নিয়ে তো অনেকেই অনেক গল্প লিখছে তাই না?
রাফিঃ তোমার কি ফেসবুক একাউন্ট আছে ? এতোকিছু কি করে জানো?
মিমঃ আমার ম্যাডামের আছিলো।
রাফিঃ মিম তুমি কিন্তু চা টা অসাধারন বানিয়েছো।
মিমঃ ধন্যবাদ ভাইয়া। (একটু থেমে) ভাইয়া আপনি তো ভূতের গল্প লিখেন তাই না?
রাফি ঃ হুম । তুমি ভূত ভয় পাও না?
মিমঃ ভাইয়া আমি একটা গল্প জানি, শুনবেন?
রাফিঃ মিম আমি তোমাকে প্রশ্ন করলে এরিয়ে যাও কেনো?
মিমঃ ভাইয়া আরেক মগ চা করে নিয়ে আসি, চা খান আর গল্প শুনেন।
মিম কথাটি বলেই রাফির হাত থেকে মগ নিয়ে দৌড় দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। এইফাকে রাফি আবার কাথামুরি দিয়ে সুয়ে পরলো এবং যথারিতি ঘুমিয়ে পরলো । একটা মানুষ যে কিভাবে এতো ঘুমাতে পার সেটা আমার বুঝে আসেনা। সোয়ার সাথে সাথেই ঘুম।
কিছুক্ষন পর মিম আবার এসে ডেকে তুলে চা দেয়।
রাফি ঃ বলো তোমার গল্প।
মিমঃ আচ্ছা শুনেন।
রাফিঃ (চায়ের কাপে মুখ দিয়ে) বলো।
মিমঃ আমার গল্পের মাঝে কিছু বলবেন না, সুধু শুনবেন।
রাফিঃ তুই তুমিতো খুব সুন্দর করে কথা বলো, কাজের মেয়েরা কি এতো সুন্দর করে কথা বলে। আচ্ছা তোমার গল্প বলো, আমি কথা বলবো না। এই চুপ।
মিমঃ
    গ্রামের নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আনিকা। কোন এক কারনে হাটাত আনিকার বাবা আর্থিকভাবে খুব সমস্যায় পরে। এতোটাই খারাপ অবস্থা যে আনিকার স্কুলের খরচ পর্যন্ত জোগার করতে পারছিলো না। কিন্তু আনিকার বাবার খুব স্বপ্ন আনিকা অনেক পড়ালেখা করবে, ডাক্তার হবে। কিন্তু তার আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় আনিকার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এমন সময় আনিকার বাবা তার পাশের গ্রুপের একবন্ধুর সাথে কথা বলে। বন্ধুর ছেলে সাইদ সাহেব। সে ঢাকায় একটা ব্যাংকে চাকরি করে। কিছুদিন আগে এক বাচ্চা হয়েছে তার।
সাইদ সাহেব এর বাবা আনিকার বাবাকে প্রস্তাব করে যে সে তার ছেলের বাসায় রেখে আনিকাকে পরাবে। আনিকা ঢাকাতে পরবে । আনিকার সব খরচ আনিকার বাবার বন্ধুর ছেলে সাইদ দিবে। আর আনিকা থাকলে সাইদ সাহেবের বাচ্চার মাঝে মাঝে দেখাশুনা করবে।
আনিকার বাবা তার বন্ধুর প্রস্তাবে খুব খুশি হন। বাসায় এসে আনিকার মা এর সাথে পরামর্শ করলে সে প্রথমে নারাজ হলেও আনিকার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়।
আনিকা ঢাকায় আসে। ঢাকা তার ভালো লাগে না। চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে হয় সারাদিন তাকে। সে আশায় থাকে সাইদ সাহেব ছুটি পেলে তাকে নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবে। কিন্তু না, স্কুলে যাওয়া হয় না আনিকার। প্রথম প্রথম সাইদ সাহেবের বাচ্চার দুধ গরম করে দেওয়া আর সাইদ সাহেবের স্ত্রী গোসলে গেলে বাচ্চার পাশে বসে থাকতে হতো, আর এখন আনিকাকে বাসার সব কাজ করতে হয়। একজন কাজের মেয়ে যা যা করে সব কাজ করে আনিকা।
ধিরে ধিরে আনিকা অতিষ্ট হয়ে উঠে। কাজে তার মন বসে না, বাবা মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু জানেন ভাইয়া ওরা আনিকাকে তার বাবা মায়ের কাছে যাওয়া তো দুরের কথা তাদের সাথে ফোনে কথা বলতে দিতো না।
রাফিঃ আনিকা কি তোমার পরিচিত?
মিমঃ ভাইয়া আমি আগেই বলেছি আপনি কোন কথা বলবেন না গল্পের মাঝখানে।
রাফিঃ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। তবে তুমি কাদছো, তোমার চোখ দিয়ে পানি পরছে । তুমি কান্না থামিয়ে গল্প বলো।
মিমঃ
আনিকার মন আর কাজে নেই তাই কাজে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভুলের জন্য তার উপর শারিরিক অত্যাচার শুরু হয়। একদিন কি হয় জানেন ভাইয়া, আনিকা ভাতের পাতিল থেকে ভাত বেড়ে দিচ্ছে সাইদ সাহেবের প্লেটে। একটু ভাত চামচ থেকে পরে গিয়ে সাইদ সাহবের হাতে পর। সাইদ সাহেব উহ! করে চিৎকার দিয়ে আনিকার হাতটা টেনে নিয়ে গরম ভাতের পাতিলে ঢুকিয়ে রাখে। আনিকা চিৎকার করে কাদতে থাকে। কিন্তু কেউ আনিকার কান্নার শব্দ পায় না।( মিমের চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝড়ছে)
সুধু সাইদ সাহেবই নয় ছোট ছোট ভুলের জন্যও সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকাকে মারধোর করত। সাইদ সাহেবের স্ত্রীর ব্লাউজ স্ত্রি করতে গিয়ে সামান্য পুরিয়ে ফেলার অপরাধে তিনি আনিকার পিঠে গরম স্ত্রির ছ্যাকা দিয়েছিলো।
রাফিঃ এতো ছোট মেয়েটি কিভাবে এই গল্প বলছে আমার মাথায় ধরছে না। আচ্ছা বলো।
মিমঃ একদিন সাইদ সাহেবের স্ত্রি তার একবোনের বাসায় যায়, এবং রাতে আসতে পারবে না বলে জানায়। আনিকা রান্নাঘরে থাকতো। গভির রাতে সাইদ সাহেব এসে আনিকা তার বেড রুমে নিয়ে যায়। বিছানায় নিয়ে আনিকার সারা শরীরে হাত বুলায়। আনিকা ভয়ে ভয়ে বলে কি করছেন ভাইয়া, আমার ভালো লাগছে না, আমাকে ছেরে দেন, আমি ঘুমাবো। কিন্তু সাইদ সাহেব আনিকার কথায় পাত্তা দেয় না। আনিকার শরীরের জামাকাপর সব খুলে ফেলে। সারা শরীর কাপরে, আচরে ক্ষত বিক্ষত করে, আনিকার সাথে তারপর( মিমের হাত পা কাপছে, চোখ দিয়ে পানি, মুখে ভয়ের একটা ছাপ) বুঝতেই পারছেন কি করেছে। আনিকার অনেক রক্তক্ষরন হয়। সকালে সাইদ সাহবের স্ত্রী চলে আসে। স্ত্রী আনিকার আচরন দেখে সন্দেহ করে। বুঝছেনই তো ভাইয়া এতোটুকু একটা বাচ্চার সাথে এই পৌশাচিক আচরনের পরের সকালে তার আচরন কেমন হতে পারে। সাইদ সাহবের স্ত্রি আনিকা অনেক মারধর করে জিজ্ঞেস করে যে কি হয়েছিলো। গতকাল রাতের অত্যাচার আর সকাল দুপুরের মারধর আর সহ্য না করতে পেরে আনিকা সব বলে দেয়। এরপর রাতে সাইদ সাহেব আসলে তার স্ত্রি তাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয় । একসময় আনিকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে সব কথা। আনিকা বলে, আনিকার কথা শুনে সাইদ সাহেব আনিকাকে শরীরের সব শক্তি দিয়ে থাপ্পর মারে। আনিকা মাটিতে পরে যায়। সাইদ সাহেবের স্ত্রী আনিকার পেটে লাথি দিয়ে বলে এই মাগির মেয়ে উঠ, বল সব সত্য কথা। কিন্তু আনিকার উঠার শক্তি আর নেই। আনিকা না উঠায় তারা রেগে আরো মারতে থাকে। একসময় আনিকার দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। কিছুখন পর সাইদ সাহেবের সন্দেহ হয়। সে আনিকার হার্টবিট চেক করে দেখে আনিকা আর বেচে নেই।
রাফিঃ হোয়াট?
(মিম অঝরে কেদে চলছে, তার হাত পা কাপছে, কথা বলতে মুখ আটকে যাচ্ছে)
মিমঃ সাইদ সাহেব আর তার স্ত্রি ভয় পেয়ে যায়। কি করবে ভেবে পায় না। অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর তারা সিধ্যান্ত নেয় তাদের বাসার সামনের ছোট বাগানের মাঝে মাটিতে একটা পানির হাউস আছে সেখানে লাশ ফেলে রাখবে। সেই মত লাশ ফেলে দেয়। এবং তারা আনিকার বাড়িতে জানিয়ে দেয় যে আনিকা নাকি এক ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। সাইদ সাহেব এবং তার স্ত্রি তার কিছুদিন পরেই বিদেশে চলে যায়।
হটার রাফির ফ্ল্যাটের কলিং বেল বেজে উঠে।
রাফিঃ আনিকা তুমি বসো। ওহ সরি, মিম তুমি বসো কে জেনো এসেছে আমি দরজা খুলে দিয়ে আসি।
মিমঃ (মুচকি হেসে) আচ্ছা ভাইয়া।
রাফি দরজা খুলে দেয়। খালা এসেছে।
রাফিঃ খালা আপনি বাইরে গেলেন কখন?
খালা ঃ কি কন মামা, আমি আসলামই তো মাত্র।
রাফিঃ আপনি মাত্র আসলেন মানে? আপনার মেয়ে মিম তো সেই কখন এসেছে, এর মধ্যে আমাকে দুইবার চা বানিয়ে চা ও খায়িয়েছে।
খালাঃ কি যে বলেন না মামা। আমার মেয়ে আসবো কোথায় থেকে, আমার ত এক ছেলে।
খালার কথা শুনে রাফির মাথায় জেনো আকাস ভেংগে পরে। সে দ্রুত তার রুমে এসে দেখে সেখানেও কেউ নেই। তাহলে এতোখন তার সাথে কে কথা বললো? কে তাকে চা করে খাওয়ালো? চায়ের কাপ তো ঠিকই আছে। হাত পা কাপছে রাফির। কোনমতে গিয়ে টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে গিয়ে বসে সে। চেয়ারে বসে টেবিলে হাত রাখতেও হাতে পরে ছোট এক টুকরো কাগজ যেখানে লিখা “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আসিফ রুমে আসে।
আসিফঃ মামা মন খারাপ নাকি? চুপ হয়ে আছেন যে?
রাফিঃ নাহ (নিচু কন্ঠে)
আসিফঃ মামা আজ কিন্তু পাশের বাড়ি যাওয়ার কথা। ঐ ফ্ল্যাটের লোকদের বলতে হবে ঐ বাচ্চাকে না মারার ব্যাপারে। আর মারলে পুলিশে খবর দিবো সেই হুমকিও দিতে হবে।
রাফি আসিফের মুকের দিকে তাকিয়ে বলে এখনি যাবো।
রাফি আর আসিফ ঐবাড়ি যায়। দুইতলার এই ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে মনে হয় না তেমন কেউ থাকে। অনেকবার বেল চাপার পর বাড়ির কেয়ার টেকার দরজা খুলে দেয়।
কেয়ারটেকার ঃ কি চাই?
আসিফঃ আমরা পাশের বাড়ীর দোতালায় থাকি।
কেয়ারটেকারঃ তো ।
আসিফ ঃ এই বাড়ির দোতালার বাসিন্দাদের সাথে আমরা একটু কথা বলবো।
কেয়ারটেকারঃ হাহাহাহাহা, এই বাড়িতে কেউ থাকে না আমি ছাড়া। আমি নিচের এই গ্যারেজে থাকি।
রাফি; মানে ? কেউ থাকে না আর?
কেয়ারটেকারঃ নাহ। মালিকরা ২২দিন হয় বিদেশ চলে গেছে।
রাফিঃ মালিকের নাম কি ?
কেয়ারটেকারঃ মিঃ সাইদ।
রাফি আসিফের কাধে হাত দিয়ে প্রায় পরে যেতে থাকে। আসিফ কোনমতে ধরে ফেলে।
রাফিঃ বাড়ির কাজের মেয়ের নাম কি আনিকা ছিলো?
কেয়ারটেকারঃ হ্যা। ফাজিল মাইয়া। এইটুকু বয়সে এক পোলার লগে ভাইগা গেছে।
আসিফ আর রাফি চলে আসে। রাফির নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কোন কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। বারবার তার চোখে আনিকার মুখ ভেষে উঠছে, আনিকার কান্না, থরথর করে কাপা আনিকার দেহ, আনিকার লেখা চিঠি “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়”””
আনিকা কেনো রাফির কাছো আসলো।
আসিফ ঃ মামা আমি ঘটনা কিছু বুঝলাম না। ঐবাসায় কেউ থাকে না, কিন্তু প্রতি রাতেই আমরা কান্নার শব্দ, চিৎকার শুনতে পাই। ঐবাড়িতে কি তাহলে ভুত আছে?
রাফিঃ ঐবাড়িতে আনিকা আছে, আনিকার আত্তা আছে।(কাপা কাপা কন্ঠে)
আসিফঃ মানে? কি বলছেন কিছুই বুঝছি না। আর হলোটা কি আপনার?
রাফি আসিফকে সব বলে। সব শুনে আসিফও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ওরা কি করবে বুঝতে পারছে না।
দারোয়ানকে অনেক বলে কয়ে বাসার ছাদের চাবি নিয়ে ছাদে যায় রাফি। রাফির যখন মন খুব বেশি খারাপ থাকে সে তখন ছাদে যায়। ছাদে গিয়ে খোলা আকাস দেখলে তার মনটা একটু ভালো হয়।
ছাদের এককোনায় গিয়ে বসে রাফি। সিগারেট ধরায় আর আনিকার কথা ভাবছে। হটাত তার পিছন থেকে কাধে কোমল একটা হাত স্পর্শ করে, হকচকিয়ে পিছনে ফিরে তাকায় রাফি। পিছনে ফিরে দেখে নীলা এসেছে নীল শাড়ী, কালো টিপ, খোলা চুল আর হাতে একগুচ্ছ নীল চুরি। যদিও পিছনে ফিরে সে আনিকাকে দেখতে চেয়েছিলো।
রাফিঃ এতদিন পর এলে যে ?
নীলাঃ তুমি তো ছাদে আসো না, ভুলে গেছো আমায়।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি আমার কাছে আসো কেনো? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
নীলাঃ ভালোবাসি বলেই তো আসি।
রাফিঃ তাহলে বাস্তবে আসো না কেনো?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আমি মধ্যবিত্ত বলে? তুমি উচ্চশিক্ষিত বলে?
নীলাঃ জানিনা।
রাফিঃ আচ্ছা তুমি ভালোবাসো বলে আমার কাছে এসেছো। কিন্তু আনিকা আমার কাছে কেনো আসল? তাও এই রকম একটা পরিস্থিতি নিয়ে।
নীলাঃ আনিকারা ভালোমানুষের কাছে আসে। বিশ্বাসীদের কাছে আসে। আনিকারা মুক্তি পেতে আসে।
রাফিঃ হ্যা মুক্তি। আনিকা একটা চিরকুঠ লিখে গিয়েছিলো সেখানে লিখা ছিলো “““আনিকা ভালো নেই, আনিকা মুক্তি চায়””” ।
নীলাঃ আনিকার লাশ ঐ পানির হাউস থেকে উদ্ধার কর। ওর জানাজার ব্যাবস্থা করো ।
রাফিঃ কিভাবে? কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না। আনিকাকে কেউ বিশ্বাস করবে না, যেমন কেউ তোমার অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না।
নীলাঃ আনিকার গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করো। সব ঘটনা তার মাকে বলো, সে বিশ্বাস করবে তোমার কথা।
রাফিঃ আর নীলা তুমি?
নীলা কোন উত্তর দেয় না। ধীর পায়ে হেটে চলে যায়। রাফি পিছন থেকে চেয়ে দেখে।
রাফি নিজের ঠিকান গপন রেখে সব ঘটনা আনিকার বাবার কাছে চিঠি লিখে পাঠায়। কিছুদিনপর আনিকার বাবা পুলিশ নিয়ে এসে বাগানের ভিতর তল্লাশি চালায় এবং পানির টাংকি থেকে আনিকার পরনের জামা সহ কংকাল উদ্ধার করে।
( পুরো গল্পটিই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই)
আমার লেখা আরো গল্প পরতে লাইক দিন আমার পেজে ঃ https://www.facebook.com/arshipon15/