সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

*** অপেক্ষার কোন শেষ নেই, মৃত্যুই অপেক্ষার শেষ মুহূর্ত ***



 *** অপেক্ষার কোন শেষ নেই, মৃত্যুই অপেক্ষার শেষ মুহূর্ত ***


অপেক্ষা অনেকটা রংধনুর মত। প্রত্যেক অপেক্ষারই থাকে ভিন্ন ভিন্ন রং, ভিন্ন ভিন্ন ঢং, থাকে ভিন্ন রকম অনুভূতি।


আবার অনুভূতি গুলো হতে পারে ভালো লাগা বা ভালোবাসার, হতে পারে ভাল রাখার বা নিজে ভালো থাকার। হতে পারে কাছে আসার বা ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবার, হতে পারে খুব আনন্দের অথবা ভীষন কষ্টের।


আর এইসব অনুভূতি গুলোই হল মানুষের আপেক্ষিক অপেক্ষা। এইসব অনুভূতি গুলোই মানুষের মনের মাঝে বৃত্ত একে দেয়, চারিপাশ ঘিরে থাকে। বাঁচার জন্য যেমন অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনি বেঁচে না থাকার জন্যও।


হয়তো কেউ অপেক্ষা করছে ফোনের এপাশে হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে একটা প্রিয় মুখের ফোন আসবে বলে, আবার কেউ হয়তো ফোনের অন্যপাশে।


কেউ অপেক্ষা করছে এসএমএস রিপ্লাইয়ের জন্য, কেউ আবার নতুন একটা এসএমএস কিভাবে শুরু করবে সেটার জন্য।


কেউ অপেক্ষা করছে কাউকে অনলাইনে দেখার জন্য, কেউ অপেক্ষা করছে কারো নতুন একটা প্রোফাইল পিক দেখার জন্য।


কেউ অপেক্ষা করছে এক বুক আশা নিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করবে বলে, কেউ আবার অপেক্ষা করছে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা ফিরে আসবে বলে।


কেউ হয়তো একটু সুখের জন্য অপেক্ষা করছে বা কেউ আবার অপেক্ষা করছে দুঃখের সময় টা পারি দেবার জন্য।


কেউ অপেক্ষা করছে বহুদিন পর বাড়ি ফেরার জন্য, কেউ অপেক্ষা করছে পথের দিকে চেয়ে অনেক দিন পর সন্তান বাড়ি ফিরবে বলে।


কেউ অপেক্ষা করছে লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরির জন্য, অন্যদিকে আবার কেউ অপেক্ষা করছে মাস শেষ হলে বেতন টার জন্য।


হয়তো অপেক্ষা করছে সারাদি্নের ক্লান্তি শেষে রাতে একটু শান্তির ঘুমের জন্য, কেউ আবার নেহাত সারারাত জেগে আছে নতুন একটা ভোরের জন্য।


আমরা প্রতিটা মানুষই অপেক্ষা করছি। সেই জন্মের পর থেকেই এই "অপেক্ষা" নামক শব্দ টা শুরু হয়েছে, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেই যেতে হবে।


*** অপেক্ষার কোন শেষ নেই, মৃত্যুই অপেক্ষার শেষ মুহূর্ত *** 

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভাবনা

 


তাকিয়ে আমি তোমাকেই ভাবতাম !

তারাদের কেন ভাবিনি,

তোমাকেই কেন ভেবেছি ??

তবু তেমনি আছে সবকিছু,

............................

তারারা আছে, বিষণ্ণ রাত আছে,

হঠাৎ কালো হওয়া আকাশ আছে,

তুমিহীন আমিও আছি,

অদৃশ্য তুমি আরো কাছে এসেছ আমার,

হাত বাড়ালেই চলে যাও দূরে!!

অদৃশ্য তোমাকে কি ছোয়া যায়?

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জীবন

লেখালেখি থেকে প্রায় বিদায়ই নিয়েছি বলা চলে। নাহ, রাইটার ব্লক না। ভালো লাগে না। নিজেকে এখন  একা অন্ধকার খুপড়ী ঘরের মধ্যে বন্দী রাখতেই বেশি ভালো লাগে। কেমন জেনো সবার থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। কারো সাথে মিশতে ভালো না। ফোনে কথা বলাটা রিতিমত বিরক্ত লাগে। ফেসবুক থেকে সকল আত্তীয়স্বজন, প্রতিবেশিদের আনফ্রেন্ড করে দিয়েছি। ইন্ট্রোভার্ট হয়ে যাচ্ছি। ডিপ্রেশন আর ধোকা আমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। কবে জানি এই জীবনিকার অবষান ঘটাই।

অথচ একটা সময় ছিলোঃ 

অনেক অনেক বন্ধু। কারো সাথে ৫/১০ মিনিট কথা বললেই খুব ভালো বন্ধু হয়ে যেতাম। অদ্ভত সব গল্প, ধারাবাহিক, কবিতার জন্ম দিতাম। এখন সবই কল্পনা মনে হয়।

ফেসবুক আমার জীবনের অতন্ত গুরত্বপূর্ন অংশ। এই ফেসবুকের উছিলায় জীবনের সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনা ঘটে জীবনে। তারপর এই ফেসবুকই আবার বাচতে শেখায়। আবার ধোকা খাই। 

জেল খানায় বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছি বই পড়ে। অনেক বই পড়েছি। বের হবার পর লেখালেখি শুরু করি। ২০১৫ এর কথা Sh Ip On নামের আইডি তে ২৭০০০+ ফলোয়ার ছিলো। অসংখ্য বন্ধু ছিলো। এমনো পাঠক ছিলো যারা মাঝরাতে ফোন দিয়ে স্বামী স্ত্রী কথা বলতো। ঐ সময়টাই হয়তো ফেসবুকের গোল্ডেন টাইম ছিলো আমার জন্য। তারপর আইডিটি নষ্ট হয়ে যায়।

নতুন আইডি। নতুন করে লেখালেখি। কিন্তু আগের গল্প গুলো হারানোর একটা শোক কাজ করছিলো। ব্লগ খুলে নতুন করে লেখালেখি শুরু। ব্লগের দুনিয়ায় এসে দেখলাম আমার অনেক লেখায় এখন অন্যের নামে। আফসোস ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তারপরে নিজের গ্রুপ খোলা। নতুন কিছু বন্ধু। একসময় বন্ধু থেকে পরিবারের মত হয়ে গেলো। ভালোই চলছিলো। আর চাকরিটাও ছিলো বেশ। ঘোরাঘুরির উপর সারাবছর। 

সবার মতে আমার একটু আবেগ বেশি। আমিও মানি। অনেকের কাছে আমি খুব খারাপ। স্বাভাবিক। তবে আমি জানি আমি কেমন। 

একসময় খারাপ দিন আসা শুরু হয়। পরিবারের মধ্যে ঝামেলা। সবাই দূরে, আমিও ধিরে ধিরে সরে আসি। বুঝতেছিলাম কেউ ষড়যন্ত্র করতেছে। কিন্তু আজ পর্যন্তও তাকে খুজে পাইনি। খুজে পেলে ধন্যবাদ দিতাম। কারন তার কারনেই কাছের মানুষগুলোকে


চিনতে পেরেছিলাম।

এরপর ঘটে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনা। একটা ঘড় বানাচ্ছেন। প্রথমবার ভেংগে গেলে কষ্ট পেলেও আবার বানানো যায়। দ্বিতীয় বার খুব কষ্টে করে বানানো হয়। কিন্তু তৃতীয়বার ? তৃতীয়বার বানানোর পর সেটা ভেংগে গেলে কারিগরের মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই। 

আমি ঠিক সেই সময়টার সাথে যুদ্ধ করে বেচে আছি। লেখা আর মাথায় আসে না, মানে আমি শুন্য, সব হারিয়ে ফেলেছি জীবনের তরে যা ছিলো। সব দিক থেকে কালো থাবা গুলো তেরে আসছে আমার দিকে। আমি আর পারছি না। হয়তো খুব শিঘ্রই হারিয়ে যাবা পৃথিবী নামক নাট্য মঞ্চ থেকে।

যাদের সাথে মনমালিন্য তাদের কাছে অগ্রিম ক্ষমাপার্থী।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

নীল প্রজাপতি

#নীল_প্রজাপতি 
প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon 


নীলাভ মোমবাতির আলো,
নীল আকাশের নিচে,
নীল অর্কিডের উপর বসে,
নীল রঙের পাখা দু'টি নাড়িয়ে,
মনে দোল জাগায় নীল প্রজাপতি।
নীল শাড়ি অঙ্গে তার,
নীল জলে উড়াউড়ি,
নীল ভ্রমরের সাথে করে ঘোরাঘুরি,
ছুঁয়ে'দে এ মন নীল রঙে সারাক্ষন।
নীল পুঞ্জাক্ষির দৃষ্টিতে,
নীল বেদনা সঙ্গে নিয়ে,
নীল পাহাড়ে যাবো হারিয়ে,
ভালবাসার রঙ মেখে,
যাবো নীল প্রজাপতিকে অর্ধাঙ্গিনী করে, নীল জোছনার আলোয় ভেসে।

নীল প্রজাপতি তার ছোট পাখনায় ভর করে উড়ে উড়ে চলছে। ক্লান্ত সে, অবিস্রান্ত সে। মাঝখানে গাছের পাতায় বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেওয়া। তারপর আবার উড়ে চলা পাখনামেলে। উড়তে উড়তে ছোট এক অট্টালিকার জানালায় গিয়ে বসে। খোলা জানালা।


সারাদিন ব্যাস্ত অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে দুপুর । সদ্য  গ্রাজুয়েশন শেষ করে ১টা ছোট মাল্টিন্যাশনাল ফার্মে চাকরি করছে । 
বাসার সামনে এসে দরজার লক খুলতে গিয়ে দেখে দরজাটা ভিতর থেকে লাগানো । দুপুর কিছুটা অবাক হয়। অবাক হয়া রই কথা । দুপুর ফ্ল্যাটে একা থাকে , চাবিও সুধু তার কাছেই । তাহলে ভেতরে কে??
কিছু সময় ভেবেচিন্তে চাপ দেয় কলিংবেলে । তার কিছুক্ষন পর দরজা খুলে দেয় ভেতর থেকে একজন ।

ঘরের ভেতরের জন কে দেখে দুপুরের আরো বেশি অবাক হওয়ার কথা ছিলো , কিন্তু সে অবাক না হয়ে মুগ্ধ হলো । সত্যিই সামনে যে দাড়িয়ে আছে তাকে দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় আছে? যেন স্বর্গ থেকে হুরপরী নেমে এসেছে নীল শাড়ি পরে । নীল শাড়ি , নীল চুরি্‌, কালো ব্লাউজ , কালো টিপ , চোখে আবছা কাজল , সব মিলিয়ে আগুনের নীলাভ সৌন্দর্যের  চেয়েও কয়েকগুন বেশি সুন্দরী লাগছে রোদেলাকে । 
রোদেলা কে?  প্রশ্ন জাগছে কি মনে??? 
রোদেলা দুপুরের প্রেমিকা । দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রেম করছে ওরা , দুপুর যখন গ্রাম থেকে এসে ঢাকা ভর্তি হয় তখন থেকে ওদের সম্পর্কের শুরু । এরকম পবিত্র প্রেম এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। গভীর এই ভালোবাসা, গভীর এ বন্ধন।

রোদেলা ঃ কি স্যার , আপনি কি ঘরে আসবেন না ? নাকি সারারাত বাইরেই দাড়িয়ে থাকবেন ?

দুপুরঃ আমার দুচোখ কি বলছে জানো ?

রোদেলা ঃ হ্যা । খুব ভালো করে জানি । সে বলছে আমি আজ ক্লান্তিহীন , আজ আমি এই পেত্নীটাকে দেখবো দুচোখ ভরে । ঠিক তো ????

কথা টা বলে দুজনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরা অবস্থা। রোদেলা দুপুরের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যায় ।

রোদেলা দুপুরের গলা থেকে টাই খুলে দিয়ে টায়েল হাতে দিয়ে বলে ফ্রেশ হয়ে আসতে । দুপুর তাই করে । ফ্রেশ হয়ে রুমে গিয়ে প্রতিদিনের মত সিগারেট ধরিয়ে সুখ টান দেয়। 

রোদেলা ঃ দুপুর, এই বিশ্রী গন্ধ আসছে কোথায় থেকে ( বলতে বলতে বেডরুমে ঢুকে) ।

দুপুর সিগারেট পেছনে লুকায়, কিন্তু রোদেলা ততক্ষনে দেখে ফেলেছে । মেয়েটার চোখে পানি চলে এসেছে ।

রোদেলা ঃ তুমি আমার কাছে প্রমিজ করেছিলে যে তুমি আর স্মোক করবে না ।

দুপুর রোদেলার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে ১টা চুমু খেয়ে বলে,

দুপুর ঃ আজ তোমাকে , মানে পেত্নীটাকে ছুয়ে প্রেতাত্মা প্রমিজ করছে যে প্রেতাত্মা আর কোনোদিন সিগারেট খাবে না । কিন্তু পেত্নীটাকেও কথা দিতে হবে যে সে প্রেতাত্মাকে কোনদিন ছেড়ে যাবে না । কি প্রমিজ করো ? (হাত বাড়িয়ে দেয় দুপুর)

রোদেলা ঃ (দুপুরের বুকে মাথা রেখে আর এক হাত দুপুরের হাতে রেখে) মনে আছে দুপুর ? আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি একদিন তোমার বউ হবো , তোমার সংসার করবো । বউ হয়ে এসে আমি তোমার সংসার করছি। আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি । তুমিও তোমার কথা রাখবে , আমাকে দেওয়া কোন প্রমিজ ভাংবে না কিন্তু। (রোদেলার চোখে পানি)

দুপুর ঃ জি মহারানী । মহারানী আমার যে এখন খুব খুদা লেগেছে , কিছু কি খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এই অধম রাজার জন্য?

রোদেলা ঃ জী অধম মহারাজ আপনার জন্য ব্যাবস্থা হয়েছে , আপনি আসুন । আমি টেবিলে সব সাজাচ্ছি ।

রোদেলা টেবিলে সব গুছিয়ে দুপুর কে ডাক  দেয় , দুপুর আসে । টেবিলে দুপুর বসার পর রোদেলা লাইট বন্ধ করে মোম জালিয়ে দেয় ।

দুপুর ঃ ক্যান্ডেললাইট ডিনারের ব্যাবস্থা ? বাহ দারুন তো ।

রোদেলা ঃ আমি আমার প্রেতাত্মাকে আজ নিজের হাতে বেড়ে খাওয়াবো ।

দুপুর ঃ একি । আমার সব পছন্দের খাবারই তো দেখি তুমি রান্না করেছে । চিংড়ীর মালাইকারী , ইলিশের পাতুরী । গরুর মাংশের কালোভুনা । জান তুমি এতো কিছু কখন করলে ?

রোদেলা ঃ খাওয়ার সময় বেশি কথা বলতে হয় না । চুপ করে খাও । ( বলে রোদেলা হাত পাখা দিয়ে দুপুরকে বাতাস করা শুরু করে)

দুপুর ঃ রোদেলা , বাতি না জললেও ফ্যান কিন্তু চলছে ।

রোদেলা ঃ আমি জানি ।

দুপুর ঃ তাহলে বাতাস করছো যে ?

রোদেলা ঃ স্বামী খাওয়ার সময় তাকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। তুমি কি সেটাও জানো না ?

কথা টা শুনে দুপুর হেসে কুটিকুটি হয়ে যায় ।

খাওয়ার পর্ব শেষ করে দুপুর বেডরুমে গিয়ে সুয়ে পরে । রোদেলা একবাটি পায়েশ নিয়ে এসে দুপুর কে খেতে বলে কিন্তু দুপুর বলে যে সে আজ অনেক খেয়েছে, তাই সে আর খেতে পারবে না ।

তারপর দুপুর আর রোদেলা সুয়ে পরে , গল্প করতে থাকে দুজনে। বলতে গেলে সারারাত গল্প করে কাটয়ে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পরে দুজন একজন আরেকজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

ভোর ৬টার মত বাজে । দুপুরের ফোনে মাহাদির কল আসে । প্রথমবার টের পায় না , পরেরবার ঘুম ভেঙ্গে যায় দুপুরের । ফোন টা পিক করে দুপুর,

দুপুর ঃ কিরে দোস্ত ? এতো সকালে ?

মাহাদী ঃ দোস্ত তুই কোথায় রে ?

দুপুর ঃ এই তো বাসায় ঘুমাচ্ছিলাম । কেন মামা ?

মাহাদি ঃ দোস্ত ১টা ব্যাড নিউজ আছে । রোদেলা গতকাল সন্ধ্যায় রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে । আমি মাত্রই খবরটা পেলাম । তাই তোকে জানালাম ।

দুপুর ঃ ধুর গাধা । রোদেলা আমার বাসায় , আমার সাথেই আছে ।(কথাটা বলে পাসে ফিরে দেখে রোদেলা নেই , সেখানে ১টা চিঠি পরে আছে ) আমি তোকে একটু পর ফোন দিচ্ছি(নিচু কন্ঠে)।

চিঠিটা হাতে নিয়ে খুলে পড়া শুরু করে দুপুর

আমার জীবনের সবচাইতে দামী আর প্রিয় মানুষ আমার প্রেতাত্মা, আমার ভালোবাসা, রোদেলার দুপুর। 

আমাদের জীবন টা খুবই নাটকীয়। হাজার রঙ্গে আচ্ছন্য । আর যে এই নাটক টা পরিচালনা করছে সেও কেমন জানি । এই দেখো সোনাবাবু , আমাকে তোমার কাছ থেকে নিয়ে চলে গেলো । হ্যা আমি আর বেচে নেই । 
এই, তুমি কিন্তু একদমই কাদবে না। 
জানো যখন এক্সিডেন্ট টা হয় , খুব রক্ত ঝরছিলো , ব্যাথাও হচ্ছিলো অনেক । একটা সময় বুঝতে পারি যে আমি আর বেশিক্ষন নেই এই পৃথিবীতে , জানো তখন আরো বেশি খারাপ লাগছিল এই ভেবে যে আমি চলে গেলে তুমি খুব একা হয়ে যাবে । কে দেখেশুনে রাখবে পেত্নীর এই প্রেতাত্মাটা কে । কিন্তু একটা সময় আমাকে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে হয় । কিন্তু তোমাকে তো কথা দিয়েছিলাম যে আমি একদিন আমি তোমার নীল বউ হবো ঐ নীল প্রজাতির মত,  প্রেতাত্মা আর পেত্নীর ছোট একটা গোছানো সংসার হবে, তোমার সব পছন্দের খাবার আমি রান্না করে খাওয়াবো। বাবু, আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি, যদিও স্বার্থপরের মত আবার তোমাকে একা রেখে চলেও আসতে হল। কিন্তু সেটাতে তো আর আমার হাত নেই, সেই গাড়ির ড্রাইভার আমাকে তোমার কাছ থেকে চিরতরে দূরে সড়িয়ে দিল। শুনো টুকিপুকিটা, তুমিও কিন্তু আমাকে দেওয়া তোমার প্রতিটা কথাগুলো রাখবে । কোন বাজে কাজ করবে না । আর আমার কথা মনে করে উল্টো পাল্টা  কিছু করবে না । তবে চিঠিটা পড়ার পর খুব করে কাদবে , তাহলে মন টা হালকা হবে । আর প্লিজ নামাজ পরে আমার জন্য দোয়া করবে । আমার লাশ দেখতে যাবে, শেষবারের মত তোমায় দেখার অপেক্ষায় থাকবো। আর জীবন টা কে নতুন করে সাজাবে । নিজের খেয়াল রাখবে । আর মনে রাখবে “””” পেত্নীর ভালোবাসা কিন্তু প্রেতাত্তার কাছেই গচ্ছিত থাকবে “”””

আল্লাহ হাফেজ ।

চিঠিটা পরে কান্নায় ভেঙ্গে পরে দুপুর । খুব করে কান্না করে। আর সেই ক্লান্ত, অনিস্রান্ত নীল প্রজাপতিটা দুপুরের চারপাশ ঘিরে উড়ে বেড়ায়।  কিছু একটা বলতে চায়, বারবার ছুয়ে যেতে চায় দুপরকে সেই নীল প্রজাপতিটা। 


(পুরো গল্পটিই আমার কল্পনা, বাস্তবতার সাথে এর কোন ধরনের মিল নেই)

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

উপলব্ধি



#উপলব্ধি
প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written By A R Shipon.
রান্না করছি, রেডি হতে হবে। রোদেলা আসবে একটু পরেই। প্রতি রাতেই সে আসে ছাদে। নীল শাড়ী, খোপায় বেলি ফুলের মালা, হাতে নীল চুরি, কপালে কালো টিপ আর চোখে গাড় কাজল।
রাত ১০ টা,
পাশের ফ্ল্যাটে বাচ্চা মেয়ের চিৎকার আর কান্নার শব্দ। এরকম প্রতিদিনই প্রায় হয়। আমার এখন সহ্য হয়ে গেছে। এই শুরু হয়েছে আর রাত ১২/১ টার আগে আর থামবে না।
আমি রান্না শেষ করে খাবার খেয়ে নিলাম। ১১ টা বেজে গেছে। কান্নার শব্দ আজ হটাৎ আগেই থেমে গেছে। আমি কিছুটা অবাক হলাম। আজ এতো আগে থেমে গেলো কান্না?
ভাবাভাবি বাদ। রোদেলার সাথে দেখা করতে যাবো। সিগারেটের গন্ধ সে একদমই পছন্দ করে না। তাই আজ একটু আগেই গিয়ে সিগারেট টেনে ছাদের কোন চুপটি করে বসে থাকবো। রোদেলা আসতে আসতে গন্ধ ভ্যানিস হয়ে যাবে।
ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে ডোর লক করছি, এমন সময় পাসের ফ্ল্যাটের ভাই-ভাবি একটা স্যুটকেস নিয়ে বের হচ্ছে। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
দুপুরঃ ভাবি এতো রাতে ব্যাগ গুছিয়ে কোথায় যাচ্ছেন? ভাই এর সাথে ঝগড়া হয়েছে নাকি?
ভাইঃ (তোতলিয়ে) হ্যা ভাই। বাপের বাড়ি যাচ্ছে। পরে কথা হবে।
ভাই ভাবি আর স্যুটকেস নিয়ে তারাতাড়ি নেমে যায় লিফট ধরে৷ আর আমি উপরে চলে আসি।
সিগারেট খেয়ে বসে আছি রোদেলার অপেক্ষায়। সময় গড়িয়ে রাত এখন ১ টা বাজে। কিন্তু রোদেলা এখনো আসেনি। হয়তো কোনভাবে টের পেয়েছি সিগারেটের গন্ধ তাই হয়তো রাগ করে আসেনি। কিন্তু না আসলে আমি তার রাগ কমাবো কিভাবে? ক্ষমা চাওয়ার অন্তত একটা সুজোগ তো আমায় দিতে হবে।
ছাদের উপর পায়চারি করছি। আর এমন সময় ছোট বাচ্চা মেয়ের কান্নার শব্দ। পাশ  থেকে আমার পরিচিত প্রিয় কন্ঠটি। বাচ্চাটিকে স্বান্তনা দিচ্ছে।
রোদেলা ঃ কান্না করে না বাবু, পৃথিবীর মানুষগুলো এমনি নিষ্ঠুর। ক্ষুদ্র, অসহায়, নাড়িদের এরা মানুষ মনে করে না। ভোগের পন্য। তোর মত ছোট বাচ্চাটিকেও ছাড় দেয়নি।
রোদেলাও কান্নায় শুরু করে বাচ্চাটিকে জরিয়ে ধরে।
রোদেলার পাশে বাচ্চা মেয়েটি দাড়িয়ে। মেয়েটিকে দুই একবার দুপুর দেখেছে। হ্যা, মনে পরেছে। মেয়েটিতো পাশের বাসায় কাজ করতো।
মেয়েটির মাথা ফেটে রক্ত ঝড়ছে। অর্ধনগ্ন। গাল, ঠোটে কামড়ের দাগে রক্তাক্ত। হাতে খুনতি দিয়ে পোড়ানোর দাগ। কি বিভৎ দৃশ্য। বুঝতে আর বাকি রইলো না মেয়েটির সাথে কি হয়েছিলো আর তার শেষ পরিনতি কি হয়েছে। মানুষ হিসেবে নিজেকে উপলব্ধি করতে ইদানীং বড্ড লজ্জা লাগে। 

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

রহস্যময় খুন

প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon. 
ফেসবুক গ্রুপ থেকে পরিচয় তৃষা আর রিফাতের। কল্পকাহিনির অন্যতম লেখিকা তৃষার গল্প প্রেম থেকে ধিরে ধিরে প্রেম শুরু। মাঝখানে বাদ সাধে শিপন। তৃষা আর রিফাতের অমর প্রেমে বিষের কাটা হয়ে দাড়ায় শিপন। শতচেষ্টায় বিফল সে।
অনেক কিছুর পর তৃষা আর রিফাতের প্রেম সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে। আজ তাদের বিয়ে। দুজনের পরিবার রাজি না হওয়ায় বন্ধুদের সাহায্যে কোর্ট ম্যারিজ করতে যাচ্ছে তারা। বন্ধু হৃদয়, অর্নব, তাহমিদ, শিলা, সাদিয়া আর তানহা।
শিলাঃ তোমাদের বিয়ে ব্যাবস্থা যশোর এর বাইরে করা হয়েছে। ঢাকার পাশে। সেখানে ধরা খাবার ভয় নেই।
রিফাতঃ কিন্তু এতোদূর কেনো?
তৃষাঃ রিফাত ওরা যেটা ভাল মনে করে সেটাই করো।
রিফাত রাজি হয়। সেদিনই রওনা দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঢাকার পাশের একটা গ্রামের নির্জন একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। বন্ধুরা অভয় দেয় ভেতরে সব ব্যাবস্থা করা আছে। কাজি ভেতরেই রয়েছে।
তৃষা রিফাতের হাত ধরে ভিতরে ঢুকে। অন্ধকার রুম।
পরের দিন.
প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।
প্রেমিক রিফাতের হাতে প্রেমিকা তৃষার নির্মম খুন। 

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

রিভার্স


#রিভার্স (অনুগল্প) 
প্রেতাত্তার লেখা গল্প - Written by A R Shipon.

সিমরান, অনামিকা, রাতুল, অপু, মুন্না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ধনীর দুলাল-দুলালী। অন্ধকার রুমে বসে ইয়াবা নিচ্ছে। পাশে বসে মধ্যবিত্ত পরিবারের সুন্দরী মেয়ে অরিন।
ফেসবুকে ভূতের গল্প লিখে কিন্তু ভূত দেখেনি কোনদিন। তার ভূতের গল্প শুনে সবাই হাসাহাসি করে।
রাতুল, অপু, মুন্না তিনজনই অরিনকে পছন্দ করে কিন্তু অরিনের কাছে তারা বন্ধুর চাইতে বেশিকিছু না। 
সিমরান, অনামিকা অরিনের বন্ধু বটে তবে অরিনের রূপে তাদের হিংসে।
সন্ধ্যায় অনামিকা অরিনকে ফোন দিয়ে জানায় যে রাতে তারা গাজীপুরে মুন্নাদের বাংলোবাড়িতে যাবে ভূতের দেখতে। অরিনের ভূত দেখানোর সখ পূরন করবে।
অরিন ওদের সাথে প্রথমে যেতে না চাইলেও ভূত দেখার লোভ সামলাতে না পেরে রাজি হয়ে যায়।
রাত ১ টার কিছু পর পর বাংলোতে এসে পৌছে ওরা। অন্ধকার রাতে শেয়াল আর জোনাকির ডাক ভৌতিক পরিবেশ করে তুলছে। ভেতরে একটা রুমে বিছানায় বসে সবাই। কিছুক্ষন পরই বিদ্যুৎ চলে যায়।
মুন্না মোমবাতি জ্বালানোর জন্য পাশের রুমে যায়। হটাৎ মুন্নার ভূত ভূত বলে ভয়ার্ত চিৎকার। অরিন ভূত দেখবে বলে বের হতে চাইলে সিমরান ওকে ধরে বলে, তুই বস আমরা দেখে আসি। অরিন ছাড়া সবাই বের হয়ে যায়।
খানিক পরেই অরিনের রুমে সাদাকাপড় পরে শয়তানের অট্টহাসি হেসে একটা ভূত ঢুকে। অরিনের সাথে ধস্তাধস্তি করে। দূর থেকে দেখে সিমরান আর অনামিকা মুচকি হাসে।
দুজন মিলে বাংলো ঘুরে দেখতে থাকে। হটাৎ এক রুমের জানালার বাইরে দেখে এক বুড়ি দাঁড়িয়ে। রাগান্বিত চোখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। বুড়িকে দেখে ভয় চিৎকার করে উঠে সিমরান আর অনামিকা। বুড়ি ওদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ভূতবুড়ির হাত থেকে প্রান বাঁচাতে বন্ধুদের খোজে দৌড় দেয়। কিছু একটার সাথে পা উষ্ঠা খেয়ে পরে গিয়ে জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে সিমরান।
সকালে সিমরান নিজেকে আবিস্কার করে একটি ধানক্ষেতের মধ্যে। তার পাশেই উল্টো করে পরে আছে নগ্ন ক্ষত বিক্ষত একটি মেয়ের লাশ। মেয়েটিকে হায়েনারা জেনো কামড়িয়ে কামড়িয়ে ছিরে ফেলেছে। যৌনাঙ্গ গুলো...
সিমরানের মনে পরে বন্ধুদের সাথে প্ল্যানের কথা। নিশ্চয় এই লাশ অরিনের। সে লাশটা উপর করে উল্টিয়ে দেখে চিৎকার করে উঠে। নগ্ন মেয়েটি লাশ আর কারো নয়, সেটা তার নিজেরই লাশ।
সমাপ্ত।