সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

DARK LORD (2)


 

Bhoot Detective Branch - BDB
(ভূত গোয়েন্দা শাখা)
সিরিজের ধারাবাহিক গল্প
গল্প ঃ #DARK_LORD
পর্ব ঃ ২ (দুই)A

 R Shipon 

লাঞ্চ শেষ করে সামান্য রেস্ট নিয়ে বের হয়েছে সবাই। লোকাল কার রেন্ট থেকে এই কদিনের চুক্তিতে একটা গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সাথে একজন ড্রাইভার। ড্রাইভারের নাম রকি।
রকিঃ স্যার কোথায় যাবো এখন?
দুপুর ঃ স্যার না। ভাই বলবেন। এখন যাবো সানসেট পয়েন্ট এর ঐখানে যে রিসোর্ট আছে সেখানে। সেখানে স্পট ভিজিট করে যাবো হাটহাজারী শিকদার বাড়ি।
রকিঃ ওকে ভাইয়া।
গাড়ি ছুটে চলে। শহরের যানযট পেরিয়ে এগিয়ে চলে গাড়ি। ছোট্ট এই শহরে মারাত্মক জ্যাম। পোর্ট সিটি বলেই হয়তো।
পড়ির মন গতকাল থেকেই কেমন জেনো মনমরা। রাহাত গুনগুন করে গান গাইছে। জয় কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে। দুপুরের খাবারের পর ঘুম দেওয়া অর্নবের অভ্যাস, গাড়িতে উঠার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পরে সে।
জয়ঃ রাহাত তো ভালো মুডে আছিস দেখছি।
রাহাতঃ আরে না। কি যে বলো।
জয়ঃ মনে মনে দিল্লিকা লাড্ডু খিলা হচ্ছে তাই না?
রাহাতঃ দাদা আমি কখন যাবো?
দুপুরঃ সানসেট পয়েন্ট থেকে ফেরার সময় আমাদের নামিয়ে দিয়ে জয় আর তুই যাবি। জয় তোকে গার্ড দিয়ে নিয়ে যাবে। জয় হব তোর এসিস্ট্যান্ট।
জয়ঃ আমি এসিস্ট্যান্ট?  বাহ
দুপুরঃ শুধু তাই না। রাহাত এমন ভাব করবি যে তুই অনেক বড় অফিসার। সাথে গাড়ি আছে। ভাবতে পারতেছিস তুই,  যে তুই তোর ফার্স্ট ডেট দিতে যাচ্ছিস গাড়ি নিয়ে এবং একজন এসিস্ট্যান্ট। জয় তুই কিন্তু ওকে স্যার স্যার বলে ডাকবি।
রাহাতঃ দাদা মজা নিও না। এমনিতেই আমার ভয় ভয় লাগছে।
জয়ঃ দাদা আমি তোমার কথার মর্যাদা রাখবো।
গাড়ি এসে সানসেট পয়েন্টের পাসের রিসোর্টে  থামে। সেখানে ঘুরে ঘুরে স্পটটা দেখে। লেক আছে। ছোট ছোট টিলার মাঝে খানে মাঠের মত।
দুপুরঃ এটা হবে আমাদের বেস্ট বিয়ের ইভেন্ট। সুন্দর একটা জায়গা।
পড়িঃ দাদা, এখানে পরিবেশটা ভৌতিক করে সাজালে কেমন হয়?
অর্নবঃ পাগল? একজন বিয়ে করবে, সে কিনা ভয়ে ভয়ে বিয়ে করবে। জীবনেও ক্লাইন্ট মানবে না।
দুপুরঃ পড়ির আইডিয়া টা দারুন। লেক, পাহাড়, জংগল এর মধ্যের রিসোর্টে ভৌতিক আমাজের বিয়ে। ইতিহাস হয়ে থাকবে। তোরা কিভাবে কি করতে হবে প্ল্যান কর। ক্লায়েন্টকে রাজি করানোর দ্বায়িত্ব আমার।
পড়িঃ থ্যাংক ইউ দাদা।
জয়ঃ অসাম হবে অসাম দাদা।
দুপুরঃ চল এখন। রাহাত এর ডেটিং এর দেরি হয়ে যাচ্ছে। জয় আর রাহাত আমাদের হাটহাজারী নামিয়ে দিয়ে তোর নিউমার্কেট যাবি। তোদের জন্য সময় বরাদ্দ এক ঘন্টা।
যথা সময়ে হাটহাজারীতে নামিয়ে দেয় পড়ি, অর্নব আর দুপুরকে। ড্রাইভার রকি রাহাত আর জয়কে নিয়ে রওনা দেয় নিউমার্কেটের দিকে। রাহাত রাহাকে ফোন দেয় যে সে আসছে। রাহাও রেডি হয়ে থাকে, কাছাকাছি আসলে রাহাতকে ফোন দিতে বলে ।
জয়ঃ কি রাহাত, খুব এক্সাইটেড তাই না?
রাহাতঃ কিছুটা ভয় ও আছে। প্রথম ডেটে যাচ্ছি, কিন্তু পকেটে মাত্র ৫০০ টাকা। দাদার কাছে টাকা চাইতেও ভুলে গেছি।
জয় তার ওয়ালেট থেকে ১০০০ টাকার একটি নোট বের করে রাহাতের হাতে গুজে দেয়। নিউমার্কেটের সামনে এসে রাহাত কল দেয় রাহাকে। রাহা ফুলকলির সামনে দাঁড়াতে বলে। কিছুক্ষন পর রাহা আসে। লাল শাড়িতে।  দুজনে একটা রেস্টুরেন্টে বসে। তাদের প্রথম দেখা, প্রথম স্পর্শ। রাহাতের হাতের নখ বড় হয়ে গিয়েছিলো, রাহা রাহাতের হাতের নখ কেঁটে দেয়। রাহা চামচ দিয়ে রাহাতকে খায়িয়ে দেয়। বাইরে জয় আর ড্রাইভার গাড়িতে বসে আছে। রাহাত রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাহার ভাগ্নির জন্য চকলেট কেনে। হটাৎ করে একটা লোক পেছন থেকে এসে তাকে ধাক্কা দেয়। কেমন জেনো শীতল স্পর্শ। লোকটির দিকে তাকায় রাহাত। চেনাচেনা, কিন্তু অচেনা।  রাহা পাশে ছিলো, অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করছিলো রাহাত এর মধ্যে তাই সে আর এই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামায়নি।
রাহাকে নিয়ে গাড়ির কাছে এসে জয় এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তারপর রাহাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিয়ে বিদায় নেয়।
চিটাগং এর আলোরন রেস্টুরেন্টে মুরগির গিলা কলিজার মোগলাই খেতে দুপুর, পড়ি, অর্নব হাজির। জয়কে ফোন দিয়ে ওদেরও সেখানে আসতে বলে।
রেস্টুরেন্টের দোতালায় বসে সবাই। ড্রাইভার রকিও আসে।
পড়িঃ জয়দা, ক্লায়েন্ট রাজি হয়েছে।
জয়ঃ সত্যি? তার মানে ভৌতিক আবেশে বিয়ের আয়োজন। আহ কি যে একটা কাজ হবে না।
দুপুরঃ বর কনের দুজনের সাথে কথা বলে তাদের কনভেন্স করেছি। বলেছি প্ল্যান চ্যাটের  মঞ্চে বিয়ের মূল কাজ সম্পাদন হবে। ওয়েটার হিসেবে থাকবে ভূতেরা। খাবারের মেনুতেও থাকবে ভূতদের পছন্দের খাবার। কটেজ গুলোকে ভৌতিক বাড়ির মত সাজানো হবে। যারা গেস্ট আসবে তোদের সকলকে ঘোস্ট বানানো হবে। বড় সাজবে ভূত আর কনে সাজবে পেত্নী। এই ম্যাজিকেই রাজি হয়ে গেছে বড় ইয়াসিন আরাফাত আর কনে তানহা জান্নাত। এরা দুজনেই চিটাগং এর স্থানীয় এবং দুজনের অনেক থ্রিলার, সাসপেন্স মুভি দেখে।
রকিঃ আমি মনে হয় আপনাদের সাথে থেকে কাজ করে ভালোই মজা পাবো। আপনারা কি আমাকে সাথে নেবেন?
অর্নব ঃ কেনো নয়।
রকিঃ ধন্যবাদ।
দুপুরঃ রাহাত তোমার রাহার খবর কি? কখন থেকে আমাদের সাথে জয়েন করছে?
রাহাতঃ সরি দাদা। আমি ভুলে গিয়েছিলাম বলতে। আগামীকাল আমি ওকে নিয়ে আসবো।
পড়িঃ আবার ডেটিং দেবার ধান্দা।
দুপুরঃ কাল দিনে তোমার ছুটি নেই। অনেক কাজ আগামীকাল। কাজ শেষ করে যদি সময় পাও তাহলেই যাবে।
রাহাতঃ ঠিক আছে।
সবাই মিলে মুরগীর গিলা কলিজার মোগলাই খায়। কিন্তু দুপুর খেতে পারছে না। বারবার তার ঐ লোমওয়ালা পিশাচটির কথা মনে পরছে।
সবার খাওয়া শেষে গাড়ি নিয়ে রওনা দেয় গেস্ট হাউজের দিকে। গেস্ট হাউজে পৌছে ১০ টার দিকে। রাস্তা থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে আসে। উপুরে উঠে সবাই ফ্রেস হয় একএক করে। পড়ি একা মাত্র একটি মেয়ে। তাই ও পাসের রুমের ওয়াশরুমে ফ্রেস হতে যায়।
ছেলেদের মধ্যে দুপুর সবার শেষে ফ্রেস হয়ে বের হয়।
রাহাতঃ দাদা খুদা লেগেছে। চল খাই।
দুপুরঃ পড়িকে বল সব গুছিয়ে ঠিক করতে।
অর্নবঃ পড়ি কোথায়?
দুপুরঃ পড়ি কোথায় মানে?  ও না ওয়াশরুমে ফ্রেস হতে গেছে।
জয়ঃ সে তো অনেকক্ষন হয়ে গেলো।
দুপুর দ্রুত পাসের রুমের ওয়াশরুমে কাছে যায়। ভেতর থেকে আটকানো। দুপুর পড়িকে কয়েকবার ডাক দেয়। কিন্তু সারা শব্দ নেই। ফিরে আসতে যাবে এমন সময় ভেতরে গুংগানোর শব্দ শুনতে পায়। দুপুর চিৎকার করে সবাইকে আসতে বলে। এরপর দুপুর আর জয়ের কয়েকটা লাথির পর ওয়াশরুমের দরজা ভেংগে যায়। বাথরুমের ফ্লোরে পড়ি পরে আছে। দুপুর গিয়ে ওকে তুলে।
দুপুর ঃ কি হয়েছে?
পড়িঃ দাদা ঐ পিশাচটা মেরে ফেলতে  চেয়েছিলো আমাকে।
দুপুর পড়িকে নিয়ে তাদের রুমে আসে। সোফায় বসায়। রাহাত পানি এনে দেয়।
দুপুরঃ কি হয়েছিলো?
পড়িঃ আমি ফ্রেস হয়ে বের হতে যাবো তখন দেখি বাইরে থেকে বাথরুমের দরজা লক করা। আমি চিৎকার করি। কিন্তু কেউ যে আমার চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলো না সেটা বুঝতে পারি। তারপরেও দরজা ধাক্কাচ্ছিলাম আর চিৎকার করছিলাম। কোন কাজ হচ্ছিলো না। খেয়াল করলাম। পেছনে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে পেছনে ফিরে দেখি কেউ নেই। আবার ভাবলাম হয়তো হ্যালুসিনেশন। তাই বেসিনে গিয়ে মুখ ধুই। মুখ ধুয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে আমি আবার ভয়ে চিৎকার করি। রক্তাক্ত হয়ে আছে আমার মুখ। বেসিনের কল দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আমি সেই রক্ত দিয়েই মুখ ধুয়েছি। আমি কাঁদছিলাম। তারপর হটাৎ আয়নায় লেখা ওঠে #DARK_LORD। আমি আরো ভয় পেয়ে যাই। তারপরেই পেছন থেকে একটু শীতল লোমওয়ালা অদৃশ্য কেউ আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে। আমি ঠান্ডা সহ্য করতে পারছিলাম না। শক্তি হারিয়ে দূর্বল হয়ে গোংগাতে থাকি। তারপর তোমার ডাক শুনতে পাই। এরপর তোমরা ভেতরে ঢুকো।
দুপুরঃ আচ্ছা তুই রেস্ট নে। তারপর খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পর।
সবাই বেশ কিছুখন নির্বাক হয়ে বসে থাকে। রাহাত উঠে সবার জন্য বিরিয়ানির প্যাকেট খুলে সবার সামনে দেয়। ডিনার শেষ করে। দুপুর পড়িকে একটা ঘুমের ট্যাবলেট খেতে বলে। যাতে ভয়টা কমে একটু ঘুম দিতে পারে।  সকাল থেকে আবার কাজ।
সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। হটাৎ দুপুরের কানে আসে নুঁপুরের শব্দ। চুপ করে থেকে আরো একটু শিউর হয় সে। হ্যা, সত্যিই নুঁপুরের শব্দ। দুপুর বিছানা থেকে উঠে দেখে পড়ি আছে কিনা। পড়ি পড়ির যায়গায় শুয়ে আছে। তাহলে কে??? হটাৎ মনে পড়ে। কেয়ারটেকার সাগরের কথা। সাগর বলেছিলো। এই বাড়ির ছাদে রাতে একটা মেয়ে হেঁটে বেড়ায়। মাঝে মাঝে ছাদের উপর উদ্ভট শব্দ করে। কান্না করে।  কেউ কেউ সাহস করে ছাঁদে গিয়েছিলো মেয়েটিকে খুজতে। কিন্তু কেউ পায়নি। পরে সবাই ভয়ে এই বাসা ছেরে পালিয়েছে।
দুপুর বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে।
উপরে যাবে নাকি অন্যদের মত আবার ঘুমিয়ে পরবে। তবে ঘুম আর তার আসবে না। এর চেয়ে ভালো সাহস করে উপরে উঠে যাওয়া।
দুপুর ধিরে ধিরে কোন রকম শব্দ না করে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদে উঠে যায়। তখনও নুপুরের শব্দ আছে। দুপুর ছাদের মাঝখানে যায়। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। ডানে তাকায়, বাঁয়ে তাকায়। সব শুন্য। জোঁসনা আছে, চারিদিকে ধোয়ার মত উড়ে বেরাচ্ছে কুয়াশা। দুপুর একটু সামনে এগিয়ে কার্নিশের কাছে যায়। হটাৎ পেছনের একপাশ থেকে অন্যপাশে নুঁপুরের শব্দ করে কে জেনো দৌড় দেয়। দুপুরও সেই দিকে দৌড় দেয়। কিন্তু কেউ নেই। আবার হটাৎ কার্নিশের দিক থেকে মায়াবী হাসির শব্দ। দুপুর আবার কার্নিসের দিকে ফিরে আসে।
দুপুরঃ কে তুমি? আমি তোমাকে একবার দেখবো। (বারবার বলে দুপুর)
আবার নুঁপুড় পায়ে দৌড়ানোর শব্দ, সাথে মায়াবী হাসি।
দুপুর ঃ প্লীজ বলো তুমি কে?
দুপুর ছাদের একপাশে দাঁড়ানো। খেয়াল করে চিলেকোঠার এক পাশ থেকে একটি মেয়ে বেরিয়ে আসছে। পেছন থেকে দেখতে পাচ্ছে সে। সাদা শাড়ি, কালো ব্লাউজ, বিশাল খোলা লম্বা লম্বা চুল। আঁচল মাটিতে আচরিয়ে যাচ্ছে। দুপুর ধিরে ধিরে মেয়েটির পেছনে আসতে থাকে। মনে হচ্ছে মেয়েটি অসম্ভব সুন্দরী। খুব করে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে। মেয়েটি পেছন ফিরে তাকাচ্ছে না। সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দুপুরও সামনে দিকে এগুচ্ছে।
দুপুরঃ কে তুমি? কি নাম তোমার? একবার পেছনে তাকাও।
মেয়েটি পেছনে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়। অসম্ভব মায়াবী জাদুকরী চাহুনী তার।
দুপুরঃ কি নাম তোমার?
মেয়েটিঃ (অসম্ভব মিষ্টি গলায়) হৃদমোহিনী।
মেয়েটি নাম বলে আবার তার জাদুকরী খিলখিল হাসি দিয়ে, নুপুর পায়ে সামনের দিকে দৌড় দেয়। দুপুর হৃদমোহিনীর অপার সৌন্দর্যের যাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেও দৌড় দেয় হৃদমোহিনীর পেছনে।

হটাৎ পেছন থেকে এসে অর্নব দুপুরের হাত টেনে ধরে। আর একটু হলে ছাদ থেকে সোজা নিচে পরে যেত দুপুর। ঠিক নিচেই রয়েছে একটু মৃতকূপ। পরলে সরাসরি কূপে, হয়তো মৃত্যুও।
অর্নব ঃ দাদা তুমি কি করছো?
দুপুর স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অর্নব দুপুরকে ঝাকি দেয়। আর বলে দাদা কি হয়েছে তোমার?
মিনিট তিনেক পর দুপুর ঘোড় কেটে স্বাভাবিক হয়। বুঝতে পারে যে সে মারাত্মক বড় একটা বিপদ থেকে বেঁচে গেছে।
তারপর অর্নবকে না করে যে এই কথা সে জেনো আর কারো সাথে শেয়ার না করে। বাকিরা ভয় পেতে পারে। এবং সবাইকে ছাদে না আসার জন্য বলতে বলে।
এরপর রুমে এসে সুয়ে পরে। একপাতা সেডিল খেয়ে ঘুম দেয়।।

চলবে..............................  চলবে।

সম্পূর্ণ গল্পটি আমার বিকৃত মস্তিষ্কের কল্পনা। গল্পের সাথে বাস্তবতা মেলানোর চেষ্টা করবেন না। গল্পের ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আপনার মতামত দিবেন। ভালো লাগলে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য শেয়ার করুন। নেক্সট পর্ব ইনশাআল্লাহ আগামীকাল দেওয়া হবে। আল্লাহ হাফেজ।

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

DARK LORD (ডার্ক লর্ড)

 


Bhoot Detective Branch - BDB
(ভূত গোয়েন্দা শাখা)
সিরিজের ধারাবাহিক গল্প
গল্প ঃ #DARK_LORD
পর্ব ঃ ১ (এক)
প্রেতাত্মার লেখা গল্প -  Written by A R Shipon

অদ্ভুতুরে এই শহরে প্রতিনিয়তই আনাগোনা রয়েছে হরেক রকমের ভূত, পেত্নী, প্রেতাত্মা, শাকচুন্নিদের। কেউ বিশ্বাস করে আবার কেউ করে না। কিন্তু দুপুরের দৃর বিশ্বাস ভুত প্রেত মানুষের আসেপাশেই রয়েছে। মানুষজাতী যেমন বিভিন্ন কার্যকর্মে লিপ্ত। ভালো কাজ, মন্দ কাজ, ক্রাইম। ঠিক তেমনি ভুতেরাও।
বারান্দায় বসে কফির মগে চুমুক দিতে দিতে ভাবছে দুপুর। দুপুরের ভুত প্রিতি বেশি। দিনরাত তার জল্পনা কল্পনা এই ভুত প্রেত নিয়েই। যদিও এখনো ভূতের কোন সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব তার সামনে ধরা দেয় নি। তবুও ভুত প্রেত আত্তার উপর রয়েছে তার অটল বিশ্বাস। 
দুপুরের ম্যাসেঞ্জারে রাহাত এর ফোন আসে। রাহাত দুপুরের এডি। দুপুর ওয়েডিং প্ল্যানিং, ইভেন্ট অরগানাইজড করে, সাথে সিনেমাটোগ্রাফি। দারুন ছবি তুলে সে।
রাহাতঃ ভাইয়া আজ আমাদের চিটাগং যাওয়ার কথা। টিকিট ও কাটা আছে। তুমি কি সব গুছিয়েছো?
দুপুরঃ ওহ! ভুলেই তো গিয়েছিলাম। আচ্ছা অর্নব আর পড়িকে কল দিয়ে রেডি হতে বল। ১২ঃ১৫ মিনিটে বাস ছাড়বে সবাইকে ১১ টায় কলাবাগান আসতে বলবি। সেখান থেকে ডিনার করে রওনা দিবো।
রাহাতঃ ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের আলপোনা + মেয়ের সাজুগুজু মেহেদী দেবার জন্য আরেকজন লাগে তো।
দুপুরঃ এখন আবার আরেকজন পাবো কোথায়?
রাহাতঃ চিটাগং এ আমার এক ফ্রেন্ড আছে। নাম রাহা। তুমি বললে ওকে আমাদের সাথে নিতে পারি।
দুপুরঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আসতে বলিস। আর ঠিক সময়ে চলে আসিস।
ফোন কেটে দিয়ে দুপুর কিচেনে আসে। কিচেন একটা মুরগী রাখা ছিলো। বুয়া ঠিক মত কাজ না করে ফেলে রেখে চলে গেছে। দুপুর মুরগীটা নিয়ে ফ্রিজে রাখতে যাচ্ছে। হটাৎ খেয়াল করে মুরগীর ভেতর থেকে অঝড়ে তাজা রক্ত বের হচ্ছে।
১১ টার সময় আনা মুরগীতে এখন তাজা রক্ত। কিভাবে সম্ভব। দুপুর মুরগীটি বেসিনে নিয়ে ভালোমত ধুয়ে আবার ফ্রিজে রেখে আসে। তারপর নিজের রুমে গিয়ে ঘুম দেয়।
ঘুন ভাংগে সন্ধায়। বুয়া আসেনি। তাই নিজেরই রান্না করতে হবে।
একটা কাজ করলে কেমন হয়। রাহাত, অর্নব, পড়িকে বাসায় আসতে বলি। বিরিয়ানি রান্না করি। বিরিয়ানি দিয়ে ডিনার সেরে রওনা দেওয়া যাক। তারপর যথামত সবাইকে এসএমএস দিয়ে রান্নার কাজ শুরু করে দুপুর। মুরগীটা আনা প্রয়োজন। দুপুর কিচেন থেকে ডাইনিং রুমে এসে ফ্রিজ খোলে। মুরগীটি নেই। ফ্রেজের গায়ে লাল তাজা রক্ত রক্তের মাখামাখি। কিছুটা বিচলিত হয় দুপুর। সাধারণত এই সময়ে দুপুরের এই বিষয়টিকে ভৌতিকভাবে বিশ্লেষণ করা উচিৎ ছিলো। কিন্তু সে নিজেকে শান্ত রাখলো।
হটাৎ  বারান্দায় সে কিছু একটার শব্দ পেলো। দৌড়ে বারান্দায় যায়। একটা লোক বারান্দা থেকে লাফানোর চেষ্টা করছে। দুপুর সজোড়ে দৌড়ে গিয়ে তাকে জাপরিয়ে ধরলো। হ্যাচকা টানে বারান্দা থেকে ড্রয়িং রুমে নিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে জোরাজুরি করছে। লোকটির সারা শরীর গাড় লোমে আবৃত । হাতের নখগুলো বিশাল বড় বড়। লোকটি দুপুরকে তার বড় বড় নখ দিয়ে খামচাচ্ছে। আর বড় বড় দাত দিয়ে দুপুরকে কামড় দিতে চাচ্ছে।  দুপুর বুঝতে পারছে, একবার ধরা দিলে এই লোক তার শরীরের সমস্ত রক্ত খেয়ে ফেলবে। হয়তো এটা পিশাচ। সারাজীবন দুপুর যে ভূত পিশাচ দেখার অপেক্ষায় ছিলো আর আজ সেই পিশাচের আক্রমণের স্বিকার সে। লোকটির শরীর খুব ঠান্ডা। দুপুরকে এমনভাবে জাপড়ে ধরেছে যে দুপুরের শরীর শীতে কাবু হয়ে যাচ্ছে, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কি করবে দুপুর বুঝছে না, হটাৎ মনে পরলো দুপুরের হাতে মুরগী কাটার ছুড়িটা রয়েছে। দুপুর ছুড়িটা দিয়ে পিশাচটির পিঠে ঢুকিয়ে দিয়ে টান দেয়। পিশাচটি অসম্ভব ভয়ানক চিৎকার দিয়ে দুপুরকে ছেড়ে উঠে বারান্দায় যায়। বারান্দা থেকে লাফ দেবার আগে দুপুরের দিকে ভয়ংকর একটা লুক দেয়। পিশাচের সেই ভয়ংকর মুখ দেখে দুপুর জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে।
রাত প্রায় ৮টা বাজে।
এই সময়ে পড়ি, রাহাত অর্নব আসে। অনেকক্ষন কলিংবেল বাজানোর পরেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছে না। অর্নব তারাতারি জয়কে ফোন দেয়। জয় মাঝে মাঝে এখানে এসে থাকে, তাই জয়ের কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে।
১০ মিনিটের মধ্যে জয় চলে আসে। সে পাশেই ছিলো। চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখে দুপুর ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে জ্ঞ্যান হারিয়ে পরে আছে। সবাই তারাহুরো করে পানি ডেলে জ্ঞ্যান ফিরিয়ে আনে। জ্ঞ্যান ফেরার পর দুপুর বেশ কিছুক্ষন চুপ ছিলো। তারপর সব ঘটনা খুলে বলে৷ খুলে বলে পিশাচটার কথা। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে না।
অর্নব ঃ দাদা আমি আগেই তোমাকে বলেছি তুমি এই সব উদ্ভটে ভুতের গল্পের বই পড়া বাদ দাও। তুমি যে মানুষিক সমস্যায় ভুগছো সেটা কি জানো???
দুপুরঃ আমি সত্যি বলছি। আমার স্পষ্ট সব মনে আছে।
জয়ঃ দাদা দুপুরে কি লাঞ্চ করেছিলে?
দুপুরঃ নাহ।
জয়ঃ না খেলে তো এমন অবস্থাই হবে।
পড়িঃ আমি গিয়ে রান্না করছি।
রাহাতঃ আমি দাদার ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি।
পড়িঃ দাদা আমি আগে তোমাদের জন্য কফি করে দিচ্ছি।
ঘন্টাখানেকের মধ্যে সব রান্নাবান্না শেষ করে ড্রয়িং টেবিলে বসে সবাই। জয় নিজেও চিটাগং যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
দুপুরঃ তোরা কেউ আমার কথা বিশ্বাস করছিস না তো। যা ফ্রিজে দেখ, রক্ত লেগে আছে।।
পড়ি ঃ আমি দেখেছি, কিচ্ছু নেই।
দুপুরঃ কিচ্ছু নেই।
দুপুর চেয়ার থেকে উঠে ফ্রিজ খুলে দেখে যে সত্যিই ফ্রিজে কোন রক্তের ছাপ নেই। দুপুর চিন্তা করতে থাকে। তাহলে কি জয়ের কথাই সত্যি। আমি ভূত প্রেত নিয়ে ভাবতে ভাবতে কি পাগলে হয়ে যাচ্ছি। আর ঘটনাটি হ্যালুসিনেশন ছিলো।
রাহাত ঃ দাদা খেতে আসো তো। ডিনার সেরে বাস কাউন্টারে যেতে হবে।।
দুপুর ডাইনিং টেবিলে এসে খাবার খায়। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
রাত ১২. ২৫ মিনিটে বাস ছেড়ে দেয়। দুপুর ১০ টা ঘুমের ঔষধ মুখে গুজে দিয়ে পানি খেয়ে কম্বলটা মুড়ি দিয়ে সুয়ে পরে। বাকিরা গল্প গুজব করছে। অর্নব পড়িকে জ্বালাচ্ছে তার জন্য একটা গার্লফ্রেন্ড খুজে দেবার জন্য।
অর্নব ঃ দোস্ত তোর এতোগুলা কিউট বান্ধবী আর তুই আমার জন্য একটাও খুজে দিস না। আর কতদিন আমি এভাবে সিংগেল থাকবো বল?
পড়িঃ তুই মর। আর কয়ডা লাগে তোর? দুইদিন পর পর গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করিস।
জয়ঃ অর্নব চেঞ্জ করে না, এক্সচেঞ্জ করে। হাহহাহাহা
এভাবে গল্পে গল্পে ছোট হতে থাকে রাস্তা। রাস্তের পাশের দোকান গুলো বন্ধ, অনেক দোকানে বাতি জ্বলছে। রাস্তার মাঝখানে সোডিয়াম আলোর বাতি, কিছুটা জোসনা। রাতের এই ব্যাস্ত শহড়ে একের পর এক দ্রুতগামী গাড়ি ছুটে চলছে। পড়ি আর অর্নব দুজনেই জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। হটাৎ একটা লড়ি পেছন থেকে তাদের সামনের বাসকে ধাক্কা দেয়। বাসটা সরে গিয়ে পাসের ওয়েতে দুমড়ে পরে যায়। আর ঐদিক থেকে মানে চিটাগং থেকে আসা একটা দ্রুতগামী লড়ি বাসটিকে আবার আঘাত করে। সংগে সংগে আসেপাসের সব বাস থেমে যায়। সব যাত্রীরাও নেমে আসে উদ্ধারে । দুপুরের ঘুম ভেংগে যায় চিৎকারে, সেও নিচে নেমে আসে। শুরু হয় বৃষ্টি, বর্জপাত। জোসনা কেটে আসে নিকষ কালো ভূতুড়ে অন্ধকার। অহতদের আহাজারি পুরো পরিবেশটাকে মৃত্যুপুরি বানিয়ে ফেলে।
রাহাতঃ দাদা এম্বুলেন্স কল করা উচিৎ।
দুপুর ৯৯৯ এ কল করে জরুরী সেবা চায়। ১৮/২০ মিনিটের মধ্যে এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ চলে আসে। তারপর আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় হসপিটালে।
দুপুর নিজেদের বাসের দিকে ফিরে আসছে। হটাৎ মনে হয় পেছন থেকে কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে পেছনে তাকায়। কেউ নেই। আবার সামনের দিকে মুখ নিয়ে আসে। সংজ্ঞে সংজ্ঞে আবার পেছনে ফিরে বিদ্ধস্ত বাসের সামনের আসে। নিচে একটা লাশ। লাশের হাত দেখে বোঝা যাচ্ছে এর সারা শরীরে লোমে আবৃত। লাশটি উপর হয়ে আছে। দুপুর টেনে বাসের নিচ থেকে লাশ বের করে। চিৎ করা লাশ টা উপর করার সংগে সংগে দুপুর চিৎকার দেয়। একি এতো তার নিজের লাশ। এই লাশের অবয়ব একদম তার নিজের মত।
দুপুরের চিৎকার শুনে পড়ি আর জয় কাছে আসে। সামনে গিয়ে লাশের দিকে তাকায়। পড়ি কোন কথা বলে না।
জয়ঃ দাদা লাশ দেখে ভয় পেয়েছো? নাকি তোমার পরিচিত?
দুপুরঃ আরে এতো আমার লাশ।
জয়ঃ যাচ্ছে তাই বলছো দাদা। এ তোমার লাশ হতে যাবে কেনো? এ লাশ তো মনে হচ্ছে এই বাসের ড্রাইভারের।
দুপুর আবার লাশের দিকে তাকায়। চমকে যায়। এখন আর সে তার নিজেকে দেখতে পাচ্ছে না। উঠে আসে সে। তাদের বাস ছাড়বে। বাসে উঠে বসে। জানালার পাশ দিয়ে তাকিয়ে আছে।  আবার চোখ পরে লাশটির দিকে লাশটি মুচকি হাসে। এই লাশটি বর্তমান মুখটিও তার পরিচিত। এইতো আজ বিকেলেই এই পিশাচটার সাথে তার একদফা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে গেছে। আচ্ছা এই পিশাচটি কি মরলো?  নাকি সে তার রক্তখুদা মিটাতে এই রক্তবন্যার আয়োজন করলো? দুপুরের মাথা ঘুরছে। আবার ঘুম দরকার। ব্যাগের মধ্যের বাকি ১০ ঘুমের ঔষধও খেয়ে ফেললো।
ঘুম ভাংলো চিটাগং শহরে এসে। সেখান থেকে গাড়ি করে বিয়ে বাড়ি। বিয়ে বাড়ি থেকে তাদের জন্য একটি বাংলোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। সেই বাংলোতে উঠলো তারা।
বাংলো ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনিস্টিউটের অধক্ষ্যের বাংলো। বাংলোতে নাকি ভূত আছে সে ভয়ে এখানে কেউ থাকে না। বাংলোর ভেতরে ঢুকেই নানা রকম তাবিজ দেখা গেলো।
অর্নব ঃ দাদা তুমি আর আমি কিন্তু এই বাংলোয় বসে ভূত নিয়ে রিসার্চ করতে পারবো। কি বলো?
জয়ঃ আমরা কাজ করতে আসছি। সারা দিন কাজ শেষে এসেই ঘুম। রিসার্চ করার দরকার হলে তোমরা কইরো।
দুপুরঃ পড়ি তোর কি হয়েছে? কথা বলছিস না যে?
পড়িঃ নাহ দাদা তেমন কিছু না। ভয় ভয় লাগছে। আমাকে কি একা থাকতে হবে?
দুপুরঃ রাহাত তোমার বন্ধু রাহা কোথায়? সে আসবে না?
রাহাতঃ আসলে দাদা রাহা আমার গার্লফ্রেন্ড। তার সাথে আমার আগে কখনো দেখা হয়নি। আজ বিকেলে দেখা করতে যাবো। তারপর বলে দেখি ও কি আমাদের সাথে থাকবে কিনা। এখানে না থাকলেও ও আমাদের সাথে কাজ করবে এটা কনফার্ম।
অর্নব ঃ বাহ বাহ। রাহাতের তাহলে কাজের সাথে ডেটিং ও হয়ে যাচ্ছে। যাও যাও। স্বার্থক হোক তোমার প্রেম।
পড়িঃ তোমরা কোন শব্দ পাচ্ছো? মনে হচ্ছে কোন জানোয়ার পশুর মাংশ টেনে টেনে খাচ্ছে আর খিল খিল করে হাসছে।
পড়ি এরুম সেরুম দৌড়াদৌড়ি করে। কিছুই পায় না।
দুপুরঃ গায়েজ, আমরা সবাই এক রুমে থাকছি। রুমটা অনেক বড়, আশাকরি সমস্যা হবে না। এখন রেস্ট নাও। বিকেলে আবার বিয়ে বাড়ি দেখতে যাবো। স্পট দেখে এসে রাতে প্ল্যান করবো ইভেন্টের। এখন রেস্ট।
রাহাতঃ দাদা আমাকে রাস্তা নামিয়ে দিও। আমি একটু নিউমার্কেটের দিকে যাবো রাহার সাথে দেখা করতে। ফার্স্ট টাইম ডেট। প্লিজ দাদা।
দুপুরঃ ওকে। কিন্তু একঘন্টার বেশি না।  এখন  রেস্ট।

চলবে..............................  চলবে।

সম্পূর্ণ গল্পটি আমার বিকৃত মস্তিষ্কের কল্পনা। গল্পের সাথে বাস্তবতা মেলানোর চেষ্টা করবেন না। গল্পের ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আপনার মতামত দিবেন। ভালো লাগলে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য শেয়ার করুন। নেক্সট পর্ব ইনশাআল্লাহ আগামীকাল দেওয়া হবে। আল্লাহ হাফেজ।

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

তোমার গল্প

 

তোমার গল্পে তুমি নেই। অথচ তোমার গল্পের দৃশ্যপট জুড়ে তোমার থাকার কথা ছিলো, কথা ছিলো ছুঁয়ে দিবে গল্পের প্রতিটা শব্দ। মূমুর্ষ শব্দ গুলো তোমার স্পর্শ পেয়ে মধ্যবিত্ত জীবন ফিরে পেয়ে কবিতা হয়ে মাধুর্য বাড়াবে তোমার গল্পে। অথচ তুমিহীন আজ তোমার গল্প অসমাপ্ত। হয়তো তুমি বুঝতে পারবে তোমার গল্পে তোমার শুন্যতা কতখানি। ফিরে এসো তুমি তোমার গল্পে। গল্পটা জীবন ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

ধারাবাহিক স্বপ্ন, পর্ব - চার (৪)


 গল্প ঃ #ধারাবাহিক_স্বপ্ন

পর্ব - চার (৪)

( প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon ) 

অনেক রাত হয়ে গেছে। রোদেলার এখনো আসার কোন খবর নেই৷ হয়তো অভিমান করেছে। মোহিনীকে পেয়ে রোদেলার সাথে দুপুর দেখা করেনি ঠিকমত। রাগ তো হবারই কথা। তবে কেনো জেন মনে হচ্ছে রোদেলা আসবে। আসলোও বটে।

নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এলো রোদেলা। সেই নীল শাড়ী, খোপায় বেলি ফুলের মালা, হাতে নীল চুড়ি, চোখে কাজল। অসম্ভব সুন্দরী রোদেলা। চোখ সরাতে পারছিলাম না। রোদেলা কাছে এসে আমার পাশে বসে মুচকি একটা হাসি দেয়। জিজ্ঞেস করে আমি কেমন আছি। উত্তরে বললা খুব একটা ভালো নেই। সে আমার উত্তর শুনে খিলখিলিয়ে হেসে বলে 

রোদেলাঃ হাহাহাহা। মোহিনীর প্রেমে ছ্যাকা খেয়েতো দেখছি একদম বাকা হয়ে  গেছ। 

আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলি। রোদেলা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন। আমার হাতের উপর হাত রেখে বলে কষ্ট পেও না। এটা হবার ছিলো বলেই হয়েছে। সুধু সুধু এইসব ভেবে নিজেক কষ্ট দিও না। আমি প্রশ্ন করিঃ  "আচ্ছা রোদেলা, মোহিনী কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসে না? তাহলে এর আগে যে ভালবাসতো, ভালোবাসার কি অতিত বর্তমান ভবিষ্যৎ হয়? আমার কাছে কেন জানি মনে হয় ভালবাসার কোন কাল নেই। ভালবাসলে তাকে সবসময় ভালবাসে। তাহলে আমার সাথে এমন হল কেন। " রোদেলা কিছুক্ষণ নিরব থাকে, তারপর দাড়িয়ে হাটতে হাটতে পেছন ফিরে আমার দিকে তাকয়ে বলে " তুমি যেটাকে মোহিনীর ভালোবাসা বলছো সেটা ভালবাসা নয়। মোহিনী কখনই তোমাকে ভালবাসেনি। আমিও তোমার সাথে একমত। ভালোবাসার কোন কাল নেই। ভালবাসি মানে ভালবাসি। সবসময়, সবকিছু এবং সবভাবে। আসলে মোহিনীর আবেগকে তুমি ভালবাসা বলছ। মোহিনী কখনই তোমাকে ভালবাসেনি।" আমি রোদেলার কথা শুনে আবার মাথা নিচু করি। চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই পানি চলে আসে। ভিষন কষ্ট হচ্ছে ভিতরটাতে। এইভাবে প্রতারিত হব বুঝতে পারিনি। আমি রোদেলাকে বললাম, " রোদেলা তুমি আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাবে? আমার এই জীবন আর ভাল লাগে না। আমি তোমার হয়ে থাকতে চাই, কল্পনাতেই থাকতে চাই, এই বাস্তবতা আমার আর ভালো লাগছে না।" 

রোদেলা হিহিহিহি করে হেসে আমার কাছে আসে। 

রোদেলাঃ আচ্ছা আমি যে তোমার জন্য এত সুন্দর করে সাজুগুজু করে আসলাম। তুমি আমার দিকে একটু ভাল করে তাকিয়েও দেখলা না। ওহ, তোমার তো এখন আবার লাল শাড়ি পছন্দ। মোহিনী লাল শাড়িতে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। তাই না? তাইতো আমাকে এখন নীল শাড়িতে ভাল লাগে না। 

আমিঃ তেমনটা নয়। নীল শাড়ী আমার বরবরই পছন্দ। তারপর তোমার ওই কাজলকালো চোখের ফিদা আমি। কিন্তু তুমি তো কল্পনা। আর মোহিনী আমার ভালবাসা। এখানে লাল বা নীল কোন ফ্যাক্ট না।

রোদেলা মুখ হটাৎ করে কালো করে ফেলে। অনেক সংকা আর ভয় কাজ করছে ওর মুখে। কিছু একটা হয়েছে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

রোদেলাঃ তোমার সামনে বিপদ। যদি সাহস রেখে সামনে এগুতে পার তাহলে হয়ত বিপদ কেটে নতুন সূর্য হাসবে, আর না হয় পানিতে ডুবে মরবে।

আমিঃ বুঝলাম না কিছু। খুলে বল। 

রোদেলা বিরবির করতে করতে  সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে টানতে ভাবার এবং বোঝার চেষ্টা করলাম যে রোদেলা আসলে কি বলে গেল। কিছুই মাথায় আসছে না। হাটাহাটি করছি, আর পাগলের মত বিরবির করছি। হটাৎ খেয়াল করলাম। ছাঁদের একপাশে লুকিয়ে লুকিয়ে কে জেন আমায় দেখছে। আমি দৌড়ে সামনে গেলাম। আমার সামনের দেয়ালে একটা ছায়ামূর্তি। শাড়ী পড়া, খোলা চুল দুলছে। আমার হাত পা অসার হয়ে গেছে। আমি নড়তে পারছি না৷ আমি এটা কি দেখছি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। ছায়ামূর্তিটা হাটা শুরু করলো। ছাদ বেয়ে শুন্যের উপর দিয়ে হেটে নিমিষে ভ্যানিস হয়ে গেল। আমার শরীর দিয়ে ঘাম বেরুচ্ছে। হাটতে পারছি না। কোন রকমে জয়কে ফোন দিয়ে বললাম আমি ছাদে।

বিশাল লেক, দুইপাশে ছোট ছোট পাহাড়, জ্বোৎনার আলো, অসম্ভব মায়াবী পরিবেশ। আমি একটা ট্রলারে করে যাচ্ছি। সামনে দাড়িয়ে প্রকৃতি দেখছি। তারপর ট্রলারটি গিয়ে একটা পাহাড়ের ঘাটে দাঁড়ায়। একটা শীতল স্পর্শ আমাকে কাধে। আমি স্পর্শের অনুভবেই বুঝে যাই এই আমার মোহিনী। তার দিকে তাকাতেই মোহিনী হাসি। ঘাটে তাকিয়ে দেখি একটা ভাঙাচোরা সাইনবোর্ড। লেখা স্বপ্ন। নামটা চেনা চেনা লাগছে। কোথায় জেন শুনেছি নামটা। আমতা আমতা করতে করতেই পরক্ষনে চোখ পরে সাইনবোর্ডের পেছনে এক ছায়ামূর্তির দিকে। আরে এ তো সেই ছায়ামূর্তি। ছাদের যে ছায়ামূর্তি দেখেছিলাম। আমি রাতের ঘটনা মোহিনীকে বলার জন্য পেছনে তাকাতেই দেখি আরো দুটো পুরুষ ছায়ামূর্তি  মোহিনীর দুই হাত ধরে দুজনে টেনে নিজেদের দিকে নিতে চাচ্ছে। মোহিনী চিৎকার করে বলছে দুপুর আমাকে বাচাও। কিন্তু আমি যে এক পা ও সামনে এগুতে পারছি না। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। আবার সেই নাড়ি ছায়ামূর্তির দিকে তাকাই, সেই হাসছে। আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। চিৎকার আর হাত পা নাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম। চেষ্টায় ঘুম ভেঙে গেল। বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম। আবার সেই #ধারাবাহিক_স্বপ্ন। স্বপ্ন গুলো ইদানীং খুব বেশি জীবন্ত আর ভয়ংকর। 

খেয়াল করে দেখি আমি আমার রুমে সুয়ে আছি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম দুপুর ২টা বাজে। পাশের রুমে অনেকগুলো মানুষের কথার শব্দ। হৃদয়ের কন্ঠটা কানে আসলো। আমি ছাদ থেকে কিভাবে এখানে আসলাম মনে  নেই। তবে আন্তাজ করতে পারছি যে জয়কে ফোন দেওয়ার পর হয়তো জয় উপরে গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে। কিন্তু আমি কি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলেছিলাম। হয়তোবা।

ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে এসে পাশের রুমে যাই। গিয়ে দেখি অনেকে এসেছে। আমাকে রুমে ঢুকতে দেখেই পরী সামনে এসে জিজ্ঞেস করে " দাদা কি হয়েছিলো? তুমি ছাদে জ্ঞ্যান হারালে কিভাবে?" আমি বললাম "দাড়া। আগে বসতে দে।"

এখানে আছে হৃদয়, জাহিদ, রনি, শিলা, জয়, শিফা, অর্নব, তাহমিদ, অনুপ, পরী।  জয় ওদের সবাইকে ফোন দিয়ে এনেছে। সকাল থেকে ওরা গল্প করছে। গল্পে গল্পে বেরিয়ে আসে যে তুষার যে রিসোর্টে জব করে,  রনির ফ্রি থাকার রিসোর্ট, শিলার ইভেন্ট এর রিসোর্ট এবং জয়ের শ্যুটিং এর রিসোর্ট একই। রিসোর্ট #স্বপ্ন। ওরা সবাই মহাখুশি। একসাথে সবাই মিলে অনেকদিন পর আবার আনন্দ ফূর্তি করা যাবে। কিন্তু কেউ একবারও ভাবছে না চারজনেরই মিলে যাওয়াটা কোন অস্বাভাবিক কিছুর ইংগিত দিচ্ছে। আসলে ওরা এতো বেশি ভাল যে কখনও আমার মত করে নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করে না। আর তাই আমিও রাতের সত্যি ঘটনাটি লুকিয়ে মাথা ব্যাথা থেকে সেন্সলেস হবার ঘটনা বলে চালিয়ে দেই।

সবাই এখন খাতা কলম নিয়ে বসেছে। জয়ের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে অনুপ আর জাহিদ কাজ করছে, আর শিলার জন্য তাহমিদ, হৃদয় আর শিফা। আর বাকি গুলো সবাইকে হেল্প করবে। সবশেষে সিধান্ত নেওয়া হয় আগামী পরশুদিন নভেম্বর ০৩ তারিখে রাতের বাসে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হবে। মিটিং এর মাঝখানে অর্নব কাচ্চির অর্ডার করেছিল। যথাসময়ে কাচ্চি চলে আসে। মিটিং শেষে শুরু হয় কাচ্চি উৎসব। সবার খাওয়ার মাঝখানে হুট করে পরী বলে উঠে,

পরীঃ তোমরা কি কেউ খেয়াল করেছো যে বিভিন্নভাবে কেউ একজন আমাদের রাঙামাটির ঐ রিসোর্টে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তা না হলে এইভাবে কেমন করে মিলে যায়? আর তুষার আমাকে বলেছে ঐ রিসোর্টে ভূত আছে। আমি দাদাকে বলেছিলাম। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমাদের সাথে প্যারানরমাল কিছু ঘটতে যাচ্ছে। 

পরীর কথা শুনে বাকি সবাই হেসে উঠে। বলে যে ওর মাথায় এখনো ভূত গোয়েন্দার প্যারা ঘুরে তাই সব কিছুতেই ভূত ভুত আর রহস্য খুজে। মাথা ঠিক নাই। ভূত গোয়েন্দার কথা শুনতেই মনে পরে গেল অতিত দিনগুলোর কথা। কত প্যারানরমাল রহস্য উদঘাটন করেছি এই ভূত গোয়েন্দাদের সাথে। আজ সব অতিত। ভূত গোয়েন্দা শাখা মানুষের মধ্যে পপুলার না হলেও ভূত বা আত্তিক জগতে এর ভাল নাম ডাক আছে। আর পরী ঠিকই ধরেছে। সামনে ভূত গোয়েন্দা শাখার এই প্রাত্তন সদস্যের সাথে ভয়ংকর প্যারানরমাল কিছু ঘটতে যাচ্ছে। যা গতকাল রাতের ঐ ছায়ামূর্তিকে দেখেই বুঝেছি। এখন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভৌতুক রিসোর্ট #স্বপ্ন। জানিনা কি হয় সেখানে।

চলবে....................

(সম্পূর্ণ গল্পটি আমার বিকৃত মস্তিকের কল্পনা মাত্র। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। পরবর্তী পর্ব আগামীকাল অথবা পরশুদিন পোস্ট করা হবে।)

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

ধারাবাহিক স্বপ্ন, পর্ব - তিন (৩)

 

গল্প ঃ #ধারাবাহিক_স্বপ্ন

পর্ব - তিন (৩)

( প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon ) 

সামান্য কিছু শপিং করে রাতে বাসায় ফিরি। দিনে লিফটে যে ঘটনা ঘটছে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না, তাই সিঁড়ি বেয়ে উপরর উঠি। ওমা! ৮ তলা।

দুপুরে রান্না করা ছিলো, তাই রাতের রান্নার প্যারা নেই। চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি আমার রুমে লাইট জ্বলছে। কিছুটা ভয় লাগছে। স্বভাবতই কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে চলছে আমার সাথে। ভয় পাবারই কথা। দেখা গেলো রুমে ঢুকে দেখলাম সেই মেয়ে সাদা শাড়ি পরে মাথা ঘোমটা দিয়ে ঢেকে আমার বিছানার উপর বসে আছে। ঘোমটা খুলতেই সে কি বিভৎস চাহুনি। 

আমার ভয় কে কিক মেরে দিয়ে রুম থেকে বেরুলো জয়। আমি ছাড়াও আমার রুমের চাবি জয় আর হৃদয়ের কাছে আছে। ওরা মাঝে মাঝেই আসে।

জয় প্লেট নিয়ে বের হলো। রাত হয়ে গেছে বলে খাওয়া সেরে নিয়েছে। আজ রাত ও এখানেই থাকবে। 

জয় থাকা মানে আজ আর আমার ঘুম হবে না। সারা রাত প্যাচাল, মেয়েদের সাথে টাংকি মারা, এইসব আর কি। ও আমাকে নিয়ে মেয়েদের সাথে মজা করে, এখন আমি যদি ঔষধ খেয়ে চিতকাত হতে পরে থাকি তাহলে হয়তো খুব একটা ভালো হবে না। 

জয়কে জিজ্ঞেস করলাম যে হটাৎ কি মনে করে? উত্তরে বলল, স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা, কাস্টিং, কস্টিউম, সেট, প্রপস এইসব নিয়ে আলোচনা। আমি ওর কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বারান্দায় এলাম। আর ওকে বললাম এক মফ কফি বানিয়ে আনতে। কথামত ও কফি বানিয়ে আনতে গেলো আর আমি বারান্দায় স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসলাম। 

সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিপ্ট টা পড়লাম৷ স্ক্রিপ্টের গল্পটা এমন -

চারু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ে। খুব ভালো ছাত্রী, সেই সাথে দেখতে অপসারী। বন্ধুদের সাথে সে খুব মিশুক ও বিনয়ী। ভার্সিটিতে বন্ধু সার্কেলের অনেক ছেলেই চারুকে পছন্দ করে, প্রেম প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু চারু কারোর প্রেম প্রস্তাবেই সারা দেইনি। তবে চারু মনে মনে জোবায়েরকে কিছুটা পছন্দ করে আবার কিছুটা ভালো লাগাও আছে।

সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস শেষে চারু সবার পর বের হচ্ছে ঠিল সেই সময় শিবু চারুর সামনে এসে দাড়ায়। হুটু গেড়ে বসে চারুকে প্রেম নিবেদন করে। চারু সরাসরি শিবুকে না করে দেয়। চারু শিবুর প্রেম প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু সে শিবুর ভালোবাসাকে অবমূল্যায়ন করে না। ইন্যদিকে চারুর বন্ধুরা শিবুকে নানান ভাবে হেয় করে। শিবু রাংগামাটির এক পাহাড়ি ছেলে। সেখান থেকে এই ঢাকায় এসে পড়ালেখা করছে। চারু শিবুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন না করতে পারলেও বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয়। ধিরে ধিরে চারুর ফ্রেন্ড সার্কেলের সকলের সাথে শিবুর বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু চারুর সাথে শিবুর বন্ধুত্ব মেনে নিতে কষ্ট হয় জোবায়েরের। একদিন সামান্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জোবায়ের শিবুর গায়ে হাত তোলে। 

চারু জোবায়েরকে ধিরে ধিরে ভালোবেসে ফেলে কিন্তু শিবুর গায়ে হাত তোলা চারু পছন্দ করেনি। কিছুদিন চারু জোবায়েরের সাথে কথা বলেনি। একদিন জোবায়ের শিবুকে চারুর সামনে এনে শিবুর কাচ্ছে ক্ষমা চায়, শিবুকে ভালো বন্ধু হিসেবে মেনে নেয়।

চারু তার বান্ধবীদের জানায় যে সে জোবায়েরকে ভালবাসে। জোবায়ের এর জন্মদিনে সে তার ভালবাসার কথা জানাবে। এইতো দিন পাঁচেক পরেই জোবায়েরর জন্মদিন। 

পরেরদিন শিবু এসে বন্ধুদের আড্ডায় সকলে অনুরোধ করে তার গ্রামে যেতে, মানে রাঙামাটি। তাদের খুব বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চিবর্ধন এর নিমন্ত্রণ জানায়। বন্ধুরা সবাই রাজি হয়ে যায়। পাহাড়ের উপর এতোবড় আয়োজন সামনে দেখা কেউ মিস করতে চায় কি? জোবায়ের তার জন্মদিন সেখানে সেলিব্রেট করার প্ল্যান করে। আর চারু সেখানে পূর্নিমার রাতে জোবায়েরকে তার ভালবাসার কথা জানাবে।

শিবু সেখানে একটি রিসোর্ট ঠিক করে থাকার জন্য। রিসোর্ট এর নাম #স্বপ্ন। 

সবাই মিলে রাঙামাটি যায়। সেখান থেকে ট্রলারে বন্দুকভাঙা, তারপর শিবুর বাড়িতে দেখা করে রিসোর্টে। রাঙামাটি শহরের পর থেকে সব জায়গায় যেতে নৌকা বা ট্রলার ব্যাবহার করতে হয়। 

রিসোর্টে ভালোই আনন্দ উল্লাসে মেতে ছিল। কঠিন চিবর্ধন অনুষ্ঠান ভালই লাগে তাদের কাছে। কাপ্তাই লেক থেকে শত শত ফানুস উড়ানোর আনন্দই অন্যরকম।  পরের দিন রাত ১২ টার পর সবাই জোবায়ের রুমে এসে কেক কেট তার বার্থডে সেলিবেট করে যার যার রুমে ফিরে যায়। সকালে উঠে সারাদিন শুভলং সহ কয়েকটি ঝর্না দেখবে, রাতে চারু জোবায়েরকে তার ভালোবাসার কথা জানাবে এবং পরের দিন সকালে সবাই চলে যাবে। 

ভোরের কিছু আগে চারুর দুই জন বন্ধু চিৎকার দিয়ে উঠে। সবাই মিলে তাদের কাছে যায়। গিয়ে জানতে পারে কালো একটা ছায়া নাকি তাদের পা ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। এরপর এক এক করে চারু আর জোবায়ের ছাড়া সকল বন্ধুই বলে যে এই কদিনে তাদের সাথে এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। এবং প্রত্যেকবার তাদের হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। 

সকালে উঠে সবাই চলে যেতে চায়। কিন্তু জোবায়ের আর চারুর রিকোয়েস্ট এর জন্য সবাই আর একদিন থাকার স্বিদ্ধান্ত নেয়। সারাদিন ঘুড়ে বেড়ায়। রাত ১১.৩০ মিনিট। বন্ধুরা সবাই জোবায়ের আর চারুকে একলা রেখে চলে যায়। জোসনা রাতে চারু তার ভালোবাসার কথা জানাবে। কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করবে দুজনে। বাকি সবাই যার যার রুমে গিয়ে ঘুম দেয়। 

পরের দিন সকালে বন্ধুরা এসে দেখে জোবায়ের আর চারুর লাশ যার যার রুমে পড়ে আছে। শরীরে বিভিন্ন অংশ থেকে মাংশ নেই, দেহে রক্তের ছিটেফোটাও নেই। নখের আচরের দাগ। পুলিশি মামলার ভয়ে বন্ধুরা কাউকে না জানিয়ে লাশগুল রিসোর্টের পেছনে পুতে রেখে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে আসে ঢাকায়। """

স্ক্রিপ্টের গল্প এখানেই শেষ। তবে আমার কিছুটা ধোয়াশা মনে হচ্ছে। গল্পটা অসম্পূর্ণ। অনেকটা আমার #ধারাবাহিক_স্বপ্ন এর মত। আমি বারান্দা থেকে রুমে এসে দেখি জয় ঘুমিয়ে পরেছে। আমার আর ঘুম টানছে না। অনেকদিন হয় রোদেলার সাথে দেখা করি না, অনেকদিন ছাদে যাওয়া হয় না। ড্রয়ার থেকে একটা শিশি বের করে, সম্পূর্ণ শেষ করে সিগারেটের প্যাকেট আর ফায়ার বক্স নিয়ে ছাদে যাই। এক কোনায় বসে সিগারেট জ্বালিয়ে তার সাথে সঙ্গম করতে করতে চাঁদ দেখি। অসম্ভব সুন্দর সেই চাঁদ। আচ্ছা চাঁদ বেশি সুন্দর নাকি রোদেলা, রোদেলা নাকি মোহিনী???

সত্যিকারের সুন্দর তো আমার ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা যখন শূনের মাঝে তখন চাঁদ সুন্দর, যখন কল্পনার রাজ্য কলংকপুরে ভালবাসা খুজি তখন রোদেলা অপস্বরী, আর যখন কল্পনা থেকে বাস্তবতায় ফিরে আসি তখন মোহিনী। তবে কল্পনায় রোদেলা ধোকা দেয় না, যেমনটা বাস্তবে মোহিনী দেয়৷ আজ রোদেলা আসলে তাকে জিজ্ঞেস করবো কেন মোহিনী আমার সাথে এমন করল। তবে রোদেলা কি আসবে??

চলবে....................

ধারাবাহিক স্বপ্ন , পর্ব - দুই (২)

 


গল্প ঃ #ধারাবাহিক_স্বপ্ন

পর্ব - দুই (২)

( প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon ) 

রাঙামাটি যাবো কি যাবো না ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। গুম ভাংঙে দুপুর ১২ টার কিছুক্ষণ পর। ফ্রেস হিয়ে নিচে যাই। টং দোকানের এককোনায় বসে চা সাথে একটা বেনসন সুইচ আমার প্রতিদিনের নাস্তা, সারাদিনের এনার্জি। চা খাওয়া শেষে দোকানদার মামা জানিয়ে দেয় যে দোকানে আমার ৫০৯ টাকা বাকি পরে গেছে। দুইদিন পর দিয়ে দিবো বলে ফিরে আসি ফ্ল্যাটে। 

অনেকদিন হয় বেকার বসে আছি। হাত খরচ চালায় বন্ধুরা৷ যে বাসাটাতে থাকি সেটাও এক বন্ধুর। কিছু একটা করা উচিৎ। কিন্তু এই বিস্ফোরিত মন নিয়ে কি এখন কোন কাজে মন দেওয়া সম্ভব???  কিন্তু টাকারও তো বড্ড প্রয়োজন। 

টাকার কথা মনে আসতেই মনে পরলো শিলার ইভেন্ট এর কথা। ইভেন্ট এর কাজটা করলে তো ভালো অংকের একটা টাকা পাওয়া যাবে। শিলার কাছ থেকে তাহলে আপাতত কিছু টাকা ধার নিয়ে নেই। সেই মত শিলাকে ফোন দেওয়া। 

হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে শিলা বলে উঠলো "মামা কিছু ভাবছেন? মানে কিভাবে, কোন প্ল্যানে ইভেন্ট টা করবেন? অবশ্যই কিন্তু ভৌতিক হতে হবে। মনে আছে, চিটাগং এ যে ইভেন্ট টা করেছিলাম"। আমি প্রতুত্তরে বললাম " তুমি লেকে আসো। প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করবো। আর ক্লায়েন্ট কি কিছু এডভ্যানস করছে?"।  শিলা আমাকে লেকে আসতে বললো, ওর আসতে ১০ মিনিট লাগবে।

শিলার ১০ মিনিট সম্পর্কে কি আপনাদের কোন ধারনা আছে?? আচ্ছা আমিই বলে দিচ্ছি। শিলা প্রথমে ১৫ মিনিটে সাওয়ার নিবে, তারপর ৪৫ মিনিট মুখে আটা ময়দা মাখবে। এরপর রিক্সায় উঠবে। ধরে নেওয়া যায় যে শিলার ১০ মিনিট মানে ১ঃ৩০ মিনিট এর সমান। যদিও পড়ির চাইতে ভালো। পড়ি বাইরে বের হতে হলে আগের দিন থেকে সাজুগুজু শুরু করে।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই ১ঃ৩০ মিনিটে আমি আমার রান্না শেষ করে ফেলতে পারো। আমি রান্নায় খুব একটা বাজে না। ছেলে হলেও রান্নার হাতটা ভালো। মাঝে মাঝে ভয় হয়, কবে জেনো হাবু ভাই এসে বলে পুট ইউর হ্যান্ড....... মানে তোমার রান্নার হাতটা একটু দেখবো। হাহাহাহাহা, একটু মজা করলাম আর কি। 

টিশার্ট, প্যান্ট চেঞ্জ করে আমি বাসা থেকে বের হলাম। ৮ তালা থেকে লিফটে নামছিলাম। আমি একা। হটাৎ লিফট বন্ধ হয়ে গেল। স্বাভাবিক, হয়তো বিদ্যুৎ চলে গেছে। 

লিফটের ভেতরে কেমন জেনো একটা গুমট পরিবেশ মনে হল, সু সু একটা বিশ্রি  শব্দ আমার কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। অন্ধকার সব সময় আমার প্রিয় হলেও কেনো জানি এখন আমার অন্ধকার ভিষণ ভয় লাগছে। আমি পকেট হাত দিয়ে মোবাইল বের করলাম লাইট জ্বালানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু মোবাইল থেকে সামান্য পরিমান আলোও আসছে না। আমি জোরে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেও বৃথা হলাম। এক মিটারের বাইরেও আমার চিৎকারের আওয়াজ গেছে কিনা সন্দেহ। ঘাম ঝরছে। আমি বসে পরলাম। লিফটে দেয়াল ঘেষে। চোখ বন্ধ করতে যাবো আর এই সময়ে খেয়াল করলাম আমার পেছনে হালকা আলো। আমি সেখান দ্রুত সরে গিয়ে তাকিয়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম।

লিফটের কাচের দেওয়ালে, যেখানে আয়নার মত। সেখানে আবছা আলোয় একটা মেয়ের পেছনের দিকের অংশ দেখা যাচ্ছে। চুল গুলো হাওয়ায় দুলছে। মেয়েটা ধিরে ধিরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি নির্বাক। এই মেয়েটা তো সেই মেয়ে যাকে গতকাল আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম। ঐযে সাগরপাড়ে যে ভাসছিলো। আমি পারে নিয়ে আসলাম। মুখ দেখার সময় স্বপ্ন ভেংঙে গেলো। আজও তো মুখ দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু মেয়েটা কে? কি বোঝাতে চাচ্ছে? আমি কি স্বপ্ন দেখছি। মাথা ঘুরে জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেললাম।

জ্ঞ্যান ফেরার পর নিজেকে আবিস্কার করলাম নিচে দারোয়ান এর রুমে। আমি নাকি জ্ঞ্যান হারিয়ে পরেছিলাম লিফটে। জিজ্ঞেস করে তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে বিদ্যুৎ যায়নি, লিফট বন্ধ হয়নি। তাহলে কি ঘটলো আমার সাথে?? এটাও কি আমার #ধারাবাহিক_স্বপ্নের একটা পর্ব স্বপ্ন ছিলো? স্বপ্ন কি করে এতো ভয়ংকর হতে পারে??

 প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্য যথেষ্ট সময় তখন আমার হাতে ছিলো না। শিলা বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছিলো। 

শিলাঃ মামা কোথায় আপনি? আজ কি আপনি আটা ময়দা মাখা শুরু করলেন নাকি যে এতো দেরি হচ্ছে?

আমিঃ সরি। একটু লেট হয়ে গেলো। আমি এখনিই রিক্সায় উঠছি। তুমি ফুসকা অর্ডার দিয়ে খেতে থাকো। 

কলাবাগান থেকে রিক্সা নিয়ে ধানমন্ডি ৮ ব্রিজ পার হয়ে রবিন্দ্র সরবেরর কাসেম ভাই এর ফুসকার দোকানে শিলা। 

সামনে গিয়ে দেখি ৩ প্লেট ফুসকা শেষ। আমি গিয়ে বসলাম তখন ৪র্থ প্লেটের সর্বশেষ ফুসকাটি মুখে দিচ্ছে।

শিলাঃ এমন মনমরা, ফ্যাকাসে লাগছে কেনো??

আমিঃ কিছুনা, ক্ষুদা লেগেছে। 

শিলাঃ ফুসকা খান।  সকালেও কিছু খান নাই জানি।

আমিঃ নাহ, চা আর একটা বেনসন সুইচ দিতে বলো।

শিলার সাথে ইভেন্ট এর ব্যাপারে কথা শুরু হলো। তিলোত্তমা তৃতীয়া নামে এক সুন্দরী মেয়ে ইভেন্টের কাজ দিয়েছে। সাথে ১৫ লাখ টাকার একটা চেক। খুবই ছোট করে এই ইভেন্টে খুব হলে ১৫/২০ জন গেস্ট থাকবে। তিলোত্তমা তৃতীয়া মেয়েটার বিয়ে। 

শিলাঃ মামা এখন ইভেন্ট প্ল্যান বলেন।

আমিঃ খুবই সাধারণ প্ল্যান। যতটুকু জানি রিসোর্ট এর চারিদিকে পানি। রাংঙামাটি থেকে ট্রলারে বন্ধুকভাংঙা যেতে হবে। সেখানে একটা টিলার উপর রিসোর্ট। আসে পাসে সব পাহাড়ি, বিদ্যুৎ নেই, সোলার আর জেনারেটর আছে। গেস্টদের রাতে নিয়ে আসবো রিসোর্টে, পুরো রিসোর্ট টাকে ভূতের বাংলোর মত সাজাবো। 

শিলাঃ আগের বারের মত কি একটা গেট করবো?? ভূতের হা করা মুখ দিয়ে ঢুকবে।

আমিঃ নাহ। তোমার ইভেন্ট এর বাজেট খুব কম। আমরা গেট সাজাবো বিভিন্ন ধরনের পুতুল আর মানুষের কংকাল, মুন্ডু দিয়ে। গেস্ট পুতুলের সামনে গেলে পুতুল গুলো থেকে একটা ভয়ার্ত কান্নার শব্দ আসবে। ভয়ে পেছন গেলেই পা পরবে হাড়গোড় এর উপর। তারপর কংকাল দেখে অনেকেই মূর্ছা যাবে।

শিলাঃ ঐযে পুতুল জংগলটার মত? যেখানে অনেক পুতুল গাছে গাছে ঝোলানা আছে। যেগুলোতে কিনা বিভিন্ন মানুশের আত্তা বাস করে।

আমিঃ অনেকটা সেরকম। সেই সাথে একটা মেয়ে থাকবে। সেই মেয়েই হচ্ছে ইভেন্টের মূল আকর্ষন। আমরা লেজারে কাজগুলো করবো। হৃদয় এই বিষয়ে ভালো বোঝে।

মেয়েটার লেজার ছায়ার মত হবে। আমরা আমাদের সব প্ল্যানের কথা গেস্টদের বললেও এই প্ল্যান কাউকে বলবো না। সবার রুম এর আশে পাশে সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরবে মেয়েটি। সবার মধ্যে ভয় বিরাজ করবে। আমদের কাছে বললে আমরা বলবো আমরা জানিনা। বলবো এইখানে একটা মেয়ের অতৃপ্ত আত্তা আছে। সেই আত্তা ঘোড়াঘুড়ি করছে। 

শিলাঃ ফিরে যেতে চাইলে?

আমিঃ আমরা গেস্টদের আনতে যাবো না। ঐখানে লোক ঠিক করা থাকবে তারা আনবে। ফিরে যেতে চাইলে বলবো এরা পিশাচ এরা আমাদের যেতে দিবে না। মুক্তির উপায় হিসেবে বলবো একই বিয়ের মঞ্চে তিলোত্তমা তৃতীয়ার বিয়ের সাথে সাথে ঐ অতৃপ্ত আত্তার বিয়েও দিতে হবে। তখন আরো প্ল্যান বের করে ফেলবো। এখন আমার কিছু টাকা প্রয়োজন, টাকা দাও।

শিলা আমার হাত ৫০০০০ টাকা তুলে দেয় দেয়। তারপর ওর জোরাজোরিতে জিগাতলা গিয়ে কাচ্চি খেয়ে বাসায় ফিরি৷ সাথে কিছু ঘুমের ঔষধ নেই। একটা গভীর ঘুমের বড্ড প্রয়োজন। যে ঘুমে #ধারাবাহিক_স্বপ্ন গুলো এসে আমাকে ডিস্টার্ব করবে না। যে ঘুমে মোহিনীর স্মৃতি গুলো আমাকে মাঝ রাতে কাদিয়ে তুলবে না। অনেক অনেক অনেক গভীর একটা ঘুমের প্রয়োজন। 

চলবে....................

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০


 গল্প ঃ #ধারাবাহিক_স্বপ্ন

পর্ব - এক (১)

( প্রেতাত্মার লেখা গল্প - Written by A R Shipon )


হুট করেই এই ভৌতিক মধ্যরাতে ঘুম ভেংগে গেলো আমার। ভৌতিক মধ্যরাত???

হুম। ভৌতিক মধ্যরাত। গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে। গৌধুলী সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতেও বৃষ্টি। এখন বৃষ্টি নেই, মেঘের গর্জন আছে, আছে নিস্তব্ধতা। সব মিলিয়ে ভৌতিক মধ্যরাত। ভৌতিক মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা ভেংগে দিয়ে ঘড়ির কাটার ঠুক ঠুক ঠুক শব্দ আমাকে তার দিকে মনোযোগ নিয়ে নেয়। অন্ধকার ঘরে ঘড়ির কাটার ঠুক ঠুক ঠুক শব্দ আমার বেশ ভালো লাগে। এর আগেও অনেকবার মুগ্ধ হয়ে মাঝরাতে ঘড়ির কাটার শব্দ শুনেছি। ঘড়ির কাটার প্রতিটি শব্দ আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ধরুন আমাদের জীবন শতকোটি ফ্রেমের টাইমলাইনে বন্দি। ঘড়ির একেকটা কাটা শব্দ করে এগুচ্ছে আর আমাদের জীবন থেকে এক একটি ফ্রেম শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিন সব ফ্রেম শেষ হয়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে জীবনের রংধনুর গল্প। কতশত গল্পই না আমাদের জীবনে। কত রকম ভালোবাসায় ঘিরে ব্যাস্ত এই জীবন।

ভালোবাসার কথা উঠতেই মনে পরে গেলো স্বপ্নের কথা। ঘুম ভেংগে যাওয়ার আগে স্বপ্ন দেখছিলাম।

জায়গাটা খুব সম্ভবত চট্টগ্রাম এর পতেংগা সি বিচে।

সামনে বিশাল সমুদ্র, আমি ঠায় দাড়িয়ে সমদ্রের ঢেউ গুনছি। পেছন থেকে একটি কোমল হাতের স্পর্শ অনুভব করি। পেছন ফিরে তাকাতেই এক মোহনীয় হাসি। একরাশ মুগ্ধতা রেখে গেলো হাসিখানা।

নীল ড্রেসের খুব সাধারণ সাজুগুজুতে ভয়ংকর সুন্দরী লাগছিলো তাকে। সে দুপা এগিয়ে আমার পাশে দাড়ায়। শক্ত করে আমার হাত জরিয়ে ধরে। দুজন মিলে আবার নতুন করে ঢেউ গোনা শুরু করি। তারপর হটাৎ এক ভয়ংকর ঝড় তেড়ে আসে। আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে এমন অবস্থা। আমি তাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরি। যেই আসুক না কেনো, কেউ তাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না কোনদিন।

ঝড় থেকে একটা কালো হাত এগিয়ে আসে। আগত্বক একটা কন্ঠস্বর ভেষে আসেঃ মোহিনীকে নিতে এসেছি, আমি তাকে নিয়ে যাবে। আমিও চিৎকার করে বলিঃ কোনদিনও সম্ভব নয়। আমি আমার মোহিনীকে কক্ষনই ছেড়ে দিবো না।।। আমি মোহিনীকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরি। ঝড়ো বাতাস বাড়তে থাকে, আমি আগলে রাখি মোহিনীকে। একসময় পাগল ঝড় হার মানে। সে চলে যায়। আমি শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছি মোহিনীকে।

সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। মোহিনী আমাকে দিকে তাকিয়ে আবার সেই মুগ্ধ করা হাসি। আমি বিমোহিত হই আবার। আবার বুকে জরিয়ে ধরি। কিছুক্ষন পর খেয়াল করি মোহিনী নেই। আমার শক্ত বাধন ছিন্ন করে মোহিনী পালিয়ে গেছে। কিন্তু কেনো? আমি তো তাকে ভালোবেসে শক্ত করে জরিয়ে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।

খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এতোকষ্ট যে স্বপ্নেও সেটা সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যায় আর সেই সাথে ভেংগে যায় আমার ঘুম। রেখে যায় এমন সব অসমাপ্ত #ধারাবাহিক_স্বপ্ন।

ভালোবাসা বা ভালোবাসি, কেনো ভালোবাসি???

কবিতা আওরাতে থাকি নিজের অজান্তে,


শুধু ভালোবাসি তাকে, আর শুধু সেই কারণে, কারণ যারা ভালবাসে তারা জানে না তারা কি ভালবাসে

অথবা কেন ভালবাসে, অথবা ভালবাসা কি।

ভালোবাসা হল সরলতা,

আর গোটা সরলতা ভাবনা চিন্তা করা নয়....

আবার ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করি। কিন্তু বুঝে গেছি যে আজ ওর ঘুম সম্ভব নয়। ঘুম আজকের মত মোহিনীকে অনুসরন করে ছায়ার মত পালিয়ে গেছে। আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেসবুকে মনোযোগ দেই। ম্যাসেঞ্জার খালি পরে আছে। আগের মত এখন আর ম্যাসেঞ্জারে কেউ ডিস্টার্ব করার নেই। তাই আবার ফেসবুকের হোমপেজে গিয়ে স্ক্রলের পর স্ক্রল করে যাচ্ছিলাম। পড়ির একটা পোস্টে লাইক দেই। তার কিছুক্ষনই পরই পরি "দাদা" লিখে এসএমএস দেয়। তারপর ওর সাথে কথা চলে।

তুষার নাকি পড়িকে জানিয়েছে এখানে তুষার যে রিসোর্টে থাকে সেই রিসোর্টে ভূত আছে। তাই পরি বায়না ধরছে রিসোর্টে যেতে। আমি পরিকে স্বান্তনা দিয়েছি যে আমি যাবো। বিস্তারিত আরো জানতে বলেছি তুষারের কাছ থেকে। যদিও আমি জানি। এগুলো নিছক ফাইজলামি ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবুও এই ডিপ্রেশন এর সময়টুকু অন্যকিছু নিয়ে মেতে থাকলে হয়তো খারাপ কাটবে না।

পড়ির সাথে কথা বলার সময়ই নক দেয় রনি। হটাৎ আজ এদের আমার কথা মনে পরেছে হয়তো। সচরাচর আমি নক না দিলে এরা নক দেয় না।

রনিঃ দাদা কি খবর তোমার???

আমিঃ এইতো, ভালোরে। তোর কি খবর?

রনিঃ এক্সাইটিং একটা নিউজ আছে দাদা।

আমিঃ কি সেটা???

রনিঃ ফোনে বলবো। আমি ফোন দিচ্ছি ম্যাসেঞ্জারে তোমাকে দাদা।

যেই কথা সেই কাজ। ম্যাসেঞ্জারর কল দেয় রনি। রনির সাথে আমার ১২ মিনিটের কথা হয়। এক্সাইটিং নিউজ হচ্ছে রনি একটা গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হয়। পুরস্কার হিসেবে ৩দিনের জন্য সম্পূর্ন খাওয়া দাওয়া সহ রিসোর্ট ফ্রি। যতখুশি ততজন। রনি চায় আমাদের গ্রুপের সবাইকে নিয়ে সেখানে যেতে। অনেকদিন আমাদের কারোর সাথে কারো দেখা হয় না।

আমি ভাবলাম বিষয়টি মন্দ নয়। তুষার ও ভূত গবেষণার জন্য যেতে বলেছে। সুতরাং খারাপ হবে না।

ম্যাসেঞ্জারে ঢুকে দেখি শিলার এসএমএস। "মামা একটা কাজ পেয়েছি৷ একটা ওয়েডিং এর ইভেন্ট প্ল্যান এবং ইভেন্ট সুন্দরমত নামিয়ে দিতে হবে।"

বিয়ের ইভেন্ট এর কথা শুনতেই মনে পড়ে গেলো ডার্ক লর্ডের কথা। ভুডোর সাথে সেই কত যুদ্ধই না করতে হয়েছিলো। পরে অবশ্য ডার্ক লর্ড গল্পটার ৫ টি পর্ব গল্প আকারে লিখেছিলাম।

শিলার এসএমএস এর রিপ্লে দেই। শিলা জানায় আমাকে তার সাথে তার ঐ কাজে হেল্প করতেই হবে। হৃদয় নাকি অলরেডি ইভেন্ট এর সব ব্যাবস্থা করেই ফেলেছে। এখন আমার সম্মতি পেলে রিসোর্ট আর বাসের টিকিট কাটবে।

ভালোই লাগছিলো, কতদিন পর কাছের এই মানুষগুলোর সাথে কথা হলো। আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে টেবিলের উপর থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর ফায়ার বক্স নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসি। সিগারেটে আগুন ধরিয়ে চোখটা বন্ধ করি। সিগারেটে চুমু খাই, হারিয়ে যাই কল্পনায়।

আমি হাটছি সাগরের পাশের মেরিনড্রাইভ দিয়ে। এখন নিশ্চিত মধ্যরাত। কেউ নেই আসে পাসে৷ হালকা ঝিরিঝিরি বাতাস বয়ে চলছে। হটাৎ পেছন থেকে শিতল স্পর্শ । আমি জানি এটা কার স্পর্শ। মোহিনী। মোহিনী কাছে আসে আমার হাত ধরে আমার পাশে হাটতে থাকে। দুজনে পাশাপাশি হেটে চলছি। সাগরের ঢেউ এর গর্জন, ভরা পূর্নিমার চার আর মোহিনীর, সব মিলিয়ে অসম্ভব এক রোমান্টিক মুহুর্ত। হেটে চলছি। হটাৎ বা পাশে খেয়াল করে দেখে সমুদ্রে একটা মেয়ে ভাসছে। ডান পাশে মোহিনীকে দেখানোর জন্য তাকাতেই দেখি মোহিনী আবার হারিয়ে গেছে।

আমি দেরি করি না। খুব দ্রুত নেমে পরি সুমদ্রে। মেয়েটির কাছে যাই। সাদা শাড়ি পড়া। শরীরের কোন অংশ থেকে রক্ত বেরুচ্ছে। পানি লাল হয়ে যাচ্ছে। সবই পুর্নিমার আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে সাহায্য পার্থনা করি। পরক্ষনেই মনে পরে এই মধ্যরাতে কে আমাকে সাহায্য করতে আসবে।

ভয় ভয় লাগছে। মেয়েটি উপর হয়ে আছে৷ আমি সেভাবেই অনেক কষ্টে টেনে পাড়ে উঠাই। ধিরে ধিরে উপর করার চেষ্টা করি। কিন্তু হটাৎ করেই এতো ভাড় লাগছে যে আমি কোনভাবেই উপড় করতে পারছি না। বাতাস এর বেগ বেড়ে গেলো, ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো সমুদ্রের ঢেউ। কোথাও থেকে আর্তনাদের চিৎকার ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে প্রকৃতি চাচ্ছে না আমি মেয়েটির মুখ দেখি। আমিও নাছর বান্দা। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মেয়েটিকে উপর করার চেষ্টা করি। এইতো, এইতো আর একটু। করেই ফেলেছি প্রায়। আধ মুখি দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি অসম্ভব সুন্দরী।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা বেজে উঠে।

ধ্যাত। স্বপ্নটা শেষ। সিগারেট টানতে টানতে চোখ বন্ধ করার পর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর ঘুমে দেখি আবার সেই ধারাবাহিক স্বপ্ন। কিন্তু এতো ভয়ংকর ছিলো কেনো স্বপ্নটা??

জয় এর ফোন। রাগ করে প্রথমবার কলটি রিসিভ করিনি। আর মিনিট খানেক পর ফোন দিকে হয়তো দেখতে পেতাম। দ্বিতীয়বারের কলে ফোনটি ধরি।

জয়ঃ দাদা ঘুমোচ্ছো??

আমিঃ এখন রাত ৩ঃ৪৬ মিনিট। এখন তো ঘুমানোরই সময়। তাই না?

জয়ঃ না মানে, একটু আগে অনলাইনে দেখলাম তাই ফোন দিলাম। খুব জরুরী একটা বিষয়।

আমিঃ কি জরুরী বিষয় সেটা বল।

জয়ঃ কিছুক্ষন আগে আমার বাসায় একটা মেয়ে এসেছিলো। নাম তিলোত্তমা তৃতীয়া। তার একটা স্ক্রিপ্ট আছে। হরর। সে চায় আমি একটা শর্ট ফিল্ম করে দেই। এডভান্স ৫লাখ টাকার চেক ও দিয়ে গেছে। সব ঠিকঠাক দাদা। স্ক্রিপ্ট, স্টোরি বোর্ড। এমনকি নায়িকাও রেডি। আমার ১২৮ নাম্বার প্রেমিকা আর কি।

আমিঃ ভালো তো। তুই করে ফেল। তুই তো বেশ কয়েকটি ভালো ভালো কাজ করেছিস। সাথে সাথে অনেক মেয়েও পটিয়েছিস। তোর এই সব ধান্দা বন্ধ কর। মেয়েবাজি কমা। কবে যে বিপদে পরবি কে জানে। তুই কর। আমার কোন হেল্প লাগলে আমাকে বলিস।

জয়ঃ দাদা দাদা। তুমি এটার ডিরেকশন দিবে। আর এডিটটাও তুমি করবে প্লিজ। রাংগামাটিতে শুটিং করতে হবে, তুমি সেখানে আগেও গিয়েছিলে। আর ভূত নিয়ে তো তোমার অনেক অভিজ্ঞতা। তাই তুমিই এই কাজটা করছো। এবং ফাইনাল।

আমিঃ কোথায় শুটিং??

জয়ঃ রাংগামাটির বন্ধুকভাংগা গ্রামে #স্বপ্ন নামে একটা রিসোর্টে।

আমিঃ স্বপ্ন রিসোর্ট??

জয়ের সাথে কথা শেষ করে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকি। একদিনে চারজন নক করলো এরা। চারজনের চারটি কাজ। অবাক করার বিষয় হচ্ছে প্রত্যেকের কাজই রাংগামাটি এবং রিসোর্ট কেন্দ্রিক। পড়ির বয়ফ্রেন্ড তুষার কাজ করে রাংগামাটির স্বপ্ন রিসোর্টে, রনি পুরস্কার হিসেবে এই রিসোর্টে থাকার সুজোগ পেয়েছে, শিলার বিয়ের ইভেন্ট করতে হবে এই রিসোর্টে আবার জয়ের শুটিং এই রিসোর্টে।

খটকা লাগছে, ভিষন খটকা। ২ বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া ভূত গোয়েন্দা (Bhoot Detective Branch) এর সদস্য রনি, শিলা, পড়ি, জয়কে কোন না কোনভাবে কেউ আবার একসাথে করতে চাচ্ছে। এদের মাধমে আমাকেও কি চাচ্ছে সেইখানে নিয়ে যেতে?? কোন রহস্য আছে কি??? আমি দুপুর ভূত গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলাম। অনেক ভৌতিক সমস্যা ও রহস্য উদঘাটন করেছি আমার টিম নিয়ে। সেই টিমের সবাইকে রাংগামাটি ডাকছে। যাবো কি যাবো না ভাবতে ভাবতে...............


(সম্পূর্ণ গল্পটি আমার বিকৃত মস্তিকের কল্পনা মাত্র। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। পরবর্তী পর্ব আগামীকাল অথবা পরশুদিন পোস্ট করা হবে।)

আইডির রিচ কম হওয়ায় পোস্ট রিচ কম হয়। তাই সকলের নিকট অনুরোধ ভালোলাগা বা মন্দ সেটা কমেন্টস করে জানাবেন। শেয়ার দিবেন। ধন্যবাদ।