মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪

নতুন বছরে শিপনের গল্প

#শুভ_নববর্ষ_২০২৫ ২০২৫ সালে নতুন উদ্যমে, নতুন পথ চলা: শিপনের গল্প, আমার গল্প। জীবন কখনোই সোজা পথে চলেনা। মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়, আবার কিছু সময় আমাদের পথে আসে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই সমস্ত চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমাদের স্বপ্ন এবং প্যাশন কখনো হারিয়ে যেতে দেয় না। আমি শিপন, ৩১ বছর বয়সী একজন ভিডিও এডিটর এবং থ্রিডি মডেলিং, এনিমেশন এবং গেম ডেভেলপমেন্টের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। আমার জীবনটা বেশ মিশ্রিত। একদিকে যেখানে আমি একটি কম বেতনে চাকরি করছি, অন্যদিকে আমার জীবনে নানা রকমের চ্যালেঞ্জ আছে—একটি ডিভোর্স, জীবনের সংগ্রাম এবং প্যাশন অনুসরণের ইচ্ছা। এসব কিছুই আমাকে কখনো থামাতে পারেনি। আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে বহু সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাসের একত্রিত ফল। আমার প্যাশন—থ্রিডি মডেলিং এবং গেম ডেভেলপমেন্ট—এগুলি কেবল আমার শখ নয়, এগুলি আমার জীবন। যদিও আমি একটি চাকরি করি, তবুও আমার মনে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে এই প্যাশনের ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি, একদিন এই প্যাশনই আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাবে। তবে এই পথে আরো অনেক কিছু করতে হবে। আমার একটি বিজনেস প্ল্যানও রয়েছে যা এই ক্ষেত্রের মধ্যে কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমি খুঁজছি এমন কিছু ইনভেস্টর যাঁরা আমার স্বপ্নের পাশে দাঁড়াতে চান। তবে জীবন সবসময়ই সোজা পথ নয়, মাঝে মাঝে অনেক দিকেই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। অফিসের চাপ, প্যাশনের জন্য সময় বের করা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, সব কিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত সংগ্রামে আছি। তবুও, আমি বিশ্বাস করি, আমার পরিশ্রম এবং ধৈর্যের মাধ্যমে ২০২৫ সালে আমি একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারব। আমার জীবনে এখন নেই কোনো লাইফপার্টনার, কিন্তু আমি জানি, একদিন জীবনের সঙ্গী খুঁজে পাব। এই মুহূর্তে আমি আমার লক্ষ্য, আমার প্যাশন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেই মনোযোগ দিচ্ছি। এই সময়ে নিজের জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য কাজ করছি, যাতে একদিন আমি সেই সাফল্য অর্জন করতে পারি যা আমি স্বপ্নে দেখি। ২০২৫ সালের জন্য আমার পরিকল্পনা: নিজের বিজনেস শুরু করা, থ্রিডি মডেলিং এবং গেম ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে একটি নতুন প্রজেক্টের সূচনা, এবং রাজনৈতিক জীবনেও নিজেকে আরো শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমি জানি, এই বছর আমার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। জীবনের এই কঠিন সময়ে, আমি জানি—যতই কষ্ট হোক, যতই বিপর্যয় আসুক—প্রত্যেক পদক্ষেপই আমাকে আমার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। আজকের চ্যালেঞ্জগুলো আগামী দিনের সাফল্যের পাথেয় হয়ে থাকবে। এখন, ২০২৫ আমার জন্য একটি নতুন শুরু হতে চলেছে। আমি প্রস্তুত, প্রস্তুত হয়ে আছি সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার পথে যারা আমাকে সমর্থন দেবে, তাদের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আর যারা একদিন আমার গল্প শুনবেন, তারা জানবেন—আমি কখনো হাল ছাড়িনি, কখনো থামিনি। আমার স্বপ্ন পূরণের যাত্রা অব্যাহত থাকবে, এবং আমি জানি, আমি একদিন সফল হব। পরিশেষে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর প্রতিষ্টা বার্ষিকী ও সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ডিপ্রেশান

#ডিপ্রেশান রাত গভীর হচ্ছে, কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি যে আমি তীব্র অনিদ্রা রোগে ভুগছি। ইংরেজিতে যাকে insomnia বলে আর কী। আগে আমার বন্ধু জয়ী আমাকে বলতো, ‘দোস্ত আমায় একটু ঘুম ধার দে না’। আমি বলতাম ‘ঘুম আবার ধার দেয়া যায় না-কি, শুয়ে ঘুমিয়ে পড়বি’। এটা বলে কথাটা উড়িয়ে দিলেও মনে মনে ভাবতাম, আচ্ছা কী এমন হয় মানুষের! যে সে রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে থাকে। এখন বুঝি যে কেন এই নির্ঘুম রাত, কীভাবে এই নিস্তব্ধতার মাঝেও দুচোখের পাতা এক হয় না। আসলে মানুষের মনের জগতে যখন আঁধার নেমে আসে তখন রাতের আঁধার তার মনে আরও স্পষ্ট কালো ছাপ ফেলে। এখানে মন জিনিসটা আমাদের মস্তিষ্ক। শহরটি এখন নিস্তব্ধ এটা বটে, কিন্তু মানুষগুলোর মস্তিষ্ক নিস্তব্ধ নয়, সেটা অবিরাম ছুটে চলেছে চিন্তার জগতে। মাঝেমাঝে অবাক হই আমার মস্তিষ্কের কথা ভেবে, রাত যত গভীর হচ্ছে, মস্তিষ্ক যেন আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়ছে, কোনো এক কারণে প্রচণ্ড বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে সে। কিংবা সে ভয় পেয়ে আছে কোনো কারণে। রাত যত গভীর হচ্ছে ভয় যেন আরও বাড়ছে, একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছে সে, কিন্তু সে ভোর আসছে না। দিনের পর দিন যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত নতুন ভোর কোনোভাবেই আসছে না। আচ্ছা মানুষ অন্ধকারে কেন থাকতে পারে না? হ্যা অনেক মানুষের কাছেই অন্ধকার প্রিয়, রাত প্রিয়, তার পছন্দের কাজগুলোও রাতে করতে সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে মানুষের মস্তিষ্ক কিংবা মস্তিষ্কের এক অংশ অন্ধকারকে এড়িয়ে চলতে চায়, তাই হোক না হোক অবচেতন মনে একটা আঁধার ভীতি মানুষের ঠিকই রয়েছে। আমার বিক্ষিপ্ত মনে কিছু চিন্তা যেন বিদ্যুতের গতিতে চলছে। আচ্ছা insomnia কিন্তু আমার একার না। আমি আমার বয়সী আরও অনেক ছেলে মেয়েকে দেখেছি যারা insomnia তে ভুগে, তাদের রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটে। এই insomnia এর কারণ একেক জনের একেক রকম। কেউ পড়াশোনা বা নির্দিষ্ট কাজে রাত জাগতে জাগতে একটা পর্যায়ে এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এবং এখন সে রাতে এমনিতেই ঘুমাতে চায় না বা পারে না। কিন্তু ১৩-২০ এই বয়সী ছেলে মেয়েদের রাত জাগার আরও একটি কারণ হলো ‘ডিপ্রেশন’। এখন হয়তো কেউ বলতে পারে এত কমবয়সী ছেলে মেয়েদের ডিপ্রেশন এত বেশি কিসের। যারাই এই প্রশ্নটি করবে তারাই বরং এই ডিপ্রেশনের একটি অন্যতম কারণ। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডিপ্রেশন কোনো নতুন বিষয় না। ২০১৮ এর একটি জরিপে বিষয়টি উঠে এসেছে যে বিশ্বে প্রায় ৯৭০ মিলিয়ন মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার স্বীকার। অর্থাৎ প্রতি একশো জনে ১৩ জন মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২৬৪ মিলিয়ন মানুষ ‘ডিপ্রেশন’-এ ভুগছে। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৩.৪৩% মানুষ ডিপ্রেশনের স্বীকার। মানসিক সমস্যাজনিত সমস্যা বলতে যে শুধু ডিপ্রেশন না তা আগে বোঝা দরকার। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্যে আছে আরও কয়েক ধরনের নির্দিষ্ট সমস্যা। এর মধ্যে আছে Depression, Anxietz, Bipolar disorder, Eating disorder, Schizophrenia, Drug use disorder, Alcohol use disorder etc. এই সমস্যাগুলোয় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বা জরিপটাও ভিন্ন। এখন আমরা খুবই বোরিং একটা জরিপ দেখব। কিন্তু পুরো বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ব্যপারে একটি ধারণা পেতে উক্ত জরিপটি খুবই তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ । Our World in Data’ নামক একটি সংস্থার ২০১৮ এর একটি প্রতিবেদনে উঠে আসা বিশ্বব্যপী মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জরিপটি হলো : • Anxietz: প্রায় ২৮৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ ৩.৮% মানুষ এই anxiety বা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। যার মধ্যে ৪.৭% নারী এবং ২.৮% পুরুষ। • Depression প্রায় ২৬৪ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩.৪৩% মানুষ এই depression বা হতাশায় ভুগছে। যার মধ্যে ৪.১% নারী এবং ২.৭% পুরুষ। • Alcohol use disorder প্রায় ১০৭ মিলিয়ন মানুষ। মোট জনসংখ্যার ১.৪%। ২% পুরুষ এবং ০.৮% নারী। • Drug use disorder প্রায় ৭১ মিলিয়ন মানুষ। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.৯%। ১.৩% পুরুষ এবং ০.৬% নারী Bipolar disorder : প্রায় ৪৬ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০.৬%। এর মধ্যে ০.৬৫% নারী এবং ০.৫৫% পুরুষ এতে আক্রান্ত। Schizophrenia: প্রায় ২০ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০.৩% এই সমস্যায় আক্রান্ত। যার মধ্যে ০.২৬% পুরুষ এবং ০.২৫% নারী . Eating Disorder : প্রায় ১৬ মিলিয়ন বা মোট জনসংখ্যার ০.২% মানুষ এর ভুক্তভোগী। যার মধ্যে ০.২৯% নারী এবং ০.১৩% পুরুষ। পরিসংখ্যানটি একটু খেয়াল করলে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে উল্লেখিত ৭টি সমস্যার মধ্যে ৪টি সমস্যাতেই নারীরা বেশি ভুক্তভোগী। এবং একটি গড় হিসাবের মাধ্যমে এটি বেরও করা হয়েছে যে বিশ্বব্যপি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৩.৩% নারী এবং ১২.৬% পুরুষ। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেশ কিছু বছর ধরেই আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। তবে বর্তমানে ২০২০ এ করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে এই পরিসংখ্যানটি আরও বহুগুনে বেড়েছে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা। মহামারীর এই সময়ে অনেকের চাকরি চলে গেছে। অনেক পরিবার পথে নেমে গেছে, অনেকের পরিবার পরিজন করোনায় আক্রান্ত। কারও আবার কাছের মানুষ মারা গেছে, কারও হয়তো হচ্ছে অনিশ্চিত মৃত্যুর ভয়। চারিদিকে মৃত্যু আর লাশের খবর, পুরো শহর, দেশে একটা অবরুদ্ধ অবস্থা। এমন এক ভয়ানক অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া কোনো অবাক করার মতো বিষয় না। প্রথম আলোর একটি সংবাদে আসা একটি জরিপে দেখা যাচ্ছে যে এই মহামারীর প্রভাবে পৃথিবীর ৪০ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপে আছে। অর্থাৎ করোনা মহামারীর কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে ভয়াবহ আকারে। এর কারণটিও সুস্পষ্ট। পৃথিবীর প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষ এই মহামারীর সময়ে একটা দীর্ঘ সময়ে লকডাউনে ছিল। অর্থাৎ সেই সময়টায় সবাইকে গৃহবন্দী হয়ে জীবন যাপন করতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী জীবন যাপন করছে। একটি নির্দিষ্ট বয়স সাধারণত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাহিরের পরিবেশে সহপাঠী ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, পড়াশোনা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে একটি স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। সেটি করার সুযোগটি এখন হচ্ছে না। তাই এই তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি দীর্ঘ সময় ধরে একরকম মনস্তাত্ত্বিক অবরুদ্ধতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত ঘরে থাকার কারণে অলস সময় ব্যয় হচ্ছে দিনের অধিকাংশ সময়ে। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে শিশু কিশোরদের আচরণে তাই বিভিন্ন প্রভাব দেখা দিচ্ছে যা পূর্বে ছিল না। আশঙ্কাজনকভাবে তাই শিশু-কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকদের মধ্যেও হতাশা ও দুশ্চিন্তাজনিত সমস্যা ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ অভিভাবকদের মধ্যেও দীর্ঘসময় ঘরবন্দী থাকার কারণে মানসিক চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মানসিক চাপ বা সমস্যা মহামারী পরবর্তী সময়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে তাই এই মহামারী চলাকালীন সময়েও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শুধু এই মহামারী সময়েই না, এমনি সময়গুলোতেও দেখা গেছে যে উন্নত দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যপারে সবসময়ে অনেক বেশি জোর দেয়া হয় এবং সেখানকার একদম স্কুল পর্যায় থেকে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা কাউন্সিলিং সেকশন থাকে। এবং সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য ও সমস্যা বিশেষজ্ঞ এবং এবিষয়ে জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও খুবই দক্ষ ও সুপরিকল্পিত। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যপারটিতে আলাদা ভাবে জোর দেয়া হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো কিংবা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। আমাদের বাংলাদেশের কথাই যদি ধরি তবে ২০১৮-১৯ এর বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্তবয়স্ক দের মধ্যে ১৬% মানুষ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ৭% ভুগছে ডিপ্রেশনে। এবার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের কথা ধরি তবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮% শিশু-কিশোর বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এবং ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে মানসিক সমস্যায় ভুক্তভোগীদের ৯০%ই কোনো প্রকার চিকিৎসা নিচ্ছেনা বা পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ দের মতে, এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত। যেকোনো শারীরিক স্বাস্থ্যকে যতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়, মানসিক স্বাস্থ্যকে ততোটা গুরুত্বতো দেয়া হয়ই না বরং এখনো মানসিক সমস্যাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ বা হালকা বিষয় হিসেবে নেয়া হয়। অনেকে মানসিক সমস্যাকে সমস্যা বলেই মনে করে না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ‘স্বাস্থ্য’ শব্দটিকে শুধু ‘শারীরিক’ শব্দটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বলতে যে শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাকে বোঝায় তা আমাদের সমাজে প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়। এছাড়া দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছে মাত্র ২২০ জন, যা জনসংখ্যার অনুপাতে খুবই নগন্য। তাই আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় যে দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা অবশ্যই কাম্য না। এবং কিশোর বয়সী যারা রয়েছে অর্থাৎ ১৩-১৯ বছরের যারা, তাদের মানসিক সমস্যাগুলো ভয়াবহ প্রভাবও বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ২২% হলো কিশোর-কিশোরী। এবং বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জরিপেও এটাই পরিলক্ষিত হয় যে এই বয়সী ছেলে মেয়েদের ১৮% মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। অর্থাৎ পরিসংখ্যানটা কিন্তু ভয়াবহ। ১৩-১৯ এই বয়সটাকে বিদেশে বলে টিনএজ বাংলায় বলা হয় বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময়টাতে একটি শিশু ক্রমশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হয়। এই সময়টাতে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। এই সময় তারা অনেক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় এবং নতুন অনেককিছু ভাবতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায় এই বয়সীদেরকে সঠিক যত্ন নিলে ও সুযোগ সুবিধা দিলে এরা ভবিষ্যতটা অনেক সুন্দরভাবে গড়তে পারবে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টোটা হয়। এই বয়সীদের মধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে একটা বড় অংশ এই টিনএজডরা। এর প্রধান কারণ সাধারণত তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট। পারবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, চাপ এগুলো বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। শহুরে পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর একটি অন্যতম কারণ পরিবার কাঠামো। শহুরে পরিবার গুলো সাধারণত ছোট ও একক পরিবার হয়। অনেকসময় দেখা যায় যে এসব পরিবারে বাবা মা দুজনই চাকুরিজীবী হওয়ায় সন্তানকে ঠিকমতো সময় দিতে পারে না। যার ফলে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ যত্নের অভাবে ঠিকভাবে হয় না। এছাড়া অনেকক্ষেত্রে যেসব পরিবারে একটিমাত্র সন্তান, এবং বাবা মা দুজনই চাকুরিজীবী, সেসব পরিবারের সন্তানেরা সাধারণত একটা দীর্ঘসময় একা থাকতে থাকতে একটি মানসিক ট্রমার শিকার হয়। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের প্যারেন্টিং এর অভাবে একাকীত্ব একরকম মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে। ব্যাড প্যারেন্টিং, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। বাংলাদেশের ৮০% অভিভাবক প্যারেন্টিং জিনিসটা বুঝে না। তারা তাদের নিজেদের সন্তানকে না বুঝে বিভিন্নভাবে মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়। এদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তি জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোকে সন্তানকে পাওয়াতে চায়। তাই তারা সন্তানের উপর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তারা সন্তান কী হবে জন্মের পরই সেটা ঠিক করে দেয়, সন্তানের নিজের কোনো স্বপ্ন আছে কি-না তা জানতে চায়ও না, পূরণ করার উৎসাহ তো দেয়ই না। এরা কোনো কিছুতেই সন্তুষ্টি বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। নিজের সন্তানের দাম তো দেয়ই না বরং এরা সারা জীবন অন্যের সাথে নিজের সন্তানকে তুলনা করে। ‘অমুক অংকে ৯৯ পেলো তুমি কেন ৬০ পেলা’। এইধরনের প্রশ্ন করে তারা সন্তানের জীবনে একটা ভয় ঢুকিয়ে দেয়। তারা সন্তানকে নতুন ব্যপারে উৎসাহ কম দেয় বরং অপরের সাথে তুলনা করে ছোট করতে থাকে। এভাবে অধিকাংশ সময়ে অভিভাবকরাই সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে তাদের শৈশব বা কৈশোরের একটা দীর্ঘসময় হীনমন্যতায় ভোগে শুধুমাত্র তাদের বাবা-মার অতিরিক্ত শাসনের কারণে। কোথাও যেতে হলে, কোথাও কিছু করতে হলে, পড়াশোনার পাশাপাশি আরও কিছু করতে চাইলে, সবজায়গাতেই এখনো রক্ষনশীল পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সুযোগ দেয় না। যদি বা দেয়ও তাও অনেক অনুরোধের পর। আবার এসব ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যও কম হয় না। মূলত লিঙ্গ বৈষম্যের কনসেপ্টটা একটা মানুষের মাথায় ঢুকে পরে শৈশবেই যখন তার পরিবারেই তাকে ও তার বিপরীত লিঙ্গের ভাই/বোন এর সাথে ভিন্ন আচরণ করা হয়। কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে যেই অনুমতিটা খুব সহজেই দেয়া হয়, মেয়ে সন্তানকে সেটা ততো সহজে দেয়া হয় না, কিংবা হয়তো দেয়াই হয় না। এক্ষেত্রে অবশ্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও পরিবেশ প্রেক্ষাপটও অনেকাংশেই দায়ী। সমাজ ব্যবস্থার কারণে অভিভাবকরাও একরকমের প্রভাবিত হয়েছে এটার দ্বারা। কিন্তু শৈশবে বা কৈশোরে অভিভাবকদের এধরনের আচরণ সন্তানদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত শাসনের কারণে অনেক সন্তানের মনে তার নিজের বাবা মার প্রতি মারাত্মক ভয় বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘৃণারও জন্ম নেয়। একটি মানুষের জন্য তার বাবা-মা সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি বা ভালবাসার ব্যক্তিত্ব হওয়ার কথা, এটাই স্বাভাবিক। সেখানে কোনো সন্তান তার বাবা-মাকে ঘৃণা করবে এটা কত বড় একটা ভয়ংকর ব্যপার তাই না? তবে এটা হচ্ছে, শুধু আমাদের দেশেই না বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এটা ঘটছে। যেটি বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার একটা বিরাট কারণ। এছাড়া উন্নত দেশগুলো এবং বাংলাদেশেও কৈশোরে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাবা-মার জটিল সম্পর্ক। অনেক পরিবারেই দেখা যায় বাবা-মা প্রতিনিয়ত সন্তানের সামনে ঝগড়া করে। অনেক ক্ষেত্রে হাতাহাতিও হয়। শৈশবের এই দৃশ্যগুলো একটি মানুষের মস্তিষ্কে আজীবন গেঁথে যায় বলে অনেক মনোবিজ্ঞানীই মনে করেন। আমাদের দেশ অনেক পরিবারে সন্তানের সামনে বাবা সন্তানের মাকে অপমান করে এমনকি গায়ে হাত তুলে, গুরুতর আঘাতও করে। আবার বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা তো আছেই। আমাদের দেশে তুলনামূলক কম হলেও বিদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ একটি নিয়মিত ঘটনা। কোনো পরিবারে বাবা মার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে সমস্ত পরিবারটি ভেঙে দুভাগ হয়ে যায়। মাঝখানে পড়ে যায় সন্তানটি, যে জানে না তার দোষ কোথায়! সন্তানটি কখনো তার মায়ের সঙ্গও পুরোপুরি পায় না, আবার বাবার সঙ্গও না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে এইধরনের দৃশ্য বা ঘটনা শৈশবে একটি শিশুর সমস্ত মানসিক অবস্থাকেই পরিবর্তন করে দেয়। অনেকক্ষেত্রেই মানসিক বিকারগপ্ত অপরাধীদের ব্যকগ্রাউন্ড বা পারিবারিক তথ্য ঘাটলে এধরনের ঘটনা উঠে আসে। তাই শৈশব বা কৈশরের মানসিক চাপ বা পারিবারিক ভয়ংকর দৃশ্য একটি মানুষের সমগ্র জীবনের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরাট ক্ষতি করে। আর এভাবে সন্তানের মানসিক অবস্থা নষ্ট হওয়ার একটি মূল কারণ ব্যাড প্যারেন্টিং। এই কিশোর-কিশোরীরা অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের চাপ দীর্ঘদিন সহ্য করতে করতে একটা পর্যায়ে দমে যায়। মুক্তির জন্য তখন অনেকে ঘর ছেড়ে পালায়, অনেকে জড়িয়ে যায় অপরাধ জগতের সাথে। কেউ আবার আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়। শুনতে অবাক শোনালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিনএজ ছেলে মেয়েদের একটা বিরাট অংশ জীবনে একবার হলেও আত্মহত্যার কথা ভাবে। তাদের জীবন অনেকসময় এতটাই দূর্বিষহ হয়ে উঠে যে এটা থেকে মুক্তি পেতে তারা জীবনটাই শেষ করে দেয়ার কথা ভাবে। এবং একটা বিরাট সংখ্যার ছেলে মেয়ে এভাবে আত্মহত্যা করেও এবং আত্মহত্যার চেষ্টাও করে অনেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীব্যপী ১৪তম উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা। এবং সকল মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে ১.৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। আরও একটি জরীপে এসেছে যে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যার কারণে মারা যায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একেকটি আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হয়। শুনে অবাক লাগছে তাই না! জী অবাক লাগার মতোই। তবে এটিই বাস্তবতা। এবং যেখানেই আত্মহত্যার কথা আসছে সেখানেই মানসিক স্বাস্থ্যের কথা আসবে। এত বেশি আত্মহত্যার কারণ কি এটিই নির্দেশ করে না যে বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, ডিপ্রেশন এগুলো ভয়াবহ একটি রোগে পরিণত হয়েছে। এবং এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝেও ব্যপকহারে দেখা দিচ্ছে! যান্ত্রিক জীবন, শহুরে পরিবেশের অভ্যস্ততা, কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক অস্থিতিশীল অবস্থা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোেড়ন ইত্যদি বিভিন্ন বিষয় আছে যা আমাদের মধ্যে মানসিক অস্তিরতা বা চাপ সৃষ্টি করে। এগুলোর কোনো কোনোটি মস্তিষ্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবও ফেলে। যার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিরাট ক্ষতি হয়, সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মানসিক রোগ বা সমস্যা। বাড়ে আত্মহত্যার মতো আরও ভয়ংকর ও সাংঘাতিক ঘটনা। এমনকি বাড়তে পারে নৃশংস অপরাধমূলক ঘটনা। এগুলো যাতে না হয় তারই জন্য প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের নিয়মিত যত্ন। পারিবারিক পর্যায়ে শুড প্যারেন্টিং ব্যপারটিকে জোড় দিয়ে দেখতে হবে, কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয় ঐ পরিবারের থেকেই। অভিভাবকদের সাথে সন্তানদের সম্পর্ক সুন্দর ও বন্ধুসুলভ হওয়াটাই আবশ্যক। এছাড়া সব দেশেই একদম স্কুল পর্যায় থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য আলাদা কাউন্সিলিং সেকশন প্রয়োজন। দেশে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন সাথে সাথে মনোবিজ্ঞান, মানসিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এসব বিষয়ের জন্য কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগসুবিধা রাখা উচিত। কতো কিছুই তো উচিত বললাম যদিও। তবুও সবকিছু কি করে সম্ভব হবে? হয়তো আমরা কেউই বলতে পারি না। কিন্তু আমরা নিজেদের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টাটা কিন্তু করতেই পারি। কে জানে হয়তো আমাদের কাছের পরিচিত মানুষটিই মানসিক সমস্যায় ভুগছে। আমরা তার এধরনের লক্ষণ দেখলে তাকে একটু সময় দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। তার সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করতে পারি। সমাধান হয়তো নিজেরা সম্পূর্ণ না দিতে পারলেও, তার কথাগুলো শুনতে পারি, সঙ্গ দিতে পারি। এভাবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের পরিচিত মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন একটু হলেও নিতে পারি, যার অবশ্যই সুফল দেখা যাবে। একবিংশ শতাব্দীর এই যান্ত্রিক সভ্যতায়, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা একটি নিয়মিত ব্যপার হয়ে গেছে। এখনি সময় এটিকে অবহেলা না করে, গুরুত্বের সাথে দেখা। প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া। নাহলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে এবং কে জানে, হতে পারে এই কারণে আমাদের প্রজন্মকে বা পরের প্রজন্মকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। না অনেকক্ষণ জেগে আছি। ক্লান্ত লাগছে ঠিকই তবে ঘুম নেই চোখে। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমারই দেখি এখন মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গেছে । এইযে রাত, অনিদ্রা, আরও কতদিন থাকবে জানি না। আমার মতো আরও কত মানুষ এভাবে রাত জেগে আছে। কতজনের অনিদ্রার কারণ কতরকম! কতজনের কত গল্প মনের! সেগুলোও আরেক রহস্য! এই রহস্যময় পৃথিবীর সব গল্প, সব অনিদ্রার কারণও জানতে পারব কি-না বা তা আদৌও সম্ভব কি-না জানি না। কুকুরগুলো হঠাৎ হঠাৎ অদ্ভুত ভাবে ডেকে উঠছে, কেন ডাকছে তাও জানি না। বুঝছি না, আচ্ছা ওরাও কি রাতে অনিদ্রায় ভোগে? আর ওদের মাথায় যে চিন্তাই আসে চেঁচিয়ে সেটা প্রকাশ করে দেয়? আমরা মানুষরা কেন পারি না সেটা? এই নিস্তব্ধতা এত বেশি ভয়ঙ্কর লাগে আজকাল, যাই হোক এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছি, অপেক্ষাটা এত তীব্র যে ঘুমকে কাটিয়ে দিচ্ছে। এতকিছুর মধ্যেও একটা জিনিসের ভরসায় আছি, সৃষ্টিকর্তার সেই অমর বাণী, “নিশ্চয়ই কষ্টের পরই স্বস্তি আছে তাই আমিও ভাবছি নিশ্চয়ই কেটে যাবে এই আঁধার, রাতের শেষে নতুন সূর্য উঠবে একদিন, আঁধার কেটে নতুন ভোরের আলোয় রাঙিয়ে দিবে চারিদিক! আমি আছি সেই নতুন ভোরের অপেক্ষায় । তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

প্রেমিক প্রেমিকার দেখা হউক

সেই পোড়া কোকিলের গান শুনে শুনে যদি বিভ্রান্ত হও, তবে নিশ্চিত জেনো, এখনো প্রেম আছে মনে চাইলে উদ্ভ্রান্তের মত ঘর ছাড়তে পারো তখন আমরা গাছের পাতায় সংসার পাতবো, বহু দুরে ছেড়ে ছুড়ে নাগরিক ভিড় খড় কুটু টেনে টুনে পাখিদের নীড় তুমি আমি সারা দিন হাতে হাত রাখি গায়ে গায়ে লেগে থাকি পাখিনির পাখি সূর্যোদয় থেকে কিছু আলো সূর্যাস্ত থেকে কিছু আলো যা কিছু সুন্দর যা কিছু ভালো দিন শেষে ঠোঁটে করে ফিরবো নাহয় এটাই তো স্বাভাবিক! এটাই তো হয়! চোখের মায়ায় ধরা দেবে চোখ বহু কালের তৃষ্ণা জমাট চুম্বনে আলিঙ্গনে প্রেমিক প্রেমিকার দেখা হউক।

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

একুশে ফেব্রুয়ারী ও শিরক বা পূজা।

একুশে ফেব্রুয়ারী ও শিরক বা পূজা। প্রথমেই আমি শিরক সম্পর্কে একটু ধারনা নিয়ে নেই। #শির্‌ক ইসলাম ধর্মে, শির্‌ক (আরবি: شرك širk) পৌত্তলিকতা বা বহুঈশ্বরবাদ চর্চা করার পাপকে বুঝায় অর্থাৎ শির্‌ক হল আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা। শাব্দিকভাবে এর দ্বারা এক বা একাধিক কোন কিছুকে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও কর্তৃত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করাকে বুঝায়। এটি তাওহিদের পরিপন্থী একটি বিষয়। ইসলামে শির্‌ক হল একটি অমার্জনীয় অপরাধ যদি না মৃত্যু নিকটবর্তী হবার পূর্বে আল্লাহ্‌র নিকট এই অপরাধের জন্যে ক্ষমা চেয়ে না নেয়া হয়। ইসলামের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসারে, আল্লাহ্ তায়ালার কাছে ক্ষমা না চাইলেও মৃত্যুর পর নিজের বিচার অনুসারে তার ইবাদতকারীদের যে কোন ভুল ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শির্‌কের অপরাধী দুনিয়াতে ক্ষমা না চাইলে কখনোই ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্ তায়ালা শির্কের বিপরীত তাওহিদের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এভাবে, বলঃ তিনিই আল্লাহ। একক/অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন, এবং তাঁর সমতুল্য কেহই নেই। সুরাতুল ইখলাস। #পূজা পূজা (সংস্কৃত: पूजा) হিন্দুদের পালনীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দুধর্মতে, দেবতাগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা অতিথিদের পূজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। স্থান ও কালভেদে বিভিন্ন প্রকার পূজানুষ্ঠান এই ধর্মে প্রচলিত। যথা, গৃহে বা মন্দিরে নিত্যপূজা, উৎসব উপলক্ষে বিশেষ পূজা অথবা যাত্রা বা কার্যারম্ভের পূর্বে কৃত পূজা ইত্যাদি।[১] পূজানুষ্ঠানের মূল আচারটি হল দেবতা ও ব্যক্তির আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশেষ উপহার প্রদান। পূজা সাধারণত গৃহে বা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। পূজার বিভিন্ন প্রকারভেদও রয়েছে।[২] দুর্গাপূজা বা কালীপূজার মতো উৎসবগুলি প্রকৃতপক্ষে পূজাকেন্দ্রিক উৎসব। #একুশে_ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হল একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ সমস্ত বাংলাভাষী অঞ্চলে পালিত একটি বিশেষ দিবস, যা ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বরে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী [১] প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। এটি শহীদ দিবস হিসাবেও পরিচিত। এ দিনটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালে এইদিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ ছাত্র শহীদ হন। যাঁদের মধ্যে রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত উল্লেখযোগ্য এবং এই কারণে এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় শহিদ দিবস হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাদিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি গানের করুণ সুর বাজতে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢাকায় একুশে বইমেলার আয়োজন করে। #সারসংক্ষেপ ৮ ফাল্গুন বা একুশে ফেব্রুয়ারী সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের অধিকাংশ লোক আমরা দ্বিধাদন্দে থাকি যে এই যে একুশে ফেব্রুয়ারী পালিন এটা কি শিরক, পুজা বা বেদাত নাকি। আমি উপরে শিরক ও পূজার ব্যাক্ষা দিয়েছি, এখন আপনিই বলুন এটা কি কোন ভাবে শিরক বা পূজা হয় নাকি? আল্লাহ আমাদের জ্ঞ্যান দিয়েছেন বিবেচনা করার জন্য। এর জন্যই আমরা আশরাফুল মাখলুকাত। আমার মতে একুশে ফেব্রুয়ারী শিরক বা পূজা না। এটা বাংলা ভাষাভাষীদের একটা আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর এমন একটি জাতী নেই যারা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছেন। এখন সেই শহীদদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে তাদের জন্য মিনার স্থাপন (এখানে মিনারের ব্যাক্ষাও দেওয়া উচিৎ ছিলো) করে সেখানে ফুল দিলে সেটা কিভাবে শিরক হয়? আর ফুল দেওয়া মানেই কি পূজা। ফুল তো ভালোবাসার প্রতিক। অনেক সাহাবীগন তাদের স্ত্রীদের ফুল দিয়েছেন। প্রিয় নবী (সঃ) কে হিজরতের সময় ফুল ছিটিয়ে বরন করা হয়েছে। এখন অনেকে বলে যে শহীদ মিনার হচ্ছে কবর, কবরে ফুল দেওয়া শিরক, গোনাহ বা পূজা। হ্যা, কবরে ফুল দেওয়া গোনাহ। কিন্তু শহীদ মিনার কোন কবর না। যারা এটা ভাবছেন তারা ভুল ভাবছেন। এই যে আমি বাংলাভাষায় কথাগুলো লিখছি, আমি পারতাম না লিখতে যদি না তারা আন্দোলন করতো বা শহীদ। এই যে লিখতে পারছি তাদের উছিলায় এর জন্যেও কি তাদের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবো না?

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

ওটা যে আমার ছায়া

অনেকদিন ধরেই একটি মাকড়শা তোমার ঘরের ঝুলবারান্দায় হাঁটতো- গভীর রাতে জোছনা-গোসল সেরে যখন স্বামীর সঙ্গে যুগলবন্দি ঘুমিয়ে পড়তে তখন সে জাল বুনতে শুরু করতো- মাঝে মাঝে ঘাড় উঁচিয়ে দেখতো তোমাকে, কখনো কাছে যাবার সাহস হয়নি। জাল বুনতে বুনতে... বুনতে... বুনতে... রাত ভোর হয়ে যেতো! রাতজাগা কান্ত মাকড়শা তখন নীল অপরাজিতার ঘ্রাণে ডুবসাঁতার দিতো তন্দ্রার ভেতরে। রোজ সকালে শলাঝাড়– দিয়ে সে জাল ঝেড়ে ফেলতে তুমি- মাকড়শা নিজেকে আবিষ্কার করতো নিচে সরু গলির পাশে- বেয়ে উঠতো আবার এক দুই তিন করে অনেকদিন... বড্ড উৎপাত... মহা যন্ত্রণা মনে হলো তোমার কাছে! এক জোছনাধোয়া মধ্যরাতে ধরা পড়লো সে আহা অসহায় মাকড়শা! ধূসর-বরণ মাকড়শা... বেদনায় নীল হয়ে যেতে যেতে তুমি বুঝেছিলে ঠিক, ওটা তোমার মধুর অতীত... ওটা যে আমার ছায়া...

রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আধুনিক যুগে চিরন্তন সত্য কথা দিন শেষে টাকাই সব

আধুনিক যুগে চিরন্তন সত্য কথা দিন শেষে টাকাই সব, অনেক মানুষই বলেন টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, তবে পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে টাকা। একটা মানুষ দিন রাত এক করে দিতে পারে মাথার ঘাম পায়ে ফেটে পারে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য, কেননা এটা দ্বারা নিজের মৌলিক চাহিদা সহ অন্য সব ধরনের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব, মানিব্যাগের ওজন যত বেশি হবে মনের মধ্যে চঞ্চলতা তত বেশি থাকে। যখন মানিব্যাগের ওজন হালকা হতে থাকে একজন যুবকের মাথায় ততই টেনশন জমা হতে শুরু করে, অর্থ এমন একটা জিনিস এটা যোগ্য এবং অযোগ্য দুই ধরনের মানুষের কাছেই থাকে কিন্তু মধ্যবর্তী মানুষ কখনোই চাহিদার মত অর্থ উপার্জন করতে পারে না। যদি এই সমাজ চিনতে হয় তাহলে খালি পকেটে এ শহরের রঙ্গমঞ্চে একদিন কাটালেই বোঝা যায় এখানে কত ধরনের ক্যারেক্টার কত ধরনের অভিনয়, পকেটে টাকা থাকলে সব কিছু যেমন সহজ মনে হয়, এটা অপরিচিত জায়গাতেও বেশ সাহস লাগে মনে হয় কোন সমস্যা হলে ফিরে আসা সম্ভব। মনে হয় দেশ-বিদেশ ঘুরে আসি, কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে তাহলে একটা সময় কাটাই, বিশেষ বিশেষ দিনে পরিবার প্রিয়জনদেরকে নিয়ে চমৎকার কিছু মুহূর্ত উপভোগ করা যায়, কিন্তু সত্যিকার অর্থে পরিবার বন্ধু বান্ধব কিংবা সমাজ সবাইকে চিনতে হলে খালি পকেটেই চেনা সম্ভব। কেননা অর্থ না থাকলে অপরিচিত জায়গা তো দূরের কথা নিজের পরিচিত মানুষরাই বিষাক্ত মনে হবে। অর্থের এক অদ্ভুত রকমের শক্তি রয়েছে, তার জন্য অন্যরকম একটা সম্মান বরাদ্দ থাকে। এবং অর্থহীন একজন মানুষের জন্য সব সময় অবহেলা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছন্নতা বরাদ্দ থাকে। তাই নির্জিত এবং অসাধারণ এই কাগজের টুকরোটি একজন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

ভ্যালেনটাইন ডে: ভালোবাসার উৎসব

প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহের উৎসব ভ্যালেনটাইন ডে প্রতি বছরের মধ্যে বহুল প্রেমিক-প্রেমিকাদের মাঝে উৎসবপূর্ণ রকমে পালন করা হয়। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসার আবিষ্কার ও সাংস্কৃতিক উন্নতি। সম্প্রতি এটি প্রবল কমার্শিয়ালাইজেশনের মুখে আসে, তবে এর সাহিত্যিক পেছনের সূত্রপাতের মূল বিষয়টি ছিল ভালোবাসা ও স্নেহের মূল্যায়ন। এই উৎসবটির আধিকারিক শুরু হলো শোষ্যপত্রিকা নির্মাতা সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামে। এর নিমিত্তে রোমান্টিক পরিবেশের মধ্যে ব্যক্তিগত মেসেজ প্রেরণের প্রথম প্রতীক হিসেবে এর কাজ করে। তবে, এর সত্যিক ইতিহাস প্রায় অজানা অবস্থায় থাকে। এই উৎসবের বৃহত্তম ইতিহাস বিভিন্ন সুপারস্টিশন, সাহিত্যিক গল্প, এবং সমাজের সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যে সনাক্ত হয়েছে। বাঙালি সমাজেও এই উৎসবের অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক প্রভাব অনেকটা প্রকাশ পায়। প্রতিবছর এই দিনটি বেশ উৎসবপূর্ণভাবে পালন করা হয়। প্রেমিক-প্রেমিকারা এই দিনটি ভালোবাসার আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়, এবং সাধারণত এদের মধ্যে উৎসবের আগে থেকেই পরিকল্পিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান ও উপহারের জন্য। বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের সাথে, অনেকে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে সেজে নিয়ে উঠেন কার্ড, ফুল, মিষ্টি, এবং সহজেই পাওয়া যায় এই উৎসবের সম্প্রতি সহজ হওয়া উপহারগুলি। বিশেষভাবে কোন সংগঠন অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সাথে এই প্রতীকটি নিয়ে এগিয়ে আসে। এই উৎসবের সাথে বিশেষ অর্থ যুক্ত হয় ভালোবাসার দিনের এবং এর অভিন্ন প্রকারের পালন করা হয় বাংলাদেশে। অনেকে এই দিনটি সামর্থ্যের সাথে মানের অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক মানের সাথে সম্পর্কিত মন্ত্রণা করেন। অন্যেরা ভালোবাসার উত্তরাধিকারী ব্যক্তিদের অভিবাদন করেন এবং এই সময়ে তাদের সাথে অভিবাদ মেটানোর প্রয়াস করেন। ভালোবাসার দিন আমাদের সবার জন্যে একটি মেধা এবং ভালোবাসার উপহার হিসেবে গণ্য হতে পারে। এটি সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির উত্সব প্রায় হলেও, এটি ভালোবাসার বিভিন্ন সূত্রগুলির জন্য একটি স্বাভাবিক অনুষ্ঠান হিসেবে মন্ত্রণা করা হয়। সাহিত্যিকভাবে, এই উৎসবের ইতিহাস আরো সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন সাহিত্যিক গল্পে। বাংলা সাহিত্যে এই দিনটির উল্লেখ পাওয়া যায় অনেক কবিতা, গল্প, এবং উপন্যাসে। এই সাহিত্যিক প্রকল্পগুলি ভালোবাসার এবং মানুষের সম্পর্কের উপর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। ভ্যালেনটাইন ডে বাংলাদেশের সমাজে একটি উপস্থিতির মধ্যে একটি সুন্দর ও অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এটি ভালোবাসার জন্য একটি অবস্থানের সৃষ্টিকারী এবং সম্প্রতি বাংলাদেশের সমাজের মধ্যে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠাত। এই উৎসবের আসরে একে অবশ্যই উৎসাহের সাথে মনান করা উচিত।

বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্ব্বনাশি, আমি কি তোকে ভালোবাসি ?

ইদানিং তোমার কথাগুলো বদলে যাচ্ছে, সেই পরিচিত গন্ধে আমার আর ঘুম আসে না । লুকানো নেশার মত না পাওয়ার কষ্ট তোমাকে এখন কুরে কুরে খাচ্ছে, তোমার কবিতায় স্থান পেয়েছে অবসাদ, মৃত্যু আর প্রিয়ার সহাবস্থান, কোনদিন প্রেমের কবিতা তো তুমি লেখোই না । : ঠিক বলেছিস তুই, দেখছিস না আমার দরজায় পোঁতা আছে কালের শেষ খুঁটিটা - দৌড়ে পেরিয়ে গেলেই সব অতীত, ভবিষ্যতের স্বপ্ন শেষ । জানিস, এখন আমার একমাত্র সঙ্গী নৈ:শব্দ, আমার সাথে কথা বলে, কষ্ট পেলে আমাকে ভোলায়, বলে এবার তাহলে "একলা একলা পথ চলা"। আমি তো কোনদিন বন্ধুত্বের দাবী রাখিনি, শুধু রাত্রির কাছে চেয়েছিলাম - একটা সুন্দর ঘুম আর পরিযায়ী পাখিদের কাছে একটা রঙীন স্বপ্ন; তবু কেন উচ্ছাসের নদী শুধু একটানা বয়ে যায় দু-পাড়ের ছায়াছবি স্থির-নির্বাক হয়ে যায় ? আর আমি, এখনও ঘড়ির কাঁটার লেজ ধরে প্রাণহীন চর হয়ে পড়ে আছি তার অপেক্ষায়। আজ সকালের ডাকে একলা হেঁটে এলো - ভালোবাসার সীলমোহরে জড়ানো একটা খাম; ভিতরে পেলাম ফেলে আসা অভিমানের মোড়কে শুকিয়ে যাওয়া একটা লাল গোলাপ, হয়তো কোনদিন তোমার আগের লেখাগুলোর মতই সতেজ ছিল, রাতের পাহারাদারের মতই চিৎকার করে বলতো সব ঝুট্ হ্যায়, সব ঝুট্, মুখোশের আড়ালেই যত মিল ... আর কতদিন তুষার ঢাকা তুঁষের আগুন হয়ে জ্বলবে তোমার সেই কলঙ্কিনী বিরহিনী ব্যাথা ? বসেই থাকি, ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির বুকে কান পেতে - একটা হঠাৎ বিস্ফোরণ যদি হয়ে ওঠে কবিতা । : আজকাল তুই বড্ডো অবুঝ হয়ে উঠেছিস - বুঝতে পারছিস না, এ হলো নেশা, শুধু নেশা, সর্বনাশা মারিজুয়ানার মতো নেশায় বুঁদ, ত্রিশটা শ্রাবনেও না মরে বেঁচে থাকা বিরহী হৃদয়ের ক্লান্তি, যদি একটা শান্তির ঘুম ... আজো অসমাপ্ত একটা ছবি, পাতাবিহীন গাছে লাল পলাশ, নগ্ন প্রেম, দাঁড়িয়ে আছে একঠায়, ক্যানভাসের পিছনে উঁকিমারা আকাশটা যেন জীবনের ডাকে উঠে যাওয়া মানুষটার একটা পোড়ানো হৃদয় । আর আমি, সিগারেটের ছাইয়ের মতো বসে আছি সেই পোড়া অবয়ব নিয়ে, দমকা হাওয়ায় ঝরে পরার অপেক্ষায় ... বুঝলাম হারিয়ে যাওয়া কোন কিছুই ফিরে আসে না শরীরের নিঃশ্বাসের মতো হারিয়ে যায় চিরতরে। আজ আমার কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা নেই, সবই সয়, উচ্ছাসে ভরা প্রানোজ্জল তোমার লেখাগুলোর জন্যেও নয় । কে জানে বিকেলের কাছে ঝলসে যাওয়া দুপুরের কান্না তোমার ছোঁয়ায় কাগুজে নৌকায় ভেসে আসবে কিনা আমার কাছে ... : আজকাল শব্দের আকাশেও সূর্য অস্ত যায় - মাঝে মাঝে রাত বাড়লে চিন্তাগুলো আটকে থাকে দুটো দাঁড়ির মাঝে, হয়তো শব্দ খুঁজে বেড়ায় ভাবাবেগে । চোখের সামনে দোল খেতে খেতে চলে যায় বর্ণমালা মগজে কারফিউ, বাউলের একতাড়ায় কেবল দেঁহাতি সুর, আঙ্গুলের মেরদন্ডে উতরে যায় মহাকালের পথচলা প্রেমের কবিতা সেখানে কোমরের ডেনিম থেকে অনেক দুর। বিকেলের সূর্যরেখার বেস্ট স্ট্রোকগুলো যেখানে বনের ফাঁকে ফাঁকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে এসেছে, কিম্বা মোটা গাছের গুঁড়িতে আলপিন দিয়ে লেখাটা যেখানে এখনো "তোমারে বেসেছি ভালো“ বলছে, কিচিমিচি শব্দে যেখানে পাখিরা গাইতে চাইছে ভালোবাসার গান, মনের আলেয়ার আলোতে বরং সেখানেই না হয় বেঁধে নিস নিজেকে, জুতোর ফিতেবাঁধা রোদচশমার স্মৃতিতে ... আমি না হয় ততদিন ভালোবাসার সেলাইমেশিনে বুনে যাবো বন্ধুত্বের নকশিকাঁথা, এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফুটিয়ে তুলবো সৃষ্টি-অবসাদ-মৃত্যু আর নিঃসঙ্গতা, ঢেকে ফেলবো প্রথম প্রেমের লাশটা আমার কবিতা তোমাকে দিয়ে ... আজকাল তোমার চিঠি না পেলে ভালো লাগে না, বিকেলের পড়ন্ত লালচা রোদে পিঠ দিয়ে ... না, কারোর জন্য কিছু বসে থাকে না, আমিও থাকি না, সময়-স্রোত-ইচ্ছা-স্বপ্ন, আমি না চাইলেও যায় চলে । এখন আমি আধবোজা চোখে বেশ দেখতে পাই তুমি আর তোমার বিরহ কে, একদম পাশাপাশি; সময়ে-অসময়ে বুকফাটা যন্ত্রনা অস্থির করে আমাকে, বলে - সর্ব্বনাশি, আমি কি তোকে ভালোবাসি ? : ঝিমিয়ে পড়া সময়টা যে বড্ডো বেমানান আমার কাছে, কখন যে মনের ফাঁক-ফোকরে তুই ঢুকে যাস্ আর গোলাপ হয়ে লুকিয়ে পড়িস মনের বাগানে, আমি হিসেব রাখতে পারি না বলপেন আর কাগজে। শুয়ে শুয়ে তাই ভাবি - সময় মানেই এগিয়ে চলা পাহাড় যেমন মিশে যায় নীলে দুই বাহু প্রসারিত করে, দুর্গম খাদ বেয়ে যেমন গড়িয়ে নামে উন্মত্ত ঝর্না রূপের অঝোর ধারায় আমার সবকিছু তছনচ করে; জানিস পাগলী, সেই ঝর্ণার বুকের মাঝে আছে একটা কষ্ট জমা পাথর, সময়ের সাথে একদিন রাশি রাশি বালিকণা হয়ে ভেঙে পড়বে তোর চোখের কোনে, তখন নাহয় ফেলে দিস ঠিকানা না রেখে । তোমার চিঠিগুলো হয়তো একদিন সমস্ত সৌরভ বিলিয়ে স্মৃতি হয়ে যাবে । কে জানে তোমার কথা ভেবে তার আগেই আমিই হয়তো শেয হয়ে যাব কোনদিন, সেদিন ঠাঁই নেব তোমার লেখায়, সাদা ক্যানভাসটা হয়ে উঠবে রঙিন ... একটাই অনুরোধ, শেষের সেদিন যেন কালি-কলমের এই সম্পর্কটা অটুট থাকে, ইতি টানলেই তো সব স্মৃতি বিস্মৃতি হয়ে যাবে । : জানিস, ইদানিং আমি বড্ডো স্বপ্ন দেখি ... একটাও স্বপ্ন সত্যি হবে না জেনেও আমি সত্য গোপন করে মগ্ন থাকি জীবনের গল্পে, তোর ছলনার মন-ভোলানো রূপে উন্মাদ হয়ে এই আমি - সারাটা জীবন ঘুঙুর পায়ে যাচ্ছি নেচে; চারিদিকে বিকটাকার নৈশব্দের নীল আগুন, রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ সব অদৃশ্য, স্বপ্নের মরুভুমিতে আত্ম অনুভুতির অর্থহীন মেঘ শুধু উড়ে চলেছে, আর আমি অন্ধকারে একা, উদ্দেশ্যহীন বিষন্ন ছায়াতে ... সম্বিত ফিরেই দেখি তোর পাশে আমারই মত একটা কে? বন্ধু ভেবে তোর প্রগলভতা - আপন মনে ভেসে চলেছিস নদী-পাহাড়-অরণ্য ভালোবাসার কথায়, হাঁসছিস কাঁদছিস, ওটাই তো আমি, তোর ছায়া, যাকে তুই ভালোবেসেছিস; তুই হয়তো তোর ভালোবাসাকে ভুলে যেতেই পারিস, কিন্তু তোর ছায়া, চেষ্টা করে দেখবি দুরে সরিয়ে দিতে পারিস কিনা? তখন না হয় আমি প্রেমের কবিতা লিখতে গিয়ে প্রেমহীন অন্ধকারে হাবুডুবু খেয়ে সাঁতরে খুঁজবো ডাঙা ... মনের অন্ত:পুরে আমার এখন বিষাদের নৃত্যনাট্য দ্রিমিতাক মাদলের ছন্দে শুধু অতীতের পটভুমি; তোমার ছোঁয়ায় যদি বদলে যায় এ জীবন, অনুভবে যদি ফিরে পাই সে অমরত্ব, তুমি তো অধরা নও, শুধু প্রেমের শিহরণ বাঘবন্দি নিয়মে বাঁধা মানবীয় এ শরীর একটিবার ছুঁয়ে যাবে, করে যাবে সমর্পন। কোথায় হারিয়ে গেছে সেই লেখাগুলো, হয়েছে অন্তর্ধান তাকে কি ডেকে নিয়ে গেছে আজ অন্য কোনো অভিমান ... :পাগলী, অরণ্যের মাদকতা - সে ফেলে আসা পথে, কুড়িয়ে নেওয়া যত ঝরে পড়া শব্দফল জমিয়ে রেখেছি যত্ন করে কলমের খাঁজে, যদি কখনো ভাসিয়ে দেয় তোর চোখের জলে .... আজ শহরের নির্জন রাস্তায় হাঁটছে আমার সব ভুল মনের অন্তর্বাস ছুঁয়ে আছে জমে থাকা যত জল, প্রতিটি অঙ্গে আজ শুধু অপেক্ষা -- দূরের বিলাসী হে মহিয়সী, আমি যে তার সুদুরের পিয়াসী। জানি সব শেষ হয়ে গেছে অথবা হয়নি শুরু কিছু, জীবনের নিরর্থকতা প্রেমহীন থেকে অর্থবহ হয় শুধু; তবু তহবিলে গচ্ছিত রাখি সব স্মৃতি, বিদগ্ধ জোনাক -- কালো রাত শেষ, আবার শুরু হবে নতুন প্রেমের সকাল । সর্ব্বনাশি, আমি কি তোকে ভালোবাসি ?

শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

অথবা!!!

এখন রাত ৩ টা বেজে ০৭ মিনিট। যতই হয় রাত গভীর চারদিক থমথমে নিথর, শান্ত নীড় । একাকী র্নিঘুম রাত মিটিমিটি জোনাকীর সাথ, রাতদুপুরে যে যার মত সবাই নি:সঙ্গ চাঁদ তারাদের চলে রাতজুড়ে রঙ্গ । মাঝে মাঝে নিভে যায় চাঁদের উজ্জ্বল শিখা আকাশটা ঢেকে দেয় অবাঞ্চিত কুহেলিকা । রাতের গভীরতা জানান দেয় দেয়াল ঘড়ির শব্দটা নষ্ট কলের টিপ টিপ করে পানি পড়া বাড়িয়ে দেয় শঙ্কাটা । টিকটিক টিপটিপ শব্দগুলো যেন নি:শ্বাসের মতই উঠানামা করছে একাকিত্বের এই প্রহরে কেমন নি:সঙ্গতায় গলা শুকিয়ে আসছে । আঁধার যতই হোক না গভীর, যতই হই না ভয়ে অস্থির; তুমি আছ মনে, পাশে , আর ভাবনাতে বেশ কেটে যায় নিঝুম নির্ঘুম ঘুমের রাতে । বারান্দার গ্রীলে গিয়ে দাঁড়াই জোছনা ধরার প্রয়াসে বিফল হাত বাঁড়াই । তোমাকে এক মুঠো জোছনা দেব আজ পড়িয়ে দিব মাথায় তোমার, কেমন হবে এ সাজ ? অথবা!!!!!! চাঁদের নিচে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের এক খন্ড শুভ্রতা তোমার হাতে দিব, নিবে কি? স্বপ্নটা করো না লন্ডভন্ড!! অথবা!!!!! আকাশের নীহারিকা, কয়েকটি উজ্জ্বল তারা তোমার খোপায় ফুলের মালা বানিয়ে দেব, দাওনা একটু সাড়া । সবই অর্থহীন স্বপ্ন, আঁধারের পাতাঝরার মতই সঙ্গী শুধু নীরবতা, কথা কয়ে যাই তার সাথে কতই !! ভুলে গেছ তুমি, দিয়েছ শুধুই অবসাদ জীবন জুড়ে শুধুই যেন এক বিষাদ মত দীর্ঘশ্বাস । ধীরে ধীরে প্রভাতের আলো জ্বলে রাতের যবনিকায় কাতর ক্রন্দন, সকল আশার কবর, ছুঁই যেন বারবার আলেয়ার শিখায় ।

শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৪

অক্টোলাইট

#অক্টোলাইট সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসার সময় অনূপ এমন কিছু আজগুবি জিনিস এনেছিলো যা দেখলে স্বাভাবিক ভোজনরসিকদের গা গোলাবে৷ এই যেমন কাঁকড়া, স্টু করা শামুক আর অক্টোপাস৷ তাও সেগুলো নাকি খাওয়ার জন্য৷ হৃদর তো বলেই বসলো যে ও গরু, খাসি বা মুরগী আর ছুঁয়েও দেখবে না৷ দোকানের কন্টাক্ট নাম্বার অণুপ ম্যানেজ করেছে৷ চাইলে ওরা কুরিয়ারে পার্সেল করবে নানারকম মাছের শুটকি আর অক্টোপাস৷ আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম এই আট পেয়ে জন্তুটাকে খেয়ে দেখার৷ একটা কর্ষিকায় কামড় বসাতেই যখন মনে হলো যে জীবটা তখনো ঠিক যেন মরেনি, মুখের ভেতর নড়ে উঠেছে আমি টেবিলেই বমন কার্যটা সেরেছিলাম। কয়েকদিন স্বপ্নেও দেখেছি এই বিদঘুটে প্রানীটাকে আমার খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হচ্ছে৷ একদম জোরজবরদস্তি করে হাত পা বেঁধে খাওয়ানোর চেষ্টা৷ অথচ হৃদয়, অনূপ,জয় কি অনায়াসে বলে দিলো যে এরপর থেকে অন্য কোন মাংস খাবেই না। আসলে খাদ্যাভ্যাস ব্যাপারটাই কেমন যেন গোলমেলে৷ আমার স্কুল বন্ধু নাজমুলকে তার বাবা বাড়ি থেকে প্রায় বের করে দিয়েছিলো রাস্তায় মরে থাকা সাপ ভাজি করে খাওয়ার জন্য৷ ও উল্টো প্রতিবাদ করে বলেছিলো ” নিজে মাইরা তো খাইনাই, মরা জিনিস খাইতে সমস্যা কি? ” পরে ওর কাছে শুনেছিলাম শোল মাছের মতন স্বাদ নাকি সেই সাপের৷ কি অদ্ভুত রুচি নাজমুলের৷ যাই হোক। কদিন পর হৃদয়ের সাথে ভার্সিটিতে দেখা৷ ওর চেহারায় একটা পরিবর্তন এসেছে৷ ধরতে কিছুটা সময় লাগলো৷ পরে বুঝলাম ও মুটিয়ে গিয়েছে। মুখের চামড়ায় হালকা লালচে ছোপ। ঠোঁটের কোণায় একটু ফেটে গেছে মনে হলো। তবুও চোখেমুখে একটা চাকচিক্য চোখে পড়ছে৷ যেন কোন ব্যাপার নিয়ে অনেক বেশি উত্তেজিত৷ জিজ্ঞেস করায় বললো ” জানিনা রে, তবে আজকাল জীবনটা অনেক সুন্দর মনে হয়। আর যখনি এটা মনে হয় তখন মনে হয় হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবো না৷ আনন্দ আর বিষাদের একটা মিশ্র অনুভূতি৷ বাদ দে।” আমি একটু অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম৷ বেচারা সমুদ্র দর্শন সেরে এসে দার্শনিক হয়ে গেলো নাকি? নাকি অক্টোপাস খেয়ে এই অবস্থা৷ হতেও তো পারে অক্টোপাস সমুদ্রের সেরা দার্শনিক প্রানীদের মধ্যে একটা? হা!হা!হা! ভাবতেই গম্ভীরমুখে উদাস ভঙ্গিতে বসে থাকা একটা অক্টোপাসের কথা মনে এলো। কি উদ্ভট! কি হাস্যকর! হৃদয়কে বললাম ” তোর একমাত্র প্রোটিনের উৎসের কি খবর? ” অন্যমনষ্ক থাকায় ও প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝে বললো “সে তো ভালোই৷ আজও একটা পার্সেল এসেছে৷ এবার একটু বেশি আনিয়েছি৷ ওরা জানিয়েছে কয়েকদিন সমুদ্রে বিপদ সংকেত চলবে। অক্টোপাস যারা ধরে তারা কাজে যাবে না৷ তাই আপাতত সার্ভিস বন্ধ থাকবে৷ তাই বেশি করে অর্ডার করে ফেললাম৷ ” “ আচ্ছা, তুই কি সত্যি সত্যিই অন্য সব মাংস খাওয়া ছেড়ে দিলি? মানে বুঝলাম যে ঐ কিম্ভুতকিমাকার প্রাণীটার মাংস তোর ভালো লাগে। তাই বলে ছোটবেলা থেকে যে খাবারগুলো খেয়ে বড় হয়েছিস সেগুলো একেবারে বাদ! “ “ না ঠিক একেবারে বাদ নয় । মাঝেমধ্যে খাবো । তবে এক অক্টোপাসের যতগুলো জাত আছে সেগুলোই সারাজীবনে খেয়ে শেষ করা যাবে না।“ বললো হৃদয়। “দেখ! আমি এই আটপেয়ে জন্তুটা সম্পর্কে তেমন জানিনা কিন্তু এদের মধ্যে কিছু নাকি খুব বিষাক্ত আর ভয়ানক হয় ? বললাম আমি। “কিন্তু বন্ধু, কথায় আছে বিষে বিষক্ষয়। বিশেষ জাতগুলো ছাড়াও সাধারণ অক্টোপাসে কিছু বিষাক্ত উপাদান থেকে যায়। সেগুলো হজম করে করে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। চিন্তার কিছু নেই।“ আমি আর কথা বাড়ালাম না। ওর যা ভালো মনে হয় করুক। বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটু আধটু পাগলামী মানিয়ে যায়। ওরা মধ্যবিত্তের মতন স্বাভাবিক হলেই কেমন যেন খটকা লাগে । মনে হয় অভিনয় করছে। তার ওপর ওর তথাকথিত প্রেমিকা তৃষা ওকে ছেড়ে আরেক ধনীর দুলালের সাথে দিন কাটাচ্ছে। সব ভুলে ও কিছু একটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকুক। সেন্টমার্টিন ট্যুরটাও ওর মন ভালো করে দেয়ার জন্যই করা। যদিও ওর কাছে মরিশাস বা পাতায়া বীচ ঘুরে আসাটাও ডালভাত। মামা আমেরিকার সিটিজেন। কিন্তু বন্ধুদের সাথে নাকি জাহান্নামেও ভালো লাগে ওর। ক্লাস সেরে টিউশন শেষ করে মেসে ফিরলাম রাতে। এসে দেখি মিলের অবস্থা ভয়াবহ । বাইন মাছের ঝোল। খালাকে এতবার বলেও এই জঘন্য খাবারটা দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারিনি। তরকারী দেখেই খাবার ইচ্ছাটা চলে গেছে। অক্টোপাসের কথা মনে পড়ে গেছে । চোখের ভুলে বাইন মাছের কিলবিলে দেহটাও যেন দেখলাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে এলাকার সবচেয়ে নিম্নমানের হোটেলটাও বন্ধ থাকবে, এটাই নিয়ম। তাই আর নিচে নামলাম না। রুমে কফি আছে। খেয়ে ঘুম দেবো। আজকাল ক্যাফেইন আমার শরীরে উল্টো প্রভাব ফেলছে। ঘুম তাড়ানোর বদলে বাড়াচ্ছে। কফি খেয়ে শার্লক হোমসের “দ্যা লায়ন্স মেন” গল্পটা পড়তে পড়তে কখন যে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা। ঘুম ভাঙলো এক অদ্ভুত শিহরণে । যেন কোন অক্টোপাস তার আটটা কর্ষিকার সবগুলো দিয়ে আমায় আগাগোড়া পেঁচিয়ে ধরেছে। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খুব কম সময়ের অনুভূতি কিন্তু দারুণ জীবন্ত। পরে খেয়াল হলো আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। দেখলাম হৃদয়ের সাথে একটা রেস্টুরেন্টে বসে সী ফুড খাচ্ছি আমি। সমুদ্রতীরে বালির ওপর স্থাপিত এই রেস্টুরেন্টে বসেই মনটা ভালো হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা বাতাসে শরীর জুড়াচ্ছে। আমার প্লেটে একটা কমলা রঙের কাঁকড়া। হৃদয়ের প্লেটে সেই অক্টোপাস। নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার একফাঁকে হৃদয় হুট করে বলে উঠলো “ভুলেও আশেপাশের টেবিলের দিকে তাকাবি না শিপন। চুপচাপ খেয়ে চল উঠে পড়ি।“ মানব মন সবসময় আকস্মিক কৌতুহলে গা ভাসায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হলো । এক ঝটকায় চারপাশের টেবিলে মনোযোগ দিলাম আর পরক্ষণেই মনে হলো হৃদয়ের কথাই শোনা উচিৎ ছিলো আমার। একমাত্র আমাদের টেবিল ছাড়া বাকি প্রত্যেকটা টেবিলে বসে আছে প্রায় মানুষের সমান আকৃতির অক্টোপাস। তাদের সামনেও খাবারের প্লেট আর সেই খাবারের নমুনা দেখেই আমার রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেলো। কারো পাতে মানুষের হাত কারো পাতে মাথা , কেউ মনুষ্য হৃদপিণ্ড চিবিয়ে খাচ্ছে। সবই তাদের সামনের দিকে কর্ষিকা দুটো দিয়ে। বাকি ছয়টি কর্ষিকা বিশ্রীভাবে কিলবিল করছে । অনেকটা “ পাইরেটস অব দ্যা ক্যারিবিয়ান ” মুভির ডেভি জোনসের মুখের মতন অবস্থা। আমাকে তাকাতে নিষেধ করার কারণটা একটু পর আরো ভালোভাবে বুঝলাম । অক্টোপাসের দল প্রথম নির্লিপ্ত অবস্থায় খাবারে মনোযোগ দিলেও আমি তাকানোতে যেন তাদের মধ্যে একটা বিরক্তির উদ্রেক হলো । আর ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগলো তাদের ছয়টি কর্ষিকার সঞ্চালনা। সেগুলো আন্দোলিত হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট ছন্দে। মূহুর্তে চারপাশ ছেয়ে গেলো একটা কিচকিচ শব্দে। প্রথমে শব্দের মাত্রা মৃদু ছিলো কিন্তু ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকলো । কানে তালা লেগে যাবার উপক্রম হলো । যেন কান ফেটে রক্ত বের হবে। চিনচিনে একটা ব্যাথা অনুভব করলাম মাথায়। মাথায় হাত রাখতেই সর্বাঙ্গ শিউরে উঠলো! হাত স্পর্শ করছে অসংখ্য ক্লেদাক্ত শুঁড়। নাকে এলো পচা মাছের গন্ধ। এক ধরনের তরলে ভেসে যাচ্ছে মাথার কাছের শুঁড়ের জায়গাগুলো। আমি আবার তাকালাম ঐ অক্টোপাসগুলোর দিকে । ওদের চোখেমুখে আবার আগের সেই নির্লিপ্ত ভাব। সামনে দুটো কর্ষিকা দিয়ে আগের মতন ভক্ষণ করে চলেছে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। শুধু বাকি ছয়টি কর্ষিকা ধীরে ধীরে আমায় পেঁচিয়ে গ্রাস করে নিচ্ছে। শেষবারের মতন হৃদয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও হাসিমুখে অক্টোপাসের শেষ টুকরোটি মুখে পুরলো! “ এই দুঃস্বপ্ন সারাদিন হৃদয়ের সাথে বসে অক্টোপাস নিয়ে আলোচনার ফল তাতে কোন সন্দেহ নেই । ঘেমে গেছি। তার ওপর কফি খেয়ে ঘুমানোতে ডিহাইড্রেশনে পড়ে গেছি। গলা শুঁকনো পাতার মতন খরখরে হয়ে গেছে। বোতল থেকে পানি ঢেলে খেলাম। যেন এক মরুভূমি বুকের মধ্যে পুষে রেখেছি আমি। এক দুই ঢোক পানিতে সে তৃষ্ণা মিটবে না। পুরো বোতল খালি করে সিড়ি বেঁয়ে নিছে নামলাম। চাপকল থেকে ঠান্ডা পানি নিতে হবে। দুঃস্বপ্নের প্রভাবটা এত গাঢ় যে সিড়ি দিয়ে নামার সময় মনে হলো আমার পেছনে অজস্র শুঁড় কিলবিল করতে করতে নেমে আসছে। সারারাত আর ঘুম হলো না। ঘোরলাগা একটা ভাব নিয়ে বাকি রাতটা কাটিয়ে দিলাম। কিছু স্বপ্ন কেন যে এত দাগ কাটে মনে জানিনা। ভেবেছিলাম সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে হৃদয়কে স্বপ্নের কথাটা বলবো কিন্তু গিয়ে দেখি ও আসেনি। ইদানীং ক্লাসে আসা কমিয়ে দিয়েছে ও। অন্যদের বললে ওরা হাসাহাসি করবে। বলবে “সামান্য একটা দুঃস্বপ্ন নিয়ে এত মাতামাতি কিসের। এসব স্বপ্নের কোন মানে হয় না। তুই ও কি হৃদয়ের মতন পাগলামি শুরু করলি? “ ক্লাস সেরে ঠিক করলাম হৃদয়ের বাসায় যাবো। ওর সাথে এ ব্যাপারে কথা না বলে কেন জানি শান্তি পাবো না। ওর বাসা কাছেই কিন্তু ঢাকার জ্যামে পড়ে পড়ন্ত বিকেল সন্ধ্যায় গিয়ে ঠেকলো। যখন ওদের দরজার কলিং বেলে চাপ দিই তখন সূর্য ডুবে গেছে। দরজা খুলে দিলো আমাদের ক্যাম্পাসের আয়া, অনূপের শিলা খালার জমাই মুকিত চাচা। শিলা খালা ভার্সিটিতে আর মুকিত চাচা হৃদয়দের বাড়িতে কাজ করে। এখানেই থাকে দুজনে। দরজা খুলতেই একটা ধাক্কা খেলাম। মুকিত চাচার চোখদুটোয় যে কিসের এক পরিবর্তন। ঠিক ধরতে পারলাম না কিন্তু কিছু একটা হয়েছে তার সেটা নিশ্চিত। বললাম “ চাচার শরীরটা ভালো তো। চোখমুখ এমন শুকিয়ে গেছে কেন? “ গরীব মানুষ , আমগো আর শইল । ভালাই আছি বাজান। উফরে যান । ছুডু বাবা গরেই আছে। “ বললো চাচা। আমি আচ্ছা বলে উপরে উঠতে যাবো তখন শীলা খালা পেছন থেকে ডেকে বললেন “ সাবধানে থাইকেন মামা । ছুডু বাবা রাইগা আছেন। “ এক অদ্ভুত রহস্যময় হাসি শিলা খালার মুখে। হৃদয় কি কারণে রেগে আছে সেটা ঘরে গিয়েই দেখা যাবে ভেবে আমি আর কথা বাড়ালাম না। ঘরের দরজা হাট করে খোলা। কিন্তু প্রায় অন্ধকার। শুধু টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে । হৃদয় দরজার উল্টোদিকে মুখ করে খাটের ওপর বসে আছে। আমাকে ওখান থেকে দেখার কথা না। তবু কিভাবে যেন বুঝে ফেলেছে। বললো “ শিপন ভেতরে আয়। আমি তেমন অবাক হলাম না। হয়তো মুকিত চাচার আর শিলা খালার সঙ্গে নিচে আলাপ করতে শুনেছে। “ “ কিরে রেগে আছিস নাকি? কি নিয়ে? আমি ভাবলাম তোর সাথে একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার শেয়ার করবো। মৃদু হেসে বললাম আমি। হৃদয় ওদিকে ফিরেই বললো “ বাবার সাথে ঝগড়া হয়েছে। তাই মন খারাপ। রাগ না। তাছাড়া ব্যাবস্থা একটা করেছি। ওসব বাদ দে। তোর স্বপ্নটা বল । কি ব্যাবস্থা করেছে সেটা জানতে চাওয়ার আগেই একটা শব্দ খট করে আমায় মনের দরজায় আঘাত করলো। “ স্বপ্ন! ” আমি যে ওকে স্বপ্নের বর্ননা দেবো এটা হৃদয়ের কোনভাবেই জানার কথা নয়। কাউকে বলেছি বলেও মনে পড়ছে না। নাকি এসেই ভুলে বলে ফেলেছি। হতে পারে উত্তেজনায় পড়ে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। বললাম “ স্বপ্নে তুই একটা মোক্ষম অংশে ছিলি। একমাত্র মানব। বাকি সব তো অক্টোপাস। “ বলে আমি পুরো ঘটনাটার বর্ননা দিলাম। “ কিন্তু ওর মুখে ঠিক স্বপ্নে দেখা অক্টোপাসে মতন নির্লিপ্ততা ভর করেছে যেন। ঠোঁটের কোণায় একটা হাসির আভাস এনেও যেন ঠিক হাসলো না হৃদয়। নির্মোহ গলায় বললো “এখান থেকে চলে যা শিপন। কোন প্রশ্ন করবি না। জাস্ট চলে যা। আর শোন কখনো অক্টোপাস খাওয়ার কথা ভাববি না। বিশেষ করে যে অক্টোপাসে…” বাকি কথাটা আপনমনেই শেষ করলো সে। আমি বেশ বিরক্ত হলাম। এখনো পুরোপুরি আমার দিকে ফেরেনি। মুখের একপাশ ফেরানো। দেখে মনে হচ্ছে এড়িয়ে যেতে চাইছে। তার ওপর আবার এভাবে অভদ্রের মতন চলে যেতে বলছে । আমি ওর কাছে গিয়ে বসলাম। “কি হয়েছে তোর ? এরকম করছিস কেন? “ বলেই থমকে গেলাম। ওর চোখেও একটা পরিবর্তন । ঠিক যেরকম দেখেছিলাম মুকিত চাচার চোখে। হ্যাঁ এখন ধরতে পেরেছি। একটা কমলা রঙের আলো। জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনের মতন দেখতে। চমকে উঠলাম কারণ প্রথমে ওটা টেবিল ল্যাম্পের প্রতিফলিত আলো মনে হলেও পরে নিশ্চিত হলাম যে ওটা হৃদয়ের চোখ ঠিকরে বের হচ্ছে । আমি চকিতে পেছনে সরে এলাম। হৃদয়ের মুখটা আগের মতই নির্লিপ্ত কিন্তু ওর দেহের চারপাশে কমলা আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ছে। ও এখনো ঘড়ঘড়ে কন্ঠে বলে যাচ্ছে “পালিয়ে যা শিপন!” যেন ওর ভেতর থেকে কোন অশুভ শক্তি ওর গলা ঠেসে ধরেছে। এরপর আর ওর কন্ঠ শুনতে পেলাম না আমি। শুরু হলো অস্বাভাবিক মাত্রার কিচিকিচ শব্দ। যেমনটা স্বপ্নে শুনেছিলাম। আর মাথায় চিনচিনে ব্যাথাটা বুঝিয়ে দিলো হৃদয় কেন আমায় পালাতে বলছে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি হৃদয়ের দেহের তলা থেকে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য ক্লেদাক্ত শুঁড়। সেগুলো আমায় ঘিরে ফেলছে। আমি প্রাণপণে ছুট লাগালাম। সিড়ি দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে নেমে দেখি হৃদয়ের বাবা বসে আছেন ড্রয়িং রুমে। আমি কোনোমতে হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম আঙ্কেল, হৃদয়…” কথা শেষ হলো না। উনি বললেন “ও তোমায় ছেড়ে দিয়েছে? কি বোকা ছেলে রে বাবা । এরকম সুস্বাদু খাবার কেউ ছাড়ে। “ বলেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন আমার ওপর । চোখের নিমেষে দেখলাম তিনি শুঁড়ওয়ালা এক জন্তুতে পরিণত হচ্ছেন । আমি মেঝে তে পড়ে গেলাম। তারপর হামাগুড়ি দিতে লাগলাম দরজার দিকে। আংকেলের বিবর্তিত রুপটা আমার সাথে সাথে ধ্বস্তাধস্তি করে পেরে ওঠেনি। কিন্তু দরজার কাছে গিয়েই থেমে যেতে হলো! এ বাড়িটা যে অভিশপ্ত হয়ে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই প্রভাব যে গ্রামের আলাভোলা ভালো মানুষগুলোর ওপর পড়বে তা ভাবিনি। মুকিত চাচা আর শিলা খালা দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। হৃদয় আর আংকেলের বর্তমান অবস্থার সাথে তার কোন অমিল নেই। মনে পরলো অনূপের কথা, ঐ এসব এনেছিলো সেন্টমার্টিন থেকে আর হৃদয়কেও ও খায়িয়েছিলো। যার পরিণতি এই............ আমি আর এগোতে পারলাম না । স্তব্ধ অবস্থায় পড়ে গেলাম মেঝেতে। চোখ বন্ধ হবার আগে দেখলাম থকথকে একটা তরল নিঃসৃত হয়ে আমার চোখ প্রায় অন্ধ করে দিচ্ছে। যেন এসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে আমার চোখে। অসহ্য যন্ত্রণায় আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। সেই তরলের উৎস অসংখ্য কিলবিলে শুঁড়! যখন জ্ঞান হলো আমি তখন পুরোপুরি অন্ধ। আমাকে নাকি ক্যাম্পাসে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলো। আমি কিভাবে সেখানে পৌছালাম কেউ বলতে পারবে না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে আমি কি ঘটেছে সেটা কাউকে বলিনি। কারণ সবাই ভাববে চোখ হারানোর শোকে আমি আবোল তাবোল বলছি। অণুপ, জয়, নাজমুল, নীরা, পরী ওরা সবাই দেখা করতে এসেছিলো । আমি হৃদয়ের কথা বলায় বলেছিলো ওদের কোন খোঁজখবর নেই। বাড়ি তালাবন্ধ। এরকম কিছু হবে আন্দাজ করেছিলাম। বাবা মা আমাকে চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় হৃদয়ের বড় মামা ওখানে নিয়ে এসেছেন । মামা ফিলাডেলফিয়ার এক বড় আই ইন্সটিটিউটের সাথে যোগাযোগ আছে । উইলসমোর আই ইন্সটিটিউট। এখানকার যা খরচ তা আমাদের মতন পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব ছিলো কিন্তু হৃদয়ের মামা কিভাবে যেন ম্যানেজ করলেন। হাসপাতালের বেডের আশেপাশে কোথাও টিভি আছে। আমার কাছে সেটা এখন রেডিওর সমান। সারাক্ষন নিউজ ফ্ল্যাশ চলে ওটাতে। বিরক্ত লাগে। শুধু একদিনের একটা নিউজ আমায় পাথর করে দিলো । সেটা শোকে না আনন্দে জানিনা। সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাসটা গাঢ় হলো। ভারত মহাসাগরে লাইট এমিটিং অক্টোপাসের খোঁজ চলছিলো । অর্থাৎ যেসব অক্টোপাসের শরীর থেকে অন্ধকারে চলাচলের জন্য আলো বিচ্ছুরিত হয়। একদল গবেষক চারটি বিশেষ অক্টোপাস খুঁজে পেয়েছেন যেগুলোর সাথে অদ্ভুতভাবে মানুষের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে। এই নিয়ে তোলপাড় চলছে। যারা অক্টোপাস খান তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন এই বিশেষ প্রজাতির অক্টোপাসটি না খান। কারণ আলোক বিচ্ছুরণকারী এই অক্টোপাসের শরীরে এক বিশেষ ধরণের ইলেক্ট্রোলাইট রয়েছে। যা মানুষের দেহে প্রবেশ করলে মানবীয় আচরণের পরিবর্তন আসতে পারে। মানুষ হয়ে উঠতে পারে চরম হিংস্র। আর এই ইলেক্ট্রোলাইটের যার নাম দেয়া হয়েছে “অক্টোলাইট!“ খুব শীগগীর ঐ চারটে অক্টোপাসকে গবেষণাগারে পাঠানো হবে। দেখা হবে অক্টোলাইট আর ঠিক কি কি করতে পারে। আর এই পুরো হাসপাতালে আমি শিপনই শুধু এর উত্তর জানি!

শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৪

মেনিফেস্টো

#মেনিফেস্টো চৈত্র সংক্রান্তিতে শয়তান নেমে আসে ধরণীতে- আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন-পরম করুণাময় ও অসীম ক্ষমতার অধিকারী মহান শয়তান বালঝাক- কথা গুলো বলে অনুষ্ঠানের মন্ত্রপাঠ শুরু করলেন শয়তানের মহা অনুসারিণী তাহমিনা শিলা। ইল ইল ইল ইলোডা ইবোরাহোবা ইল বালঝাক ইল ধীরে ধীরে হৃদয় এ মন্ত্রটা উচ্চারণ করল। এরপর পরী। আর এরপর নাজমুল। এরপর সকলে এক স্বরে। ধীরে ধীরে তাল বাড়ছে। মৃদুতালে বেজে ওঠা ছাগচামড়ার বাদ্যযন্ত্রটা এবার যেন মহাসমারোহে বেজে উঠল। একটা ছোট্ট বেদী। ঘরটা একদম ছোট। সেই ছোট ঘরের মাঝে চলছে আজকের আয়োজন। ওরা সবাই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভাড়া চেয়েছিল। কিন্তু কোন এক কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়। তাই ছোট পরিসরে এই একটা ছোট্ট ঘরের ভেতর ধুপ ধুনো জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। প্রতিবছর এই দিনের জন্যেই অপেক্ষা করে এরা। এদের সকলেই যে শয়তানকে ভালোবাসে -তা নয়। অনেকেই ক্ষমতা এবং টাকার লোভে এসেছে। আজকে এদের মাঝে উপস্থিত আছেন বিজলি বাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান অনূপ সরকার। তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। আজ ওনার দীক্ষা হবে। নিজের আত্মা শয়তানকে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দান করবেন তিনি। বিনিময়ে চাইবেন পুরো পৃথিবির শ্রেষ্ঠতম ধনী হবার খায়েশখানা। এজন্যে অবশ্য ওনার সদ্য জন্মানো কন্যা শিশুটিকে কেন শয়তানের কাছে নিয়ে আসতে হবে তিনি বোঝেন নি। তিনিও সমস্বরে গেয়ে চলেছেন এই অচেনা ভাষার গান। তবে ইল ইল এর যায়গায় তিনি ভুল করে মাঝে মাঝে ‘কিল কিল’ বলে ফেলছেন। তবে শয়তানের এতে কোন সমসয়া নেই। শয়তান ভুল মন্ত্রেও খুশি হন। শীলা এগিয়ে গেল মাঝখানে। হাতে একটা ছাগল বাঁধা। সেই ছাগলটিকে বোধহয় নেশা জাতীয় কোন দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। সেটি ঢুলছিল। তাই এটিকে যখন শুইয়ে দেয়া হল মাটিতে তখন সেটি নিমেষেই শুয়ে পড়ল। কোন রা নেই। পা গুলো ছোঁড়াছুড়ি ও করেনি। মহিলা মাঝ থেকে সরে গেল। এরপর আগমন ঘটল এক আলখাল্লা পড়া অদ্ভুদ এক মানুষের, নাম জয় সাহা হৃদয়। তিনি সেই ছাগীর সাথে সহবাস শুরু করলেন মুহুর্তেই। এর মাঝেই চিৎকার চেচামেচি বেড়েছে। মন্ত্রের তীব্রতা বেড়েছে। আরো বেড়েছে বাদ্যের তাল। অনুপের নাক মুখ কুঁচকে গেল। তিনি নিজের সন্তানের ভবিষ্যত ভেবে বেশ শঙ্কিত হলেন। এরা কি এসব করার জন্যে ওনার শিশুটিকে নিয়ে আসতে বলেছে? অনুপ মিশ্র ঘামতে শুরু করেছেন। এর ভেতর সেই ছাগলের সাথে ইউএ করা বৃদ্ধটি উঠে বসেছে। সে নাচতে শুরু করেছে। নাচের তালে তালে তার শরীর থেকে খসে পড়ল আলখাল্লা। বেরিয়ে এল বিশালাকার বিচ্ছিরি পেট এর ফেটে ঝুলে যাওয়া চামড়ার হাত পা ওয়ালা শরীর। কিন্তু বৃদ্ধ উদ্ভটভাবে নাচছে। নাচের তালে তালে একজন বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এল- জয় সাহা হৃদয়কে পড়ে শোনাল একটা মেনিফেস্টো। সামনের বছরে কী কী করা হবে দুনিয়া জুড়ে- এই হিসাব। সেখানে বিভিন্ন শহরে বোমা ও আত্মঘাতি হামলার সাথে সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশৃংক্ষলার কথাও উঠে এসেছে। সবার শেষে বলা হল নতুন ভাই হিসেবে যোগ দেয়া অনুপ সরকার নিজের সন্তানকে শয়তানের কাছে অর্পণ করবেন। কথাটা শুনেই বুকের ভেতর একটা ধুকপুক গড় বড় হয়ে গেল-টের পেলেন অনুপ সরকার। মনে পড়ল প্রথম কন্যার পিতা হবার অনুভূতি। মনে পড়ল প্রথম মুখে আধো আধো বাবা ডাক। মনে পড়ল মেয়ের আব্দারগুলো। খেলনা দিয়ে খেলার শব্দ গুলো যেন বেজে চলেছে ওনার কানের পাশে। এরপরেই তিনি দৌড় দিলেন। এক দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে এসে প্রথম নিজের কন্যাকে বুকে জড়ালেন। সবাই ভেবেছিল তিনি শয়তানের উদ্যেশ্যে বলি দেয়ার জন্যে কন্যাকে আনতে গেছেন। কিন্তু পাঁচ মিনিট পর ও যখন তিনি ফিরলেন না তখন অনুষ্ঠান থেকে কয়েকজন ছুটে এসে দেখল অনুপ বাবু নেই ওখানে। পালিয়ে গেছেন। একটা গাড়ি থেকে কন্যাকে নামিয়ে দিলেন নুপ বাবু। মেয়েটি রাস্তা পার হয়ে স্কুলে ঢুকবে। ওনার মন আজ ফুরফুরে। তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু ২ নির্মানের টেন্ডার পেয়ে গেছেন। এতেই তিনি ডগমগ। তিনি খেয়াল করেন নি। মেয়েটিও খেয়াল করেনি একটি বাস এগিয়ে আসছে। মেয়েটিকে পিষে ফেলার কন্ট্রাক্ট পেয়েছে ড্রাইভার মোকাব্বের। নগদ এক লাখ টাকা পাবে সে। এই টাকায় অনেক দিন মদ খেয়ে কাটাবে সে। ভাবতে ভাবতে স্পিড বাড়িয়ে দিল ও। সে ও জানে না- শয়তানের মেনিফেস্টোতে যাকে বলি দেয়ার কথা উল্লেখ থাকে তাঁকে যে কোন উপায়েই মরতে হয়। (সমাপ্ত)

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪

মালাত

এটা খুব জরুরী, এটা এই মুহূর্তের একমাত্র জরুরী বিষয়। বিষয়টা হচ্ছে আমি তোমাকে নিঃশেষ করে দেয়ার আগে, তুমি আমাকে নিঃশেষ করে দাও। আমি মাতাল হয়ে যাওয়ার আগে, তুমি মাতাল হয়ে যাও। বিষয়টা অনেকটা এই রকমই আর কি। কেন? কারণ, এটা খুব জরুরী! তুমি হয়তো বুঝছ না! এটাই এই মুহূর্তের একমাত্র জরুরী বিষয়। মুল বিষয়টা হচ্ছে …… আমি পুরুষ, তুমি নারী। তুমি তা পারনা যা আমি পারি। আমি পারি তোমাকে লালন করতে, তুমি পারো আমাকে ধারণ করতে। আমি পারি তোমাকে আদর করতে তুমি পার আমাকে বাঁদর করতে। আমি তোমাকে দেখি ধ্যানে তুমি দেখ আমাকে জ্ঞানে, আমি মগ্ন থাকি তোমাকে ধর্ম দিতে আর তুমি মগ্ন থাকো প্রতি মুহূর্তে আমাকে জন্ম দিতে। অদ্ভুত, তাই না! আশ্চর্য! তুমি কেন দেখেও দেখনা! আমি তো তোমার ভিতরেই থাকি! তোমার ভিতরেই আমি শীতল পাটি পেতে ঘুমাই আরাম করি , খাই স্বপ্নের আবাদ করি দুঃখের ফসল কাটি ,করি নবান্ন উৎসব। চার দিকে তাকিয়ে দেখি ঠিক ঠাক সব! তাই, নিয়মিত অফিসে যাই সকালে বাজার করি সব সময় আমিই তো অপরাধী! তাই অসময়ে পায়েও পরি। জানো! তুমি যেদিন সম্পূর্ণ মাতাল হয়ে যাবে তুমি যেদিন আমাকে সম্পূর্ণ জন্ম দিতে পারবে আমিও মাতাল হব শত ভাগ। দুজন দুজনের ঠোঁটে চুমুক দিয়ে পান করবো অমৃত সুধা দুজন দুজনের চোখে তাকিয়ে মেটাবো আজন্ম ক্ষুধা। তবুও ক্ষুধা রয়ে যাবে জানি। সেদিন তোমাকে আমার ভালোবাসার গান শোনাবো সেদিন তোমাকে নিয়ে একটা অমর কবিতা লিখবো পৃথিবী ধ্বংস হলেও আমারা দুজন সেই কবিতার মায়া জালে আটকা পরে থাকবো। ভয়ঙ্কর সুন্দর… মুক্তি নেই। কোন মুক্তি নেই। না আমি তোমাকে মুক্তি দেব, না তুমি আমাকে মুক্তি দেবে না আমি তোমার কাছে মুক্তি চাইবো না তুমি আমার কাছে মুক্তি চাইবে। কারণ তখন আমারা কবিতার মিল বন্ধে সংসার করছি। কারণ তখন আমারা ছন্দে ছন্দে ঢেউ খেলছি। প্রথমে কবিতার বিছানায় আমাদের বাসর হবে, বাসর হবে টানা সাত দিন সাত রাত সাত দিন সাত রাত টানা ভরা পূর্ণিমা থাকবে পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় কোনায় তোমার প্রতিটি কোনায় কোনায় বুনে দেব আমার স্বপ্নের বীজ। আচ্ছা, কন্যা সন্তান চাও? না পুত্র? আমরা কিন্তু সন্তান সন্ততি দিয়ে ঘর ভরে দেব। না করতে পারবে না। কি চমৎকার দৃশ্য! তাই না? তুমি ডিম ভরা মাছের মত পেট নিয়ে কবিতার জলে সাঁতার কাটছ! আর আমি তোমার চারপাশে দায়িত্ববান পুরুষের মত গোত্তা খাচ্ছি। বিষয়টা হচ্ছে, স্বপ্ন সুন্দর, কবিতা মোহময় জীবন নেশা ধরানিয়া। আর আমরা তো মালাত, তাই না? আমরা যা মন লয় তাই করতে পারি এখন, কি বল?

শনিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৪

হয়তো সেটার কারন রোদেলা তুমি......

ঘুম আসছে না। কোনো কাজও করতে ইচ্ছে করছে না। কোন এক অজানা কারনে মন ভীষণ খারাপ। মন খারাপ থাকলে নরমালি ছাঁদে গিয়ে আকাশ এর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু সেই সুজোগ এখন নাই। তারপর মনে পরলো কাঁদলেও মন ভালো হয় ...................................................... কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ভাবতে শুরু করলাম আজ সারাদীন কি কি করলাম। কিছুই না। এক বড় ভাই এর সাথে যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে দেখা করলাম (বিঃ দ্রাঃ বড় ভাই বাইকে যাওয়া আসা বাবদ ভাড়া বিকাশ করে দিয়েছিলো)। ভাই এর সাথে অনেক কথা হলো, অনেক অনুপ্রেরনা আর সাহস। কথার ফাকে কফি অর্ডার করলো। কফির দাম ৮৫০ টাকা, কিন্তু মঈন ভাই এর দোকানের ৬০ টাকা দামের কফির টেস্ট এর চাইতে খুব বেশি একটা .............................. তারপর আরো দুজন ভাই আসলেন। গল্প করতে করতে এক সময় ভাই বললো খুদা লাগছে। তারপর ঐ ক্যাফে থেকে বের হয়ে কেএফসি তে ঢুকলাম। একটা বাকেট আর পেপসি অর্ডার করলো। খেলাম, এক নয় দুই নয় তিন পিস চিকেন ফ্রাইড খেলাম। তারপর ভাই কিছু শপিং করবে বলে বের হবো তখন মনে পরলো আমি না ইজরাইলি পন্য বয়কট করছি (অনেকে এখানে বলবে যে এই পন্য বয়কট করে কি লাভ, পারলে যুদ্ধ করো। এমন অনেক কিছু। ভাই আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই করে যাবো, আর সত্যি বলতে যদি সেই যুদ্ধে অংশগ্রহনের সুজোগ থাকতো তাহলে আমি অবশ্যই অংশগ্রন করে শহীদ হতাম ইনশাল্লাহ) যাই হোক খেয়ে ফেলেছি যখন আর কিছু করার নাই। ভেবেছিলাম কিছু লেখালেখি করলে হয়তো ভালো লাগবে। আমাদের ভূত গোয়েন্দাদের একটা চ্যাটিং গ্রুপ আছে সেখানে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এত্তো এত্তো বড় বড় জ্ঞ্যান ঝাড়া লেখা লিখলাম। লেখাগুলো ভালোই হয়েছে। যে কোন ব্লগে লিখতে ভালো সারা পাওয়া যাবে। যদিও আমি নিজেও একজন ব্যার্থ ফ্রিল্যান্সার, এর অন্যতম প্রধান কারন আমি শিখতে ভালোবাসি। আইটি বা সিজি জগতের প্রায় সব কিছুই আমি শিখেছি কিন্তু কোনটাই পরিপূর্ন না। লেখালেখির কথা থেকে মনে পরলো যে আমি লাস্ট যে অফিসে চাকরি করতাম সেখানে কেউ আমার লেখার পাত্তায় দিতো না। তাদের লেখা ক্যাপশন দেখে আমি মনে মনে হাসতাম। তবে একজন ছিলো সে খুইই ভালো লিখতো। আমার মনে পড়তো আমি যখন হ্যামকো গ্রুপে ছিলাম কি সুন্দর সুন্দর ছন্দের মত ক্যাপশন লিখতাম। একদিন সিওও নিজে আমার লেখার প্রশংসা করেছিলেন। এছাড়া আমার নিজের প্রায় ১০টা পেজ ছিলো। হোমেক্স, ইয়ারো, পল্লীকাথা, ভিনতা সহ আরো কত পেজের জন্য লিখতাম। এমন বেশ কয়েকজনের জন্য লিখেছি যারা নানান ভাবে দেশব্যাপি ব্যাপক জনপ্রিয়। যাই হোক লেখালেখি বাদ। আচ্ছা তাহলে আমি কি? মানে কোনটাতে আমি ভালো? এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। জানতেও চাই না। বাদ দিন। আমার একটা বদ অভ্যাস ছিলো (বলতে চাচ্ছিলাম না) সেটা হলো আমার আগে ঘুম না আসলেই ঘুমের ঔষধ খাওয়ার অভ্যাস ছিলো। তবে এটা মোটেও আমার ডিভোর্স হইছে এই জন্য না। আমার যখন ব্রেকাপ হইছিলো তখন আমি কিছুদিন টানা ঘুমের ঔষধ আর দুষ্ট পানি পান করেছিলাম। তবে নেশা হওয়ার আগেই সেটা থেকে সরে গিয়েছিলাম। এরপর কিছুদিন বেকার ছিলাম তখন মাঝে মাঝে ঘুম না আসলে ঘুমের ঔষধ খেতাম। আর অনেকদিন পর এই পলাতক অবস্থা মানে এই ৪ মাস এক রকম দুই একদিন পরপরই খেতাম। তবে নতুন বছরের বেশ কয়েকটা শপথের মধ্যে এটা ছিলো যে আমি আর কোন বদ অভ্যাসে জরাবো না। এখন পর্যন্ত ঠিক আছি। যদিও এক পাতা কোয়েট ১০০ আমাকে ডাকছে যে এতো কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আমাকে খেয়ে মরে যা। খুব শান্তির মৃত্যু। চুম্বকের আকর্ষনের ইমোজি........................ কষ্ট, হ্যা কষ্ট যা আমি কখনোই কারো সাথে মন খুলে শেয়ার করতে পারবো না। যতদিন বেঁচে আছি এই কষ্টগুলো সঙ্গে করে নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ আমাকে এই যে কষ্টটা দিয়েছে সেটা জেনো আর কাউকে না দেয়। আমার ফ্যামিলি, বন্ধুদের সাপোর্ট না থাকলে হয়তো অনেক আগেই আপনারা আমার ছবি ফেসবুকে দেখতে পেতেন যে এইভাবে চলে যাবি কখনোই ভাবি নাই। আর সেই পোষ্টের বেশির ভাগ কমেন্টস থাকতো যে এই ভাবে শালায় মরছে নিশ্চিত জাহান্নাম জেন। যাক বাদ দিন। ফ্যামিলি, আল্লাহর দেওয়া আমার জীবনে আমার সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে আমার ফ্যামিলি। ফ্যামিলি বলতে বাবা, মা, ভাই, বোন কে বোঝাই। কিন্তু আমার কাছে এরা ছাড়াও কাকা, কাকি, ফুপু, ফুপা, ভাইয়ারা, বোনেরা, সহ বাকি সবাই আমার ফ্যামিলি। আর ভালো লাগছে না। লিখতে চাইলে আর ঘন্টা খানেক লিখত পারবো। তবে এতো বড় লেখা হওয়ায় সুবিধা হয়েছে যে এই লেখাটা কেউই পরবে না। আর তারা আমার অনেক গোপন কিছুই জানতে পারবে না। এখন কি করবো ভাবছি, মন ভালো করতে লিখতে বসে মনটা যে আরো বড্ড বেশি খারাপ হয়ে গেলো। হয়তো সেটার কারন রোদেলা তুমি.........................................................

প্রশ্ন