শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫

ভালোবাসলে কবি মরে যায়

ভালোবাসলে কবি মরে যায়। ভালোবাসলে কবি আত্মহত্যা করে। ভালোবাসলে কবিদের পৃথিবী অন্য কারো হয়ে যায়। তারচে' কবিকে জেলে পুরে দিন। তারচে' কবিকে ক্রসফায়ারে হত্যা করুন। তারচে' তাকে নিরুদ্দেশের শিরোপা দিয়ে নাই করে দিন। কবি মরুক। না খেয়ে, না ধেয়ে, না প্রেমে মরুক। মরুক. অর্থ বিত্ত পদ পদবী পুরস্কারে মরুক। ত্যাগে মরুক কবি, ভোগেও মরুক। কবিরা এ পৃথিবীর নয়, অন্য পৃথিবীর। তারা ওখানেই যাক। তাদের ওখানেই যেতে দিন। ক্ষুধা থাকুক, অপ্রেম থাকুক, থাকুক বাস্তবের চাছাছোলা কবিতা।

বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

ভূত ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ

#অনুগল্প #ভূত_ডিটেকটিভ_ব্রাঞ্চ প্রেতাত্মা লেখা গল্প - Written by A R Shipon. ঢাকার দোহার। সময়টা জুলাই ২০২5, এক বছর আগে যারা বুকের রক্ত দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, আজ তারা এক ভিন্ন যুদ্ধে নেমেছে—ভূতের, শয়তানের, আর ইতিহাসের অভিশাপের বিরুদ্ধে। তাদের নাম ভূত ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ। সাত সাহসী যোদ্ধা: শিপন, আদনান, রাকিব, সেতু, সোহেল, শাফিন, আর রাসেল। এবার তারা বেরিয়েছে নবাবগঞ্জের আন্ধারকোটা জমিদারবাড়ির গোপন রহস্য উন্মোচনে। লোকমুখে প্রচলিত—বাড়িটির নিচের দুই তলা ডুবে গেছে ভূগর্ভে, যেখানে নেমে কেউ আর ফিরে আসেনি। সেখানে আজও ভেসে বেড়ায় আত্মা, অভিশাপ আর এক অসমাপ্ত প্রেম। জমিদারবাড়ি: অভিশপ্ত দ্বার বাড়িটির চারতলা এখন কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে, দেয়ালজুড়ে ফাটল, ছাদে জং ধরা লোহার খাঁচা। কোনো পর্দা নেই, নেই কোনো আসবাব। শুধু দেয়ালজুড়ে ছেঁড়া ছবি, আর হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো কান্নার আওয়াজ। শিপন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "আজ আমরা শুধু ভূত নয়, ইতিহাসকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবো।" কিন্তু সোহেল কাঁপা গলায় বলল, “এই বাড়ির নিচে যারা গিয়েছে, তাদের কেউ ফেরে না…” “আর আমরাও কেউ না—আমরা জুলাইয়ের সৈনিক!” — জবাব দেয় শিপন। তারা সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকে। চতুর্থ তলার শেষে এসে দেখে, এক গোপন সিঁড়ি খোলে ভূগর্ভের দিকে। নিচে নেমেই বাতাস ভারী হয়ে যায়। হঠাৎ দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে এক রমণীর ছায়া এগিয়ে আসে। চুল খোলা, চোখে কালো ছায়া, ঠোঁটে অপূর্ব বিষাদ। প্রিয়ন্তী। “তোমরা শিপনের বন্ধু?” তার কণ্ঠে অদ্ভুত কোমলতা। শিপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। “তুমি কে?” “তুমি জানো না, আমি কে? আমি সেই অপেক্ষা… যে তোমার জন্মেরও আগে শুরু হয়েছিল।” শিপনের মাথায় যেন কুয়াশা নামে। সে যেন কিছু ভুলে যাচ্ছে, আবার কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। প্রিয়ন্তীর হাত ছুঁতেই শিপন দেখতে পায় – সে ১৯০১ সালের সেই জমিদারবাড়িতে ফিরে গেছে, আর প্রিয়ন্তী তার প্রেমিকা, যাকে রাজবাড়ির মন্ত্রী আদর নিজের লালসায় জর্জরিত করে মেরে ফেলেছিল। রাজিব স্যার ও ডক্টর হযরত তারা যখন দ্বিতীয় ডুবে যাওয়া তলায় পৌঁছায়, সেখানেই দেখা মেলে রাজিব স্যার আর ডাক্তার হযরত এর আত্মার। তারা আদতে এই জমিদারবাড়ির ভেতর ১৫ বছর আগে এসেছিলেন ভূত গবেষণা করতে, কিন্তু অন্ধকার তাদের নিজের করে নিয়েছে। রাজিব স্যার বললেন, "তোমরা এসেছো সঠিক সময়ে। এই বাড়ির হৃদয়ে রয়েছে এক ব্ল্যাক গ্রিমোর, শয়তানের বই। সেটা মন্ত্রী, শান্ত আর আদরের আত্মা ব্যবহার করে বাড়ির নিচের স্তরে এক নরকদ্বার খুলেছে।" ডক্টর হযরত চোখ সরু করে বললেন, “যদি সেই বই ধ্বংস না করো, তবে প্রিয়ন্তী আর সব আত্মা চিরকাল অভিশপ্ত থাকবে—তাদের মুক্তি মিলবে না।- শয়তানদের আগমন হঠাৎ দেয়াল ফুঁড়ে ভেসে আসে তিন ভয়ংকর ছায়া মন্ত্রী, যার চোখ দুইটি রক্তে ভেজা। শান্ত, যিনি মৃতদেহের শরীর খায়। আদর, যার গায়ে শৃঙ্খল বাধা থাকলেও আত্মা ঘোরে উন্মত্ত হিংসায়। তারা বলল, "তোমরা আবার নতুন প্রেম নিয়ে এসেছো? এ বাড়িতে প্রেম মানেই মৃত্যু।" প্রিয়ন্তী কাঁদে, “আমার মুক্তি দাও…” আদর হেসে বলে, “তোমার মুক্তি একটাই—শিপনের রক্ত!” শিপন সামনে দাঁড়ায়। "আমার রক্ত যদি তার মুক্তির মূল্য হয়, তবে আমি প্রস্তুত।" রক্ত, আগুন আর মুক্তি হঠাৎ, দেয়ালের এক দিক ভেঙে প্রবেশ করে রাসেল আহমেদ, শহিদুল, রনি আর বিল্লাল। সবাই জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা, আজ তারা এসেছে বন্ধুকে ফিরিয়ে আনতে। তারা হাতে করে নিয়ে এসেছে ত্রান্তিকের কাছ থেকে তাবিজ, আগুনের জাদু, আর সেই প্রাচীন অস্ত্র যা একমাত্র শয়তানের আত্মা ছিন্ন করতে পারে। হলঘরে শুরু হয় যুদ্ধ— রক্ত, আগুন, আর আত্মার আর্তনাদে কেঁপে ওঠে পুরো আন্ধারকোটা। শেষ মুহূর্তে, শিপন প্রিয়ন্তীর মুখের দিকে তাকায়। "তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?" প্রিয়ন্তীর চোখে জল, "তোমার ভালোবাসা ছাড়া আমি কিছুই না।" শিপন তার ঠোঁটে একটি চুমু খায়—আর সেই মুহূর্তেই ব্ল্যাক গ্রিমোর জ্বলে ওঠে আগুনে। শয়তানেরা চিৎকার করে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়… প্রিয়ন্তীর মুখে শান্তির ছায়া নেমে আসে… আর শিপনের কণ্ঠে বাজে এক লাইন — "এই যুদ্ধ ছিল প্রেমের, আর প্রেমই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি। শিপনের দেহ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে তারা সবাই জেগে উঠে বাড়ির বাইরে। আন্ধারকোটা জমিদারবাড়ি নেই — পুরো জায়গা জঙ্গল হয়ে গেছে, কোনো প্রাসাদ, কোনো দরজা, কিছুই নেই। কিন্তু শিপনের হাতে একটা চিরকুট— "ভালোবাসা সত্যি হলে, মৃত্যুও পথ ছাড়ে। – প্রিয়ন্তী"- আন্ধারকোটা হয়তো আজও কোথাও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সে দরজা আর খুলবে না… যতক্ষণ না কেউ আবার একা প্রেম নিয়ে এগিয়ে আসে— যেমন একদিন এসেছিল শিপন। গল্পটি ওমর ফারুক ভাই এর রিকোয়েস্ট এ অনেকদিন পর কোনো গল্প লেখা। হাত পাকাতে হবে। হয়তো অনেকে জানেই না আমি একসময় গল্প লিখতাম এবং প্রেতাত্মা ও মেঘদূত নামে দেশব্যাপী ভূত ও রহস্য গল্প পড়ুয়া নামে ভালোই পরিচিতি ছিলো। রহস্য পত্রিকা, কিশোর আলো, গল্প-কবিতা ডট কম, প্রেতাত্মা সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও ব্লগে নিয়মিত লেখা থাকতো আমার।

মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

ঢাকার ধুলোভরা অলিতে গর্জে উঠলো একদল প্রাণ, ছাত্রের চোখে আগুন জ্বলে, কাঁপে শাসক টালমাটাল। আমি ছিলাম সমন্বয়য়ে, নামে এ আর শিপন, কাজে আগুন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, দোহার-নবাবগঞ্জকে ডাকলাম, জাগো! তোরা কর ঐক্য গঠন। ফেসবুকের শব্দে গর্জন, ভিডিও বার্তায় আগুন ছড়াই, চোখের সামনে ভাই পড়ে, গুলির শব্দে বুক কাঁপাই। রক্তে মাখা রাজপথে, স্বপ্নগুলো পায়ের নিচে, যুদ্ধ মানে শুধু মৃত্যু নয়, যুদ্ধ মানে জীবন বাঁচে। আটাশ দিন ছিন্নমূল, একেক রাত একেক ঘর, তবু মাথা নত করিনি, ত্যাগেই পাই নতুন ডর। আমার কাঁধে ব্যানার তুলে, ব্যথা লুকাই দৃপ্ত চালে, ভাঙা হাতে লিখেছি শ্লোগান, বিদ্রোহ ওঠে প্রতিটি গালে। গাছতলা, ছাদ, আর বারান্দা—যেথায় পাই একটু ঠাঁই, আমার হৃদয় ছিল আকাশ, আর দেশ ছিল যুদ্ধশালায়। সহযোদ্ধার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ করেছিলাম, এই চোরাবালি থেকে টেনে দেশের মানচিত্র তুলব জান। রেললাইন, কলেজ মাঠ, আর শহীদ মিনারে লেগে ছিল, হাজার কণ্ঠ, হাজার পায়ে, বিদ্রোহের ছাপ যেন দেগে দিল। আমি ছিলাম তাদের একজনে, ছাত্রজাগরণে আগুন-ভর্তি, আমার রক্তেও লেখা ছিল সেই অভ্যুত্থানের প্রথম শপথপত্রটি।

শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০২৫

কবি মরুক

আমার ক্ষুধা, আমার আলস্য, আমার বাস্তবের কবিতা, আপনাকে ক্ষুদ্ধ, বিক্ষুদ্ধ, ক্রোধান্বিত করতে পারে। করতে পারে কান্না কাতর, বিমর্ষ, দুঃখিত ও ব্যথিত। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, ঘেন্না করুন, এবং এবং ভালোবাসা থেকে দূরে থাকুন। ভালোবাসলে কবি মরে যায়। ভালোবাসলে কবি আত্মহত্যা করে। ভালোবাসলে কবিদের পৃথিবী অন্য কারো হয়ে যায়। তারচে' কবিকে জেলে পুরে দিন। তারচে' কবিকে ক্রসফায়ারে হত্যা করুন। তারচে' তাকে নিরুদ্দেশের শিরোপা দিয়ে নাই করে দিন। কবি মরুক। না খেয়ে, না ধেয়ে, না প্রেমে মরুক। মরুক. অর্থ বিত্ত পদ পদবী পুরস্কারে মরুক। ত্যাগে মরুক কবি, ভোগেও মরুক। কবিরা এ পৃথিবীর নয়, অন্য পৃথিবীর। তারা ওখানেই যাক। তাদের ওখানেই যেতে দিন। ক্ষুধা থাকুক, অপ্রেম থাকুক, থাকুক বাস্তবের চাছাছোলা কবিতা।

বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫

মুক্তি দাও প্রিয়তমা

সেদিন তুমি নিবীড় ভাবে কাছে এসে বললে আমায়, স্বপ্ন দেখতে। নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সড়িয়ে নিলেও, কথাটা মনে ধরল। যদিও এখন তোমার কোনো কথাই আর ভালো লাগেনা, আগের মতো। সব মনে হয় অবান্তর, সৃষ্টিছাড়া, ভিত্তিহীন। একদিন এই কথার যাদুতেই হয়েছিলাম পাগলপারা, মনে পড়ে যায় প্রথম দিকের সে সব দিন। অপলক বিস্মিত দৃষ্টি মেলে, শুনতাম তোমার কথা, ঘন্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, ক্লান্তিহীন আবেশে। রামধনু রঙ কল্পনার সূতোয় বেঁধেছিলাম, আগামীর নিটোল বুনন। না, এখন এসব ভাবলে বড্ড হাসি পায়, সকলই সীমাহীন আদিখ্যেতা ছাড়া কিছুই নয়। তোমার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীনা মানুষেরা আর যাই হোক, জীবনসঙ্গীনি হতে পারে না। সারাজীবন মনের কোণের ধূলিজমা হাজারো স্মৃতির তলানিতে, অপদার্থ প্রেমিকা হয়েই থেকে যায়। শুনলাম তোমার কথা, স্বপ্ন দেখলাম। সত্যি একটা গোটা রাত জুড়ে এক সফল নারীর স্বপ্ন। মুখটা যদিও অস্পষ্ট,তবু গড়ন দেখে বুঝলাম তুমি নও। স্বপ্নে সে আমার হাত ধরেছিল, নিয়ে যাবে বলে এক অন্তহীন সুখের দেশে। যেখানে না আছে দুঃখ, রাগ, অভিমান, হতাশা, না আছে অক্ষমতা, সৃষ্টিছাড়া স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকার মতো অনন্ত অলস সময়। কিন্তু একি অদ্ভুত অনুভূতি, এ স্পর্শ যে আমার বড় চেনা। এ যে তোমার স্পর্শ, হ্যাঁ তোমারই। স্বপ্নেও কি এভাবেই অধিকার ফলাতে চাও? অপরিসীম বিচক্ষণতা তোমার, এজন্যই কি বলেছিলে স্বপ্ন দেখতে? বাস্তবের সাথে সাথে অবচেতন সত্ত্বাকেও গ্রাস করে আছো, তার জানান দিতে? মুক্তি দাও আমায়, মুক্তি দাও প্রিয়তমা, স্বপ্ন থেকে না পারো, বাস্তব থেকে, দূরে চলে যাও, অনেক দূরে। আমার জগতটা করে দাও একান্ত আমারই। তুমি না হয় থেকে যেও হয়ে, এক অতি ব্যার্থ, অসহায় স্বপনচারীনি।

শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫

বৃষ্টি ও তুই

মেয়েটি দেখছে রোদ রোদটা হৃদয় ছুই ছুই, বৃষ্টি নিবে প্রতিশোধ মেঘটা বলছে তুই তুই। মেয়েটি দেখছে মেঘ মেঘটা আকাশ ছুই ছুই, ঘুড়িটা উড়ছে তবু বেশ পাখিটা বলছে তুই তুই। মেয়েটি দেখছে পাখি পাখিটা দুঃক্ষ ছুই ছুই, লোনা জলে ডোবে আঁখি বৃষ্টিটা বলছে তুই তুই।

বৃষ্টির প্রতিশোধ

বলেছে সে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে দুহাত মেলে, নাজুক কলমি লতার মতো মেঘের সরবোরে। আমি তো মেঘের গোপন খবর আগাম জানতে পারি, হিংসায় জ্বলে পুরে মরি; কতো দীর্ঘ হবে এবার আষাঢ় মাস? কি জানি কতো যুগ আগের প্রেমিক তার বৃষ্টি হয়ে আসে, ষড়যন্ত্রের মতো সুবিন্যস্ত অভিসন্ধি নিয়ে তির্যক তীরের মতো , চুলের গোঁড়া থেকে নাভির গভীরে ছুড়ে দেয়া সুদীর্ঘ চুম্বন চোখের পাতা ও ঠোঁটের ডগা বেয়ে বাতাবী লেবুর মতো বুকে! হিমালয়ের শীত পেটে নিয়ে সরসর সাপের মতো একেবেকে, কোথায় না ছুঁয়ে যায় তার চঞ্চল প্রেমিকের গোপন অসভ্য আঙ্গুল ! শরীরের তাহার প্রশ্রয়ের আলিঙ্গন, আহ্লাদে গলে বৃষ্টির ফোঁটা, ষড়যন্ত্রের মতো সুবিন্যস্ত অভিসন্ধি, সে কি বুঝেও বোঝেনা তা! আবেশে তাহার চোখ কাঁপে তির তির, তৃপ্তির শিহরণ ভেজা সারা গায়ে। আমি হিংসায় দাউ দাউ করি আগুনের মতো, জিঘাংসার ব্রত বুকে নিয়ে। হয়তো সহস্র জনম পরে পবিত্র বৃষ্টি হয়ে জন্ম নেবো এই ঘোর আষাঢ়ে: শত তপস্যার ফলে, ভালবাসার চাবুক চালাবো তার সমস্ত শরীরে, প্রতিশোধের মতো নির্দয়ে, ভিজাবো সে জলে। অধর নিংড়ে তাহার নিতম্ব ছুঁয়ে দেবো নিশ্চয়, অবাধে নির্ভয়ে; আমাকে নিও চিনে, আষাঢ়ের সুবিন্যস্ত বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায়, কামুক বর্ষা ঋতুর বৃষ্টিময় প্রতিটি দীর্ঘ দিনে।

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৫

প্রশ্ন

তুমি কি ডাকনাম পাল্টে ফেলেছ? বাড়ির ঠিকানা, কি একলা সিঁড়ি ঘর – বারান্দায় দাঁড়ানো। তোমার ভেতরকার শহরের পিচঢালা পথ কি গিয়ে মিশেছে অন্ধকারে? যেখানে মধ্যবয়সী কোনো যুবক তার প্রেমিকাকে ল্যাম্পপোস্টের গা ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে চুমু খায়। তুমি কি সেই অন্য দেশ ? যার রাজধানী পাল্টে ফেলেছ। যেখানে যুদ্ধ লেগে যায় বাঁচার জন্য অধিকারের জন্য। যেখানে মানুষ কলম তোলে কথার ঝড় পাতায় ওঠানোর জন্য, একশ একটা কবিতা, উপন্যাস, শিরোনাম জুড়ে বেঁচে থাকার কথা লিখতে শুরু করে। তুমি কি বদ্ধ গ্রাম? যেখানে তোমার আমার শৈশব, ছুটোছুটি দুরন্তপনা ছিলো। কাদা মাখামাখি বর্ষায় পা পিছলে হোচট খাওয়া। সর্পিল রেললাইনে দুজন দুজনের হাত ধরে হেটে কত পথ ফুরিয়েছিলাম, মনে আছে? সে গ্রামে ছোট্ট মাটির ঘরে দাঁড়াতাম, ঝড় এলে। তুমি কি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি? সন্ধান চাই, সন্ধান চাই – বলে খোঁজার তাড়না। হারানো কাউকে খুঁজে দেবার বিনিময়ে অর্থের লোভ দেখানো, বদ্ধ উন্মাদ আমাকে খোঁজা, আমার ছায়া,লেখার খাতা, ভাঙা চশমা অসম্পাদিত কবিতাগুলো যে ডায়েরিতে লেখা সে ডায়েরির সন্ধান করা। তুমি কি সেই অন্ধ চোখ? যার মনুষ্যত্ব বিবেক চোখের পর্দার আড়ালে চলে যায়। যে বুঝতে চায় না অভিমানের মানে, মুখ ফিরিয়ে থাকার অর্থ। যে চোখ অন্ধকারের গভীরতা মাপতে পারে, যে চোখ জানে নরকের জ্বালা যন্ত্রণা রঙিন পৃথিবীর কাছে কতটা তুচ্ছ, বেকার। তুমি কি সেই পাষাণ হৃদয়? যে হৃদয়ে ভালোবাসা থাকলেও, তা প্রকাশ করতে চাইবার ইচ্ছেটা মৃত করে দিয়েছে। যে হৃদয় জানে বিচ্ছেদের কষ্ট, জড়ানোতে ভয়,দুর্বলতা, বায়নার বারন মানতে কষ্ট হয়। যে হৃদয়ে ক্ষরণ হয়, নিজেই সহ্য করে নাও সেসব বুঝতে না দিয়ে পুরো পৃথিবীর কাছে তুমি হাসতে থাকো।

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪

নতুন বছরে শিপনের গল্প

#শুভ_নববর্ষ_২০২৫ ২০২৫ সালে নতুন উদ্যমে, নতুন পথ চলা: শিপনের গল্প, আমার গল্প। জীবন কখনোই সোজা পথে চলেনা। মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়, আবার কিছু সময় আমাদের পথে আসে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই সমস্ত চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমাদের স্বপ্ন এবং প্যাশন কখনো হারিয়ে যেতে দেয় না। আমি শিপন, ৩১ বছর বয়সী একজন ভিডিও এডিটর এবং থ্রিডি মডেলিং, এনিমেশন এবং গেম ডেভেলপমেন্টের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। আমার জীবনটা বেশ মিশ্রিত। একদিকে যেখানে আমি একটি কম বেতনে চাকরি করছি, অন্যদিকে আমার জীবনে নানা রকমের চ্যালেঞ্জ আছে—একটি ডিভোর্স, জীবনের সংগ্রাম এবং প্যাশন অনুসরণের ইচ্ছা। এসব কিছুই আমাকে কখনো থামাতে পারেনি। আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে বহু সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাসের একত্রিত ফল। আমার প্যাশন—থ্রিডি মডেলিং এবং গেম ডেভেলপমেন্ট—এগুলি কেবল আমার শখ নয়, এগুলি আমার জীবন। যদিও আমি একটি চাকরি করি, তবুও আমার মনে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে এই প্যাশনের ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি, একদিন এই প্যাশনই আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাবে। তবে এই পথে আরো অনেক কিছু করতে হবে। আমার একটি বিজনেস প্ল্যানও রয়েছে যা এই ক্ষেত্রের মধ্যে কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমি খুঁজছি এমন কিছু ইনভেস্টর যাঁরা আমার স্বপ্নের পাশে দাঁড়াতে চান। তবে জীবন সবসময়ই সোজা পথ নয়, মাঝে মাঝে অনেক দিকেই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। অফিসের চাপ, প্যাশনের জন্য সময় বের করা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, সব কিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত সংগ্রামে আছি। তবুও, আমি বিশ্বাস করি, আমার পরিশ্রম এবং ধৈর্যের মাধ্যমে ২০২৫ সালে আমি একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারব। আমার জীবনে এখন নেই কোনো লাইফপার্টনার, কিন্তু আমি জানি, একদিন জীবনের সঙ্গী খুঁজে পাব। এই মুহূর্তে আমি আমার লক্ষ্য, আমার প্যাশন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেই মনোযোগ দিচ্ছি। এই সময়ে নিজের জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য কাজ করছি, যাতে একদিন আমি সেই সাফল্য অর্জন করতে পারি যা আমি স্বপ্নে দেখি। ২০২৫ সালের জন্য আমার পরিকল্পনা: নিজের বিজনেস শুরু করা, থ্রিডি মডেলিং এবং গেম ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে একটি নতুন প্রজেক্টের সূচনা, এবং রাজনৈতিক জীবনেও নিজেকে আরো শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমি জানি, এই বছর আমার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। জীবনের এই কঠিন সময়ে, আমি জানি—যতই কষ্ট হোক, যতই বিপর্যয় আসুক—প্রত্যেক পদক্ষেপই আমাকে আমার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। আজকের চ্যালেঞ্জগুলো আগামী দিনের সাফল্যের পাথেয় হয়ে থাকবে। এখন, ২০২৫ আমার জন্য একটি নতুন শুরু হতে চলেছে। আমি প্রস্তুত, প্রস্তুত হয়ে আছি সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার পথে যারা আমাকে সমর্থন দেবে, তাদের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আর যারা একদিন আমার গল্প শুনবেন, তারা জানবেন—আমি কখনো হাল ছাড়িনি, কখনো থামিনি। আমার স্বপ্ন পূরণের যাত্রা অব্যাহত থাকবে, এবং আমি জানি, আমি একদিন সফল হব। পরিশেষে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর প্রতিষ্টা বার্ষিকী ও সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ডিপ্রেশান

#ডিপ্রেশান রাত গভীর হচ্ছে, কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি যে আমি তীব্র অনিদ্রা রোগে ভুগছি। ইংরেজিতে যাকে insomnia বলে আর কী। আগে আমার বন্ধু জয়ী আমাকে বলতো, ‘দোস্ত আমায় একটু ঘুম ধার দে না’। আমি বলতাম ‘ঘুম আবার ধার দেয়া যায় না-কি, শুয়ে ঘুমিয়ে পড়বি’। এটা বলে কথাটা উড়িয়ে দিলেও মনে মনে ভাবতাম, আচ্ছা কী এমন হয় মানুষের! যে সে রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে থাকে। এখন বুঝি যে কেন এই নির্ঘুম রাত, কীভাবে এই নিস্তব্ধতার মাঝেও দুচোখের পাতা এক হয় না। আসলে মানুষের মনের জগতে যখন আঁধার নেমে আসে তখন রাতের আঁধার তার মনে আরও স্পষ্ট কালো ছাপ ফেলে। এখানে মন জিনিসটা আমাদের মস্তিষ্ক। শহরটি এখন নিস্তব্ধ এটা বটে, কিন্তু মানুষগুলোর মস্তিষ্ক নিস্তব্ধ নয়, সেটা অবিরাম ছুটে চলেছে চিন্তার জগতে। মাঝেমাঝে অবাক হই আমার মস্তিষ্কের কথা ভেবে, রাত যত গভীর হচ্ছে, মস্তিষ্ক যেন আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়ছে, কোনো এক কারণে প্রচণ্ড বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে সে। কিংবা সে ভয় পেয়ে আছে কোনো কারণে। রাত যত গভীর হচ্ছে ভয় যেন আরও বাড়ছে, একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছে সে, কিন্তু সে ভোর আসছে না। দিনের পর দিন যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত নতুন ভোর কোনোভাবেই আসছে না। আচ্ছা মানুষ অন্ধকারে কেন থাকতে পারে না? হ্যা অনেক মানুষের কাছেই অন্ধকার প্রিয়, রাত প্রিয়, তার পছন্দের কাজগুলোও রাতে করতে সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে মানুষের মস্তিষ্ক কিংবা মস্তিষ্কের এক অংশ অন্ধকারকে এড়িয়ে চলতে চায়, তাই হোক না হোক অবচেতন মনে একটা আঁধার ভীতি মানুষের ঠিকই রয়েছে। আমার বিক্ষিপ্ত মনে কিছু চিন্তা যেন বিদ্যুতের গতিতে চলছে। আচ্ছা insomnia কিন্তু আমার একার না। আমি আমার বয়সী আরও অনেক ছেলে মেয়েকে দেখেছি যারা insomnia তে ভুগে, তাদের রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটে। এই insomnia এর কারণ একেক জনের একেক রকম। কেউ পড়াশোনা বা নির্দিষ্ট কাজে রাত জাগতে জাগতে একটা পর্যায়ে এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এবং এখন সে রাতে এমনিতেই ঘুমাতে চায় না বা পারে না। কিন্তু ১৩-২০ এই বয়সী ছেলে মেয়েদের রাত জাগার আরও একটি কারণ হলো ‘ডিপ্রেশন’। এখন হয়তো কেউ বলতে পারে এত কমবয়সী ছেলে মেয়েদের ডিপ্রেশন এত বেশি কিসের। যারাই এই প্রশ্নটি করবে তারাই বরং এই ডিপ্রেশনের একটি অন্যতম কারণ। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডিপ্রেশন কোনো নতুন বিষয় না। ২০১৮ এর একটি জরিপে বিষয়টি উঠে এসেছে যে বিশ্বে প্রায় ৯৭০ মিলিয়ন মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার স্বীকার। অর্থাৎ প্রতি একশো জনে ১৩ জন মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২৬৪ মিলিয়ন মানুষ ‘ডিপ্রেশন’-এ ভুগছে। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৩.৪৩% মানুষ ডিপ্রেশনের স্বীকার। মানসিক সমস্যাজনিত সমস্যা বলতে যে শুধু ডিপ্রেশন না তা আগে বোঝা দরকার। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্যে আছে আরও কয়েক ধরনের নির্দিষ্ট সমস্যা। এর মধ্যে আছে Depression, Anxietz, Bipolar disorder, Eating disorder, Schizophrenia, Drug use disorder, Alcohol use disorder etc. এই সমস্যাগুলোয় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বা জরিপটাও ভিন্ন। এখন আমরা খুবই বোরিং একটা জরিপ দেখব। কিন্তু পুরো বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ব্যপারে একটি ধারণা পেতে উক্ত জরিপটি খুবই তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ । Our World in Data’ নামক একটি সংস্থার ২০১৮ এর একটি প্রতিবেদনে উঠে আসা বিশ্বব্যপী মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জরিপটি হলো : • Anxietz: প্রায় ২৮৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ ৩.৮% মানুষ এই anxiety বা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। যার মধ্যে ৪.৭% নারী এবং ২.৮% পুরুষ। • Depression প্রায় ২৬৪ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩.৪৩% মানুষ এই depression বা হতাশায় ভুগছে। যার মধ্যে ৪.১% নারী এবং ২.৭% পুরুষ। • Alcohol use disorder প্রায় ১০৭ মিলিয়ন মানুষ। মোট জনসংখ্যার ১.৪%। ২% পুরুষ এবং ০.৮% নারী। • Drug use disorder প্রায় ৭১ মিলিয়ন মানুষ। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.৯%। ১.৩% পুরুষ এবং ০.৬% নারী Bipolar disorder : প্রায় ৪৬ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০.৬%। এর মধ্যে ০.৬৫% নারী এবং ০.৫৫% পুরুষ এতে আক্রান্ত। Schizophrenia: প্রায় ২০ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০.৩% এই সমস্যায় আক্রান্ত। যার মধ্যে ০.২৬% পুরুষ এবং ০.২৫% নারী . Eating Disorder : প্রায় ১৬ মিলিয়ন বা মোট জনসংখ্যার ০.২% মানুষ এর ভুক্তভোগী। যার মধ্যে ০.২৯% নারী এবং ০.১৩% পুরুষ। পরিসংখ্যানটি একটু খেয়াল করলে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে উল্লেখিত ৭টি সমস্যার মধ্যে ৪টি সমস্যাতেই নারীরা বেশি ভুক্তভোগী। এবং একটি গড় হিসাবের মাধ্যমে এটি বেরও করা হয়েছে যে বিশ্বব্যপি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৩.৩% নারী এবং ১২.৬% পুরুষ। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেশ কিছু বছর ধরেই আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। তবে বর্তমানে ২০২০ এ করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে এই পরিসংখ্যানটি আরও বহুগুনে বেড়েছে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা। মহামারীর এই সময়ে অনেকের চাকরি চলে গেছে। অনেক পরিবার পথে নেমে গেছে, অনেকের পরিবার পরিজন করোনায় আক্রান্ত। কারও আবার কাছের মানুষ মারা গেছে, কারও হয়তো হচ্ছে অনিশ্চিত মৃত্যুর ভয়। চারিদিকে মৃত্যু আর লাশের খবর, পুরো শহর, দেশে একটা অবরুদ্ধ অবস্থা। এমন এক ভয়ানক অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া কোনো অবাক করার মতো বিষয় না। প্রথম আলোর একটি সংবাদে আসা একটি জরিপে দেখা যাচ্ছে যে এই মহামারীর প্রভাবে পৃথিবীর ৪০ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপে আছে। অর্থাৎ করোনা মহামারীর কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে ভয়াবহ আকারে। এর কারণটিও সুস্পষ্ট। পৃথিবীর প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষ এই মহামারীর সময়ে একটা দীর্ঘ সময়ে লকডাউনে ছিল। অর্থাৎ সেই সময়টায় সবাইকে গৃহবন্দী হয়ে জীবন যাপন করতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী জীবন যাপন করছে। একটি নির্দিষ্ট বয়স সাধারণত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাহিরের পরিবেশে সহপাঠী ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, পড়াশোনা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে একটি স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। সেটি করার সুযোগটি এখন হচ্ছে না। তাই এই তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি দীর্ঘ সময় ধরে একরকম মনস্তাত্ত্বিক অবরুদ্ধতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত ঘরে থাকার কারণে অলস সময় ব্যয় হচ্ছে দিনের অধিকাংশ সময়ে। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে শিশু কিশোরদের আচরণে তাই বিভিন্ন প্রভাব দেখা দিচ্ছে যা পূর্বে ছিল না। আশঙ্কাজনকভাবে তাই শিশু-কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকদের মধ্যেও হতাশা ও দুশ্চিন্তাজনিত সমস্যা ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ অভিভাবকদের মধ্যেও দীর্ঘসময় ঘরবন্দী থাকার কারণে মানসিক চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মানসিক চাপ বা সমস্যা মহামারী পরবর্তী সময়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে তাই এই মহামারী চলাকালীন সময়েও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শুধু এই মহামারী সময়েই না, এমনি সময়গুলোতেও দেখা গেছে যে উন্নত দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যপারে সবসময়ে অনেক বেশি জোর দেয়া হয় এবং সেখানকার একদম স্কুল পর্যায় থেকে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা কাউন্সিলিং সেকশন থাকে। এবং সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য ও সমস্যা বিশেষজ্ঞ এবং এবিষয়ে জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও খুবই দক্ষ ও সুপরিকল্পিত। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যপারটিতে আলাদা ভাবে জোর দেয়া হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো কিংবা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। আমাদের বাংলাদেশের কথাই যদি ধরি তবে ২০১৮-১৯ এর বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্তবয়স্ক দের মধ্যে ১৬% মানুষ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ৭% ভুগছে ডিপ্রেশনে। এবার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের কথা ধরি তবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮% শিশু-কিশোর বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এবং ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে মানসিক সমস্যায় ভুক্তভোগীদের ৯০%ই কোনো প্রকার চিকিৎসা নিচ্ছেনা বা পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ দের মতে, এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত। যেকোনো শারীরিক স্বাস্থ্যকে যতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়, মানসিক স্বাস্থ্যকে ততোটা গুরুত্বতো দেয়া হয়ই না বরং এখনো মানসিক সমস্যাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ বা হালকা বিষয় হিসেবে নেয়া হয়। অনেকে মানসিক সমস্যাকে সমস্যা বলেই মনে করে না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ‘স্বাস্থ্য’ শব্দটিকে শুধু ‘শারীরিক’ শব্দটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বলতে যে শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাকে বোঝায় তা আমাদের সমাজে প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়। এছাড়া দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছে মাত্র ২২০ জন, যা জনসংখ্যার অনুপাতে খুবই নগন্য। তাই আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় যে দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা অবশ্যই কাম্য না। এবং কিশোর বয়সী যারা রয়েছে অর্থাৎ ১৩-১৯ বছরের যারা, তাদের মানসিক সমস্যাগুলো ভয়াবহ প্রভাবও বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ২২% হলো কিশোর-কিশোরী। এবং বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জরিপেও এটাই পরিলক্ষিত হয় যে এই বয়সী ছেলে মেয়েদের ১৮% মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। অর্থাৎ পরিসংখ্যানটা কিন্তু ভয়াবহ। ১৩-১৯ এই বয়সটাকে বিদেশে বলে টিনএজ বাংলায় বলা হয় বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময়টাতে একটি শিশু ক্রমশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হয়। এই সময়টাতে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। এই সময় তারা অনেক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় এবং নতুন অনেককিছু ভাবতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায় এই বয়সীদেরকে সঠিক যত্ন নিলে ও সুযোগ সুবিধা দিলে এরা ভবিষ্যতটা অনেক সুন্দরভাবে গড়তে পারবে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টোটা হয়। এই বয়সীদের মধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে একটা বড় অংশ এই টিনএজডরা। এর প্রধান কারণ সাধারণত তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট। পারবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, চাপ এগুলো বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। শহুরে পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর একটি অন্যতম কারণ পরিবার কাঠামো। শহুরে পরিবার গুলো সাধারণত ছোট ও একক পরিবার হয়। অনেকসময় দেখা যায় যে এসব পরিবারে বাবা মা দুজনই চাকুরিজীবী হওয়ায় সন্তানকে ঠিকমতো সময় দিতে পারে না। যার ফলে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ যত্নের অভাবে ঠিকভাবে হয় না। এছাড়া অনেকক্ষেত্রে যেসব পরিবারে একটিমাত্র সন্তান, এবং বাবা মা দুজনই চাকুরিজীবী, সেসব পরিবারের সন্তানেরা সাধারণত একটা দীর্ঘসময় একা থাকতে থাকতে একটি মানসিক ট্রমার শিকার হয়। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের প্যারেন্টিং এর অভাবে একাকীত্ব একরকম মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে। ব্যাড প্যারেন্টিং, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। বাংলাদেশের ৮০% অভিভাবক প্যারেন্টিং জিনিসটা বুঝে না। তারা তাদের নিজেদের সন্তানকে না বুঝে বিভিন্নভাবে মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়। এদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তি জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোকে সন্তানকে পাওয়াতে চায়। তাই তারা সন্তানের উপর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তারা সন্তান কী হবে জন্মের পরই সেটা ঠিক করে দেয়, সন্তানের নিজের কোনো স্বপ্ন আছে কি-না তা জানতে চায়ও না, পূরণ করার উৎসাহ তো দেয়ই না। এরা কোনো কিছুতেই সন্তুষ্টি বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। নিজের সন্তানের দাম তো দেয়ই না বরং এরা সারা জীবন অন্যের সাথে নিজের সন্তানকে তুলনা করে। ‘অমুক অংকে ৯৯ পেলো তুমি কেন ৬০ পেলা’। এইধরনের প্রশ্ন করে তারা সন্তানের জীবনে একটা ভয় ঢুকিয়ে দেয়। তারা সন্তানকে নতুন ব্যপারে উৎসাহ কম দেয় বরং অপরের সাথে তুলনা করে ছোট করতে থাকে। এভাবে অধিকাংশ সময়ে অভিভাবকরাই সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে তাদের শৈশব বা কৈশোরের একটা দীর্ঘসময় হীনমন্যতায় ভোগে শুধুমাত্র তাদের বাবা-মার অতিরিক্ত শাসনের কারণে। কোথাও যেতে হলে, কোথাও কিছু করতে হলে, পড়াশোনার পাশাপাশি আরও কিছু করতে চাইলে, সবজায়গাতেই এখনো রক্ষনশীল পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সুযোগ দেয় না। যদি বা দেয়ও তাও অনেক অনুরোধের পর। আবার এসব ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যও কম হয় না। মূলত লিঙ্গ বৈষম্যের কনসেপ্টটা একটা মানুষের মাথায় ঢুকে পরে শৈশবেই যখন তার পরিবারেই তাকে ও তার বিপরীত লিঙ্গের ভাই/বোন এর সাথে ভিন্ন আচরণ করা হয়। কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে যেই অনুমতিটা খুব সহজেই দেয়া হয়, মেয়ে সন্তানকে সেটা ততো সহজে দেয়া হয় না, কিংবা হয়তো দেয়াই হয় না। এক্ষেত্রে অবশ্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও পরিবেশ প্রেক্ষাপটও অনেকাংশেই দায়ী। সমাজ ব্যবস্থার কারণে অভিভাবকরাও একরকমের প্রভাবিত হয়েছে এটার দ্বারা। কিন্তু শৈশবে বা কৈশোরে অভিভাবকদের এধরনের আচরণ সন্তানদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত শাসনের কারণে অনেক সন্তানের মনে তার নিজের বাবা মার প্রতি মারাত্মক ভয় বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘৃণারও জন্ম নেয়। একটি মানুষের জন্য তার বাবা-মা সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি বা ভালবাসার ব্যক্তিত্ব হওয়ার কথা, এটাই স্বাভাবিক। সেখানে কোনো সন্তান তার বাবা-মাকে ঘৃণা করবে এটা কত বড় একটা ভয়ংকর ব্যপার তাই না? তবে এটা হচ্ছে, শুধু আমাদের দেশেই না বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এটা ঘটছে। যেটি বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার একটা বিরাট কারণ। এছাড়া উন্নত দেশগুলো এবং বাংলাদেশেও কৈশোরে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাবা-মার জটিল সম্পর্ক। অনেক পরিবারেই দেখা যায় বাবা-মা প্রতিনিয়ত সন্তানের সামনে ঝগড়া করে। অনেক ক্ষেত্রে হাতাহাতিও হয়। শৈশবের এই দৃশ্যগুলো একটি মানুষের মস্তিষ্কে আজীবন গেঁথে যায় বলে অনেক মনোবিজ্ঞানীই মনে করেন। আমাদের দেশ অনেক পরিবারে সন্তানের সামনে বাবা সন্তানের মাকে অপমান করে এমনকি গায়ে হাত তুলে, গুরুতর আঘাতও করে। আবার বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা তো আছেই। আমাদের দেশে তুলনামূলক কম হলেও বিদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ একটি নিয়মিত ঘটনা। কোনো পরিবারে বাবা মার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে সমস্ত পরিবারটি ভেঙে দুভাগ হয়ে যায়। মাঝখানে পড়ে যায় সন্তানটি, যে জানে না তার দোষ কোথায়! সন্তানটি কখনো তার মায়ের সঙ্গও পুরোপুরি পায় না, আবার বাবার সঙ্গও না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে এইধরনের দৃশ্য বা ঘটনা শৈশবে একটি শিশুর সমস্ত মানসিক অবস্থাকেই পরিবর্তন করে দেয়। অনেকক্ষেত্রেই মানসিক বিকারগপ্ত অপরাধীদের ব্যকগ্রাউন্ড বা পারিবারিক তথ্য ঘাটলে এধরনের ঘটনা উঠে আসে। তাই শৈশব বা কৈশরের মানসিক চাপ বা পারিবারিক ভয়ংকর দৃশ্য একটি মানুষের সমগ্র জীবনের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরাট ক্ষতি করে। আর এভাবে সন্তানের মানসিক অবস্থা নষ্ট হওয়ার একটি মূল কারণ ব্যাড প্যারেন্টিং। এই কিশোর-কিশোরীরা অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের চাপ দীর্ঘদিন সহ্য করতে করতে একটা পর্যায়ে দমে যায়। মুক্তির জন্য তখন অনেকে ঘর ছেড়ে পালায়, অনেকে জড়িয়ে যায় অপরাধ জগতের সাথে। কেউ আবার আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়। শুনতে অবাক শোনালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিনএজ ছেলে মেয়েদের একটা বিরাট অংশ জীবনে একবার হলেও আত্মহত্যার কথা ভাবে। তাদের জীবন অনেকসময় এতটাই দূর্বিষহ হয়ে উঠে যে এটা থেকে মুক্তি পেতে তারা জীবনটাই শেষ করে দেয়ার কথা ভাবে। এবং একটা বিরাট সংখ্যার ছেলে মেয়ে এভাবে আত্মহত্যা করেও এবং আত্মহত্যার চেষ্টাও করে অনেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীব্যপী ১৪তম উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা। এবং সকল মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে ১.৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। আরও একটি জরীপে এসেছে যে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যার কারণে মারা যায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একেকটি আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হয়। শুনে অবাক লাগছে তাই না! জী অবাক লাগার মতোই। তবে এটিই বাস্তবতা। এবং যেখানেই আত্মহত্যার কথা আসছে সেখানেই মানসিক স্বাস্থ্যের কথা আসবে। এত বেশি আত্মহত্যার কারণ কি এটিই নির্দেশ করে না যে বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, ডিপ্রেশন এগুলো ভয়াবহ একটি রোগে পরিণত হয়েছে। এবং এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝেও ব্যপকহারে দেখা দিচ্ছে! যান্ত্রিক জীবন, শহুরে পরিবেশের অভ্যস্ততা, কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক অস্থিতিশীল অবস্থা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোেড়ন ইত্যদি বিভিন্ন বিষয় আছে যা আমাদের মধ্যে মানসিক অস্তিরতা বা চাপ সৃষ্টি করে। এগুলোর কোনো কোনোটি মস্তিষ্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবও ফেলে। যার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিরাট ক্ষতি হয়, সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মানসিক রোগ বা সমস্যা। বাড়ে আত্মহত্যার মতো আরও ভয়ংকর ও সাংঘাতিক ঘটনা। এমনকি বাড়তে পারে নৃশংস অপরাধমূলক ঘটনা। এগুলো যাতে না হয় তারই জন্য প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের নিয়মিত যত্ন। পারিবারিক পর্যায়ে শুড প্যারেন্টিং ব্যপারটিকে জোড় দিয়ে দেখতে হবে, কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয় ঐ পরিবারের থেকেই। অভিভাবকদের সাথে সন্তানদের সম্পর্ক সুন্দর ও বন্ধুসুলভ হওয়াটাই আবশ্যক। এছাড়া সব দেশেই একদম স্কুল পর্যায় থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য আলাদা কাউন্সিলিং সেকশন প্রয়োজন। দেশে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন সাথে সাথে মনোবিজ্ঞান, মানসিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এসব বিষয়ের জন্য কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগসুবিধা রাখা উচিত। কতো কিছুই তো উচিত বললাম যদিও। তবুও সবকিছু কি করে সম্ভব হবে? হয়তো আমরা কেউই বলতে পারি না। কিন্তু আমরা নিজেদের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টাটা কিন্তু করতেই পারি। কে জানে হয়তো আমাদের কাছের পরিচিত মানুষটিই মানসিক সমস্যায় ভুগছে। আমরা তার এধরনের লক্ষণ দেখলে তাকে একটু সময় দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। তার সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করতে পারি। সমাধান হয়তো নিজেরা সম্পূর্ণ না দিতে পারলেও, তার কথাগুলো শুনতে পারি, সঙ্গ দিতে পারি। এভাবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের পরিচিত মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন একটু হলেও নিতে পারি, যার অবশ্যই সুফল দেখা যাবে। একবিংশ শতাব্দীর এই যান্ত্রিক সভ্যতায়, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা একটি নিয়মিত ব্যপার হয়ে গেছে। এখনি সময় এটিকে অবহেলা না করে, গুরুত্বের সাথে দেখা। প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া। নাহলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে এবং কে জানে, হতে পারে এই কারণে আমাদের প্রজন্মকে বা পরের প্রজন্মকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। না অনেকক্ষণ জেগে আছি। ক্লান্ত লাগছে ঠিকই তবে ঘুম নেই চোখে। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমারই দেখি এখন মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গেছে । এইযে রাত, অনিদ্রা, আরও কতদিন থাকবে জানি না। আমার মতো আরও কত মানুষ এভাবে রাত জেগে আছে। কতজনের অনিদ্রার কারণ কতরকম! কতজনের কত গল্প মনের! সেগুলোও আরেক রহস্য! এই রহস্যময় পৃথিবীর সব গল্প, সব অনিদ্রার কারণও জানতে পারব কি-না বা তা আদৌও সম্ভব কি-না জানি না। কুকুরগুলো হঠাৎ হঠাৎ অদ্ভুত ভাবে ডেকে উঠছে, কেন ডাকছে তাও জানি না। বুঝছি না, আচ্ছা ওরাও কি রাতে অনিদ্রায় ভোগে? আর ওদের মাথায় যে চিন্তাই আসে চেঁচিয়ে সেটা প্রকাশ করে দেয়? আমরা মানুষরা কেন পারি না সেটা? এই নিস্তব্ধতা এত বেশি ভয়ঙ্কর লাগে আজকাল, যাই হোক এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছি, অপেক্ষাটা এত তীব্র যে ঘুমকে কাটিয়ে দিচ্ছে। এতকিছুর মধ্যেও একটা জিনিসের ভরসায় আছি, সৃষ্টিকর্তার সেই অমর বাণী, “নিশ্চয়ই কষ্টের পরই স্বস্তি আছে তাই আমিও ভাবছি নিশ্চয়ই কেটে যাবে এই আঁধার, রাতের শেষে নতুন সূর্য উঠবে একদিন, আঁধার কেটে নতুন ভোরের আলোয় রাঙিয়ে দিবে চারিদিক! আমি আছি সেই নতুন ভোরের অপেক্ষায় । তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

প্রেমিক প্রেমিকার দেখা হউক

সেই পোড়া কোকিলের গান শুনে শুনে যদি বিভ্রান্ত হও, তবে নিশ্চিত জেনো, এখনো প্রেম আছে মনে চাইলে উদ্ভ্রান্তের মত ঘর ছাড়তে পারো তখন আমরা গাছের পাতায় সংসার পাতবো, বহু দুরে ছেড়ে ছুড়ে নাগরিক ভিড় খড় কুটু টেনে টুনে পাখিদের নীড় তুমি আমি সারা দিন হাতে হাত রাখি গায়ে গায়ে লেগে থাকি পাখিনির পাখি সূর্যোদয় থেকে কিছু আলো সূর্যাস্ত থেকে কিছু আলো যা কিছু সুন্দর যা কিছু ভালো দিন শেষে ঠোঁটে করে ফিরবো নাহয় এটাই তো স্বাভাবিক! এটাই তো হয়! চোখের মায়ায় ধরা দেবে চোখ বহু কালের তৃষ্ণা জমাট চুম্বনে আলিঙ্গনে প্রেমিক প্রেমিকার দেখা হউক।

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

একুশে ফেব্রুয়ারী ও শিরক বা পূজা।

একুশে ফেব্রুয়ারী ও শিরক বা পূজা। প্রথমেই আমি শিরক সম্পর্কে একটু ধারনা নিয়ে নেই। #শির্‌ক ইসলাম ধর্মে, শির্‌ক (আরবি: شرك širk) পৌত্তলিকতা বা বহুঈশ্বরবাদ চর্চা করার পাপকে বুঝায় অর্থাৎ শির্‌ক হল আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা। শাব্দিকভাবে এর দ্বারা এক বা একাধিক কোন কিছুকে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও কর্তৃত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করাকে বুঝায়। এটি তাওহিদের পরিপন্থী একটি বিষয়। ইসলামে শির্‌ক হল একটি অমার্জনীয় অপরাধ যদি না মৃত্যু নিকটবর্তী হবার পূর্বে আল্লাহ্‌র নিকট এই অপরাধের জন্যে ক্ষমা চেয়ে না নেয়া হয়। ইসলামের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসারে, আল্লাহ্ তায়ালার কাছে ক্ষমা না চাইলেও মৃত্যুর পর নিজের বিচার অনুসারে তার ইবাদতকারীদের যে কোন ভুল ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শির্‌কের অপরাধী দুনিয়াতে ক্ষমা না চাইলে কখনোই ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্ তায়ালা শির্কের বিপরীত তাওহিদের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এভাবে, বলঃ তিনিই আল্লাহ। একক/অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন, এবং তাঁর সমতুল্য কেহই নেই। সুরাতুল ইখলাস। #পূজা পূজা (সংস্কৃত: पूजा) হিন্দুদের পালনীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দুধর্মতে, দেবতাগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা অতিথিদের পূজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। স্থান ও কালভেদে বিভিন্ন প্রকার পূজানুষ্ঠান এই ধর্মে প্রচলিত। যথা, গৃহে বা মন্দিরে নিত্যপূজা, উৎসব উপলক্ষে বিশেষ পূজা অথবা যাত্রা বা কার্যারম্ভের পূর্বে কৃত পূজা ইত্যাদি।[১] পূজানুষ্ঠানের মূল আচারটি হল দেবতা ও ব্যক্তির আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশেষ উপহার প্রদান। পূজা সাধারণত গৃহে বা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। পূজার বিভিন্ন প্রকারভেদও রয়েছে।[২] দুর্গাপূজা বা কালীপূজার মতো উৎসবগুলি প্রকৃতপক্ষে পূজাকেন্দ্রিক উৎসব। #একুশে_ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হল একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ সমস্ত বাংলাভাষী অঞ্চলে পালিত একটি বিশেষ দিবস, যা ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বরে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী [১] প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। এটি শহীদ দিবস হিসাবেও পরিচিত। এ দিনটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালে এইদিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ ছাত্র শহীদ হন। যাঁদের মধ্যে রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত উল্লেখযোগ্য এবং এই কারণে এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় শহিদ দিবস হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাদিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি গানের করুণ সুর বাজতে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢাকায় একুশে বইমেলার আয়োজন করে। #সারসংক্ষেপ ৮ ফাল্গুন বা একুশে ফেব্রুয়ারী সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের অধিকাংশ লোক আমরা দ্বিধাদন্দে থাকি যে এই যে একুশে ফেব্রুয়ারী পালিন এটা কি শিরক, পুজা বা বেদাত নাকি। আমি উপরে শিরক ও পূজার ব্যাক্ষা দিয়েছি, এখন আপনিই বলুন এটা কি কোন ভাবে শিরক বা পূজা হয় নাকি? আল্লাহ আমাদের জ্ঞ্যান দিয়েছেন বিবেচনা করার জন্য। এর জন্যই আমরা আশরাফুল মাখলুকাত। আমার মতে একুশে ফেব্রুয়ারী শিরক বা পূজা না। এটা বাংলা ভাষাভাষীদের একটা আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর এমন একটি জাতী নেই যারা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছেন। এখন সেই শহীদদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে তাদের জন্য মিনার স্থাপন (এখানে মিনারের ব্যাক্ষাও দেওয়া উচিৎ ছিলো) করে সেখানে ফুল দিলে সেটা কিভাবে শিরক হয়? আর ফুল দেওয়া মানেই কি পূজা। ফুল তো ভালোবাসার প্রতিক। অনেক সাহাবীগন তাদের স্ত্রীদের ফুল দিয়েছেন। প্রিয় নবী (সঃ) কে হিজরতের সময় ফুল ছিটিয়ে বরন করা হয়েছে। এখন অনেকে বলে যে শহীদ মিনার হচ্ছে কবর, কবরে ফুল দেওয়া শিরক, গোনাহ বা পূজা। হ্যা, কবরে ফুল দেওয়া গোনাহ। কিন্তু শহীদ মিনার কোন কবর না। যারা এটা ভাবছেন তারা ভুল ভাবছেন। এই যে আমি বাংলাভাষায় কথাগুলো লিখছি, আমি পারতাম না লিখতে যদি না তারা আন্দোলন করতো বা শহীদ। এই যে লিখতে পারছি তাদের উছিলায় এর জন্যেও কি তাদের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবো না?

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ওটা যে আমার ছায়া

অনেকদিন ধরেই একটি মাকড়শা তোমার ঘরের ঝুলবারান্দায় হাঁটতো- গভীর রাতে জোছনা-গোসল সেরে যখন স্বামীর সঙ্গে যুগলবন্দি ঘুমিয়ে পড়তে তখন সে জাল বুনতে শুরু করতো- মাঝে মাঝে ঘাড় উঁচিয়ে দেখতো তোমাকে, কখনো কাছে যাবার সাহস হয়নি। জাল বুনতে বুনতে... বুনতে... বুনতে... রাত ভোর হয়ে যেতো! রাতজাগা কান্ত মাকড়শা তখন নীল অপরাজিতার ঘ্রাণে ডুবসাঁতার দিতো তন্দ্রার ভেতরে। রোজ সকালে শলাঝাড়– দিয়ে সে জাল ঝেড়ে ফেলতে তুমি- মাকড়শা নিজেকে আবিষ্কার করতো নিচে সরু গলির পাশে- বেয়ে উঠতো আবার এক দুই তিন করে অনেকদিন... বড্ড উৎপাত... মহা যন্ত্রণা মনে হলো তোমার কাছে! এক জোছনাধোয়া মধ্যরাতে ধরা পড়লো সে আহা অসহায় মাকড়শা! ধূসর-বরণ মাকড়শা... বেদনায় নীল হয়ে যেতে যেতে তুমি বুঝেছিলে ঠিক, ওটা তোমার মধুর অতীত... ওটা যে আমার ছায়া...

রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

আধুনিক যুগে চিরন্তন সত্য কথা দিন শেষে টাকাই সব

আধুনিক যুগে চিরন্তন সত্য কথা দিন শেষে টাকাই সব, অনেক মানুষই বলেন টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, তবে পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে টাকা। একটা মানুষ দিন রাত এক করে দিতে পারে মাথার ঘাম পায়ে ফেটে পারে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য, কেননা এটা দ্বারা নিজের মৌলিক চাহিদা সহ অন্য সব ধরনের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব, মানিব্যাগের ওজন যত বেশি হবে মনের মধ্যে চঞ্চলতা তত বেশি থাকে। যখন মানিব্যাগের ওজন হালকা হতে থাকে একজন যুবকের মাথায় ততই টেনশন জমা হতে শুরু করে, অর্থ এমন একটা জিনিস এটা যোগ্য এবং অযোগ্য দুই ধরনের মানুষের কাছেই থাকে কিন্তু মধ্যবর্তী মানুষ কখনোই চাহিদার মত অর্থ উপার্জন করতে পারে না। যদি এই সমাজ চিনতে হয় তাহলে খালি পকেটে এ শহরের রঙ্গমঞ্চে একদিন কাটালেই বোঝা যায় এখানে কত ধরনের ক্যারেক্টার কত ধরনের অভিনয়, পকেটে টাকা থাকলে সব কিছু যেমন সহজ মনে হয়, এটা অপরিচিত জায়গাতেও বেশ সাহস লাগে মনে হয় কোন সমস্যা হলে ফিরে আসা সম্ভব। মনে হয় দেশ-বিদেশ ঘুরে আসি, কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে তাহলে একটা সময় কাটাই, বিশেষ বিশেষ দিনে পরিবার প্রিয়জনদেরকে নিয়ে চমৎকার কিছু মুহূর্ত উপভোগ করা যায়, কিন্তু সত্যিকার অর্থে পরিবার বন্ধু বান্ধব কিংবা সমাজ সবাইকে চিনতে হলে খালি পকেটেই চেনা সম্ভব। কেননা অর্থ না থাকলে অপরিচিত জায়গা তো দূরের কথা নিজের পরিচিত মানুষরাই বিষাক্ত মনে হবে। অর্থের এক অদ্ভুত রকমের শক্তি রয়েছে, তার জন্য অন্যরকম একটা সম্মান বরাদ্দ থাকে। এবং অর্থহীন একজন মানুষের জন্য সব সময় অবহেলা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছন্নতা বরাদ্দ থাকে। তাই নির্জিত এবং অসাধারণ এই কাগজের টুকরোটি একজন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ভ্যালেনটাইন ডে: ভালোবাসার উৎসব

প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহের উৎসব ভ্যালেনটাইন ডে প্রতি বছরের মধ্যে বহুল প্রেমিক-প্রেমিকাদের মাঝে উৎসবপূর্ণ রকমে পালন করা হয়। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসার আবিষ্কার ও সাংস্কৃতিক উন্নতি। সম্প্রতি এটি প্রবল কমার্শিয়ালাইজেশনের মুখে আসে, তবে এর সাহিত্যিক পেছনের সূত্রপাতের মূল বিষয়টি ছিল ভালোবাসা ও স্নেহের মূল্যায়ন। এই উৎসবটির আধিকারিক শুরু হলো শোষ্যপত্রিকা নির্মাতা সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামে। এর নিমিত্তে রোমান্টিক পরিবেশের মধ্যে ব্যক্তিগত মেসেজ প্রেরণের প্রথম প্রতীক হিসেবে এর কাজ করে। তবে, এর সত্যিক ইতিহাস প্রায় অজানা অবস্থায় থাকে। এই উৎসবের বৃহত্তম ইতিহাস বিভিন্ন সুপারস্টিশন, সাহিত্যিক গল্প, এবং সমাজের সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যে সনাক্ত হয়েছে। বাঙালি সমাজেও এই উৎসবের অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক প্রভাব অনেকটা প্রকাশ পায়। প্রতিবছর এই দিনটি বেশ উৎসবপূর্ণভাবে পালন করা হয়। প্রেমিক-প্রেমিকারা এই দিনটি ভালোবাসার আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়, এবং সাধারণত এদের মধ্যে উৎসবের আগে থেকেই পরিকল্পিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান ও উপহারের জন্য। বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের সাথে, অনেকে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে সেজে নিয়ে উঠেন কার্ড, ফুল, মিষ্টি, এবং সহজেই পাওয়া যায় এই উৎসবের সম্প্রতি সহজ হওয়া উপহারগুলি। বিশেষভাবে কোন সংগঠন অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সাথে এই প্রতীকটি নিয়ে এগিয়ে আসে। এই উৎসবের সাথে বিশেষ অর্থ যুক্ত হয় ভালোবাসার দিনের এবং এর অভিন্ন প্রকারের পালন করা হয় বাংলাদেশে। অনেকে এই দিনটি সামর্থ্যের সাথে মানের অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক মানের সাথে সম্পর্কিত মন্ত্রণা করেন। অন্যেরা ভালোবাসার উত্তরাধিকারী ব্যক্তিদের অভিবাদন করেন এবং এই সময়ে তাদের সাথে অভিবাদ মেটানোর প্রয়াস করেন। ভালোবাসার দিন আমাদের সবার জন্যে একটি মেধা এবং ভালোবাসার উপহার হিসেবে গণ্য হতে পারে। এটি সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির উত্সব প্রায় হলেও, এটি ভালোবাসার বিভিন্ন সূত্রগুলির জন্য একটি স্বাভাবিক অনুষ্ঠান হিসেবে মন্ত্রণা করা হয়। সাহিত্যিকভাবে, এই উৎসবের ইতিহাস আরো সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন সাহিত্যিক গল্পে। বাংলা সাহিত্যে এই দিনটির উল্লেখ পাওয়া যায় অনেক কবিতা, গল্প, এবং উপন্যাসে। এই সাহিত্যিক প্রকল্পগুলি ভালোবাসার এবং মানুষের সম্পর্কের উপর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। ভ্যালেনটাইন ডে বাংলাদেশের সমাজে একটি উপস্থিতির মধ্যে একটি সুন্দর ও অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এটি ভালোবাসার জন্য একটি অবস্থানের সৃষ্টিকারী এবং সম্প্রতি বাংলাদেশের সমাজের মধ্যে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠাত। এই উৎসবের আসরে একে অবশ্যই উৎসাহের সাথে মনান করা উচিত।