শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ভূত নগরে ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস


#ভূত_নগরে_ভালোবাসা_দিবসের_ইতিহাস
(কাল্পনিক মজার গল্প)
লেখাঃ MD Asadur Rahman – Shipon

রনি, ভূত রাজদেরও মহারাজ। কলংকপূর নামের একটি ভূত রাজ্যের ও রাজা সে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু ভূত রাজ্যের রাজারা তাকে সকল ভূত সম্প্রদায়ের মহারাজা হিসেবেই মানে। কলংকপূরের রাজদরবারে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক চলছে। বৈঠকের মূল বিষয় হচ্ছে ভ্যালেনটাইন ডে। ভূতেরা যখন পৃথিবীতে ছিলো তখন কতই না আনন্দে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করতো। আর এখন ? এখন তো তাদের মধ্যে ভালোবাসাই হয় না। তো কিশের আবার ভ্যালেন্টাইন ডে। অন্যান্য রাজারা মহারাজের উপর তিব্র খোভ পূষে রেখেছেন। কারন মহারাজা তাদের অন্য সব কিছুর ব্যাবস্থা করলেও ব্যাবস্থা করেনি কোন ভালোবাসার।
রাজা অনুপঃ মহারাজ রনি, আমরা আপনাকে যথেষ্ট পরিমান সম্মান করি। আপনি আমাদের প্রায় সকল চাহিদাই পূরন করেছেন। কিন্তু
মহারাজ রনিঃ কিন্তু কি?
রাজা অনুপঃ কিন্তু আমাদের ভালোবাসা পাওয়া বা দেবার কোন ব্যাবস্থা করেননি।
রাজা আদিত্যঃ ভালোবাসা ছাড়া সকল কিছু বৃথা। আমাদের এবং আমাদের ভূতপ্রজাদের ভালোবাসার প্রয়োজন।
মহারাজ রনিঃ তো এখন আমি কি করতে পারি?
রানী অধরাঃ দেখুন মহারাজ কিভাবে আমাদের ভালোবাসা দেবার ব্যবস্থা করবেন সেটা আপনি জানেন। সঙ্গী ছাড়া সবকিছু পানসে লাগছে। আর ভালো লাগছে না। আপনি ব্যাবস্থা করে দিন। আর যদি না পারেন তাহলে বলে দিন। আমরা চলে যাই।
মহারাজ রনিঃ কোথায় যাবে ? আমি তোমাদের জন্য এতোকিছু করলাম আর তোমরাই কিনা আজ আমাকে ছেড়ে যেতে চাইছো?
রাজা আদিত্যঃ দেখুন আমরা কখনই অস্বিকার করিনি যে আপনি আমাদের জন্য কিছু করেননি। যথেষ্ট করেছেন। কিন্তু ব্যার্থতাও কম নয়। মানুষ ভালোবাসা পায়, কিন্তু আমরা পাই না। মহারণী অদ্রীতা তম্রিশা তৃষা আমাদের কথা দিয়েছে তাকে আমরা মহারানী হিসেবে মেনে নিলে তিনি আমাদের ভালোবাসা দিবেন।
মহারাজ রনিঃ বাহ বাহ। আদিক্ষ্যেতা তামাশা তৃষাকে আপনারা অলরেডি মহারানী বানিয়েই ফেলেছেন, তো বসে আছেন কেনো? চলে যান আদিক্ষ্যেতা তামাশা তৃষার কাছে।
রানী অধরাঃ জ্বি। আমরা চলে যাচ্ছি। আপনি ভালো থাকবেন।
এরপর এক এক করে সব রাজারা মহারাজের দরবার থেকে বেরিয়ে যায়। রাজা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে এক প্রজাকে দিয়ে খবর পাঠায় ভূত ভূতজ্ঞানী তাহমিদকে। মহারাজ রনি তাহমিদকে খুব সম্মান করে। কোনরকম সমস্যার পরলেই ভূতজ্ঞানী তাহমিদকে সস্মানে ডেকে নিয়ে আসে। পৃথিবীতে বেচে থাকাকালিন সময়েও তাহমিদ রনিকে অনেকভাবে হেল্প করেছে।
ঐদিকে ভালোবাসা পাবার আশায় রাজা আদিত্য, অনুপ, নাজমুল, রানী অধরা সহ অন্যরাজারা বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, হরেক রঙের ফূল নিয়ে মহারানী তৃষার কাছে আসে। তৃষা আগেই জানতো এরা আসবে। তৃষাও তার দরবার নানান রঙ এর ফুল দিয়ে সাজিয়েছে। তৃষা তাদের সাদরে গ্রহন করে নেন।
রানী অধরাঃ মহারানী তৃষা আমরা আপনার সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য। আশাকরি খুব দ্রুত আমরা আমাদের ভালোবাসা পেয়ে যাবো।
মহারানী তৃষাঃ অবশ্যই আপনাদের মনের আশা পূরন করা হবে। চলুন আমার আতিথিয়েতা গ্রহন করবেন আপনারা।
এরপর সবাই তৃষার মুখোরুচক খাবারের আতিথেয়েতা গ্রহন করে। এরমধ্যে বেষ্ট ছিলো কচুর ভর্তা, তৃষা সেটা নিজ হাতে রান্না করেছে। খাবার দবার শেষ করে যে যার মত করে যার যার রাজ্যে ফিরে আসে। এবং তারা সবাই মহাখুশি যে ভ্যালেন্টাইনের আগেই ভালাবাসা বা সঙ্গী পেয়ে যাবে।
অন্যদিকে চিন্তিত মহারাজ রনি। তার এতোদিনের কষ্ট পরিশ্রমে গড়া সম্রাজ্য ভেংগে গেলো। এক পাজী, বদ মহিলার জন্য। এই মহিলা আসলে কি চায়? ভাবছে আনমনে রনি। ঠিক এই সময় এক প্রজা এসে খবর দেয় যে ভূতজ্ঞানী তাহমিদ এসেছেন। মহারাজ রনি নিজে যায় ভূতজ্ঞানী তাহমিদ এর কাছে। তাকে নিজে আবার তার নিজের রুমে নিয়ে আসেন।
ভূতজ্ঞানী তাহমিদঃ কোন সমস্যা রনি?
মহারাজ রনিঃ অনেক সমস্যা দাদা।
ভূতজ্ঞানী তাহমিদঃ কি সমস্যা বল?
মহারাজ রনিঃ অন্য রাজ্যের রাজাগন আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাদের দাবি তাদের ভালোবাসা দেবার এবং পাবার ব্যাবস্থা করে দিতে হবে।
ভূতজ্ঞানী তাহমিদঃ দিস না কেন তাহলে ব্যাবস্থা করে?
মহারাজ রনিঃ দাদা কি যে বলো। ভালোবাসা কি ব্যাবস্থা করে দেওয়া যায়? এটা হয়ে যায়।
তাহমিদঃ বাহ! ভালো বলেছিস তো। তাহলে এক কাজ কর। তুইই বোঝা।
মহারাজ রনিঃ এভাবে বোঝাবুঝি করে হবে না।
তাহমিদ আর রনির কথা মাঝে হটাত হৈচৈ এর শব্দ শুনতে পায়। জানালার পাশে গিয়ে দেখে তার রাজ্যের প্রজাগন ভালোবাসা চাই, ভালোবাসা দিতে হবে, এই বলে স্লোগান দিচ্ছে।
মহারাজ রনিঃ দেখলে দেখলে পাগল গুলো কি করছে?
ভূতজ্ঞানী তাহমিদঃ শোন, তুই গিয়ে ওদের সামনে বল যে আগামী পরশুর মধ্যে তারা সবাই ভালোবাসা পেয়ে যাবে। প্রত্যেকে।
মহারাজ রনিঃ কি বলছো এই সব। আমি কিভাবে তারপর ম্যানেজ করে দিবো? আমি আমার প্রজাদের সাথে মিথ্যে বলি না।
ভূতজ্ঞানী তাহমিদঃ এতোবেশি বুঝিস কেন? যেটা বলছি সেটা কর।
মহারাজ রনি তার প্রজাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর ভূতপ্রজাদের উদ্যেশ্যে বলে যে দুই দিনের মধ্যে সে সকলকে ভালোবাসা দিবে। রাজার আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে প্রজারা স্লোগান থামিয়ে ফিরে যায়।
রনি ফিরে আসলে তাহমিদ তাকে জানায় যে আগামীকালকের মধ্যে প্রত্যেক প্রজার কাছ থেকে ভূতডাটা নিতে। সে ভূতডাটায় তাদের প্রত্যেকের পছন্দ অপছন্দও উল্লেখ থাকতে হবে। এরপর তাদের ডাটা দেখে ম্যাচিং করিয়ে একজন পুরুষ এর সাথে একজন নাড়ী ভূতের বিয়ের ব্যাবস্থা কর। ব্যাস হয়ে গেলো।
মহারাজ রনিঃ বাহ! ব্যাপক আইডিয়া দিলে দাদা। আমি আজই সব ব্যাবস্থা নিচ্ছি।
তাহমিদ চলে যায়। দুইদিনের মধ্যে সব ভূত ডাটা সংগ্রহ করে এরপর এদের মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচিং খুজে একজনের সাথে আরেকজনের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। সবাই খুশি।
ইতিমধ্যে এই খবর পৌছে গেছে সেই সকল রাজাদের কাছে যারা কিনা মহারাজ রনিকে ফেলে মহারানী তৃষার কাছে চলে গিয়েছিলো। তারা খবর শোনার সাথে সাথেই তৃষার কাছে আসে।
রাজা আদিত্যঃ মহারানী। আমরা যে আশায় আপনার কাছে এসেছিলাম তার কি ব্যবস্থা হলো?
মহারানী তৃষাঃ সব ব্যাবস্থা করছি। একটূ ধৈর্‍্য ধরুন।
রানী অধরাঃ কোন ধৈর্‍্য ধরাধরির মধ্যে আমি নেই। আগামীকালকের মধ্যে আমরা ভালোবাসা না পেলে পূনরায় আমরা মহারাজ রনির কাছে ফিরে যাবো।
রাজা অনুপঃ আমি তো বলি আজই চলে যাই।
রাজা নাজমুলঃ নাহ, আরেকদিন সময় দিলাম। নাহলে ফিরে যাবো।
মহারানী তৃষাঃ তোমরা তো দেখি বড়ই অকৃতজ্ঞ ভূত। স্বার্থের জন্য সব করতে পারো। আচ্ছা যাও আগামীকাল রাতে সবাই আসবে। সবাইকে ভালোবাসা দেওয়া হবে।
এরপর সবাই চলে যায়। পেছন থেকে সুন্দরী পড়ীদের রানী পড়ী তৃষার কাছে এসে বলে
রানী পড়ীঃ এতো টেনশন নিচ্ছো কেন বনু? আমি আছিতো।
মহারানী তৃষাঃ হ্যা। একটু বুদ্ধি দাওতো বনু।
রানী পড়ীঃ শোন বনু। তোমার আর আমার রাজ্যের যেসকল ভূত ভুতুরা রয়েছে তাদের সাথে ওদের রাজের ভুত ভূতুদের বিয়ে দিয়ে দেই।
মহারানী তৃষাঃ নাহ নাহ। ঐ খাটাশ রনিটা বলবে ওকে আমি কপি করেছি। সেটা হতে পারে না।
রানী পড়ীঃ ধুর বোকা মেয়ে। ওকে আমরা কপি করবো কেন? শুনো পাগলীটা। আমরা আমাদের প্রজাদের সাজিয়ে গুজিয়ে ওদের সামনে প্রেসেন্ট করবো। ওরা আমাদের প্রজাদের দেখে মুগ্ধ হবে। এরপর তারা পছন্দ মত বাছাই করে নিবে।
মহারানী তৃষাঃ ওয়াও বনু ওয়াও। তোর মাথায় যে এতো বুদ্ধি কোথা থেকে আসে সেটা বুঝিনা।
রানী পড়িঃ আমি কি সব ব্যাবস্থা নেওয়া শুরু করবো?
মহারানী তৃষাঃ আবার জিগায় দেহি। যাহ সব ব্যাবস্থা লো।
রানী পড়িঃ হাহাহাহাহাহাহাহাহা।
রানী পড়ি সব ধরনের ব্যাবস্থা নেয়। সকল ভূত ভুতুদের সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখে। রাত হতেই চলে আসে রানী অধরা সহ বাকি রাজা ও তাদের ভূতপ্রজারা। মহারানী তৃষার এই আয়োজন দেখে, শুনে, বুঝে মুগ্ধ হয় তারা। ভালোবাসা পছন্দ মত বেছে নিতে পারবে। যেটা মহারাহ রনির সাথে থাকলে কখনই সম্ভব হতো না। কি একটা ঝুলিয়ে দিতো কে জানে।
সবাই লাইন ধরে যে যার মত বেছে নিচ্ছে। এরমধ্যে একজন ভুতু আছে যে কিনা সবচেয়ে সুন্দরী ভূতু। নাম হিয়া। তাকে দেখেই প্রায় জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে অনুপ আর আদিত্য। জ্ঞ্যান ফিরিলে এদের মধ্যে প্রায় মারামারি শুরু হয় হিয়াকে নিয়ে। একসময় এই মারামারি দুই রাজ্যের মধ্যে সেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সব আয়োজন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। যে যার মত ছুটে পালায়।

মহারানী তৃষাঃ কি হলো এটা? এর জন্যেই বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি শুনতে নেই।
রানী পড়িঃ আরে বাবা! এখন আমার দোষ? আমি কি জানতাম ওরা একজন দিয়ে দুইজনে কারাকারি করবে?
মহারানী তৃষাঃ এখন কি করা যায় সেটা বল?
রানী পড়িঃ আমি কি জানি? যাও কোন পুরুষের কাছ থেকে বুদ্ধি নিয়ে আসো।
মহারানী তৃষাঃ ঠিক। তুই এখনি যাবি পৃথিবীতে। খুজে বের করবি একজন রোমান্টিক পুরুষকে। তারপর ধরে নিয়ে আসবি। সেই বুদ্ধি বাতিয়ে দিবে যে কি কি করতে হবে।
রানী পড়ী মহারানী তৃষার আদেশ মত নিজেই পৃথিবীতে আসে। দূর্ভাগ্য বসত সে আসে ধানমন্ডির রবিন্দ্র সরবরে। এখানে প্রায় মিনিট ২০ হাটাহাটি করেও পছন্দমত কোন রোমান্টিক পুরুষ খুজে পায় না। আনমনে হটাত বাতাসে উড়ে অন্য কোথাও যাওয়া শুরু করি পড়ি। এরপর হটাত খেয়াল করে লেকের উপর একটা ডিঙ্গি দুলছে। হয়তো ডুবে যাচ্ছে ভেবে নিচে নেমে কাছে আসে। নিচে নেমে তো অবাক, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ডিঙ্গিতে। ছি ছি ছি ছি ছি। এভাবে মেয়েটাকে চুমু খাচ্ছে। মনে হচ্ছে মেয়েটার ঠোট দুটো আজ ছিঁড়ে ফেলবে এই বদ ছেলেটা। যাই ওকে একটু স্বায়েস্তা করে আসি।
স্বায়েস্তা করার জন্য ডিঙ্গি উল্টিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় পড়ি। যেই উল্টিয়ে দিতে যাবে তখন মনে পরলো আরে এই তো রোমান্টিক পুরুষ। দেখতে যেমন কিউট ঠিক তেমনে বেশ রোমান্টিক সেটাতো বোঝাই গেলো। পড়ি সাথে সাথে ডিঙ্গি উল্টিয়ে দিয়ে ছেলেটিকে তুলে নিয়ে আসে। তুলে নিয়ে হাজির হয় মহারানী তৃষার কাছে।

অন্যদিকে প্রথম কয়েকদিন মহারাজ রনির রাজ্যের সব ঠিকঠাক থাকলেও কিছুদিন পরেই শুরু হয় ঝামেলা। স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার মিল হয় না কোনভাবেই। একজন আরেকজনকে জেনো সহ্য করতেই পারছে না। তাই প্রতিদিন এখন এই ভূত দম্পতীগুলোর মধ্যে কলহ বেড়েই চলছে। তাই সবাই মিলে আবার মহারাজ রনির রাজদরবারের সামনে এসে মিছিল। মুক্তি চাই, দিতে হবে। রনি আবার ভূতাজ্ঞিনি তাহমিদকে খবর দিয়ে আনলো। তাহমিদ নিজেও বুঝছিলো না এখন কি করতে হবে।
রনিঃ কি করবো দাদা? ব্যাপক মুশকিলে পরে গেলাম।
তাহমিদঃ আমিও বুঝতেছিনা কি করবো?
রনিঃ কি করবো? এক কাজ করি?
তাহমিদঃ কি?
রনিঃ অর্নবকে দিয়ে পৃথিবী থেকে দুইজন মানুষ ধরে আনি। এরা এদের শিক্ষা দিবে যে কিভাবে সংসার করতে হয়?
তাহমিদঃ আচ্ছা কর।
রনি তারবন্ধু ভবঘুরে অর্নব ভূতকে ডেকে পাঠায়। তারপর অর্নবকে সব বুঝিয়ে দেয় যে কিভাবে একজোরা ধরে নিয়ে আসতে হবে। অর্নব রনির কথামত পৃথিবীতে আসে। এসে শুনতে পায় যে তার বন্ধু হৃদয় মারা গিয়েছে। মশার কামড়ে মারা গিয়েছে। এটাও কি সম্ভব? কিভাবে কি হইলো জানতে এবং হৃদয়ের আত্তাকে তার সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য হৃদয়ের বাড়িতে গেলো। অনেক খোজাখুজি করে হৃদয়ের আত্তাকে বের করলো? কাদছিলো বেচারা।
অর্নবঃ কিরে ব্যাটা কাদছিস কেন?
হৃদয় ভূভূভূভূত্তত্তত্তত্তত্তত বলে চিৎকার দিয়ে জ্ঞ্যান হারিয়ে পরে গেলো। অর্নব হৃদয়ের দুই গালে ঠাস করে দুই চটকনা মেরে জ্ঞ্যান ফিরিয়ে আনলো।
হৃদয়ঃ তুই না মরে গেছিস? তুই আবার আসলি কিভাবে?
অর্নবঃ ন্যাকা। আমি মরে গেছি আর তুই বুঝি বেচে আছিস?
হৃদয়ঃ আমি কি মরে গেছি?
অর্নবঃ হ্যা। মরে গেছেন। তাও আবার মশার কামড়ে। আচ্ছা মশার কামড়ে মানুষ মরে কিভাবে?
হৃদয়ঃ আরে বলিস না। পরতেছিলা। হটাত দেখি দুটো মশা কিছুক্ষণ একসাথে থেকে দুইদিকে হাটা ধরলো। আমি ভাবলাম হয়তো ঝগড়া করে ব্রেকাপ করেছে। তাই একসাথে আবার এনে বই এর উপর রাখলাম। আবার দুইদিকে ছুটছে। আবার একসাথে করলাম। এইভাবে কয়েকবার করার পর একসময় আমার হাতে চাপা পরে মারা গেলো দুটি মশা। আরেকটি উড়ে চলে গেলো। এরকিছুক্ষন পর একঝাক মশা উড়ে এলো। এবং সেখান থেকে একটি মশা আমার কানের কাছে এসে বললো আমি নাকি কিউপিড একজনকে মেরে ফেললাম।
অর্নবঃ এটা আবার কি দেবতা?
হৃদয়ঃ কিউপিড মশার আকৃতি নিয়ে থাকতো। তারা স্বামী স্ত্রী। এরাই প্রতি ভ্যালেন্টাইন ডে তে উড়ে উড়ে দেখে পছন্দ অনুযায়ী জুটিকে পার্থনা করে কামড়ে দিতো আর সেই জুটির মধ্যে ভালোবাসা স্মৃষ্টি হয়ে যেত। কিন্তু এখন আমি তো একজন কে মেরে ফেলেছি। তাই সে অন্য সব মশা এনে আমাকে কামড়ে দেয়। লক্ষাধিক মশার আক্রমন মনে হয় আমি সইতে পারিনি। তাই অক্কা পেয়েছি।
অর্নবঃ যাক ভালো হইছে। এখন থেকে তুই আমার সাথে আমাদের ভূত রাজ্য #কলংকপূরে থাকবি। ফাইনাল।
হৃদয়ঃ চল। তবে যাবার আগে শেষবার আমার লাশটাকে দেখে যাই।
হৃদয় আর অর্নব যায় লাশের কাছে। কত্ত মানুষ হৃদয়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। এসব দেখে হৃদয় আবার কান্না শুরু করে। অনেক মানুষের ভিড়ে অর্নবের চোখ পড়ে একটি জুটির উপর। একটি মেয়ে কাদছে আর তার জামাই রুমাল দিয়ে চোখ মুছে দিচ্ছে। আহ কি ভালোবাসা।
অর্নবঃ এই হৃদয় এদের চিনিস? এদের আমার সাথে নিয়ে যাবো। আমাদের রাজ্যে একটা সমস্যা হচ্ছে। এরাই পারবে সমাধান দিতে।
হৃদয়ঃ এটা ঝুম, আমার বান্ধুবী। আর ওর জামাই মামুন ভাই।
অর্নবঃ হবে। চল।
অর্নব ঝুম আর মামুনকে সিস্টেমে তার সাথে নিয়ে যায়। ফিরে মহারাজ রনির কাছে।
ঐদিকে পড়ি যে ছেলেকে ধরে নিয়ে আসে তার নাম জয়। জয়কে মহারানী তৃষা সব কিছু খুলে বলে। এরপর জয়কে বলে এর সমাধান দিতে।
জয়ঃ এরসমাধান এদের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। এরা ভূত জিবনে এসে হয়তো ভালোবাসা দেখেনি ভুতদের মধ্যে, হয়তো তাই তারা বুঝছে না কিভাবে ভালোবাসতে হবে।
রানী পড়িঃ বাহ! কি সুন্দর উক্তি।
মহারানী তৃষাঃ তাহলে এখন কি করতে হবে সেটা বলুন?
জয়ঃ আপনাদের ভূত জগতের এমন কোন পুরুষ আর মহিলার ভালোবাসা তৈরি করতে হবে যাদের ভালোবাসা দেখে এরা শিখবে। এমন জুড়ি হতে হবে যাদেরকে বাকি সবাই ফলো করে।
এরমধ্যে সেখানে এসে হাজির হয় রানী অধরা।
রানী অধরাঃ মহারানী তৃষা একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। অনুপ আর আদিত্য এক হয়ে পিশাচরানী নওমীর সাথে হাত মিলিয়েছে। ওরা এখন আপনার এবং মহারাজ রনির রাজ্য আক্রমন করবে।
মহারানী তৃষাঃ এখন উপায়? কবে করবে?
রানী অধরাঃ আগামীকাল ভ্যালেন্টাইন ডে। সেদিনই করবে।
মহারানী তৃষাঃ কত ইচ্ছে ছিলো এইবার ভ্যালেন্টাইন ডে ঐ ভালোবাসা দিবসে ভূতর‍্যাজ্যে থাকবে আনন্দ। ফুর্তি আর খুশির জোয়ার, সবাই একে অপরকে ভালোবাসবে। আর এখন কিনা যুদ্ধ করতে হবে?
রানী পড়িঃ এখন কি করা যায়? যেহেতু মহারাজ রনির রাজ্যেও আক্রমন করবে তাহলে আমাদের উচিৎ তার সাথে হাত মেলানো। তাহলে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হবে। আমরা সহজেই জয়লাভ করতে পারবো।
মহারানী তৃষাঃ অসম্ভব। ঐ খাটাশের সাথে এক হয়? কখনো না। আমি একাই যুদ্ধ করবো।

অলরেডি মহারাজ রনির কাছেও যুদ্ধের বার্তা চলে এসেছে। সেই খুব টেনশনে আছে এটি নিয়ে। আবার বুদ্ধি চায় তার প্রিয় বড়ভাই তাহমিদ এর কাছে। তাহমিদ তৃষার সাথে এক হয়ে কাজ করতে বলে। কিন্তু এখানেও রনি তৃষার মত আপত্তি জানায় এক হয়ে কাজ করার জন্য। সে নিজে একাই যুদ্ধ করবে বলে ঘোষনা দেয়।
পরের দিন, ১৪ ফেব্রুয়ারী। দুপুর ১২ টার দিকে সবাই হাজির হয় পলাশির কুরুক্ষেত্রে। এখানেই যুদ্ধ হবে। পাশাপাশি অবস্থান করছে রনি আর তৃষা ভূতসৈন্যদল নিয়ে। আর তাদের ঠিক ঐপাড়ে অবস্থান করছে নওমী, আদিত্য, অনুপের দল।
হৃদয় ভূত জগতে একেবাড়েই নতুন। তারমধ্যে মশার কামড়ের ব্যাথা এখনো কমেনি। যুদ্ধ দেখে খুব ভয় পাচ্ছে। তারপাশের ঝুম, মামুন আর অর্নব। হটাত হৃদয় চিৎকার দিয়ে উঠে।
হৃদয়ঃ মশা মশা মশা।
ঝুমঃ মশা মশা করে চিৎকার করছিস কেন? মশা দেখে এতো ভয়?
হৃদয়ঃ এই মশাই আমাকে খুন করেছে আর তুই বলছিস মশা দেখে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে। মর হারামী।
ঝুমঃ মরেছিই তো। তোর জন্য কাদতে কাদতে আমি স্ট্রোক করে মরে গেলাম। আমার মৃত্যু দেখে আমার বউ পাগল জামাই মামুনও স্ট্রোক করে মরে গেলো। এখন তুই আবার বলছিস মরতে?
হৃদয় পেছন দিকে দৌড় দেয়। মশাটিও ওর পেছনে আসতে থাকে। কাছে এসে কানে পাশে গিয়ে মশা বলে
মশাঃ আমি কি কিউপিড। ভয় পেও না। যদিও আমি আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু তোমার কথা শুনে আমার ভূল ভেংগেছে। তুমি ইচ্ছে করে আমাকে মারোনি। আচ্ছা এখন কাজের কথাই আসি। এই যুদ্ধ থামাতে হলে এখন ভালোবাসার প্রয়োজন। মহারাজ রনি এবং মহারানী তৃষার মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হলেই এই যুদ্ধ শান্তিতে পরিনত হবে।
হৃদয়ঃ কিন্তু এই দুজন তো একজন আরেকজনকে দেখতেই পারে না, আবার ভালোবাসা ?
কিউপিডঃ সেটার ব্যাবস্থা আমি করছি।
কিউপিড উড়ে গিয়ে মহারাজ রনির ঠোটে চুমু খায়, এরপর সেখান থেকে আবার উড়ে গিয়ে মহারানী তৃষার ঠোটে চুমু খায়। মহারাজ রনি এবং মহারানী তৃষা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এরপর বাংলা সিনেমার মত দুজন দুজনের দিকে দৌড় আসে। কাছাকাছি এসে আবার থেমে যায়। মহারানী তৃষা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে মহারাজ রনির বুকে ঝাপিয়ে পরে। মহারাজ রনি শক্তকরে চেপে ধরে মহারানী তৃষাকে। কপালে চুমু খায়।
এই সুন্দর দৃশ্য দেখে ভূত রাজ্যের বাকিরা মোহিত হয়। তাদের মনের ভিতর সুপ্ত ভালোভাসা আবার জেগে উঠে। বুঝতে পারে ভালোবাসা কি। সবাই অস্ত্র ফেলে দেয়। রাজা অনুপ, অদিত্য, নাজমুল ভুল বুঝতে পারে। যুদ্ধ থেকে সরে আসে। কিন্তু নওমী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। এরপর সবাই একহয়ে পিশাচিনি নওমী আর তার দলকে তাড়া দেয়। ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।
তাহমিদ আর পড়ি এসে মহারাজ রনি এবং মহারানী তৃষার বিয়ের ব্যাবস্থা করে। দুই রাজ্য সহ সকল রাজ্য এক হয়ে যায়।
সবাই মিলে খুব দ্রুত পুরো রাজ্য বর্নীল সাজে সাজায়। আজ মহারাজ এবং মহারানীর বিয়ে, সাথে ভালোবাসা দিবস। বিশাল আয়োজন। রাত ৮টায় বিশাল আয়োজন করা হয়। সেখানে বিয়ে হয়, হৈ হুল্লোড় হয়, ফুর্তি হয়। ভালোবাসা ভূত ভুতুরা পছন্দের ভুত ভূতুদের প্রেম নিবেদন করে। দুজন দুজনকে ভালোবাসতে পারবে মনে করলে তাড়া প্রেমের শপথে আবদ্ধ হয়। এভাবেই শুরু হয় ভূত নগর কলংকপুরে ভালোবাসা দিবসের উৎসব। সেই থেকে চলে আসছে, আজ অবধি চলছে।

ধন্যবাদ। সম্পুর্ন গল্পটিই কাল্পনিক। ভূল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। এবং সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ভৌতিক প্রেম প্রস্তাব


#ভৌতিক_প্রেম_প্রস্তাব
(অনুগল্প)
লেখাঃ MD Asadur Rahman – Shipon
কথা ছিল শীতের রাতে পায়ের উপর চাদর টেনে দেবো,
কথা ছিল ঝড়ের রাতে সজোরে আঁকড়ে ধরবো,
কথা সেসব কিছুই রাখা হল না,
কারণ আজ সে কথা অন্য কাউকে দিয়েছি ।
গত বসন্তে তোমার জন্য শহর খুঁজে পলাশ এনেছিলাম,
এই বসন্তে সব শুকনো ম্রিয়মান ।
ভেবেছিলাম চাতক পাখির মত মেঘের দিকে চেয়ে
একফোঁটা বৃষ্টির অপেক্ষায়
এমন এক গান লিখবো
যা শুধু তুমি শুনবে।
কিন্তু আজ কেন জানি গান লিখছি অন্যকারও জন্য ।
একযুগ ধরে অন্ধকারের হাত ধরে
আমি আর তুমি শুধু দেখলাম ।
কবিতা সাথে এক মগ চা না হলে কেমন জেনো জমে উঠে না। ফেসবুকে টুকটাক লেখালেখি করি। গুটিকয়েক ভক্তও জুটে গিয়েছে কপালে। তাদের জন্যেই এখন পর্যন্ত লেখালেখিটা চলছে।
কবিতা, চা আর ফেসবুক। তিনটিই একসাথে চালিয়ে যাচ্ছি। ফেসবুকে ম্যাসেজের রিপ্লে আর চায়ের কাপে চুমুক। ম্যাসেজের রিপ্লে দিতে হটাত খেয়াল করি একটি ম্যাসেজ নিচে আনরিড অবস্থায় পরে আছে। মায়াবিনী নন্দিনী নামের একটা ফেসবুক আইডি থেকে, ভাইয়া আপনার সাথে একটু কথা ছিলো।
আমি রিপ্লে দিলাম, জ্বি বলুন। ততক্ষনে অপরিচিতা নন্দিনী অফলাইনে চলে গিয়েছে। আমি কিছুক্ষণ বন্ধুদের সাথে দূরবার্তার মাধ্যমে আড্ডা দিয়ে বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পরি। ঘুম ভাংগে সন্ধ্যার বেশ পরে। ফ্রেস হয়ে চা করে দুটো টোষ্ট বিস্কিট নিয়ে সন্ধ্যার নাস্তা সেরে ফেলি। তারপর পিসি ওপেন করি। একটা গল্প লিখবো। নিখাদ ভালোবাসার গল্প। ভূত টূত তো অনেক হলো। লিখা শুরু করলাম। ওহ। এর আগে ব্যাক স্ক্রিনে ইউটিউবে আমার পছন্দের গান এবং ফেসবুকটা ওপেন ছিলো। লিখার মাঝখানে খেয়াল করলাম মায়াবিনী নন্দিনী টেক্সট করেছেন।
মায়াবিনী নন্দিনী ঃ ভাইয়া আপনার নাম্বারটি দেওয়া যাবে। ডিস্টার্ব করবো না। যাস্ট একবার কথা বলে কেটে দিবো। আর ফোন করবো না।
আমি রিপ্লেতে আমার নাম্বারটি দিয়ে দিলাম। তার আগে মায়াবিনী নন্দিনীর আইডীতে ঢুকলাম। প্রোফাইল চেক করলাম যে কোন ভাবে পরিচিত কিনা বা কে হতে পারে সেটা জানার জন্য। নাহ। কিছুই পেলাম না। নিজেকে নিজে কয়েকবার প্রশ্ন করলাম কে হতে পারে? কি বলতে চায়? এমন করে কেউ তো আগে কখনো কিছু বলতে চায়নি বা এভাবে ফোন নাম্বারও চায়নি।
সে আমার রিপ্লে সিন করেছে। কিন্তু সে আর রিপ্লে করছে না। ভাবলাম হয়তো ফোন করবে। অধীর আগ্রহ নিয়ে ফোনের অপেক্ষায় কিছুক্ষণ বসে রইলাম। লিখা আর কিছু মাথায় আসছিলো না। উঠে গিয়ে রান্নায় মোনযোগ দিলাম। নিজের রান্না নিজেকেই করতে হয়। রান্না বান্না শেষ করে আবার লেখায় ফিরে আসলাম ৩ পাতা লেখা শেষে ৪ পাতায় যাবো তখন ফোন টা বেজে উঠলো। অপরিচিত একটি নাম্বার। বুঝে নিলাম মায়াবিনী নন্দিনী ফোন করেছে। কল রিসিভ করে
আমিঃ হ্যালো।
ওপার থেকে মিষ্টি কন্ঠেঃ হ্যালো। দুপুর ভাইয়া বলছেন ?
আমিঃ জ্বি। কে বলছেন?
ওপার থেকেঃ আমি অনন্যা।
আমিঃ কোন অনন্যা?
অনন্যাঃ আপনি কতজন অনন্যাকে চেনেন?
আমিঃ বেশ কয়েকটা।
অনন্যাঃ শুনি কে কে।
আমিঃ সরি।
অনন্যাঃ বললাম কোন কোন অনন্যা কে চেনেন?
আমিঃ দেখুন আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। দয়াকরে আপনার পরিচয় দিন। আর পরিচয় ঠিক মত না দিতে চাইলে ফোন কেটে দিন। অযথা খেজুড়া আলাপ করার মত যথেষ্ট সময় আমার হাতে নেই।
অনন্যাঃ সরি ডিস্টার্ব করার জন্য। আমি অনন্যা, ফেসবুক আইডির নাম মায়াবিনী নন্দিনী। আচ্ছা ভাইয়া আপনি মনে হয় ব্যাস্ত। আমি পরে কোন একসময় ফোন দিবো। রাখি।
আমিঃ আরে না না। আগেই বললেই তো হতো যে আপনি মায়াবিনী নন্দিনী।
অনন্যাঃ আপনি কি আমার কলের অপেক্ষায় ছিলেন?
আমিঃ নাহ। এমন কেনো মনে হলো আপনার ?
অনন্যাঃ এই যে প্রথমে কিভাবে কথা বললেন তারপর মায়াবিনী নন্দিনী বলার পর স্বাভাবিক হলেন। তাই মনে হলো
আমিঃ নাহ! তেমন কিছু না। অযথা প্যাচাল আমার খুব একটা ভালো লাগে না।( মিথ্যে বললাম, আমি বেশির ভাগ সময়ই অযথা প্যাচাল পাড়ি)। আচ্ছা কি জেনো বলতে চাচ্ছিলেন আপনি।
অনন্যাঃ আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সে কথাগুলোওতো অযথা।
আমিঃ মানে?
অনন্যাঃ মানে হচ্ছে। বলবো?
আমিঃ উফ! জ্বি বলুন।
অনন্যাঃ গতকাল ভোড়ের দিকে আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি। অদ্ভুত একটা স্বপ্ন। আচ্ছা তার আগে আপনাকে বলে রাখি যে আমি আপনার লেখার অনেক বড় একজন ফ্যান। আপনার সব লেখাই আমার পড়া। কোন কোন লেখা কয়েক পড়া হয়েছে। #রোদেলা_কাব্য গল্পটা আমার পড়া এই পর্যন্ত ছোট গল্পের মধ্যে বেষ্ট। এরপর #একটি_মধ্যবিত্ত_ভৌতিক_গল্প এটিও অসাধারণ।
আমিঃ আপনি স্বপ্নে ফিরে আসুন। কি দেখলেন সেটি বলুন।
অনন্যাঃ জ্বি। আমি আমার রুমে সুয়ে আছি, কোল বালিশ জড়িয়ে। হটাত ঘুম ভেংগে গেলো। খেয়াল করলাম আমার রুম অসম্ভব সুন্দর গোলাপের সুঘ্রানে ভরে গেছে। প্রান ভরে নিঃশ্বাস নিলাম। অন্ধকার রুমে বা দিকের জানালার পাশে মৃদ আলো জ্বেলে উঠলো। ধোয়ার কুন্ডলী থেকে বেরিয়ে আসলো বিশালাকার এক লাল দৈত্য। আমি ভয়ে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু জানেন কোন কাজই হলো না, গলা দিয়ে এক বিন্দু শব্দ বের হলো না। দৈত্য তার হাতের ঈশারায় আমাকে শুন্যে ভাসিয়ে নিয়ে এলো বাইরে। বাইরে হরেক রুমের ফুল দিয়ে একটি পালকি সাজানো। দৈত্য তার ভরাট কন্ঠে বললো আমাকে সেই পালকিতে চরে বসতে। আমি জবাবে বললাম, আমাকে পালকি করে কোথায় নিয়ে যাবেন? কোন উত্তর দিলো না। আমিও নড়ছি না। অবশেষে লাল দৈত্যটি আবার তার হাতের ঈশারায় আমাকে শুন্যে ভাসিয়ে নিয়ে পালকিতে বসালো। তারপর পালকিটি একা একা শুন্যে উড়তে লাগলো। পেছনে পেছনে দৈত্যটিও আছে। উকি দিয়ে দেখলাম আরকি।
আমিঃ তারপর পালকিটি কোথায় নিয়ে গেলো আপনাকে?
অনন্যাঃ প্লিজ আমাকে বলার সময় ডিস্টার্ব করবেন না। বলতে দিন।
আমিঃ আমি তো জানি কেউ কোন গল্প বলার সময় মাঝে মাঝে প্রশ্ন করতে হয়। তাতে এর ধারাবাহিকতা থাকে।
অনন্যাঃ আমি মোটেও গল্প বলছি না, আমি স্বপ্নে যা দেখেছি তাই বলছি। আর হ্যা, আমি সবার মত না। আমি আমার মত বলতে পছন্দ করি।
আমিঃ আচ্ছা ভাই সরি, আপনি বলুন।
অনন্যাঃ অন্ধকার কেটে ভোড়ের আলো ফুটে গেছে। আমি উকি দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলাম মাঠা ঘাট, সবুজ গাছপালার উপর দিয়ে যাচ্ছি। নিশ্চয় এটা কোন গ্রাম। আমি বাইরে তাকিয়ে থাকলাম। প্রকৃতি দেখতে আমার ভালোই লাগছিলো। ভোড়ের গ্রাম বাংলা উপর থেকে দেখতে যে এতো সুন্দর সেটা আমার আগে জানাছিলো না।
আমিঃ যাক ভালোই, বিমান খরচ ছাড়া ফ্রিতে দেখে নিলেন।
অনন্যাঃ আবার?
আমিঃ অহ সরি।
অনন্যাঃ দূরে একটা বিশাল বাড়ি দেখা যাচ্ছে। পালকিটা ঠিক বাড়ির গেটের সামনে গিয়ে থামলো। পালকি থেকেই বরাবরের মত উকি দিয়ে দেখলাম বাড়িটিকে নানা রকম ফুল আর লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই কয়েকজন ফুলের ডালা নিয়ে আসে। আমাকে অতি আদরযত্নের সাথে পালকি থেকে নামায়। আমি অবাক হয়ে যাই। এদের মধ্যে আমার এবং আপনার আব্বু আম্মু সহ আমাদের দুজনের পরিবারের অনেকেই ছিলো।
আমি ঃ আপনি আমার বাবা মাকে কিভাবে চিনলেন? আপনি কি আমার পরিচিত?
অনন্যাঃ আচ্ছা আপনি এতো কথা বলেন কেনো? চুপ করে শুনুন।
আমিঃ জ্বি বলুন।
অনন্যাঃ আমাকে একটি রুমে নিয়ে গেলো। এরপর বউ এর সাজে আমাকে সাজানো হলো। জানেন অনেক সুন্দরী লাগছিলো আমাকে। আপনাকেও ।
আমিঃ আমিও ছিলাম আপনার স্বপ্নে?
অনন্যাঃ আপনি লাল একটি একটা শেরওয়ানী আর পাগড়ী পড়া ছিলেন। দেখতে কেমন জেনো ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত লাগছিলো। তবুও মেনে নিলাম। যাক বিয়ে তো হচ্ছে আমার। সবাই হাজির। এর মধ্যে হটাত একটা কালো দৈত্য এসে হাজির। সে আমাকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে গেলো। আমি চিৎকার করতে থাকলাম। এরপর দেখি আম্মু এসে আমাকে জরিয়ে ধরে আছে। স্বপ্নটা এখানেই শেষ। এখন আপনি বলুন এর মানে কি?
আমিঃ এটা কি স্বপ্ন ছিল নাকি কোন গল্প? নাকি আজ প্রোপজাল ডে তে আপনি আমাকে প্রপোজ করছেন?
অনন্যাঃ দেখুন একটু বেশি এডভ্যান্স হবেন না। আমার বিএফ আছে। যাস্ট স্বপ্নটা দেখলাম তাই আস্ক করলাম।
আমিঃ আমাকেই নিয়ে দেখলেন কেনো?
অনন্যাঃ আজিব কথাবার্তা। আমি যদি জানতাম তাহলে কি এই ২৭ মিনিট ফোনের টাকা খরচ করে আপনার কাছে এর মানে জানতে চাইতাম?
আমিঃ ওহ আপনি এর মধ্যে দেখেও ফেলেছেন যে ২৭ মিনিট হয়ে গেছে।
অনন্যাঃ দেখেন আমিও অন্যান্য মেয়েদের মত কঞ্জুস টাইপের। নিজের টাকা খরচ করে বেশি কথা বলতে পারবো না। আমি কেনো এই রকম স্বপ্ন দেখলাম সেটা বলুন।
আমিঃ আপনি বলেছেন আপনি আমার প্রায় সব গল্প পরেছেন। আমার গল্প আপনার ভালো লাগে। আপনি সেখান থেকে নিজের মধ্যে আমাকে নিয়ে হয়তো ভেবেছেন। কোন এক ভাবার সময়ে কিছু সময়ের জন্য হয়তো আমাকে আপনার ভালো লেগেছলো। আমাকে নিয়ে হয়তো আপনি এমনটা কল্পনা করেছিলেন। তাই স্বপ্নে সেটাই দেখেছেন। আমরা জেগে থেকে যা ভাবি, করি, কল্পনা করি, দেখি তাই স্বপ্নে সিনেমার মত সামনে আসে।
অনন্যাঃ কালো দৈত্যটা তাহলে আমাকে নিয়ে গেলো কেনো?
আমিঃ কারন আমাদের মধ্যে বিয়ে সম্ভব নয়। আপনার বিএফ আছে, হয়তো সেই কালো দৈত্যটিই আপনার বিএফ।
অনন্যাঃ ওকে নিয়ে এভাবে বলবেন না। কষ্ট লাগে আমার।
আমিঃ হাহাহাহা। আপনি আসলেই কি চাচ্ছেন সেটা আপনি নিজেই জানেন না।
অনন্যাঃ এখন আমি কি করবো? আমার কেনো জেনো মনে হচ্ছে কালো দৈত্যটা না আসলেই ভালো হতো।
আমিঃ হাহাহাহাহা। শুনুন, আপনি আবেগে আছেন। আবেগ কে দূরে সরিয়ে ফেলে বিএফকে সময় দিন। সে আপনাকে যথেষ্ট পরিমান ভালোবাসে আর তাই কালো দৈত্য হয়ে এলোও সে এসে আপনাকে তার করে নিয়েছে।
অনন্যাঃ ধুরঃ তাহলে আমার স্বপ্নটা কি
আমিঃ আপনার স্বপ্নটা একটি ভৌতিক প্রেম প্রস্তাব।
অনন্যাঃ হাহাহাহা । দারুন নাম দিয়েছেন।
সেদিন অনন্যার সাথে আমার ১৯৭ মিনিট কথা হয়েছিলো। দিনটি ছিলো প্রপোজাল ডে। সারাদিনের চাপা একটি কষ্ট মনে ছিলো যে কেউ আমাকে প্রপোজ করলো না। দিনে শেষ সময়ে অনন্যার এই অদ্ভুদ এই ভৌতিক প্রেম প্রস্তাব আমার মনের কষ্টটা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। সেই দিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত অনন্যার সাথে আর কথা হয়নি।
সমাপ্ত।

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

স্পষ্ট অন্ধকার আলোয় যেন কেউ দাঁড়িয়ে।
বাস্তবের অদৃশ্য চাঁদর গায়ে মুরিয়ে।।
হাঁটছে হেলে-দুলে আপন ভঙ্গিতে।
মানুষ না ভূত এবোঝা দায়।।
আমি ডাকলাম শুনছেন কে আপনি?না!
নাই সাড়া,নাই দেখা চলে নিরবতায়।।
ধীর-স্থির কখনো বা গতিতে তার পথ।
পথের যেমন নেই ক্লান্তি,নেই তার শেষ।।
তাহাকেও দেখে মনে হয় চিরন্তন তাহার রেস।
সূর্য উঠিলে হয় সকাল,ডুবিলে হয় রাত্রি।।
তাহার উদয় সদয় থাকে,থাক-সে দিন-রাত্রি।
থাক আর পারিনা তাহার সাথে চলতে।
বাধ্য হলাম মেনে নিতে তাহার
ছত্র-ছায়ায় থাকতে।।
কঠোর,কঠিন,পাষাণ বিবেকহীন তার যাত্রা।
তাঁহার কাছে আমি এক অতি
নগণ্য মানব মাত্রা।।
তবুও আমি রহিলাম সেথায় লক্ষ্যয়িত চিত্তে।
শুন্যতার গণ্ডি পেরিয়ে
তোমার ছায়ার সাথে চলতে।।

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

টুকিপুকি



#টুকিপুকি
(মনের কোনে লুকিয়ে থাকা ভয়ের গল্প)
লেখাঃ MD Asadur Rahman - Shipon

তখন ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি। সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা নিষেধ ছিলো। বিকেলে মাঠে খেলা শেষে মাগরিবের আজানের পর মসজিদে গিয়ে নামাজ পরি। নামাজ শেষে বের হবার সময় মসিজিদে তাবলিগে আসা লোকদের অনুরোধে তাদের সাথে বসি। কথায় কথায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে যাচ্ছে। যখন মনে পরলো ঠিক উঠে দৌড় দিলাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার রাস্তায় আসলাম। চারিদিকে অন্ধকার। একা আমি এখানে। ভয় লাগছে। আমি ছোট থেকেই খুব ভীতু। ভূত, কুকুর, সাপ এই তিনের ভয় মাথায় চেপেছে একসাথে। সেই সাথে আব্বুর গুতানির ভয়। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, নিশ্চিত আজ বাসায় আব্বুর গুতানি আর আম্মু বকুনি। ভূত, কুকুর আর সাপের ভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চললাম। ছোট ছোট পায়ে হাটছি আর কালেমা পরছি। কিছুদুর আগানোর পর হটাত একজোড়া চোখের দিকে আমার চোখ পরলো। অন্ধকারে চোখ ছাড়া আর কিছু দেখতে পেলাম না। সামনে এগিয়ে আসছে চোখ জোড়া। ...............
চোখ জোড়া এগিয়ে আসছে আমার দিকে, আমি পেছন দিকে দৌড় শুরু করি। দৌড়াচ্ছি তো দৌড়াচ্ছি। মাঠ দিয়ে, রাস্তা দিয়ে, গাছের পর গাছে পেরিয়ে, এমনকি পুকুর নদীও সাতরে পার হই। দৌড়াচ্ছি হটাত কিছু একটা সাথে আমার পা আটকে পরে যাই। চোখ খুলে নিজেকে আবিস্কার করি নিজের রুমে। আমার চারপাশে আমার বাড়ি সহ গ্রামের অনেকেই। বুঝতে পারলাম সেখানেই জ্ঞ্যান হাড়িয়ে পরে গিয়েছিলাম। জ্ঞ্যান হারালে আমি সব সময় কল্পনায় দৌড়ের উপর থাকি। ছোট সময়ে বেশ কয়েকবার জ্ঞ্যান হারিয়েছিলাম, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। যাই হোক, চোখ দুটো হয়তো কোন কুকুর বা বিড়াল বা শেয়ালের হবে। সেটিকেই ভূত ভেবে ভয়ে জ্ঞ্যান হারিয়েছিলাম।
আরেকবার পারিবারিক বনভোজনে বর্ষাকালে ট্রলার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আড়িয়াল বিলে। ফেরার জন্য রওনা দিতে দিতে রাত হয়ে যায়। ট্রলা্রের ইঞ্জিন মাঝপথে নষ্ট হয়ে যায়। শুরু হয় আমার ভয় পাওয়া। সেই ভয়ে আরো ছাই দিয়ে দেয় আমার ফুপা। এই বিলে নাকি কুমীর। আমি ভয়ে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থা। এখানে আরো কিছু কথোপকথন আছে যেগুলা বলা যাবে না, স্কিপ করে গেলাম। বেশি লজ্জা পেতে চাই না।
আরেকটা জিনিষ ভয় পেতাম। সরি, আরেকটা হবে না হবে একজন। তাকে দেখলে ভয়ে আমার হাত পা কাপতো। যখন প্রাইমারি স্কুলে ছিলাম তখন প্রায় প্রতিদিনই তাকে দেখতাম। স্কুলে যাওয়ার সময়, আসার সময়, ক্লাসের ফাকে। তার সামনাসামনি পরলেই আমার বুক ধরফর ধরফর করতো, হাত পাও কাপতো। তবুও বারবার এবং বারবার তাকে দেখতে ইচ্ছে করতো। আর তাইতো স্কুলের পরেও বিকেলে তার কোচিং এ যাওয়ার রাস্তার পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকতাম।
ক্লাস নাইনের সময়ের ঘটনা। সেই ভয় আর বারবার দেখতে চাবার ইচ্ছেটা ভালোবাসায় রুপান্তরিত হয়। কিন্তু ঐযে ভয়, সেই ভয়ে কখনো সামনে গিয়ে ভালোবাসার কথা বলার সুজোগ হয়ে উঠেনি।
একদিন স্কুল থেকে আসছি। বন্ধুরা আমার পেছনে। তারা বারবার আমাকে সাহস দিচ্ছে আমার ভালোবাসার কথা রোদেলাকে বলার জন্য। ওহ ভালোমত পরিচয় দেওয়া হয়নি। আমি দুপুর, আর যাকে নিয়ে আমার আজকের গল্প তার নাম রোদেলা।
পিছু পিছু হাটছি। হটাত সিনেমেটিক কায়দায় বৃষ্টি শুরু। সবাই সবার ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে মাথায় দেয়। বন্ধুদের কাছেও ছাতা আছে সুধু নেই আমার হাতে। আসলেই আজ আমি ব্যাগ নিয়েই আসিনি। ভিজে যাচ্ছি আমি, সামনে রোদেলার আর তার বান্ধুবী দুজনের হাতেই ছাতা। আমার ভিজতে ভালোই লাগছিলো। হাটতে হাটতে রোদেলা হটাত দাঁড়িয়ে পরে। পেছন ফিরে আমার দিকে আসতে থাকে। আমার তো ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো। কোন রকম নিজেকে কন্ট্রোল করে দাঁড়িয়ে ছিলাম আরকি।
রোদেলা আমার সামনে এসে তার ছাতাটি এগিয়ে দেয় আমার দিকে। আমি হা করে তাকিয়ে আছি। সে আমার উপর ছাতাটা ছুড়ে দিয়ে দৌড়ে তার বান্ধবীর ছাতার নিচে আশ্রয় নেয়। একটুপর পর পেছনে তাকায়, আর আমার বুক ধরফর ধরফর করে। সেই দিন অন্যরকম একটা সুখ অনুভব করেছিলাম। সারারাত ঘুম হয়নি। সেই ছাতাটি আজ ১০ বছর পর এখনো আমার কাছে আছে। স্বযত্নে রেখে দিয়েছি।
রোদেলার সাথে আমার সমুক্ষে কথা আমার খুব কমই হয়েছে। তবুও যতটুকু হয়েছে তার প্রতিটি সেকেন্ড আমার কল্পনায় এখনো স্পষ্ট। প্রায় ১০ বছর হয় তাকে দেখিনা। সেই বুকের মধ্যে ধড়ফড়ানি সুখটা এখন আর পাই না। কোন এক অনাকাংক্ষিত দূর্ঘটনা, বন্ধুদের ষড়যন্ত্র বা বেঈমানী ১০ বছর আগেই আমাদের দুজনকে আলাদা করে দিয়েছে। ভালোবাসা ছিলো কিন্তু সম্পর্কের পুষ্পটি পুস্ফটিত হওয়ার অংকুরে বিনষ্ট হয়েছে।
১০ বছর। অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। আমার জীবন অনেক চরাই উৎরায় পার করে কোন এক দিগন্তের খোজে এক নব দরজার সামনে। তার জীবন কেমন চলছে সেই খোজ আমার জানা নেই। জানতে চাইনি এমনটি না, সুজোগ পাইনি।

ধানমন্ডি লেক দিয়ে হেটে চলছে দুপুর। আর নিজের মনে মনে এই গল্পটি আওরাচ্ছে। নতুন একটি গল্প লিখছে সে। গল্পের নাম ঠিক আগেই করা হয়েছে। গল্পের নাম টুকিপুকি। কিন্তু গল্পের প্রেক্ষাপট বা রস এখনো ঠিক হয়নি। তাই রবিন্দ্র সরবরের দিকে যাচ্ছে সে। জায়গাটা খুব পছন্দের দুপুরের। রাইটিং ব্লকে পরলে এখানে সে আসে, দুই একটা সিগারেট খায়, চা খায়, পকেটে টাকা থাকলে গরুর চাপ আর লুচি খায়। এই সব করতে করতে কিছু একটা পেয়ে যায়।
“টুকিপুকি” কি এক অদ্ভুদ নাম। এই নামে কি গল্প লিখবে সেটা নিয়েই ভাবছিলো। কিছুটা লিখেছেও যেটা উপরে আপনারা পরেছেন।
দুপুর হাটছে, হটাত খেয়াল করলো তার বুকের মধ্যে কেমন জেনো লাগছে। ধরফর ধরফর করছে। হাত পাও কাপছে। কিন্তু এমন হচ্ছে কেনো?
দুপুর এক পাশে বসে পরে। সামনে দিয়ে হেটে যাওয়া হকারের কাছ থেকে এক বোতল পানি কিনে খায়, হয়তো শারীরিক কোন অসুস্থতা। কিন্তু কাজ হয়নি। ধিরে ধিরে কম্পনটা বেড়ে যাচ্ছে।
হচ্ছেটা কি আমার? হাত পা এমন করে কাপছে কেনো? ভয় লাগছে খুব।
পেছন থেকে কেউ একজন এসে,
কোন একজনঃ কেমন আছো তুমি?
দুপুর সামনে পেছন ফিরে তাকায়,
দুপুরঃ ভালো, আপনি কে?
কোন একজনঃ আমাকে চিনতে পারো নি? অবশ্য অনেকদিন পর দেখা।
দুপুরঃ হ্যা চিনতে পারিনি।
কোন একজনঃ তুমি কাপছো কেনো? ঘেমেও গেছো
দুপুরঃ জানিনা কেনো হটাত করে এমন হচ্ছে। কিন্তু তুমি কে? আমি তো চিনতে পারছি না। আর তুমি আমাকে তুমি করেও বলছো।
সে এক মন ভোলানা হাসি দেয়। হাসিটা দুপুরের মনে গেথে যায়।
দুপুরঃ (নিচু কন্ঠে) কে তুমি?
কোন একজনঃ আমি রোদেলা।
দুপুরঃ ধুর। তুমি নিশ্চয় আমার গল্প পরো। আর তাই
কোন একজনঃ তুমি গল্পও লেখো নাকি? আচ্ছা মনে আছে যখন মাদ্রাসায় পরতাম তখন তুমি একবার একটা কবিতা লিখেছিলে। আমাকে দিয়েছিলে। মনে আছে?
দুপুরঃ অহ তুমি? আমি তো ভূলেই গিয়েছিলাম তোমার কথা। কেমন আছো তুমি?
রোদেলাঃ যাক এখন মনে পরেছে তাহলে। আমি ভালো আছি। তবে কষ্ট পেয়েছি যে তুমি আমাকে ভূলে গিয়েছো।
দুপুরঃ আসলে অনেক ঝামেলায় ছিলাম তো। আর অনেক দিন দেখা হয়না, কথা হয় না।
রোদেলাঃ হুম। সেই ঘটনার পর আজই প্রথম দেখলাম তোমাকে। অনেক বদলে গেছো।
দুপুরঃ এখন বুঝতে পারছি যে বুকের ভিতর ধড়ফড়ানি আর হাতপা কাপাকাপির রশস্যটা।
রোদেলাঃ এখনো কাপছে। তুমি ছোট সময়েও আমাকে দেখে এভাবে কাপতে। কথা বলতে পারতে না। এখন তাও কথা বলছো।
দুপুরঃ যাক, কেমন আছো তুমি?
রোদেলাঃ খুব ভালো। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে এখন একটা ফার্মে জব করছি। তুমি?
দুপুরঃ বেকার সাথে সখের ফটোগ্রাফার। পড়ালেখা করিনি।
রোদেলাঃ খুবই বাজে একটা কাজ করছো। আচ্ছা শুনো,
দুপুরঃ কি?
রোদেলাঃ তোমাকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি। এক্সেপ্ট কইরো।
দুপুরঃ আচ্ছা। কি নাম আইডির?
রোদেলাঃ TukiPuki.
দুপুরঃ বাহ! সুন্দর নামতো। টুকিপুকি।
রোদেলাঃ হুম। তুমি আমাকে একবার এই নামে ডেকেছিলে।
দুপুরঃ আমি? কবে মনে নেই।
রোদেলাঃ মনে না থাকারই কথা। আচ্ছা আসি এখন তাহলে। ভালো থেকো।
দুপুরঃ আল্লাহ হাফেজ।
রোদেলা চলে যায়। কিছুদুর সামনে গিয়ে পেছনে দুপুরের দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দেয়।
দুপুরের খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো রোদেলাকে যে তাকে খুব সুন্দরী লাগছে। কিছুক্ষন তার রুপের প্রশংসা করতে পারলে ভালো লাগতো কিন্তু ভয়। ভয়, যদি রোদেলা মাইন্ড করে। বলা হলো না।
দুপুর খেয়াল করলো ঘটনার কিছুটা তার কাল্পনিক গল্পের সাথে মিলে যাচ্ছে। আসলে গল্প তার এই ঘটনার সাথে মিলছে নাকি অনেক আগের সেই ঘটনা গল্প লিখতে গিয়ে কল্পনায় এসেছে যেটা দুপুর ধরতে পারেনি।
দুপুর দুই শলকা সিগারেট পুরিয়ে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে বাসায় ফিরে। ফ্রেস হয়ে রেস্ট নিয়ে পিসি ওপেন করে ফেসবুকে বসে। রোদেলার আইডি টুকিপুকি খুজে বের করে রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে। কিছুখন ফেসবুক ঘাটাঘাটি করে সুয়ে পরে। কেনো জানি রাজ্যের সব ঘুম তার চোখে এসে জমেছে। ঘুমিয়ে পরেছে। স্বপ্নে সে চলে গেছে কোন এক সমুদ্র সৈকতে। বিচে দাঁড়িয়ে আছে, গৌধুলী সন্ধ্যা, সমুদ্রের ঢেউ এর গর্জন, মৃদ বাতাস। পেছন থেকে রোদেলা এসে দুপুরের হাত ধরে।
রোদেলাঃ চলো আমরা পানিতে হাটি, ঢেউ এর গর্জন আরো কাছ থেকে শুনি।
দুপুর রোদেলার হাতটা শক্ত করে ধরে পাশাপাশি হেটে সমুদ্রে নামে। কিছুটা সামনে এগিয়ে যায়। হাটু পর্যন্ত পানিতে নেমে সুম্রদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে। রোদেলা দুপুরের কাধে মাথা রাখে। ছোট ছোট করে ডেউ এসে তাদের ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। অসম্ভব সুন্দর, রোমান্টিক একটা মুহুর্ত। হটাত বড় একটা ঢেউ এসে উপচে পড়ে তাদের উপর। ঘুম ভেংগে যায় দুপুরে। হৃদয়, দুপুরের ভাগিনা। সে এক বালতি পানি দুপুরের উপর ঢেলে দিয়ে দুপুরের ঘুম ভাংগায়।
হৃদয়ঃ মামা তুমি খাবান? না খেয়ে ঘুমিয়ে পরলা যে।
দুপুরঃ গাধা কোথাকার। ডাক দিলেই তো হতো, এভাবে ভিজিয়ে দিতে হয়।
হৃদয়ঃ ডাকছি তো, তুমিতো উঠো না। তাই সালাউদ্দিন মামা বললো ভিজিয়ে দিতে। আর কে জেনো তোমাকে ম্যাসেঞ্জারে কল দিচ্ছে সেই কখন থেকে।
দুপুর মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে টুকিপুকি আইডি থেকে ম্যাসেজ আর কল। কিছুখন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর মোবাইল রেখে ফ্রেস হয়ে ডিনার শেষ করে আসে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে টুকিপুকি আইডি থেকে আবার ম্যাসেজ।
Tukipuki: ki holo, seen kore reply diccho na je.
দুপুর রিপ্লে দেয় যে সে ঘুমিয়ে পরেছিলো। কিছুখন পর রোদেলার রিপ্লে দেয়।
রোদেলাঃ আমিও ঘুমিয়ে পরেছিলাম। আর জানো কি হইছে?
দুপুরঃ নাহ। কি হইছে?
রোদেলাঃ আমি তোমাকে স্বপে দেখেছি।
দুপুরঃ আমাকে স্বপ্নে দেখেছো? বাহ! তা কি দেখলে আমাকে?
রোদেলাঃ আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হটাত চোখ পরলো একটা মোবাইল রিচার্জের দোকানে। সেখানে তুমি বসে ছিলে। আমার রিচার্জের প্রয়োজন না থাকা স্বত্তেও আমি দোকানে গেলাম। তোমাকে বললাম যে বাংলালিংক কার্ড আছে। তুমি বললে, হ্যা। আমি এমন ভাব করেছিলাম যে আমি তোমাকে না দেখেই দোকানে আসছি। আর তুমি যখন আমার দিকে তাকালে আমি লজ্জায় একদম আধমরা। পেছন ফিরে দৌড় দিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে আসলাম। আর পিছু পিছু তুমি আসলে যেমন করে স্কুলে থাকা সময় আসতে। কিছুদুর যাওয়ার পর দেখলাম আমার বড় ভাই সামনে। আমি হাত দিয়ে ইশারা বুঝাতে চাচ্ছিলাম যে প্লিজ তুমি আর সামনে এসো না। কিন্তু তুমি দুষ্ট টুকিপুকিটা একদম কাছে চলে আসলে আর ভয়ে আমার ঘুম ভেংগে গেলো। হাহাহাহাহাহহাহাহাহা।
দুপুরেরও ইচ্ছে করছিলো তার স্বপ্নের কথা রোদেলাকে শোনানর, কিন্তু হয়তো রোদেলা ভাববে দুপুর তার স্বপ্নের কথা শুনে নকল করে এখন নিজের স্বপ্নের গল্প বানাচ্ছে, সেই ভয়ে আর দুপুরের স্বপ্নের কথা বলে উঠা হয়নি।
দুপুরঃ স্বপ্নটা সুন্দর ছিলো। আচ্ছা তুমি আমাকে টুকিপুকি বললে?
রোদেলাঃ (নিচু মিষ্টি কন্ঠে ধিরে) তুমি তো আমাকে বলো না। (দ্রুত করে) তাই আমিই তোমাকে বলি।
দুপুরঃ আচ্ছা এখন থেকে টুকিপুকি বলে ডাকবো।
রোদেলাঃ চুপ করো।
দুপুরঃ চুপ থাকবো?
রোদেলাঃ (নিচু মিষ্টি কন্ঠে ধিরে) নাহ। কথা বলো।
দুপুরঃ খাইছো?
রোদেলাঃ নাহ, ভুলেই গিয়েছিলাম খাওয়ার কথা। তুমি খাইছো।
দুপুরঃ হ্যা। যাও তুমি খেয়ে আসো।
রোদেলাঃ আচ্ছা। আর তুমি ঘুমিয়ে পরো। অনেক রাত হয়েছে।
দুপুরঃ আচ্ছা। তুমিও খেয়ে ঘুমিয়ে পরো।
রোদেলাঃ শুভ রাত্রী।
সেদিনের মত দুপুর আর রোদেলার কথা এখানেই শেষ হয়। সে রাত্রে দুপুরের আর ঘুম হয়নি। সারারাত রোদেলার সাথে তার ছোট সময়ের স্মৃতি গুলো কল্পনা করেছে। কতটাই না পাগল ছিলো দুপুর এই মিষ্টি মেয়েটির জন্য। কত কিছু করেছে সে, বকাঝকা খেয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু
এরপর থেকে দুপুর আর রোদেলার অনেক কথা হয়। ম্যাসেঞ্জারে, ফোন কলে এমনকি তারা দেখাও করে।
একদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কথা বলে। ভোরে দিকে এসে রোদেলা বলে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। দুপুর মজা করে বলে আমি এখন লেকে হাটতে যাবো তুমি চলে আসো তাহলে। রোদেলা আচ্ছা বলে ফোন কেটে দেয়। দুপুর এর পর কয়েকবার ফোন দিয়েও রোদেলাকে পায় না। প্রতিদিনের মত হাটতে বের হয়। ধানমন্ডি লেক থেকে রবিন্দ্র সরবরে পৌছতে না পৌছতে পেছন থেকে এসে রোদেলা হাজির। লাল রঙের একটা শাড়ি পরে এসেছে।
দুপুরঃ তুমি সত্যি সত্যি চলে এসেছ?
রোদেলাঃ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো।
দুপুরঃ হাতে কি?
রোদেলাঃ তোমার জন্য চকলেট আর পায়েশ।
এরপর দুজনে একসাথে অনেকখন হাটে। দুপুরের ইচ্ছে করছিলো পুরো দুনিয়াটাকে কিছুক্ষনের জন্য ফ্রিজ করে রাখি। তারপর রোদেলার সামনে গিয়ে ওর দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে ওকে মন ভরে দেখি। কিন্তু সেটি তো আর সম্ভব না। কিন্তু ওর দিকে তাকিয়ে থাকাও দুপুরের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। অনেক বেশি সুন্দরী লাগছে টুকিপুকিটাকে। চোখে কাজলও দিয়েছে। ছোট সময়ে মাদ্রাসায় পড়ার সময় যেভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে রোদেলাকে দেখতো এখনো ভয়ে ভয়ে সেইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে রোদেলাকে দুপুর।
দুজনে একসাথে নাস্তা করে যে যার মত চলে যায়। বাসায় গিয়ে ফ্রি হয়ে আবার কথা শুরু করে। এভাবে বেশ কিছুদিন চলে তাদের বন্ধুত্ব। কথা হয় দেখা হয় অনেক অনেক প্ল্যান করা হয় কিন্তু সম্পর্কটা অন্যকোন দিকে মোর নেয় না যদিও দুজন দুজনকে ভালোবাসে। এক পবিত্র ভালোবাসা দুজনের মধ্যেই আছে।
একদিন হটাত রোদেলা দুপুরকে ফোনে কল দেয়। রোদেলা জানায় তার বাসা থেকে তার বিয়ে ঠিক করেছে। কথাটি বলার সাথে সাথেই রোদেলা কেদে দেয়। কিছুক্ষণ কান্না করে ফোন কেটে দেয়। দুপুর কল ব্যাক করলেও রোদেলা রিসিভ করেনা। অনেক বার কল দেয় দুপুর আর প্রতিবারই রোদেলা কল কেটে দেয়। একসময় রোদেলা ফোন বন্ধ করে রাখে।
দুপুর মূলত কল দিচ্ছিলো রোদেলাকে বলার জন্য যে সে তাকে ভালোবাসে, বিয়ে করে নিজের করে পেতে চায় রোদেলাকে। ভয় কাটিয়ে এইটুকু সাহস সে জোগাড় করেছিলো। কিন্তু রোদেলার বার বার ফোন কেটে দেওয়া আর পরে ফোন বন্ধ করে দেওয়া দুপুরের মধ্যে আবার ভয় সৃষ্টি করে। রোদেলা তাকে হয়তো ভালোবাসে না। ভালোবাসলে অবশ্যই শুনতে চাইতো যে দুপুর কেনো ফোন দিচ্ছে।
এরপর আর সাহশ করে দুপুর কখনো বলতে পারেনি যে সে রোদেলাকে ভালোবাসে, অনেক বেশি ভালোবাসে। রোদেলা যদিও পরে ফোন করে বলেছিলো সেদিন কেনো সে বারবার ফোন দিয়েছিলো। তবে দুপুর এবার আর তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বলতে পারেনি তোমায় ভালোবাসি টুকিপুকি।
রোদেলা দুপুরকে বিয়েতে দাওয়াত করে। দুপুর বিয়েতে যায় না তবে একটা গিফটবক্স ঠিকই পাঠায়, যেখানে ছিলো এই ১১ বছরের সব স্মৃতি আর ভালোবাসা।
লাল বেনারশী শাড়ি, লাল চুড়ি, কাজল কালো চোখ, অলংকারে অলংকিত রোদেলা নিজের সামনে অন্যের হয়ে যাবে সেই দৃশ্য দেখতে হবে এই ভয়ে আর বিয়েতে যাওয়া হয় না। তবে অপেক্ষায় ছিলো দুপুর সে ভয় কাটিয়ে ভালোবাসার কথা রোদেলাকে বলতে পারেনি হয়তো রোদেলা পারবে ভয়কাটাতে। ভয় কাটিয়ে সাহস নিয়ে হয়তো রোদেলা চলে আসবে দুপুরের কাছে। কিন্তু রোদেলাও পারেনি ভয় কাটিয়ে উঠতে। মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা ভয়ে দুজনে আলাদা হয়ে যায় সারা জীবনের জন্য। হয়তো আর কোনদিন দেখাও হবে না, কথাও হবে না। কেউ কাউকে হয়তো টুকিপুকি বলে ডাকাও হবে না।

সমাপ্ত
( পুরো গল্পটাই আমার কল্পনা । এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই )

আমার লেখা আরো গল্প পরতে চাইলে আমার পেইজ টি লাইক দিতে পারেন ।
https://www.facebook.com/arshipon15/ 

রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

ভুগিচুগি


#ভুগিচুগি
(গল্প নয়, নেহাত ফাইজলামী)
লেখাঃ MD Asadur Rahman - Shipon

সালাউদ্দিন আজ মহাখুশি। অল্প খরচে বেশ ভালো একটা বাসা পেয়েছে সে। ৪ রুম, ড্রয়িং রুম, ডাইনিং রুম, কিচেন, ৩টা টয়লেট আর ২ পাশে দুইটা বিশাল বারান্দা। ভাড়া মাত্র ৩০০০০ হাজার। ধানমন্ডি এলাকায় ৩০০০০ টাকায় এই রকম বাসা পাওয়া কল্পনাও করা যায় না।
পৃথিবীতে নানান ধরনের মানুষ আছে, আছে হরেক চরিত্রের মানুষ। কিন্তু সালাউদ্দিন আসলে কোন ধরন বা কোন চরিত্রের সেটা বুঝে উঠা মুশকিল।
সালাউদ্দিনের সাথে আমার পরিচয় কলেজ জীবনে। একসাথে করে বাসে যাওয়া আসা। বাসের ভাড়া আমরা স্টুডেন্টসরা দুইটাকা করে দিতাম। দেখা যেত একসাথে বাসে আমরা ১০/১৫ জন করে যাতায়াত করতাম। যে যেদিন ভাড়া দিতো বাসের সব স্টুডেন্টস দের ভাড়া সে একা দিতো। ঘুরে ফিরে আমরা সবাই একেকদিন ভাড়া দিতাম সুধু দিতো না সালাউদ্দিন। ধরুন ক্লাস শেষে আমরা সবাই টিউশনিতে গেলাম, সালাউদ্দিনের টিউশনি নেই। সে চাইলেই একা চলে যেতে পারে বাসায় কিন্তু দুই টাকা বাচানোর জন্য সে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতো। একদিন সালাউদ্দিনকে দিয়ে ভাড়া দেওয়ানোর জন্য আমরা সবাই একটা নাটক করি। হেলপারকে আগেই বলে রাখি আজ আমাদের কারো কাছে ভাড়া চাইবে না, ওর কাছে চাইবে।
হেলপারঃ (সালাউদ্দিনকে উদ্যেশ্য করে) ভাইয়া ভাড়া দেন।
সালাউদ্দিনঃ পরে।
কিছুখন পরে........................
হেলপারঃ ভাইয়া ভাড়া দেন।
সালাউদ্দিনঃ পরে,
হেলপারঃ আর কত পরে? চলে আসলেন তো প্রায়
সালাউদ্দিনঃ অন্য সবার কাছ থেকে নিয়ে আসো তারপর।
হেলপারঃ অন্যসবাই পরে দিবে। আপনারটা দিন।
সালাউদ্দিন কিছুখন আমাদের দিকে ঘুরে ফিরে তাকায়। তারপর পকেটে হাত দিয়ে কিছুখন চোখবুজে নাড়াচাড়া করে। অতঃপর পকেট থেকে দুটো একটাকার কয়েন বের করে হেলপারের হাতে গুজে দিয়ে বলে।
সালাউদ্দিনঃ এই নেন আপনার ভাড়া।
হেলপারঃ এইটা কি দিলেন?
সালাউদ্দিনঃ কি দিলাম মানে?
হেলপারঃ আর সবারটা দেন।
সালাউদ্দিনঃ সবারটা আমি দিতে যাবো কেনো? আমারটা আমি দিছি।
হেলপারঃ প্রতিদিন তো সবাই আপনারটা দেয়।
সালাউদ্দিনঃ আমি কি কাউকে বলছি আমারটা দিতে। যান এখান থেকে।
এরপর থেকে আমরা সব সময় সালাউদ্দিনকে ছাড়া ভাড়া দিতাম।
কলেজ লাইফ শেষে ঢাকা এসে ভর্তি হই। পাশাপাশি ছোট একটা চাকরি। কলেজ লাইফের বন্ধুদের মধ্যে শাকিল আর সজল ছাড়া তেমন কারো সাথে যোগাযোগ নেই। ৩/৪ বছর পর একদিন রানা আর সালাউদ্দিনের সাথে পান্থপথ দেখা হয়। অনেকদিন পর যেহেতু দেখা তাই ভালোবাসা একটু বেশিই ছিলো। অনেকখন বসুন্ধরার সামনে বসে গল্প শেষে চা খেলাম। বিল দিতে গিয়ে শুনি আগেই বিল দেওয়া হয়ে গেছে। রানার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলাম
আমিঃ কিরে বিল দিয়েছিস কেন?
রানাঃ আমি তো বিল দেই নাই।
সালাউদ্দিনঃ আমি দিয়েছি।
আমিঃ তুই বিল দিয়েছিস? বিশ্বাস হচ্ছে না।
রানাঃ সালাউদ্দিন এখন আগের মত নাই।
আমিঃ বাহ। আচ্ছা চল যাই।
সালাউদ্দিনঃ দাড়া দোকানদারের কাছে এক টাকা পাই, নিয়ে নেই।
দোকানদারের কাছে গিয়ে
সালাউদ্দিনঃ একটাকা দিন।
দোকানদার একটা মিঃ ম্যাংগো চকলেট ধরিয়ে দেয়। এরপর সালাউদ্দিন তার পকেট থেকে আরেকটি চকলেট বের করে দিয়ে বলে দুইটাকা দেন। হাহাহাহাহাহহাহাহাহাহাহাহাহা হাসতে হাসতে আমি আর রানা গড়াগড়ি। সালাউদ্দিনের মধ্যে চেঞ্জ এসেছে, তবে কিপ্টামির স্বভাবটা কিছুটা এখনো রয়েই গেছে।
এর বেশ কিছুদিন পরের কথা। যে বাসায় আমি ছিলাম সেখান থেকে হটাত নোটিস আসে বাসা ছেড়ে দেওয়ার। কুল কিনারা খুজে পাচ্ছিলাম না তখন রানার মাধ্যমে খোজ পাই যে সালাউদ্দিন নতুন বাসা নিচ্ছে। ফোন দিয়ে সালাউদ্দিনের সাথে কথা বলে বাসা দেখতে যাই।
বড় ৪ রুম, ড্রয়িং রুম, ডাইনিং রুম, কিচেন, ৩টা টয়লেট আর ২ পাশে দুইটা বিশাল বারান্দা। খুব পছন্দ হয়ে যায় আমার। বিশেষ করে বারান্দাটার প্রেমে পরে যাই। জোসনা রাতে রোদেলাকে নিয়ে গল্প লিখা যাবে।
আমিঃ দোস্ত ফ্ল্যাট ভাড়া কত?
সালাউদ্দিনঃ তুই কি একা এক রুম নিবি নাকি সাথে রুমমেট উঠাবি?
আমিঃ ধুর ব্যাটা, একা একরুম নেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে নাকি।
সালাউদ্দিনঃ ফ্ল্যাট ভাড়া ৪০০০০ টাকা। একেক রুম ১০০০০ টাকা। সাথে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল আর সার্ভিস চার্জ আছে।
আমিঃ ভাড়া একটু বেশি হয়ে গেলো না? আর আমি এখন রুমমেট পাবো কোথায়?
সালাউদ্দিনঃ ধানমন্ডি এলাকায় ৪০০০০ টাকায় এতো সুন্দর ব্যাচেলর বাসা পাবি তুই ?
আমিঃ সেটাও ঠিক। আচ্ছা রুমমেট
সালাউদ্দিনঃ ঐগুলান আমি দেখতেছি।
আমিঃ আচ্ছা দেখ।
সালাউদ্দিনঃ চল বাইরে যাই, আবু সাইদ আর বিল্লাল এসেছে।
বাইরে গিয়ে সালাউদ্দিনের দুইভাই আবু সাইদ আর বিল্লালের সাথে কথা বলতে বলতে একসময় দোকানে গিয়ে বিস্কিট কিনি খেতে। চকলেট বিস্কিট। চকলেট আমার খুব পছন্দের তাই সব কিছুতেই চকলেট ফ্লেভার খুজি।
বিল্লালঃ ভাই একটা কোল্ড ড্রিংকস নেই?
আমিঃ হ্যা নাও।
সালাউদ্দিনঃ নাহ। নরমাল পানি নে। এই সব স্বাস্থের জন্য ভালো না।
আবুসাইদঃ নাহ। কোক নে। কোকের উপর কিছু হয় না।
বিল্লালঃ মিরিন্ডা নিলাম।
সালাউদ্দিনঃ নরমাল পানি খাবি। পেটের ভিতরে ভালো থাকবো, আর কোক খাইলে পেটের ভিতরে ক্ষয় হয়। ইউটিউবে দেখস নাই। সুধু সুধু টাকা খরচ করে বিষ খাবিনি।
আবুসাঈদঃ ইহ আইছে স্যার। তর ডাক্তারি আর কিপটামি অন্য জায়গায় দেখাবি আমার কাছে না।
পেছন থেকে একমহিলা এতোখন আমাদের কথা শুনছিলো। আমাদের জন্য সে দোকানের সামনে আসতে পারছিলো না। সে সালাউদ্দিনকে ঝাড়ি দিয়ে বলে
মহিলাঃ কোকও না, মিরিণ্ডাও না, পানিও না। এই ভাই এদের সেভেন আপ দেন। আর টাকা আমি দিব। আর একটা কথাও বলবেন না আপনারা। যাস্ট এখান থেকে চলে যাবেন। মাইক একেকটা।(রাগের ইমোজি হবে)
আমি মুচকি হাসছি। মহিলাকে পেরিয়ে মানিব্যাগ বের করে বিস্কিট আর সেভেন আপের দাম দিয়ে চলে আসি। আর ওদের কাছ থেকেও বিদায় নেই।
সালাউদ্দিন এর মুখে মুচকি হাসি। তখন ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। বুঝতে পেরেছি দুই বছর পর।
নিচে নতুন দারোয়ান এসেছে। তার সাথে কথায় কথায় বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি। বাসা ভাড়া ৩০০০০টাকা। তার মানে সালাউদ্দিন তার নিজের রুমের বাসাভাড়া দেয় না। আমাদের টাকা দিয়েই সে এই রাজ্বত্ব চালাচ্ছে। কথাটি আমি একা শুনলে হয়তো চেপে রাখতে পারতাম নিজের মধ্যে কিন্তু আমার সাথে ছিলো বা আমি তাদের সাথে ছিলাম।
রাতে আসিফ আর সাইদ ভাই সবাইকে ডাকে। বিষটি তুলে ধরে সবার সামনে। সালাউদ্দিন চুপ করে বসে আছে।
আসিফঃ সালাউদ্দিন মামা কিছু বলেন।
সালাউদ্দিনঃ কি বলবো?
হাবিবঃ আপনি এতোদিন আমাদের সাথে এই দুই নাম্বারি করলেন কেন?
সালাউদ্দিনঃ এটা দুই নাম্বারী না।
সাইদঃ এটা দুই নাম্বারী না তো এটা কি?
সালাউদ্দিনঃ মানুষ মেসের ব্যাবসা করে না। এটাও মনে করো সবাই আমার একটা ব্যাবসা। আমি কষ্ট করে বাসা খুজছি, কথা বলে ঠিক করছি, এডভ্যান্স দিছি। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি মালিকের কাছ থেকে বাসা নিয়ে তোমাদের কাছে রুম অনুযায়ী ভাড়া দিছি। এখানে কোন দুই নাম্বারি এর কিছু নাই।
আমিঃ ঠিক আছে। কিন্তু এই বিষয়টা আমাদের জানালেই পারতি। সুধু সুধু ৪০০০০ টাকা বলে মিথ্যে না বললেও পারতি।
সালাউদ্দিনঃ এতো কথা কিসের, এইভাবে যার থাকতে ইচ্ছে সে থাকো আর যার ভালো না লাগে সে চলে যাও।
হাবীবঃ সালাউদ্দিন মামা আপনি বিষয়টা বহুত ভুগিচুগি করে ফেললেন।
সালাউদ্দিনঃ তোমাদের যা মনে হয় বলো। ভুগিচুগি, বিনোদন যা খুসি তা।
সুজনঃ সালাউদ্দিন তুই কি গাঞ্জা খেয়ে আসছিস যে এইভাবে কথা বলছিস?
সালাউদ্দিনঃ গাঞ্জাও বল। সমস্যা নাই।
বলে সালাউদ্দিন উঠে যায়। এরপর থেকে কিছুদিন সবাই সালাউদ্দিনের সাথে কম কথা বলতো। ঐ দিনের পর থেকে মেসে সহ আসে পাশের বন্ধুদের কাছে সালাউদ্দিনের নতুন একটা নাম হয়। সেটা হলো ভুগিচুগি। ভুগিচুগি বলে ডাকলে প্রথম দিকে খেপে গেলেও পরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এমনকি ভুগিচুগি নিজেও সব জায়গায় তার এই নাম ইউজ করা শুরু করে। যেমন মিলের খাতায় বাজারের লিষ্টে এবং ডেইলি মিল লিষ্টে এ নামের জায়গায় নিজেই ভুগিচুগি লিখে। যাক।
ভুগিচুগি সহ তার সাথের লোকেরা একেক জন মাইক। যে কোন জনসভায় একে মাইক হিসেবে ইউজ করা যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ফাও পয়সায় জ্ঞ্যান দান করা তার সখ। খুব কষ্টে সহ্য করতে হয়। এখন অবশ্য আমরা সকলেই কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে চিন্তা তাকে নিয়ে যে এই ভুগিচুগিকে বিয়ে করবে। বেচারি হয়তো পরের রাতেই সুইসাইড করবে। ইশ ভাবতেই কষ্ট লাগছে।
তার ভবিষ্যৎ ভাবতে ভাওবতে হটাত একদিন শুনি ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে। সেকেন্ড টাইম পাত্রি দেখতে যাওয়া। সাথে আমাকেও যেতে হবে। মেয়ের নাম ঝুম। দেখা করবো একটা রেস্টুরেন্টে। আমরা আগেই গিয়ে উপস্থিত কিন্তু ঝুম মহারানীর এখনো আসার সময় হয়নি।
আমিঃ দোস্ত অনেকখন হয় বসে আছি। কিছু খাবার অর্ডার কর খাই। অনেক খুদা লাগছে। ( আমি খেতে খুব পছন্দ করি, আর খুদাও লাগে বেশি। আমাকে দেখে নিশ্চয় সেটা আপনারা বুঝতে পারেন)
সালাউদ্দিনঃ এখানে ফিল্টারের গ্লাসে পানি পাওয়া যায় না। আর এক বোতল পানির দাম কত জানিস?
আমিঃ কত আর হবে, ২০টা হতে পারে।
সালাউদ্দিনঃ হুম। যেটা দোকানে ১৫টাকা।
আমিঃ তাই বলে খাওয়াবি না?
সালাউদ্দিনঃ হুম। মেয়েটি আসুক তারপর স্যুপ খাবো।
আমিঃ সুধু স্যুপ? ধুর বাল। আচ্ছা আমিই খাওয়াবো তোকে।
সালাউদ্দিনঃ খাওয়া।
আমি পাস্তা অর্ডার করি। খাওয়ার মাঝখানে ঝুম এসে হাজির। মানে যাকে সেকেন্ড টাইম দেখতে আসা। সেকেন্ড টাইম দেখতে আসার কারন হচ্ছে। সালাউদ্দিন মেয়েকে আগে দূর থেকে দেখলেও মেয়েটি সালাউদ্দিনকে দেখে নাই। আর সালাউদ্দিন ও সামনাসামনি দেখা করে কথা হয় নাই। যাস্ট দুই ফ্যামিলির মধ্যে কথা বার্তা হয়ে বিয়ে প্রায় ঠিক।
ঝুম কাছে এসে খুজছিলো। সালাউদ্দিন যেহেতু চিনে তাই সালাউদ্দিন ডাক দেয় তাকে।
সালাউদ্দিনঃ আপনি ঝুম?
ঝুমঃ জ্বি।
সালাউদ্দিনঃ আসেন। বসেন প্লিজ।
ঝুমঃ ভালো আছেন আপনারা?
আমিঃ জ্বি ভালো আছি। আপনি?
ঝুমঃ আমিও ভালোই আছি। ভালো না থাকলে তো আর এখানে আসতে পারতাম না।
সালাউদ্দিন ঃ সেটা অবশ্য ঠিক। আচ্ছা কি খাবেন আপনি?
ঝুমঃ যে কোন কিছু।
সালাউদ্দিনঃ নাহ প্লিজ আপনি অর্ডার করুন।
ঝুমঃ প্লিজ আপনারাই অর্ডার করুন।
সালাউদ্দিনঃ আচ্ছা। পাস্তা, চওমিন, বিফ উইথ রাইস, স্যুপ, কোল্ড ড্রিংকস, ফিস ফ্রাই অর্ডার করলাম।
ঝুমঃ আরে এতো কিছু কিভাবে খায় মানুষ। যে কোন একটা ।
সালাউদ্দিনঃ নাহ। প্রথম আপনাকে খাওয়াচ্ছি।
সালাউদ্দিন ওয়েটারকে ডেকে সব অর্ডার করে আর আমি হা হয়ে তাকিয়ে । এক মেয়ে দেখে সালাউদ্দিনের সব কিপটামি শেষ। হাইরে পুরুষ।
খাবার দাবার খাওয়া শেষে।
ঝুমঃ (আমাকে উদ্যেশ্য করে) আমাকে কি আপনার পছন্দ হয়েছে?
আমিঃ জ্বি।
ঝুমঃ আমাকেও আপনার পছন্দ হয়েছে।
আমিঃ আমার বন্ধুর চেয়েও কি আমাকে বেশি পছন্দ হয়েছে।
ঝুমঃ বুঝলাম না।
আমিঃ মানে যার সাথে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে আমার বন্ধু তার থেকেও কি আমাকে বেশি পছন্দ হয়েছে?
ঝুমঃ ছেলে কি আপনি না?
আমিঃ আমি হবো কেনো। এই যে ছেলে, যার সাথে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে।
ঝুমঃ সরি। আমি এই বিয়ে করবো না। আমার ছেলে পছন্দ হয় নি।
সালাউদ্দিনঃ বিয়ের সব ঠিক আর এখন এই কথা বলছেন। হবে না, বিয়ে করতেই হবে আপনাকে।
ঝুমঃ করবো না আমি বিয়ে। আমি গেলাম। ( বলেই উঠে দাঁড়ালো)
সালাউদ্দিনঃ আচ্ছা ঠিক আছে বিয়ে করতে হবে না। কিন্তু এই যে খাওয়া দাওয়া করলেন টাকা দিয়ে যান।
ঝুমঃ আমি কি খাইতে চাইছিলাম যে আমি টাকা দিবো।
সালাউদ্দিনঃ বিয়ে করবেন না তো আমি আপনাকে খাওয়াবো কেন।
আমিঃ সালাউদ্দিন চুপ।
সালাউদ্দিনঃ কিশের চুপ। খাইছে বিল দিবে। বিলের তিন ভাগ করে একভাগ দিয়ে যাবে।
ঝুমঃ শালার ছোটলোক। এই নে পুরো বিলই রাখ।
সালাউদ্দিনঃ থ্যাংকস।
ঝুম চলে যাবার পর।
আমিঃ সালাউদ্দিন তুই এতো ছোটলোক কেন? একটা মেয়েকে খায়িয়েছিস আবার তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিলি?
সালাউদ্দিনঃ বিয়ে করবে না আবার খাওয়া কি? আর তুই একদম চুপ। চোর জন্য আমার বিয়ে ভেংগে গেলো।
আমিঃ আমি কি করলাম?
সালাউদ্দিনঃ তোকে নিয়ে আসাটাই আমার ভূল হয়েছে।
সেদিনের মত সেখান থেকে চলে আসলাম। বাসায় আসার পর থেকে আমার সাথে ভুগিচুগি কথা বলে না। খারাপ লাগছিলো আমার, আপনারাই বলেন আমার কি দোষ? যাক তারপরও নিজের কাধে দোষ নিয়ে ভুগিচুগির জন্য মেয়ে খোজা শুরু করলাম। পেয়েও গেলাম। মেয়ে নাম শিলা। দেখতে মাশাল্লাহ সুন্দরী, ওয়েল এডুকেটেড, ভালো বংশ, ভুগিচুগির ছবি দেখে পছন্দও করলো। আর মেয়েটাকে আমার পছন্দ হওয়ার কারন হচ্ছে মেয়েটিও ঘাড় ত্যারা আর কিপ্টুস। সো ভুগিচুগি আর শিলার সংসার আশাকরি জমবে ভালোই। ভুগুচুগির ছোট সাইদকে দিয়ে বিয়ের কথা বার্তা শুরু করি। বিয়েও হয়ে যায়। এরপর তাদের সংসার কেমন চলছে জানিনা। বিয়েতে দাওয়াত পাইনি। শিলাও দাওয়াত দেয়নি।
অনেকদিন পর ঈদের আগের দিন রাতে জয়পাড়া দেখা সালাউদ্দিনের সাথে। কথা হলো। ডেকে নিয়ে কাবাব আর লুচি খাওয়ালাম। এরপর বউ এর জন্য থ্রিপিস কিনতে যাবে আমাকে নিয়ে গেলো।
একটা দোকানে গিয়ে বসলাম। ত্রিপিস পছন্দ করছে ও।
সালাউদ্দিনঃ দোস্ত একটা পছন্দ করে দে না।
আমিঃ আমি কিভাবে পছন্দ করে দিবো। আমি কি তোর বউকে দেখছি?(সালাউদ্দিন জানেনা আমি তার বউকে আগে থেকে চিনি, এমনকি লাইন মারতে গিয়ে ধরাও খাইছি। আসলে মেয়েরা টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না)
সালাউদ্দিনঃ ওহ তোরে তো দেখাই নাই। মোবাইলে আছে। এই নে দেখ।
আমিঃ বাহ! মারাত্বক সুন্দরী তো। এক কাজ কর। ইয়ালো আর ব্ল্যাক এই দুইটা নে।
সালাউদ্দিনঃ দুইটা? পাগলে পাইছে? একটা এক ঈদের জন্য যথেষ্ট।
আমিঃ আচ্ছা তুই ইয়ালো টা নে আমি ব্ল্যাক টা ভাবিকে গিফট করলাম।
সালাউদ্দিনঃ দোস্ত আমাকে কিছু দিবি না গিফট?
আমিঃ হুম। একটা আন্ডারওয়্যার নিয়ে যাইস।
পেছন থেকে একটা পিচ্চি ছেলে এসে দাঁড়ায়। দোকানদারকে উদ্দ্যেশ্য করে বলে যে তার বাবা মা নেই। দোকান থেকে তার বোনের জন্য একটা জামা দিতে। কাল ঈদ বোনকে সে দিবে। কিন্তু দোকানদার ছেলেটাকে দূর দূর করে তারিয়ে দেয়। বিষয়টি খুব খারাপ লাগে আমার। কিছু করতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু করা হলো না।
সালাউদ্দিন ঃ ভাই এগুলা পছন্দ হয় নাই। শিপন চল অন্যদোকানে দেখি।
আমার ও কেন জানি দোকানদারের উপর মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। আমিও কিছু না বলে চলে এলাম।
পাশের দোকানে গিয়ে বসলাম। সালাউদ্দিন বললো ও একটু মাইনাস করতে যাবে আমাকে দোকানে থ্রিপিস পছন্দ করতে বলে বের হয়ে গেলো। ও চলে যাবার পর আমিও বের হয়ে গেলাম পিচ্চি ছেলেটাকে খুজতে। খারাপ লাগছিলো তাই ওকে খুজে ওর বোনের জন্য একটা জামা কিনে দিবো সিদ্ধান্ত নিলাম।
বাইরে খুজছি। হটাত চোখ পরলো একটা দোকানে সালাউদ্দিন ছেলেটিকে নিয়ে বসে আছে, ওর বোনের জন্য আর ঐ ছেলের জন্য জামা কাপর কিনে দিলো। শেষে ১০০০টাকার একটা নোট। কাছে গেলাম। সালাউদ্দিন ছেলেটাকে বললো।
সালাউদ্দিনঃ এই টাকা দিয়ে মিষ্টি, পায়েস, সেমাই কিনবে। কাল খাবে। আর আমার সাথে পরে যোগাযোগ করবে। দেখি কোন কাজের ব্যাবস্থা করা যায় কিনা।
আমি অবাক হলাম না, হতভম্ব নির্বাক হয়ে গেলাম। সেদিন সালাউদ্দিনের সাথে অনেকরাত কথা হলো। সে ভার্সিটিতে উঠার পর পরই পথ শিশুদের জন্য একটা আবাসন এবং শিক্ষার জন্য স্কুল করে। একাই চালাত ও । বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড ম্যানেজ করে ছেলেমেয়ে দের খাবার জোগাড় করতো। বাসা ভাড়ার ১০০০০ টাকা এই স্কুলেই খরচ করতো। সেদিন বুঝলাম ভুগিচুগি দুঃক্ষিত সালাউদ্দিন আসলে কৃপন নয়। সালাউদ্দিন মিতব্যায়ী। এই দিনের পর থেকে সালাউদ্দিনকে আর ভুগিচুগি বলা হয়নি। ওর জন্য এখন মনের গভির থেকে আলাদা একটা সম্মান কাজ করে। আজ আমরা সবাই ওর স্কুলে যাবো। বাচ্চাদের জন্য অনেক বিস্কিট, জামাকাপর আর আমি স্পেশালি চকলেট নিয়েছি।
স্কুল। স্কুলের সামনে গিয়ে অবাক হয়ে যাই। সালাউদ্দিন তার স্কুলের নাম দিয়েছে ভুগিচুগি স্কুল। হাস্যকর হলেও সেদিন ওকে দেওয়া এই নামটি এই স্কুলটিকে বড় করার জন্য অন্যরক্ম অনুপ্রেরুনা দিয়েছে। আর আজ আমাদের দিয়েছে লজ্জা। ক্ষমা করিস বন্ধু।


সম্পূর্ন গল্পটাই আমার বিকৃত মস্তিস্কের কল্পনা বা দুষ্টামি অথবা ফাইজলামী। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হল। ধন্যবাদ।