মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শহরবন্দী মেঘ



 শহরবন্দী মেঘ, বৃষ্টি 

ছুটি দাও।

ছুটির ঘন্টা বাজাও,

একলা বিকেলের রোদ্দুরে;

সন্ধ্যার মায়াভরা রাস্তায়।

শহুরে অন্ধকারে,

হারিয়ে যাক;

নিকোটিন ধোঁয়া।

অভিমানী মেঘ

 


মেঘের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া বাতাস


মেঘকে দূরে ঠেলে দেয়। তারপরে

সূর্য এসে আসীন হয় তার বিকিরন নিয়ে,

বাতাসের করার থাকে না কিছুই-

সূর্যে প্রতিরোধ গড়তে

মেঘকে খুব করে স্মরণ করে বাতাস,

অভিমানী মেঘেরা ফিরে আসে না।

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আত্মার কথন


 

#আত্মার_কথন

অদ্ভুত এ জীবন। আছে বিচিত্রতা! আছে অট্টহাসি, আছে জলছাপ স্বপ্ন, রঙজ্বলা আকাঙ্ক্ষা, ডুবন্ত আশা, ঘুমঘুম চোখ, যৌবনের সূর্য, নিষ্ক্রিয় আবেগ, পথিকের ক্লান্তি, দৃঢ় লক্ষ্য, উড়ুউড়ু কল্পনা, ধার করে আনা সুখ। আরও আছে অন্ধকারের আর্তনাদ, দুঃখ পোকার গান, অশান্ত শহর, মন খারাপের কোলাহল, বেদনার আলিঙ্গন, অভাবের বাতাস, মানসিক জলোচ্ছ্বাস, বিশালতায় অসহায়ত্ব, আশাহত শিকল, পরাধীন আত্মা, মন খারাপের কোলাহল।


তবুও কবিতা। হোক কবি ক্ষুধার্ত সহায়সম্বলহীন। অন্যরকম মায়ার জগত এই কবিতা। মাত্র কয়েকটি শব্দ লিখে ফেলে সমস্ত কষ্ট, সকল গ্লানি অথবা আনন্দ সুখের কথা। ভালো লাগা, দর্শন, ব্যাক্তিত্ব-মনোভাব উঠে আসে গহীন থেকে। কবির মৃত্যু হয়, মৃত্যু হয়না তার আত্মার কথার, মৃত্যু হয়না কবিতার। কবিতা চিরজীবী হোক।

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

কাব্যকাহন


 আমি জানি এসব কাব্যকাহন শুনবে না লোকে



গীতরূপে কণ্ঠে পাবে না ঠাঁই, কারো


নীবিড় পঠনে হবে না উদ্ধার-


ছেঁড়াখোঁড়া অক্ষরে মেশা এসব অতি ইচ্ছার আহাজারি


আমি জানি, বহুদিনের জমে থাকা ধুলা ঝেড়ে


এসব স্বপ্নকথনে উঠবে না মেতে নতুন যুগের কেউ


পুরনো কাগজের সাথে বাহারি কথারা-সব ভাঙ্গাড়ি দোকানির স্তূপে


একদিন সকরুণ ভিজবে-শুকোবে!


কিংবা ঝালমুড়িওয়ালার ঠোঙ্গায় পড়বে কোনও যুবকের হাতে


সে একবার তাকাবে না ফিরে কী-লেখা সেখানে!


জীবনের আরও যত অপচয় আছে


তার সাথে গভীর মিতালী করে


তার-ছেঁড়া গান করে আমার কবিতার কথা!


অভিমুখ-অভিলক্ষ্য নেই এমন কিছু পাখি আছে বনের বিজনে


একমনে গান গায়-


কে শুনে তা, ফুল না জলের মাছ-দেখে না কখনও


সেসব পাখিদের দলে আছি আর-সব ফুলের উদ্ভাসে


আমি জানি, ভোলা রাখালের বাঁশি-যে সুর বাতাসে ছাড়ে


মানুষের হাটে সে বিকোবে না কোনোদিন।

বুধবার, ২২ জুন, ২০২২

কার্বনকপি


 

একাকিত্ব, এ এক গভীর অন্ধকূপের মত। সুখের ছন্দ আসলে মেলানো যায় না। এই একাকিত্বে নিজের মধ্যে জন্ম নিয়েছে নিজ কার্বনকপি। যেটা আপাতদৃষ্টিতে সকলের বোঝা দায়। 

আজকাল আমার বড়ো বেশি ঘুম পায়, কিন্তু সহজে সে ঘুমোতে দেয় না। অনেক রাত জেগে থাকি, আবার অনেক রাত ঘুমের মধ্যে জেগে থেকে তার সাথে খুনসুটি করি।


মাঝে মাঝে ঘুমের ঔষধের উপস্থিতিতে ঘুমিয়ে যাই। হঠাৎ সে জাগিয়ে তোলে, উপস্থিত আমার আমি মনে হয় জীবনানন্দের লাশকাটা ঘরে শুয়ে আছি। হ্যাঁ, এইমাত্র আমার দু চোখ উপড়ে ফেলে নিল আমার নিজ কার্বন কপি, পেট-বুক চিড়ে

ফেললো সে। কী অমায়িক টকটকে রক্ত! চামড়ার নিচে এত আয়োজন জীবনের! আমার কার্বন কপি এসব দেখে সে কি হাসি তার। আমি অবাক হই !

এতো কিছুর পরেও তবুও কোনো বোধ পেলাম না। আখিশূন্য অন্ধকার কোটর থেকে শুধু

অনুভব করলাম পঞ্চমীর চাঁদ সত্যিই ডুবে গিয়েছে।


কিন্তু ‘বাঁচিবার সাধ’ কি আছে?

ঐ তো, এইমাত্র খুলি থেকে আমার মস্তিষ্ক আলাদা করে নিয়ে গেলো সে। নাহ, তাও কিছুই টের পেলাম না। এভাবে হয়ত অনেক সময় কেটে গেল, অনেকগুলি পঞ্চমীর চাঁদ ডুবে গেল। হঠাৎ জানালার পাশে টেবিলের উপর, জ্যোৎস্নার আলোতে রাখা আমার উপড়ে নেয়া দু চোখ থেকে দেখলাম, আমার দ্বিতীয় আমি এক টানে আমার হৃদপিন্ড-টা আলাদা করে ফেললো। এইবার বোধ করি একটু বোধ হল। এক অদ্ভুত নীলচে একাকিত্বের বোধ।


উপড়ে নেয়া, রক্তশূন্য, নীলচে মলিন আর একেবারে শুকনো ঐ দু’চোখ বেঁয়েও কি দু ফোটা নীল অশ্রু গড়িয়ে পড়লো নাকি?

নাকি জ্যোৎস্নার আলোতে ঐ দু ফোটা চিকচিক শুধুই বিভ্রম?

শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

প্রহেলিকার নস্টালজিক এস্রাজ

 #প্রহেলিকার_নস্টালজিক_এস্রাজ

@A R Shippn


ভাবি ভেবে কেটে যায় অনেক কাল।।


পড়ন্ত বিকেলের শেষ রোদ গায়ে মেখে


হৃদয়ের সবটুকু হৃদ্যতাকে উপড়ে ফেলেও


স্মৃতিরা মুক্তি দেয় না আমাকে।


আমি জানি এই নস্টালজিয়ার কোন মূল্য নেই


এই বোধহীন বাস্তবতার অসীম প্রবাহে।


মুক্তি তোমার পথে বাধা জেনেও চলি মুক্তির আবেশে


এ কোন বিকেলের কর্মক্লান্ততা মেখে আয়েসী পাখির নীড়ে ফেরা নয়,


তবু কেন জানি ভুলো মনে ভুল করে আবার সেই পথেই হাঁটি।


সামনের পথ যেখানে মৃত্যুর মতো সেখানে পরপারে কি হবে


সেটি ভেবে দিন যাবে এমনি তো কথা ছিল।


কিন্তু সময়ের চলমান স্রোতে আমি কেন হঠাৎ নস্টালজিক..?


স্মৃতিরা বারবার কালো আধারের মতো গ্রাস করে আমাকে কেন.?


পেছনটা ফেলে আসায় তো স্বাভাবিক, তাই নয় কি..?


ভবিষ্যৎ যেখানে হাওয়ার মেঘ কিংবা ভুলে মিথ্য পুষ্প পাপড়ি


অথবা সেটিই চির সত্য, তবে কেন তার এতে নির্মমতা?


আাম বুঝতে চাই না বা পারি না, তবুও সেটিকে ধোয়াসা জেনে


সত্য মিথ্যে দুটিকেই সাথী করে, কেন আমার এই আমরণ


চলার ছন্দ? চলি পথ ভুলে কিংবা সঠিকতা দেখে


অথচ ক্লান্তি শব্দটা কতই না দূরে ফেলে।


আমার এই চলার ছন্দ, ইচ্ছা,প্রাপ্তি মোহনা জগৎ সংসারে


কতটা গুরুত্ব বয়ে আনে, আমি জানি না, জানতে ইচ্ছে হয় না,


অথচ জানার ব্যাকুলতা নেই, তবুও জানতে ইচ্ছে হয় ভাবি পথ ভেবে।


আমি চাই না হঠাৎ বৃষ্টি আমাকে স্নান করিয়ে দিক, আমার গন্ধভরা তনু দেখে


পুষ্প সুবাস ছড়াক, কাল বৈশাখী আমাকে উড়িয়ে নিক ভেসে বেড়ানোর আনন্দ দেখাতে


আমি তো আমি, যেখানে প্রাপ্তির লোভ নেই,


তবুও কেন এমন ভ্রান্তি চারদিকে যা আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়


আমার স্মৃতি মুছে ফেলে নূতন ভালবাসার গান শোনায়?


আমকে আমার নিজস্বতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয়ে


হারিয়ে যেতে হয় মুক্ত আকাশের অজানা ব্যাথার সমুদ্রে,


চৌকষতার কঠিন মায়াজালে, অথবা ক্ষীণ সুখ মেখে।